‘খালেদাকে বিদেশ নিতে চাওয়ার উদ্দেশ্য ভিন্ন’

‘খালেদাকে বিদেশ নিতে চাওয়ার উদ্দেশ্য ভিন্ন’

‘খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেয়া নয়, বিদেশ নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে রাজনীতি এবং বিদেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানাভাবে এখন যে ষড়যন্ত্র ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড করা হয়, সেগুলোকে আরও তৎপর করা।’

আইনি কোনো সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে চাওয়ার পেছনে বিএনপির ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের ঈদ উপহার বিতরণ আয়োজনে যোগ দিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে তারা বিদেশ নিয়ে যেতে চান, এর আইনি কোনো সুযোগ নাই এবং তাদের বিদেশে নেয়ার উদ্দেশ্য ভিন্ন। খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেয়া নয়, বিদেশ নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে রাজনীতি এবং বিদেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানাভাবে এখন যে ষড়যন্ত্র ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড করা হয়, সেগুলোকে আরও তৎপর করা।

‘বেগম খালেদা জিয়ার সঠিক জন্মদিন কোনটা, সেটা জনগণ জানতে চায়’ মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমিও দেখেছি, করোনা টেস্টের রিপোর্টে বেগম খালেদা জিয়ার জন্মতারিখ ৮ মে, ১৯৪৬ সাল। এই গোমর যখন ফাঁস হয়ে গেছে, আজকে নাকি ফখরুল সাহেব সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন, নিশ্চয় বলেছেন, এটি সঠিক নয়।’

‘খালেদাকে বিদেশ নিতে চাওয়ার উদ্দেশ্য ভিন্ন’

খালেদা জিয়ার সঠিক জন্মতারিখ কোনটা জনগণ জানতে চায় মন্তব্য করে সরকারের এই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আপনাদের পাসপোর্টে একটা জন্মতারিখ, স্কুল সার্টিফিকেটে আরেকটা, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে অন্য একটা, আবার করোনা রিপোর্টে আরেকটা জন্মতারিখ। আপনাদের ঠিকটা কোনটা, সেটা জনগণ জানতে চায়।’

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই ধরনের ভাঁওতাবাজির রাজনীতি, মিথ্যার রাজনীতি, জনগণকে ধোঁকা দেয়ার রাজনীতি পরিহার করুন। টেলিভিশনে উঁকি দিয়ে দিয়ে সরকারের সমালোচনা করলেই রাজনৈতিক দল হওয়া যায় না।’

আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি এবং খালেদা জিয়াই প্রতিহিংসার রাজনীতি করে। সেজন্যই তারা ১৫ আগস্ট মিথ্যা জন্মদিন পালন করে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছিল, ১৯৯৬ সালে পাতানো নির্বাচন করে বঙ্গবন্ধুর খুনিকে বিরোধীদলীয় নেতা বানানো হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার তারা বন্ধ করেছিল।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ভুলে গিয়ে প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে প্রায় দেড় বছর ধরে কারাগারের বাইরে রেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ‘আমাদের নেত্রী প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন না, বরং আমাদের নেত্রী যে সহমর্মিতা, যে সহানুভূতি প্রদর্শন করেছেন, তা থেকে বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার অনেক কিছু শেখার আছে।’

আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি সায়ীদুর রহমানের সভাপতিত্বে এ আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এবং মৎস্যজীবী লীগের নেতারা।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত খালেদা জিয়াকে গত ২৭ এপ্রিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইতিমধ্যে করোনার নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এলেও, তার নানা শারীরিক সমস্যা রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিতে চান স্বজন ও দলীয় নেতারা।

৭৬ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত। দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে তাকে কারাগারে যেতে হয়।

