সেনাপ্রধান থেকে যেভাবে জিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

সেনাবাহিনীর প্রধান থাকা অবস্থায় ১৯৭৮ সালের ৩ জুলাইয়ের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জিয়াউর রহমান।

সেনাপ্রধান থেকে যেভাবে জিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় দলের প্রতিষ্ঠাতার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এটা ৪৩ বছর আগের ঘটনা। আপনি কি রিসার্চ করবেন, নাকি নিউজ করবেন? যদি রিসার্চ করেন আমি আপনাকে কোনো হেল্প করতে পারব না। আর এত বছর আগের ঘটনা, এটা নিয়ে এখন নিউজ হতে পারে না। আপনাদের কি আর কোনো কাজ নাই?’

নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশে বিতর্ক শুরু থেকেই। তবে ৪৩ বছর আগে আজকের এই দিনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে যেটি হয়েছে, তা এর আগে এবং পরে এই অঞ্চলে কখনও দেখা যায়নি।

১৯৭৮ সালের ৩ জুনের এই ভোট যেদিন চলছিল, সেদিনও জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সেনাপ্রধান। সে সময়ের পোস্টারেও সেনাবাহিনীর পোশাক পরা জিয়াউর রহমানকে দেখা যায়। অথচ সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় ভোটে দাঁড়ানো অবৈধ।

ওই নির্বাচনের আগে জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলসহ (জাগদল) ছয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠন করা হয়। মেজর জেনারেল পদে চাকরি করা জিয়াউর রহমানকে প্রার্থী করে এই জোট।

তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন পাঁচটি দলের সমন্বয়ে গঠিত গণঐক্য জোটের প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল (অব.) এম এ জি ওসমানী।

ভোটে জিয়াউর রহমানের পক্ষে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পড়ে বলে জানানো হয়। বলা হয়, ওসমানীর পক্ষে পড়ে ২১ দশমিক ৭ শতাংশ।

তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই নির্বাচন ছিল সাজানো। সে সময় নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো কোনো কেন্দ্রে ১১০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল। জাল ভোট পড়েছে। এটিও উল্লেখ ছিল।’

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের ভূমিকা আগে থেকেই বিতর্কিত। প্রথমে তার ক্ষমতাকে অটুট রাখার জন্য হ্যাঁ-না ভোটের আয়োজন করলেন। তাতে সব ভোট তার পক্ষে পড়ল। এরপর তিনি পদে থেকে নির্বাচন করলেন। সেনাপ্রধান পদে থেকে যে নির্বাচন করলেন, সরকারি চাকরিবিধি অনুসারে সেটা অবৈধ।’

‘ভোটেও সাজানো একটা নাটক করলেন। বিরোধী দল হিসেবে জেনারেল ওসমানীকে নিয়ে এসেছেন। এটা ছিল জনগণকে ধোঁকা দেয়া। ভোটকেন্দ্রগুলোতে কিছু বিদেশি সাংবাদিককে নিয়ে এসেছিলেন। তারাও লক্ষ করেছেন ভোটাররা আসেনি। জেনারেল জিয়া স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে এসে ভোট দিতে বাধ্য করেছেন। এভাবে প্রহসনের নির্বাচন করেছেন’- বলেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

সে সময়ে সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার। মেজর জেনারেল পদে থেকে অবসরে যাওয়া এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সামরিক গবেষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিনি (জিয়াউর রহমান) যে প্রার্থী হলেন, এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। কারণ, তিনি সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। তিনি প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তা। নির্বাচনের আগেই কিন্তু তিনি প্রেসিডেন্ট হলেন স্বঘোষিত হিসেবে। এর আগে তিনি সামরিক আইন প্রশাসক হন। আর একের পর এক আদেশ জারি করে নিজের প্রার্থিতাকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি পারেননি।’

সেনাপ্রধান থেকে যেভাবে জিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়াউর রহমানের পক্ষে পোস্টার

তিনি বলেন, ‘সেই নির্বাচনে একজন ব্যক্তির ভোটে দাঁড়াতে হলে কয়েকটি শর্ত ছিল। তার বয়স হতে হবে কমপক্ষে ৩৫ বছর। আর তাকে এমপি হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে আবার তিনি কোনো লাভজনক পদে থাকতে পারবেন না।

‘সেনাবাহিনীর পদ ছিল লাভজনক পদ আর তার জারি করা বিধান অনুসারেই সেই নির্বাচনে দাঁড়ানো ছিল অবৈধ। এটা সাংবিধানিক বিধানের পরিপন্থি, আর্মির শৃঙ্খলারও পরিপন্থি। তার কারণ, আর্মির পদে থাকা অবস্থায় নির্বাচন করা যায় না। সেনাবাহিনীর যে আইন রয়েছে, সেখানেও সেটি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, সেনাবাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় কেউ রাজনীতি করতে পারবে না।’

