সাদুল্লাপুর উপজেলা আ. লীগ

সাদুল্লাপুর উপজেলা আ. লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া খন্দকার (বাঁয়ে) ও সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া খান বিপ্লব। ছবি: সংগৃহীত

দুই নেতা মুখোমুখি, সাদুল্লাপুর আ.লীগে কোন্দল

সাদুল্লাপুরে দলীয় দুই নেতার বিরোধ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সাইফুল আলম সাকা বলেন, 'তারা যে পাল্টাপাল্টি অব্যাহতি দিয়েছে তা গঠনতন্ত্রবিরোধী। যা কখনোই কার্যকর হবে না। এটা তাদের মনগড়া সিদ্ধান্ত। তারা যা করছেন, তা দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থি।'

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মুখোমুখি অবস্থানে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন নেতাকর্মীরা। দুই নেতার কর্মকাণ্ডে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলাজুড়ে। সংঘাত এড়াতে এরই মধ্যে কয়েকটি পয়েন্টে ১৪৪ ধারা জারি করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া খন্দকার ও সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া খান বিপ্লবের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়। সংবাদ সম্মেলনে একে অপরকে অব্যাহতি দেয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলছেন।

সোমবার দুপুরে উপজেলা শহরের শহীদ মিনারের পাশে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া খন্দকার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিধিবহির্ভূতভাবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া খান বিপ্লব ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে সভা করেছেন। সেখানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পদ থেকে আমাকে অব্যাহতিসহ প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তার এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি।’

শাহারিয়ার সংগঠনবিরোধী কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভায় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে শাহারিয়া খান বিপ্লবকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’

এর আগে রোববার দুপুরে পশ্চিমপাড়ার তালতলায় সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া খান বিপ্লব।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা নিয়ে দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। ওই সভায় বিভেদ সৃষ্টিকারী উপজেলা আ. লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া খন্দকারকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। দল থেকে তার সদস্যপদ বাতিলের জন্য লিখিতভাবে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটিকে।’

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ৩০ মে সকাল ১০টায় সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ একই স্থানে সভা আহ্বান করে। একই সময়ে সভা আহ্বান করায় দেখা দেয় উত্তেজনা।

সংঘাতের আশঙ্কায় রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শহীদ মিনার ও পাবলিক লাইব্রেরি অ্যান্ড ক্লাব চত্বরসহ আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছিল উপজেলা প্রশাসন।

সাদুল্লাপুরে দলীয় দুই নেতার বিরোধ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সাইফুল আলম সাকা বলেন, 'তারা যে পাল্টাপাল্টি অব্যাহতি দিয়েছে তা গঠনতন্ত্রবিরোধী। যা কখনোই কার্যকর হবে না। এটা তাদের মনগড়া সিদ্ধান্ত।’

তিনি জানান, দল থেকে কাউকে অব্যাহতি দিতে হলে প্রথমে জেলায় লিখিত অভিযোগ পাঠাতে হবে। তারপর জেলা কমিটির সুপারিশসহ তা সেন্ট্রাল কমিটিকে দিতে হয়। আর অব্যাহতির সিদ্ধান্ত কেবল কেন্দ্রীয় কমিটিই নিতে পারে।

তিনি বলেন, 'জেলা কমিটিও একক সিদ্ধান্তে দল থেকে কাউকে অব্যাহতি দিতে পারে না। তারা যা করছেন, তা দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থি।'

২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এই সম্মেলনে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকার সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহারিয়া খান বিপ্লব সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২০১৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর ডা. ইউনুস আলী সরকার মারা যান। পরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি জাকারিয়া খন্দকারকে সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয় বলে জানান সাইফুল আলম সাকা।

আরও পড়ুন:
সাংসদের উপস্থিতিতে আ. লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ
দলে আগাছা-হাইব্রিড আসলে উপড়ে ফেলব: নাছিম
আ. লীগের কার্যক্রম ঘরোয়াভাবে করার নির্দেশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফারুকদের ‘মূল্যায়ন করছে না’ আওয়ামী লীগ

