‘ভাঙা বাসদ’ ভেঙে নতুন বাম দল

বাসদ (মার্কসপন্থি) ভেঙে আত্মপ্রকাশ হলো বামপন্থি রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন’ এর। ছবি: নিউজবাংলা

‘ভাঙা বাসদ’ ভেঙে নতুন বাম দল

বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন নামে নতুন দলটির সমন্বয়ক শুভ্রাংসু চক্রবর্তী বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক বামপন্থি রাজনৈতিক দল থাকলেও এর কোনোটাই সঠিক মার্কসবাদী বিপ্লবী দল হিসেবে গড়ে ওঠেনি। একটি বিপ্লবী দল গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করছি।’

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) থেকে ভেঙে গঠিত হওয়া মার্কসপন্থি বাসদও আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে গেল। ফল হিসেবে আবির্ভুত হলো ‘বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন’ নামে নতুন আরও একটি বামপন্থি দল।

এই নিয়ে অনেক ধরে গুঞ্জন চললেও শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দলের নাম ঘোষণা করলেন বাসদ (মার্কসপন্থি) থেকে ছিটকে যাওয়ারা।

সংবাদ সম্মেলনে ৩৭ জন সদস্য নিয়ে নতুন দলের নাম ঘোষণা করেন শুভ্রাংসু চক্রবর্তী। দলের সমন্বয়ক হিসেবেও আছেন তিনি নিজেই।

বাসদ (মার্কসপন্থি) ভেঙে নতুন দল গড়া প্রসঙ্গে শুভ্রাংশু জানান, ২০১৩ সালে বাসদ থেকে বেরিয়ে এসে কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরীর নেতৃত্বে বাসদ (মার্কসবাদী) গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু দল ঘোষণার কিছুদিন পরেই পুরানো দলের অনেক রাজনৈতিক সাংগঠনিক সমস্যা পুনরাবৃত্তি শুরু হয়।

তিনি বলেন, ‘অতীতের বাসদ রাজনীতির যথার্থ মূল্যায়ন এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন ঐ দলটি পরিচালনার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সে পথে হাঁটেনি। বরং কেন্দ্রীয় কার্য পরিচালনা কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অযৌক্তিক, মনগড়া সিদ্ধান্ত মূল্যায়নের নামে দলের ওপর চাপিয়ে দেয়া হতো।

‘ফলে ভুল থেকে বের হয়ে আসা এবং পেটিবুর্জোয়া রাজনীতির সঙ্গে ছেদ ঘটানোর কোনো সম্ভাবনা থাকল না। মূল্যায়নের ভিত্তিতে আমরা বলেছিলাম, বাসদ (মার্কসবাদী) অতীতের পেটিবুর্জোয়া রাজনীতির সঙ্গে ছেদ ঘটাতে পারেনি। শ্রমিক শ্রেণির পার্টি পরিচালনার মূলনীতি গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতা ও নেতৃত্বের চর্চার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে না।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাসদে (মার্কসপন্থি) সাধারণ সম্পাদকের স্বেচ্ছাচারিতা, সমালোচনা গ্রহণ না করে দ্বিমত পোষণকারীদের কোণঠাসা করা হতো। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রেও গণআন্দোলন, শ্রেণি সংগ্রামের উদ্যোগী না হয়ে গতানুগতিক কর্মসূচির মধ্যে দল গণ্ডিবদ্ধ হয়ে পড়ে দলের কার্যক্রম।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নির্ধারিত ফোরামের ১৬ নেতা কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্তী লিখিত বক্তব্যের ভিত্তিতে দলের কেন্দ্রীয় কার্য পরিচালনা কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে সংগ্রামের সূচনার আহ্বান জানান। কিন্তু সে আহ্বানে কর্ণপাত না করে কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্তীসহ ১৬ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হলে দল ভাঙনের মুখে পড়ে।

শুভ্রাংসু চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশে অনেক বামপন্থি রাজনৈতিক দল থাকলেও এর কোনোটাই সঠিক মার্কসবাদী বিপ্লবী দল হিসেবে গড়ে ওঠেনি। একটি বিপ্লবী দল গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করছি। কমিউনিস্ট পার্টি পড়ার নীতিগত ও পদ্ধতিগত সংগ্রামের নানা দিক এবং অতীত রাজনীতির অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা কথা বলছি। এটি একটি পার্টি গঠন-প্রক্রিয়া।

