ওয়াজের নামে মিথ্যাচারে জামায়াত-হেফাজত: ইসলামী ঐক্যজোট

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মিছবাহুর রহমান চৌধুরী। ছবি: সাইফুল ইসলাম

ওয়াজের নামে মিথ্যাচারে জামায়াত-হেফাজত: ইসলামী ঐক্যজোট

‘কোরআন হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে পবিত্র জিহাদের কথা বলে যুবসমাজকে উগ্রতার দিকে ধাবিত করছে। ভাইয়ে ভাইয়ে ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করছে। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছে। স্বাধীনতা কিংবা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কটূক্তি করছে।’

জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতের ইসলামপন্থি আলেমরা ওয়াজ ও তাফসির মাহফিলের নামে মিথ্যাচার করছেন বলে অভিযোগ করেছে মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বধীন ইসলামী ঐক্যজোট।

হেফাজতের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান সমর্থন করে তিনি বলেন, ‘তাণ্ডব থেকে মহাতাণ্ডবের দিকে যাওয়ার আগেই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। বিলম্ব হলেও সরকারের বোধোদয় হয়েছে।’

সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাণ্ডব সৃষ্টিকারীদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে সমর্থন আছে জানিয়ে মিছবাহুর বলেন, ‘তবে সতর্ক থাকতে হবে, কোনো অবস্থায় যেন কোনো নির্দোষ ব্যক্তি গ্রেপ্তার কিংবা হয়রানির শিকার না হন।’

হেফাজতের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের ‘কুচক্রী’ উল্লেখ করে ইসলামী ঐক্যজোট নেতা বলেন, ‘তারা সরকার পতনের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছিল। তবে মহান আল্লাহর দয়ায় সরকারের সঠিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে এবং দেশবাসীর সমর্থনে দেশ এক গভীর ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।’

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন মিছবাহুর।

ওয়াজে মিথ্যাচারের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ‘কোরআন হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে পবিত্র জিহাদের কথা বলে যুবসমাজকে উগ্রতার দিকে ধাবিত করছে। ভাইয়ে ভাইয়ে ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করছে। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছে। স্বাধীনতা কিংবা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কটূক্তি করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের বিদেশি অর্থ সংগ্রহকারী ও জোগানদাতা এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে খেলাফত মজলিসের সম্পৃক্ততা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও জানানো হয়।

গত সেপ্টেম্বরে শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতের নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক উগ্রবাদীর অনুসারী, ক্ষমতা লোভী একদল আলেম নামধারী কুচক্রীর হাতে চলে যায় বলেও অভিযোগ করেন মিছবাহুর।

কওমি বোর্ডকে হেফাজতমুক্ত করার দাবি

কওমি মাদ্রাসা পরিচালনার কর্তৃপক্ষ আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কাওমিয়্যাহ বাংলাদেশ এবং কওমি শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারাসিল আরাবিয়ায় যে হেফাজত নেতারা আছেন, তাদের বহিষ্কার করে শান্তিপ্রিয় কওমি আলেমদের নিয়োগ দেয়ারও দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত যেসব কওমি মাদ্রাসার ছাত্র সহিংসতা চালিয়েছে, তাদের ছাত্রত্ব বাতিলেরও দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আবাসিক হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং কওমি মাদ্রাসা খুলে দেয়ার দাবিও জানায় ইসলামী ঐক্যজোট। পাশাপাশি গরিব কওমি শিক্ষকদের অনুদানের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়।

