আমাদের মিডিয়া লাগবে না, ফেসবুক আছে: মামুনুল

জুমার নামাজের পর বিক্ষোভে বক্তব্য দিচ্ছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। ছবি: সাইফুল ইসলাম

আমাদের মিডিয়া লাগবে না, ফেসবুক আছে: মামুনুল

‘আপনাদের কাছে টেলিভিশনের পর্দা আছে, আমাদের কাছে সাড়ে ৩ লাখ মসজিদের মেম্বর আছে। আপনাদের কাছে যদি জাতীয় পত্রপত্রিকা থেকে থাকে, আমাদের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রয়েছে। মিডিয়াকে বলব বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেন।’

হেফাজতে ইসলামের হরতালের দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া তাণ্ডবের সময় জেলা প্রেস ক্লাবে হামলার প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা হেফাজতের সংবাদ বর্জনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ধর্মভিত্তিক সংগঠনটি।

ঢাকায় এক সমাবেশে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলেছেন, গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের সংবাদ বর্জন করলে কিছু যায় আসে না। তারা সামাজিকমাধ্যমে প্রচার চালাবেন।

হেফাজতের রোববারের হরতালে তাদের ওপর আক্রমণের অভিযোগ এনে শুক্রবার বায়তুল মোকাররমে প্রতিবাদ সমাবেশ করে সংগঠনটি।

এ সময় হেফাজতের সংবাদ বর্জনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গণমাধ্যমকর্মীদের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন মামুনুল। তার দাবি, গণমাধ্যম ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

রোববারের হরতালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর আগুনের পাশাপাশি হামলা হয় স্থানীয় প্রেস ক্লাবেও।

এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার এক সমাবেশ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব।

বিক্ষোভে বক্তব্য দিচ্ছেন হেফাজতের নেতা-কর্মীরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

এর জবাবে মামুনুল বলেন, ‘আপনাদের কাছে টেলিভিশনের পর্দা আছে, আমাদের কাছে সাড়ে ৩ লাখ মসজিদের মেম্বর আছে। আপনাদের কাছে যদি জাতীয় পত্রপত্রিকা থেকে থাকে, আমাদের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রয়েছে। মিডিয়াকে বলব বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেন।’

প্রয়োজনে মিডিয়াকে বয়কট করা হবে বলেও জানান মামুনুল। বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিকদের উপরে কেউ ভুল করে খারাপ আচরণ করে থাকতে পারে। কেন্দ্রীয়ভাবে আমরা সেটার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি। আমাদের কথা আপনাদের ভালো লাগল না। আপনারা হেফাজতে ইসলামকে বয়কট করলেন। মনে রাখবেন যদি ইসলামকে বয়কট করেন তো জনগণ মিডিয়াকে বয়কট করবে।’

সেদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে। সেখানে গাড়ি ভাঙচুর ও যানবাহনে আগুনের সংবাদ সংগ্রহে গণমাধ্যমকর্মীরা গেলেও তেড়ে এসেছেন হেফাজতের কর্মীরা। সৌরভ নামে একজন সাংবাদিকের ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত হতে ‘কালমা’ বলতে বাধ্য করা হয়েছে।

বুধবার নারায়ণগঞ্জ গিয়ে মামুনুল হক এর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম গণমাধ্যম কর্মীদের সম্মান করে। তবে হেফাজতের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সাথে ভুল-বোঝাবুঝি হতে পারে অথবা চলাচলের পথে ভুল হতে পারে। কিন্তু হেফাজতের কোনো দায়িত্বশীল নেতা সাংবাদিকদের মারধর করেননি।’

হেফাজতের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সতর্ক অবস্থান। ছবি: সাইফুল ইসলাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া তাণ্ডব নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার সমালোচনা করে স্থানীয় সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে মামুনুল বলেন, ‘সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতে পারেন না। শতবর্ষী বাংলাদেশের অহংকার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় যারা হামলা করল তাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতে পারেন না। আপনারা পারেন হেফাজতে ইসলামের কল্পিত কাহিনি রচনা করতে।

‘মিডিয়াকর্মীদের বলব, আপনারা অনেক শক্তিশালী আমরা মানি। মিডিয়া শুধু বাংলাদেশে নয় সারা পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করে সেটাও মানি। আপনারা যতই প্রভাবশালী হোন, যতই শক্তিশালী হোন, যতই পরিবেশ-পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করেন, মনে রাখবেন আল্লাহর চেয়ে শক্তি আপনাদের বেশি নেই। ইসলামের বিপক্ষে আপনারা অবস্থান গ্রহণ করছেন।

