টঙ্গীতে শ্রমিকের ওপর গুলি: বিচার চায় ৮ সংগঠন

টঙ্গীতে শ্রমিকের ওপর গুলি: বিচার চায় ৮ সংগঠন

টঙ্গীতে শ্রমিক বিক্ষোভে গুলির প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মঙ্গলবার দুপুরে সমাবেশ করে প্রগতিশীল ৮ সংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

সমাবেশে ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন বলেন, টঙ্গীতে শ্রমিকের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনা সরকারের ফ্যাসিবাদী নিপীড়নের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। শ্রমিকের অধিকার রক্ষা না করে সরকার পুলিশকে পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে শ্রমিকের জীবন কেড়ে নেয়ার বর্বরতায় লিপ্ত হয়েছে। 

গাজীপুরের টঙ্গীতে হা-মীম গ্রুপের পোশাক কারখানার সামনে বিক্ষোভে শ্রমিকদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার বিচার চেয়েছে প্রগতিশীল আট ছাত্র সংগঠন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মঙ্গলবার দুপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানায় সংগঠনগুলোর নেতারা।

টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে সোমবার দুপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভে গুলি চালায় পুলিশ। এতে অন্তত ১৫ শ্রমিক আহত হন।

শ্রমিকদের ছোড়া ইট-পাটকেলে আহত হন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের এএসপিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেয় বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ আট সংগঠন।

সমাবেশে ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন বলেন, টঙ্গীতে শ্রমিকের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনা সরকারের ফ্যাসিবাদী নিপীড়নের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। শ্রমিকের অধিকার রক্ষা না করে সরকার পুলিশকে পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে শ্রমিকের জীবন কেড়ে নেয়ার বর্বরতায় লিপ্ত হয়েছে।

সর্বত্র রাজনৈতিক সংগ্রাম জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে সুজন বলেন, শ্রমিক, কৃষক ও ছাত্রদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুলি, হামলা-মামলার মধ্য দিয়ে কোনোকালেই কোনো ফ্যাসিবাদী সরকার টিকেনি। গুন্ডাতন্ত্রনির্ভর এই স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে সর্বত্র রাজনৈতিক সংগ্রাম জোরদার করতে হবে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, যাদের শ্রমের ওপর নির্ভর করে দেশের অর্থনীতির গতি সঞ্চারিত হচ্ছে, তাদের বুকে গুলি চালানো হচ্ছে। সেই শ্রমিকদের মজুরি দেয়া হচ্ছে না। অথচ কারখানার মালিকদের একের পর এক ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে।

হামলার বিচার ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দাবি করে রাশেদ বলেন, টঙ্গীতে হা-মীম গ্রুপের শ্রমিকের ওপর গুলিবর্ষণ, বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যাসহ সারা দেশে সংঘটিত সব হত্যা, হামলা, নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিচার করতে হবে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসার ব্যয়ভার কারখানা কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে। আহতদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবীর, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সহসভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাখাওয়াত ফাহাদ, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের নেতা রেদওয়ানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ঈদে দূরপাল্লার বাস চালুর দাবি পোশাকশ্রমিকদের
গণপরিবহন চালুর দাবিতে বিক্ষোভ জেলায় জেলায়
খাদ্য সহায়তা বয়কট, পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ
বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
দাড়ি থাকায় আড়ংয়ে চাকরি না হওয়ার অভিযোগ, বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, ‘আজও স্বাধীনতাবিরোধী হায়নারা আঘাত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দল ও দেশের জন্যই আমরা কাজ করি। দেশের স্বার্থে সব ভুলে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

দেশের স্বার্থে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে রংপুরের নব্দীগঞ্জ অপু মুনশি হিমাগার ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজও স্বাধীনতাবিরোধী হায়নারা আঘাত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দল ও দেশের জন্যই আমরা কাজ করি। দেশের স্বার্থে সব ভুলে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই সোনার বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে।’

পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তছলিম উদ্দিন বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাজেদ আলী বাবুল, দপ্তর সম্পাদক আমিন আনছারী, পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মিলন।

বানিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বুধবার থেকে তার নির্বাচনী এলাকা পীরগাছা ও কাউনিয়ায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
ঈদে দূরপাল্লার বাস চালুর দাবি পোশাকশ্রমিকদের
গণপরিবহন চালুর দাবিতে বিক্ষোভ জেলায় জেলায়
খাদ্য সহায়তা বয়কট, পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ
বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
দাড়ি থাকায় আড়ংয়ে চাকরি না হওয়ার অভিযোগ, বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