২০০৮ সালের ৮ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদার। পরে উচ্চ আদালত সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। ওই বছরই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর বিএনপি নেত্রীকে দেশের বাইরে না যাওয়া ও বাড়িতে বসে চিকিৎসা নেয়ার শর্তে ছয় মাসের জন্য দণ্ড স্থগিত করিয়ে মুক্তি দেয়া হয়। এরপর দুই দফা বাড়ানো হয় দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, হাঁটুর জটিলতা ছাড়াও নানা ধরনের রোগ আছে বলে তার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে তার চোখেও অপারেশন করা হয়।

আরও পড়ুন:
খালেদার ব্যাপারে খোঁড়া যুক্তি দিচ্ছে সরকার: বিএনপি
খালেদার ‘আসল’ জন্মদিন মৃত্যুভয়ে: কাদের
‘খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার আবেদন রাজনৈতিক’
খালেদার সামনে পথ ‘আদালত বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা’
মানবতার কারণে হলেও খালেদাকে যেতে দিন: ডা. জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের বাসা ঘিরে পুলিশ

মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের বাসা ঘিরে পুলিশ

বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন খোকনের বাসায় ঢোকার চেষ্টা করছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসার আশপাশে অবস্থান নেন পুলিশ সদস্যরা। দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নবগঠিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন খোকনের বাসা ঘিরে রেখেছেন গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা।

নিউজবাংলাকে বুধবার রাত ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন খোকনের বাসার ম্যানেজার মোহাম্মদ বাশার।

তিনি বলেন, রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসার আশপাশে অবস্থান নেন পুলিশ সদস্যরা। দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন।

ওই বাসার সিসিটিভি ক্যামেরার একটি ভিডিও এসেছে নিউজবাংলার হাতে। ১৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, গোয়ান্দা সদস্যদের পাশাপাশি সেখানে অবস্থান করছেন থানা-পুলিশ সদস্যরা। আছেন সাদাপোশাকধারী কয়েকজন। তাদের মধ্যে একজন বিএনপি নেতার বাসার দরজায় কড়া নাড়ছেন।

আরও পড়ুন:
খালেদার ব্যাপারে খোঁড়া যুক্তি দিচ্ছে সরকার: বিএনপি
খালেদার ‘আসল’ জন্মদিন মৃত্যুভয়ে: কাদের
‘খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার আবেদন রাজনৈতিক’
খালেদার সামনে পথ ‘আদালত বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা’
মানবতার কারণে হলেও খালেদাকে যেতে দিন: ডা. জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

টিকা নিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করুন

টিকা নিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করুন

কাদের বলেন, ‘করোনার গণটিকাদান সফল করতে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কাজ করবে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নিজে টিকা নেবে ও অন্যদেরও টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠে থাকবে।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে দলের নেতা-কর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার সকালে এক বৈঠকের শুরুতে সভাপতির এ বার্তা নেতা-কর্মীদের কাছে পৌঁছে দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আগস্টে দলের নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে সকালে বৈঠকে বসে কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলী।

ওই সময় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরে কাদের বলেন, ‘করোনার গণটিকাদান সফল করতে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

‘১৮ বছরের বেশি বয়সীদের টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কাজ করবে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নিজে টিকা নেবে ও অন্যদেরও টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠে থাকবে।’

দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ রুখতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে জানানো হয়, ১১ আগস্ট থেকে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে। তবে কর্মস্থলে যোগ দিতে নিতে হবে টিকা।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশে গণটিকাদান শুরু হয়। টিকা সংকটের কারণে কিছুদিন টিকাদানে ধীরগতি থাকলেও গত ৩০ জুন নিবন্ধন কার্যক্রম দ্বিতীয় দফায় উন্মুক্ত করে সরকার। একই সঙ্গে টিকা নিবন্ধনের বয়সসীমা কমানো হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৭ আগস্ট সারা দেশে প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু হচ্ছে গণটিকাদান কার্যক্রম। ১৪ হাজার কেন্দ্রে টানা সাত দিনে এক কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনবে সরকার। দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে পর্যায়ক্রমে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের বলেছেন, সরকারের হাতে এখন সোয়া কোটির মতো টিকার ডোজ আছে। এর বাইরেও খুব শিগগিরই দেশে আসছে আরও এক কোটি টিকা।