‘আপনাদের অনুরোধ করি ২০১৩ সাল থেকে তো চেষ্টা করছেন, হেফাজতে ইসলামকে মাইনাস করবার। আপনারা যত চেষ্টা করছেন, আপনাদের সকল অপচেষ্টার জবাব দিচ্ছে আল্লাহ।’

হেফাজতের নায়েবে আমির আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, ‘সাংবাদিক ভাইদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারা মিডিয়া হন কিন্তু মিডিয়া লীগ হবেন না। আমরা জানি, আপনারা কারা কী রিপোর্ট করেন। কারা কী ছবি বিদেশে পাচার করেন। সেই তথ্য আমাদের কাছে আছে। এগুলো আমরা সংরক্ষণ করব। তবে অনেক ভালো ও নিরপেক্ষ সাংবাদিক মিডিয়া আছে তাদেরকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।’

দুই মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার করা ছুরি কোরবানির জন্য

বুহস্পতিবার ঢাকার দুটি মসজিদ থেকে ৫৯০টি ছুরি উদ্ধার নিয়েও কথা বলেন মামুনুল। পুলিশের অভিযান নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি চটেছেন গণমাধ্যমের ওপর।

হেফাজতে ইসলামকে কলঙ্কিত করার জন্য নতুন নতুন নাটক সাজানো হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসাগুলোতে সংরক্ষিত কোরবানির ছুরিগুলো কোন কাজে লাগে জানেন না? এগুলো দিয়ে কী করা হয় আপনারা টের পান না?

২৬ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডবের পরের দিন বিজিবির প্রহরা। ফাইল ছবি

‘আপনারা যে তামাশা শুরু করেছেন, আগামী দিনে কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা কোরবানির দিনের যে সার্ভিস দেয় সেটা হয়তো বন্ধ করে দিতে হবে। তখন হয়তো আমরা কোরবানির ছুরিগুলো সংরক্ষণ করব না।’

হেফাজত কারও দালালি করে না

হেফাজতে ইসলাম কারও তল্পিবাহক নয় উল্লেখ করে মামুনুল বলেন, ‘আপনার মনের মতো হলো না। বলে দিলেন হেফাজত বিএনপি-জামায়াতের সাথে আঁতাত করেছে। আপনার ভালো লাগল না বলে দিলেন, হেফাজত সরকারের দালালি করছে। কিন্তু হেফাজতে ইসলাম নিজস্ব শক্তির বলে আল্লাহর পথে রয়েছে।

‘হেফাজত যখনই ইসলামের বিরুদ্ধে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হতে দেখবে, কারও রক্তচক্ষুর পরোয়া করবে না, রাজপথে নেমে আসবে।’

আরও কঠোর কর্মসূচির হুমকি

গত শুক্র ও রোববারের চেয়ে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুমকিও এসেছে সমাবেশ থেকে।

মামুনুল হক বলেন, ‘আমিরে হেফাজত জুনায়েদ বাবুনগরীর নির্দেশে আরও বড় ত্যাগ ও কোরবানি স্বীকার করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। আমরা ২০টি জীবন দিয়েছি, প্রয়োজনে হাজারো ভাইয়ের শাহাদাতের রক্ত ঝরবে।’

ইউসুফী বলেন, ‘আমাদের ভাইদেরকে শহিদ করা হয়েছে। আমরা যদি চাইতাম, হাটহাজারী কিংবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া নয়, সারা বাংলাদেশের ৪০০ উপজেলার কোনো উপজেলায় বাকি থাকত না। আমরা ঘেরাও করার সামর্থ্য রাখি। আপনারা আমাদের দুর্বল ভাববেন না।

‘সাবধান হয়ে যান আমাদের ভাইদের একজন কেউ আর গ্রেপ্তার করবেন না। মামলা প্রত্যাহার করুন তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছেন তাদের মধ্যে দিয়ে।’

আরও পড়ুন:
হেফাজতের ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছেন আইজিপি
মামলায় হেফাজত নেতারা নেই কেন জানালেন আইজিপি
হেফাজত মহাসচিব কাসেমী আর নেই
সম্মেলনে হেফাজতে ‘সবার নেতা’ নাকি ভাঙন
মাখোঁর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে হেফাজতের সমাবেশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মুফতি হান্নানের খালাত ভাই কৃষক লীগের কমিটিতে!

মুফতি হান্নানের খালাত ভাই কৃষক লীগের কমিটিতে!