ফারুকদের ‘মূল্যায়ন করছে না’ আওয়ামী লীগ

শিহাব উদ্দিন শাহীন বলেন, ‘ফারুকদের মতো কর্মীরা আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রেখেছে। তাদের শ্রমে-ঘামে আজ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায়। অথচ ফারুকের মতো কর্মীরা অবহেলিত রয়ে গেছে। দলকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ফারুকদের মতো কর্মীদের সঠিক জায়গায় মূল্যায়ন করা উচিত।’

নোয়াখালীর সেই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন ফারুক ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা।

নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমে ২৬ মে ‘দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক এখন রিকশাচালক’ নামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। তারপর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে তাকে উপহার দেয়া হয়েছে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা। এরপর নোয়াখালীর আওয়ামী লীগের নেতারাও তার সাহায্যে এগিয়ে এসেছে।

রোববার রাতে জেলা শহর মাইজদীর রশিদ কলোনির চেয়ারম্যান পার্কে ফারুকের হাতে অর্থ সহায়তা তুলে দেন নোয়াখালী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন শাহীন।

এ সময় ফারুককে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন শাহীন।

ফারুক নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা যুবলীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক, কবিরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রলীগের দুঃসময়ের সঙ্গী ছিলেন তিনি।

১৯৯৫ সালে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ওই বছরই কবিরহাট পদুয়া শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে কবিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি, ২০০৩ সালে বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে কবিরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

শিহাব উদ্দিন শাহীন বলেন, ‘ফারুকদের মতো কর্মীরা আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রেখেছে। তাদের শ্রমে-ঘামে আজ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায়। অথচ ফারুকের মতো কর্মীরা অবহেলিত রয়ে গেছে। দলকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ফারুকদের মতো কর্মীদের সঠিক জায়গায় মূল্যায়ন করা উচিত।’

আরও পড়ুন:
সাংসদের উপস্থিতিতে আ. লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ
দলে আগাছা-হাইব্রিড আসলে উপড়ে ফেলব: নাছিম
আ. লীগের কার্যক্রম ঘরোয়াভাবে করার নির্দেশ

শেয়ার করুন

‘বারবার জ্বর আসছে খালেদার’

‘বারবার জ্বর আসছে খালেদার’

ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার জন্মদিনের বিষয়ে রিটটি আদালতের আমলেই নেয়া উচিত হয়নি। অনেকেরই জন্মদিন আর সার্টিফিকেটের জন্মতারিখ এক না। তার ক্ষেত্রেও এমন হতে পারে। এটি কোনো ইস্যু হতে পারে না।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ফুসফুস ও কিডনি জটিলতার কারণে বারবার জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার দুপুরে গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা জানাতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চিকিৎসকদের কাছ থেকে যতটুকু জেনেছি তার (খালেদা জিয়া) হার্টের সমস্যা আছে, সেই সমস্যা না গেলে তার লাংসে যেভাবে পানি এসে যায় সেটা বন্ধ হবে না।’

‘যেটা তারা (চিকিৎসক) মনে করছেন, কিডনি ইজ নট ফ্যাংশনিং প্রপারলি। তার লিভারও ঠিকভাবে কাজ করছে না।’

‘যে কারণে জ্বর চলে গেলে আবারও তার জ্বর আসছে। গতকাল তার জ্বর এসেছিল।’

এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছেন। যেটা বারবার করে তারা বলছেন, আমাদের হাসপাতালগুলো ইক্যুইপ্ট না। তাকে অ্যাডভান্স সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা করানো উচিত।

‘বারবার জ্বর আসছে খালেদার’
সোমবার দুপুরে গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসনের সর্বশেষ অবস্থা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