বারিধারা মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল শায়খুল হাদিস আল্লামা ওয়াহিদুজ্জামান, মানিকগঞ্জের দারুল উলুম মাদ্রাসা প্রিন্সিপাল শাইখুল হাদিস মুফতি মনিরুজ্জামান রাব্বানী, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মাওলানা বোরহান উদ্দিন আজিজী, মুফতী মাওলানা তাজুল ইসলামও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
হেফাজত, জামায়াত ও বিএনপির তিন নেতা ফের রিমান্ডে
সাইফুল্লাহ সাদীসহ ২ হেফাজত নেতাকে রিমান্ডে
হেফাজতের তিন নেতা আবার রিমান্ডে
৩ মামলায় ৯ দিনের রিমান্ডে হেফাজত নেতা হারুন
হেফাজতে মৃত্যু: তদন্তে পুলিশের দাবি নির্যাতন নয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: দুই দিনের তথ্যচিত্র প্রদর্শনী

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: দুই দিনের তথ্যচিত্র প্রদর্শনী

প্রায় ছয় বছর বিদেশে থাকার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটি বলছে, এই তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণ পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম। জানতে পারবে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ইতিহাস।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশক পূর্তি উপলক্ষে দুইদিন ব্যাপী তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটি।

এই তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর নাম দেয়া হয়েছে ‘শেখ হাসিনার চার দশক: বদলে যাওয়া বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা’।

রোববার বেলা ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রদর্শনী শেষ হবে সোমবার।

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটির সদস্য সচিব ড. সেলিম মাহমুদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এই তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণ পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম। জানতে পারবে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ইতিহাস প্রসঙ্গে।

এই তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণ পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে সংযুক্ত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ড. মশিউর রহমান। আর বঙ্গবন্ধু ভবন প্রান্ত থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মামুন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করার সময় স্বামীর সঙ্গে দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। সঙ্গে ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানাও।

ওই ঘটনার পর দেশে ফিরতে পারছিলেন না তারা। তাদের প্রত্যাবর্তনে অনুমতি দিচ্ছিল না ১৫ আগস্ট পরবর্তী সরকারগুলো। বেলজিয়াম, জার্মানি ঘুরে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক আশ্রয় নেন ভারতে। সেখান থেকে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন তিনি। হাল ধরেন আওয়ামী লীগের।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ছাড়াও সারা দেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হবে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা হবে। ওই দিনই বেলা তিনটায় মহানগর নাট্য মঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে হবে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠান।

আরও পড়ুন:
হেফাজত, জামায়াত ও বিএনপির তিন নেতা ফের রিমান্ডে
সাইফুল্লাহ সাদীসহ ২ হেফাজত নেতাকে রিমান্ডে
হেফাজতের তিন নেতা আবার রিমান্ডে
৩ মামলায় ৯ দিনের রিমান্ডে হেফাজত নেতা হারুন
হেফাজতে মৃত্যু: তদন্তে পুলিশের দাবি নির্যাতন নয়

শেয়ার করুন

রাজধানীতে যুবলীগ নেতাকে গুলি

রাজধানীতে যুবলীগ নেতাকে গুলি

আহত সাইফুল ২ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সবুজবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) আক্তারুল ইসলাম বলেন, ‘কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, কারা করেছে তা এখনও জানা যায়নি। আমাদের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।’

খিলগাঁও ফ্লাইওভারের সংলগ্ন এলাকায় সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবলীগ নেতা গুলিতে আহত হয়েছেন।

তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের ২ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাকে কে গুলি করেছে, সেই বিষয়টি এখনও জানাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে অতীশ দীপঙ্কর সড়কে চায়না পার্ক রেস্টুরেন্টের পাশে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সাইফুলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সবুজবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) আক্তারুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, কারা করেছে তা এখনও জানা যায়নি। আমাদের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।’

ঘটনার সময় সাইফুল একাই ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে তার ভাষ্যের ওপরই নির্ভর করতে হবে। কিন্তু এখনও তার কাছ থেকে জানার মতো পরিস্থিতি হয়নি বলেও জানান আক্তারুল ইসলাম।

