সরকার উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টায়: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

সরকার উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টায়: ফখরুল

‘(সালথায়) বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীসহ নামে-বেনামে চার হাজার সাধারণ মানুষকে আসামি করে মিথ্যা মামলা দায়ের প্রমাণ করে সরকার মহামারি করোনা মোকাবিলা নয়, বরং মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের দমন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।’

ফরিদপুরের সালথায় সহিংসতার ঘটনায় সরকার উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা দায়ের এবং গ্রেপ্তার করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের সই করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সালথায় গত সোমবার রাতে তিন ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালায় হামলাকারীরা। ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলা চত্বরে লাঠিসোঁটা নিয়ে ঢুকে থানা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এই এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালও ভাঙচুর করা হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে জানা গিয়েছিল, লকডাউন কার্যকর করার চেষ্টায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগবিতণ্ডা কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। হামলা ও সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সালথার ওই ঘটনার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন নিপীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন দলটির মহাসচিব।

‘সালথায় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ নামে-বেনামে চার হাজার জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও ইতোমধ্যে ২১ জন গ্রেপ্তার এবং হয়রানি-নির্যাতন চলছে’ অভিযোগ করে বিবৃতিতে বলা হয়, মির্জ ফখরুল এসব ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারসহ গ্রেপ্তাকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি ও সালথায় স্বাভাবিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিও জানান তিনি।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফরিদপুরের সালথায় গত ৫ এপ্রিল করোনা মোকাবেলায় সরকারের অপরিকল্পিত লকডাউনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তার কর্মচারী একজন দোকান কর্মচারীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের প্রতিবাদে স্থানীয় জনসাধারণ ব্যাপক বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

‘জনসাধারণের বিক্ষোভ দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ ও একজনকে হত্যার পর উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাতে উল্টো বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীসহ নামে-বেনামে চার হাজার সাধারণ মানুষকে আসামি করে মিথ্যা মামলা দায়ের প্রমাণ করে সরকার মহামারি করোনা মোকাবিলা নয়, বরং মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের দমন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমানে সালথায় পুলিশি গ্রেপ্তারি অভিযানের কারণে সারা এলাকা মানুষশূন্য হয়ে গেছে। সেখানে ভয়, আতঙ্ক ও বিভীষিকাময় পরিবেশ বিরাজ করছে।

‘সালথার ঘটনার সাথে বিএনপি কোনোভাবে জড়িত না থাকলেও কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পরিস্থিতির ভয়াবহতা রোধে সরকার কোনো চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে গত ৫ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য দেশে লকডাউন বা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সরকারঘোষিত লকডাউনের বিরুদ্ধে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে।

‘প্রকৃত অর্থে লকডাউন বলতে যা বোঝায় রাস্তাঘাটে তার সামান্যতম চিত্রও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বাস্তবভিত্তিক ও পরিকল্পিত কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে সরকার লকডাউন সঠিকভাবে কার্যকর করতে ব্যর্থ হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় সরকার হ-য-ব-র-ল: বিএনপি
রুমিনকে হুইপ মনোনয়ন দিল বিএনপি
বিএনপি নেতা শাহাদাতের রিমান্ড নাকচ
মিনু-দুলু-বুলবুলকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ
কারাগারে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশক

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশক

প্রায় ছয় বছর বিদেশে থাকার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে শেখ হাসিনা বিদেশে থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত করা হয় তাকে। এরপর গত চার দশক তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়া দলটির।

১৯৮১ সালের ১৭ মে বিকেল। ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দর হাজির লাখ লাখ মানুষ। তাদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে কাঁপছে বিমানবন্দর এলাকা। এমন পরিবেশে ছয় বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা।

এর আগে শেখ হাসিনা বিদেশে থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত করা হয় তাকে। এরপর গত চার দশক তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়া দলটির।

সেদিন বিমানবন্দর থেকে শেখ হাসিনা সরাসরি যান মানিক মিয়া এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে। সেদিন লাখ লাখ মানুষের সামনে তিনি বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।

‘আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেলসহ সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই।’

তার হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নানামতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দেশে ফিরেই আওয়ামী লীগকে পুনরায় সংগঠিত করেন তার কন্যা শেখ হাসিনা।