সেই শাহজাহানের মনোনয়ন বাতিল করল আ.লীগ

সেই শাহজাহানের মনোনয়ন বাতিল করল আ.লীগ

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১১ মামলার আসামি শাহজাহানকে সরিয়ে রোকসানা আক্তার শিখাকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাতিলের পর শাহজাহান মিয়া দাবি করেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ৫-৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই রাজনৈতিক। আর অস্ত্র মামলাটি ছিল সাজানো। আমাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছিল।’

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তন করেছে আওয়ামী লীগ। বিতর্কিত ১১ মামলার আসামি শাহজাহানকে পরিবর্তন করে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে রোকসানা আক্তার শিখাকে।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার আলী শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আগামী ১১ নভেম্বর আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের ভোট হবে। গত ১০ অক্টোবর চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়।

এর মধ্যে জলসুখা ইউনিয়নে মনোনয়ন দেয়া হয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহজাহান মিয়াকে। তবে তার বিরুদ্ধে রয়েছে অস্ত্র, নৌ-ডাকাতি, হত্যাসহ ১১টি মামলা। ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারও হন তিনি।

১১ মামলার আসামিকে মনোনয়ন দেয়া পর শুরু হয় সমালোচনা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও ভোটাররাও জানান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া।

তবে শাহজাহান মিয়া দাবি করেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ৫-৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই রাজনৈতিক। আর অস্ত্র মামলাটি ছিল সাজানো। আমাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছিল।’

এ ছাড়া নতুন মনোনয়ন পাওয়া রোকসানাকে নিয়েও আছে বিতর্ক। এলাকায় তিনি আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রোকসানা ২০১৪ সালে বিএনপি-সমর্থিত ১৯-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন।

আজমিরীগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় রোকসানার বাবা শান্তিবাহিনীর সদস্য ছিলেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে রোকসানা আক্তার বলেন, ‘আমার বাবা কখনও শান্তিবাহিনীর সদস্য ছিলেন না। একটি চক্র মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ছাড়া আমি সব সময়ই আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলাম।’

আরও পড়ুন:
ঈদে দূরপাল্লার বাস চালুর দাবি পোশাকশ্রমিকদের
গণপরিবহন চালুর দাবিতে বিক্ষোভ জেলায় জেলায়
খাদ্য সহায়তা বয়কট, পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ
বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
দাড়ি থাকায় আড়ংয়ে চাকরি না হওয়ার অভিযোগ, বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

পাকুন্দিয়া আ. লীগের নতুন কমিটির সভা ঠেকাতে বিক্ষোভ

পাকুন্দিয়া আ. লীগের নতুন কমিটির সভা ঠেকাতে বিক্ষোভ

পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির প্রথম সভা প্রতিহত করতে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন আহ্বায়কের প্রতিপক্ষ। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়রা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকাল থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির আহ্বায়ক সোহরাব উদ্দিনের বাড়ি ঘিরে অবস্থান নেয় পুলিশ। দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় বের হলেও পুলিশি বাধার মুখে পিছু হটেন। কোনো পক্ষের লোককে দরগা বাজারে যেতে দেয়া হয়নি।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির প্রথম সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সভা প্রতিহত করতে মাঠে নেমেছে নতুন কমিটির আহ্বায়কের প্রতিপক্ষ।

এ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের কর্মীসমর্থক এবং নতুন কমিটির আহ্বায়ক সোহরাব উদ্দিনের অনুসারীরা।

শনিবার সকাল ১০টায় পাকুন্দিয়ার দরগাবাজার এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির প্রথম সভা আহ্বান করেন সোহরাব উদ্দিন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নূর মোহাম্মদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা সভা প্রতিহত করতে একই এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেন।

স্থানীয়রা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকাল থেকে সোহরাব উদ্দিনের বাড়ি ঘিরে অবস্থান নেয় পুলিশ। দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় বের হলেও পুলিশি বাধার মুখে পিছু হটে। কোনো পক্ষের লোককে দরগা বাজারে যেতে দেয়া হয়নি।