“এ প্রক্রিয়াকে আরও মূর্ত করার জন্যে একটি নতুন নামকরণ এবং একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করা প্রয়োজন মনে করেছি। সে প্রয়োজন থেকেই আমরা নতুন নাম ‘বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন’ ঘোষণা করছি। ইংরেজিতে এটি Communist Movement Of Bangladesh (CMB)।”

শুভ্রাংসু জানান, বিপ্লবী দলের অত্যাবশ্যকীয় শর্তাবলী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন পার্টি গঠন প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হবে। পুঁজিবাদী শাষণমূলক ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের লক্ষ্যে কাজ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শ্রমিকশ্রেণির বিপ্লবী মতাদর্শ মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ভিত্তিতে গণ-আন্দোলন, শ্রেণিসংগ্রাম এবং দল গড়ার নীতিগত ও পদ্ধতিগত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ দল গঠন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনা নিয়ে সর্বদলীয় কমিটি কেন: ফখরুলকে কাদের

করোনা নিয়ে সর্বদলীয় কমিটি কেন: ফখরুলকে কাদের

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মানায় উদাসীন মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

‘এখানে সর্বদলীয় বিষয়ের চেয়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতামতই বেশি জরুরি। বিশ্বের কোনো দেশে সংক্রমণ রোধ কিংবা চিকিৎসায় সর্বদলীয় কমিটির নজির নেই। টিকা ব্যবস্থাপনায় কোথাও কোথাও এ ধরনের কমিটি হলেও করোনার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এমন দৃষ্টান্ত নেই।’

করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে সর্বদলীয় কমিটি গঠন করার বিষয়ে বিএনপি যে প্রস্তাব দিয়েছে, সেটি নাকচ করে দিয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলে, ‘এখানে সর্বদলীয় বিষয়ের চেয়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতামতই বেশি জরুরি।’

শনিবার সকালে নিজ বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছিলেন ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় প্রধান নেতা।

কাদের বলেন, ‘বিএনপি এখন সর্বদলীয় মতামত গ্রহণের কথা বলছে, এর আগেও তারা সর্বদলীয় কমিটির কথা বলেছিল। করোনা কোনো রাজনৈতিক সমস্যা নয়, দেশে করোনাবিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটি রয়েছে। অতএব সরকার বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শক কমিটির মতামত এবং সুপারিশের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।

‘এখানে সর্বদলীয় বিষয়ের চেয়ে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতামতই বেশি জরুরি। বিশ্বের কোনো দেশে সংক্রমণ রোধ কিংবা চিকিৎসায় সর্বদলীয় কমিটির নজির নেই। টিকা ব্যবস্থাপনায় কোথাও কোথাও এ ধরনের কমিটি হলেও করোনার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এমন দৃষ্টান্ত নেই।’

আগের দিন এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে একটি সর্বদলীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘আমরা আবারও প্রস্তাব রাখছি, এখনও সময়ে আছে, সর্বদলীয় কমিটি গঠন করে, জনগণকে সম্পৃক্ত করুন। তাহলেই শুধুমাত্র এই সমস্যার সমাধান করা যাবে। যে বিশাল চ্যালেঞ্জ, তা জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া সম্ভব নয়।’

সর্বদলীয় কমিটি গঠন করে কী হবে, তার ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ‘জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হলে রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তি ও সকল স্তরের মানুষকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। মানুষকে এই ব্যাধির ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। আসুন আমরা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগ নেই; মানুষ বাঁচাই, দেশ বাঁচাই।’

তবে করোনা নিয়ে রাজনীতি না করে বিএনপিকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কাদের। বিএনপিকে তিনি বলেন, ‘সরকারের অন্ধ সমালোচনা না করে গঠনমূলক পরামর্শ দিন। সরকার যে কোনো গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানায়।

‘সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রতিদিন মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড বাজাবে, গুজব ছড়াবে, উসকানি দেবে- আর এসবের জবাব দিলে বিএনপি নেতাদের গাত্রদাহ হয়, আসলে সবকিছু নিয়ে রাজনীতি করা এবং রাজনৈতিক বাতাবরণ দিয়ে বিতর্কিত করাই এখন বিএনপির রাজনীতি।’