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি কেবল আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন তা-ই নয়, তিনি সেনাবাহিনীকেও বিতর্কের মধ্যে ফেলেছেন।’

সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় দলের প্রতিষ্ঠাতার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এটা ৪৩ বছর আগের ঘটনা। আপনি কি রিসার্চ করবেন, নাকি নিউজ করবেন? যদি রিসার্চ করেন আমি আপনাকে কোনো হেল্প করতে পারব না। আর এত বছর আগের ঘটনা, এটা নিয়ে এখন নিউজ হতে পারে না। আপনাদের কি আর কোনো কাজ নাই?’

তিনি এও বলেন, ‘এটা নিয়ে রিসার্চ করলে তো এটাও জানা উচিত যে তখন তিনটা রিট হয়েছিল। আর বিচারপতি সাহাবুদ্দিন তার সব কটি খারিজ করে দিয়েছিলেন।’

যেভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে বলতে গেলে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর থেকেই।

তবে এরও এক বছর পর ১৯৭৬ সালের ১৯ নভেম্বর সামরিক আইন জারি করে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হন সে সময়ের মেজর জিয়াউর রহমান।

সেনাপ্রধান থেকে যেভাবে জিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন জিয়াউর রহমান

১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল সেনাপ্রধান থাকা অবস্থাতেই জিয়া হয়ে যান রাষ্ট্রপতি। উর্দি পরা অবস্থাতেই ওই বছরের ৩০ মে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট দেন তিনি। বিস্ময়করভাবে ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পড়ে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে।

এরপর সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থাতেই ১৯৭৮ সালের ৩ জুনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয় ওই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি।

জিয়ার ক্ষমতায় আরোহণ শাসন অবৈধ ঘোষণা

জিয়াউর রহমানের এই সেনাশাসন ও তার ক্ষমতায় আরোহণ দুটিই হাইকোর্টের রায়ে অবৈধ ঘোষণা হয়েছে যে সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি।

১৬ বছর আগে ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট এই রায় আসে পুরান ঢাকার মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে।

সেই রায়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত জারি করা সব ধরনের ফরমান অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। ১৯৭৫ সালে খন্দকার মোশতাক আহমদ, একই বছরের ৬ নভেম্বর বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ও পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ এবং সামরিক শাসন জারি অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করে আদালত।

সে সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি এবং এই রায় সরকারের জন্য ছিল ভীষণ বিব্রতকর।

এই রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপির পক্ষ থেকে আপিল করা হলে ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সে আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়।

সেই আবেদনটি আপিল বিভাগের যে বেঞ্চ খারিজ করে দেয়, তাতে বিচারক ছিলেন অবসরে থাকা এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। তিনি বলেন, ‘১৯৭৮ সালের ৩ জুনের নির্বাচন ছিল সংবিধান পরিপন্থি, তামাশার নির্বাচন।’

সেনাপ্রধান থেকে যেভাবে জিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
ভোটের দিনে একটি কেন্দ্রের চিত্র

তিনি বলেন, ‘জিয়া তো প্রথম থেকেই সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। সেনাপ্রধান থেকে নির্বাচন করা সংবিধান লঙ্ঘনের নতুন সংযোজন মাত্র। তার কারণ জিয়া যে সেনাপ্রধান হয়েছিলেন, সেটাও সংবিধান লঙ্ঘন করেই হয়েছিলেন।

‘পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন, সেটাও সংবিধান লঙ্ঘন করে। তিনি সংবিধানকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিলেন। সেটি ছিল রাষ্ট্রদ্রোহিতা।’

তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতের রায়েই তার সব কর্মকাণ্ড অবৈধ হয়ে গিয়েছে। সেই অর্থেই আমরা বলছি, আইনের দৃষ্টিতে জিয়া কখনও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন না। অবৈধ ক্ষমতা দখলদার ছিলেন।’

কমিশন গঠনের সুপারিশ

বাংলাদেশের আইনে মৃত্যু-পরবর্তী কাউকে বিচারের আওতায় আনা যায় না। তবে সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ তদন্তে এখন একটি তদন্ত কমিশন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।

তিনি বলেন, ‘কমিশনের ফলে এটা রিপোর্টেড থাকবে জিয়া কী কী অন্যায়, অপরাধ করে গেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং সংবিধান ছিন্নভিন্ন করে গেছেন।

