জীবন পাল্টে যাচ্ছে রিকশা চালানো ছাত্রলীগের ফারুকের

রিকশা চালিয়ে আর উপার্জন করতে হবে না সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন ফারুককে।

জীবন পাল্টে যাচ্ছে রিকশা চালানো ছাত্রলীগের ফারুকের

গত ২৬ মে নিউজবাংলায় প্রকাশ হয় ‘দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক এখন রিকশাচালক’ শিরোনামে প্রতিবেদন। এরপর তার পাশে দাঁড়াতে শুরু করেন বহুজন। আর্থিক সাহায্য সহযোগিতার পাশাপাশি চাকরি দিয়ে সংকটের সমাধানের পথ খুলল তার। গাজীপুর সিটি করপোরেশনে তার চাকরির ব্যবস্থা হচ্ছে।

রিকশা চালিয়ে সংসার চালানো সাবেক ছাত্রলীগ ও বর্তমানে যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন ফারুকের দুর্দশার অবসান হতে চলেছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনে তার চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে।

ক্ষমতার বাইরে থাকার সময় ‘জয়বাংলা’র পক্ষে গলা ফাটানো এই নেতা দলের সুসময়ে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছিলেন।

গত ২৬ মে নিউজবাংলায় প্রকাশ হয় দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক এখন রিকশাচালক শিরোনামে প্রতিবেদন। এরপর তার পাশে দাঁড়াতে শুরু করেন বহুজন।

ছাত্র জীবনে তিনি ছিলেন নোয়াখালীর কবিরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। পরে তিনি এলাকায় যুবলীগের দায়িত্ব পান।

তবে নানা কারণে পড়ালেখা শেষ করতে পারেননি। আর আয়ের সুযোগও সীমিত হয়ে উঠার পর অর্থাভাবে এক পর্যায়ে রিকশা নিয়ে যাত্রী টানা শুরু করেন।

এলাকায় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিতি আছে ফারুকে। এ কারণে স্থানীয়রা তার রিকশায় চড়তেও লজ্জা পান।

পাশে দাঁড়ালেন শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের

তার জীবনের এই কাহিনি শোনার পর পাশে দাঁড়িয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার দুপুরে সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতাকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উপহার দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান সেই রিকশাটি হস্তান্তর করেন। বলেন, ‘তার পারিবারিক সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।’

একই দিন বিকেলে ফারুকের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী। তখনই তিনি ফারুকের চাকরির ব্যবস্থা করার ঘোষণাটি দেন।

একরামুল বলেন, ‘ফারুকের এই সংবাদ প্রকাশের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাকে একটা সাহায্য দেয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদের ভাই গাজীপুর সিটি করপোরেশনে একটা চাকরি দেয়ার জন্য মেয়র জাহাঙ্গীর সাহেবকে নিদের্শনা দিয়েছেন এবং সেখানে এটা নিশ্চিত করা হয়েছে।’

জীবন পাল্টে যাচ্ছে রিকশা চালানো ছাত্রলীগের ফারুকের
ফারুকের হাতে অর্থ তুলে দিচ্ছেন নোয়াখালী সদর আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী

ফারুককে দুঃসময়ের নেতা উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, ‘তিনি যে এতটা সমস্যাগ্রস্ত ছিলেন, এটা দলীয় কোনো ফোরামে জানা যায়নি।’

নোয়াখালীর ছাত্রলীগ, যুবলীগ বা দলীয় কোন নেতাকর্মী এ ধরনের কোন সমস্যায় পড়লে তার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেন সাংসদ একরাম।

পাশে দাঁড়াচ্ছেন কাদের মির্জাও

ফারুকের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন নোয়াখালী বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাও। রোববার সকাল ১১টায় তার কাছে যাওয়ার কথা আছে ফারুকের।

কাদের মির্জা বলেন, ‘ফারুকদের মতো কর্মীরা আওয়ামী লীগের প্রাণ। তাদের শ্রমে-ঘামে আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। অথচ ফারুকের মতো কর্মীরা অবহেলিত।’

