জবি ছাত্রলীগের মাস্ক বিতরণ

ক্যাম্পাসে মাস্ক বিতরণ করে জবি ছাত্রলীগ। ছবি: নিউজবাংলা

জবি ছাত্রলীগের মাস্ক বিতরণ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরেও বিভিন্ন স্থানে মাস্ক বিতরণ করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। জনগণকে সচেতন করতেই তাদের এ উদ্যোগ।

করোনা প্রতিরোধে সচেতনা বাড়াতে মাস্ক বিতরণ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশেপাশে বাহাদুর শাহ পার্ক, পাটুয়াটুলি, সদরঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে মাস্ক বিতরণ করেন নেতা-কর্মীরা।

মাস্ক বিতরণ কর্মসূচি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আফসার বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধ করতে মাস্ক পড়া জরুরি। সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তুলতেই আমাদের এই কার্যক্রম।’

সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ পারভেজ বলেন, ‘আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। সবাইকে মাস্ক পড়তে হবে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’

আরও পড়ুন:
মামুনুলের পক্ষে, সরকারের বিপক্ষে ছাত্রলীগ নেতা
ছাত্রলীগ নেতা লাঞ্ছিত: আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার, ওসি প্রত্যাহার
মামুনুলের পক্ষে পোস্ট, আরেক ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
গাড়ি চোরের ‘মুক্তি’র দাবিতে ছাত্রলীগের পোস্টার
চাঁদাবা‌জি: গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা কারাগা‌রে   

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ : বাবলু

হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ : বাবলু

কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৫ জানুয়ারি দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। ছবি: নিউজবাংলা

জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, দেশে সুশাসন নেই। আইনের শাসন নেই। এখন অকারণেও মানুষ গ্রেপ্তার হচ্ছেন। হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।

রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাবলু বলেন, দেশে সুশাসন নেই। আইনের শাসন নেই। এখন অকারণেও মানুষ গ্রেপ্তার হচ্ছেন। হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

‘জাতীয় পার্টি গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সংগ্রাম করছে। জনসাধারণের ভালোবাসা নিয়ে জাতীয় পার্টি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।’

নেতা-কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘মানুষের সেবা করতেই পল্লীবন্ধু জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি প্রতিষ্ঠা করেছেন। জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে পল্লীবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে।’

জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং জাতীয় পার্টি ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন।

তিনি বলেন, ‘জীবিত এরশাদের চেয়ে প্রয়াত এরশাদ অনেক বেশি শক্তিশালী। দেশের প্রতি প্রান্তে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সমর্থক আছেন, তারা লাঙল মার্কায় ভোট দিতে চান। সাধারণ মানুষ জাতীয় পার্টিকে আরও শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে দেখতে চান।’

এর আগে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের পর এরশাদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন, গোলাম মোস্তফা, এমএ রাজ্জাক খান, লোকমান হোসেন ভুইয়া রাজু ও তরিকুল ইসলাম বাবু।

উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হুমায়ুন খান, মাসুদুর রহমান মাসুম, মাহমুদ আলম, সমরেশ মন্ডল মানিক, মনিরুজ্জামান টিটুসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের পক্ষে, সরকারের বিপক্ষে ছাত্রলীগ নেতা
ছাত্রলীগ নেতা লাঞ্ছিত: আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার, ওসি প্রত্যাহার
মামুনুলের পক্ষে পোস্ট, আরেক ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
গাড়ি চোরের ‘মুক্তি’র দাবিতে ছাত্রলীগের পোস্টার
চাঁদাবা‌জি: গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা কারাগা‌রে   

শেয়ার করুন

খালেদাকে বিদেশ পাঠাবে সরকার, আশা ফখরুলের

খালেদাকে বিদেশ পাঠাবে সরকার, আশা ফখরুলের

গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে বিদেশে আরও উন্নত কোনও হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব কি না, এ বিষয়ে তার পরিবার থেকে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, সরকার মানবিক কারণে তার বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।’