বৈঠকে বঙ্গবন্ধু হত্যায় দণ্ডিত পলাতক আসামিদের বিষয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যার দণ্ডিত পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যকরের চেষ্টা অব্যহত আছে।’

আরও পড়ুন:
খালেদার ব্যাপারে খোঁড়া যুক্তি দিচ্ছে সরকার: বিএনপি
খালেদার ‘আসল’ জন্মদিন মৃত্যুভয়ে: কাদের
‘খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার আবেদন রাজনৈতিক’
খালেদার সামনে পথ ‘আদালত বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা’
মানবতার কারণে হলেও খালেদাকে যেতে দিন: ডা. জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

বিএনপির ঢাকার কমিটিতে ছোটখাটো সমস্যা থাকতে পারে: ফখরুল

বিএনপির ঢাকার কমিটিতে ছোটখাটো সমস্যা থাকতে পারে: ফখরুল

বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

‘বিএনপি একটি বিশাল রাজনৈতিক দল। যখন একটি কমিটি তৈরি করা হয়, তখন ছোটখাটো সমস্যা থাকতেই পারে। তবে এবার পরীক্ষিত নেতাদের নিয়েই কমিটি করা হয়েছে। প্রবীণ এবং নবীনের সমন্বয়ে করা হয়েছে।’

ঢাকা মহানগরে বিএনপির যে দুটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে ছোটখাটো সমস্যা থাকতে পারে বলে স্বীকার করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে যাদের নেতৃত্বে রাখা হয়েছে তারা সবাই যোগ্য বলে মনে করেন তিনি।

রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসায় মঙ্গলবার নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

এক প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি একটি বিশাল রাজনৈতিক দল। যখন একটি কমিটি তৈরি করা হয়, তখন ছোটখাটো সমস্যা থাকতেই পারে। তবে এবার পরীক্ষিত নেতাদের নিয়েই কমিটি করা হয়েছে। প্রবীণ এবং নবীনের সমন্বয়ে করা হয়েছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমানের নেতৃত্বে ঢাকা উত্তরের ৪৭ সদস্য এবং আবদুস সালামের নেতৃত্বে দক্ষিণের ৪৯ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি সোমবার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

উত্তরের সদস্যসচিব হয়েছেন আমীনুল হক এবং দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু।

নতুন কমিটি নিয়ে ফখরুল বলেন, ‘দুটি কমিটিই গঠন করা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে। এই কমিটির প্রতি সারা দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। নেতাদের সবাই পরীক্ষিত।’

দলের আন্দোলনে নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে বলে আশা করছেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কমিটির মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতির একটা গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

‘অগণতান্ত্রিক একটি সরকার আমাদের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা বিনষ্ট করে দিচ্ছে। নতুন নেতারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমিকা রাখবেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ভূমিকা রাখবেন।’

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ৫ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে কারাগারে যাওয়া বিএনপি নেত্রীর সাজা পরে বেড়ে হয় ১০ বছর। পরে আরও একটি মামলায় তার হয় সাত বছরের কারাদণ্ড।

তবে ২০২০ সালের মার্চে দণ্ড স্থগিত হওয়ার পর খালেদা জিয়া কারাগার থেকে দুই শর্তে বাসায় ফেরেন। ছয় মাসের জন্য তাকে মুক্ত করা হলেও পরে আরও দুই দফায় মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয় আরও ছয় মাস করে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আহ্বায়ক কমিটি অত্যন্ত সক্রিয় থেকে দলকে সুসংগঠিত করবে এবং একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।’

কবে নাগাদ কাউন্সিল হতে পারে, এমন প্রশ্ন তিনি বলেন, ‘আমাদের যে গঠনতন্ত্র আছে, সে অনুযায়ী কাউন্সিল হবে।’