বলেন, ‘আহত ব্যক্তি স্থানীয় বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
হেফাজত, জামায়াত ও বিএনপির তিন নেতা ফের রিমান্ডে
সাইফুল্লাহ সাদীসহ ২ হেফাজত নেতাকে রিমান্ডে
হেফাজতের তিন নেতা আবার রিমান্ডে
৩ মামলায় ৯ দিনের রিমান্ডে হেফাজত নেতা হারুন
হেফাজতে মৃত্যু: তদন্তে পুলিশের দাবি নির্যাতন নয়

শেয়ার করুন

‘বিএনপি আমলের নির্যাতনের পুনরাবৃত্তির নজির নেই’

‘বিএনপি আমলের নির্যাতনের পুনরাবৃত্তির নজির নেই’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীদের নাকি গত এক যুগ ধরে ঈদ নেই এবং তাদের হত্যা করা হচ্ছে ও মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। আপনারা কি ভুলে গেছেন ২০০১ সালে ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর যে নির্মম নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছিলেন?’

এই সরকারের আমলে বিএনপি আমলের নির্যাতনের পুনরাবৃত্তির কোনো নজির নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার সকালে নিজের বাসভবনে এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সমালোচনা করে তিনি এ কথা বলেন।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দেয়া শেষে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ঈদ বলতে আমরা সব সময় যেটা বুঝি, সেই ঈদ গত এক যুগ ধরে আমাদের নেই। কারণ মিথ্যা মামলা দেয়া এবং নেতা-কর্মীদের গুম করা হয়েছে। এমন একটা অবস্থা, যেন এই দেশে শুধু আমাদের নেতা-কর্মীরাই আসামি।’

এই মন্তব্যের সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীদের নাকি গত এক যুগ ধরে ঈদ নেই এবং তাদের হত্যা করা হচ্ছে ও মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। আপনারা কি ভুলে গেছেন ২০০১ সালে ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর যে নির্মম নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছিলেন?

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির আমলের নির্যাতনের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর কোনো নজির স্থাপন করেনি শেখ হাসিনা সরকার।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির আমলে মা-বাবা মারা গেলেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা গ্রামের বাড়ি যেতে পারেননি, দাফনকাফনের শেষ সুযোগটুকুও দেয়া হয়নি। মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদের নামাজ পড়া অবস্থায়ও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

‘কতটা নিষ্ঠুর এবং অমানবিক হলে তারা এমনটা করতে পেরেছে। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী এলাকায় বাড়িঘরে যেতে পারেননি। সেই ইতিহাস বেশি দিন আগের নয়।’

এ সময় করোনা প্রসঙ্গেও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ সরকারের সর্বাত্মক চেষ্টায় কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হলেও ঈদের পরে কর্মস্থলে ফিরতে মানুষের বাঁধভাঙা জনস্রোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এমতাবস্থায় জনসমাগম এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা পালন করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

ব্রিফিংয়ে ১৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচিও ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘১৬ ও ১৭ মে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটি তথ্য ও সংবাদচিত্র প্রদর্শনের অনুষ্ঠান করবে। ১৬ মে বেলা ১১টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে।

‘১৭ মে বেলা ১১টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা। ওই দিন বেলা ৩টায় মহানগর নাট্য মঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দোয়া মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠান।’

এ ছাড়াও সারা দেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
হেফাজত, জামায়াত ও বিএনপির তিন নেতা ফের রিমান্ডে
সাইফুল্লাহ সাদীসহ ২ হেফাজত নেতাকে রিমান্ডে
হেফাজতের তিন নেতা আবার রিমান্ডে
৩ মামলায় ৯ দিনের রিমান্ডে হেফাজত নেতা হারুন
হেফাজতে মৃত্যু: তদন্তে পুলিশের দাবি নির্যাতন নয়

শেয়ার করুন

শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার

শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার

লেবুখালী ঘাটে এই রোগীসহ অ্যাম্বুলেন্স রেখে নদী পার হয়েছেন জাতীয় পার্টির নেতা এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। ছবি: নিউজবাংলা