সরকার মানবিক কারণে করোনা আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে, এমন আশা প্রকাশ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আশার কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তিনি (খালেদা) আগেও কারান্তরীণ ছিলেন, এখনও আছেন। এই অবস্থায় তার কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়। সে জন্য আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষের আকাঙ্ক্ষা বা ইচ্ছা যে তার চিকিৎসাটা পূর্ণাঙ্গ কোনও হাসপাতালে হোক। উন্নত চিকিৎসা বলতে বাংলাদেশে উন্নত যে হাসপাতাল আছে।’

ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে বিদেশে আরও উন্নত কোনও হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব কি না, এ বিষয়ে গতকাল (বুধবার) তার পরিবার থেকে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, সরকার মানবিক কারণে তার বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।

এ বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে বলে আশা করেন ফখরুল। তিনি বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার অবস্থা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছি। তাকে বিদেশে নিতে পরিবারের ইচ্ছার কথা তুলে ধরেছি। পরিবার চায় খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে।’

এ সময় করোনায় মারা যাওয়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের দশটি পরিবারের মাঝে ঈদের শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন ফখরুল।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের পক্ষে, সরকারের বিপক্ষে ছাত্রলীগ নেতা
ছাত্রলীগ নেতা লাঞ্ছিত: আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার, ওসি প্রত্যাহার
মামুনুলের পক্ষে পোস্ট, আরেক ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
গাড়ি চোরের ‘মুক্তি’র দাবিতে ছাত্রলীগের পোস্টার
চাঁদাবা‌জি: গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা কারাগা‌রে   

শেয়ার করুন

ফের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম কাদের মির্জার

ফের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম কাদের মির্জার

বসুরহাটের মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। ছবি: নিউজবাংলা

ফেসবুক পোস্টে বসুরহাটের পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা লেখেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যারা আমার ছেলেকে রক্তাক্ত করছে তাদের গ্রেপ্তার করা না হলে, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য আমি দায়ী থাকব না। আমি যত জায়গায় বিচার দিয়েছি সবাই বলেন চুপ থাকেন, অপেক্ষা করেন। আপনাদের (দেশবাসী) বলা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নাই।’

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানার ফটকের সামনে ছেলে তাশিক মির্জার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে আবারও ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জা বুধবার রাত ১২টা ২৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে এই দাবি জানান।

তিনি লেখেন, ‘আমার ছেলে তাশিক মির্জাকে তৎকালীন ওসি-তদন্ত রবিউলের উপস্থিতিতে থানার সামনে সন্ত্রাসীরা পাইপগান দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে চৌচির করে রক্তে রঞ্জিত করেছে। ওই সব সন্ত্রাসীরা হলো, কিলার বাদল, রাহাত, আকরাম উদ্দিন সবুজ, রুমেল, রিমন, কচি ও মঞ্জু... ওই দিন একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারকে সন্ত্রাসীরা হুমকি দিয়ে বলছে, মির্জার ছেলেসহ তার কোনো লোককে চিকিৎসা দিবে না। সন্ত্রাসীরা ডাক্তারদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে আমরা অন্য স্থান থেকে ডাক্তার এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।’

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, তার ছেলের ওপর হামলাকারীরা অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তার করা না হলে বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি লিখেছেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যারা আমার ছেলেকে রক্তাক্ত করছে তাদের গ্রেপ্তার করা না হলে, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য আমি দায়ী থাকব না। আমি যত জায়গায় বিচার দিয়েছি সবাই বলেন চুপ থাকেন, অপেক্ষা করেন। আপনাদের (দেশবাসী) বলা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নাই।’

এর আগে গত ১৫ এপ্রিল ফেসবুক লাইভে এসে ছেলে ও অনুসারীদের ওপর হামলার ঘটনার বিচার চেয়ে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন কাদের মির্জা।