ঢাকা মহানগর উত্তরের নতুন আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘আজকে গণতন্ত্র অনুপস্থিত, একদলীয় শাসন চলছে। নির্যাতন-নিপীড়ন ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। আমরা একযোগে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কাজ করব। যদি প্রয়োজন হয় ১৯৯০ সালের মতো গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকারকে সরানো হবে।’

মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। আমাদের উদ্দেশ্য সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা এবং আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা।’

তাবিথ আউয়াল, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, নবী উল্লাহ নবী, ইউনুস মৃধা, মোহাম্মদ মোহন, আতিকুল ইসলাম মতিন, মোশাররফ হোসেন খোকন, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, এস এম জাহাঙ্গীর, শায়রুল কবির খানও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
খালেদার ব্যাপারে খোঁড়া যুক্তি দিচ্ছে সরকার: বিএনপি
খালেদার ‘আসল’ জন্মদিন মৃত্যুভয়ে: কাদের
‘খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার আবেদন রাজনৈতিক’
খালেদার সামনে পথ ‘আদালত বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা’
মানবতার কারণে হলেও খালেদাকে যেতে দিন: ডা. জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

পাকিস্তানের আম পেলেন খালেদাও

পাকিস্তানের আম পেলেন খালেদাও

এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুধু পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আম নয়, জাপান থেকে চকলেট দেয়া হয়, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে খেজুর, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন দূতাবাস থেকে উপহার আসে। সেটা শুধু বিএনপি বা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য না; এটা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কাছেও পাঠানো হয়।’

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছেও পাকিস্তান থেকে পাঠানো হয়েছে আম।

ঢাকার পাকিস্তান দূতাবাসের পক্ষ থেকে সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসায় আমের ঝুড়ি পৌঁছে দেয়া হয়।

বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ১ হাজার কে‌জি হা‌ড়িভাঙা আম পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুধু পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আম নয়, জাপান থেকে চকলেট দেয়া হয়, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে খেজুর, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন দূতাবাস থেকে উপহার আসে।

‘সেটা শুধু বিএনপি বা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য না; এটা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কাছেও পাঠানো হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকেও ঢাকার সকল দূতাবাসে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় উপহার পাঠানো হয়। বিভিন্ন সিজনে এ সমস্ত ফলমূল পাঠানো হয়।’

আরও পড়ুন:
খালেদার ব্যাপারে খোঁড়া যুক্তি দিচ্ছে সরকার: বিএনপি
খালেদার ‘আসল’ জন্মদিন মৃত্যুভয়ে: কাদের
‘খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার আবেদন রাজনৈতিক’
খালেদার সামনে পথ ‘আদালত বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা’
মানবতার কারণে হলেও খালেদাকে যেতে দিন: ডা. জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

করোনা: বিএনপির হেল্প সেন্টারে বাধার অভিযোগ

করোনা: বিএনপির হেল্প সেন্টারে বাধার অভিযোগ

করোনার সময়ে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণে হেল্প সেন্টার চালু করেছে বিএনপি। ছবি: মেরিনা মিতু/নিউজবাংলা

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহামারিতে জনগণের মধ্যে ওষুধ, অক্সিজেন, সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি করোনা টিকা রেজিস্ট্রেশন সংশ্লিষ্ট তথ্য দিয়ে থাকে করোনা হেল্প সেন্টার।

বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির করোনাভাইরাস সংক্রান্ত হেল্প সেন্টার স্থাপনে বাধা দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে একে ‘অমানবিক অপরাধ’ আখ্যা দিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

শেরপুরে করোনার হেল্প সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মঙ্গলবার তিনি এ কথা বলেন।

‘যেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন শত শত লোক মৃত্যুবরণ করছেন, যেখানে এই মহামারিতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার কথা, সেখানে করোনার হেল্প সেন্টারে বাধা দেয়া অমানবিক অপরাধ। এটা বিস্ময়কর। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে লজ্জাবোধ করছি’, বলেন নজরুল।