ফেরি আসবে বলে অ্যাম্বুলেন্সসহ গাড়িগুলো দাঁড়িয়েছিল। রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার সঙ্গীদের দুটি গাড়ি ছিল পেছনে। এর মধ্যে ফেরি আসার পর সামনের গাড়ি রেখে পেছনের গাড়িগুলো তুলে দেয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সও সে সময় ইমার্জেন্সি হর্ন বাজিয়ে পন্টুনে উঠে। কিন্তু সেই গাড়িটিকে না তুলে ফেরি ছেড়ে যায়।

যুগ্ম সচিবের জন্য ফেরি অপেক্ষায় রাখার পর অ্যাম্বুলেন্সে থাকা স্কুলছাত্রের মৃত্যু নিয়ে তুমুল আলোচনার দুই বছরের মাথায় একই রকম একটি ঘটনা ঘটল পটুয়াখালীতে।

জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার নদী পার হবেন বলে ফেরিতে উঠতে দেয়া হয়নি শ্বাসকষ্টের রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সকে।

ঈদের দিন শুক্রবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে লেবুখালী ফেরিঘাটে।

জাতীয় পার্টির নেতা ও তার সঙ্গে থাকা তিনটি পাজেরো তোলার পর আর কোনো গাড়িকে তুলতে দেয়া হয়নি।

এই ফেরিতে নয় থেকে ১২টা গাড়ি উঠাতে পারে। কিন্তু হাওলাদার ও তার সঙ্গীদের তিনটি গাড়ির বাইরে কেবল ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি গাড়ি ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এই ঘটনায় হাওলাদারের কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফেরির চালক ও লস্কর। স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও বিষয়টি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন।

শ্বাসকষ্টের রোগী রেখে ফেরি নিয়ে একা যাত্রা হাওলাদারের
পেছন থেকে এসে হাওলাদার যখন ফেরিতে উঠেন, তখন সাইরেন বাজিয়ে সেখানে উঠার চেষ্টা করে অ্যাম্বুলেন্সটি

স্থানীয়রা জানান, ফেরি আসবে বলে অ্যাম্বুলেন্সসহ গাড়িগুলো দাঁড়িয়েছিল। রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার সঙ্গীদের দুটি গাড়ি ছিল পেছনে। এর মধ্যে ফেরি আসার পর সামনের গাড়ি রেখে পেছনের গাড়িগুলো তুলে দেয়া হয়।

অ্যাম্বুলেন্সও সে সময় ইমার্জেন্সি হর্ন বাজিয়ে পন্টুনে উঠে। কিন্তু সেই গাড়িটিকে না তুলে ফেরি ছেড়ে যায়।

প‌রে প্রায় ৪০ ‌মি‌নিট পর হাওলাদারকে না‌মি‌য়ে দি‌য়ে ফে‌রি‌টি আবার ঘাটে এলে অ্যাম্বু‌লেন্সসহ অন‌্যান্য গাড়ি পার করা হয়।

ফেরিতে উঠতে না পারার পর অ্যাম্বু‌লে‌ন্সে থাকা রোগী নুরুল আমিন মিথু‌নের খালা জেস‌মিন আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‌‌‘মিথুন অসুস্থ‌ অইলে পউট্টাহা‌লি হাসপাতা‌লে নিই। কিন্তু অর শ্বাসকষ্ট বাইর গে‌লে ডাক্তার অরে ঢাকায় নে‌তে কইছে। হেইয়ার জন‌্য ঢাকায় যাইতেছি। কিন্তু ফে‌রি‌তে ওঠ‌তে পারলাম না। এহন এক ঘণ্টা এইহা‌নে বইয়া থাক‌তে অইবে।’

শ্বাসকষ্টের রোগী রেখে ফেরি নিয়ে একা যাত্রা হাওলাদারের
অ্যাম্বুলেন্স রেখে এই ফেরিতে করেই নদী পার হয়েছেন রুহুল আমিন হাওলাদার

