ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী

ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী

ফারুককে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উপহার দিয়েছেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক। ছবি: নিউজবাংলা

রিকশাচালক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফারুকের খবর নজরে আসার পর শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা উপহার দিয়েছেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান। তার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের আরও অনেক রাজনীতিক।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বর্তমানে রিকশাচালক আনোয়ার হোসেন ফারুককে সহায়তায় এগিয়ে আসছেন অনেকে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে তাকে উপহার দেয়া হয়েছে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা।

তার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় দুই আলোচিত রাজনীতিকসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতা।

ফারুকের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের সঙ্গে একসময় কণ্ঠ মিলিয়েছেন ছাত্রলীগের শত শত নেতা-কর্মী। বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে লড়াই করেছেন। সহ্য করতে হয়েছে জেল-জুলুম-নির্যাতন। নানা প্রতিকূলতার কারণে শেষ করতে পারেননি লেখাপড়া।

নোয়াখালীর কবিরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, স্থানীয় ছাত্রলীগের দুঃসময়ের সঙ্গী ‘দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক এখন রিকশাচালক’ শিরোনামে ২৬ মে একটি প্রতিবেদন ছাপায় নিউজবাংলা। এটি নজরে এসেছে নোয়াখালীর প্রশাসন ও সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতাদের।

রিকশাচালক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফারুকের খবর নজরে আসার পর শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা উপহার দিয়েছেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান।

এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফারুককে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা উপহার দিয়েছি। তার পারিবারিক সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।’

ছাত্রলীগের সেই ফারুকের পাশে প্রধানমন্ত্রী

যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন সাবেক ছাত্র লীগনেতা আজকের রিকশাচালক ফারুক। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস রানা বলেন, ‘নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন ফারুককে একটি অটোরিকশা কিনে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক আজকে তাকে অটোরিকশাটি হস্তান্তর করেন।’

১৯৯৫ সালে জাতির পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন ফারুক। ওই বছরই কবিরহাট পদুয়া শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে কবিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি, ২০০৩ সালে বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে কবিরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সেই সময় ছাত্রলীগকে সংগঠিত করতে গিয়ে বহুবার ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের রোষানলে পড়তে হয় তাকে। আর এ কারণে ডিগ্রি পরীক্ষাটা দিতে পারেননি তিনি। পরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে চাকরির জন্য দলের নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো চাকরি পাননি ফারুক।

এরপরেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল ছিলেন সাবেক এই ছাত্রনেতা। ২০১০ সালে নরোত্তমপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সম্মেলনে ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পরে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পান।

টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে দলের অনেকেই নানা উপায়ে অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন। কিন্তু অবস্থা পরিবর্তিত হয়নি ফারুকের। অর্থাভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করতে হয় তাকে।

পরিবারে অর্থের সংস্থান করতে এক বছর ধরে এলাকায় রিকশা চালিয়ে আসছেন ফারুক।

ফারুকের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী এবং নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

সাংসদ একরামুল বলেন, ‘ফারুক দুঃসময়ের ছাত্রলীগ নেতা। কিন্তু সে যে এতটা সমস্যাগ্রস্ত ছিল, এটা দলীয় কোনো ফোরামে জানা যায়নি। তার জীবিকা নির্বাহের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’

বসুরহাটের মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘ফারুকদের মতো কর্মীরা আওয়ামী লীগের প্রাণ। তাদের শ্রমে-ঘামে আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। অথচ ফারুকের মতো কর্মীরা অবহেলিত। ফারুক এবং তার পরিবারের পাশে থাকব।’

রিকশাচালক ফারুকের সংবাদ নজরে আসায় তার সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন গাজীপুর সিটি মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন ও গোলাম রাব্বানী।

আরও পড়ুন:
দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক এখন রিকশাচালক

শেয়ার করুন

মন্তব্য