এগিয়ে এসেছেন অন্যরাও

সব দিক বিবেচনায় করলে ফারুকের এখন সুসময়ই বলা যায়। প্রধানমন্ত্রী, সড়ক মন্ত্রী, তার ভাইয়ের পাশাপাশি এখন সহযোগিতায় এগিয়ে আসছেন অন্যরাও।

সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, গোলাম রাব্বানী, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলে শেখ ফজলে নাঈম, নোয়াখালী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন শাহীনও।

যা বলছেন ফারুক

আনোয়ার হোসেন ফারুক বলেন, ‘নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমে সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দলীয় নেতারা খোঁজখবর নিচ্ছেন। অনেকেই সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।‘

জীবন পাল্টে যাচ্ছে রিকশা চালানো ছাত্রলীগের ফারুকের
ফারুকের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাঠানো উপহার

ফারুক বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা প্রশাসক একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা উপহার দিয়েছেন। আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদের সাহেবের নির্দেশে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে একটি চাকরির খবর শুনেছি। এমপি একরামুল করিম চৌধুরীও আর্থিক সহযোগিতা করেছেন।’

‘দোয়া করবেন সবার সহযোগিতায় যেন পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচতে পারি’- বলেন এই রাজনৈতিক কর্মী।

সেই প্রতিবেদন ফিরে দেখা

ফারুক কবিরহাট উপজেলার পদুয়া গ্রামের মোহাম্মদ উল্যার ছেলে। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

মা, স্ত্রী ও চার কন্যাসন্তান নিয়ে বড় একটি সংসারের দায়িত্ব এখন ফারুকের কাঁধে।

২০০১ সালে বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম যখন নিভু নিভু অবস্থায়, তখন দাপটের সঙ্গে কবিরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে সংগঠন গুছিয়ে তোলেন তিনি। সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকায় জেল-জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

ফারুক জানান, ১৯৯৫ সালে আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে, তখন তিনি ছাত্রলীগে যোগ দেন। ওই বছরই কবিরহাট পদুয়া শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২০০১ সালে কবিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি, ২০০৩ সালে বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে কবিরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

তখনকার সময়ে ছাত্রলীগকে সংগঠিত করতে গিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের রোষানলে পড়তে হয়। যার কারণে ডিগ্রি পরীক্ষাটাও দেয়া হয়নি তার।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ডিসি অফিসে চতুর্থ শ্রেণির চাকরির জন্য চেষ্টা করেন, কিন্তু পাননি। ছোট ভাইটাকেও চাকরি নিয়ে দিতে পারেননি

নিজের স্ত্রীর জন্য একটা চাকরির ব্যবস্থা করতে নেতাদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন। কিন্তু ঘুষ দিতে পারেননি বলে চাকরি হয়নি।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী
দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক এখন রিকশাচালক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতাকে ছাত্রলীগের পদোন্নতি

ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতাকে ছাত্রলীগের পদোন্নতি

মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়া নাজমুল হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হওয়া নাজমুল হোসেনকে ২০১৮ সালে যে প্যাডে রায়পুর ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক করে ছাত্রদলের কমিটির ঘোষণা করা হয়, তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে। নাজমুল অবশ্য এই ছবিকে কারসাজি বলছেন।

আরও এক ছাত্রদল নেতার ছাত্রলীগের পদ পাওয়া নিয়ে ফরিদপুরে তোলপাড় চলছে।

রায়হান রনি নামে এক তরুণ আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা অবস্থায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পাওয়া নিয়ে আলোচনার মধ্যেই মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাজমুল হোসেনকে করা হয়েছে মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।

ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতাকে পদোন্নতি দিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা নিয়ে সংগঠনে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ।

যদিও নাজমুলের ছাত্রদল সম্পৃক্ততা অস্বীকার করছেন তাকে পদ দেয়া ও সুপারিশ করা ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতারা। নাজমুল নিজেও দাবি করেছেন, তার পরিবার সব সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছে।

ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এও বলেছেন, নাজমুলের ছাত্রদল সম্পৃক্ততার অভিযোগ তারাও শুনেছেন। এটা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে ২০১৮ সালে নাজমুলকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে যে প্যাডে ছাত্রদলের সেই কমিটির ঘোষণা করা হয়, তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে। আর একে নাজমুল অবশ্য কারসাজি বলছেন।

গত ১২ জুন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান ও ফাহিম আহমেদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে রবিন মোল্যা ও ইনজামামুল আলম অনিককে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটিতে নাজমুল হোসেনকে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

উপজেলা ছাত্রলীগের নব-নির্বাচিত সভাপতি রবিন মোল্যার দাবি, নাজমুল দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসছেন। সেই হিসেবেই তাকে পদ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নাজমুল ছাত্রদল করতেন, বিষয়টি আমাদেরকেও অনেকেই জানিয়েছে, তবে খোঁজ নিয়ে এর কোনো সত্যতা পাইনি।’

তবে মধুখালী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওমর ফারুক জানান, ২০১৮ সালের উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটিতে নাজমুল হোসেন যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন।

ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতাকে ছাত্রলীগের পদোন্নতি
২০১৮ সালে ছাত্রদলের কমিটিতে আর তিন বছর পর ছাত্রলীগের কমিটিতে নাজমুল

মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বকু বলেন, ‘নাজমুল হোসেন ছাত্রদলের রাজনীতি করত-এই বিষয়টি জানা নেই। তবে নাজমুল দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। ছাত্রলীগের মিছিল মিটিংয়ে তাকে দেখেছি।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান বলেন, ‘রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেই নাজমুল হোসেনকে ছাত্রলীগের পদ দেয়া হয়েছে। নাজমুল দীর্ঘদিন যাবৎ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকার সুপারিশেই তাকে পদ দেয়া হয়েছে।’

নাজমুল হোসেন ছাত্রদল করতেন- এমন অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর সাত্তার শেখ বলেন, ‘নাজমুল হোসেনের বাড়ি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে। ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রত্যয়ন পত্র পেয়েই নাজমুলকে ছাত্রলীগের পদ দিতে আমি সুপারিশ করেছি।’

নাজমুল হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও ছাত্রদল করার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পারিবারিক কারণেই ছোটবেলা থেকেই আমিও ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসছি।’

তিনি বলেন, ‘একটি মহল আমার বিরুদ্ধে এধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। আপনারা এলাকায় এসে খোঁজ নিয়ে দেখেন আমি এবং আমার পরিবারের সম্পর্কে।’

সম্প্রতি ছাত্রদল নেতা রায়হান রনির ছাত্রলীগে পদ পাওয়া নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়। এর মধ্যে গত ১৯ জুন তাকে ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। আর ছাত্রদল তাকে বহিষ্কার করে।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী
দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক এখন রিকশাচালক

শেয়ার করুন

সহিংসতা, ২ মৃত্যু, বর্জনের মধ্যে শেষ হলো ইউপি ভোট

সহিংসতা, ২ মৃত্যু, বর্জনের মধ্যে শেষ হলো ইউপি ভোট

ভোলা ও বরিশালে নির্বাচনি সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন। এর বাইরে আরও কয়েক জেলায় হয়েছে সংঘর্ষ। পাঁচ ইউপিতে ভোট বর্জনের ঘটনা ঘটেছে।

দুই জেলায় ভোটে সহিংসতায় দুইজন নিহত, পাঁচ জেলায় প্রার্থীদের বর্জন ও কয়েক জেলায় সহিংসতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।

ভোট হয়েছে লক্ষ্মীপুর-২ আসন এবং দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ ও ঝালকাঠি পৌরসভাতেও।

সোমবার সকাল ৮টায় ভোট শুরু হয় ১৩ জেলার ৪১ উপজেলার ২০৪টি ইউনিয়নে। চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

এসব জেলায় বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে নিউজবাংলার প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, ভোটার উপস্থিতি সকাল থেকেই ছিল চোখে পড়ার মতো। বরিশাল বিভাগের কয়েক জেলায় সকালে বৃষ্টি নামলেও ভোটার উপস্থিতি কমেনি।