সেদিনের স্মৃতিচারণ করে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আজ থেকে ৪০ বছর আগে বঙ্গবন্ধুর রক্তে গড়া পতাকা আমরা প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিয়েছিলাম। সে পতাকা হাতে জেল-জুলুম নির্যাতনের মুখে ৪০ বছরে তিনি আওয়ামী লীগকে এই উপমহাদেশের শক্তিশালী একটি সংগঠনের রূপান্তর করেছেন।

‘যেদিন আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা বাংলার মাটি স্পর্শ করেছিলেন সেদিন ছিল ঝড়-বৃষ্টি। আমরা স্লোগান তুলেছিলাম “ঝড় বৃষ্টি আঁধার রাতে, শেখ হাসিনা আমরা আছি তোমার সাথে”। এই গগন বিদারী স্লোগানে আমরা তাকে বরণ করেছিলাম। লক্ষ লক্ষ লোক সেদিন কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসেছিল। আমার নিজের কাছে মনে হয়েছিল শেখ হাসিনার বেশে আমরা বঙ্গবন্ধুকেই বরণ করছি।’

আওয়ামী লীগের আরেক প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু বলেন, ‘৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হারানোর পর তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে ১৭ মে’র মতো এমন একটি শুভ দিনের অপেক্ষায় ছিল বাঙালি। শেখ হাসিনার মাঝে বঙ্গবন্ধুকে খুঁজে পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিল তারা। তাই তো দীর্ঘদিন নির্বাসন শেষে শেখ হাসিনার স্বদেশ ফেরার দিন বিমানবন্দরে ছিল বাঁধ ভাঙা মানুষের জোয়ার।

‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ভূলণ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে দল ভাঙার রাজনীতি, রাজনীতিবিদদের চরিত্র হনন, সর্বোপরি রাজনীতিকে বিরাজনীতিকরণের মাধ্যমে দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এই প্রতিকূল অবস্থায় দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করে দেশকে আজ উন্নয়ন আর অগ্রগতির পথে নিয়ে এসেছেন শেখ হাসিনা।’

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের নিজ বাসভবনে সপরিবারে হত্যা করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। সে সময় ছোট বোন শেখ রেহানাসহ জার্মানিতে ছিলেন শেখ হাসিনা। এ কারণেই বেঁচে যান তারা।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর নানা পথ পাড়ি দিয়ে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়ে পড়ে নানা ভাগে। ১৯৭৯-৮০ সালের দিকে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ভারত সফর করে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসতে শেখ হাসিনাকে রাজি করানো।

১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হয়। এতে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাকে সভাপতি নির্বাচিত করেন দলটির নেতারা। ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি আব্দুল মালেক উকিল, ড. কামাল হোসেন, জিল্লুর রহমান, তোফায়েল আহমেদসহ কয়েকজন নেতা দিল্লি সফর করেন। পরবর্তী চারদিন সেখানে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বেই কয়েকটি বৈঠকে অংশ নেন তারা।

ওই বছরেরই ১৬ মে শেখ হাসিনা ও তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ দিল্লি থেকে কলকাতা আসেন। কলকাতা থেকে ১৭ মে আসেন ঢাকায় তারা।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আজকে বারবার মনে হয়, ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর রক্তে গড়া পতাকা আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিয়ে আমরা সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলাম। তিনি একমাত্র নেত্রী যিনি ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে ১৫ জুলাই ২০০১ সালে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন।

‘সর্বমোট চারবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে বাংলাদেশকে আলোকিত করেছেন। আজ বাংলাদেশ অন্ধকার থেকে আলোকিত হয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎসহ অনেক উন্নয়নমূলক কাজ তিনি করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন। আজ সারা বিশ্ব কোভিড নাইন্টিনে আক্রান্ত। বাংলাদেশও আক্রান্ত হয়েছিল। কিন্তু দেখেন আপনারা গত কয়েক দিনে ধীরে ধীরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপে বাংলাদেশে এ হার কমে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শূন্য হাতে শুরু করেছিলেন দুটি বিষয়কে সামনে রেখে। একটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, আরেকটি অর্থনৈতিক উন্নতি। বাংলার স্বাধীনতা তিনি এনে দিয়েছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তি বঙ্গবন্ধু শেষ করে যেতে পারেননি। সে অসমাপ্ত কাজ তার কন্যা শেখ হাসিনার হাতে শেষ হতে চলেছে।’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথ ধরেই তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে নিয়ে যাচ্ছেন উন্নয়নের মহাসড়কে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন তিনি। মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতার বাড়ি ও পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও কর্ণফুলী টানেলের কাজ এগিয়ে চলেছে দ্রুত গতিতে। এই অগ্রযাত্রা শেখ হাসিনার স্বদেশে ফিরে আসার ফল।