মুন্সি মাহফুজ হাসানাত কামরুল। ছবি: নিউজবাংলা

‘জঙ্গি নেতা হান্নান মুন্সি আমার খালাত ভাই। তবে তারা স্বাধীনতাবিরোধী। তাই  তাদের সঙ্গে আমাদের ৫০ বছর ধরে কোনো সম্পর্ক নেই। আমি ঢাকায় ছাত্রলীগ, যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।’ 

প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা থাকাকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে একাধিকবার হত্যাচেষ্টায় নাম আসা জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানের খালাত ভাইকে সভাপতি করে কৃষক লীগের কমিটি গঠন হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়।

এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলে সেখানে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। এই কমিটি পুনর্গঠনের দাবিও উঠেছে।

গত ৪ এপ্রিল মুফতি হান্নানের খালাত ভাই মুন্সি মাহফুজ হাসানাত কামরুলকে সভাপতি করে গঠন করা হয় কৃষক লীগের ৭১ সদস্যের কোটালীপাড়া কমিটি।

এর পর মাহফুজ হান্নান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন ক্ষমতাসীন দলের একাংশের নেতা-কর্মীরা। পরে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ।

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ২০০০ সালের ২১ জুলাই কোটালীপাড়ায় জনসভার আগে তার জনসভাস্থলের আশেপাশে ৭৬ কেজি ও ৪০ কেজি ওজনের দুটি বোমা পুঁতে রাখে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ।

স্থানীয় দোকানি বদিউজ্জামান সরদার পুঁতে রাখা বোমা ঘটনাচক্রে খুঁজে পেলে শুরু হয় তোলপাড়। সেনাবাহিনীর একটি দল বোমা দুটি উদ্ধার করে। পরে জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়।

আরও পড়ুন: ৭৬ কেজি বোমায় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা: ১০ জঙ্গির প্রাণদণ্ড বহাল


এই ঘটনায় করা এক মামলায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ১০ জনের এবং আরেক মামলায় ২৩ মার্চ এই ১৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে বিচারিক আদালত। তবে সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় মুফতি হান্নানের আগেই ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এই মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এই রায় ঘোষণার কারণে দুই দশক আগে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা চেষ্টার ঘটনাটি এখনও তাজা গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে।

বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যাচেষ্টার আরও ঘটনায় মুফতি হান্নানের সম্পৃক্ততার তথ্য আছে।


২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলাতেও মুফতি হান্নানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ উঠে আসে তদন্তে। অভিযোগপত্রে তাকে আসামিও করা হয়। কিন্তু রায়ের আগেই তার ফাঁসি কার্যকর হয়ে যাওয়ায় এই মামলা থেকেও বাদ পড়ে তার নাম।

২০১৮ সালের অক্টোবর এই মামলার রায় আসে বিচারিক আদালত থেকে।

ঘটনা তদন্তে কমিটি

মুফতি হান্নানের স্বজন কৃষক লীগের কমিটিতে কীভাবে, সেটি তদন্তে ৯ এপ্রিল কমিটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোটালীপাড়ার নেতারা।

আরও পুড়ন: যার জন্য সেদিন প্রাণে বাঁচেন শেখ হাসিনা


কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ আশরাফ আলীকে। অন্য সদস্যরা হলেন কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহসভাপতি এম এ ওয়াদুদ, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ বিশ্বনাথ সরকার বিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী ও সদস্য সিরাজুল ইসলাম।

কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতির নির্দেশে এই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক শরীফ আশরাফ আলী বলেন, ‘তদন্তে যদি কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও যেসব অভিযোগ

মুফতি হান্নানের স্বজনকে কমিটিতে নেয়ার ঘটনায় করা সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মুন্সি মাহফুজ হাসানাত কামরুল একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি। তার আপন বড়ভাই মুন্সি সরাফত হোসেন কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থলে ৭৬ কেজি বোমা: ১৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড


কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেছেন তারা।

তবে কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানের দাবি, সাংগঠনিক নিয়ম মেনে কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষক লীগের নতুন কমিটি করা হয়েছে। এখানে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সত্য নয়।

কী বলছেন মুন্সি কামরুল

যাকে নিয়ে বিতর্ক, সেই মুন্সি মাহফুজ হাসনাত কামরুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জঙ্গি নেতা হান্নান মুন্সি আমার খালাত ভাই। তবে তারা স্বাধীনতাবিরোধী। তাই তাদের সঙ্গে আমাদের ৫০ বছর ধরে কোনো সম্পর্ক নেই। আমি ঢাকায় ছাত্রলীগ, যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।’

