জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপির ১৫ দিনের কর্মসূচি

জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপির ১৫ দিনের কর্মসূচি

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যের হাতে নিহত হন জিয়াউর রহমান। তিনি ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৫ দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দলটি।

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে জানান, করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যের হাতে নিহত হন জিয়াউর রহমান। তিনি ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪০তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ১৫ দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।’

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—আগামী ২৯ মে শনিবার বেলা সাড়ে ৩টায় জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর ভার্চুয়াল আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

৩০ মে সকাল ৬টায় দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন এবং নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। এ ছাড়া বেলা ১১টায় দলের মহাসচিবসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাজার জিয়ারত করবেন।

দুপুর ১২টার পর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পর্যায়ক্রমে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাজার জিয়ারত করবে। এ ছাড়া রয়েছে ঢাকা মহানগরীর ৪০টি স্থানে ঢাকা মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ।

৩১ মে ঢাকা মহানগরীর ৪০টি স্থানে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যদ্রব্য, বস্ত্র বিতরণ ছাড়াও জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক দলের (জাসাস) উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের জীবনভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

১ জুন বেলা ১১টায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবনের ওপর আলোচনা সভা। ২ জুন বেলা আড়াইটায় ছাত্রদলের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা।

৩ জুন বেলা ১১টায় যুবদলের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা। ৪ জুন বাদ আসর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মহিলা দলের উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল।

৫ জুন মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে আলোচনা সভা। ৬ জুন সকাল ১০টায় শ্রমিক দলের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভা। ৭ জুন সকাল ১০টায় জাসাসের উদ্যোগে আলোচনা সভা। ৮ জুন তাঁতী দলের উদ্যোগে আলোচনা সভা। ৯ জুন জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের ওপর প্রকাশিত বই প্রদর্শনী। এ ছাড়া ১ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরীতে সংশ্লিষ্ট ইউনিট বিএনপির উদ্যোগে শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবনের ওপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সবকিছু বেরিয়ে এলে ফখরুলের মুখ চুপসে যাবে: তথ্যমন্ত্রী

সবকিছু বেরিয়ে এলে ফখরুলের মুখ চুপসে যাবে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো তারা পাশের দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক নষ্ট করতে চেয়েছিল। কোরআন শরিফ যে একজন মুসলমান যুবক রেখেছিল, সেটি তো তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। সে ধরা পড়লে বোঝা যাবে কার ইন্ধনে এটি করেছে। এটিই তো ঘটনার সূত্রপাত। যখন সবকিছু বেরিয়ে আসবে, তখন মির্জা ফখরুল ইসলামের মুখটা চুপসে যাবে।’

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের মুখ চুপসে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, ‘এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো তারা পাশের দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক নষ্ট করতে চেয়েছিল। কোরআন শরিফ যে একজন মুসলমান যুবক রেখেছিল, সেটি তো তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। সে ধরা পড়লে বোঝা যাবে কার ইন্ধনে এটি করেছে। এটিই তো ঘটনার সূত্রপাত। যখন সবকিছু বেরিয়ে আসবে, তখন মির্জা ফখরুল ইসলামের মুখটা চুপসে যাবে।’

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনার জন্য আবারও বিএনপি-জামায়াতকেই দায়ী করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর এই হামলা আসলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নয়, এটি বাংলাদেশের চেতনার মূল বেদিমূলের ওপর হামলা। এটি সরকারের ওপরও হামলা। কারণ এটি করে তারা সরকারকে দোষারোপ করতে চেয়েছিল। পাশাপাশি একটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে আমাদের যে ভালো সম্পর্ক, সেটি নষ্ট করতে চেয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ যখন স্থিতিশীল, তখন আওয়ামী লীগ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক, সেটির ওপর কালিমা লেপনের হীন উদ্দেশ্যেই আজকের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের সরকার দৃঢ়ভাবে সেটি দমন করেছে।

‘সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়কে রক্ষার জন্য আমাদের দল অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করছে। তাদের উদ্দেশ্য হীন। তারা আরও এ ধরনের গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করবে। আমি নেতা-কর্মীদের অনুরোধ জানাব, আপাতত এই দুষ্কৃতকারীরা নিবৃত্ত হয়েছে মনে হলেও আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।’