ওই সময় কার হুকুমে বাধা দেয়া হয়েছে, তার খোঁজ নিতে বিভাগীয় নেতা-কর্মীদের অনুরোধ জানান তিনি।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহামারিতে জনগণের মধ্যে ওষুধ, অক্সিজেন, সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি করোনা টিকা রেজিস্ট্রেশন সংশ্লিষ্ট তথ্য দিয়ে থাকে করোনা হেল্প সেন্টার।

শেরপুর জেলা বিএনপি জানায়, হেল্প সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠান চলাকালে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, ডিবির দফায় দফায় বাধার মুখে পড়ে তারা। এ কারণে অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হয় জেলা বিএনপি।0

ওই অনুষ্ঠানে নজরুল বলেন, ‘টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে আফ্রিকার দরিদ্রতম দেশগুলো থেকেও পিছিয়ে বাংলাদেশ। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক, আফগানিস্তান থেকেও পিছিয়ে বাংলাদেশ। এই অবস্থায় সরকারের উচিত সবাইকে টিকাদানে উৎসাহিত করা।’

চলমান শাটডাউনের মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প ও কলকারখানা খুলে দেয়ার বিষয়ে বিএনপির বর্ষীয়ান এ রাজনীতিক বলেন, ‘করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরামর্শক কমিটি যে পরামর্শ দিচ্ছে সরকার তার উল্টোটা করছে। শ্রম মন্ত্রণালয় বলছে মালিকরা তাদের কথা শুনছে না।

‘জনগণের কল্যাণকর এবং যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত না নিলে কেউ মানবে না—এটাই স্বাভাবিক। এই অবস্থায় সরকার আছে বলে মনে হয় না।’

বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা এবং তারেক রহমানের নামে থাকা মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানান নজরুল।

শেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেলের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভায় অন্যদের উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম, ওয়ারেস আলী মামুন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলীসহ অনেকেই।

আরও পড়ুন:
খালেদার ব্যাপারে খোঁড়া যুক্তি দিচ্ছে সরকার: বিএনপি
খালেদার ‘আসল’ জন্মদিন মৃত্যুভয়ে: কাদের
‘খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার আবেদন রাজনৈতিক’
খালেদার সামনে পথ ‘আদালত বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা’
মানবতার কারণে হলেও খালেদাকে যেতে দিন: ডা. জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

বিএনপিতে করোনার থাবা

বিএনপিতে করোনার থাবা

করোনায় মারা যাওয়া বিএনপির কয়েকজন নেতা। ফাইল ছবি

দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দুজন ভাইস চেয়ারম্যান, দলীয় চেয়ারপারসনের তিনজন উপদেষ্টা, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন সম্পাদক ছাড়া আছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্য। ভাইস চেয়ারম্যান দুজন হলেন চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী। প্রাণ হারানো বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টারা হলেন জিয়াউর রহমান খান, এম এ হক ও এ কে এম মোশাররফ হোসেন।

করোনাভাইরাসে রীতিমতো কাঁপছে বিএনপি। দলের কেন্দ্রীয় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী আক্রান্ত। মৃত্যুর সংখ্যাও ব্যাপক।

দলের হিসাব বলছে, কেন্দ্রীয় ১৯ জন নেতা প্রাণ হারিয়েছেন সারা বিশ্ব তোলপাড় করা ভাইরাসটিতে। আর সারা দেশে নেতা-কর্মীর এই সংখ্যা ৭০৯ বলে দাবি করছেন নেতারা।

দলটির করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকা সবশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে ১৫ জুন। এর মধ্যে পরে আরও কয়েকজন নেতা-কর্মীর মৃত্যুর খবর এসেছে। তবে তালিকা হালনাগাদ করা হয়নি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স নিউজবাংলাকে জানান, গত দুই মাসেই মারা গেছেন ২৮৩ জন।