বরিশাল জেলায় তিন ইউনিয়নে ভোটের সময় সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষের পর ককটেল বিস্ফোরণে একজন নিহত হন। আহত হন দুইজন।

হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের খাগেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারের জেরে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও ৮টি ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সহিংসতার কারণে ঘণ্টাখানেক ভোট বন্ধ থাকে।

একই উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের গঙ্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়। এতে এক আনসার সদস্য ও এক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানেও ফাঁকা গুলি করে পুলিশ। এখানেও কিছু সময়ের জন্য ভোট গ্রহণ ব্যাহত হয়।

সহিংসতা, ২ মৃত্যু, বর্জনের মধ্যে শেষ হলো ইউপি ভোট
গৌরনদীর খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণে একজন নিহত হন

বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের আবুল কালার ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইচেষ্টার ঘটনায় দেড় ঘণ্টা ভোট বন্ধ থাকে। নষ্ট হয় ২০ থেকে ২৫টি ব্যালট।

এই জেলার মুলাদী উপজেলায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেন গাছুয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোকসেদ মীর ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল মালেক শিকদার।

উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী উর্মিলা বাড়ৈ অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জন করেন।

ভোলায় চরফ্যাশনের হাজারিগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরফকিরা কোয়াইড প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সদস্য পদ প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হন। আহত হন দুইজন।

তজুমদ্দিনের চাচরা ইউনিয়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াদ হোসেন হান্নান। তিনি সেখানে পুনর্নির্বাচনের দাবিও করেন।

সম্ভুপুর ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তাবিষয়ক উপসচিব আশহাফুল রহমান তিন পোলিং এজেন্টকে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

আরও কিছু কেন্দ্রে বিক্ষিপ্তভাবে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সহিংসতা, ২ মৃত্যু, বর্জনের মধ্যে শেষ হলো ইউপি ভোট
ভোলায় চরফ্যাশনের হাজারিগঞ্জ ইউনিয়নের সংঘর্ষে নিহত হন একজন

পটুয়াখালীর বাউফলে কেশবপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন পাঁচজন। কনকদিয়া ইউনিয়নে একটি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টকে বের করে দেয়ার অভিযোগে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোট বর্জন করেন।

ঝালকাঠিতে ভোটার উপস্থিতি বিভাগের অন্য জেলার তুলনায় ছিল কম। এই জেলার নলছিটি উপজেলার সুজিতপুর ইউনিয়নে সদস্য পদ প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ফাঁকা গুলি করে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তবে ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়নি।

ভোট হয়েছে ঝালকাঠি পৌরসভারও। অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আফজাল হোসেন।

ভোট হয়েছে দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ পৌরসভাতেও। ভোটারদের মধ্যে নারীদের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক।

সহিংসতা, ২ মৃত্যু, বর্জনের মধ্যে শেষ হলো ইউপি ভোট

দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

লক্ষ্মীপুরে রামগতি ও কমলনগরে ৬টি ইউনিয়নে হয়েছে ভোট। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর-২ আসনে হয়েছে উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ।

এর মধ্যে কমলনগরের তারাবগঞ্জের উত্তর চরপাগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়সাল আহমদ রতন ও নৌকার প্রার্থী মির্জা আশ্রাফুল জামাল রাসেলের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিঙ্কুর গাড়িসহ পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে বিজিবি ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এর আগে কেন্দ্রের বাইরে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া মধ্য চরপাগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তোরাবগঞ্জ ইসলাম পাড়া আনসার আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

রামগতির বেশ কয়েকটি কেন্দ্র থেকে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

অন্যান্য জেলায় ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন বরিশাল থেকে তন্ময় তপু, ভোলা থেকে আদিল তপু, পটুয়াখালী থেকে জাকারিয়া হৃদয়, ঝালকাঠি থেকে হাসনাইন তালুকদার দিবস, দিনাজপুর থেকে কুরবান আলী এবং লক্ষ্মীপুর থেকে আনিস কবির।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী
দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক এখন রিকশাচালক