এদিকে দেশে রাজনীতি নেই বলেই আওয়ামী লীগ ভিন্ন বিষয়কে সামনে এনে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার জন্মদিনের বিষয়ে রিটটি আদালতের আমলেই নেয়া উচিত হয়নি। অনেকেরই জন্মদিন আর সার্টিফিকেটের জন্মতারিখ এক না। তার ক্ষেত্রেও এমন হতে পারে। এটি কোনো ইস্যু হতে পারে না।

জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত কাজ নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের মেডিক্যাল টিম বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা করছে।

পোস্ট কোভিড নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে খালেদা জিয়া গত ২৭ এপ্রিল বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। ৩ মে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয় তাকে।

অবস্থার উন্নতি হলে এক মাস পর গত ৩ জুন চিকিৎসকদের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে কেবিনে ফিরিয়ে আনা হয়।

এর আগে গত ১৪ এপ্রিল গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা‘য় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন বিএনপি চেয়ারপারসন। করোনামুক্ত হন ৯ মে।

আরও পড়ুন:
সাংসদের উপস্থিতিতে আ. লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ
দলে আগাছা-হাইব্রিড আসলে উপড়ে ফেলব: নাছিম
আ. লীগের কার্যক্রম ঘরোয়াভাবে করার নির্দেশ

শেয়ার করুন

আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হলেন শহীদুজ্জামান

আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হলেন শহীদুজ্জামান

সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রোববার প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব সংসদে তুললে সংসদ তা গ্রহণ করে।

আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকার। সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়েছিল।

ধামইরহাট-পত্নিতলার সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিরও সভাপতি।

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৪ এপ্রিল মারা যান সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু। গত ২২ এপ্রিল তার আসন শূন্য ঘোষণা করে সংসদ।

রোববার সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব সংসদে তুললে সংসদ তা গ্রহণ করে।

এদিকে শহীদুজ্জামান সরকারের জায়গায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন সংরক্ষিত আসনের সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খান।

এ ছাড়া আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। আর ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।

আর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন কানিজ ফাতেমা আহমেদ। এই কমিটির সদস্য আসলামুল হক মারা যাওয়ায় একটি সদস্যপদ শূন্য হয়।

আরও পড়ুন:
সাংসদের উপস্থিতিতে আ. লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ
দলে আগাছা-হাইব্রিড আসলে উপড়ে ফেলব: নাছিম
আ. লীগের কার্যক্রম ঘরোয়াভাবে করার নির্দেশ

শেয়ার করুন

‘যোগ্য প্রার্থী’ থাকলেও উপনির্বাচনে সিপিবির ‘না’

‘যোগ্য প্রার্থী’ থাকলেও উপনির্বাচনে সিপিবির ‘না’

ফাইল ছবি

বামপন্থি দলটির সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমান সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে এই উপনির্বাচনেও মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকবে না এবং আগের নির্বাচনের মতোই এই নির্বাচনও অংশগ্রহণমূলক হবে না। তাই এসব আসনে যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও সিপিবি অংশগ্রহণ করবে না।

নিজেদের ‘যোগ্য প্রার্থী’ থাকলেও বর্তমান সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় সংসদের তিন আসনে আসন্ন উপনির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানায় বামপন্থি দলটি।

রাজধানীর পল্টনে মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে এই উপনির্বাচনেও মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকবে না এবং আগের নির্বাচনের মতোই এই নির্বাচনও অংশগ্রহণমূলক হবে না। তাই এসব আসনে যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও সিপিবি অংশগ্রহণ করবে না।

‘স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচনব্যবস্থার আমূল সংস্কার ছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। সে জন্য সিপিবি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। ভোটাধিকারসহ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সিপিবি তীব্র গণসংগ্রাম গড়ে তুলবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন।

উপস্থিত ছিলেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল কাদের, সাদেকুর রহমান শামীম, কাজী রুহুল আমিন ও কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক আবিদ হোসেনসহ আরও অনেকে।