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, তারা দেশে হানাহানি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে। কিছুটা সফল হয়েছে, আরও চেষ্টা চালাবে। দলের নেতা-কর্মীদের হিন্দু সম্প্রদায় ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পাশে থাকার অনুরোধ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আমরা মনে করি কেউ সংখ্যালঘু নয়। সবার রক্তস্রোতের বিনিময়ে এ দেশ অর্জিত হয়েছে। এ দেশ সবার। ধর্ম যার যার দেশ সবার। সেই চেতনায় আমরা বিশ্বাস করি।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি জোট থেকে অনেকে পালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দল থেকেও অনেকে বের হয়ে গেছে। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্থিতি অবশ্যই সরকার চায়। যেকোনো সরকারের সেটিই কামনা। এ দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে বিএনপি-জামায়াত।’

তিনি বলেন, ‘ভোট এলে ভারতবিরোধী স্লোগান কারা দেয়? বিএনপি। হিন্দু সম্প্রদায়কে ভোটকেন্দ্রে যেতে বারণ কারা করে? এই বিএনপি-জামায়াতই করে।’

শেয়ার করুন

খালেদার ১১ মামলার শুনানি ২২ নভেম্বর

খালেদার ১১ মামলার শুনানি ২২ নভেম্বর

ফাইল ছবি

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় করা নাশকতার আটটি মামলা, যাত্রাবাড়ী থানার দুটি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা। যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র নেয়ার বিষয়ে শুনানির জন্য রয়েছে। অপর ১০ মামলা ছিল অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাসহ মোট ১১ মামলার শুনানির তারিখ একসঙ্গে ঠিক করেছে আদালত।

আগামী ২২ নভেম্বর এই ১১ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে মামলাগুলো শুনানির জন্য তারিখ ঠিক ছিল। তবে হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার পক্ষে অধিকাংশ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে জানিয়ে সময় আবেদন করেন তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে পরের শুনানির জন্য আগামী ২২ নভেম্বর তারিখ ঠিক করেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় করা নাশকতার আটটি মামলা, যাত্রাবাড়ী থানার দুটি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা।

যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র নেয়ার বিষয়ে শুনানির জন্য রয়েছে। অপর ১০ মামলা ছিল অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি করা হয়।

এদিকে যাত্রাবাড়ী থানার মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম নামে এক যাত্রী।

ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন থানার উপপরিদর্শক এসআই কে এম নুরুজ্জামান।

একই বছরের ৬ মে খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক বশির আহমেদ।

অন্যদিকে ২০১৫ সালে দারুস সালাম থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে আটটি মামলা করা হয়। এই আট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়।

২০১৭ সালের বিভিন্ন সময়ে মামলাগুলোয় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। সব মামলায় খালেদা জিয়াকে পলাতক দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। পরে খালেদা জিয়া মামলাগুলোয় আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

শেয়ার করুন

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দুর্গাপূজায় হামলা: তথ্যমন্ত্রী

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দুর্গাপূজায় হামলা: তথ্যমন্ত্রী

১৩ অক্টোবর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় হাজারখানেক মানুষের মিছিল থেকে হামলা হয় স্থানীয় একটি মন্দিরে। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক নষ্ট করার জন্য দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিভিন্ন স্থানে দুর্গাপূজায় হামলা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক নষ্ট করার জন্য দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগ অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রাণ তৃণমূল। কেউ যখন খোঁচা দেয় তখন আওয়ামী লীগ জ্বলে ওঠে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকাসহ সারা দেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ। কর্মসূচি আহ্বানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা শহরে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে। সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা শান্তি সমাবেশ করেছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দল পরপর তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে। তাই সবাই এখন আওয়ামী লীগ হতে চায়। যেসব মানুষ অতীতে আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন এবং সমাজে যারা দুষ্কৃতকারী হিসেবে পরিচিত তারা পিঠ বাঁচানো, সম্পদ রক্ষা ও সম্পদ অর্জনের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ করতে চায়।

‘তাদের আওয়ামী লীগের নৌকায় ওঠার প্রয়োজন নেই। যারা দলের দুঃসময়ে কাজ করছেন এবং বিপদ-আপদে দলের সঙ্গেই ছিলেন তাদেরকে আমরা মূল্যায়ন করব।’