‘প্রধানমন্ত্রীর সাহসী পদক্ষেপে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধের বিচার যেমন সম্পন্ন করে চলেছেন, তেমনি ছিটমহল সমস্যার সমাধান, সমুদ্রসীমানা বিরোধেরও নিষ্পত্তি করেছেন শেখ হাসিনা।’

কর্মসূচি

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশব্যাপী প্রতিবছর বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করলেও এবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দিবসটি পালন করবে।

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশকপূর্তি উপলক্ষে ‘শেখ হাসিনার চার দশক: বদলে যাওয়া বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটি।

এই তথ্যচিত্র প্রদশর্নীর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।

দুই দিনব্যাপী (১৬ ও ১৭ মে) এই প্রদর্শনী ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটি উপলক্ষে সোমবার বেলা ১১টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর এবং বিকেল ৩টায় মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠান হবে।

এ ছাড়া সারা দেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হবে।

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় সরকার হ-য-ব-র-ল: বিএনপি
রুমিনকে হুইপ মনোনয়ন দিল বিএনপি
বিএনপি নেতা শাহাদাতের রিমান্ড নাকচ
মিনু-দুলু-বুলবুলকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ
কারাগারে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক

শেয়ার করুন

আইন-আদালতকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে সরকার: ফখরুল

আইন-আদালতকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে সরকার: ফখরুল

ঠাকুরগাঁওয়ে রোববার জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। আজও তারা সেই শাসন ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠা করতে উঠে পড়ে লেগেছে। আইন আদালতকে তারা ইচ্ছে মতো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

সরকার আইন-আদালতকে নিজের সুবিধায় ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঠাকুরগাঁওয়ের আশ্রমপাড়ায় হাওলাদার গেস্ট হাউজে রোববার জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, ‘আইনশৃংখলা বাহিনীকে সরকার নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে তারা ধ্বংস করেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে আইন বলতে কিছু নেই, বিচার বলতে কিছু নেই। সবকিছু মিলিয়ে সরকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে চরম দু:সময় চলছে। করোনা মহামারির কারণে বিশ্বে খুব খারাপ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মহামারি ভয়ংকরভাবে আঘাত করতে পারে, তার নমুনা দেখছি।

‘দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অবস্থা খুব খারাপ। অসংখ্য মানুষ কর্মচ্যুত হয়েছে। দেশের প্রধান প্রধান খাত থেকে আয়ের পরিমান কমে গেছে। সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের মানুষের মূল আশা আকাংশা ছিল একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক সার্বোভৌম রাষ্ট্র নির্মাণ করা। যেখানে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু থাকবে, দায়িত্ববোধ থাকবে; এসব বিষয় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অত্যন্ত সুচারুভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। আজও তারা সেই শাসন ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠা করতে উঠে পড়ে লেগেছে। আইন আদালতকে তারা ইচ্ছে মতো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিলের মধ্য দিয়ে তারা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার চেষ্টা করছে। দেশের মানুষের অধিকার হরণের জন্য যে হাতিয়ার তৈরি করা দরকার, সেটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের মাধ্যমে তারা করেছে।’

ফখরুল বলেন, ‘নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে ডিজিটাল সিকিউরিটিসহ যে আইনগুলো সরকার প্রণয়ন করেছে, তাতে মানুষের স্বাধীনতা শুণ্যের কোটায় চলে এসেছে।

‘সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ তাদের মত প্রকাশ করতে পারছে না। তারা কিছু লিখলেই বা বললেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এতে ৭ বছরের বাচ্চা থেকে শুরু করে গৃহবধূ পর্যন্ত কেউ ছাড় পাচ্ছে না। এ আইনের আওতায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জামিন পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না।’

সভায় অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী আব্দুল হালিম, বদিউজ্জামান বাদল, এনতাজুল হক, জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহসভাপতি আল মামুন আলমসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় সরকার হ-য-ব-র-ল: বিএনপি
রুমিনকে হুইপ মনোনয়ন দিল বিএনপি
বিএনপি নেতা শাহাদাতের রিমান্ড নাকচ
মিনু-দুলু-বুলবুলকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ
কারাগারে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক

শেয়ার করুন

দেড় মাসের মাথায় কাদের মির্জা ফের আওয়ামী লীগে

দেড় মাসের মাথায় কাদের মির্জা ফের আওয়ামী লীগে

বসুরহাট পৌর মিলনায়তনে রোববার বিকেলে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। ছবি: নিউজবাংলা

কাদের মির্জা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গ্রিন সিগনালে আমি আবারও আওয়ামী লীগের ছায়াতলে ফিরে এলাম। অন্য যারা আমাদের সঙ্গে আসতে চায় আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাবো।’

পদত্যাগের দেড় মাসের মাথায় আবারও আওয়ামী লীগে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

বসুরহাট পৌর মিলনায়তনে রোববার বিকেল ৪টার দিকে নিজের অনুসারিদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গ্রিন সিগনালে আমি আবারও আওয়ামী লীগের ছায়াতলে ফিরে এলাম। অন্য যারা আমাদের সঙ্গে আসতে চায় আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাবো।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব যেটা বলবেন সেটাই হবে। এটা উনার সংসার। তিনি যাদেরকে ঘোষণা দিবেন তারাই আওয়ামী লীগের নেতা হবেন। তবে আমরা ইস্কান্দার হায়দার বাবুল ও মো. ইউনুসের নেতৃত্বে আছি। আশা করি তিনি (ওবায়দুল কাদের) আমাদের নিরাশ করবেন না।’

তিনি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা নিজেদের দোষের কারণে কেউ বাদ পড়লে তাতে আমরা দায়ী না। কারণ মনোনয়ন দিবেন ওবায়দুল কাদের ও জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাদের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত।’

পরে উপস্থিত সবাইকে মিষ্টি খাওয়ান মেয়র কাদের মির্জা। এছাড়া কেন্দ্র থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধারণের অনুরোধ করেন তিনি।

পুনর্মিলনীতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ ইউনুছ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নাছের, আজিজুল হক, জামাল উদ্দিন, আজিজ, জামাল উদ্দিন, আবুল খায়ের, ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন লিটন, মোজাম্মেল হোসেন কামরুল, ইকবাল বাহার চৌধুরীসহ অনেকে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা গত ডিসেম্বরে বসুরহাট পৌরসভায় পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হন। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলে আলোচনায় আসেন তিনি।

গত ৩১ মার্চ নিজের ফেসবুক পেজে কাদের মির্জা আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আর নির্বাচন করবেন না বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় সরকার হ-য-ব-র-ল: বিএনপি
রুমিনকে হুইপ মনোনয়ন দিল বিএনপি
বিএনপি নেতা শাহাদাতের রিমান্ড নাকচ
মিনু-দুলু-বুলবুলকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ
কারাগারে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক

শেয়ার করুন

রাজনীতিকের সীমানা পেরিয়েছেন শেখ হাসিনা: কাদের

রাজনীতিকের সীমানা পেরিয়েছেন শেখ হাসিনা: কাদের

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যার পর কোনো সরকারই আর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনাকে দেশে ফেরার অনুমতি দেয়নি। বেলজিয়াম, জার্মানি ঘুরে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক আশ্রয় হয় ভারতে। সেখান থেকে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা রাজনীতিকের সীমানা পেরিয়ে রাষ্ট্রনায়কে রূপান্তর হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রোববার ‘শেখ হাসিনার চার দশক: বদলে যাওয়া বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক এক তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে এই আয়োজন করে দলের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটি।

অনুষ্ঠানে কাদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা রাজনীতিকের সীমানা পেরিয়ে রাষ্ট্রনায়কে রূপান্তর হয়েছেন। সংগ্রামী নেতা থেকে তিনি আজ কালজয়ী রাষ্ট্রনায়ক।

‘শেখ হাসিনা একজন সংগ্রামী নেতা থেকে এখন জনপ্রিয় রাজনৈতিক ও উন্নয়নের নেতা হিসেবে পরিণত হয়েছেন। শেখ হাসিনার জন্যই জাতি আজ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পেরেছে।’

কাদের বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) এসেছিলেন বলেই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে, তাই বাংলাদেশ পাপমুক্ত ও কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘শেখ হাসিনার মতো নেতৃত্ব আছে বলেই বাংলাদেশ আজ সীমান্ত ও ছিটমহল সমস্যার সমাধান এবং সমুদ্রসীমা জয়লাভ করেছে। গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য পাওনা বুঝে পেয়েছে, অন্য বিষয়ও সমাধান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা ফিরে এসেছিলেন বলেই নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ এখন প্রায় শেষের দিকে। পাশাপাশি অন্যান্য মেগা প্রকল্প, বিশেষ করে মেট্রোরেলসহ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম নদীর তলদেশ দিয়ে বঙ্গবন্ধু ট্যানেল নির্মাণ হচ্ছে।

‘বাংলাদেশ আজ নিজস্ব স্যাটেলাইট যুগেও প্রবেশ করেছে, যার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ আজ পারমাণবিক বোমা ছাড়া আর্থসামাজিক সকল সূচকে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করার সময় স্বামীর সঙ্গে দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা।

ওই ঘটনার পর দেশে ফিরতে পারছিলেন না তারা। তাদের দেশে ফেরার অনুমতি দেয়নি ১৫ আগস্টের পরের সরকারগুলো।

বেলজিয়াম, জার্মানি ঘুরে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক আশ্রয় হয় ভারতে। সেখান থেকে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন তিনি।

দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। সে সময় থেকেই আওয়ামী লীগকেও নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশে সবচেয়ে সফল, সাহসী ও মানবিক রাষ্ট্রনায়কের নাম শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা সবচেয়ে সফল কূটনীতিকের নাম। শেখ হাসিনার চলার পথ কখনো পুষ্প বিছানো ছিল না, তবুও তিনি এগিয়ে গেছেন মানুষের মুক্তির জন্য, অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য।

‘তিনি এসেছিলেন বলেই কলহ-কোন্দলে জর্জরিত আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। শেখ হাসিনা আজ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও চার দশক অতিক্রম করেছেন।’

দলের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটি মনে করছে, তথ্যচিত্রটির মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণপুনরুদ্ধারের সংগ্রাম জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম। জানতে পারবে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ইতিহাস।

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় সরকার হ-য-ব-র-ল: বিএনপি
রুমিনকে হুইপ মনোনয়ন দিল বিএনপি
বিএনপি নেতা শাহাদাতের রিমান্ড নাকচ
মিনু-দুলু-বুলবুলকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ
কারাগারে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: দুই দিনের তথ্যচিত্র প্রদর্শনী

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: দুই দিনের তথ্যচিত্র প্রদর্শনী

প্রায় ছয় বছর বিদেশে থাকার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটি বলছে, এই তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণ পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম। জানতে পারবে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ইতিহাস।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশক পূর্তি উপলক্ষে দুইদিন ব্যাপী তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটি।

এই তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর নাম দেয়া হয়েছে ‘শেখ হাসিনার চার দশক: বদলে যাওয়া বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা’।

রোববার বেলা ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রদর্শনী শেষ হবে সোমবার।

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটির সদস্য সচিব ড. সেলিম মাহমুদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এই তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণ পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম। জানতে পারবে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ইতিহাস প্রসঙ্গে।

এই তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণ পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে সংযুক্ত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ড. মশিউর রহমান। আর বঙ্গবন্ধু ভবন প্রান্ত থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মামুন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করার সময় স্বামীর সঙ্গে দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। সঙ্গে ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানাও।

ওই ঘটনার পর দেশে ফিরতে পারছিলেন না তারা। তাদের প্রত্যাবর্তনে অনুমতি দিচ্ছিল না ১৫ আগস্ট পরবর্তী সরকারগুলো। বেলজিয়াম, জার্মানি ঘুরে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক আশ্রয় নেন ভারতে। সেখান থেকে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন তিনি। হাল ধরেন আওয়ামী লীগের।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ছাড়াও সারা দেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হবে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা হবে। ওই দিনই বেলা তিনটায় মহানগর নাট্য মঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে হবে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠান।

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় সরকার হ-য-ব-র-ল: বিএনপি
রুমিনকে হুইপ মনোনয়ন দিল বিএনপি
বিএনপি নেতা শাহাদাতের রিমান্ড নাকচ
মিনু-দুলু-বুলবুলকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ
কারাগারে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক

শেয়ার করুন

রাজধানীতে যুবলীগ নেতাকে গুলি

রাজধানীতে যুবলীগ নেতাকে গুলি

আহত সাইফুল ২ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সবুজবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) আক্তারুল ইসলাম বলেন, ‘কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, কারা করেছে তা এখনও জানা যায়নি। আমাদের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।’

খিলগাঁও ফ্লাইওভারের সংলগ্ন এলাকায় সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবলীগ নেতা গুলিতে আহত হয়েছেন।

তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের ২ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাকে কে গুলি করেছে, সেই বিষয়টি এখনও জানাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে অতীশ দীপঙ্কর সড়কে চায়না পার্ক রেস্টুরেন্টের পাশে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সাইফুলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সবুজবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) আক্তারুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, কারা করেছে তা এখনও জানা যায়নি। আমাদের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।’

ঘটনার সময় সাইফুল একাই ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে তার ভাষ্যের ওপরই নির্ভর করতে হবে। কিন্তু এখনও তার কাছ থেকে জানার মতো পরিস্থিতি হয়নি বলেও জানান আক্তারুল ইসলাম।

বলেন, ‘আহত ব্যক্তি স্থানীয় বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় সরকার হ-য-ব-র-ল: বিএনপি
রুমিনকে হুইপ মনোনয়ন দিল বিএনপি
বিএনপি নেতা শাহাদাতের রিমান্ড নাকচ
মিনু-দুলু-বুলবুলকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ
কারাগারে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক

শেয়ার করুন

‘বিএনপি আমলের নির্যাতনের পুনরাবৃত্তির নজির নেই’

‘বিএনপি আমলের নির্যাতনের পুনরাবৃত্তির নজির নেই’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীদের নাকি গত এক যুগ ধরে ঈদ নেই এবং তাদের হত্যা করা হচ্ছে ও মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। আপনারা কি ভুলে গেছেন ২০০১ সালে ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর যে নির্মম নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছিলেন?’

এই সরকারের আমলে বিএনপি আমলের নির্যাতনের পুনরাবৃত্তির কোনো নজির নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার সকালে নিজের বাসভবনে এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সমালোচনা করে তিনি এ কথা বলেন।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দেয়া শেষে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ঈদ বলতে আমরা সব সময় যেটা বুঝি, সেই ঈদ গত এক যুগ ধরে আমাদের নেই। কারণ মিথ্যা মামলা দেয়া এবং নেতা-কর্মীদের গুম করা হয়েছে। এমন একটা অবস্থা, যেন এই দেশে শুধু আমাদের নেতা-কর্মীরাই আসামি।’

এই মন্তব্যের সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীদের নাকি গত এক যুগ ধরে ঈদ নেই এবং তাদের হত্যা করা হচ্ছে ও মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। আপনারা কি ভুলে গেছেন ২০০১ সালে ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর যে নির্মম নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছিলেন?

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির আমলের নির্যাতনের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর কোনো নজির স্থাপন করেনি শেখ হাসিনা সরকার।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির আমলে মা-বাবা মারা গেলেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা গ্রামের বাড়ি যেতে পারেননি, দাফনকাফনের শেষ সুযোগটুকুও দেয়া হয়নি। মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদের নামাজ পড়া অবস্থায়ও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

‘কতটা নিষ্ঠুর এবং অমানবিক হলে তারা এমনটা করতে পেরেছে। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী এলাকায় বাড়িঘরে যেতে পারেননি। সেই ইতিহাস বেশি দিন আগের নয়।’

এ সময় করোনা প্রসঙ্গেও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ সরকারের সর্বাত্মক চেষ্টায় কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হলেও ঈদের পরে কর্মস্থলে ফিরতে মানুষের বাঁধভাঙা জনস্রোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এমতাবস্থায় জনসমাগম এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা পালন করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

ব্রিফিংয়ে ১৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচিও ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘১৬ ও ১৭ মে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটি তথ্য ও সংবাদচিত্র প্রদর্শনের অনুষ্ঠান করবে। ১৬ মে বেলা ১১টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে।

‘১৭ মে বেলা ১১টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা। ওই দিন বেলা ৩টায় মহানগর নাট্য মঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দোয়া মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠান।’

এ ছাড়াও সারা দেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় সরকার হ-য-ব-র-ল: বিএনপি
রুমিনকে হুইপ মনোনয়ন দিল বিএনপি
বিএনপি নেতা শাহাদাতের রিমান্ড নাকচ
মিনু-দুলু-বুলবুলকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ
কারাগারে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক

শেয়ার করুন