বিএনপির করোনা পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত দুই মাসে মৃত্যুর সংখ্যা এমনিতেই বেশি। সরকারের ব্যর্থতাই এর প্রধান কারণ। লকডাউনের তামাশা শেষ করে এখন শাটডাউনের তামাশা শুরু করছে তারা।’

বিএনপিতে করোনার থাবা
করোনায় মৃত্যু হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনের।

অসচ্ছল নেতা-কর্মীদের পরিবারের পাশে বিএনপি থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল তাদের পরিবারকে দুই ঈদের উপহার পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এদের বাইরে কেউ সহযোগিতার আবেদন করলে তাদেরও দেয়া হবে। এমনিতেও দলীয় তহবিল থেকে যতটুকু সম্ভব আর্থিক অনুদান দেয়া হচ্ছে।’

কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যারা মারা গেলেন

দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দুজন ভাইস চেয়ারম্যান, দলীয় চেয়ারপারসনের তিনজন উপদেষ্টা, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন সম্পাদক ছাড়া আছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্য।

ভাইস চেয়ারম্যান দুজন হলেন চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী।

বিএনপিতে করোনার থাবা
রাজশাহী-৪ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবু হেনা মারা গেছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে। ফাইল ছবি

প্রাণ হারানো বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টারা হলেন জিয়াউর রহমান খান, এম এ হক ও এ কে এম মোশাররফ হোসেন।

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, সহ-গ্রামসরকার বিষয়ক সম্পাদক আমজাদ হোসেনও প্রাণ হারিয়েছেন করোনায়।

অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা হলেন নির্বাহী কমিটির সদস্য শফিউল বারী বাবু, খুররম খান চৌধুরী, আহসান উল্লাহ হাসান, পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্য খন্দকার আহাদ আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী টি এম গিয়াস উদ্দিন, এ টি এম আলমগীর, সাবেক সংসদ সদস্য আবু হেনা, আমেরিকার বোস্টনে বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক মিতোষ বড়ুয়া, জাতীয় ট্যাক্স-বারের সাবেক সভাপতি গফুর মজুমদার, ওলামা দলের প্রচার সম্পাদক দ্বীন মোহাম্মদ কাশেমী, দিনাজপুর বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান মিন্টু, রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক।

বিএনপিতে করোনার থাবা
মানিকগঞ্জের বিএনপি নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যানেরও মৃত্যু হয় করোনায়। ফাইল ছবি

তৃণমূলে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু চট্টগ্রাম বিভাগে

হালনাগাদের তথ্য অনুযায়ী দলটির সবচেয়ে বেশি নেতা-কর্মী মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। আর সবচেয়ে কম নেতা-কর্মী মারা গেছেন ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগে (সাংগঠনিক বিভাগ)।

বিএনপিতে করোনার থাবা
করোনায় মারা যাওয়া বিএনপি নেতা-কর্মীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয় দলটি। ফাইল ছবি

তালিকা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগে ২০১ জন, ঢাকা বিভাগে ১৮৬, খুলনা বিভাগে ১৫৪, রংপুর বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ৩৪, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১, ফরিদপুর বিভাগে ১১, বরিশাল বিভাগে ১৯, কুমিল্লা বিভাগে ৩৫ এবং সিলেট বিভাগে ১৫ জন মারা গেছেন।

আরও পড়ুন:
খালেদার ব্যাপারে খোঁড়া যুক্তি দিচ্ছে সরকার: বিএনপি
খালেদার ‘আসল’ জন্মদিন মৃত্যুভয়ে: কাদের
‘খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার আবেদন রাজনৈতিক’
খালেদার সামনে পথ ‘আদালত বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা’
মানবতার কারণে হলেও খালেদাকে যেতে দিন: ডা. জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