পরে বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল জড়ো হতে থাকে উপজেলায় পুলেরঘাট বাজারে। নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে সেখানে বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন নূর মোহাম্মদের সমর্থকরা। এক পর্যায়ে তারা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে সোহরাব উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, ‘বৈধ কমিটি নিয়ে আমার বাড়ির সামনে সভা করব, তারা এতে বাধা দেয়। বিভিন্নভাবে এলাকার শান্ত পরিবেশ নষ্ট করছে তারা। গতকালও (শুক্রবার) পুলিশের সহযোগিতায় তারা আমার বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়েছিল। তারা বাড়ির সামনে এসে ইট পাটকেল ছুড়েছে। পুলিশ তাদেরকে বাধা না দিয়ে তামাশা দেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ (শনিবার) সকালে নিজ বাড়িতে সভা করছি, এ নিয়েও তাদের মাথা ব্যথা। মূল কথা হলো, সংসদ সদস্যের পছন্দের লোকের কমিটি না পাওয়ার পর থেকে তিনি বিভিন্নভাবে আমাকে কোণঠাসা করতে স্থানীয় কিছু লোক মাঠে নামিয়েছেন।’

বিক্ষোভ কর্মসূচি ও সড়ক অবরোধের নেতৃত্ব দেয়া জেলা শ্রমিক লীগের উপদেষ্টা আতাউল্লাহ সিদ্দিক মাসুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা রয়েছে তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে মেনে নিতে পারিনা, মেনে নেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবৈধ কমিটিকে প্রতিহত করতে নেতাকর্মীরা গতকালও (শুক্রবার) অবস্থান নিয়েছিল, আজও অবস্থান নিয়েছে। এই কমিটি যতদিন বাতিল না হবে, আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার জাহানের সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া গেছে। ডিডটি অফিসারের নম্বরে ফোন করা হলে তাও বন্ধ পাওয়া যায়।

চলতি বছরের ২২ জুলাই সোহরাব উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করে জেলা আওয়ামী লীগ।

কমিটি ঘোষণার পর থেকে কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ এবং সাবেক সাংসদ ও পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সোহরাব উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।

কমিটি বাতিল দাবিতে বিক্ষোভ করছে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা।

৯ সেপ্টেম্বর সোহরাব উদ্দিনকে আহ্বায়ক রেখে ৬৭ সদস্যের কমিটির অনুমোদন দেয় কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ।

আরও পড়ুন:
ঈদে দূরপাল্লার বাস চালুর দাবি পোশাকশ্রমিকদের
গণপরিবহন চালুর দাবিতে বিক্ষোভ জেলায় জেলায়
খাদ্য সহায়তা বয়কট, পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ
বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
দাড়ি থাকায় আড়ংয়ে চাকরি না হওয়ার অভিযোগ, বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় ইসলামী আন্দোলন

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় ইসলামী আন্দোলন

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের পদত্যাগ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে বায়তুল মোকাররমে সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বক্তব্যে বলেন, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে, এটা মিমাংসিত বিষয়। এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না।’

ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম নয় এবং অচিরেই সংসদে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার বিল উত্থাপন করা হবে বলে বক্তব্য দেয়ায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের পদত্যাগ ও শাস্তি দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

কুমিল্লায় কুরআন অবমাননাকারীদের বিচার এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান দলটির নেতারা।

পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও পদত্যাগ দাবি করা হয় সমাবেশ থেকে।

ঢাকা মহানগর ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত সমাবেশে কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি এবং দেশের অন্য জায়গায় সহিংসতার জন্য সরকারের বিভিন্ন মহলকে দায়ী করেন নেতারা।

ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বক্তব্যে বলেন, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে, এটা মিমাংসিত বিষয়। এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না।’

সম্প্রতি দেয়া তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও তার পদত্যাগ দাবি করেন দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি মাওলানা আরিফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি আরও কতটা ভয়াবহ হবে তা সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। সরকার যেভাবে বক্তব্য দিচ্ছে, তাতে সরকার আরেকটা দাঙ্গা করতে চায়। আমরা মনে করছি, সরকারের বিভিন্ন মহলের উসকানিতে কুমিল্লায় এ ঘটনা ঘটেছে।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে দপ্তর সম্পাদক লোকমান বলেন, ‘আপনি সংবিধান মানেন না, আপনাকে মন্ত্রী হিসেবে মানি না। উনার বিচার করতে হবে।’

