সেনাপ্রধান থেকে যেভাবে জিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

সেনাপ্রধান থেকে যেভাবে জিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

সেনাবাহিনীর প্রধান থাকা অবস্থায় ১৯৭৮ সালের ৩ জুলাইয়ের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জিয়াউর রহমান।

সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় দলের প্রতিষ্ঠাতার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এটা ৪৩ বছর আগের ঘটনা। আপনি কি রিসার্চ করবেন, নাকি নিউজ করবেন? যদি রিসার্চ করেন আমি আপনাকে কোনো হেল্প করতে পারব না। আর এত বছর আগের ঘটনা, এটা নিয়ে এখন নিউজ হতে পারে না। আপনাদের কি আর কোনো কাজ নাই?’

নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশে বিতর্ক শুরু থেকেই। তবে ৪৩ বছর আগে আজকের এই দিনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে যেটি হয়েছে, তা এর আগে এবং পরে এই অঞ্চলে কখনও দেখা যায়নি।

১৯৭৮ সালের ৩ জুনের এই ভোট যেদিন চলছিল, সেদিনও জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সেনাপ্রধান। সে সময়ের পোস্টারেও সেনাবাহিনীর পোশাক পরা জিয়াউর রহমানকে দেখা যায়। অথচ সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় ভোটে দাঁড়ানো অবৈধ।

ওই নির্বাচনের আগে জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলসহ (জাগদল) ছয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠন করা হয়। মেজর জেনারেল পদে চাকরি করা জিয়াউর রহমানকে প্রার্থী করে এই জোট।

তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন পাঁচটি দলের সমন্বয়ে গঠিত গণঐক্য জোটের প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল (অব.) এম এ জি ওসমানী।

ভোটে জিয়াউর রহমানের পক্ষে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পড়ে বলে জানানো হয়। বলা হয়, ওসমানীর পক্ষে পড়ে ২১ দশমিক ৭ শতাংশ।

তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই নির্বাচন ছিল সাজানো। সে সময় নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো কোনো কেন্দ্রে ১১০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল। জাল ভোট পড়েছে। এটিও উল্লেখ ছিল।’

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের ভূমিকা আগে থেকেই বিতর্কিত। প্রথমে তার ক্ষমতাকে অটুট রাখার জন্য হ্যাঁ-না ভোটের আয়োজন করলেন। তাতে সব ভোট তার পক্ষে পড়ল। এরপর তিনি পদে থেকে নির্বাচন করলেন। সেনাপ্রধান পদে থেকে যে নির্বাচন করলেন, সরকারি চাকরিবিধি অনুসারে সেটা অবৈধ।’

‘ভোটেও সাজানো একটা নাটক করলেন। বিরোধী দল হিসেবে জেনারেল ওসমানীকে নিয়ে এসেছেন। এটা ছিল জনগণকে ধোঁকা দেয়া। ভোটকেন্দ্রগুলোতে কিছু বিদেশি সাংবাদিককে নিয়ে এসেছিলেন। তারাও লক্ষ করেছেন ভোটাররা আসেনি। জেনারেল জিয়া স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে এসে ভোট দিতে বাধ্য করেছেন। এভাবে প্রহসনের নির্বাচন করেছেন’- বলেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

সে সময়ে সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার। মেজর জেনারেল পদে থেকে অবসরে যাওয়া এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সামরিক গবেষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিনি (জিয়াউর রহমান) যে প্রার্থী হলেন, এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। কারণ, তিনি সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। তিনি প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তা। নির্বাচনের আগেই কিন্তু তিনি প্রেসিডেন্ট হলেন স্বঘোষিত হিসেবে। এর আগে তিনি সামরিক আইন প্রশাসক হন। আর একের পর এক আদেশ জারি করে নিজের প্রার্থিতাকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি পারেননি।’

সেনাপ্রধান থেকে যেভাবে জিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়াউর রহমানের পক্ষে পোস্টার

তিনি বলেন, ‘সেই নির্বাচনে একজন ব্যক্তির ভোটে দাঁড়াতে হলে কয়েকটি শর্ত ছিল। তার বয়স হতে হবে কমপক্ষে ৩৫ বছর। আর তাকে এমপি হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে আবার তিনি কোনো লাভজনক পদে থাকতে পারবেন না।