শেয়ার করুন

কোথায় দুর্নীতি প্রমাণ দিন: বিএনপিকে কাদের

কোথায় দুর্নীতি প্রমাণ দিন: বিএনপিকে কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সড়ক অবকাঠামো খাতে পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, টানেলসহ যে কয়টি মেগা-প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে- সেখানে কোনো দুর্নীতি হলে কাল্পনিক অভিযোগ না করে সুস্পষ্ট প্রমাণ দিন। স্পেসিফিক প্রমাণ দিন, কোথায় দুর্নীতি হয়েছে?’

মেগা প্রকল্প নিয়ে বিএনপি নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগকে কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ ব্যাপারে দলটিকে প্রমাণ দিতে বলেছেন তিনি।

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সোমবার সকালে এক ব্রিফিংয়ে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘যারা নিজেদের সময় দেশে একটি মেগা প্রকল্প করার সাহস ও সক্ষমতা দেখাতে পারেনি তারাই আজ মেগা প্রকল্প নিয়ে মেগা-মিথ্যাচারে নেমেছে। এটা তাদের পরিকল্পিত অপচেষ্টা।

‘এটা তাদের প্রতিহিংসাপরায়ণ ও ব্যর্থ এক বিরোধীদলের ঈর্ষাকাতরতা ছাড়া কিছু নয়। বিএনপি সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম দেখে নিজেদের আমলের ব্যর্থতা ঢাকতে পরিকল্পিত মিথ্যাচার করছে।’

ওবায়দুল কাদেরের মতে, বিএনপি উন্নয়নবিমুখ কথা-সর্বস্ব রাজনৈতিক দল। তাদের সময় বড় প্রকল্প নেওয়ার মানসিক সাহস সক্ষমতা ছিলো না। শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে অদম্য গতিতে।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘সড়ক অবকাঠামো খাতে পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, টানেলসহ যে কয়টি মেগা-প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে- সেখানে কোনো দুর্নীতি হলে কাল্পনিক অভিযোগ না করে সুস্পষ্ট প্রমাণ দিন।

‘স্পেসিফিক প্রমাণ দিন, কোথায় দুর্নীতি হয়েছে? আসলে দুর্নীতি প্রবণতা তাদের মগজে এবং অস্থিমজ্জায় মিশে গেছে। বিএনপির শাসনামলে যে দুর্নীতি তারা করেছে, তা আজও ভুলতে পারেনি বিএনপি। বিএনপি আবার সুযোগ পেলে জনগণের সম্পদ লুন্ঠনের অপেক্ষায় রয়েছে কিন্তু জনগণ বিএনপির এ দুঃস্বপ্ন কখনো সফল হতে দিবে না।’

অব্যাহত মিথ্যাচার করে দেশের ইমেজ নষ্ট করাই বিএনপির লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘নিজেরা ক্ষমতায় থাকাকালে দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল। আর এখন শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে ঈর্ষান্বিত হয়ে দুর্নীতির গন্ধ খুঁজে বেড়ায়

‘বিএনপি তাদের শাসনামলে দুর্নীতিতে বারবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্কতিলক দেশকে পরিয়েছিল, যা জনগণ এখনও ভুলে যায়নি। যারা হাওয়া ভবন নামের খাওয়া ভবন তৈরি করে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। তাদের মেগা-প্রকল্প দেখলে মনোযন্ত্রণা হওয়াই স্বাভাবিক।’

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে কাদের বলেন, দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি স্পষ্ট ও কঠোর। যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও ছাড় দেয়া হয়নি। অপরদিকে বিএনপি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণতো দূরের কথা গঠনতন্ত্র থেকে দুর্নীতিবাজদের অযোগ্যতা বিষয়ক ধারা বাতিল করে আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজদের দল হিসেবে নিজেদের স্বীকৃতি দিয়েছে।