সংগঠনের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা নেছার উদ্দিন বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে না পারলে পদত্যাগ করুন। এই সরকারকে পুতুল সরকার মনে করি।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ।

তিনি বলেন, ‘বাজার করে খাওয়ার সক্ষমতা হারাচ্ছে মানুষ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বাজারে গিয়ে খোঁজ নেন।’

কুমিল্লার ঘটনা ও পরের পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায়ি করেন ফজলে বারী মাসউদ। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনা ও পরের ঘটনার জন্য সরকার দায়ী।’

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী।

তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্র করবে। ইসলামের শত্রুরা এটা করেছে। সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকার না করে তদন্ত করে বের করেন এই ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে।

‘ইসলামের অবমাননা করলে প্রতিবাদ করা ঈমানি দায়িত্ব। একটা মহল আমাদের দেশে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বাধায়া দিতে এটা করেছে। হিন্দুরাও এটা করতে পারে না। হাজীগঞ্জে ৫-৬ জন মারা গেছেন। কেন গুলি করলেন।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে বয়কট করার আহ্বান জানান আল-মাদানী। তিনি বলেন, ‘মুরাদকে বয়কট করেন। ওর জানাজা হবে না, পানিতে ভাসায়া দাও। ওরা কাফেরদের থেকেও ভয়ঙ্কর।’

তিনি বলেন, ‘সব জিনিস ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। না কমাতে পারলে গদি থেকে নেমে যান।’

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি পল্টন মোড় হয়ে নাইটেঙ্গেল মোড়ে গিয়ে মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।

আরও পড়ুন:
ঈদে দূরপাল্লার বাস চালুর দাবি পোশাকশ্রমিকদের
গণপরিবহন চালুর দাবিতে বিক্ষোভ জেলায় জেলায়
খাদ্য সহায়তা বয়কট, পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ
বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
দাড়ি থাকায় আড়ংয়ে চাকরি না হওয়ার অভিযোগ, বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের অসাম্প্রদায়িক দল : মির্জা আব্বাস

বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের অসাম্প্রদায়িক দল : মির্জা আব্বাস

রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সরকারকে পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, এই সমস্ত নোংরামি ছাড়েন। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বহু পন্থা অবলম্বন করেছেন। খুন করেছেন, গুম করেছেন। আমাদের যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের দিয়ে জেলখানা ভরে ফেলেছেন। কোর্টে গেলে আমাদের লোক ছাড়া কাউকে দেখা যায় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে কোনো বিচার ব্যবস্থা নাই। আছে শুধু পুলিশ, আছে শুধু কোর্ট। আর এগুলো দিয়েই সরকার টিকে আছে।’

বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের একটি অসাম্প্রদায়িক দল ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত উচ্চ মানসিকতার একজন নেত্রী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

শনিবার রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একদিন রাতে হঠাৎ আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। জানতে চাইলেন আব্বাস কি করছেন? আমি বললাম ম্যাডাম ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি আমাকে বললেন ঘুমালে তো চলবে না। আপনি কিছু শোনেননি? আমি বললাম না ম্যাডাম। তিনি বললেন ভারতে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গা হচ্ছে। আপনি যান আপনার এলাকার মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। তিনি তখন খুব সুন্দরভাবে আমাদের দেশের মুসলমানদের ধৈর্য ধারণ করতে বলেছেন।

‘তাই এটা প্রমাণিত বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের একটি অসাম্প্রদায়িক দল ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত উচ্চ মানসিকতার একজন নেত্রী।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সরকারকে পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই এই সমস্ত নোংরামি ছাড়েন। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বহু পন্থা অবলম্বন করেছেন। খুন করেছেন, গুম করেছেন। আমাদের যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের দিয়ে জেলখানা ভরে ফেলেছেন। কোর্টে গেলে আমাদের লোক ছাড়া কাউকে দেখা যায় না।’