‘সেনাবাহিনীর পদ ছিল লাভজনক পদ আর তার জারি করা বিধান অনুসারেই সেই নির্বাচনে দাঁড়ানো ছিল অবৈধ। এটা সাংবিধানিক বিধানের পরিপন্থি, আর্মির শৃঙ্খলারও পরিপন্থি। তার কারণ, আর্মির পদে থাকা অবস্থায় নির্বাচন করা যায় না। সেনাবাহিনীর যে আইন রয়েছে, সেখানেও সেটি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, সেনাবাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় কেউ রাজনীতি করতে পারবে না।’

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি কেবল আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন তা-ই নয়, তিনি সেনাবাহিনীকেও বিতর্কের মধ্যে ফেলেছেন।’

সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় দলের প্রতিষ্ঠাতার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এটা ৪৩ বছর আগের ঘটনা। আপনি কি রিসার্চ করবেন, নাকি নিউজ করবেন? যদি রিসার্চ করেন আমি আপনাকে কোনো হেল্প করতে পারব না। আর এত বছর আগের ঘটনা, এটা নিয়ে এখন নিউজ হতে পারে না। আপনাদের কি আর কোনো কাজ নাই?’

তিনি এও বলেন, ‘এটা নিয়ে রিসার্চ করলে তো এটাও জানা উচিত যে তখন তিনটা রিট হয়েছিল। আর বিচারপতি সাহাবুদ্দিন তার সব কটি খারিজ করে দিয়েছিলেন।’

যেভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে বলতে গেলে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর থেকেই।

তবে এরও এক বছর পর ১৯৭৬ সালের ১৯ নভেম্বর সামরিক আইন জারি করে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হন সে সময়ের মেজর জিয়াউর রহমান।

সেনাপ্রধান থেকে যেভাবে জিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন জিয়াউর রহমান

১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল সেনাপ্রধান থাকা অবস্থাতেই জিয়া হয়ে যান রাষ্ট্রপতি। উর্দি পরা অবস্থাতেই ওই বছরের ৩০ মে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট দেন তিনি। বিস্ময়করভাবে ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পড়ে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে।

এরপর সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থাতেই ১৯৭৮ সালের ৩ জুনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয় ওই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি।

জিয়ার ক্ষমতায় আরোহণ শাসন অবৈধ ঘোষণা

জিয়াউর রহমানের এই সেনাশাসন ও তার ক্ষমতায় আরোহণ দুটিই হাইকোর্টের রায়ে অবৈধ ঘোষণা হয়েছে যে সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি।

১৬ বছর আগে ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট এই রায় আসে পুরান ঢাকার মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে।

সেই রায়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত জারি করা সব ধরনের ফরমান অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। ১৯৭৫ সালে খন্দকার মোশতাক আহমদ, একই বছরের ৬ নভেম্বর বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ও পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ এবং সামরিক শাসন জারি অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করে আদালত।

সে সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি এবং এই রায় সরকারের জন্য ছিল ভীষণ বিব্রতকর।

এই রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপির পক্ষ থেকে আপিল করা হলে ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সে আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়।

সেই আবেদনটি আপিল বিভাগের যে বেঞ্চ খারিজ করে দেয়, তাতে বিচারক ছিলেন অবসরে থাকা এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। তিনি বলেন, ‘১৯৭৮ সালের ৩ জুনের নির্বাচন ছিল সংবিধান পরিপন্থি, তামাশার নির্বাচন।’

সেনাপ্রধান থেকে যেভাবে জিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
ভোটের দিনে একটি কেন্দ্রের চিত্র

তিনি বলেন, ‘জিয়া তো প্রথম থেকেই সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। সেনাপ্রধান থেকে নির্বাচন করা সংবিধান লঙ্ঘনের নতুন সংযোজন মাত্র। তার কারণ জিয়া যে সেনাপ্রধান হয়েছিলেন, সেটাও সংবিধান লঙ্ঘন করেই হয়েছিলেন।

‘পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন, সেটাও সংবিধান লঙ্ঘন করে। তিনি সংবিধানকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিলেন। সেটি ছিল রাষ্ট্রদ্রোহিতা।’

তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতের রায়েই তার সব কর্মকাণ্ড অবৈধ হয়ে গিয়েছে। সেই অর্থেই আমরা বলছি, আইনের দৃষ্টিতে জিয়া কখনও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন না। অবৈধ ক্ষমতা দখলদার ছিলেন।’

কমিশন গঠনের সুপারিশ

বাংলাদেশের আইনে মৃত্যু-পরবর্তী কাউকে বিচারের আওতায় আনা যায় না। তবে সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ তদন্তে এখন একটি তদন্ত কমিশন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।