কী হয়েছিল পৌরসভা এলাকায়

বসুরহাট পৌরসভা চত্বরে ১৫ এপ্রিল বিকেলে কাদের মির্জা ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে মির্জা কাদেরের ছেলে তাশিক মির্জাও ছিলেন। তাদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাদের মির্জার অনুসারী শাহাদাত সিফাত সেদিন দুপুরে বসুরহাট পৌরসভা ভবন থেকে ফেসবুক লাইভে এসে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা বাদলের অনুসারী ও যুবলীগ নেতাদের অকথ্য ভাষায় চরিত্রহনন করে বক্তব্য দেন।

তার এই ভিডিও ফেসবুকে দেখে বাদলের অনুসারীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা বসুরহাট বাজারে থানার সামনে জড়ো হয়ে কাদের মির্জার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

খবর পেয়ে কাদের মির্জার ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন ও ছেলে তাশিক মির্জা পৌরসভা থেকে তাদের অনুসারীদের নিয়ে জিরো পয়েন্টের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় থানার সামনে মুখোমুখি হলে তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বাদলের অনুসারীরা।

একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময় কাদের মির্জার ছেলে তাশিক উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আজম পাশা চৌধুরী রুমেলকে আটক করে নিয়ে যেতে চাইলে বাদল অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বসুরহাট পৌরসভা চত্বরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের পর আবদুল কাদের মির্জা অভিযোগ করেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই বাদলের লোকজন পৌর ভবনে আমাকে এবং আমার লোকজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। এতে আমার ছেলে তাশিক মির্জাসহ অন্তত ৮ জন অনুসারী আহত হয়েছেন।’

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন, একটি ফেসবুক লাইভকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা পৌরসভা চত্বরে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। পরে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল সমর্থক ও মেয়র আবদুল কাদের মির্জার সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।

ওই সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের বিষয়ে কিছু জানেন না বলেও জানিয়েছিলেন ওসি।

এ ঘটনার পর রাতে ছেলে তাশিকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভ এসে নোয়াখালীর পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

একই সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি খিজির হায়াত খান ও তার অনুসারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন মেয়র। দাবি না মানলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের পক্ষে, সরকারের বিপক্ষে ছাত্রলীগ নেতা
ছাত্রলীগ নেতা লাঞ্ছিত: আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার, ওসি প্রত্যাহার
মামুনুলের পক্ষে পোস্ট, আরেক ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
গাড়ি চোরের ‘মুক্তি’র দাবিতে ছাত্রলীগের পোস্টার
চাঁদাবা‌জি: গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা কারাগা‌রে   

শেয়ার করুন

সরকার করোনার পরিসংখ্যান নিয়ে মিথ্যাচার করছে: ফখরুল

সরকার করোনার পরিসংখ্যান নিয়ে মিথ্যাচার করছে: ফখরুল

‘সরকারের উদাসীনতা, অযোগ্যতা ও অবহেলার কারণে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তারা (সরকার) চিকিৎসা নিয়ে দুর্নীতি করছে। করোনার পরিসংখ্যান নিয়ে মিথ্যাচার করছে।’

সরকার করোনার (রোগী) পরিসংখ্যান নিয়ে মিথ্যাচার করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি এও বলেন, ‘সরকারের উদাসীনতা, অযোগ্যতা ও অবহেলার কারণে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তারা (সরকার) চিকিৎসা নিয়ে দুর্নীতি করছে। করোনার পরিসংখ্যান নিয়ে মিথ্যাচার করছে।’

বুধবার বিকেলে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

করোনাভাইরাস মহামারিকালে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) উদ্যোগে ‘জেডআরএফ ট্রিটমেন্ট অ্যাপ’-এর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়।

অ্যাপসটি স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মরহুম শফিউল বারী বাবুকে উৎসর্গ করা হয়। অ্যাপটির ওয়েব অ্যাড্রেস হচ্ছে-http://zrfbd.com/app/ZRF.apk|।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেডআরএফের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ এবং মো. আশরাফুল হাসান মানিক, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বিথিকা বিনতে হোসাইন, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনসহ অনেকে।

জেডআরএফের ডা. সাজিদ ইমতিয়াজের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সবার জন্য বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন জেডআরএফের সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার। অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও জেডআরএফের প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তারা (সরকার) চিকিৎসা নিয়ে দুর্নীতি করছে। আমরা দেখেছি যে হাসপাতাল উধাও হয়ে গেছে। সরকার চিকিৎসা খাতে দুর্নীতির পাহাড় গড়ছে। স্বাস্থ্য খাত এখন চরম ভঙ্গুর। যে কারণে গোটা জাতি ও দেশকে আজ বিপদের মুখে ফেলেছে।’

তিনি আরও বলেন, সরকার করোনার কারণে কিছু প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। কিন্তু সেখানেও জনগণের জন্য কিছু করা হয়নি। সেই প্রণোদনা নিয়েও দুর্নীতি করেছে। আসলে এই সরকার হচ্ছে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। এমতাবস্থায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন যা করছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

‘কেননা জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ ধরনের সেবামূলক কাজ করে আসছে। করোনার শুরু থেকেই অসংখ্য কার্যক্রম করেছে। গরিব-অসহায় মানুষের পাশে এখনও রয়েছে ফাউন্ডেশন। এখন তারা মরহুম শফিউল বারী বাবুর নামে ট্রিটমেন্ট অ্যাপ উদ্বোধন করল।’

তিনি বলেন, ‘দেশে গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় জনগণের প্রতি তাদের জবাবদিহি নেই। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করি।‘

করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন মির্জা ফখরুল।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের পক্ষে, সরকারের বিপক্ষে ছাত্রলীগ নেতা
ছাত্রলীগ নেতা লাঞ্ছিত: আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার, ওসি প্রত্যাহার
মামুনুলের পক্ষে পোস্ট, আরেক ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
গাড়ি চোরের ‘মুক্তি’র দাবিতে ছাত্রলীগের পোস্টার
চাঁদাবা‌জি: গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা কারাগা‌রে   

শেয়ার করুন

জামিন মেলেনি ছাত্র অধিকারের আখতারের  

জামিন মেলেনি ছাত্র অধিকারের আখতারের  

ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতা আখতার হোসেন। ফাইল ছবি

গত ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সামনে থেকে আখতারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরের দিন তাকে দুই দিনের পুলিশি রিমান্ডে পাঠায় আদালত। একাধিবার জামিনের আবেদন করলেও জামিন পাচ্ছেন না ছাত্র অধিকারের এই নেতা।

পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন জজ কোর্টেও জামিন পাননি।

৫ মে বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের ভার্চুয়াল আদালত আখতারের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

আসামি পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্র পক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস পাল।

গত ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সামনে থেকে আখতারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরের দিন তাকে দুই দিনের পুলিশি রিমান্ডে পাঠায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম)।

রিমান্ড শেষে গত ১৭ এপ্রিল তাকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম খান।

অপরদিকে আখতারের আইনজীবী শিশির মনির জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাকে কারাগারে রাখার আদেশ দেন।

এরপর আখতারের জামিন চেয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করা হয়।

মামলার অভিযোগে থেকে জানা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৫ মার্চ মতিঝিল থানায় ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ একটি মিছিল বের করে। সেই মিছিলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ সময় আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। আটক ওই ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পুলিশ চিকিৎসা দিতে নিয়ে গেলে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের কর্মীরা তাকে জোর করে পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় একই দিনে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন পল্টন মডেল থানার এসআই রায়হান কবির।

মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সাবেক সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, বর্তমান সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান, যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক আতাউল্লাহসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের পক্ষে, সরকারের বিপক্ষে ছাত্রলীগ নেতা
ছাত্রলীগ নেতা লাঞ্ছিত: আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার, ওসি প্রত্যাহার
মামুনুলের পক্ষে পোস্ট, আরেক ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
গাড়ি চোরের ‘মুক্তি’র দাবিতে ছাত্রলীগের পোস্টার
চাঁদাবা‌জি: গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা কারাগা‌রে   

শেয়ার করুন

খালেদাকে বিদেশ নেয়ার দাবি রাজনৈতিক: তথ্যমন্ত্রী

খালেদাকে বিদেশ নেয়ার দাবি রাজনৈতিক: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়ার) এই অসুস্থতার অজুহাতকে সামনে এনে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। করোনার চিকিৎসা তো আমাদের দেশে যা, ইংল্যান্ডেও তা, সিঙ্গাপুরেও তা, ইউরোপেও তা। সুতরাং এই ধরনের দাবি আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।’

অসুস্থতার অজুহাতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেয়ার দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপি নেত্রীর আরোগ্য কামনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘মহান স্রষ্টার কাছে আমি প্রার্থনা করি, তিনি দ্রুত আরোগ্য লাভ করে সহসা ঘরে ফিরে যান। আদালতে তার জামিন না হওয়া সত্ত্বেও আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংবিধানে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে করোনা মহামারির শুরুতেই তাকে প্রশাসনিক ক্ষমতা বলে মুক্তি দিয়েছেন এবং সেটি দুই দফা বর্ধিত করা হয়েছে।’

বিএনপি নেত্রীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোমবার এভারকেয়ার পাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে নিয়ে যেতে তার পরিবার ও দল থেকে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

সোমবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দর।

বিষয়টাকে নিছক রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়ার) এই অসুস্থতার অজুহাতকে সামনে এনে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। করোনার চিকিৎসা তো আমাদের দেশে যা, ইংল্যান্ডেও তা, সিঙ্গাপুরেও তা, ইউরোপেও তা। সুতরাং এই ধরনের দাবি আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।’

করোনা মহামারির মধ্যেও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র থেমে নেই জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, মুজিব শতবর্ষ পালন করছি, তখন ২৬ থেকে ২৮ মার্চ সারা দেশে হেফাজতের ব্যানারে তাণ্ডব চালানো হলেও এতে অংশগ্রহণ ছিল বিএনপি-জামাতের।’

নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযানের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের প্রসঙ্গটিও ওঠে আসে তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘দেখা-সাক্ষাতের কারণে দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ব্যাহত হবে না। কারণ দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

দেশবিরোধী সকল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করবে বলেও মন্তব্য করেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘সমস্ত ষড়যন্ত্র, সমস্ত প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা আমাদেরকেই ওপড়ে ফেলতে হবে, আমরা কারও ওপর ভরসা করব না। আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম, বুকে পাথর বেঁধে লড়াই-সংগ্রাম করেছি এবং সমস্ত প্রতিবন্ধকতা উপড়ে ফেলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৯৬ সালে সরকার গঠন করেছিল। তাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বলব, আজকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার কারণে যেন আমাদের আলস্যতায় পেয়ে না বসে।’

এ সময় বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দৈব-দুর্বিপাকের মধ্যেও মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহীতে বক্তৃতা দেয়, ডা. জাফরুল্লাহ ঢাকায় বক্তৃতা দেয় এবং বিভিন্নজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখে, লন্ডন থেকে লেখানো হয়। তাই এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে, ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করতে হবে, কারণ ষড়যন্ত্র থেমে নেই।’

আরও পড়ুন:
মামুনুলের পক্ষে, সরকারের বিপক্ষে ছাত্রলীগ নেতা
ছাত্রলীগ নেতা লাঞ্ছিত: আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার, ওসি প্রত্যাহার
মামুনুলের পক্ষে পোস্ট, আরেক ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
গাড়ি চোরের ‘মুক্তি’র দাবিতে ছাত্রলীগের পোস্টার
চাঁদাবা‌জি: গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা কারাগা‌রে   

শেয়ার করুন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে শাপলা চত্বরের মামলা প্রত্যাহার দাবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে শাপলা চত্বরের মামলা প্রত্যাহার দাবি

প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসা থেকে বেরিয়ে আসার পর গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন হেফাজতের সদ্য সাবেক কমিটির মহাসচিব নূরুল ইসলাম জিহাদী।

নেতা-কর্মীদের অব্যাহত গ্রেপ্তারের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে তার বাসায় বৈঠক করে শাপলা চত্বরের মামলা প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

