দলে আগাছা-হাইব্রিড আসলে উপড়ে ফেলব: নাছিম

দলে আগাছা-হাইব্রিড আসলে উপড়ে ফেলব: নাছিম

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘‘দলের দুর্দিনে কেউ কেউ পিছিয়ে যায়। ২০০১ সালে ‘বয়স হয়েছে, বাকি কটা দিন শান্তিতে থাকতে চাই’ এসব কথা বলে অনেকেই রাজনীতি থেকে দূরে ছিল। দলের দুর্দিনে তারা পালিয়ে যায়। আমরা সুদিনের নেতা চাই না। আগাছা আসলে, হাইব্রিড আসলে, আমরা উপড়ে ফেলে দেব।’’

আওয়ামী লীগ সুদিনের কোনো নেতাকে চায় না জানিয়ে ক্ষমতাসীন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, দলে আগাছা আসলে, হাইব্রিড আসলে উপড়ে ফেলে দেয়া হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘‘দলের দুর্দিনে কেউ কেউ পিছিয়ে যায়। ২০০১ সালে ‘বয়স হয়েছে, বাকি কটা দিন শান্তিতে থাকতে চাই’ এসব কথা বলে অনেকেই রাজনীতি থেকে দূরে ছিল। দলের দুর্দিনে তারা পালিয়ে যায়। আমরা সুদিনের নেতা চাই না। আগাছা আসলে, হাইব্রিড আসলে, আমরা উপড়ে ফেলে দেব।’’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ এর পর কেউ কেউ বলত রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী বলে ভাগাভাগি করার কী দরকার। এ কথা বলে তারা অপরাধীদের বিচার রুখতে চেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা আপস না করে বঙ্গবন্ধুর করে যাওয়া আইনেই তাদের বিচার করেছেন।’

যারা দেশবিরোধী, সাম্প্রদায়িক চেতনার অপরাজনীতি করে মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে মন্তব্য করে ক্ষমতাসীন দলটির এই নেতা বলেন, ‘সে কারণেই যুদ্ধপরাধীদের বিচার সম্ভব হয়েছে। আজ যারা ধর্ম ব্যবসায়ী তাদেরও মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে।

‘তাদের এ দেশে স্থান নেই। তারা চাইলে পাকিস্তানে যেয়ে পাকিস্তানের রাজনীতি করুক। আমরা বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে গড়ে তুলব।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বলেছিলেন সোনার বাংলাদেশ গড়তে সোনার মানুষ চাই। আমরা সোনার মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে পারি। দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে আসুন আমরা নিজেদের উৎসর্গ করি। শেখ হাসিনা ১৭ মে যেভাবে দেশকে ভালোবেসে, মানুষকে ভালোবেসে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন, আসুন আমরাও তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের উৎসর্গ করি।’

‘শেখ হাসিনা এসেছিলেন ঐক্যের প্রতীক হিসেবে’

১৯৮১ সালের ১৭ মে’র প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তখন দেশ এবং আওয়ামী লীগও করুণ অবস্থায় ছিল। তখন ঐক্যের প্রতীক হিসেবে, আদর্শের প্রতীক হিসেবে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়। সে দিন বঙ্গবন্ধুকন্যা আলোর দিশারি হয়ে দেশে আসেন। তিনি এসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশের মানুষকে জাগরিত করেছেন, ঐক্যবদ্ধ করেছেন।

‘১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে না আসলে আমরা এ পর্যায়ে আসতে পারতাম না। সে দিন তিনি দেশে আসায় আমরা স্বপ্ন দেখতে পেরেছি। শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।’

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে এসেছিলেন বলেই জাতির পিতার হত্যার বিচার করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশে যেমন মহাত্মা গান্ধী হত্যার সঠিক বিচার হয়নি। বঙ্গবন্ধুকন্যা খুনিদের সাথে আপস করেননি। বিচার না হলে আমরা কলঙ্কিত জাতি হয়ে থাকতাম। বঙ্গবন্ধুকন্যা আমাদের সেই কলঙ্ক থেকে মুক্ত করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি হওয়ার পরও খুনি, একনায়ক জিয়াউর রহমান তাকে দেশে আসতে বারণ করেছিল। তিনি সে দিন নিজ বাড়িতে উঠতে পারেননি, আত্মীয় বাড়িতে উঠেছিলেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি সর্বহারা, আমি আপনাদের জন্য, দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করলাম।’’

শেখ হাসিনাকে এ পর্যন্ত ১৯ বার হত্যার চেষ্টা হয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তিনি মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে দেশকে ভালোবেসে, মানুষকে ভালোবেসে জাতির পিতার স্বপ্নের গণতান্ত্রিক উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য দেশে এসেছিলেন, দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।’

স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত।

আরও পড়ুন:
অক্সিজেন সিলিন্ডার উপহার দিল আ. লীগ
ঢাকা-১৪ আসন: আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে?
আ. লীগের কার্যক্রম ঘরোয়াভাবে করার নির্দেশ
পাথরঘাটায় আ. লীগের ৮ কমিটি স্থগিত
আ. লীগের উপকমিটি থেকে বাদ অ্যাটর্নি জেনারেল

শেয়ার করুন