বিএনপি করোনার টিকা নিয়েও অপরাজনীতি করেছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘এখন লকডাউন নিয়ে নানান অপপ্রচার ও উসকানি দিচ্ছে। বিএনপির অপরিণামদর্শী বক্তব্য ও উসকানিতে অনেকে স্বাস্থ্যবিধির প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে।’

সমালোচনার তীর ছোড়া আর মিথ্যাচারের বিষবাষ্প ছড়ানো ছাড়া বিএনপি করোনাকালে জনকল্যাণে কী করেছে- সে প্রশ্নও রাখেন কাদের। বলেন, ‘আপনারা তো সকালে ঘুম থেকে জেগেই বলেন সরকারের সমন্বয় নেই।’

করোনা মোকাবেলায় সরকারের সফলতা তুলে ধরে কাদের বলেন, ‘মহামারি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে গড়ে তোলা হয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।

‘মানুষের জীবনের পাশাপাশি জীবিকার সুরক্ষায় সরকার সচেষ্ট। এমতাবস্থায় জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করা প্রকারান্তরে সংক্রমণ রোধ বাধাগ্রস্ত করা। বিএনপি অপকৌশল করে সম্মুখসারির যোদ্ধাদের মনবলে চিড় ধরাতে চায়, কিন্তু তারা সফল হবে না।’

এর আগে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা সংযোগ সড়কসহ কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়কের চারলেন উন্নীতকরণ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন সেতুমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে দেশের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দ্রুত, নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ মহাসড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

‘ইতোমধ্যেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় কোরিয়ান ইপিজেড, চাইনিজ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (কর্ণফুলী) টানেল। টানেল সংযোগ সড়কটি আনোয়ারার উপর দিয়ে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সাথে পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে সংযুক্ত করবে।’

কাদের বলেন, ‘পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী সড়কের পাশে কর্ণফুলী টানেলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি। এ বাস্তবতায় শিকলবাহা হতে কালাবিবির দীঘি পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার এবং আনোয়ারা সদর উপজেলা হতে কালাবিবির দীঘি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটারসহ মোট সাড়ে ১১ কিলোমিটার মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।

‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪০৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ১১ কিলোমিটার মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ ছাড়াও শিকলবাহা, কর্ণফুলী টানেল সংযোগস্থল এবং কালাবিবির দীঘিতে তিনটি ইন্টারসেকশন নির্মাণ করা হবে।’

শেয়ার করুন

লকডাউনে এখন লেজে-গোবরে অবস্থা: মির্জা ফখরুল

লকডাউনে এখন লেজে-গোবরে অবস্থা: মির্জা ফখরুল

এখন লকডাউন দেয়া হয়েছে, কিন্তু লকডাউন বলতে যা বোঝায়, তার কোনোটাই এখানে মানা হয়নি। উপরন্তু যেদিন নির্দেশ দেয়া হলো, তার পরের দিনই তা বদলে দেয়া হলো গণপরিবহন এবং আজকে শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেয়া হয়েছে।

সরকারের সমন্বয়হীনতা, পরিকল্পনার অভাব ও উদাসীন আচরণের কারণেই করোনা মহামারি কঠিন আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, সরকারের লকডাউন এখন লেজে-গোবরে অবস্থা হয়ে গেছে। শুক্রবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন করা হবে। জনগণ জানে না তার বিকল্প কী ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোজার সময় এই সর্বাত্মক লকডাউন কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে সে সম্পর্কে কোনো রোডম্যাপ দেয়া হয়নি। এটাও দেখিনি, সরকারের দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি এই নির্দেশনা নিয়ে জনগণের সামনে উপস্থিত হয়েছে।’

‘আমাদের দেশের অভিজ্ঞরা বলেছিল করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সুনামীর মতো আসবে’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার প্রকৃতপক্ষে ব্যর্থ হয়েছে জনগণের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষা দিতে। সরকারের ভয়াবহ রকমের সমন্বয়হীন ও কৌশলগত পরিকল্পনার অভাবে আজকে সমস্যাটি একটা বড় রকমের জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ‘৫ই জানুয়ারি করোনার নতুন স্ট্রেইন যখন ধরা পড়ে, তখন সরকার তা গোপন রাখে। সময় ক্ষেপণ করে। বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সকল কর্মসূচি স্থগিত করেছিলাম। সরকারকেও আমরা কর্মসূচি স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার জনস্বার্থ উপেক্ষা করে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমগ্র প্রশাসনকে ব্যস্ত রেখে দিয়েছিল। এর ফলে করোনা সংক্রণে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘করোনা সংক্রমণে জাতীয় পরামর্শক কমিটি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল না। পরামর্শক কমিটির সিদ্ধান্ত মানা হয়নি। সরকারি সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানতেন না, এটা প্রথম দিকের কথা বলছি। এখন লকডাউন দেয়া হয়েছে, কিন্তু লকডাউন বলতে যা বোঝায়, তার কোনোটাই এখানে মানা হয়নি। উপরন্তু যেদিন নির্দেশ দেয়া হলো, তার পরের দিনই তা বদলে দেয়া হলো গণপরিবহন এবং আজকে শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেয়া হয়েছে। সহজ বাংলায় যাকে বলে লেজে-গবরে অবস্থা হয়ে গেছে।’

শেয়ার করুন

অস্থিতিশীলতার অপপ্রয়াস কঠোর হাতে দমন: কাদের

অস্থিতিশীলতার অপপ্রয়াস কঠোর হাতে দমন: কাদের

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ধর্মের দোহাই দিয়ে, ধর্মকে ঢাল বানিয়ে জনগণের সম্পদ বিনষ্টের অপচেষ্টা আর সহ্য করা হবে না। কতিপয় স্বার্থান্বেষী ও উচ্চবিলাসী লোকের স্বপ্নপূরণে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোন অপপ্রয়াস জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার কঠোর হাতে দমন করবে।’

দেশ অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপপ্রয়াস জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর হাতে দমনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

নিজের সরকারি বাসভবন থেকে শুক্রবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

কাদের বলেন, ‘ধর্মের দোহাই দিয়ে, ধর্মকে ঢাল বানিয়ে জনগণের সম্পদ বিনষ্টের অপচেষ্টা আর সহ্য করা হবে না। এদেশের মুসলমানরা কোন অপশক্তি বা ধর্মব্যবসায়ীদের কাছে তাদের ধর্ম বিশ্বাস ইজারা দেয়নি।

‘কতিপয় স্বার্থান্বেষী ও উচ্চবিলাসী লোকের স্বপ্নপূরণে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোন অপপ্রয়াস জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার কঠোর হাতে দমন করবে।’

বিএনপির হুমকি ধমকি আষাঢ়ের তর্জন-গর্জন মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলন সংগ্রামে ব্যর্থ হয়ে লন্ডনের নেতৃত্বকে খুশি করতে এবং কর্মীদের রোষানল থেকে বাঁচতে আইসোলেশন থেকে হাঁক-ডাক ছাড়ছে বিএনপি।

রাজনীতিকে বিএনপি জনগণের দ্বার থেকে তুলে আবাসিক রূপ দিয়েছে বলেও দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘করোনার এই সময়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা দলের পক্ষে অসহায় মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করছে। তৃণমূলে পৌঁছে গেছে সরকারি সহায়তা। আর বিএনপি দরজা জানালা বন্ধ করে লিপ সার্ভিস দিচ্ছে আর করে যাচ্ছে কাল্পনিক অভিযোগ।’

ইস্যু পেলেই বিএনপি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা করে উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘পরাশ্রয়ী আন্দোলন এবং গোপন ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা আরোহণের দিন শেষ হয়ে গেছে।

‘জনগণের আস্থা শেখ হাসিনা সরকারের মূল শক্তি। জনগণ ভালো করেই জানে, বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই দেশ আবারও অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া।’

উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিন্ন প্লাটফর্ম ডি-৮ এর আগামী দুই বছরের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগ ও জনগণের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন কাদের।

তিনি বলেন, ‘এ অর্জন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের স্বীকৃতি। এ অর্জন দেশের মানুষের অর্জন এবং শেখ হাসিনার সাফল্যের মুকুটে আরও একটি সোনালী পালক যুক্ত হলো।’

শেয়ার করুন

বিএনপির ‘রাজনৈতিক আইসোলেশন’ দরকার: কাদের

বিএনপির ‘রাজনৈতিক আইসোলেশন’ দরকার: কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ফটো

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ দেশে অগ্নি সন্ত্রাসের জনক বিএনপি, আর এ সন্ত্রাসের আগুনে একসময় নিজেদের ঘরও পুড়বে। নিজেরা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এখন হেফাজতের উপর ভর করছে। বিএনপির অপরাজনীতি বুমেরাং হতে বাধ্য।’

বিএনপি করোনার চেয়েও ‘ভয়াবহ ভাইরাসে আক্রান্ত’ মন্তব্য করে দলটির রাজনৈতিক আইসোলেশন চেয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

নিজ বাসভবনে বৃহস্পতিবার সকালে এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কাদের বলেন, ‘বিএনপি করোনার চেয়েও ভয়াবহ ভাইরাসে আক্রান্ত, যার লক্ষণ নেতিবাচকতা, মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র আর আগুন সন্ত্রাস। বিএনপির এখন রাজনৈতিক আইসোলেশন দরকার।’

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির এ সময়ে বিএনপি নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার হটানোর নামে ধান ভানতে শীবের গীত গাইছেন। আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যখন অসহায়, কর্মহীন, খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে জনগণকে সতর্ক করছে তখন বিএনপি তাদের উগ্র সাম্প্রদায়িক মিত্রদের নিয়ে দেশে নৈরাজ্য তৈরির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে, দেশের সম্পদ জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ দেশে অগ্নি সন্ত্রাসের জনক বিএনপি, আর এ সন্ত্রাসের আগুনে একসময় নিজেদের ঘরও পুড়বে। নিজেরা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এখন হেফাজতের উপর ভর করছে। বিএনপির অপরাজনীতি বুমেরাং হতে বাধ্য।’

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘করোনা নিয়ে বিএনপি নির্মম ও নির্লজ্জ রাজনীতি করছে, তারা একবার বলে লকডাউন দিতে হবে, আবার বলে লকডাউন দিলে মানুষ খাবে কী?

‘বিএনপির এমন দ্বিমুখী নীতি এবং করোনা নিয়ে অপরাজনীতি মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। আর এজন্যই ক্ষেত্রবিশেষে সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারকে সরাতে ছাত্র ও শ্রমিকদের ঐক্যের কথা বলছেন। কিন্তু তারা ছাত্র-শ্রমিকদের কোনো সাড়া পাচ্ছে না এবং জনগণেরও কোনো আস্থা পাচ্ছে না।

এ সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ঢাকা সড়ক জোনের অধীনে ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজারে আট লেন নতুন সেতুর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার, সালেহপুর এবং নয়ারহাটে তিনটি সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় আমিনবাজার সেতুটিও এ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে।

‘আট লেন সেতু ছাড়াও সেতুর দুই প্রান্তে প্রায় দেড় কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় দুইশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে দুইশ তেত্রিশ মিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় আমিনবাজার সেতু।’

লকডাউনের মধ্যে মহানগরে গণপরিবহন চালুর বিষয়ে কাদের বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে শেখ হাসিনা সরকার ঢাকাসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকাধীন সড়কে শর্তসাপেক্ষে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘মহানগরে বেশিরভাগ পরিবহন নিষেধাজ্ঞা মানলেও অনেক পরিবহন মানছে না। আবার কেউ কেউ নির্দিষ্ট এলাকা এবং নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে পরিবহন চালাচ্ছে।

‘এ অবস্থায় সমন্বয়কৃত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। শর্ত উপেক্ষা করলে সরকার আবারও কঠোর হতে বাধ্য হবে।’

শেয়ার করুন

সালথা হামলায় হেফাজতের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত: হানিফ

সালথা হামলায় হেফাজতের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত: হানিফ

‘সালথায় তাণ্ডবের ঘটনায় হেফাজতের সাথে তাদের দোসর বিএনপি জামায়াতের লোকেরা জড়িত। এ দেশকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা এ হামলা চালিয়েছে।’

ফরিদপুরের সালথায় তাণ্ডবের ঘটনায় ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ।

সালথায় গুজব ছড়িয়ে সরকারি বিভিন্ন অফিসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের স্থল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৃহস্পতিবার তিনি সালথায় যান। দুপুরে সালথা উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। পরে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন অফিস ও সরকারি বাসভবন ঘুরে দেখেন তারা।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি ও মো. আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি ও আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি ও এসএম কামাল এবং দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার দীলিপ বড়ুয়া।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ছবি: নিউজবাংলা

সমাবেশে হেফাজতে ইসলামকে দেশের নব্য রাজাকার উল্লেখ করে হানিফ বলেন, ‘সালথায় তাণ্ডবের ঘটনায় হেফাজতের সাথে তাদের দোসর বিএনপি জামায়াতের লোকেরা জড়িত। এ দেশকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা এ হামলা চালিয়েছে।’

সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফারুক খান বলেন, ‘এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। আমরা প্রশাসনকে বলেছি, ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের চিহ্নিত করুন।

‘নিরীহ কাউকে যেন হয়রানি করা না হয়। আর জড়িতদের মধ্যে যদি আওয়ামী লীগের কেউ থাকে, তাকেও যেন রেহাই দেয়া না হয়।’

আব্দুর রহমান অভিযোগ করেন, স্থানীয় হেফাজত নেতা মাওলানা আকরাম হোসেন বিএনপি জামায়াতের স্বার্থরক্ষার জন্যই এ হামলার নেতৃত্ব দেন।

আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ‘যারা দেশকে অশান্ত করতে চাইছে তারা স্বাধীনতা বিরোধী। তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।’

লকডাউন কার্যকর করার চেষ্টায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের বাকবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত ৮টা থেকে তিন ঘণ্টা রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা।

ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে চা পান করে ওই ইউনিয়নের নটাখোলা গ্রামের মো. জাকির হোসেন মোল্যা বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় সেখানে লকডাউনের পরিস্থিতি পরিদর্শনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি উপস্থিত হন।

জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই সহকারী কমিশনারের গাড়ি থেকে নেমে এক ব্যক্তি তার কোমরে সজোরে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।

পরে বিভিন্ন ইউনিয়নে মোবাইলে যোগাযোগ করে ‘পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছে’ এ-জাতীয় গুজব ছড়িয়ে সালথায় লোক জড়ো করা হয়। সন্ধ্যার পর হাজার হাজার জনতা থানা ও উপজেলা কমপ্লেক্স ঘেরাও করে। একপর্যায়ে তারা উপজেলা কমপ্লেক্সের প্রধান ফটক ও থানার ফটকের সামনে আগুন ধরিয়ে দেয়।

বিক্ষুব্ধ জনতা পরে উপজেলা পরিষদ, থানা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

ইউএনওর গাড়ি ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।

ফরিদপুর, ভাঙ্গা ও পার্শ্ববর্তী থানার অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র‍্যাব গিয়ে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৮ সদস্যসহ আহত হয় ২০ জন। আহতদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুবায়ের হোসেন ও মিরান মোল্যা নামে দুই যুবকের মৃত্যু হয়।

শেয়ার করুন

সরকার উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টায়: ফখরুল

সরকার উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টায়: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

‘(সালথায়) বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীসহ নামে-বেনামে চার হাজার সাধারণ মানুষকে আসামি করে মিথ্যা মামলা দায়ের প্রমাণ করে সরকার মহামারি করোনা মোকাবিলা নয়, বরং মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের দমন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।’

ফরিদপুরের সালথায় সহিংসতার ঘটনায় সরকার উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা দায়ের এবং গ্রেপ্তার করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের সই করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সালথায় গত সোমবার রাতে তিন ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালায় হামলাকারীরা। ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলা চত্বরে লাঠিসোঁটা নিয়ে ঢুকে থানা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এই এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালও ভাঙচুর করা হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে জানা গিয়েছিল, লকডাউন কার্যকর করার চেষ্টায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগবিতণ্ডা কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। হামলা ও সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সালথার ওই ঘটনার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন নিপীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন দলটির মহাসচিব।

‘সালথায় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ নামে-বেনামে চার হাজার জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও ইতোমধ্যে ২১ জন গ্রেপ্তার এবং হয়রানি-নির্যাতন চলছে’ অভিযোগ করে বিবৃতিতে বলা হয়, মির্জ ফখরুল এসব ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারসহ গ্রেপ্তাকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি ও সালথায় স্বাভাবিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিও জানান তিনি।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফরিদপুরের সালথায় গত ৫ এপ্রিল করোনা মোকাবেলায় সরকারের অপরিকল্পিত লকডাউনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তার কর্মচারী একজন দোকান কর্মচারীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের প্রতিবাদে স্থানীয় জনসাধারণ ব্যাপক বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

‘জনসাধারণের বিক্ষোভ দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ ও একজনকে হত্যার পর উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাতে উল্টো বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীসহ নামে-বেনামে চার হাজার সাধারণ মানুষকে আসামি করে মিথ্যা মামলা দায়ের প্রমাণ করে সরকার মহামারি করোনা মোকাবিলা নয়, বরং মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের দমন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমানে সালথায় পুলিশি গ্রেপ্তারি অভিযানের কারণে সারা এলাকা মানুষশূন্য হয়ে গেছে। সেখানে ভয়, আতঙ্ক ও বিভীষিকাময় পরিবেশ বিরাজ করছে।

‘সালথার ঘটনার সাথে বিএনপি কোনোভাবে জড়িত না থাকলেও কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পরিস্থিতির ভয়াবহতা রোধে সরকার কোনো চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে গত ৫ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য দেশে লকডাউন বা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সরকারঘোষিত লকডাউনের বিরুদ্ধে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে।

‘প্রকৃত অর্থে লকডাউন বলতে যা বোঝায় রাস্তাঘাটে তার সামান্যতম চিত্রও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বাস্তবভিত্তিক ও পরিকল্পিত কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে সরকার লকডাউন সঠিকভাবে কার্যকর করতে ব্যর্থ হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

করোনা মোকাবিলায় সরকার হ-য-ব-র-ল: বিএনপি

করোনা মোকাবিলায় সরকার হ-য-ব-র-ল: বিএনপি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মানায় উদাসীন মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, করোনার বিস্তার রোধে এবার সরকার অনেক সময় হাতে পেলেও পূর্ব প্রস্তুতি না থাকায় করোনা নিয়ন্ত্রণে হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ গত বছরের মতোই সমন্বয়হীন ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেছেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চলতি দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বুধবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রিন্স বলেন, ‘করোনার বিস্তার রোধে এবার সরকার অনেক সময় হাতে পেলেও পূর্ব প্রস্তুতি না থাকায় করোনা নিয়ন্ত্রণে অপরিকল্পিত ও হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।...গত মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ বাড়লেও সরকারের উদাসীনতা এবং ব্যর্থতায় তা মোকাবিলায় কোনো কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, মার্চের শুরু থেকে বিশেষজ্ঞ মহল সরকারকে সতর্ক করে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করলেও সরকার মূলত উৎসব আয়োজনে ব্যস্ত থেকেছে। মন্ত্রীরা লকডাউন বললেও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন-লকডাউন নয়, কিছু বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। লকডাউন নিয়ে সরকারের মধ্যে দুই রকম বক্তব্যে চরম সমন্বয়হীনতারই প্রমাণ মেলে।

BNP-NB
রাজধানীর নয়াপল্টনে বুধবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। ছবি: নিউজবাংলা

প্রিন্স জানান, বাস্তবতা হচ্ছে সরকারি অব্যবস্থাপনায় লকডাউন বা নিষেধাজ্ঞা কোনটাই মাঠ পর্যায়ে কার্যকর হচ্ছে না। সরকারের পরস্পরবিরোধী পদক্ষেপে মানুষ করোনা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। সর্বত্রই লেজেগোবরে অবস্থা। নানা দুর্ভোগে জনগণ।

সরকার গুলি করে জনবিক্ষোভ দমন করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফরিদপুরের সালথায় গণবিক্ষোভ হলেও সেখানে গুলি করে মানুষ হত্যা ও চার হাজার মানুষকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় এটি পরিষ্কার যে, সরকারের পায়ের নিচে শেষ মাটিটুকুও আর অবশিষ্ট নেই।

‘আমি বিএনপির পক্ষ থেকে সালথার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি।’

ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন প্রিন্স।

জনগণকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

শেয়ার করুন