তিনি বলেন, ‘কমিশনের ফলে এটা রিপোর্টেড থাকবে জিয়া কী কী অন্যায়, অপরাধ করে গেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং সংবিধান ছিন্নভিন্ন করে গেছেন।

‘এগুলো কিন্তু বিভিন্ন মামলার বিভিন্ন রায়ে উল্লেখ রয়েছে। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী, সপ্তম সংশোধনী, তাহের হত্যা মামলাসহ অনেক মামলাতেই উল্লেখ রয়েছে। এমনকি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাতেও এর উল্লেখ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তদন্ত কমিশন করার দরকার। যাতে তারা জানতে পারে। মানুষ জানতে পারবে জিয়া দেশের যত ক্ষতি করেছিলেন, আর কেউ এমন ক্ষতি দেশের কেউ করেনি। এটি শত শত বছর ধরে আগামী প্রজন্ম জানতে পারবে।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে হ্যাঁ-না ভোট

১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের বছরের ৩০ মে হ্যাঁ-না ভোট হয় দেশে। সেই নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ছিল না। পক্ষে বিপক্ষে প্রচারও ছিল না। ব্যালট পেপারে কোনো মার্কাও ছিল না।

ব্যালটে কেবল লেখা ছিল, ‘আপনি কি রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) প্রতি এবং তার দ্বারা গৃহীত নীতি ও কার্যক্রমের প্রতি আস্থাশীল?’

অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাস লিখেছেন, ভোটের দুদিন আগে সড়কের পাশের দেয়ালে, চলমান রিকশা-বাস ও মানুষের ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে জোর করে জেনারেল জিয়ার সামরিক পোশাক পরিহিত পোস্টার সাঁটিয়ে দেয়া হয়। একধরনের আতঙ্ক ছড়ানো হয় মানুষের মধ্যে। ভোটের দিন ভয়ে কেউ বের হওয়ার সাহস পায়নি। ফলে ভোটারবিহীন থেকে যায় ভোটকেন্দ্রগুলো। একপর্যায়ে মানুষ খুঁজে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ভোট দিতে নিয়ে যাওয়া হয়।’

আরও পড়ুন:
জিয়া-এরশাদের সেনা আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত জুনের মধ্যে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হিসাব তলব সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর নতুন কৌশল: ফখরুল

হিসাব তলব সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর নতুন কৌশল: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভয়াবহ দুঃশাসনে দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও সরকারি জুলুম-নির্যাতনে জর্জরিত। সম্প্রতি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের ঘোষণায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কোনো স্বাধীনতা নেই। বিভিন্ন কায়দায় সংবাদ মাধ্যমগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় কর্তৃত্ববাদী সরকার।’

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনাকে সাংবাদিকদের ভীতি প্রদর্শনের নতুন কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অবিলম্বে সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সত্য প্রকাশে দেশের বিবেক তথা গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমের কর্মীদের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এ আহ্বান জানান।

দলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের সই করা বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিস্ট সরকার সারাদেশে যে দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে তা থেকে সাংবাদিকরাও রেহাই পাচ্ছেন না। সত্য প্রকাশে নির্ভীক সাংবাদিকদের বিভিন্ন উপায়ে টুটি চেপে ধরার পর এখন জাতীয় প্রেসক্লাব, বিএফইউজে, ডিইউজে ও ডিআরইউর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের ব্যাংক হিসাব তলবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের মাঝে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।’

এ ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মত প্রকাশে চরম হুমকি বলেও মনে করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘গোটা দেশ এখন আওয়ামী দুঃশাসনের লীলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার খায়েশে বিভোর ভোটারবিহীন সরকার কেবল বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী, মানবাধিকার কর্মী ও বিরুদ্ধ মতের নাগরিকদের ওপরই জুলম-নির্যাতন চালাচ্ছে না, সত্য প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদেরও নির্যাতন শুরু করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভয়াবহ দুঃশাসনে দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও সরকারি জুলুম-নির্যাতনে জর্জরিত। সম্প্রতি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের ঘোষণায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কোনো স্বাধীনতা নেই। বিভিন্ন কায়দায় সংবাদ মাধ্যমগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় কর্তৃত্ববাদী সরকার।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে এক ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠা করাই এখন আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে অনৈতিক সরকার নির্ভীক সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের কলম চেপে ধরছে।’

আরও পড়ুন:
জিয়া-এরশাদের সেনা আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত জুনের মধ্যে