মিথুন ঈদ উপল‌ক্ষে পটুয়াখালীর দুমকী উপ‌জেলার আঙ্গা‌রিয়ায় মামার বাড়িতে বেড়া‌তে আ‌সেন। এসেই শ্বাসক‌ষ্টজ‌নিত সমস‌্যায় অসুস্থ হ‌য়ে প‌রেন বলে জানান তার খালা।

জেস‌মিন বলেন, ‌‘ফেরিঘা‌টে আইলে পন্টুনেনে উডি। কিন্তু ফেরির লোকজন মো‌গো উঠ‌তে দিল না। মাত্র তিন‌ডা গাড়ি নি‌য়া ফে‌রিডা ছাইড়া দিল।’

‌‘একটা গাড়ি নি‌লে ওনা‌গো কী ক্ষ‌তি অইত?’-আক্ষেপের সুরে বলেন তিনি।

অ্যাম্বু‌লেন্স চালক মো. র‌নি ব‌লেন, ‘রোগী নিয়ে ফেরি‌তে উঠ‌তে গে‌লে ফেরির লোকজন বাধা দি‌য়ে ব‌লে ভিআইপি আছে, ওঠা যা‌বে না। আমি হর্ন বাজাইছি, কিন্তু উঠতে দিল না।’

এই প্রতিবেদন লেখার সময় মিথুনের অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় পৌঁছতে পারেনি। তখনও মাদারীপুরে ছিল গাড়িটি। আর তার খালা জানান, মিথুনের অবস্থাও ভালো নয় কোনোভাবেই।

রোগীর অ্যাম্বুলেন্স রেখে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ফেরিচালক জয়‌দেব ব‌লেন, ‌‌‘আমি উপ‌রে থা‌কি। নিচ থে‌কে ছাড়ার সং‌কেত পে‌লে ঘাট ত‌্যাগ ক‌রি। কে ছিল আমি জা‌নি না। সং‌কেত পাইছি তাই ছে‌ড়ে গে‌ছি।’

ফে‌রির লস্কর বাবুল ব‌লেন, ‘‌জাতীয় পার্টির নেতা ও রুহুল আমিন হাওলাদার স‌্যার ছিল, তাই ছে‌ড়ে দি‌ছি। তার সা‌থে থাকা লোকজন ছাড়ার জন‌্য তা‌গিদ দি‌য়ে‌ছিল। এ ছাড়াও ওই ফেরিতে এক‌টি টু‌রিস্ট পু‌লিশের ভ‌্যান ছিল। তারাও ফে‌রি‌টি দ্রুত ছাড়তে ব‌লে‌ছে।’

শ্বাসকষ্টের রোগী রেখে ফেরি নিয়ে একা যাত্রা হাওলাদারের
জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার

দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মে‌হেদী হাসান ব‌লেন, ‘‌‌শু‌নে‌ছি ওই ফেরি‌তে জাপা নেতা রুহুল আ‌মিন হাওলাদার ছিলেন। ওই সময় সেখানকার দা‌য়িত্বরত পু‌লিশ দুপু‌রের খাবার খে‌তে পা‌শে গে‌ছিল। যে‌ কার‌ণে পু‌রো বিষয়‌টি জানা যায়‌নি।’

এ ব্যাপা‌রে জাতীয় পার্টির নেতা এ বি এম রুহুল আমিন হাওলা‌দা‌রের মোবাইল ফো‌নে একাধিকবার কল দিলেও তি‌নি ফোন রি‌সিভ ক‌রেন‌নি।

তিনি দুমকীর নিজের বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ গেছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি নেতারা।

জনাব হাওলাদারের রাজনৈতিক জীবন বিএনপি দিয়ে শুরু হলেও পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। তিনি ২০০২ সালে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মনোনীত হন। ২০১৩ সালের ১০ এপ্রিল তাকে মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

দুই বছর পর ১৯ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে তাকে পুনরায় মহাসচিব পদে নিয়োগ দেন জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