পরিবারের বিএনপি সম্পৃক্ততার অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা মুন্সি আবুল কাসেম আওয়ামী লীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। আমার ভাই মুন্সি এবাদুল ইসলাম উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক ছিলেন। বড়ভাই মুন্সি সরাফত হোসেন কোনো দিন বিএনপি করেননি।’

আরও পড়ুন:
হেফাজতের ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছেন আইজিপি
মামলায় হেফাজত নেতারা নেই কেন জানালেন আইজিপি
হেফাজত মহাসচিব কাসেমী আর নেই
সম্মেলনে হেফাজতে ‘সবার নেতা’ নাকি ভাঙন
মাখোঁর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে হেফাজতের সমাবেশ

শেয়ার করুন

করোনা নিয়ে সর্বদলীয় কমিটি কেন: ফখরুলকে কাদের

করোনা নিয়ে সর্বদলীয় কমিটি কেন: ফখরুলকে কাদের

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মানায় উদাসীন মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

‘এখানে সর্বদলীয় বিষয়ের চেয়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতামতই বেশি জরুরি। বিশ্বের কোনো দেশে সংক্রমণ রোধ কিংবা চিকিৎসায় সর্বদলীয় কমিটির নজির নেই। টিকা ব্যবস্থাপনায় কোথাও কোথাও এ ধরনের কমিটি হলেও করোনার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এমন দৃষ্টান্ত নেই।’

করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে সর্বদলীয় কমিটি গঠন করার বিষয়ে বিএনপি যে প্রস্তাব দিয়েছে, সেটি নাকচ করে দিয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলে, ‘এখানে সর্বদলীয় বিষয়ের চেয়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতামতই বেশি জরুরি।’

শনিবার সকালে নিজ বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছিলেন ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় প্রধান নেতা।

কাদের বলেন, ‘বিএনপি এখন সর্বদলীয় মতামত গ্রহণের কথা বলছে, এর আগেও তারা সর্বদলীয় কমিটির কথা বলেছিল। করোনা কোনো রাজনৈতিক সমস্যা নয়, দেশে করোনাবিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটি রয়েছে। অতএব সরকার বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শক কমিটির মতামত এবং সুপারিশের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।

‘এখানে সর্বদলীয় বিষয়ের চেয়ে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতামতই বেশি জরুরি। বিশ্বের কোনো দেশে সংক্রমণ রোধ কিংবা চিকিৎসায় সর্বদলীয় কমিটির নজির নেই। টিকা ব্যবস্থাপনায় কোথাও কোথাও এ ধরনের কমিটি হলেও করোনার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এমন দৃষ্টান্ত নেই।’

আগের দিন এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে একটি সর্বদলীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘আমরা আবারও প্রস্তাব রাখছি, এখনও সময়ে আছে, সর্বদলীয় কমিটি গঠন করে, জনগণকে সম্পৃক্ত করুন। তাহলেই শুধুমাত্র এই সমস্যার সমাধান করা যাবে। যে বিশাল চ্যালেঞ্জ, তা জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া সম্ভব নয়।’

সর্বদলীয় কমিটি গঠন করে কী হবে, তার ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ‘জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হলে রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তি ও সকল স্তরের মানুষকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। মানুষকে এই ব্যাধির ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। আসুন আমরা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগ নেই; মানুষ বাঁচাই, দেশ বাঁচাই।’

তবে করোনা নিয়ে রাজনীতি না করে বিএনপিকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কাদের। বিএনপিকে তিনি বলেন, ‘সরকারের অন্ধ সমালোচনা না করে গঠনমূলক পরামর্শ দিন। সরকার যে কোনো গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানায়।

‘সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রতিদিন মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড বাজাবে, গুজব ছড়াবে, উসকানি দেবে- আর এসবের জবাব দিলে বিএনপি নেতাদের গাত্রদাহ হয়, আসলে সবকিছু নিয়ে রাজনীতি করা এবং রাজনৈতিক বাতাবরণ দিয়ে বিতর্কিত করাই এখন বিএনপির রাজনীতি।’

বিএনপি করোনার টিকা নিয়েও অপরাজনীতি করেছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘এখন লকডাউন নিয়ে নানান অপপ্রচার ও উসকানি দিচ্ছে। বিএনপির অপরিণামদর্শী বক্তব্য ও উসকানিতে অনেকে স্বাস্থ্যবিধির প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে।’