শেয়ার করুন

ভোট থেকে সরলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জি এম কাদেরের

ভোট থেকে সরলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জি এম কাদেরের

বনানীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে মিলাদ ও কর্মিসভায় অংশ নেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কাছে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা দৃশ্যমান নয়। নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে সরকারি দলের সাথে প্রশাসনের একটি অংশ জড়িয়ে পড়ছে। বিরোধী মতাদর্শের প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠে দাঁড়াতেই পারছেন না। মামলা-হামলা, ভয়ভীতি আর লোভ-লালসায় বিপর্যস্ত হচ্ছেন তারা।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিরোধী মতাদর্শের প্রার্থীরা মামলা-হামলার ভয় আর লোভ-লালসায় বিপর্যস্ত হচ্ছেন বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে যারা ভোটের লড়াই থেকে সরে যাবেন তাদের জাতীয় পার্টিতে ‘প্রয়োজন নেই’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সোমবার এক অনুষ্ঠানে জি এম কাদের এসব কথা বলেন।

নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি স্থানীয় সরকারের প্রতিটি নির্বাচনে অংশ নেবে। নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা সংগঠিত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে যাচ্ছি। প্রতিটি নির্বাচনেই প্রার্থীদের শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে বলা হচ্ছে। যারা ভয়-ভীতি আর লোভ-লালসা উপেক্ষা করে লড়াই করতে পারবেন না, তাদের জাতীয় পার্টিতে প্রয়োজন নেই। কারণ, নতুন প্রজন্মের জন্য জাতীয় পার্টির দুয়ার খোলা আছে।’

দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর রোগমুক্তি কামনায় সোমবার মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয় পার্টি।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কাছে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা দৃশ্যমান নয়। অথচ একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের অনেক ক্ষমতা আছে। নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে কাজ করছে না বলেই এ পরিস্থিতি।

‘নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে সরকারি দলের সঙ্গে প্রশাসনের একটি অংশ জড়িয়ে পড়ছে। তাই স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে না। বিরোধী মতাদর্শের প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠে দাঁড়াতেই পারছেন না। মামলা-হামলা, ভয়-ভীতি আর লোভ-লালসায় বিপর্যস্ত হচ্ছেন তারা।’

মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

মিলাদের পর জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম ফয়সল চিশতীর সভাপতিত্বে এক কর্মিসভায় যোগ দেন জি এম কাদের।

সভায় তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগে জায়গা নেই। কেউ ইচ্ছে হলেই সেখানে যোগ দিতে পারছেন না। আর বিএনপিতে যোগ দিলেই মামলা আর হামলার ভয়। তাই নতুন প্রজন্মের রাজনীতির জন্য জাতীয় পার্টি হচ্ছে উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম।

‘সাধারণ মানুষের কাছে জাতীয় পার্টি সবচেয়ে নিরাপদ। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে, আওয়ামী লীগকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করে মানুষ। তাই আগামী দিনে জাতীয় পার্টিকেই রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায় জনগণ।’

এর আগে দলকে না জানিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় গত ২৪ জুন ঢাকা-১৪ আসনের উপনির্বাচনের প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান মোস্তাককে বহিষ্কার করে জাতীয় পার্টি। মোস্তাক দলের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তার আগে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার পর ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোয় কুমিল্লা-৫ আসনে দলীয় প্রার্থী জসিম উদ্দিনকেও দল থেকে বাদ দেয়া হয়।

গত শুক্রবার কুমিল্লা-৭ আসনের উপনির্বাচনে জাপার ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা উত্তর জেলা জাপার আহ্বায়ক লুৎফর রেজা খোকন ভোট থেকে সরে দাঁড়ান। তাকেও বহিষ্কার করে জাতীয় পার্টি।

রোববার যশোর সদর উপজেলা নির্বাচনে দলকে না জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান দলীয় প্রার্থী মুফতি নুরুল আমিন। তাকেও বহিষ্কার করেছে দলটি।

আরও পড়ুন:
জিয়া-এরশাদের সেনা আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত জুনের মধ্যে

শেয়ার করুন

প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

ভোট শেষে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরভাটা আর জি উচ্চ বিদ্যালয়ে চলছে গণনা। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটের আগেই ৪৪টি ইউপির চেয়ারম্যান পদে ও তিনটি পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় একক প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সেখানে ভোট হয়েছে অন্য পদগুলোতে। সব পৌরসভায় ভোট হয়েছে ইভিএমে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে ১১টিতে ইভিএমে ভোট হয়।

বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, দুজনের প্রাণহানি ও কিছু প্রার্থীর ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ৯টি পৌরসভার নির্বাচন। ভোট শেষে চলছে গণনা।

কেন্দ্রগুলোতে সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। এর মধ্যে সহিংসতার জেরে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়।

সহিংসতায় কক্সবাজারে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন। বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, ভোটের আগেই ৪৪টি ইউপির চেয়ারম্যান পদে ও ৩টি পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় একক প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সেখানে ভোট হয়েছে অন্য পদগুলোতে।

সব পৌরসভায় ভোট হয়েছে ইভিএমে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে ১১টিতে ইভিএমে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা।

প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

কক্সবাজার

জেলার মহেশখালী ও চকরিয়া পৌরসভা এবং মহেশখালী, টেকনাফ ও কুতুবদিয়ার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়েছে।

এর মধ্যে মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার দুই কেন্দ্রে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছে। দুই কেন্দ্রেই সংঘর্ষের পর বন্ধ করা হয়েছে ভোট গ্রহণ।

কুতুবদিয়ার বড় ঘোপ ইউনিয়নের পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ব্যালট ছিনতাইচেষ্টার সময় দুর্বৃত্তদের ওপর গুলি ছোড়ে পুলিশ। সে সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আব্দুল হালিম। তিনি ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচজন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জামশেদুল ইসলাম সিকদার।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে একজন নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন তিন নারী।

প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকায় কুতুবজোম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম আবুল কালাম। তিনি স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খোকনের সমর্থক বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ভোট চলাকালীন ওই কেন্দ্রে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ কামালের সমর্থকদের সঙ্গে চশমার প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। সে সময় গুলিবিদ্ধ হন চারজন। হাসপাতালে নেয়ার পথেই মৃত্যু হয় কালামের।

এ ছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলোতে ভোট হয়েছে স্বাভাবিকভাবেই।

বাগেরহাট

জেলার ৬৫টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে মোরেলগঞ্জ উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে দুপুর ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন আহত হন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী রিপন চন্দ্র দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা আমার ভাইয়ের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

এ অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল জব্বার মোল্লা বলেন, ‘আমার জয় নিশ্চিত জেনে তারা নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোল করে দোষ চাপাচ্ছে।’

এই অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের মধ্যে কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ রানা লালন ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।


ফকিরহাট উপজেলার শুভদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল দেয়া, ব্যালট পেপার ছিড়ে ফেলাসহ এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন।

এ ছাড়া চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। কয়েক জায়গায় হাতাহাতিও হয়।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাটের ৯ উপজেলার ৬৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও কচুয়ার রাঢ়ীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যের ১৩টি পদের সব কয়টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন প্রার্থীরা। তাই ভোট হয়েছে ৬৫টি ইউনিয়নে।

সাতক্ষীরা

জেলার কলারোয়া ও তালা উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়েছে। সকালে বৃষ্টি হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার দেখা গেছে প্রায় সব কেন্দ্রেই।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, অনিয়মের অভিযোগ তুলে কলারোয়ার কয়লা ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ভোট বর্জন করেন।

অনিয়ম হওয়ায় কেড়াগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করে উপজেলা প্রশাসন।

তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর মক্তব কেন্দ্রে ককটেল ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

আটক ব্যক্তির নাম আজহার হোসেন। তিনি নৌকা প্রতীকের কর্মী বলে জানা গেছে।

এর আগে সকালে শ্রীমন্তকাটি কেন্দ্রের পাশে নৌকার কর্মী-সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল কবির জানান, ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে ইভিএমে ভোট হয়েছে।

নোয়াখালী

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলসহ নানা অভিযোগ তুলে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট বর্জন করেছেন পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থী।

ভোট শুরুর ঘণ্টাখানেক পর নিজ নিজ বাড়ি থেকে সংবাদ সম্মেলন করে তারা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

তারা হলেন বুড়িরচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিয়া আলী মোবারক কল্লোল, জাহাজমারা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী এটিএম সিরাজ উদ্দিন, চরঈশ্বর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল হালিম আজাদ, সোনাদিয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম মালয়েশিয়া ও নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেরাজ উদ্দিন।

এ উপজেলায় সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এর মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থীরা ভোট বর্জন করায় সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জয় প্রায় নিশ্চিতই।