‘এগুলো কিন্তু বিভিন্ন মামলার বিভিন্ন রায়ে উল্লেখ রয়েছে। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী, সপ্তম সংশোধনী, তাহের হত্যা মামলাসহ অনেক মামলাতেই উল্লেখ রয়েছে। এমনকি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাতেও এর উল্লেখ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তদন্ত কমিশন করার দরকার। যাতে তারা জানতে পারে। মানুষ জানতে পারবে জিয়া দেশের যত ক্ষতি করেছিলেন, আর কেউ এমন ক্ষতি দেশের কেউ করেনি। এটি শত শত বছর ধরে আগামী প্রজন্ম জানতে পারবে।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে হ্যাঁ-না ভোট

১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের বছরের ৩০ মে হ্যাঁ-না ভোট হয় দেশে। সেই নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ছিল না। পক্ষে বিপক্ষে প্রচারও ছিল না। ব্যালট পেপারে কোনো মার্কাও ছিল না।

ব্যালটে কেবল লেখা ছিল, ‘আপনি কি রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) প্রতি এবং তার দ্বারা গৃহীত নীতি ও কার্যক্রমের প্রতি আস্থাশীল?’

অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাস লিখেছেন, ভোটের দুদিন আগে সড়কের পাশের দেয়ালে, চলমান রিকশা-বাস ও মানুষের ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে জোর করে জেনারেল জিয়ার সামরিক পোশাক পরিহিত পোস্টার সাঁটিয়ে দেয়া হয়। একধরনের আতঙ্ক ছড়ানো হয় মানুষের মধ্যে। ভোটের দিন ভয়ে কেউ বের হওয়ার সাহস পায়নি। ফলে ভোটারবিহীন থেকে যায় ভোটকেন্দ্রগুলো। একপর্যায়ে মানুষ খুঁজে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ভোট দিতে নিয়ে যাওয়া হয়।’

আরও পড়ুন:
জিয়া-এরশাদের সেনা আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত জুনের মধ্যে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘খালেদার করোনার দায় আ.লীগের কাঁধে আসতে পারে’

‘খালেদার করোনার দায় আ.লীগের কাঁধে আসতে পারে’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির সময় হেফাজতের ব্যানারে বিএনপি-জামায়াতের সক্রিয় অংশগ্রহণে যে তাণ্ডব হয়েছে, সেটিকে অস্বীকার করা এবং অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর অপচেষ্টা বিএনপি মহাসচিবের মিথ্যাচারেরই বহিঃপ্রকাশ। ভাবছি, কখন যে তিনি আবার বলে বসেন, খালেদা জিয়ার করোনা হওয়ার জন্যও আওয়ামী লীগ দায়ী।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপানো হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী।

‘মার্চের তাণ্ডব হেফাজত নয়, আওয়ামী লীগেরই সাজানো’- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী এ শঙ্কা জানান।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির সময় হেফাজতের ব্যানারে বিএনপি-জামায়াতের সক্রিয় অংশগ্রহণে যে তাণ্ডব হয়েছে, সেটিকে অস্বীকার করা এবং অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর অপচেষ্টা বিএনপি মহাসচিবের মিথ্যাচারেরই বহিঃপ্রকাশ। ভাবছি, কখন যে তিনি আবার বলে বসেন, খালেদা জিয়ার করোনা হওয়ার জন্যও আওয়ামী লীগ দায়ী।’

এ বছরের ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ যেসব ঘটনা চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য স্থানে ঘটেছে, সেগুলো কারা ঘটিয়েছে, সেই ভিডিও ফুটেজ সরকারের কাছে আছে বলে দাবি করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আসামিদের বিচার হচ্ছে, যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। মির্জা ফখরুল যখন এই কথাগুলো বলেন, তখন প্রমাণিত হয় তারা যে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তা অস্বীকার করার জন্যই বলেছেন। এ রকম জঘন্য মিথ্যাচার একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদের কাছ থেকে কখনও কাম্য নয়।’

বরং ওই সব ঘটনায় তার নিন্দা জানানো উচিত ছিল জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেটি না করে বরং এভাবে মিথ্যাচার করে এ ধরনের ঘটনাকে উসকে দেয়া হচ্ছে, প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে, এটি কখনও সমীচীন নয়।’

জনগণের উত্তাল আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ভেসে যাবে বলে মির্জা ফখরুল যে মন্তব্য করেছেন, তার জবাবেও কথা বলেছেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কথা আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার ৬ মাস পর থেকে, অর্থাৎ ১২ বছর ধরে শুনে আসছি। বাস্তবতা হচ্ছে, জনগণের রায় নিয়ে পরপর তিনবার জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেছেন, দেশ পরিচালনা করছেন। এসব কথা বলে নিজেরা নিজেদের হাস্যকর করে তুলছেন।’

বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর পারিবারিকভাবে দুই দফা ক্ষমতায় ছিলেন বলেও মন্তব্য করেছেন হাছান মাহমুদ।

সম্প্রতি মির্জা ফখরুল দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ ইতিহাস বিকৃতি করছে। তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফখরুল সাহেব পারিবারিকভাবে দুবার ক্ষমতায় ছিলেন। তার বাবা এরশাদ সাহেবের মন্ত্রী ছিলেন। তিনি আবার খালেদা জিয়ার মন্ত্রী ছিলেন। তারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন বঙ্গবন্ধুর নাম রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনসহ সব প্রচারযন্ত্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ক্রমাগতভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল।’

ওই সময় জাতির পিতাকে অস্বীকার করা হয়েছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার খলনায়ককে নায়ক বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আজকে যখন ঠিক ইতিহাসটা জনগণ জানতে পারছে, তখন তাদের গাত্রদাহ হচ্ছে। এ জন্য তারা এসব কথা বলছে।’

জিয়াউর রহমানের খেতাব

জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সঠিক উত্তর দিতে পারবে। তবে এ কথা ঠিক, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মাবরণে পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছেন।’

গণমাধ্যমকর্মী আইন

গণমাধ্যমকর্মী আইন প্রণয়নের অগ্রগতির বিষয়েও জানতে চাওয়া হয় তথ্যমন্ত্রীর কাছে। তিনি বলেন, ‘আইনের চূড়ান্ত খসড়া আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হয়ে মন্ত্রিসভায় যাবে।

‘এ আইন প্রণীত হলে বিএনপির সময় গণমাধ্যমকর্মীদের যে শ্রমিক বানিয়ে দেয়া হয়েছিল, সেটি থেকে মুক্তি লাভ হবে। সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্তদের আইসি সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। যেকোনো সময় ছাঁটাই করা অনেকটা বন্ধ হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
জিয়া-এরশাদের সেনা আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত জুনের মধ্যে

শেয়ার করুন

সিলেট-৩: ভোটে থাকছে বিএনপিও

সিলেট-৩: ভোটে থাকছে বিএনপিও

সিলেট-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা বলা হলেও প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি। আর বিএনপির পক্ষ থেকে এই নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

তবে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা বলা হলেও প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শিল্পপতি শফি আহমদ চৌধুরী চিকিৎসার জন্য বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সহকারী রাজু আহমদ রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্যার এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। প্রার্থী হওয়ার জন্য এরই মধ্যে দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি। সোমবার বিকেলে তিনি সিলেটে পৌঁছবেন।’

শফি চৌধুরী ২০০১ সালে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের কাছে পরাজিত হন তিনি।

গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৮ জুলাই আসনটিতে উপনির্বাচন হবে।

হাবিবুর রহমান হাবিবকে শনিবার এই আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। এর আগে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নিজেদের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিককে প্রার্থী মনোনীত করে।

আরও পড়ুন: দুই ডজনকে ডিঙালেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা



সাবেক সংসদ সদস্য শফি চৌধুরীর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় এই আসনে জমজমাট লড়াইয়ের আশা করছেন ভোটাররা।

শফি চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী রাজু আহমদ বলেন, তিনি মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। তার পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র তুলে তা পূরণ করে জমার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শফি চৌধুরীর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণার ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, ‘এমনটি আমিও শুনেছি। তবে নিশ্চিত করে কিছু জানি না। শফি চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’

কামরুল হুদা বলেন, ‘এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না, এটা আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। কেউ এই সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া দলীয় নেতা-কর্মীদেরও বলে দেয়া হবে তার সঙ্গে না থাকার জন্য।’

আরও পড়ুন:
জিয়া-এরশাদের সেনা আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত জুনের মধ্যে

শেয়ার করুন

কর্মীদের আন্দোলনের দিবাস্বপ্ন দেখাচ্ছে বিএনপি: কাদের

কর্মীদের আন্দোলনের দিবাস্বপ্ন দেখাচ্ছে বিএনপি: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি নেতারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে কর্মীদের উত্তাল আন্দোলনের দিবাস্বপ্ন দেখাচ্ছেন। কর্মীদের রোষানল থেকে বাঁচতে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য এখন আত্মরক্ষার ঢাল মাত্র।’

নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপি নেতারা এখন কর্মীদের আন্দোলনের দিবাস্বপ্ন দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীতে রোববার নিজ বাসভবনে এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।

কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে কর্মীদের উত্তাল আন্দোলনের দিবাস্বপ্ন দেখাচ্ছেন। কর্মীদের রোষানল থেকে বাঁচতে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য এখন আত্মরক্ষার ঢাল মাত্র।

‘মির্জা ফখরুল বলেছেন বিএনপির আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ভেসে যাবে। আওয়ামী লীগ কচুরিপানা নয় যে বিএনপির হাঁক-ডাকে ভেসে যাবে। জনগণ তাদের আন্দোলনের অনেক মৌসুমী হাঁক-ডাক শুনেছে, আন্দোলনের ডাক দিয়ে বিএনপি নেতাদের শীতনিন্দ্রায় চলে যাওয়াও দেখেছে তাদের কর্মীরা।’

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে কাদের জানান, শেখ হাসিনার মানবিক, সুদক্ষ নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল জনগণ অন্য কারো সন্ত্রাসনির্ভর আন্দোলনের হাঁকডাকে ভয় পায় না। বিএনপি নতুন করে আন্দোলনের যে হাঁকডাক দিচ্ছে তা অতীতের ধারাবাহিকতায় আরেকটি ব্যর্থ প্রয়াসের পূর্বাভাস মাত্র।

‘আওয়ামী লীগের শেকড় এদেশের মাটি ও মানুষের অনেক গভীরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান মানুষের মনিকোঠায়। অতীতে অনেক হত্যা, সন্ত্রাস আর ষড়যন্ত্র হয়েছে, তাতে আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে’-বলেন ওবায়দুল কাদের।

‘বিদেশ নির্ভর’ বিএনপির রাজনীতি এখন শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন জানিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতা বলেন বিএনপি নেতারা বলছেন, দেশের রাজনীতি নাকি এখন সংকটময় অবস্থায় নিমজ্জিত। দেশে কোনো সংকটময় পরিস্থিতি নেই বরং বিএনপির রাজনীতি এখন গভীর সংকটে। দেশ ও জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিএনপিই নিজেদের জন্য সংকট তৈরি করেছে।’

দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা

আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী দল বা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কোনো কাজে যুক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন অপকর্মে জড়িত হলে অথবা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। দলের আদর্শ, স্বার্থ ও শৃঙ্খলা বিরোধী বক্তব্য প্রদান থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিরত থাকতে হবে।’

শনিবার দলের সংসদীয় বোর্ডের সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশনার কথাও তুলে ধরেন কাদের। বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলাজনিত নির্দেশনা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অনুমতি ব্যতীত কোথাও কেউ কোনো কমিটি বিলুপ্ত, কমিটি গঠন অথবা ব্যাক্তি বা দল থেকে কাউকে অব্যাহতি দিতে পরবে না।

‘সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে সর্ব পর্যায়ে দলীয় শৃঙ্খলা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। কোথাও কোনো সমস্যা হলে বিভাগীয় পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ সংশ্লিষ্ট সবার সাথে বসে সমাধান করবে।’

আরও পড়ুন:
জিয়া-এরশাদের সেনা আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত জুনের মধ্যে

শেয়ার করুন

‘দলের ভেতরের বিভেদ-গ্রুপিং দূর করতে হবে’

‘দলের ভেতরের বিভেদ-গ্রুপিং দূর করতে হবে’

'আমি খুব পরিস্কারভাবে বলতে চাই, আওয়ামী লীগ কী করছে, করুক। জনগণের কাছে তাদের অন্যায় টিকে থাকতে পারবে না, তারা ভেসে যাবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে।’

সরকার পতনের আন্দোলন শুরুর আগে অতি দ্রুত দলের মধ্যকার ‘বিভেদ-গ্রুপিং’ দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব সব পর্যায়ের নেতাদের প্রতি এই আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি খুব পরিস্কারভাবে বলতে চাই, আওয়ামী লীগ কী করছে, করুক। জনগণের কাছে তাদের অন্যায় টিকে থাকতে পারবে না, তারা ভেসে যাবে।

‘জনগণের উত্তাল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তারা (আওয়ামী লীগ) ভেসে যাবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে।’

তিনি বলেন, আসুন অতি দ্রুত আগামীতে আমরা নিজেদেরকে পুরোপুরি সংগঠিত করে ফেলি।

‘নিজেদের ভুল বুঝাবুঝি, বিভেদগুলো দূর করি এবং একত্রিত হয়ে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণকে একত্রিত করে আমরা এই যে দানব আমাদের বুকে ওপর চেপে বসেছে তাকে সরিয়ে দেই। তারপর সত্যিকার অর্থেই একটি নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে মধ্য দিয়ে আমরা যেন জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারি সেজন্য কাজ করি।’

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত বছরে মার্চ মাস থেকে সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে সাময়িকভাবে মুক্ত আছেন। তার মুক্তির আন্দোলনও শুরুর কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, দেশনেত্রীকে তার আগেই মুক্ত করতে হবে। তাছাড়া এখানে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হবে না। দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন দিয়েই আমরা শুরু করতে হবে আমাদেরকে গণতন্ত্রের মুক্তির আন্দোলন।

‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাহেবকে আমরা যেন দেশে ফিরিয়ে আনতে পারি সেই লক্ষ্যে আমাদের অতিদ্রুত এগুতে হবে।’

টঙ্গিতে সালাহ উদ্দিন সরকারের বাসাভবন মিলনায়তনে গাজীপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়।

বর্তমান অবস্থাকে ‘সংকটময়’ অভিহিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই অবস্থার পরিবর্তন আমাদেরকেই করতে হবে। অন্য কেউ এসে আমাদেরকে করে দিয়ে যাবে না।

‘আমাদেরকে, বিএনপিকে দায়িত্ব নিতে হবে। বিএনপি হচ্ছে সেই দল যারা জনগনের প্রতিনিধিত্ব করে। বিএনপি হচ্ছে সেই দল যার প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন শহীদ জিয়াউর রহমান। যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিএনপি হচ্ছে সেই দল যার চেয়ারপারসন হচ্ছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া—তিনি গণতন্ত্রকে মুক্তি দিয়েছিলেন। আজকে আবার যখন ক্রাসিস, রাজনৈতিক সংকট, আমাদের সব কিছু নিয়ে চলে যাচ্ছে তখন আমাদেরকেই ঘুরে দাঁড়াতে হবে, আমাদেরকেই শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে।’

জেলা সভাপতি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং নির্বাহী কমিটির ওমর ফারুক শাফিনের সঞ্চালনায় এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় আবদুস সালাম আজাদ, সালাহ উদ্দিন সরকার, কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুলসহ অন্য নেতারা।

আরও পড়ুন:
জিয়া-এরশাদের সেনা আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত জুনের মধ্যে

শেয়ার করুন

দুই ডজনকে ডিঙালেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা   

দুই ডজনকে ডিঙালেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা   

সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাবিবুর রহমান হাবিব এর আগে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দেশে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটিতে সদস্য করা হয় হাবিবকে। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনেও সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন হাবিব।

মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন দুই ডজন নেতা। রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী, প্রবাসী, ব্যবসায়ী সকলেই চাইছিলেন সিলেট-৩ আসনে ‘নৌকার মাঝি’ হতে।

২৫ মে এ নিয়ে নিউজবাংলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিলো ‘সিলেট-৩: আওয়ামী লীগের ‘হকল খাড়া’।

তবে ‘হকলকে’ টপকে শেষ পর্যন্ত চমক দেখিয়েছেন হাবিবুর রহমান হাবিব। শনিবার অপেক্ষোকৃত তরুণ এই নেতাকে সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে স্বভাবতই খুশি হাবিব। মনোনয়ন না পেয়ে অন্য প্রত্যাশীরা কিছুটা হতাশ হলেও নৌকার বিজয়ে একসঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছেন তাদের সবাই।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাবিবুর রহমান হাবিব এর আগে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দেশে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটিতে সদস্য করা হয় হাবিবকে। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনেও সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন চান হাবিব।

মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এক যুগ আমি মানুষের পাশে ছিলাম। সিলেট-৩ আসনের জনগণের সঙ্গে আছি। আজ এর মূল্যায়ন পেয়েছি।’

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়াকে নিজের জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার উল্লেখ করে হাবিব বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সব সদস্যের কাছে চির কৃতজ্ঞ। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার। আমি এই আস্থার প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করব।’

দলের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রসঙ্গে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘যারা মনোনয়ন চেয়েছিলেন তারা সকলেই যোগ্য। তারা সবাই আমার নেতা। ওনারা প্রায় সবাই আমার সিনিয়র। তাদের সকলকে নিয়েই আমি কাজ করব।’

তিনি বলেন, ‘আমি আমার অনুসারীদের বলে দিয়েছি, আমার মনোনয়ন পাওয়ার খবরে কেউ মিষ্টি বিতরণ করবেন না। উল্লাস করবেন না। যারা আমার সাথে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন তারা যাতে মনে কষ্ট না পান সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

হাবিব বলেন, ‘২০১৪ এ ২০১৯ সালের নির্বাচনেও আমি সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। তখন পাইনি। তবু এলাকার মানুষের সঙ্গে ছিলাম। এই এলাকার উন্নয়নে আমার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। সিলেট-৩ আসনের এলাকাগুলোকে উন্নয়নের মডেলে পরিণত করতে চাই।’

দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলার একাংশ নিয়ে সিলেট-৩ আসন। এই আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস ১১ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কয়েক দফা পিছিয়ে ২৮ জুলাই এই আসনে ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সিলেট জেলা জজ কোর্টের পিপি নিজম উদ্দিন।

শনিবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, ‘আমি মনোনয়ন না পেলেও যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন তার পক্ষে আছি। নেত্রী যাকে পছন্দ করেছেন, তার বিরোধিতা করা উচিত নয়। এখন সবাই মিলে আমরা নৌকাকে বিজয়ী করতে কাজ করব।’

দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। গত নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন তিনি। দুবারই বঞ্চিত হতে হয় মিসবাহকে।

এ প্রসঙ্গে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ‘দল যাকে যোগ্য মনে করেছে তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। আমি ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি। কখনোই দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাইনি। এখনও সে সুযোগ নেই।’

দল যোগ্যতম ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দিয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলেন, ‘আমি নৌকার প্রার্থী হতে চেয়েছিলাম। নৌকা না পেলে আমার আর প্রার্থী হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। বরং নৌকার প্রার্থীই যিনিই হবেন তার পক্ষে কাজ করব।’

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন এই আসনের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ মুজিবর রহমান জকনও। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন তিনি।

জকন বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত আমরা মাথা পেতে নিয়েছি। দলের মধ্যে অনেকেই মনোনয়ন চাইতে পারে। কিন্তু দল যে সিদ্ধান্ত দেবে তার বিরোধিতা আমরা কেউ করব না। আমরা এখন সবাই নৌকার বিজয়ে কাজ করব।’

প্রয়াত সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর স্ত্রী ফারজানা সামাদও স্বামীর আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। শনিবার একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের আরও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সিলেট চেম্বারের সহসভাপতি তাহমিন আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ শমসের জামাল, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিত টুটুল, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ম্যানচেস্টার শাখার সাবেক সভাপতি স্যার এনাম উল ইসলাম, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক আসম আসম মিসবাহ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সাইফুল আলম, আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এম সাদরুল আহমেদ খানসহ অনেকে।

এই উপনির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। তবে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিককে এই আসনে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট-৩ আসনে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৯ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২৮ হাজার ৬১৮ এবং নারী ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৯১ জন।

আরও পড়ুন:
জিয়া-এরশাদের সেনা আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত জুনের মধ্যে

শেয়ার করুন

ফরিদপুর আ.লীগের কার্যক্রমে বিরক্ত শেখ হাসিনা

ফরিদপুর আ.লীগের কার্যক্রমে বিরক্ত শেখ হাসিনা

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেনের বিরোধ সমাধানে ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মতের মিল না হলে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।

ফরিদপুর শাখা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

শনিবার সকালে গণভবনে দলের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা জানান, বৈঠকে ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের কমিটির বিষয়টি আলোচনায় এলে জেলা সভাপতি সুবল সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেনের বিরোধের প্রসঙ্গ ওঠে। তাদের মধ্যে বিরোধ সমাধানে এ সময় ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মতের মিল না হলে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি দেশের যেকোনো স্থানে দলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশনাও দেয়া হয়। এরপরও বিরোধ না মিটলে তাদের অব্যাহতি দেয়ার আদেশ দেন আওয়ামী লীগ-প্রধান।

বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিরোধপূর্ণ জেলা কমিটিগুলোর মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগ যে সাংগঠনিক টিম করেছে, তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে করোনা স্বাভাবিক হলে তাদের কাজ শুরু করতে।

‘ফরিদপুর শহরে আওয়ামী লীগের কিছু সমস্যা নিয়ে কথা হয়েছে। সভানেত্রী সাধারণ সম্পাদককে এগুলো ঠিক করতে বলেছেন।’

তৃণমূলে তৎপরতা বাড়াতে গত ১০ জুন জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌরসভা শাখায় সাংগঠনিক দল গঠনের নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দলের সব শাখায় সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে সারা দেশে সাংগঠনিক টিম গঠনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌর শাখায় জেলা ও মহানগরের কার্যনির্বাহী সংসদের নেতাদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাংগঠনিক টিম গঠন করতে বলা হয়েছে।

এই সাংগঠনিক টিম সংশ্লিষ্ট জেলা বা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে উপজেলা, থানা ও পৌর শাখার বিদ্যমান সাংগঠনিক সমস্যাসমূহ দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেবে।

একইভাবে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও ইউনিটের জন্য উপজেলা, থানা ও পৌর আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের নেতাদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাংগঠনিক টিম গঠন করতে বলা হয়।

আরও পড়ুন:
জিয়া-এরশাদের সেনা আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত জুনের মধ্যে

শেয়ার করুন

নৌকা পোড়খাওয়া রাজনীতিকের হাতেই

নৌকা পোড়খাওয়া রাজনীতিকের হাতেই

কুমিল্লা-৫ উপনির্বাচনে নৌকার মনোয়ন পেয়েছেন অ্যাড. আবুল হাশেম খান। ফাইল ছবি

কুমিল্লা-৫ আসনে উপনির্বাচনে নৌকা পাওয়া আবুল হাশেম খান রাজনীতিতে জড়িয়েছেন পাকিস্তান আমলে। তৃণমূলের এই রাজনীতিক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও। তাকে নিয়ে আগে সেভাবে আলোচনা না থাকলেও কেন্দ্র মূল্যায়ন করেছে তার অভিজ্ঞতা আর দলের জন্য নিষ্ঠাকে।

আলোচনায় ছিলেন না, তবুও পেলেন নৌকার টিকিট। কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাশেম খান।

মনোনয়নে চমক থাকলেও পোড়খাওয়া এই রাজনীতিক পাঁচ দশক ধরেই বয়ে চলেছেন আওয়ামী লীগের পতাকা।

পাকিস্তান শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম দিয়ে শুরু। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে অংশ নিয়ে হন গ্রেপ্তার। মুক্তিযুদ্ধেও লড়েছেন অস্ত্র হাতে।

১৯৭৬ সালে বুড়িচং ছাত্রলীগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩ সালে হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বছর পরে হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

২০০৩ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। ২০১৮ সালে আহ্বায়ক কমিটি গঠন হলে তাকেই করা হয় আহ্বায়ক। পরের বছর কমিটি গঠন হলে আবার দায়িত্ব পান সভাপতির।

তিনি বুড়িচং উপজেলার উত্তরগ্রামের সন্তান। পেশায় আইনজীবী। জেলা আইনজীবী সমিতিতে একবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০০০ সালে কুমিল্লা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন হাশেম। ২০০৪-২০০৫ সালে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৮-১৯ সালে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

মনোনয়ন পাওয়ার আগে আলোচনায় না থাকলেও দলীয় প্রার্থীর প্রতি সমর্থন দিয়েছেন অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা। তবে নাখোশও হয়েছন তাদের সমর্থকদের কেউ কেউ।

মনোয়নন প্রত্যাশীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বপন। দল মনোনীত প্রার্থীর প্রতি সমর্থন দিয়ে তিনি লেখেন, ‘অ্যাড আবুল হাশেম খানকে নমিনেশন দেয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ।’

মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে আলোচনায় ছিলেন আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং সোনার বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ আবু ছালেক মো. সেলিম রেজা সৌরভ।

সেলিম রেজা বলেন, ‘আমি দলের বাইরে নই। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আমি অবিচল।’

কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহসম্পাদক এহতেশামুল হাসান ভূইয়া রুমি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে যোগ্য মনে করেছেন, তাকেই দলীয় প্রার্থী করেছেন। আমি দলীয় প্রার্থীর জন্য কাজ করব।’

মনোয়নের বিষয়ে আলোচনায় ছিলেন প্রয়াত সংসদ সদস্য আবদুল মতিন খসরুর স্ত্রী সেলিমা সোবহান খসরুও। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলীয় নীতিনির্ধারকরা যাকে যোগ্য মনে করেছেন তাকেই নমিনেশন দিয়েছেন। আমার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই।’

আবুল হাশেম খানের নৌকা প্রতীক পাওয়ায় বুড়িচং বাজারে আনন্দ মিছিল করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন বুড়িচং উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম।

আবুল হাশেম খান নিউজবাংলাকে জানান, এই মনোয়নন তিনি উৎসর্গ করছেন বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়াবাসীকে।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও ফোনে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়া থেকে প্রথমে মাদক দূর করব। এর পাশাপাশি দুই উপজেলা সদরের যানজট নিরসনে পরিকল্পনা নেব। এছাড়া দুই উপজেলাকে পৌরসভায় উন্নীত করতে বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
জিয়া-এরশাদের সেনা আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত জুনের মধ্যে

শেয়ার করুন