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘দেশে কোনো বিচার ব্যবস্থা নাই। আছে শুধু পুলিশ, আছে শুধু কোর্ট। আর এগুলো দিয়েই সরকার টিকে আছে।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘আজকে যারা লম্বা লম্বা কথা বলেন তাদেরকে চিনতে গেলে সার্চলাইট দিয়ে খুঁজতে হয় এরা কারা। তাদের নাম কি? বাপের পরিচয় কি? সাহস থাকলে আসেন আমাদের সঙ্গে একটু হাঁটুন। আমরা আপনাদের পাহাড়া দিব। সেই সাহস আপনাদের হবে না। আপনারা শুধু কাচের ঘরে বন্দি হয়ে লম্বা লম্বা কথা বলবেন আর বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার করবেন।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমাদের সময় বাংলাদেশে ৫০ হাজার পুলিশ ছিল। এখন বাংলাদেশে ৫ লাখ পুলিশ। এই যে বিশাল পুলিশবাহিনী কাকে পেটানোর জন্য? যদি ডাকাত ধরা না যায়, ব্যাংক লুটেরাদের ধরা না যায়, যদি চোর ধরা না যায়, যদি খুনি ধরা না যায়, যদি পূজামণ্ডপ ভাঙার লোক ধরা না যায় তাহলে এ পুলিশের কাজ কি? বিএনপিকে ঠেকানো? এটা বোধহয় বেশিদিন আর চলবেনা। কারণ সমস্ত কিছুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ কিন্তু একটা আছে। নিজ থেকেই আপনা-আপনি প্রতিরোধ ব্যবস্থা হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমি এখানে গাড়ি থেকে নামার সময় দেখলাম অনেক পুলিশ। আরে ভাই কেন? এটা কি জঙ্গি অফিস? এটাতো বিএনপি কার্যালয়। স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত একটি দোয়া মাহফিল হবে। এখানেও আপনারা আমাদেরকে বসতে দিবেন না।’

ঢাকার সাবেক এই মেয়র বলেন, ‘এটা ঠিক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত মানের চিকিৎসা দরকার। কিন্তু এই সরকার সেটা তো দিবে না। তিলে তিলে তাকে মেরে ফেলা সরকারের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই মাত্র ২ লাখ টাকার একটি মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দেশবাসী জানে ট্রাস্টের টাকা ট্রাস্টেই আছে। সেই দুই কোটি টাকা ব্যাংকে এখন ৮ কোটি টাকা হয়ে গেছে। সেই টাকার তিনি নিজেও খাননি ও বিদেশেও পাচার করেননি।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকে আপনাদের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ধরা পড়ছে। আপনার এক মন্ত্রী বলছেন চার হাজার কোটি টাকা নাকি কোনো বিষয় না। আর সে জায়গায় মাত্র ২ কোটি টাকার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেল খাটবেন এটা কোনো কথা হতে পারে না। আসল কথা হলো উনাকে আটকে রাখা, উনাকে তিলে তিলে হত্যা করা। এটাই হচ্ছে এই সরকারের পরিকল্পনা।’

মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবেক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারন সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী।

আরও পড়ুন:
ঈদে দূরপাল্লার বাস চালুর দাবি পোশাকশ্রমিকদের
গণপরিবহন চালুর দাবিতে বিক্ষোভ জেলায় জেলায়
খাদ্য সহায়তা বয়কট, পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ
বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
দাড়ি থাকায় আড়ংয়ে চাকরি না হওয়ার অভিযোগ, বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশে উত্তেজনা: রিজভী

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশে উত্তেজনা: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। ফাইল ছবি

রিজভী বলেন, ‘তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছেন বিশ্ব বেহায়া এরশাদ। এরশাদ কার লোক? বিশ্ব বেহায়া এরশাদ তো শেখ হাসিনার সার্টিফায়েড বন্ধু। সরকারের অপকর্ম ঢাকার জন্য আগে বেফাঁস কথাবার্তার প্রতিযোগিতা ছিল ওবায়দুল কাদের এবং হাসান মাহমুদের মধ্যে।’

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বক্তব্যের কারণে দেশে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, ‘তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছেন বিশ্ব বেহায়া এরশাদ। এরশাদ কার লোক? বিশ্ব বেহায়া এরশাদ তো শেখ হাসিনার সার্টিফায়েড বন্ধু। সরকারের অপকর্ম ঢাকার জন্য আগে বেফাঁস কথাবার্তার প্রতিযোগিতা ছিল ওবায়দুল কাদের এবং হাসান মাহমুদের মধ্যে। তাদেরকে এখন টপকাতে চান এই অবৈধ তথ্য প্রতিমন্ত্রী।’

শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘এরপরে ঘটনা ঘটলো কুমিল্লায়। সারা দেশে টেনশন, উত্তেজনা, রক্তপাত। পুলিশ গুলি চালাচ্ছে। মানুষের প্রাণ ঝরছে। গতকাল চৌমুহনীতে উত্তেজনা বিরাজ করেছে। আজ ১৪৪ জারি করেছে। কেন এই পরিস্থিতি? ওই যে মুরাদ যে বক্তব্য রেখেছে তারপরেই এই ঘটনা।’

তিনি বলেন, ‘এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সকল অপকর্ম, জনবিরোধী কর্ম, রক্তপাত গুম-খুন আড়াল করার জন্য এবং দ্রব্যমূল্য যে বাড়তি সেগুলো আড়াল করার জন্য সরকারের এজেন্সির যে নীল নকশা, সেই নীল নকশারই একটা অংশ কুমিল্লার ঘটনা।’

রিজভী বলেন, ‘এদেশের কোনো মুসলমান বা হিন্দু এই ঘটনা ঘটাবে না, এটা আমাদের বিশ্বাস। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনের দেশ বাংলাদেশ। সেখানে আপনার আমলেই রামু, উখিয়া, টাঙ্গাইল, পাবনায় হিন্দুদের ওপর আক্রমণ হয়েছে এবং তাদের সম্পত্তি লুট হয়েছে।’

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবকদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েলসহ অনেকের বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
ঈদে দূরপাল্লার বাস চালুর দাবি পোশাকশ্রমিকদের
গণপরিবহন চালুর দাবিতে বিক্ষোভ জেলায় জেলায়
খাদ্য সহায়তা বয়কট, পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ
বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
দাড়ি থাকায় আড়ংয়ে চাকরি না হওয়ার অভিযোগ, বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বিএনপির হাত আছে: ওবায়দুল কাদের

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বিএনপির হাত আছে: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না, কোনো হিন্দু ভাই আমাদের প্রাণের গ্রন্থ কোরআন শরিফ অবমাননা করতে পারে। বিএনপি চোখে রঙিন চশমা পরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

কুমিল্লার পূজামণ্ডপের ঘটনায় বিএনপির হাত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না, কোনো হিন্দু ভাই আমাদের প্রাণের গ্রন্থ কোরআন শরিফ অবমাননা করতে পারে। বিএনপি চোখে রঙিন চশমা পরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

শনিবার সকাল ১১টায় রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীত নষ্ট করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে কেউ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে দাঙ্গা লাগিয়ে পার পাবে না। সবাইকে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার করা হবে।’

কাদের বলেন, ‘আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জেলা থেকে কেউ এ রকম কোনো প্রার্থীর নাম পাঠাবেন না, যাকে মনোনয়ন দিলে সেটা সাধারণ জনগণ ও দলের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। নিজেদের পাল্লা ভারী করার জন্য কেউ এ রকম অযোগ্য প্রার্থীর নাম সুপারিশ করবেন না।’

কাদের বলেন, ‘রাজবাড়ী থেকে অনেকেই দলীয় পদপ্রত্যাশী রয়েছেন। আমি মনে করি, সবাই যোগ্য এবং সবাই দলকে সুসংগঠিত করার কাজ করছেন। দলে অনেকেরই অবদান রয়েছেন। তবে আমাদের একজনকেই সভাপতি এবং একজনকেই সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আশা করব যে-ই পদে আসুক আপনারা সবাই মিলে রাজবাড়ী আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবেন।’

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সানজিদা খানম, আনোয়ার হোসেন, শাহাবুদ্দীন ফরাজী, সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম ও ইকবাল হোসেন অপু, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সালমা চৌধুরী রুমাসহ অনেকে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য জিল্লুল হাকিম এবং সম্মেলন সঞ্চালনা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জেলার পাঁচ উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা সকালেই সম্মেলন স্থান শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানে আসতে থাকেন। সকালে জেলা শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন কিছু সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে চার কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন।

সম্মেলনকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আরও পড়ুন:
ঈদে দূরপাল্লার বাস চালুর দাবি পোশাকশ্রমিকদের
গণপরিবহন চালুর দাবিতে বিক্ষোভ জেলায় জেলায়
খাদ্য সহায়তা বয়কট, পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ
বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
দাড়ি থাকায় আড়ংয়ে চাকরি না হওয়ার অভিযোগ, বিক্ষোভ

শেয়ার করুন