গত ৪ এপ্রিল আসলামুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা-১৪, ১৪ এপ্রিল আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে কুমিল্লা-৫ আর ১১ মার্চ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের মৃত্যুতে ফাঁকা হয় সিলেট-৫ আসন।

গত ২ জুন নির্বাচন কমিশন এক বৈঠকে এই তিন আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২৮ জুলাই।

১৫ জুন মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। মনোনয়ন বাছাই হবে ১৭ জুন। ১৮, ১৯ ও ২০ জুন আপিলের দিন ঠিক করা হয়েছে। প্রার্থিতা বাতিলের শেষ দিন ২৩ জুন। প্রতীক বরাদ্দের তারিখ ২৪ জুন।

আরও পড়ুন:
সাংসদের উপস্থিতিতে আ. লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ
দলে আগাছা-হাইব্রিড আসলে উপড়ে ফেলব: নাছিম
আ. লীগের কার্যক্রম ঘরোয়াভাবে করার নির্দেশ

শেয়ার করুন

‘খালেদার করোনার দায় আ.লীগের কাঁধে আসতে পারে’

‘খালেদার করোনার দায় আ.লীগের কাঁধে আসতে পারে’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির সময় হেফাজতের ব্যানারে বিএনপি-জামায়াতের সক্রিয় অংশগ্রহণে যে তাণ্ডব হয়েছে, সেটিকে অস্বীকার করা এবং অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর অপচেষ্টা বিএনপি মহাসচিবের মিথ্যাচারেরই বহিঃপ্রকাশ। ভাবছি, কখন যে তিনি আবার বলে বসেন, খালেদা জিয়ার করোনা হওয়ার জন্যও আওয়ামী লীগ দায়ী।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপানো হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী।

‘মার্চের তাণ্ডব হেফাজত নয়, আওয়ামী লীগেরই সাজানো’- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী এ শঙ্কা জানান।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির সময় হেফাজতের ব্যানারে বিএনপি-জামায়াতের সক্রিয় অংশগ্রহণে যে তাণ্ডব হয়েছে, সেটিকে অস্বীকার করা এবং অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর অপচেষ্টা বিএনপি মহাসচিবের মিথ্যাচারেরই বহিঃপ্রকাশ। ভাবছি, কখন যে তিনি আবার বলে বসেন, খালেদা জিয়ার করোনা হওয়ার জন্যও আওয়ামী লীগ দায়ী।’

এ বছরের ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ যেসব ঘটনা চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য স্থানে ঘটেছে, সেগুলো কারা ঘটিয়েছে, সেই ভিডিও ফুটেজ সরকারের কাছে আছে বলে দাবি করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আসামিদের বিচার হচ্ছে, যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। মির্জা ফখরুল যখন এই কথাগুলো বলেন, তখন প্রমাণিত হয় তারা যে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তা অস্বীকার করার জন্যই বলেছেন। এ রকম জঘন্য মিথ্যাচার একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদের কাছ থেকে কখনও কাম্য নয়।’

বরং ওই সব ঘটনায় তার নিন্দা জানানো উচিত ছিল জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেটি না করে বরং এভাবে মিথ্যাচার করে এ ধরনের ঘটনাকে উসকে দেয়া হচ্ছে, প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে, এটি কখনও সমীচীন নয়।’

জনগণের উত্তাল আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ভেসে যাবে বলে মির্জা ফখরুল যে মন্তব্য করেছেন, তার জবাবেও কথা বলেছেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কথা আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার ৬ মাস পর থেকে, অর্থাৎ ১২ বছর ধরে শুনে আসছি। বাস্তবতা হচ্ছে, জনগণের রায় নিয়ে পরপর তিনবার জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেছেন, দেশ পরিচালনা করছেন। এসব কথা বলে নিজেরা নিজেদের হাস্যকর করে তুলছেন।’

বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর পারিবারিকভাবে দুই দফা ক্ষমতায় ছিলেন বলেও মন্তব্য করেছেন হাছান মাহমুদ।