হেফাজতের সদ্য সাবেক কমিটির মহাসচিব নূরুল ইসলাম জিহাদীর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমন্ডির বাসভবনে প্রবেশ করে।

প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসা থেকে বেরিয়ে আসেন নেতারা। এর পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন নূরুল ইসলাম জিহাদী। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককালে তাদের দাবি উত্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মন্ত্রীর কাছে হেফাজতের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। এগুলো হলো:

১. হেফাজতের গত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে গ্রেপ্তার আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ মুসলিমদের দ্রুত মুক্তি ব্যবস্থা করা।

২. দেশব্যাপী প্রেপ্তার অভিযান এখনও অব্যাহত আছে, ফলে পবিত্র রমজান মাসে ইবাদত বন্দেগি করতে না পেরে আজনা আতঙ্কে দিন পার করছেন আলেম-উলামা ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ। আপনার কাছে আবেদন গ্রেপ্তার আতঙ্ক ও হয়রানি থেকে তাদের মুক্তি দেয়া। বিশেষ করে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গণগ্রেপ্তার চলছে, এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসে আলেম-উলামা ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করতে আপনার নিকট বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি।

৩. ২০১৩ সালে হেফাজতের নেতা-কর্মীদের নামে যেসব মামলা হয়েছিল, সেগুলো প্রত্যাহতার করা।

৪. বর্তমান পরিস্থিতিতে কোরআন হাদিসের শিক্ষাকেন্দ্র কওমিমাদ্রাসগুলো সরকারি নির্দেশে বন্ধ রয়েছে। আল্লাহর রহমত পাওয়ার জন্য সেগুলো খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম জিহাদী আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে ১৯ এপ্রিল ও ২৬ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হেফাজতের প্রতিনিধি দল।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু ভারতের সরকারপ্রধান নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতায় রাজপথে নামা হেফাজত ২৬ মার্চ থেকেই ব্যাপক সহিংসতা শুরু করে। সেদিন ঢাকায় সরকার সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে ত্রাস তৈরি করে তা ছিল অবাক করার মতো।

দুই দিন পরে হরতালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ৩৮টি সরকারি-বেসরকার প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দেয় তারা। সেদিন থেকে হামলা হতে থাকে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরেও।

৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রিসোর্টে মামুনুল হক অবরুদ্ধ হওয়ার পর তাকে উদ্ধার করতে গিয়েও আওয়ামী লীগের স্থানীয় কার্যালয়েও হামলা করে হেফাজত কর্মীরা। হামলা হয় ছাত্র ও যুবলীগ নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরেও।

কেবল সেখানে নয়, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া ও সুনামগঞ্জের ছাতকেও হামলা হয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে। চট্টগ্রামে আহত এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুও হয়।

এরপর সরকার হেফাজতকে সতর্ক করে ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হয় গ্রেপ্তার অভিযান। একে একে গ্রেপ্তার করা হয় সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় অন্তত ৩০ জন নেতাকে।

১৮ এপ্রিল আলোচিত নেতা মামুনুল হক ধরা পড়ার পর হেফাজতে উদ্বেগ এতটাই বাড়ে যে, আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ফেসবুকে ভিডিওবার্তা দিয়ে তাণ্ডবের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। মাননীয় সরকার সম্বোধন করে তিনি কোনো গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানো হেফাজতের উদ্দেশ্য নয়।

এ সবে থামছে না হেফাজত নেতাদের গ্রেপ্তার অভিযান। গ্রেপ্তারকৃতদের সাম্প্রতিক মামলাসহ ২০১৩ সালের মামলাগুলোর বিষয়েও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের পক্ষে, সরকারের বিপক্ষে ছাত্রলীগ নেতা
ছাত্রলীগ নেতা লাঞ্ছিত: আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার, ওসি প্রত্যাহার
মামুনুলের পক্ষে পোস্ট, আরেক ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
গাড়ি চোরের ‘মুক্তি’র দাবিতে ছাত্রলীগের পোস্টার
চাঁদাবা‌জি: গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা কারাগা‌রে   

শেয়ার করুন