সমালোচনার তীর ছোড়া আর মিথ্যাচারের বিষবাষ্প ছড়ানো ছাড়া বিএনপি করোনাকালে জনকল্যাণে কী করেছে- সে প্রশ্নও রাখেন কাদের। বলেন, ‘আপনারা তো সকালে ঘুম থেকে জেগেই বলেন সরকারের সমন্বয় নেই।’

করোনা মোকাবেলায় সরকারের সফলতা তুলে ধরে কাদের বলেন, ‘মহামারি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে গড়ে তোলা হয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।

‘মানুষের জীবনের পাশাপাশি জীবিকার সুরক্ষায় সরকার সচেষ্ট। এমতাবস্থায় জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করা প্রকারান্তরে সংক্রমণ রোধ বাধাগ্রস্ত করা। বিএনপি অপকৌশল করে সম্মুখসারির যোদ্ধাদের মনবলে চিড় ধরাতে চায়, কিন্তু তারা সফল হবে না।’

এর আগে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা সংযোগ সড়কসহ কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়কের চারলেন উন্নীতকরণ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন সেতুমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে দেশের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দ্রুত, নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ মহাসড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

‘ইতোমধ্যেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় কোরিয়ান ইপিজেড, চাইনিজ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (কর্ণফুলী) টানেল। টানেল সংযোগ সড়কটি আনোয়ারার উপর দিয়ে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সাথে পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে সংযুক্ত করবে।’

কাদের বলেন, ‘পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী সড়কের পাশে কর্ণফুলী টানেলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি। এ বাস্তবতায় শিকলবাহা হতে কালাবিবির দীঘি পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার এবং আনোয়ারা সদর উপজেলা হতে কালাবিবির দীঘি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটারসহ মোট সাড়ে ১১ কিলোমিটার মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।

‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪০৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ১১ কিলোমিটার মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ ছাড়াও শিকলবাহা, কর্ণফুলী টানেল সংযোগস্থল এবং কালাবিবির দীঘিতে তিনটি ইন্টারসেকশন নির্মাণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
হেফাজতের ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছেন আইজিপি
মামলায় হেফাজত নেতারা নেই কেন জানালেন আইজিপি
হেফাজত মহাসচিব কাসেমী আর নেই
সম্মেলনে হেফাজতে ‘সবার নেতা’ নাকি ভাঙন
মাখোঁর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে হেফাজতের সমাবেশ

শেয়ার করুন

জবি ছাত্রলীগের মাস্ক বিতরণ

জবি ছাত্রলীগের মাস্ক বিতরণ

ক্যাম্পাসে মাস্ক বিতরণ করে জবি ছাত্রলীগ। ছবি: নিউজবাংলা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরেও বিভিন্ন স্থানে মাস্ক বিতরণ করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। জনগণকে সচেতন করতেই তাদের এ উদ্যোগ।

করোনা প্রতিরোধে সচেতনা বাড়াতে মাস্ক বিতরণ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশেপাশে বাহাদুর শাহ পার্ক, পাটুয়াটুলি, সদরঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে মাস্ক বিতরণ করেন নেতা-কর্মীরা।

মাস্ক বিতরণ কর্মসূচি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আফসার বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধ করতে মাস্ক পড়া জরুরি। সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তুলতেই আমাদের এই কার্যক্রম।’

সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ পারভেজ বলেন, ‘আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। সবাইকে মাস্ক পড়তে হবে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’

আরও পড়ুন:
হেফাজতের ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছেন আইজিপি
মামলায় হেফাজত নেতারা নেই কেন জানালেন আইজিপি
হেফাজত মহাসচিব কাসেমী আর নেই
সম্মেলনে হেফাজতে ‘সবার নেতা’ নাকি ভাঙন
মাখোঁর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে হেফাজতের সমাবেশ

শেয়ার করুন

বিএনপির ‘রাজনৈতিক আইসোলেশন’ দরকার: কাদের

বিএনপির ‘রাজনৈতিক আইসোলেশন’ দরকার: কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ফটো

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ দেশে অগ্নি সন্ত্রাসের জনক বিএনপি, আর এ সন্ত্রাসের আগুনে একসময় নিজেদের ঘরও পুড়বে। নিজেরা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এখন হেফাজতের উপর ভর করছে। বিএনপির অপরাজনীতি বুমেরাং হতে বাধ্য।’

বিএনপি করোনার চেয়েও ‘ভয়াবহ ভাইরাসে আক্রান্ত’ মন্তব্য করে দলটির রাজনৈতিক আইসোলেশন চেয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

