সিসিইউ থেকে কেবিনে খালেদা জিয়া

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৭ এপ্রিল এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

সিসিইউ থেকে কেবিনে খালেদা জিয়া

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউ থেকে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয় বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন দলটির চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দীর্ঘ এক মাস পর করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) থেকে কেবিনে নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউ থেকে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয় বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন দলটির চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।

এদিকে বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ম্যাডামের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে সিসিইউ থেকে কেবিনে নেয়া হয়েছে। আমরা গত এক সপ্তাহ ধরে তার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম।

‘এখন তার জ্বর নেই। শ্বাসকষ্টও নেই। খাবার স্বাভাবিক। ঘুমও ভালো হচ্ছে।’

তিনি জানান, বেগম জিয়ার হার্টের অবস্থা এখন বেশ ভালো, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এবং ফুসফুসে এখন আর পানি জমছে না।

কেবিন থেকে কবে বাড়ি নেয়া হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপাতত তিনি কেবিনেই আছেন। অন্যের সাহায্যে কিছুটা হাঁটতে পারছেন। তবে বাড়ি ফেরার মতো সুস্থ এখনও তিনি হননি। আথ্রাইটিসসহ আগের যেসব সমস্যা আছে, সেগুলো নিয়ে এখন চিকিৎসা চলবে।

‘এক সপ্তাহ আগে তার অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

গত ৩ মে রাতে শ্বাসকষ্ট হলে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। এর আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত খালেদা জিয়াকে গত ২৭ এপ্রিল এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষা করা হলে ১১ এপ্রিল রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তবে তিনি এখন করোনামুক্ত।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘দলের ভেতরের বিভেদ-গ্রুপিং দূর করতে হবে’

‘দলের ভেতরের বিভেদ-গ্রুপিং দূর করতে হবে’

'আমি খুব পরিস্কারভাবে বলতে চাই, আওয়ামী লীগ কী করছে, করুক। জনগণের কাছে তাদের অন্যায় টিকে থাকতে পারবে না, তারা ভেসে যাবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে।’

সরকার পতনের আন্দোলন শুরুর আগে অতি দ্রুত দলের মধ্যকার ‘বিভেদ-গ্রুপিং’ দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব সব পর্যায়ের নেতাদের প্রতি এই আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি খুব পরিস্কারভাবে বলতে চাই, আওয়ামী লীগ কী করছে, করুক। জনগণের কাছে তাদের অন্যায় টিকে থাকতে পারবে না, তারা ভেসে যাবে।

‘জনগণের উত্তাল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তারা (আওয়ামী লীগ) ভেসে যাবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে।’

তিনি বলেন, আসুন অতি দ্রুত আগামীতে আমরা নিজেদেরকে পুরোপুরি সংগঠিত করে ফেলি।

‘নিজেদের ভুল বুঝাবুঝি, বিভেদগুলো দূর করি এবং একত্রিত হয়ে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণকে একত্রিত করে আমরা এই যে দানব আমাদের বুকে ওপর চেপে বসেছে তাকে সরিয়ে দেই। তারপর সত্যিকার অর্থেই একটি নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে মধ্য দিয়ে আমরা যেন জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারি সেজন্য কাজ করি।’

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত বছরে মার্চ মাস থেকে সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে সাময়িকভাবে মুক্ত আছেন। তার মুক্তির আন্দোলনও শুরুর কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, দেশনেত্রীকে তার আগেই মুক্ত করতে হবে। তাছাড়া এখানে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হবে না। দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন দিয়েই আমরা শুরু করতে হবে আমাদেরকে গণতন্ত্রের মুক্তির আন্দোলন।

‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাহেবকে আমরা যেন দেশে ফিরিয়ে আনতে পারি সেই লক্ষ্যে আমাদের অতিদ্রুত এগুতে হবে।’

টঙ্গিতে সালাহ উদ্দিন সরকারের বাসাভবন মিলনায়তনে গাজীপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়।

বর্তমান অবস্থাকে ‘সংকটময়’ অভিহিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই অবস্থার পরিবর্তন আমাদেরকেই করতে হবে। অন্য কেউ এসে আমাদেরকে করে দিয়ে যাবে না।

‘আমাদেরকে, বিএনপিকে দায়িত্ব নিতে হবে। বিএনপি হচ্ছে সেই দল যারা জনগনের প্রতিনিধিত্ব করে। বিএনপি হচ্ছে সেই দল যার প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন শহীদ জিয়াউর রহমান। যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিএনপি হচ্ছে সেই দল যার চেয়ারপারসন হচ্ছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া—তিনি গণতন্ত্রকে মুক্তি দিয়েছিলেন। আজকে আবার যখন ক্রাসিস, রাজনৈতিক সংকট, আমাদের সব কিছু নিয়ে চলে যাচ্ছে তখন আমাদেরকেই ঘুরে দাঁড়াতে হবে, আমাদেরকেই শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে।’

জেলা সভাপতি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং নির্বাহী কমিটির ওমর ফারুক শাফিনের সঞ্চালনায় এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় আবদুস সালাম আজাদ, সালাহ উদ্দিন সরকার, কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুলসহ অন্য নেতারা।

শেয়ার করুন

দুই ডজনকে ডিঙালেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা   

দুই ডজনকে ডিঙালেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা   

সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাবিবুর রহমান হাবিব এর আগে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দেশে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটিতে সদস্য করা হয় হাবিবকে। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনেও সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন হাবিব।

মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন দুই ডজন নেতা। রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী, প্রবাসী, ব্যবসায়ী সকলেই চাইছিলেন সিলেট-৩ আসনে ‘নৌকার মাঝি’ হতে।

২৫ মে এ নিয়ে নিউজবাংলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিলো ‘সিলেট-৩: আওয়ামী লীগের ‘হকল খাড়া’।

তবে ‘হকলকে’ টপকে শেষ পর্যন্ত চমক দেখিয়েছেন হাবিবুর রহমান হাবিব। শনিবার অপেক্ষোকৃত তরুণ এই নেতাকে সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে স্বভাবতই খুশি হাবিব। মনোনয়ন না পেয়ে অন্য প্রত্যাশীরা কিছুটা হতাশ হলেও নৌকার বিজয়ে একসঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছেন তাদের সবাই।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাবিবুর রহমান হাবিব এর আগে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দেশে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটিতে সদস্য করা হয় হাবিবকে। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনেও সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন চান হাবিব।

মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এক যুগ আমি মানুষের পাশে ছিলাম। সিলেট-৩ আসনের জনগণের সঙ্গে আছি। আজ এর মূল্যায়ন পেয়েছি।’

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়াকে নিজের জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার উল্লেখ করে হাবিব বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সব সদস্যের কাছে চির কৃতজ্ঞ। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার। আমি এই আস্থার প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করব।’

দলের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রসঙ্গে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘যারা মনোনয়ন চেয়েছিলেন তারা সকলেই যোগ্য। তারা সবাই আমার নেতা। ওনারা প্রায় সবাই আমার সিনিয়র। তাদের সকলকে নিয়েই আমি কাজ করব।’

তিনি বলেন, ‘আমি আমার অনুসারীদের বলে দিয়েছি, আমার মনোনয়ন পাওয়ার খবরে কেউ মিষ্টি বিতরণ করবেন না। উল্লাস করবেন না। যারা আমার সাথে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন তারা যাতে মনে কষ্ট না পান সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

হাবিব বলেন, ‘২০১৪ এ ২০১৯ সালের নির্বাচনেও আমি সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। তখন পাইনি। তবু এলাকার মানুষের সঙ্গে ছিলাম। এই এলাকার উন্নয়নে আমার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। সিলেট-৩ আসনের এলাকাগুলোকে উন্নয়নের মডেলে পরিণত করতে চাই।’

দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলার একাংশ নিয়ে সিলেট-৩ আসন। এই আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস ১১ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কয়েক দফা পিছিয়ে ২৮ জুলাই এই আসনে ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সিলেট জেলা জজ কোর্টের পিপি নিজম উদ্দিন।

শনিবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, ‘আমি মনোনয়ন না পেলেও যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন তার পক্ষে আছি। নেত্রী যাকে পছন্দ করেছেন, তার বিরোধিতা করা উচিত নয়। এখন সবাই মিলে আমরা নৌকাকে বিজয়ী করতে কাজ করব।’

দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। গত নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন তিনি। দুবারই বঞ্চিত হতে হয় মিসবাহকে।

এ প্রসঙ্গে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ‘দল যাকে যোগ্য মনে করেছে তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। আমি ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি। কখনোই দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাইনি। এখনও সে সুযোগ নেই।’

দল যোগ্যতম ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দিয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলেন, ‘আমি নৌকার প্রার্থী হতে চেয়েছিলাম। নৌকা না পেলে আমার আর প্রার্থী হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। বরং নৌকার প্রার্থীই যিনিই হবেন তার পক্ষে কাজ করব।’

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন এই আসনের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ মুজিবর রহমান জকনও। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন তিনি।

জকন বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত আমরা মাথা পেতে নিয়েছি। দলের মধ্যে অনেকেই মনোনয়ন চাইতে পারে। কিন্তু দল যে সিদ্ধান্ত দেবে তার বিরোধিতা আমরা কেউ করব না। আমরা এখন সবাই নৌকার বিজয়ে কাজ করব।’

প্রয়াত সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর স্ত্রী ফারজানা সামাদও স্বামীর আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। শনিবার একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের আরও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সিলেট চেম্বারের সহসভাপতি তাহমিন আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ শমসের জামাল, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিত টুটুল, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ম্যানচেস্টার শাখার সাবেক সভাপতি স্যার এনাম উল ইসলাম, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক আসম আসম মিসবাহ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সাইফুল আলম, আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এম সাদরুল আহমেদ খানসহ অনেকে।

এই উপনির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। তবে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিককে এই আসনে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট-৩ আসনে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৯ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২৮ হাজার ৬১৮ এবং নারী ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৯১ জন।

শেয়ার করুন

ফরিদপুর আ.লীগের কার্যক্রমে বিরক্ত শেখ হাসিনা

ফরিদপুর আ.লীগের কার্যক্রমে বিরক্ত শেখ হাসিনা

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেনের বিরোধ সমাধানে ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মতের মিল না হলে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।

ফরিদপুর শাখা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

শনিবার সকালে গণভবনে দলের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা জানান, বৈঠকে ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের কমিটির বিষয়টি আলোচনায় এলে জেলা সভাপতি সুবল সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেনের বিরোধের প্রসঙ্গ ওঠে। তাদের মধ্যে বিরোধ সমাধানে এ সময় ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মতের মিল না হলে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি দেশের যেকোনো স্থানে দলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশনাও দেয়া হয়। এরপরও বিরোধ না মিটলে তাদের অব্যাহতি দেয়ার আদেশ দেন আওয়ামী লীগ-প্রধান।

বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিরোধপূর্ণ জেলা কমিটিগুলোর মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগ যে সাংগঠনিক টিম করেছে, তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে করোনা স্বাভাবিক হলে তাদের কাজ শুরু করতে।

‘ফরিদপুর শহরে আওয়ামী লীগের কিছু সমস্যা নিয়ে কথা হয়েছে। সভানেত্রী সাধারণ সম্পাদককে এগুলো ঠিক করতে বলেছেন।’

তৃণমূলে তৎপরতা বাড়াতে গত ১০ জুন জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌরসভা শাখায় সাংগঠনিক দল গঠনের নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দলের সব শাখায় সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে সারা দেশে সাংগঠনিক টিম গঠনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌর শাখায় জেলা ও মহানগরের কার্যনির্বাহী সংসদের নেতাদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাংগঠনিক টিম গঠন করতে বলা হয়েছে।

এই সাংগঠনিক টিম সংশ্লিষ্ট জেলা বা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে উপজেলা, থানা ও পৌর শাখার বিদ্যমান সাংগঠনিক সমস্যাসমূহ দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেবে।

একইভাবে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও ইউনিটের জন্য উপজেলা, থানা ও পৌর আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের নেতাদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাংগঠনিক টিম গঠন করতে বলা হয়।

শেয়ার করুন

নৌকা পোড়খাওয়া রাজনীতিকের হাতেই

নৌকা পোড়খাওয়া রাজনীতিকের হাতেই

কুমিল্লা-৫ উপনির্বাচনে নৌকার মনোয়ন পেয়েছেন অ্যাড. আবুল হাশেম খান। ফাইল ছবি

কুমিল্লা-৫ আসনে উপনির্বাচনে নৌকা পাওয়া আবুল হাশেম খান রাজনীতিতে জড়িয়েছেন পাকিস্তান আমলে। তৃণমূলের এই রাজনীতিক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও। তাকে নিয়ে আগে সেভাবে আলোচনা না থাকলেও কেন্দ্র মূল্যায়ন করেছে তার অভিজ্ঞতা আর দলের জন্য নিষ্ঠাকে।

আলোচনায় ছিলেন না, তবুও পেলেন নৌকার টিকিট। কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাশেম খান।

মনোনয়নে চমক থাকলেও পোড়খাওয়া এই রাজনীতিক পাঁচ দশক ধরেই বয়ে চলেছেন আওয়ামী লীগের পতাকা।

পাকিস্তান শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম দিয়ে শুরু। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে অংশ নিয়ে হন গ্রেপ্তার। মুক্তিযুদ্ধেও লড়েছেন অস্ত্র হাতে।

১৯৭৬ সালে বুড়িচং ছাত্রলীগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩ সালে হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বছর পরে হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

২০০৩ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। ২০১৮ সালে আহ্বায়ক কমিটি গঠন হলে তাকেই করা হয় আহ্বায়ক। পরের বছর কমিটি গঠন হলে আবার দায়িত্ব পান সভাপতির।

তিনি বুড়িচং উপজেলার উত্তরগ্রামের সন্তান। পেশায় আইনজীবী। জেলা আইনজীবী সমিতিতে একবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০০০ সালে কুমিল্লা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন হাশেম। ২০০৪-২০০৫ সালে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৮-১৯ সালে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

মনোনয়ন পাওয়ার আগে আলোচনায় না থাকলেও দলীয় প্রার্থীর প্রতি সমর্থন দিয়েছেন অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা। তবে নাখোশও হয়েছন তাদের সমর্থকদের কেউ কেউ।

মনোয়নন প্রত্যাশীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বপন। দল মনোনীত প্রার্থীর প্রতি সমর্থন দিয়ে তিনি লেখেন, ‘অ্যাড আবুল হাশেম খানকে নমিনেশন দেয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ।’

মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে আলোচনায় ছিলেন আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং সোনার বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ আবু ছালেক মো. সেলিম রেজা সৌরভ।

সেলিম রেজা বলেন, ‘আমি দলের বাইরে নই। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আমি অবিচল।’

কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহসম্পাদক এহতেশামুল হাসান ভূইয়া রুমি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে যোগ্য মনে করেছেন, তাকেই দলীয় প্রার্থী করেছেন। আমি দলীয় প্রার্থীর জন্য কাজ করব।’

মনোয়নের বিষয়ে আলোচনায় ছিলেন প্রয়াত সংসদ সদস্য আবদুল মতিন খসরুর স্ত্রী সেলিমা সোবহান খসরুও। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলীয় নীতিনির্ধারকরা যাকে যোগ্য মনে করেছেন তাকেই নমিনেশন দিয়েছেন। আমার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই।’

আবুল হাশেম খানের নৌকা প্রতীক পাওয়ায় বুড়িচং বাজারে আনন্দ মিছিল করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন বুড়িচং উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম।

আবুল হাশেম খান নিউজবাংলাকে জানান, এই মনোয়নন তিনি উৎসর্গ করছেন বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়াবাসীকে।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও ফোনে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়া থেকে প্রথমে মাদক দূর করব। এর পাশাপাশি দুই উপজেলা সদরের যানজট নিরসনে পরিকল্পনা নেব। এছাড়া দুই উপজেলাকে পৌরসভায় উন্নীত করতে বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

‘ক্ষমতায় যেতে দিগ্বিদিকশূন্য বিএনপি’

‘ক্ষমতায় যেতে দিগ্বিদিকশূন্য বিএনপি’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নিজেরাই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিএনপি ক্ষমতাপাগল, তারা এখন দিগ্বিদিকশূন্য। ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার মোহে বিএনপি নেতারা এখন মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছেন। তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। তাদের চরিত্র এখন দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট।’

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা বিএনপি ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ঢাকায় নিজ বাসভবনে শনিবার সকালে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিকে নির্বাচনে বিজয়ের গ্যারান্টি দিলে নির্বাচন কমিশন তাদের ভাষায় নিরপেক্ষ আর তাদের পক্ষে রায় দিলেই বিচার বিভাগ স্বাধীন। বিএনপি নেতাদের অপরাধ ও দুর্নীতির বিচার না করলে দুদক ভালো।

‘বিএনপি নিজেরাই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিএনপি ক্ষমতাপাগল, তারা এখন দিগ্বিদিকশূন্য। ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার মোহে বিএনপি নেতারা এখন মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছেন। তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। তাদের চরিত্র এখন দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট।’

বিএনপির সমালোচনা করে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতা বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতায় ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নয়, তারাই দেশকে অকার্যকর এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করাই সরকারের লক্ষ্য। বিএনপিই বরং একের পর এক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিতর্কিত করছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত এবং বিশ্বসভায় সম্ভাবনাময় দেশ বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষ পালন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের আগে কারা তাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিল দেশবাসী তা জানে। কারা হামলা ও এর পৃষ্ঠপোষক এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারা জড়িত তা ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট হয়েছে।

‘বিএনপি সাম্প্রদায়িক অপশক্তির পৃষ্ঠপোষক। তারা যতই অস্বীকার করুক সাম্প্রদায়িক অপশক্তির তোষণ নীতি থেকে বের হতে পারবে না। ২০১৩-১৪ সালে আগুন-সন্ত্রাস চালিয়ে এর দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছে বিএনপি। নিজেদের অপকর্ম ও ব্যর্থতা আড়াল করতে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানো বিএনপির পুরোনো অভ্যাস।’

শেয়ার করুন

দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির প্রতিবাদে ৬ দাবি চকরিয়ার সাংসদের

দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির প্রতিবাদে ৬ দাবি চকরিয়ার সাংসদের

চকরিয়ার সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের অব্যাহতির আদেশ অবৈধ। একজন দলীয় সাংসদকে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেয়া এখতিয়ার বহির্ভূত। এই ক্ষমতা জেলা আওয়ামী লীগের নেই।

সংসদ সদস্যকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া বৈধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন কক্সবাজারের চকরিয়ার সংসদ সদস্য জাফর আলম। উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার একদিন পর তিনি এই প্রতিক্রিয়ায় দেন। সেইসঙ্গে ছয়টি দাবি নিয়ে কেন্দ্রের কাছে যাবেন বলেও জানান তিনি।

চকরিয়া পৌর নির্বাচনে দলের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর ওপর হামলা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফরকে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। সেই ঘোষণা দেয়া বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, তাকে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রের কাছে সুপারিশও পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে শুক্রবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করেন জাফর। তিনি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের অব্যাহতির আদেশ অবৈধ। একজন দলীয় সাংসদকে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেয়া এখতিয়ার বহির্ভূত। এই ক্ষমতা জেলা আওয়ামী লীগের নেই।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগ দূর্নীতিবাজ ও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি। এদের কাছে থেকে সুবিচার আশা করা যায় না। এজন্য তিনি ছয়টি দাবি নিয়ে রাজধানীতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাবেন।

দাবিগুলোর মধ্যে আছে, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন, অব্যাহতির আদেশ প্রত্যাহার, পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটে জেলা আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপ ও দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় আনা।

দাবির মধ্যে আরও আছে জেলা হোটেল মোটেল জোনে মেয়র মুজিবুর রহমানের দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও নানা অপকর্ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

জাফর আলম জানান, এসব দাবি নিয়ে তিনি রোববার ঢাকা যাবেন।

জেলা আওয়ামী লীগ থেকে জাফরকে অব্যাহতি দেয়ার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সরওয়ার আলমকে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থক ও নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এবং চকরিয়া ও পেকুয়ার বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করে।

পরে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

শেয়ার করুন

তিন উপনির্বাচনে নৌকার মাঝি মিন্টু, হাবিব ও হাসেম

তিন উপনির্বাচনে নৌকার মাঝি মিন্টু, হাবিব ও হাসেম

উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া ঢাকা ১৪ আসনে আগাখান মিন্টু (বাঁয়ে), কুমিল্লা-৫ আসনে আবুল হাসেম খান (মাঝে) ও সিলেট-৩ আসনে হাবিবুর রহমান

দলের মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৮ জুলাই অনুষ্ঠেয় তিন উপনির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে আগাখান মিন্টু, কুমিল্লা-৫ আসনে আবুল হাসেম খান এবং সিলেট-৩ আসনে হাবিবুর রহমান আওয়ামী লীগের হয়ে লড়বেন।

ঢাকা-১৪-সহ তিন উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। দলের মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৮ জুলাই অনুষ্ঠেয় তিন উপনির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে আগাখান মিন্টু, কুমিল্লা-৫ আসনে আবুল হাসেম খান এবং সিলেট-৩ আসনে হাবিবুর রহমান আওয়ামী লীগের হয়ে লড়বেন।

শনিবার বেলা ১১টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বোর্ডের অন্য সদস্যরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া আগাখান মিন্টু শাহ আলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সিলেট-৩-এ মনোনয়ন পাওয়া হাবিবুর রহমান জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আর কুমিল্লা-৫-এ আবুল হাসেম খান বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২৮ জুলাই।

নির্বাচন সামনে রেখে গত ৪ জুন থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু করে আওয়ামী লীগ। মনোনয়ন গ্রহণ ও জমা দেয়া শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার।

এই তিন আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের ৯৪ জন নেতা-কর্মী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র তোলা হয়েছিল কুমিল্লা-৫ আসন থেকে, ৩৫ জন। এ ছাড়া ঢাকা-১৪ আসনে ৩৩ ও সিলেট-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিট চেয়েছিলেন ২১ জন।

গত ২ জুন নির্বাচন কমিশন এক বৈঠকে ঢাকা, কুমিল্লা ও সিলেটের মোট তিনটি আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

ঘোষণা অনুযায়ী ১৫ জুন মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। মনোনয়ন বাছাই হবে ১৭ জুন। ১৮, ১৯ ও ২০ জুন আপিলের দিন ঠিক করা হয়েছে। প্রার্থিতা বাতিলের শেষ দিন ২৩ জুন। প্রতীক বরাদ্দের তারিখ ২৪ জুন।

বিএনপি আগ্রহ না দেখালেও সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এরই মধ্যে আসনগুলোতে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে। জাতীয় মোটর শ্রমিক পার্টির সভাপতি মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক ঢাকা-১৪, দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ আতিকুর রহমান সিলেট-৩ এবং জসিম উদ্দিনকে কুমিল্লা-৫ আসনে লাঙ্গল নিয়ে লড়বেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত ৪ এপ্রিল আসলামুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা-১৪, ১৪ এপ্রিল আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে কুমিল্লা-৫ আর ১১ মার্চ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের মৃত্যুতে ফাঁকা হয় সিলেট-৫ আসন।

শূন্য ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনে ভোট করতে বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।

শেয়ার করুন