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মালেক, সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকার, ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন ও আনোয়ার হোসেন হেলালসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগ বিভেদ সৃষ্টির কারখানা: রিজভী

আওয়ামী লীগ বিভেদ সৃষ্টির কারখানা: রিজভী

নয়াপল্টনে বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, ‘এই দেশে কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ ছিল না। জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে তারা। এই আওয়ামী লীগ হচ্ছে বিভেদ সৃষ্টির কারখানা। আগে তো কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা শুনি নাই। আপনাদের আমলে তা শুনছি।’

আওয়ামী লীগকে বিভেদ সৃষ্টির কারখানা মন্তব্য করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর সঙ্গে বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দল জড়িত বলছে আওয়ামী লীগ।

তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো, আপনারা কেন এ ধরনের কথা বলছেন? আপনারা যখনই এ ধরনের কথা বলেন, তখনই জনগণের মনে আরও সন্দেহ সৃষ্টি হয় যে, আপনারাই সুপরিকল্পিতভাবে কোরআনকে অবমাননা এবং হিন্দুদের ওপর আক্রমণের মতো জঘন্যতম ঘটনা ঘটিয়েছেন।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব, আপনারা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য নষ্ট করেছেন। এই দেশে কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ ছিল না। জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে তারা। এই আওয়ামী লীগ হচ্ছে বিভেদ সৃষ্টির কারখানা।

‘আগে তো কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা শুনি নাই। আপনাদের আমলে তা শুনছি। কেন আপনাদের আমলে নিজেদের সেক্যুলার দাবি করেন? আর আপনাদের সময়ে এই সাম্প্রদায়িক ঘুমন্ত দানবকে জাগিয়ে তুলে দেশে রক্তপাত সৃষ্টি করেছেন।’

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে রিজভী বলেন, ‘আজ গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন পত্রপত্রিকা যে অনুসন্ধানমূলক রিপোর্ট করছে, প্রত্যেকটাতে আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের নাম আসছে। হাজীগঞ্জের হৃদয় ছাত্রলীগের ছেলে। সে তার লোকজন দিয়ে কুমিল্লায় একটা প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সেখানে ঝামেলা সৃষ্টি করেছে।

‘পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী ও তার লোকজনই এ ধরনের কর্মকাণ্ড করেছেন। সেই মেহেদী বলেছে, সে না, খোকন নামে ছাত্রলীগের সভাপতি, সে এই কাজ করেছে। অথচ বিএনপি নেতা বরকত উল্লাহ বুলুর নামে মামলা দিয়ে দিলেন তারা। নোয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার করলেন যুবদলের নেতা-কর্মীদের। কিন্তু সব বেরিয়ে আসছে; কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসছে।’

রিজভী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতার ঘুমন্ত দানবকে জাগিয়ে তুলে সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে, কিন্তু এই দানব যে তাদেরই ঘাড় মটকে দেবে, এইটা এখনও টের পাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার পূজামণ্ডপসহ দেশের অন্য অঞ্চলের যে ঘটনা, আমরা বারবার বলে আসছি, এটায় সরকার জড়িত। সেই জিনিসগুলো প্রতিদিন বেরিয়ে আসছে। তাদের সেন্সরশিপ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ফেসবুকে কিছু লিখলেই গ্রেপ্তার হয়। এতকিছুর পরও সত্য বেরিয়ে আসছে; বেরিয়ে আসছে এসব ঘটনার সাথে তাদের ছাত্রলীগ-যুবলীগ জড়িত।’

রিজভী বলেন, ‘তাদের এই অত্যাচার, দুর্নীতি ঢেকে রাখার জন্যই দেশনেত্রী, গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রেখেছে। তাদের এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে যাতে কেউ কথা বলতে না পারে, তার জন্য বেগম খালেদা জিয়া বন্দি এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে লাখ লাখ মামলা।’

মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাবের সভাপতিত্ব ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবাবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, উলামা দলের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের নাদিম চৌধুরী, সেলিম মিয়া, জাকির হোসেন খান, ওমর ফারুক পাটোয়ারি, কামাল উদ্দিন চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম রাশেদ, সাইদুল ইসলাম টুটুলু, জহিরুল ইসলাম বাশার ও আমির হোসেন বক্তব্য দেন।