‘আপনাদের গঠনতন্ত্রে দুর্নীতিবিরোধী ৭ ধারা ফিরিয়ে আনুন। একদিকে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে অন্যদিকে কল্পিত অভিযোগ করাকে জনগণ নৈতিকতা বিরোধী বলেই মনে করেন।’

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী
দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক এখন রিকশাচালক

শেয়ার করুন

লক্ষ্মীপুরে দুই প্রার্থীর সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১০

লক্ষ্মীপুরে দুই প্রার্থীর সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১০

লক্ষ্মীপুরে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল করা নিয়ে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: নিউজবাংলা

ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকরা জানান, শান্তিপূর্ণ ভোট চলছিল। হঠাৎ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা নৌকার পক্ষ নিয়ে কেন্দ্র দখল করতে আসলে ভোটাররা তাদের ধাওয়া দেন। তবে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বলছেন, কেন্দ্রের বাইরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল করা নিয়ে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

কমলনগরের তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের চর পাগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোমবার দুপুর ১টার দিকে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির গাড়িসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ আধা ঘণ্টার জন্য বন্ধ রেখে আবার চালু করা হয়।

আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকরা জানান, শান্তিপূর্ণ ভোট চলছিল। হঠাৎ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা নৌকার পক্ষ নিয়ে কেন্দ্র দখল করতে আসলে ভোটাররা তাদের ধাওয়া দেন।

তবে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বলছেন, কেন্দ্রের বাইরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

সকাল থেকে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীপুর-২ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন ও রামগতি-কমলনগরের ৬টি ইউপিতে নির্বাচন শুরু হয়। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউপি নির্বাচনি এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে কিছু বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নৌকার পক্ষের লোকজন ভোটারদের প্রভাবিত করতে স্থানীয় চর পাগলা কেন্দ্রে যান। এ সময় ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকরা তাদের ধাওয়া করলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিঙ্কুর গাড়িসহ তার সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদের আরও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আতিক আহমেদ জানান, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুর্বৃত্তরা কেন্দ্রে হামলা চালায়। এ সময় ২০ মিনিট ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ইভিএম পদ্ধতিতে আর রামগতি ও কমলনগরের ৬ ইউপিতে ব্যালটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ নির্বাচন।

সংসদীয় আসনে এমপি পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন ও লাঙল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ ফায়েজ উল্লাহ শিপন লড়ছেন।

এ আসনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৬টি। এর মধ্যে ৯৭টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়েছে। এখানে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২ হাজার ৯৬৩।

এদিকে রামগতির চর বাদাম, চর রমিজ, চর পোড়াগাছা ও কমলনগরের চর ফলকন, হাজির হাট ও তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নে ৫৭টি কেন্দ্রে ভোট চলছে।

এসব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪০ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৮৩ জন ও সদস্য পদে ২৫১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ ইউনিয়নে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩১ জন ভোটার।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী
দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক এখন রিকশাচালক

শেয়ার করুন

পৌর নির্বাচনের ভোট বর্জন ঝালকাঠির স্বতন্ত্র প্রার্থীর

পৌর নির্বাচনের ভোট বর্জন ঝালকাঠির স্বতন্ত্র প্রার্থীর

স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজাল বলেন, সকাল ৮টায় ভোট শুরুর পরপরই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের সবকটি কেন্দ্র থেকে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়েছেন নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর লোকজন। বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবগত করা হলেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি।

ঝালকাঠি পৌরসভা নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আফজাল হোসেন।

এই ঘোষণা লিখিতভাবে সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের পাঠিয়েছেন তিনি।

আফজাল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র। এই নির্বাচনে তিনি নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে লড়ছিলেন।

আফজাল বলেন, সকাল ৮টায় ভোট শুরুর পরপরই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের সবকটি কেন্দ্র থেকে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়েছেন নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর লোকজন। বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবগত করা হলেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। তাই ভোট বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি এখনও লিখিত কোনো কাগজ পাইনি।’

তিনি ভোট বর্জন করায় এখন মেয়র পদের জন্য লড়াই হচ্ছে নৌকা প্রতীকের বর্তমান মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার এবং ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের হাবিবুর রহমানের মধ্যে।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী
দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক এখন রিকশাচালক