সরকার শ্রমিকদের মানুষই ভাবে না: জি এম কাদের

সরকার শ্রমিকদের মানুষই ভাবে না: জি এম কাদের

গার্মেন্টস খোলার খবরে রাজধানীমুখী শ শ শ্রমিক বরিশাল বাস টার্মিনাল এলাকায় শনিবার সকাল থেকে জড়ো হয়েছেন। ছবি: তন্ময় তপু/নিউজবাংলা

‘গেল বছরের লকডাউন থেকে শিক্ষা নেয়নি সংশ্লিষ্টরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের শ্রমিকশ্রেণির মানুষ। মনে হচ্ছে সরকার শ্রমিকদের মানুষই ভাবে না।’

শ্রমিকদের সরকার তাদের মানুষ ভাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

শাটডাউনের মধ্যে শনিবার শ্রমিকরা বাস-লঞ্চ না পেয়ে ট্রাকে চেপে, পায়ে হেঁটে বা ছোট ছোট বাহনে করে ঢাকায় এসেছে রোববার থেকে কাজে যোগ দিতে। এই বিষয়টি তুলে ধরে জাপা নেতা বলেন, ‘অপরিকল্পিত লকডাউনের নামে শ্রমিকদের প্রতি যে উদাসীনতা দেখানো হয়েছে, তা সভ্য সমাজে মেনে নেয়া যায় না।’

সোমবার এক বিবৃতিতে সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে এক বছরের মাথায় আবারও শ্রমিকদের হেঁটে, কয়েক গুণ বেশি খরচ করে রাজধানীতে ফিরতে হয়েছে। যেসব শ্রমিক দেশের সমৃদ্ধির জন্য অর্থনীতির চাকা সচল রাখে, তাদের সঙ্গে অশোভন ও নির্মম আচরণ করা হয়েছে।’

সরকার শ্রমিকদের মানুষই ভাবে না: জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ফাইল ছবি

জি এম কাদের বলেন, ‘গেল ২১ জুলাই কোরবানির ঈদের আগে ঈদের যাত্রী পরিবহনে গণপরিবহন চলেছে মাত্র দুই দিন। আবার ঈদের এক দিন পরেই কঠোর বিধিনিষেধের কারণে বন্ধ হয়ে যায় গণপরিবহন। স্বল্প সময়ে গণপরিবহনে গাদাগাদি করে ঈদযাত্রায় চলাচল করেছে লাখো মানুষ।

‘আবার কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে গেল ৩০ জুলাই হঠাৎ ঘোষণা ১ অক্টোবর থেকে তৈরি পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। এমন ঘোষণায় স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

‘প্রতিটি ফেরিতে কয়েক হাজার মানুষ গাদাগাদি করে নদী পার হয়েছেন। এসব কারণে মারাত্মকভাবে উপেক্ষিত হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি।’

২০২০ সালে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর সাধারণ ছুটিতে যখন পোশাক কারখানা খুলে দেয়া হয়, তখনও একইভাবে শ্রমিকরা ঢাকায় ফিরেছেন। সেই বিষয়টি উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, ‘গেল বছরের লকডাউন থেকে শিক্ষা নেয়নি সংশ্লিষ্টরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের শ্রমিকশ্রেণির মানুষ। মনে হচ্ছে সরকার শ্রমিকদের মানুষই ভাবে না।’

মহামারি নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পিত লকডাউন, ব্যাপক হারে গণটিকা কর্মসূচি জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেখানে দেখা যাচ্ছে সকল ক্ষেত্রে চরম সমন্বয়হীনতা। সে কারণে কমছে না করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা।’

আরও পড়ুন:
খালেদার ব্যাপারে খোঁড়া যুক্তি দিচ্ছে সরকার: বিএনপি
খালেদার ‘আসল’ জন্মদিন মৃত্যুভয়ে: কাদের
‘খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার আবেদন রাজনৈতিক’
খালেদার সামনে পথ ‘আদালত বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা’
মানবতার কারণে হলেও খালেদাকে যেতে দিন: ডা. জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন