করোনায় আক্রান্ত খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল

ফাইল ছবি

করোনায় আক্রান্ত খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল

ফখরুল বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) নমুনা নেয়া হয়েছে। আজ রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। দেশবাসীকে আহ্বান জানাব, খালেদা জিয়াও আহ্বান জানিয়েছেন তার রোগ মুক্তির জন্য দোয়া করেন। দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান থাকবে, দেশনেত্রীর রোগমুক্তির জন্য পরম করুণাময়ের কাছে দোয়া চাইবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোয়া করবেন।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার বিকেলে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে এ তথ্য জানান তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) নমুনা নেয়া হয়েছে। আজ রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। দেশবাসীকে আহ্বান জানাব, খালেদা জিয়াও আহ্বান জানিয়েছেন তার রোগ মুক্তির জন্য দোয়া করেন। দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান থাকবে, দেশনেত্রীর রোগমুক্তির জন্য পরম করুণাময়ের কাছে দোয়া চাইবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোয়া করবেন।’

ব্যক্তিগত চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকীর অধীনে খালেদা জিয়ার করোনা চিকিৎসা শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি সম্পূর্ণরূপে স্টেবল আছেন। ভালো আছেন। তার কোনো টেম্পারেচার নেই, অন্য কোনো উপসর্গও নেই। চিকিৎসা শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে।

‘আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, উনার যারা ব্যক্তিগত চিকিৎসক আছেন, তারা বেশ বরেণ্য চিকিৎসক। তাদের তত্ত্বাবধানে তিনি আছেন এবং তিনি ভালো আছেন।’

চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল। বলেন, ‘যদি কোনো প্রয়োজন হয়, সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আইসিডিডিআরবির ল্যাবরেটরিতে খালেদা জিয়ার করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রোববার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান নিউজবাংলাকে জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তিনি কথা বলেছেন। সেখান থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়া করোনা পজিটিভ।

বিএনপি চেয়ারপারসন বাসায় গিয়ে চিকিৎসকদের নমুনা সংগ্রহের পর শনিবারই তার করোনা পরীক্ষার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকেই বিষয়টি নাকচ করে আসছিলেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক।

তবে এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার দল বা পরিবার থেকে কিছুই বলা হচ্ছিল না।

২০০৮ সালের ৮ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর বিএনপি নেত্রী কারাগারে যান। পরে উচ্চ আদালত সাজা বাড়িয়ে করে ১০ বছর। ওই বছরই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর বিএনপি নেত্রীকে দেশের বাইরে না যাওয়া ও বাড়িতে বসে চিকিৎসা নেয়ার শর্তে ছয় মাসের জন্য দণ্ড স্থগিত করিয়ে মুক্তি দেয়া হয়। এরপর দুই দফা বাড়ানো হয় দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, হাঁটুর জটিলতা ছাড়াও নানা ধরনের রোগ আছে বলে তার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে তার চোখেও অপারেশন করা হয়।

আরও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার পাঁচ জন্মদিন: অভিযোগ গঠনের শুনানি ১১ এপ্রিল
খালেদার অসুস্থতায় পেছাল কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার শুনানি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আইন-আদালতকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে সরকার: ফখরুল

আইন-আদালতকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে সরকার: ফখরুল

ঠাকুরগাঁওয়ে রোববার জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। আজও তারা সেই শাসন ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠা করতে উঠে পড়ে লেগেছে। আইন আদালতকে তারা ইচ্ছে মতো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

সরকার আইন-আদালতকে নিজের সুবিধায় ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঠাকুরগাঁওয়ের আশ্রমপাড়ায় হাওলাদার গেস্ট হাউজে রোববার জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, ‘আইনশৃংখলা বাহিনীকে সরকার নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে তারা ধ্বংস করেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে আইন বলতে কিছু নেই, বিচার বলতে কিছু নেই। সবকিছু মিলিয়ে সরকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে চরম দু:সময় চলছে। করোনা মহামারির কারণে বিশ্বে খুব খারাপ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মহামারি ভয়ংকরভাবে আঘাত করতে পারে, তার নমুনা দেখছি।

‘দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অবস্থা খুব খারাপ। অসংখ্য মানুষ কর্মচ্যুত হয়েছে। দেশের প্রধান প্রধান খাত থেকে আয়ের পরিমান কমে গেছে। সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের মানুষের মূল আশা আকাংশা ছিল একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক সার্বোভৌম রাষ্ট্র নির্মাণ করা। যেখানে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু থাকবে, দায়িত্ববোধ থাকবে; এসব বিষয় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অত্যন্ত সুচারুভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। আজও তারা সেই শাসন ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠা করতে উঠে পড়ে লেগেছে। আইন আদালতকে তারা ইচ্ছে মতো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিলের মধ্য দিয়ে তারা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার চেষ্টা করছে। দেশের মানুষের অধিকার হরণের জন্য যে হাতিয়ার তৈরি করা দরকার, সেটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের মাধ্যমে তারা করেছে।’

ফখরুল বলেন, ‘নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে ডিজিটাল সিকিউরিটিসহ যে আইনগুলো সরকার প্রণয়ন করেছে, তাতে মানুষের স্বাধীনতা শুণ্যের কোটায় চলে এসেছে।

‘সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ তাদের মত প্রকাশ করতে পারছে না। তারা কিছু লিখলেই বা বললেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এতে ৭ বছরের বাচ্চা থেকে শুরু করে গৃহবধূ পর্যন্ত কেউ ছাড় পাচ্ছে না। এ আইনের আওতায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জামিন পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না।’

সভায় অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী আব্দুল হালিম, বদিউজ্জামান বাদল, এনতাজুল হক, জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহসভাপতি আল মামুন আলমসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার পাঁচ জন্মদিন: অভিযোগ গঠনের শুনানি ১১ এপ্রিল
খালেদার অসুস্থতায় পেছাল কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার শুনানি

শেয়ার করুন

দেড় মাসের মাথায় কাদের মির্জা ফের আওয়ামী লীগে

দেড় মাসের মাথায় কাদের মির্জা ফের আওয়ামী লীগে

বসুরহাট পৌর মিলনায়তনে রোববার বিকেলে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। ছবি: নিউজবাংলা

কাদের মির্জা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গ্রিন সিগনালে আমি আবারও আওয়ামী লীগের ছায়াতলে ফিরে এলাম। অন্য যারা আমাদের সঙ্গে আসতে চায় আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাবো।’

পদত্যাগের দেড় মাসের মাথায় আবারও আওয়ামী লীগে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

বসুরহাট পৌর মিলনায়তনে রোববার বিকেল ৪টার দিকে নিজের অনুসারিদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গ্রিন সিগনালে আমি আবারও আওয়ামী লীগের ছায়াতলে ফিরে এলাম। অন্য যারা আমাদের সঙ্গে আসতে চায় আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাবো।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব যেটা বলবেন সেটাই হবে। এটা উনার সংসার। তিনি যাদেরকে ঘোষণা দিবেন তারাই আওয়ামী লীগের নেতা হবেন। তবে আমরা ইস্কান্দার হায়দার বাবুল ও মো. ইউনুসের নেতৃত্বে আছি। আশা করি তিনি (ওবায়দুল কাদের) আমাদের নিরাশ করবেন না।’

তিনি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা নিজেদের দোষের কারণে কেউ বাদ পড়লে তাতে আমরা দায়ী না। কারণ মনোনয়ন দিবেন ওবায়দুল কাদের ও জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাদের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত।’

পরে উপস্থিত সবাইকে মিষ্টি খাওয়ান মেয়র কাদের মির্জা। এছাড়া কেন্দ্র থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধারণের অনুরোধ করেন তিনি।

পুনর্মিলনীতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ ইউনুছ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নাছের, আজিজুল হক, জামাল উদ্দিন, আজিজ, জামাল উদ্দিন, আবুল খায়ের, ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন লিটন, মোজাম্মেল হোসেন কামরুল, ইকবাল বাহার চৌধুরীসহ অনেকে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা গত ডিসেম্বরে বসুরহাট পৌরসভায় পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হন। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলে আলোচনায় আসেন তিনি।

গত ৩১ মার্চ নিজের ফেসবুক পেজে কাদের মির্জা আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আর নির্বাচন করবেন না বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার পাঁচ জন্মদিন: অভিযোগ গঠনের শুনানি ১১ এপ্রিল
খালেদার অসুস্থতায় পেছাল কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার শুনানি

শেয়ার করুন

রাজনীতিকের সীমানা পেরিয়েছেন শেখ হাসিনা: কাদের

রাজনীতিকের সীমানা পেরিয়েছেন শেখ হাসিনা: কাদের

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যার পর কোনো সরকারই আর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনাকে দেশে ফেরার অনুমতি দেয়নি। বেলজিয়াম, জার্মানি ঘুরে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক আশ্রয় হয় ভারতে। সেখান থেকে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা রাজনীতিকের সীমানা পেরিয়ে রাষ্ট্রনায়কে রূপান্তর হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রোববার ‘শেখ হাসিনার চার দশক: বদলে যাওয়া বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক এক তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে এই আয়োজন করে দলের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটি।

অনুষ্ঠানে কাদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা রাজনীতিকের সীমানা পেরিয়ে রাষ্ট্রনায়কে রূপান্তর হয়েছেন। সংগ্রামী নেতা থেকে তিনি আজ কালজয়ী রাষ্ট্রনায়ক।

‘শেখ হাসিনা একজন সংগ্রামী নেতা থেকে এখন জনপ্রিয় রাজনৈতিক ও উন্নয়নের নেতা হিসেবে পরিণত হয়েছেন। শেখ হাসিনার জন্যই জাতি আজ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পেরেছে।’

কাদের বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) এসেছিলেন বলেই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে, তাই বাংলাদেশ পাপমুক্ত ও কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘শেখ হাসিনার মতো নেতৃত্ব আছে বলেই বাংলাদেশ আজ সীমান্ত ও ছিটমহল সমস্যার সমাধান এবং সমুদ্রসীমা জয়লাভ করেছে। গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য পাওনা বুঝে পেয়েছে, অন্য বিষয়ও সমাধান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা ফিরে এসেছিলেন বলেই নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ এখন প্রায় শেষের দিকে। পাশাপাশি অন্যান্য মেগা প্রকল্প, বিশেষ করে মেট্রোরেলসহ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম নদীর তলদেশ দিয়ে বঙ্গবন্ধু ট্যানেল নির্মাণ হচ্ছে।

‘বাংলাদেশ আজ নিজস্ব স্যাটেলাইট যুগেও প্রবেশ করেছে, যার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ আজ পারমাণবিক বোমা ছাড়া আর্থসামাজিক সকল সূচকে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করার সময় স্বামীর সঙ্গে দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা।

ওই ঘটনার পর দেশে ফিরতে পারছিলেন না তারা। তাদের দেশে ফেরার অনুমতি দেয়নি ১৫ আগস্টের পরের সরকারগুলো।

বেলজিয়াম, জার্মানি ঘুরে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক আশ্রয় হয় ভারতে। সেখান থেকে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন তিনি।

দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। সে সময় থেকেই আওয়ামী লীগকেও নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশে সবচেয়ে সফল, সাহসী ও মানবিক রাষ্ট্রনায়কের নাম শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা সবচেয়ে সফল কূটনীতিকের নাম। শেখ হাসিনার চলার পথ কখনো পুষ্প বিছানো ছিল না, তবুও তিনি এগিয়ে গেছেন মানুষের মুক্তির জন্য, অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য।

‘তিনি এসেছিলেন বলেই কলহ-কোন্দলে জর্জরিত আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। শেখ হাসিনা আজ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও চার দশক অতিক্রম করেছেন।’

দলের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটি মনে করছে, তথ্যচিত্রটির মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণপুনরুদ্ধারের সংগ্রাম জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম। জানতে পারবে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ইতিহাস।

আরও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার পাঁচ জন্মদিন: অভিযোগ গঠনের শুনানি ১১ এপ্রিল
খালেদার অসুস্থতায় পেছাল কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার শুনানি

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: দুই দিনের তথ্যচিত্র প্রদর্শনী

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: দুই দিনের তথ্যচিত্র প্রদর্শনী

প্রায় ছয় বছর বিদেশে থাকার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটি বলছে, এই তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণ পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম। জানতে পারবে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ইতিহাস।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশক পূর্তি উপলক্ষে দুইদিন ব্যাপী তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটি।

এই তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর নাম দেয়া হয়েছে ‘শেখ হাসিনার চার দশক: বদলে যাওয়া বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা’।

রোববার বেলা ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রদর্শনী শেষ হবে সোমবার।

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটির সদস্য সচিব ড. সেলিম মাহমুদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এই তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণ পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম। জানতে পারবে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ইতিহাস প্রসঙ্গে।

এই তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণ পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে সংযুক্ত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ড. মশিউর রহমান। আর বঙ্গবন্ধু ভবন প্রান্ত থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মামুন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করার সময় স্বামীর সঙ্গে দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। সঙ্গে ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানাও।

ওই ঘটনার পর দেশে ফিরতে পারছিলেন না তারা। তাদের প্রত্যাবর্তনে অনুমতি দিচ্ছিল না ১৫ আগস্ট পরবর্তী সরকারগুলো। বেলজিয়াম, জার্মানি ঘুরে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক আশ্রয় নেন ভারতে। সেখান থেকে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন তিনি। হাল ধরেন আওয়ামী লীগের।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ছাড়াও সারা দেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হবে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা হবে। ওই দিনই বেলা তিনটায় মহানগর নাট্য মঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে হবে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠান।

আরও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার পাঁচ জন্মদিন: অভিযোগ গঠনের শুনানি ১১ এপ্রিল
খালেদার অসুস্থতায় পেছাল কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার শুনানি

শেয়ার করুন

রাজধানীতে যুবলীগ নেতাকে গুলি

রাজধানীতে যুবলীগ নেতাকে গুলি

আহত সাইফুল ২ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সবুজবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) আক্তারুল ইসলাম বলেন, ‘কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, কারা করেছে তা এখনও জানা যায়নি। আমাদের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।’

খিলগাঁও ফ্লাইওভারের সংলগ্ন এলাকায় সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবলীগ নেতা গুলিতে আহত হয়েছেন।

তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের ২ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাকে কে গুলি করেছে, সেই বিষয়টি এখনও জানাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে অতীশ দীপঙ্কর সড়কে চায়না পার্ক রেস্টুরেন্টের পাশে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সাইফুলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সবুজবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) আক্তারুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, কারা করেছে তা এখনও জানা যায়নি। আমাদের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।’

ঘটনার সময় সাইফুল একাই ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে তার ভাষ্যের ওপরই নির্ভর করতে হবে। কিন্তু এখনও তার কাছ থেকে জানার মতো পরিস্থিতি হয়নি বলেও জানান আক্তারুল ইসলাম।

বলেন, ‘আহত ব্যক্তি স্থানীয় বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার পাঁচ জন্মদিন: অভিযোগ গঠনের শুনানি ১১ এপ্রিল
খালেদার অসুস্থতায় পেছাল কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার শুনানি

শেয়ার করুন

‘বিএনপি আমলের নির্যাতনের পুনরাবৃত্তির নজির নেই’

‘বিএনপি আমলের নির্যাতনের পুনরাবৃত্তির নজির নেই’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীদের নাকি গত এক যুগ ধরে ঈদ নেই এবং তাদের হত্যা করা হচ্ছে ও মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। আপনারা কি ভুলে গেছেন ২০০১ সালে ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর যে নির্মম নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছিলেন?’

এই সরকারের আমলে বিএনপি আমলের নির্যাতনের পুনরাবৃত্তির কোনো নজির নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার সকালে নিজের বাসভবনে এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সমালোচনা করে তিনি এ কথা বলেন।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দেয়া শেষে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ঈদ বলতে আমরা সব সময় যেটা বুঝি, সেই ঈদ গত এক যুগ ধরে আমাদের নেই। কারণ মিথ্যা মামলা দেয়া এবং নেতা-কর্মীদের গুম করা হয়েছে। এমন একটা অবস্থা, যেন এই দেশে শুধু আমাদের নেতা-কর্মীরাই আসামি।’

এই মন্তব্যের সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীদের নাকি গত এক যুগ ধরে ঈদ নেই এবং তাদের হত্যা করা হচ্ছে ও মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। আপনারা কি ভুলে গেছেন ২০০১ সালে ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর যে নির্মম নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছিলেন?

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির আমলের নির্যাতনের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর কোনো নজির স্থাপন করেনি শেখ হাসিনা সরকার।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির আমলে মা-বাবা মারা গেলেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা গ্রামের বাড়ি যেতে পারেননি, দাফনকাফনের শেষ সুযোগটুকুও দেয়া হয়নি। মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদের নামাজ পড়া অবস্থায়ও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

‘কতটা নিষ্ঠুর এবং অমানবিক হলে তারা এমনটা করতে পেরেছে। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী এলাকায় বাড়িঘরে যেতে পারেননি। সেই ইতিহাস বেশি দিন আগের নয়।’

এ সময় করোনা প্রসঙ্গেও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ সরকারের সর্বাত্মক চেষ্টায় কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হলেও ঈদের পরে কর্মস্থলে ফিরতে মানুষের বাঁধভাঙা জনস্রোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এমতাবস্থায় জনসমাগম এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা পালন করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

ব্রিফিংয়ে ১৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচিও ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘১৬ ও ১৭ মে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটি তথ্য ও সংবাদচিত্র প্রদর্শনের অনুষ্ঠান করবে। ১৬ মে বেলা ১১টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে।

‘১৭ মে বেলা ১১টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা। ওই দিন বেলা ৩টায় মহানগর নাট্য মঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দোয়া মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠান।’

এ ছাড়াও সারা দেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার পাঁচ জন্মদিন: অভিযোগ গঠনের শুনানি ১১ এপ্রিল
খালেদার অসুস্থতায় পেছাল কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার শুনানি

শেয়ার করুন

শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার

শ্বাসকষ্টের রোগী ফেলে ফেরি নিয়ে গেলেন হাওলাদার

লেবুখালী ঘাটে এই রোগীসহ অ্যাম্বুলেন্স রেখে নদী পার হয়েছেন জাতীয় পার্টির নেতা এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। ছবি: নিউজবাংলা

ফেরি আসবে বলে অ্যাম্বুলেন্সসহ গাড়িগুলো দাঁড়িয়েছিল। রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার সঙ্গীদের দুটি গাড়ি ছিল পেছনে। এর মধ্যে ফেরি আসার পর সামনের গাড়ি রেখে পেছনের গাড়িগুলো তুলে দেয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সও সে সময় ইমার্জেন্সি হর্ন বাজিয়ে পন্টুনে উঠে। কিন্তু সেই গাড়িটিকে না তুলে ফেরি ছেড়ে যায়।

যুগ্ম সচিবের জন্য ফেরি অপেক্ষায় রাখার পর অ্যাম্বুলেন্সে থাকা স্কুলছাত্রের মৃত্যু নিয়ে তুমুল আলোচনার দুই বছরের মাথায় একই রকম একটি ঘটনা ঘটল পটুয়াখালীতে।

জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার নদী পার হবেন বলে ফেরিতে উঠতে দেয়া হয়নি শ্বাসকষ্টের রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সকে।

ঈদের দিন শুক্রবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে লেবুখালী ফেরিঘাটে।

জাতীয় পার্টির নেতা ও তার সঙ্গে থাকা তিনটি পাজেরো তোলার পর আর কোনো গাড়িকে তুলতে দেয়া হয়নি।

এই ফেরিতে নয় থেকে ১২টা গাড়ি উঠাতে পারে। কিন্তু হাওলাদার ও তার সঙ্গীদের তিনটি গাড়ির বাইরে কেবল ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি গাড়ি ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এই ঘটনায় হাওলাদারের কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফেরির চালক ও লস্কর। স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও বিষয়টি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন।

শ্বাসকষ্টের রোগী রেখে ফেরি নিয়ে একা যাত্রা হাওলাদারের
পেছন থেকে এসে হাওলাদার যখন ফেরিতে উঠেন, তখন সাইরেন বাজিয়ে সেখানে উঠার চেষ্টা করে অ্যাম্বুলেন্সটি

স্থানীয়রা জানান, ফেরি আসবে বলে অ্যাম্বুলেন্সসহ গাড়িগুলো দাঁড়িয়েছিল। রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার সঙ্গীদের দুটি গাড়ি ছিল পেছনে। এর মধ্যে ফেরি আসার পর সামনের গাড়ি রেখে পেছনের গাড়িগুলো তুলে দেয়া হয়।

অ্যাম্বুলেন্সও সে সময় ইমার্জেন্সি হর্ন বাজিয়ে পন্টুনে উঠে। কিন্তু সেই গাড়িটিকে না তুলে ফেরি ছেড়ে যায়।

প‌রে প্রায় ৪০ ‌মি‌নিট পর হাওলাদারকে না‌মি‌য়ে দি‌য়ে ফে‌রি‌টি আবার ঘাটে এলে অ্যাম্বু‌লেন্সসহ অন‌্যান্য গাড়ি পার করা হয়।

ফেরিতে উঠতে না পারার পর অ্যাম্বু‌লে‌ন্সে থাকা রোগী নুরুল আমিন মিথু‌নের খালা জেস‌মিন আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‌‌‘মিথুন অসুস্থ‌ অইলে পউট্টাহা‌লি হাসপাতা‌লে নিই। কিন্তু অর শ্বাসকষ্ট বাইর গে‌লে ডাক্তার অরে ঢাকায় নে‌তে কইছে। হেইয়ার জন‌্য ঢাকায় যাইতেছি। কিন্তু ফে‌রি‌তে ওঠ‌তে পারলাম না। এহন এক ঘণ্টা এইহা‌নে বইয়া থাক‌তে অইবে।’

শ্বাসকষ্টের রোগী রেখে ফেরি নিয়ে একা যাত্রা হাওলাদারের
অ্যাম্বুলেন্স রেখে এই ফেরিতে করেই নদী পার হয়েছেন রুহুল আমিন হাওলাদার

মিথুন ঈদ উপল‌ক্ষে পটুয়াখালীর দুমকী উপ‌জেলার আঙ্গা‌রিয়ায় মামার বাড়িতে বেড়া‌তে আ‌সেন। এসেই শ্বাসক‌ষ্টজ‌নিত সমস‌্যায় অসুস্থ হ‌য়ে প‌রেন বলে জানান তার খালা।

জেস‌মিন বলেন, ‌‘ফেরিঘা‌টে আইলে পন্টুনেনে উডি। কিন্তু ফেরির লোকজন মো‌গো উঠ‌তে দিল না। মাত্র তিন‌ডা গাড়ি নি‌য়া ফে‌রিডা ছাইড়া দিল।’

‌‘একটা গাড়ি নি‌লে ওনা‌গো কী ক্ষ‌তি অইত?’-আক্ষেপের সুরে বলেন তিনি।

অ্যাম্বু‌লেন্স চালক মো. র‌নি ব‌লেন, ‘রোগী নিয়ে ফেরি‌তে উঠ‌তে গে‌লে ফেরির লোকজন বাধা দি‌য়ে ব‌লে ভিআইপি আছে, ওঠা যা‌বে না। আমি হর্ন বাজাইছি, কিন্তু উঠতে দিল না।’

এই প্রতিবেদন লেখার সময় মিথুনের অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় পৌঁছতে পারেনি। তখনও মাদারীপুরে ছিল গাড়িটি। আর তার খালা জানান, মিথুনের অবস্থাও ভালো নয় কোনোভাবেই।

রোগীর অ্যাম্বুলেন্স রেখে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ফেরিচালক জয়‌দেব ব‌লেন, ‌‌‘আমি উপ‌রে থা‌কি। নিচ থে‌কে ছাড়ার সং‌কেত পে‌লে ঘাট ত‌্যাগ ক‌রি। কে ছিল আমি জা‌নি না। সং‌কেত পাইছি তাই ছে‌ড়ে গে‌ছি।’

ফে‌রির লস্কর বাবুল ব‌লেন, ‘‌জাতীয় পার্টির নেতা ও রুহুল আমিন হাওলাদার স‌্যার ছিল, তাই ছে‌ড়ে দি‌ছি। তার সা‌থে থাকা লোকজন ছাড়ার জন‌্য তা‌গিদ দি‌য়ে‌ছিল। এ ছাড়াও ওই ফেরিতে এক‌টি টু‌রিস্ট পু‌লিশের ভ‌্যান ছিল। তারাও ফে‌রি‌টি দ্রুত ছাড়তে ব‌লে‌ছে।’

শ্বাসকষ্টের রোগী রেখে ফেরি নিয়ে একা যাত্রা হাওলাদারের
জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার

দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মে‌হেদী হাসান ব‌লেন, ‘‌‌শু‌নে‌ছি ওই ফেরি‌তে জাপা নেতা রুহুল আ‌মিন হাওলাদার ছিলেন। ওই সময় সেখানকার দা‌য়িত্বরত পু‌লিশ দুপু‌রের খাবার খে‌তে পা‌শে গে‌ছিল। যে‌ কার‌ণে পু‌রো বিষয়‌টি জানা যায়‌নি।’

এ ব্যাপা‌রে জাতীয় পার্টির নেতা এ বি এম রুহুল আমিন হাওলা‌দা‌রের মোবাইল ফো‌নে একাধিকবার কল দিলেও তি‌নি ফোন রি‌সিভ ক‌রেন‌নি।

তিনি দুমকীর নিজের বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ গেছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি নেতারা।

জনাব হাওলাদারের রাজনৈতিক জীবন বিএনপি দিয়ে শুরু হলেও পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। তিনি ২০০২ সালে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মনোনীত হন। ২০১৩ সালের ১০ এপ্রিল তাকে মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

দুই বছর পর ১৯ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে তাকে পুনরায় মহাসচিব পদে নিয়োগ দেন জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

বর্তমানে তিনি জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান।

যে রোগীকে রেখে হাওলাদার ফেরিতে উঠেন, সেই রোগী হাওলাদারের এলাকাতেই ঘুরতে গিয়েছিলেন।

দুমকীর আঙ্গা‌রিয়া গ্রামের হাওলাদার ২০১৪ সালে পটুয়াখালী-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের ভোটে তিনি মনোনয়ন পাননি।

২০১৯ সালে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি এক নম্বর ফেরিঘাটে যুগ্ম সচিবের অপেক্ষায় প্রায় তিন ঘণ্টা ফেরি না ছাড়ায় স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠে। সে সময় ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড়ের পর ওই ঘটনায় বিআইডব্লিউটিসি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এই ঘটনায় পরে ঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসেন, ঘাটের প্রান্তিক সহকারী খোকন মিয়া এবং উচ্চমান সহকারী ও গ্রুপ প্রধান ফিরোজ আলমের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা দেরিতে ফেরি ছাড়া হয়। এ কারণে তিতাসের মৃত্যুর দায় এই তিনজন কিছুতেই এড়াতে পারেন না।

আরও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার পাঁচ জন্মদিন: অভিযোগ গঠনের শুনানি ১১ এপ্রিল
খালেদার অসুস্থতায় পেছাল কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার শুনানি

শেয়ার করুন