শেয়ার করুন

শক্তিশালী বিরোধী দল চায় সরকারও: কাদের

শক্তিশালী বিরোধী দল চায় সরকারও: কাদের

ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা ভোটের মাঠে থাকবে আর ভোটকেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি চলে যাবে, এমন বিরোধী দল জনগণ চায় না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মনে করেন, একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ বিএনপি।

তিনি দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা সরকারও চায় দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকুক।

বৃহস্পতিবার সরকারি বাসভবন থেকে এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, ‘একটি শক্তিশালী বিরোধী দল গুজব ও অপপ্রচার না চালিয়ে জনগণের কথা বলে। বিদেশিদের কাছে নালিশ করে না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি নেতারা এখন আর নতুন কিছু পাচ্ছেন না। তারা পুরোনো অভিযোগগুলোই বারবার নতুন করে বলছেন। সরকার নাকি দেশকে বিরোধী দলশূন্য করতে চায়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা ভোটের মাঠে থাকবে আর ভোটকেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি চলে যাবে, এমন বিরোধী দল জনগণ চায় না।’

বিএনপিকে গুজব ও অপপ্রচার না চালিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি জনগণের আশপাশে না গিয়ে এখন বিচরণ করছে মিডিয়া ও ভার্চুয়াল জগতে আর বিদেশিদের দ্বারে দ্বারে। তারা ফরমায়েশি বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন, যার সঙ্গে দেশ ও জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই।’

সরকার জনগণের দুঃখ-দুর্দশা উপলব্ধি করতে পারে না, বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে দেশের মানুষ জানে, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সবার আগে যেকোনো দৈব-দুর্বিপাকে জনমানুষের পাশে দাঁড়ায়।’

ওবায়দুল কাদেরের মতে, বিএনপির সুবিধাবাদী চরিত্র এবং ক্ষমতালিপ্সা জনগণের কাছে এখন স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, ‘একটি অশুভ মহল দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে গুজব, অপপ্রচার চালাচ্ছে; যা আমাদের গণতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতি হুমকিস্বরূপ।’

তিনি দেশের মানুষকে এসব গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ফেসবুক ও ইউটিউব কর্তৃপক্ষকেও এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানান।

এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ‘ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’-এর অধীনে নির্মাণাধীন ৩৫টি সেতু ও রংপুর জোনের ২টিসহ মোট ৩৭টি সেতুর উদ্বোধন করেন।

মন্ত্রী তার বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বলেন, ‘নির্মাণাধীন সেতুগুলো দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে সড়ক নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং সাসেক করিডর, এশিয়ান হাইওয়ে, বিমসটেক ও সার্ক হাইওয়ের সঙ্গে সংযুক্তি ঘটাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বর্তমানে সারা দেশে সড়ক নেটওয়ার্কে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু যতই উন্নয়ন হোক সড়ক ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি।’

শেয়ার করুন

ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বহিষ্কার

ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বহিষ্কার

সদ্য বহিস্কার হওয়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মেহেদী রাসেল। ছবি: নিউজবাংলা

স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ মুঠোফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাসেল মূলত জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। তিনি মুজিব আদর্শের সৈনিক নন। তিনি বিভিন্ন অপরাধ থেকে বাঁচতে ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগে ঢুকে পড়েন।’

ছাত্রদল থেকে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগে অনুপ্রবেশ করায় আব্দুল্লাহ আল মেহেদী রাসেলকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ স্বাক্ষরিত অব্যাহতিপত্রে ২০ অক্টোবর রাতে এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

রাসেল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

ওই চিঠিতে বলা হয়, রাসেলের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

চলতি মাসে সংগঠনটির জেলা সভাপতি ও সম্পাদকের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এ বিষয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ মুঠোফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাসেল মূলত জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। তিনি মুজিব আদর্শের সৈনিক নন। তিনি বিভিন্ন অপরাধ থেকে বাঁচতে ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগে ঢুকে পড়েন।’

এসব কারণে রাসেলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বহিষ্কার

রাসেল ২০০১ সালে বামনডাঙ্গা আঞ্চলিক ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০০৩ সালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।