সম্প্রতি মির্জা ফখরুল দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ ইতিহাস বিকৃতি করছে। তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফখরুল সাহেব পারিবারিকভাবে দুবার ক্ষমতায় ছিলেন। তার বাবা এরশাদ সাহেবের মন্ত্রী ছিলেন। তিনি আবার খালেদা জিয়ার মন্ত্রী ছিলেন। তারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন বঙ্গবন্ধুর নাম রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনসহ সব প্রচারযন্ত্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ক্রমাগতভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল।’

ওই সময় জাতির পিতাকে অস্বীকার করা হয়েছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার খলনায়ককে নায়ক বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আজকে যখন ঠিক ইতিহাসটা জনগণ জানতে পারছে, তখন তাদের গাত্রদাহ হচ্ছে। এ জন্য তারা এসব কথা বলছে।’

জিয়াউর রহমানের খেতাব

জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সঠিক উত্তর দিতে পারবে। তবে এ কথা ঠিক, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মাবরণে পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছেন।’

গণমাধ্যমকর্মী আইন

গণমাধ্যমকর্মী আইন প্রণয়নের অগ্রগতির বিষয়েও জানতে চাওয়া হয় তথ্যমন্ত্রীর কাছে। তিনি বলেন, ‘আইনের চূড়ান্ত খসড়া আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হয়ে মন্ত্রিসভায় যাবে।

‘এ আইন প্রণীত হলে বিএনপির সময় গণমাধ্যমকর্মীদের যে শ্রমিক বানিয়ে দেয়া হয়েছিল, সেটি থেকে মুক্তি লাভ হবে। সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্তদের আইসি সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। যেকোনো সময় ছাঁটাই করা অনেকটা বন্ধ হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
সাংসদের উপস্থিতিতে আ. লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ
দলে আগাছা-হাইব্রিড আসলে উপড়ে ফেলব: নাছিম
আ. লীগের কার্যক্রম ঘরোয়াভাবে করার নির্দেশ

শেয়ার করুন

সিলেট-৩: ভোটে থাকছে বিএনপিও

সিলেট-৩: ভোটে থাকছে বিএনপিও

সিলেট-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা বলা হলেও প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি। আর বিএনপির পক্ষ থেকে এই নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

তবে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা বলা হলেও প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শিল্পপতি শফি আহমদ চৌধুরী চিকিৎসার জন্য বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সহকারী রাজু আহমদ রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্যার এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। প্রার্থী হওয়ার জন্য এরই মধ্যে দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি। সোমবার বিকেলে তিনি সিলেটে পৌঁছবেন।’

শফি চৌধুরী ২০০১ সালে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের কাছে পরাজিত হন তিনি।

গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৮ জুলাই আসনটিতে উপনির্বাচন হবে।

হাবিবুর রহমান হাবিবকে শনিবার এই আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। এর আগে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নিজেদের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিককে প্রার্থী মনোনীত করে।

আরও পড়ুন: দুই ডজনকে ডিঙালেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা



সাবেক সংসদ সদস্য শফি চৌধুরীর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় এই আসনে জমজমাট লড়াইয়ের আশা করছেন ভোটাররা।

শফি চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী রাজু আহমদ বলেন, তিনি মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। তার পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র তুলে তা পূরণ করে জমার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শফি চৌধুরীর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণার ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, ‘এমনটি আমিও শুনেছি। তবে নিশ্চিত করে কিছু জানি না। শফি চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’

কামরুল হুদা বলেন, ‘এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না, এটা আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। কেউ এই সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া দলীয় নেতা-কর্মীদেরও বলে দেয়া হবে তার সঙ্গে না থাকার জন্য।’

আরও পড়ুন:
সাংসদের উপস্থিতিতে আ. লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ
দলে আগাছা-হাইব্রিড আসলে উপড়ে ফেলব: নাছিম
আ. লীগের কার্যক্রম ঘরোয়াভাবে করার নির্দেশ