বর্তমানে তিনি জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান।

যে রোগীকে রেখে হাওলাদার ফেরিতে উঠেন, সেই রোগী হাওলাদারের এলাকাতেই ঘুরতে গিয়েছিলেন।

দুমকীর আঙ্গা‌রিয়া গ্রামের হাওলাদার ২০১৪ সালে পটুয়াখালী-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের ভোটে তিনি মনোনয়ন পাননি।

২০১৯ সালে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি এক নম্বর ফেরিঘাটে যুগ্ম সচিবের অপেক্ষায় প্রায় তিন ঘণ্টা ফেরি না ছাড়ায় স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠে। সে সময় ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড়ের পর ওই ঘটনায় বিআইডব্লিউটিসি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এই ঘটনায় পরে ঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসেন, ঘাটের প্রান্তিক সহকারী খোকন মিয়া এবং উচ্চমান সহকারী ও গ্রুপ প্রধান ফিরোজ আলমের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা দেরিতে ফেরি ছাড়া হয়। এ কারণে তিতাসের মৃত্যুর দায় এই তিনজন কিছুতেই এড়াতে পারেন না।

আরও পড়ুন:
হেফাজত, জামায়াত ও বিএনপির তিন নেতা ফের রিমান্ডে
সাইফুল্লাহ সাদীসহ ২ হেফাজত নেতাকে রিমান্ডে
হেফাজতের তিন নেতা আবার রিমান্ডে
৩ মামলায় ৯ দিনের রিমান্ডে হেফাজত নেতা হারুন
হেফাজতে মৃত্যু: তদন্তে পুলিশের দাবি নির্যাতন নয়

শেয়ার করুন

তারেক আসছেন: মির্জা ফখরুল

তারেক আসছেন: মির্জা ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফাইল ছবি

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা দোয়া করছি আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে নির্বাসিত অবস্থায় আছেন, তাকে যেন আল্লাহ দীর্ঘ জীবন দান করেন। তাকে অচিরেই দেশে এসে আমাদের দলকে নেতৃত্ব দিতে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য নেতৃত্ব দিতে পারেন।’

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন, দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছর আর বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তির মামলায় আরও দুই বছর কারাদণ্ড পাওয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান অচিরেই দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সুনির্দিষ্ট কোনো সময় না জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা দোয়া করছি আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে নির্বাসিত অবস্থায় আছেন। তাকে যেন আল্লাহ দীর্ঘ জীবন দান করেন। তাকে অচিরেই দেশে এসে আমাদের দলকে নেতৃত্ব দিতে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য নেতৃত্ব দিতে পারেন।’

শুক্রবার ঈদুল ফিতরের নামাজের পর বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির নেতারা দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করার সময় এমন কথা বলেন তিনি।

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলায় রায় হয়। পরের বছর জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসা করাতে তিনি যুক্তরাজ্যে যান। কিন্তু আর দেশে ফেরেননি।

চারটি মামলায় তার সাজা হলেও আরও বেশ কিছু মামলা চলমান আছে দেশের বিভিন্ন আদালতে।

২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিলে ওই রাতেই তারেককে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করে বিএনপি।

ফখরুল বলেন, ‘আল্লাহতালা যেন অতি দ্রুত আমাদের নেত্রী, গণতন্ত্রের আপোষহীন নেতা, গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সুস্থতা দান করেন এ বিষয়ে আমরা দোয়া করেছি।

‘আমরা এই দোয়া চেয়েছি যে, আল্লাহতায়ালা যেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে বেহেস্তে নসিব করেন।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশে একটি ফ্যাসিবাদ কর্তৃত্ববাদী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আমরা যেন সেই শক্তি অর্জন করতে পারি।’

সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, আজকে ঈদ-উল-ফিতর পালিত হচ্ছে অত্যন্ত কষ্টের মধ্য দিয়ে, দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে।

‘এক দিকে করোনার ভয়াবহ আক্রমণ, অন্যদিকে সরকারের অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন। এই অবস্থা থেকে জনগণের যেন রক্ষা হয় এই দোয়া আমরা করেছি।’

ধীরে হলেও খালেদার স্বাস্থ্যের উন্নতি

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, তিনি ধীরে ধীরে হলেও ইমপ্রুভ করছেন।

‘বেশ ইমপ্রুভ করেছেন ইতোমধ্যে। ডাক্তার আমাকে বলেছেন, তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তারা আশাবাদী, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।’

মহাসচিব বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। শুধু নিজের জন্য নয় সারা দেশের মানুষের জন্য দোয়া চেয়েছেন। তিনি সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নেসারুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
হেফাজত, জামায়াত ও বিএনপির তিন নেতা ফের রিমান্ডে
সাইফুল্লাহ সাদীসহ ২ হেফাজত নেতাকে রিমান্ডে
হেফাজতের তিন নেতা আবার রিমান্ডে
৩ মামলায় ৯ দিনের রিমান্ডে হেফাজত নেতা হারুন
হেফাজতে মৃত্যু: তদন্তে পুলিশের দাবি নির্যাতন নয়

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগ থেকে শিখুন: বিএনপিকে তথ্যমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ থেকে শিখুন: বিএনপিকে তথ্যমন্ত্রী

ফাইল ছবি

কোনো দল আওয়ামী লীগের মতো জনগণের পাশে দাঁড়ায় না দাবি দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদের। বিএনপিসহ অন্যদলগুলোকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের বলব, দোষারোপের রাজনীতি পরিহার করে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে শিখে অন্তত জনগণের পাশে থাকুন।’

দোষারোপের রাজনীতি ছেড়ে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের পাশে থাকতে বিএনপিসহ অন্য সব দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির পক্ষ থেকে ওলামা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন সংগঠনকে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বর্তমান সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মহামারির এই সময়ে শুধু আওয়ামী লীগই মাঠে আছে, জনগণের পাশে আছে, অন্য কাউকে দেখা যাচ্ছে না। শুধু খাদ্য আর স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রীই নয়, আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কৃষক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এমনকি আমাদের মহিলা নেতাকর্মীরাও কৃষকের ধান কেটে মাথায় নিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে।

‘এমন কাজ কোনো রাজনৈতিক দল করে নাই। তাদের বলব, দোষারোপের রাজনীতি পরিহার করে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে শিখে অন্তত জনগণের পাশে থাকুন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রাজনীতি জনগণের জন্য আর বিএনপির রাজনীতি তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা-নেত্রীদের বিচার-শাস্তি থেকে বাঁচানোর জন্য। বিএনপির পুরো রাজনীতিই তারেক জিয়ার শাস্তি আর বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে আবর্তিত হচ্ছে, জনগণের স্বাস্থ্য নিয়ে তারা ভাবে না।’

বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলী প্রসঙ্গে দলের মহাসচিবের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়াও জানান হাছান। বলেন, ‘ইলিয়াস আলী কীভাবে গুম হয়েছেন, সেটি তো মির্জা আব্বাস সাহেবই জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিএনপি নেতারাই তাকে গুম করেছেন। এই সত্যপ্রকাশের দায়ে আবার মির্জা সাহেবকে কারণ দর্শাও নোটিশও দেয়া হয়েছে।’

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যে বিএনপি ২১ শে আগস্টে গ্রেনেড হামলা চালায়, বঙ্গবন্ধুহত্যার বিচার বন্ধ করে, যাদের আমলে আহসানউল্লাহ মাস্টার, শাহ এএমএস কিবরিয়া, খুলনার মঞ্জুরুল ইমামের মতো মানুষদের প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হয়, তাদের কারণেই দেশের মানুষ অনিরাপদ বোধ করতে পারে, অন্য কারণে নয়।’

আরও পড়ুন:
হেফাজত, জামায়াত ও বিএনপির তিন নেতা ফের রিমান্ডে
সাইফুল্লাহ সাদীসহ ২ হেফাজত নেতাকে রিমান্ডে
হেফাজতের তিন নেতা আবার রিমান্ডে
৩ মামলায় ৯ দিনের রিমান্ডে হেফাজত নেতা হারুন
হেফাজতে মৃত্যু: তদন্তে পুলিশের দাবি নির্যাতন নয়

শেয়ার করুন

খালেদার ঈদ হাসপাতালেই

খালেদার ঈদ হাসপাতালেই

বিএনপি নেত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ম্যাডামের অবস্থা স্থিতীশীল। আগের থেকে ফার বেটার। তবে পোস্ট কোভিড সময়টা তো আনপ্রেডিক্টেবল। তাই আরও কিছুদিন হাসপাতালেই থাকতে হবে। এবারের ঈদ তিনি হাসপাতালেই কাটাবেন। সবাই উনার জন্য দোয়া করবেন।’

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ‘ফার বেটার’। তবে এবারের ঈদুল ফিতর হাসপাতালেই কাটবে তার।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ম্যাডামের অবস্থা স্থিতীশীল। আগের থেকে ফার বেটার। তবে পোস্ট কোভিড সময়টা তো আনপ্রেডিক্টেবল। তাই আরও কিছুদিন হাসপাতালেই থাকতে হবে। এবারের ঈদ তিনি হাসপাতালেই কাটাবেন। সবাই উনার জন্য দোয়া করবেন।’

বেগম জিয়ার এখনো অক্সিজেন লাগছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এ জেড এম জাহিদ বলেন, ‘বেগম জিয়া এখনো সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সিসিইউতে থাকা রোগীর শারীরিক অবস্থা কেমন সেটা সবারই জানার কথা। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা ইমপ্রুভ হচ্ছে। অক্সিজেন সাপোর্ট লাগছে না।

‘ম্যাডামের শারীরিক যে সমস্যাগুলো আছে ডাক্তাররা খুব নিবিড়ভাবে তার পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে পোস্ট কোভিড রোগীর শারীরিক অবস্থা যেকোনো সময় খারাপ হতে পারে।’

রাজধানীর বসুন্ধরার এয়ারকেয়ার হাসপাতালে গত ২৭ এপ্রিল থেকে চিকিৎসাধীন আছেন খালেদা জিয়া।

গত ১১ এপ্রিল করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর শুরুতে গুলশানে বাসভবন ফিরোজাতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বিএনপি নেত্রী। পরে ২৭ এপ্রিল থেকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাকে।

৩ মে খালেদা জিয়ার অবস্থা অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে খালেদা করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসলেও হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন না।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, হাঁটুর জটিলতা ছাড়াও নানা ধরনের রোগ রয়েছে। ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে তার চোখেও অপারেশন করা হয়।

উন্নত চিকিৎসার জন্য ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিয়ে যেতে তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রথমে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন করেন।

পরে এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়ে আসেন শামীম ইস্কান্দার। চিঠিটি পর্যালোচনার জন্য আইনমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ে পাঠায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের বরাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর কোনো বিধি নেই।

উল্টোটা বলছে বিএনপি। তাদের অভিযোগ, সরকার ইচ্ছে করেই খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে দিচ্ছে না।

এভারকেয়ারে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে হাসপাতালটির হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে। লন্ডন থেকে বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসার তদারকিতে রয়েছেন পূত্রবধূ চিকিৎসক জোবাইদা রহমানও।

আরও পড়ুন:
হেফাজত, জামায়াত ও বিএনপির তিন নেতা ফের রিমান্ডে
সাইফুল্লাহ সাদীসহ ২ হেফাজত নেতাকে রিমান্ডে
হেফাজতের তিন নেতা আবার রিমান্ডে
৩ মামলায় ৯ দিনের রিমান্ডে হেফাজত নেতা হারুন
হেফাজতে মৃত্যু: তদন্তে পুলিশের দাবি নির্যাতন নয়

শেয়ার করুন