শেয়ার করুন

তজুমদ্দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন

তজুমদ্দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন

চাচড়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াদ হোসেন হান্নান বলেন, ‘নির্বাচন শুরুর আগে বহিরাগতরা আমার সমর্থকদের দেড় শ ঘরে ভাঙচুর ও হামলা চালায়। এতে আমার অন্তত ১০০ কর্মী আহত হয়েছেন।’

ভোলার তজুমদ্দিনে নির্বাচন বর্জন করেছেন চাচড়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াদ হোসেন হান্নান।

ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম ও কর্মী-সমর্থকদের মারধরসহ নানা অভিযোগ তুলে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

নিজ বাড়িতে দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভোট শুরুর পরপরই তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেন নৌকাপ্রার্থীর কর্মীরা। যেসব কেন্দ্রে এজেন্ট ছিল, তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শুরুর আগে বহিরাগতরা আমার সমর্থকদের দেড় শ ঘরে ভাঙচুর ও হামলা চালায়। এতে আমার অন্তত ১০ কর্মী আহত হয়েছেন। ভোটের পরিবেশ না থাকা এবং নানা অনিয়ম হওয়ায় ভোট থেকে সরে গিয়েছি। বিষয়টি প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনকেও লিখিতভাবে জানিয়েছি।’

বর্জনের ঘোষণার পর তিনি পুনর্নির্বাচনের দাবিও জানান।

তার অভিযোগ পেয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আমির খসরু গাজী।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী
দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক এখন রিকশাচালক

শেয়ার করুন

মুলাদীতে নির্বাচন বর্জন, দেহেরগতিতে ব্যালট ছিনতাইচেষ্টা

মুলাদীতে নির্বাচন বর্জন, দেহেরগতিতে ব্যালট ছিনতাইচেষ্টা

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ ‍এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশালের মুলাদীর ৪ নম্বর গাছুয়া ‍ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী। ছবি: নিউজবাংলা

কারচুপির অভিযোগ ‍এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশালের মুলাদী ‍উপজেলার ৪ নম্বর গাছুয়া ‍ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোকসেদ মীর। আর বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নে ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে এক ঘন্টা যাবৎ ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ ‍এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশালের মুলাদী ‍উপজেলার ৪ নম্বর গাছুয়া ‍ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী (আনারস প্রতীক) মোকসেদ মীর।

এলাকায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‍‘ইউনিয়নের ৯টি কেন্দ্রে আমার ‍এজেন্ট দেয়া হয়েছে। কিন্তু ভোট শুরুর পরপরই তাদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী জসিম ‍‍উদ্দিনের সমর্থকরা ‍এজেন্টদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। বিষয়টি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ‍এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।’

তিনি অভিযোগ করেন, রোববার তার বাসভবনের কাছেই ‍একাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ভোটারদের আতঙ্কিত করতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকরা এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন। বিষয়টি থানার ওসিকে অবহিত করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এসব কারণে নির্বাচন বর্জন করছেন বলে ঘোষণা দেন তিনি।

ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নে আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে সোমবার দুপুর ১টার দিকে ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে এক ঘন্টা যাবৎ ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।

কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল জানান, দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে একদল লোক ১ নম্বর কক্ষে ঢুকে সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার মাহামুদ হোসেনের কাছ থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়।

মুলাদীতে নির্বাচন বর্জন, দেহেরগতিতে ব্যালট ছিনতাইচেষ্টা
দেহেরগতি ইউনিয়নে আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টায় ২০ থেকে ২৫টির মত ব্যালট নষ্ট হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

মাহামুদ হোসেন জানান, ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলেও তারা নিয়ে যেতে পারেনি। এই ঘটনায় ২০ থেকে ২৫টির মত ব্যালট নষ্ট হয়েছে।

কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সেলিম নিয়াজী জানান, এই ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ভোট গ্রহণ শুরু হয়নি, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী
দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক এখন রিকশাচালক

শেয়ার করুন