হাতিয়ার পাশাপাশি ইউপি নির্বাচনের ভোট হয় সুবর্ণচরেও। সেখানে ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট দেন ভোটাররা। ভোটার উপস্থিতি হাতিয়ার চেয়ে সুবর্ণচরেই বেশি দেখা যায়।

কবিরহাট পৌরসভাতেও হয়েছে ভোট। তবে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জহিরুল হক রায়হান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ায় সেখানে কাউন্সিল পদের জন্য ভোট হয়েছে।

ফেনী

জেলার সোনাগাজী পৌরসভায় কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়া, প্রার্থীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ভোট।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আবু নাসের অভিযোগ করেন, বাইরে নিরাপত্তা জোরদার থাকলেও কেন্দ্রের ভেতরে একজনের ভোট অন্যজন দিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর বহিরাগত সমর্থকরা ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দিয়েছে। একই অভিযোগ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ইমাম উদ্দিন ভূঁইয়ার।

ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী হিজবুল্লাহ অভিযোগ করেন, তিনি সকালে ২ নম্বর ওয়ার্ডে কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে সরকারদলীয় সমর্থকরা তাকে লাঞ্ছিত করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।

প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

এ ছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী অভিযোগ করেন, নির্বাচনি কেন্দ্রের ভেতর পরিবেশ ভালো থাকলেও বাইরে সরকারদলীয় সমর্থকরা তার সমর্থকদের ঢুকতে দেয়নি।

এসব অভিযোগ সত্য নয় জানিয়ে সোনাগাজী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। যাদের কোনো ভোটার নেই তারা এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজী পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রের ৪৯টি বুথে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন কক্সবাজারের সাকিবুর রহমান, বাগেরহাটের মামুন আহমেদ, সাতক্ষীরার রফিকুল ইসিলাম শাওন, নোয়াখালীর মোহাম্মদ সোহেল, ফেনীর আরিফুর রহমান ও কুমিল্লার মাহফুজ নান্টু।

আরও পড়ুন:
জিয়া-এরশাদের সেনা আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত জুনের মধ্যে

শেয়ার করুন

নীলফামারী জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা মঙ্গলবার

নীলফামারী জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা মঙ্গলবার

মঙ্গলবারের বর্ধিত সভার প্রস্তুতি নিচ্ছে নীলফামারী জেলা যুবলীগ। ছবি: নিউজবাংলা

নীলফামারী জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাফর সাদেক তুহিন জানান, আগের কমিটির মেয়াদকাল অনেক আগেই শেষ হয়েছে। জেলা যুবলীগে এখন নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। আগের কমিটির সফলতা, ব্যর্থতা দুটোই রয়েছে।

নীলফামারী জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার। এ সভায় নির্ধারিত হবে আওয়ামী লীগের এই অঙ্গসংগঠনের সম্মেলনের তারিখ।

জেলা শিল্পকলা অডিটোরিয়ামে বর্ধিত সভা সোমবার বেলা ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাফর সাদেক তুহিন।

সভা সফল করতে এরই মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক করেছে জেলা যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিট।

৭১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৫ সালে। এর তিন বছর পর গঠন করা হয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি। কমিটিতে রামেন্দ্র বর্ধণ বাপ্পীকে সভাপতি এবং শাহিদ মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

যুবলীগের বর্ধিত সভা ঘিরে নীলফামারী জেলা জুড়ে চলছে আলোচনা। কমিটিতে ত্যাগী ও যোগ্যদের জায়গা দেয়ার কথা জানিয়েছেন নেতা-কর্মীরা।

জাফর সাদেক তুহিন জানান, আগের কমিটির মেয়াদকাল অনেক আগেই শেষ হয়েছে। জেলা যুবলীগে এখন নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। আগের কমিটির সফলতা, ব্যর্থতা দুটোই রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মাঝখানে যুবলীগের অনেক নেতাই সাবেক হয়েছেন, তাদের মূল্যায়ন করতে হবে। কালকের (মঙ্গলবার) বর্ধিত সভার মাধ্যমে জেলা যুবলীগের সম্মেলনের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে।’

এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান বাদশা, বিশেষ অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল পারভেজ ও ত্রাণ সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন পাভেলের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ জানান, ‘আমরা এর আগেও সভা করেছিলাম। কিন্তু নানা কারণে সম্মেলনের তারিখ তখন নির্ধারণ করা যায়নি। বর্ধিত সভা থেকে সম্মেলনের দিন এবার হয়ত পাওয়া যাবে।’

আরও পড়ুন:
জিয়া-এরশাদের সেনা আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত জুনের মধ্যে

শেয়ার করুন

সেলিমা-আমান-শিমুলসহ বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর বিচার শুরু

সেলিমা-আমান-শিমুলসহ বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর বিচার শুরু

বিচার শুরু হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ নেতা সেলিমা রহমান, আমান উল্লাহ আমান, শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, বরকত উল্লাহ বুলু, মীর সরাফত আলী সফু, আজিজুল বারী হেলাল, শওকত মাহমুদ এবং রাজিব আহসান।

রাজধানীর রামপুরা থানায় করা বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুই মামলায় বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।

এ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

সোমবার ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৬ এর বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসের আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

বিচার শুরু হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ নেতা সেলিমা রহমান, আমান উল্লাহ আমান, শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, বরকত উল্লাহ বুলু, মীর সরাফত আলী সফু, আজিজুল বারী হেলাল, শওকত মাহমুদ এবং রাজিব আহসান।

এ মামলার অন্যতম আসামি শফিকুল বারী বাবু মারা গেছেন। এ কারণে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী হান্নান ভূঁইয়া বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ২৯ অক্টোবর সাক্ষ্য নেয়ার তারিখ ঠিক করেছে আদালত।’

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ২০ দলের ডাকা হরতালের সমর্থনে অজ্ঞাতপরিচয় ৪০-৪৫ জন বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী রামপুরার ডিআইটি রোডের ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন।

তারা আব্দুল্লাহপুর থেকে ছেড়ে আসা প্রচেষ্টা পরিবহনের একটি বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেন। এতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং এক যাত্রী গুরুতর আহত হন। এসময় তারা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে কর্তব্যেও বাধা দেন।

এ ঘটনায় রামপুরা থানার এসআই বাবুল শরীফ ওইদিনই মামলাটি করেন। মামলা তদন্ত করে খিলগাঁও জোনাল টিমের এসআই আশরাফুল আলম ৪১ জনকে অভিযুক্ত করে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে আদালতে দুটি আলাদা অভিযোগপত্র দেন।

আরও পড়ুন:
জিয়া-এরশাদের সেনা আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত জুনের মধ্যে

শেয়ার করুন

বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মত চান কাদের

বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মত চান কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাচন ও নির্বাচনি পরিবেশ বিনষ্টে বিএনপি এখনই প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্তব্য করেছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘তাদের এসব অসাংবিধানিক প্রয়াস অতীতের মতো কোনো সুফল বয়ে আনবে না, বরং বিদ্যমান কাঠামোর আওতায় একটা ক্রেডিবল ইলেকশন আয়োজনে কী করা যায়, তা নিয়ে আপনারা মতামত দিন।’

সংবিধান মেনে বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে কীভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায় তা নিয়ে মতামত নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে বিএনপিকে আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগও মতামত কমিশনে দেবে বলে জানান তিনি।

রাজধানীর সরকারি বাসভবন থেকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি যেমন গায়ের জোরে আইন লঙ্ঘন করতে চায়, তেমনি সংবিধানও জানতে চায় না। জাতীয় নির্বাচন কীভাবে, কার অধীনে হবে- এটা মীমাংসিত বিষয়। সংবিধানসম্মতভাবে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে।’

নির্বাচন ও নির্বাচনি পরিবেশ বিনষ্টে বিএনপি এখনই প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্তব্য কাদেরের। তিনি বলেন, ‘তাদের এসব অসাংবিধানিক প্রয়াস অতীতের মতো কোনো সুফল বয়ে আনবে না, বরং বিদ্যমান কাঠামোর আওতায় একটা ক্রেডিবল ইলেকশন আয়োজনে কী করা যায়, তা নিয়ে আপনারা মতামত দিন। সময় হলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও নির্বাচন কমিশনে মতামত দেবে।’

‘গত ১৩ বছর ধরে বিএনপি আন্দোলনের নিষ্ফল আহ্বান যেমনি ব্যর্থ হয়েছে, বর্তমান প্রয়াসও নিষ্ফল হবে’, যোগ করেন কাদের।

শেখ হাসিনার উদারতা দুর্বলতা নয়

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘উদারতা’, এটাকে ‘দুর্বলতা’ ভাবলে বিএনপি ভুল করবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের আইন-আদালতের তোয়াক্কা না করে মনগড়া কথা বলাই বিএনপির স্বভাব। তারা অভিযোগ করেছে, সরকার নাকি বেগম জিয়াকে ভয়ে বিদেশ যেতে দিচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে বিএনপিই বেগম জিয়ার চিকিৎসা চায় কি না তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ আছে।’

বিএনপি নেতারা বেগম জিয়ার মুক্তির ইস্যুতে রাজনীতি করছেন জানিয়ে কাদের বলেন, ‘চিকিৎসার ব্যাপারে যতটা নজর দিচ্ছেন, তার চেয়ে তাদের চিন্তা বেগম জিয়াকে ইস্যু করে রাজনীতি করা।’

বেগম জিয়া কিংবা ক্ষয়িষ্ণু বিএনপিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ভয় পায় না জানিয়ে কাদের বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়ার) বয়স এবং স্বাস্থ্যের ওপর নজর দিয়ে সাজা স্থগিত করেছে চতুর্থবারের মতো। এ উদারতা একমাত্র বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাই দেখিয়েছেন। বিএনপি শেখ হাসিনার উদারতাকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবে।’

ভাবনায় এবং চর্চায় বিএনপির একমুখী দর্শন তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের শিকড়কে দিন দিন দুর্বল করছে বলেও মন্তব্য করেন কাদের।

তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়ার চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়টি ইতিমধ্যেই মীমাংসিত। বিএনপি সব সময় মীমাংসিত ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করার অপপ্রয়াস চালায়। একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির বিদেশ গমন বিদ্যমান আইনে সুযোগ আছে কি না, এটা বিএনপিও ভালো করে জানে।’

আইন মন্ত্রণালয় বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়ে দিলেও বিএনপি জেনে-শুনে না জানার ভান করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার কৌশল নিয়েছে বলেও অভিযোগ কাদেরের।

তিনি বলেন, ‘যে নেত্রীর জন্য তারা এত মায়াকান্না কাঁদছেন, সেই নেত্রীর মুক্তির জন্য একটা কার্যকর বিক্ষোভ মিছিলও তারা বাংলাদেশের কোথাও এ যাবৎ করতে পারেনি।’

আরও পড়ুন:
জিয়া-এরশাদের সেনা আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত জুনের মধ্যে

শেয়ার করুন

নির্বাচনে জাতিসংঘের সহযোগিতা লাগবে না: তথ্যমন্ত্রী

নির্বাচনে জাতিসংঘের সহযোগিতা লাগবে না: তথ্যমন্ত্রী

ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সোমালিয়া বা ইথিওপিয়ার নয় যে, এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সহায়তা লাগবে। আমি মনে করি নির্বাচনের এখনও অনেক বাকি। নির্বাচন কমিশন অনেক শক্তিশালী। এখানে কারও সহযোগিতা প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’

আগামী জাতীয় নির্বাচন সম্পন্নের বিষয়ে জাতিসংঘের সহায়তা প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সোমালিয়া বা ইথিওপিয়ার নয় যে, এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সহায়তা লাগবে।

‘আমি মনে করি নির্বাচনের এখনও অনেক বাকি। নির্বাচন কমিশন অনেক শক্তিশালী। এখানে কারও সহযোগিতা প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’

বাংলাদেশ চাইলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতিসংঘ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলে রোববার এক অনুষ্ঠানে জানান ঢাকাস্থ জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো।

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ কোনো দেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে না। তবে কোনো দেশের সরকার নির্বাচন-প্রক্রিয়ায় সহায়তা চাইলে জাতিসংঘ তা দিয়ে থাকে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের কোনো সহযোগিতা চাইলে আমরা সেই সহযোগিতা দেবো।’

সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টায় জাতিসংঘ মধ্যস্থতার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না, সে বিষয়টি পরিষ্কার করেননি মিয়া সেপ্পো।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন অনুষ্ঠান একান্তই হোস্ট কান্ট্রির স্টেকহোল্ডারদের বিষয়। তারা চাইলে জাতিসংঘ যেকোনো ধরনের সহায়তা করে। কোনো দেশ চাইলেই তাদের নির্বাচনে সহযোগিতা দেয় জাতিসংঘ। সেটা বাংলাদেশেও ঘটতে পারে।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বহুল আলোচিত নির্বাচনের আগে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হিসেবে রাজনীতি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতায় দুই দফা ঢাকা এসেছিলেন। কিন্তু সেই সিরিজ সংলাপ সফল হয়নি।

আরও পড়ুন:
জিয়া-এরশাদের সেনা আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত জুনের মধ্যে

শেয়ার করুন