দুই নেতা মুখোমুখি, সাদুল্লাপুর আ.লীগে কোন্দল

সাদুল্লাপুর উপজেলা আ. লীগ

সাদুল্লাপুর উপজেলা আ. লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া খন্দকার (বাঁয়ে) ও সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া খান বিপ্লব। ছবি: সংগৃহীত

সাদুল্লাপুরে দলীয় দুই নেতার বিরোধ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সাইফুল আলম সাকা বলেন, 'তারা যে পাল্টাপাল্টি অব্যাহতি দিয়েছে তা গঠনতন্ত্রবিরোধী। যা কখনোই কার্যকর হবে না। এটা তাদের মনগড়া সিদ্ধান্ত। তারা যা করছেন, তা দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থি।'

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মুখোমুখি অবস্থানে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন নেতাকর্মীরা। দুই নেতার কর্মকাণ্ডে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলাজুড়ে। সংঘাত এড়াতে এরই মধ্যে কয়েকটি পয়েন্টে ১৪৪ ধারা জারি করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া খন্দকার ও সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া খান বিপ্লবের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়। সংবাদ সম্মেলনে একে অপরকে অব্যাহতি দেয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলছেন।

সোমবার দুপুরে উপজেলা শহরের শহীদ মিনারের পাশে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া খন্দকার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিধিবহির্ভূতভাবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া খান বিপ্লব ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে সভা করেছেন। সেখানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পদ থেকে আমাকে অব্যাহতিসহ প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তার এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি।’

শাহারিয়ার সংগঠনবিরোধী কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভায় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে শাহারিয়া খান বিপ্লবকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’

এর আগে রোববার দুপুরে পশ্চিমপাড়ার তালতলায় সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া খান বিপ্লব।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা নিয়ে দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। ওই সভায় বিভেদ সৃষ্টিকারী উপজেলা আ. লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া খন্দকারকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। দল থেকে তার সদস্যপদ বাতিলের জন্য লিখিতভাবে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটিকে।’

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ৩০ মে সকাল ১০টায় সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ একই স্থানে সভা আহ্বান করে। একই সময়ে সভা আহ্বান করায় দেখা দেয় উত্তেজনা।

সংঘাতের আশঙ্কায় রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শহীদ মিনার ও পাবলিক লাইব্রেরি অ্যান্ড ক্লাব চত্বরসহ আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছিল উপজেলা প্রশাসন।

সাদুল্লাপুরে দলীয় দুই নেতার বিরোধ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সাইফুল আলম সাকা বলেন, 'তারা যে পাল্টাপাল্টি অব্যাহতি দিয়েছে তা গঠনতন্ত্রবিরোধী। যা কখনোই কার্যকর হবে না। এটা তাদের মনগড়া সিদ্ধান্ত।’

তিনি জানান, দল থেকে কাউকে অব্যাহতি দিতে হলে প্রথমে জেলায় লিখিত অভিযোগ পাঠাতে হবে। তারপর জেলা কমিটির সুপারিশসহ তা সেন্ট্রাল কমিটিকে দিতে হয়। আর অব্যাহতির সিদ্ধান্ত কেবল কেন্দ্রীয় কমিটিই নিতে পারে।

তিনি বলেন, 'জেলা কমিটিও একক সিদ্ধান্তে দল থেকে কাউকে অব্যাহতি দিতে পারে না। তারা যা করছেন, তা দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থি।'

২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এই সম্মেলনে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকার সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহারিয়া খান বিপ্লব সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২০১৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর ডা. ইউনুস আলী সরকার মারা যান। পরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি জাকারিয়া খন্দকারকে সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয় বলে জানান সাইফুল আলম সাকা।

আরও পড়ুন:
সাংসদের উপস্থিতিতে আ. লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ
দলে আগাছা-হাইব্রিড আসলে উপড়ে ফেলব: নাছিম
আ. লীগের কার্যক্রম ঘরোয়াভাবে করার নির্দেশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য