নিজ বাসভবনে বৃহস্পতিবার সকালে এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কাদের বলেন, ‘বিএনপি করোনার চেয়েও ভয়াবহ ভাইরাসে আক্রান্ত, যার লক্ষণ নেতিবাচকতা, মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র আর আগুন সন্ত্রাস। বিএনপির এখন রাজনৈতিক আইসোলেশন দরকার।’

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির এ সময়ে বিএনপি নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার হটানোর নামে ধান ভানতে শীবের গীত গাইছেন। আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যখন অসহায়, কর্মহীন, খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে জনগণকে সতর্ক করছে তখন বিএনপি তাদের উগ্র সাম্প্রদায়িক মিত্রদের নিয়ে দেশে নৈরাজ্য তৈরির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে, দেশের সম্পদ জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ দেশে অগ্নি সন্ত্রাসের জনক বিএনপি, আর এ সন্ত্রাসের আগুনে একসময় নিজেদের ঘরও পুড়বে। নিজেরা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এখন হেফাজতের উপর ভর করছে। বিএনপির অপরাজনীতি বুমেরাং হতে বাধ্য।’

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘করোনা নিয়ে বিএনপি নির্মম ও নির্লজ্জ রাজনীতি করছে, তারা একবার বলে লকডাউন দিতে হবে, আবার বলে লকডাউন দিলে মানুষ খাবে কী?

‘বিএনপির এমন দ্বিমুখী নীতি এবং করোনা নিয়ে অপরাজনীতি মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। আর এজন্যই ক্ষেত্রবিশেষে সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারকে সরাতে ছাত্র ও শ্রমিকদের ঐক্যের কথা বলছেন। কিন্তু তারা ছাত্র-শ্রমিকদের কোনো সাড়া পাচ্ছে না এবং জনগণেরও কোনো আস্থা পাচ্ছে না।

এ সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ঢাকা সড়ক জোনের অধীনে ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজারে আট লেন নতুন সেতুর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার, সালেহপুর এবং নয়ারহাটে তিনটি সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় আমিনবাজার সেতুটিও এ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে।

‘আট লেন সেতু ছাড়াও সেতুর দুই প্রান্তে প্রায় দেড় কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় দুইশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে দুইশ তেত্রিশ মিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় আমিনবাজার সেতু।’

লকডাউনের মধ্যে মহানগরে গণপরিবহন চালুর বিষয়ে কাদের বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে শেখ হাসিনা সরকার ঢাকাসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকাধীন সড়কে শর্তসাপেক্ষে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘মহানগরে বেশিরভাগ পরিবহন নিষেধাজ্ঞা মানলেও অনেক পরিবহন মানছে না। আবার কেউ কেউ নির্দিষ্ট এলাকা এবং নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে পরিবহন চালাচ্ছে।

‘এ অবস্থায় সমন্বয়কৃত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। শর্ত উপেক্ষা করলে সরকার আবারও কঠোর হতে বাধ্য হবে।’

আরও পড়ুন:
হেফাজতের ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছেন আইজিপি
মামলায় হেফাজত নেতারা নেই কেন জানালেন আইজিপি
হেফাজত মহাসচিব কাসেমী আর নেই
সম্মেলনে হেফাজতে ‘সবার নেতা’ নাকি ভাঙন
মাখোঁর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে হেফাজতের সমাবেশ

শেয়ার করুন

লকডাউনে এখন লেজে-গোবরে অবস্থা: মির্জা ফখরুল

লকডাউনে এখন লেজে-গোবরে অবস্থা: মির্জা ফখরুল

এখন লকডাউন দেয়া হয়েছে, কিন্তু লকডাউন বলতে যা বোঝায়, তার কোনোটাই এখানে মানা হয়নি। উপরন্তু যেদিন নির্দেশ দেয়া হলো, তার পরের দিনই তা বদলে দেয়া হলো গণপরিবহন এবং আজকে শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেয়া হয়েছে।

সরকারের সমন্বয়হীনতা, পরিকল্পনার অভাব ও উদাসীন আচরণের কারণেই করোনা মহামারি কঠিন আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, সরকারের লকডাউন এখন লেজে-গোবরে অবস্থা হয়ে গেছে। শুক্রবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন করা হবে। জনগণ জানে না তার বিকল্প কী ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোজার সময় এই সর্বাত্মক লকডাউন কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে সে সম্পর্কে কোনো রোডম্যাপ দেয়া হয়নি। এটাও দেখিনি, সরকারের দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি এই নির্দেশনা নিয়ে জনগণের সামনে উপস্থিত হয়েছে।’