শেয়ার করুন

কর্মীদের আন্দোলনের দিবাস্বপ্ন দেখাচ্ছে বিএনপি: কাদের

কর্মীদের আন্দোলনের দিবাস্বপ্ন দেখাচ্ছে বিএনপি: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি নেতারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে কর্মীদের উত্তাল আন্দোলনের দিবাস্বপ্ন দেখাচ্ছেন। কর্মীদের রোষানল থেকে বাঁচতে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য এখন আত্মরক্ষার ঢাল মাত্র।’

নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপি নেতারা এখন কর্মীদের আন্দোলনের দিবাস্বপ্ন দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীতে রোববার নিজ বাসভবনে এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।

কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে কর্মীদের উত্তাল আন্দোলনের দিবাস্বপ্ন দেখাচ্ছেন। কর্মীদের রোষানল থেকে বাঁচতে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য এখন আত্মরক্ষার ঢাল মাত্র।

‘মির্জা ফখরুল বলেছেন বিএনপির আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ভেসে যাবে। আওয়ামী লীগ কচুরিপানা নয় যে বিএনপির হাঁক-ডাকে ভেসে যাবে। জনগণ তাদের আন্দোলনের অনেক মৌসুমী হাঁক-ডাক শুনেছে, আন্দোলনের ডাক দিয়ে বিএনপি নেতাদের শীতনিন্দ্রায় চলে যাওয়াও দেখেছে তাদের কর্মীরা।’

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে কাদের জানান, শেখ হাসিনার মানবিক, সুদক্ষ নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল জনগণ অন্য কারো সন্ত্রাসনির্ভর আন্দোলনের হাঁকডাকে ভয় পায় না। বিএনপি নতুন করে আন্দোলনের যে হাঁকডাক দিচ্ছে তা অতীতের ধারাবাহিকতায় আরেকটি ব্যর্থ প্রয়াসের পূর্বাভাস মাত্র।

‘আওয়ামী লীগের শেকড় এদেশের মাটি ও মানুষের অনেক গভীরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান মানুষের মনিকোঠায়। অতীতে অনেক হত্যা, সন্ত্রাস আর ষড়যন্ত্র হয়েছে, তাতে আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে’-বলেন ওবায়দুল কাদের।

‘বিদেশ নির্ভর’ বিএনপির রাজনীতি এখন শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন জানিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতা বলেন বিএনপি নেতারা বলছেন, দেশের রাজনীতি নাকি এখন সংকটময় অবস্থায় নিমজ্জিত। দেশে কোনো সংকটময় পরিস্থিতি নেই বরং বিএনপির রাজনীতি এখন গভীর সংকটে। দেশ ও জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিএনপিই নিজেদের জন্য সংকট তৈরি করেছে।’

দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা

আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী দল বা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কোনো কাজে যুক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন অপকর্মে জড়িত হলে অথবা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। দলের আদর্শ, স্বার্থ ও শৃঙ্খলা বিরোধী বক্তব্য প্রদান থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিরত থাকতে হবে।’

শনিবার দলের সংসদীয় বোর্ডের সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশনার কথাও তুলে ধরেন কাদের। বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলাজনিত নির্দেশনা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অনুমতি ব্যতীত কোথাও কেউ কোনো কমিটি বিলুপ্ত, কমিটি গঠন অথবা ব্যাক্তি বা দল থেকে কাউকে অব্যাহতি দিতে পরবে না।

‘সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে সর্ব পর্যায়ে দলীয় শৃঙ্খলা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। কোথাও কোনো সমস্যা হলে বিভাগীয় পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ সংশ্লিষ্ট সবার সাথে বসে সমাধান করবে।’

আরও পড়ুন:
সাংসদের উপস্থিতিতে আ. লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ
দলে আগাছা-হাইব্রিড আসলে উপড়ে ফেলব: নাছিম
আ. লীগের কার্যক্রম ঘরোয়াভাবে করার নির্দেশ

শেয়ার করুন