২০১০ সালে স্থানীয় আজেপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়।

শেয়ার করুন

জনতার মুখোমুখি ইউপি নির্বাচনের প্রার্থীরা

জনতার মুখোমুখি ইউপি নির্বাচনের প্রার্থীরা

নওগাঁয় অনুষ্ঠিত হয়েছে জনতার মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি নামের এই অনুষ্ঠান। ছবি: নিউজবাংলা

মান্দা মমিন সাহানা সরকারি ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক বজলুর রশীদ বলেন, ‘এমন একটি আয়োজন সকল ইউনিয়নে হওয়া উচিত। এর মাধ্যমে জনগণ তাদের কথা তুলে ধরতে পারছে জনপ্রতিনিধির কাছে।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নওগাঁয় আয়োজিত হয়েছে ‘জনতার মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি’ নামের একটি আলোচনা সভা। তাতে জনসাধারণের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন উপজেলার হাপানিয়া ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা চার চেয়ারম্যানপ্রার্থী, ৩৫ সদস্য প্রার্থী এবং ১৫ নারী সদস্য প্রার্থী।

নওগাঁ সদর উপজেলার হাপানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় হল রুমে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এই সভা হয়। এতে স্থানীয়রা সরাসরি প্রার্থীদের কাছে তাদের প্রত্যাশা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রার্থীরাও তাদের নানা আশ্বাস দেন।

স্থানীয় চকজাফরাবাদ গ্রামের মুকুল হোসেন বলেন, ‘ভোটের সময় মেলা প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়, কিন্তু নির্বাচিত হলে সেভাবে হামাকে (আমাদের) খোঁজখবর রাখে না। আজক্যা জনতার মুখোমুখি হচে জনপ্রতিনিধিরা। চেয়ারম্যান-মেম্বার নির্বাচিত হলে সঠিকভাবে যেন হামাকে খোঁজখবর লেয় (নেয়) সেল্লা (সেজন্য) কথা কনু (কথা বলেছি)।

‘সরকার থাকা যেসব অনুদান দেয় সেগুলা যেন সঠিকভাবে হামাকোক (আমাদের) দেয় এগুলা কথাও কছি। যারা নির্বাচনে অংশ লিচ্চে (নিচ্ছে) তারা হামাকোক কথা দিলো হামাকে পাশে থাকবে। ভালো লাগলে এমন একটা আয়োজন করায়।’

জনতার মুখোমুখি ইউপি নির্বাচনের প্রার্থীরা


এই সভায় অংশ নিয়েছেন প্রায় তিন শতাধিক মানুষ। এর আয়োজন করেছে হাপানিয়া ইউনিয়ন পরিবার নামে স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম ঝন্টু স্থানীয়দের নানা প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমি বর্তমান চেয়ারম্যান। এর আগে একবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। আমার অর্পিত দায়িত্ব পালনের সময় আমার বড় অর্জন ছিল মাদক নির্মূল করা… রাস্তা-ঘাট, বয়স্কভাতা নিশ্চিত, বাল্যবিয়েরোধসহ চেষ্টা করেছি আপনাদের জন্য কাজ করার। আবার আমি নির্বাচিত হলে আপনাদের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।’

আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী আফছার আলী স্থানীয়দের বলেন, ‘আপনাদের মনকে প্রশ্ন করবেন। যদি আপনাদের জন্য সামান্য পরিমাণও কাজ করে থাকি তবে আমাকে আবারও ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।’

জনতার মুখোমুখি ইউপি নির্বাচনের প্রার্থীরা


অনুষ্ঠানে মান্দা মমিন সাহানা সরকারি ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক বজলুর রশীদ বলেন, ‘এমন একটি আয়োজন সকল ইউনিয়নে হওয়া উচিত। এর মাধ্যমে জনগণ তাদের কথা তুলে ধরতে পারছে জনপ্রতিনিধির কাছে।’

অনুষ্ঠানের আয়োজক হাপানিয়া ইউনিয়ন পরিবারের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়াম্যান, মেম্বার প্রার্থীদের জনতার মুখোমুখি করে একটি মেলবন্ধন তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল। যা আজ বাস্তবায়ন হলো।’

শেয়ার করুন