‘আমাদের দেশের অভিজ্ঞরা বলেছিল করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সুনামীর মতো আসবে’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার প্রকৃতপক্ষে ব্যর্থ হয়েছে জনগণের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষা দিতে। সরকারের ভয়াবহ রকমের সমন্বয়হীন ও কৌশলগত পরিকল্পনার অভাবে আজকে সমস্যাটি একটা বড় রকমের জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ‘৫ই জানুয়ারি করোনার নতুন স্ট্রেইন যখন ধরা পড়ে, তখন সরকার তা গোপন রাখে। সময় ক্ষেপণ করে। বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সকল কর্মসূচি স্থগিত করেছিলাম। সরকারকেও আমরা কর্মসূচি স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার জনস্বার্থ উপেক্ষা করে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমগ্র প্রশাসনকে ব্যস্ত রেখে দিয়েছিল। এর ফলে করোনা সংক্রণে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘করোনা সংক্রমণে জাতীয় পরামর্শক কমিটি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল না। পরামর্শক কমিটির সিদ্ধান্ত মানা হয়নি। সরকারি সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানতেন না, এটা প্রথম দিকের কথা বলছি। এখন লকডাউন দেয়া হয়েছে, কিন্তু লকডাউন বলতে যা বোঝায়, তার কোনোটাই এখানে মানা হয়নি। উপরন্তু যেদিন নির্দেশ দেয়া হলো, তার পরের দিনই তা বদলে দেয়া হলো গণপরিবহন এবং আজকে শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেয়া হয়েছে। সহজ বাংলায় যাকে বলে লেজে-গবরে অবস্থা হয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন:
হেফাজতের ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছেন আইজিপি
মামলায় হেফাজত নেতারা নেই কেন জানালেন আইজিপি
হেফাজত মহাসচিব কাসেমী আর নেই
সম্মেলনে হেফাজতে ‘সবার নেতা’ নাকি ভাঙন
মাখোঁর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে হেফাজতের সমাবেশ

শেয়ার করুন

অস্থিতিশীলতার অপপ্রয়াস কঠোর হাতে দমন: কাদের

অস্থিতিশীলতার অপপ্রয়াস কঠোর হাতে দমন: কাদের

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ধর্মের দোহাই দিয়ে, ধর্মকে ঢাল বানিয়ে জনগণের সম্পদ বিনষ্টের অপচেষ্টা আর সহ্য করা হবে না। কতিপয় স্বার্থান্বেষী ও উচ্চবিলাসী লোকের স্বপ্নপূরণে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোন অপপ্রয়াস জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার কঠোর হাতে দমন করবে।’

দেশ অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপপ্রয়াস জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর হাতে দমনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

নিজের সরকারি বাসভবন থেকে শুক্রবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

কাদের বলেন, ‘ধর্মের দোহাই দিয়ে, ধর্মকে ঢাল বানিয়ে জনগণের সম্পদ বিনষ্টের অপচেষ্টা আর সহ্য করা হবে না। এদেশের মুসলমানরা কোন অপশক্তি বা ধর্মব্যবসায়ীদের কাছে তাদের ধর্ম বিশ্বাস ইজারা দেয়নি।

‘কতিপয় স্বার্থান্বেষী ও উচ্চবিলাসী লোকের স্বপ্নপূরণে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোন অপপ্রয়াস জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার কঠোর হাতে দমন করবে।’

বিএনপির হুমকি ধমকি আষাঢ়ের তর্জন-গর্জন মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলন সংগ্রামে ব্যর্থ হয়ে লন্ডনের নেতৃত্বকে খুশি করতে এবং কর্মীদের রোষানল থেকে বাঁচতে আইসোলেশন থেকে হাঁক-ডাক ছাড়ছে বিএনপি।

রাজনীতিকে বিএনপি জনগণের দ্বার থেকে তুলে আবাসিক রূপ দিয়েছে বলেও দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘করোনার এই সময়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা দলের পক্ষে অসহায় মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করছে। তৃণমূলে পৌঁছে গেছে সরকারি সহায়তা। আর বিএনপি দরজা জানালা বন্ধ করে লিপ সার্ভিস দিচ্ছে আর করে যাচ্ছে কাল্পনিক অভিযোগ।’

ইস্যু পেলেই বিএনপি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা করে উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘পরাশ্রয়ী আন্দোলন এবং গোপন ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা আরোহণের দিন শেষ হয়ে গেছে।

‘জনগণের আস্থা শেখ হাসিনা সরকারের মূল শক্তি। জনগণ ভালো করেই জানে, বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই দেশ আবারও অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া।’

উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিন্ন প্লাটফর্ম ডি-৮ এর আগামী দুই বছরের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগ ও জনগণের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন কাদের।

তিনি বলেন, ‘এ অর্জন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের স্বীকৃতি। এ অর্জন দেশের মানুষের অর্জন এবং শেখ হাসিনার সাফল্যের মুকুটে আরও একটি সোনালী পালক যুক্ত হলো।’

আরও পড়ুন:
হেফাজতের ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছেন আইজিপি
মামলায় হেফাজত নেতারা নেই কেন জানালেন আইজিপি
হেফাজত মহাসচিব কাসেমী আর নেই
সম্মেলনে হেফাজতে ‘সবার নেতা’ নাকি ভাঙন
মাখোঁর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে হেফাজতের সমাবেশ

শেয়ার করুন

সালথা হামলায় হেফাজতের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত: হানিফ

সালথা হামলায় হেফাজতের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত: হানিফ

‘সালথায় তাণ্ডবের ঘটনায় হেফাজতের সাথে তাদের দোসর বিএনপি জামায়াতের লোকেরা জড়িত। এ দেশকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা এ হামলা চালিয়েছে।’

ফরিদপুরের সালথায় তাণ্ডবের ঘটনায় ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ।

সালথায় গুজব ছড়িয়ে সরকারি বিভিন্ন অফিসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের স্থল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৃহস্পতিবার তিনি সালথায় যান। দুপুরে সালথা উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। পরে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন অফিস ও সরকারি বাসভবন ঘুরে দেখেন তারা।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি ও মো. আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি ও আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি ও এসএম কামাল এবং দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার দীলিপ বড়ুয়া।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ছবি: নিউজবাংলা

সমাবেশে হেফাজতে ইসলামকে দেশের নব্য রাজাকার উল্লেখ করে হানিফ বলেন, ‘সালথায় তাণ্ডবের ঘটনায় হেফাজতের সাথে তাদের দোসর বিএনপি জামায়াতের লোকেরা জড়িত। এ দেশকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা এ হামলা চালিয়েছে।’

সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফারুক খান বলেন, ‘এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। আমরা প্রশাসনকে বলেছি, ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের চিহ্নিত করুন।

‘নিরীহ কাউকে যেন হয়রানি করা না হয়। আর জড়িতদের মধ্যে যদি আওয়ামী লীগের কেউ থাকে, তাকেও যেন রেহাই দেয়া না হয়।’

আব্দুর রহমান অভিযোগ করেন, স্থানীয় হেফাজত নেতা মাওলানা আকরাম হোসেন বিএনপি জামায়াতের স্বার্থরক্ষার জন্যই এ হামলার নেতৃত্ব দেন।

আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ‘যারা দেশকে অশান্ত করতে চাইছে তারা স্বাধীনতা বিরোধী। তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।’

লকডাউন কার্যকর করার চেষ্টায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের বাকবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত ৮টা থেকে তিন ঘণ্টা রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা।

ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে চা পান করে ওই ইউনিয়নের নটাখোলা গ্রামের মো. জাকির হোসেন মোল্যা বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় সেখানে লকডাউনের পরিস্থিতি পরিদর্শনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি উপস্থিত হন।

জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই সহকারী কমিশনারের গাড়ি থেকে নেমে এক ব্যক্তি তার কোমরে সজোরে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।

পরে বিভিন্ন ইউনিয়নে মোবাইলে যোগাযোগ করে ‘পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছে’ এ-জাতীয় গুজব ছড়িয়ে সালথায় লোক জড়ো করা হয়। সন্ধ্যার পর হাজার হাজার জনতা থানা ও উপজেলা কমপ্লেক্স ঘেরাও করে। একপর্যায়ে তারা উপজেলা কমপ্লেক্সের প্রধান ফটক ও থানার ফটকের সামনে আগুন ধরিয়ে দেয়।

বিক্ষুব্ধ জনতা পরে উপজেলা পরিষদ, থানা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

ইউএনওর গাড়ি ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।

ফরিদপুর, ভাঙ্গা ও পার্শ্ববর্তী থানার অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র‍্যাব গিয়ে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৮ সদস্যসহ আহত হয় ২০ জন। আহতদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুবায়ের হোসেন ও মিরান মোল্যা নামে দুই যুবকের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
হেফাজতের ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছেন আইজিপি
মামলায় হেফাজত নেতারা নেই কেন জানালেন আইজিপি
হেফাজত মহাসচিব কাসেমী আর নেই
সম্মেলনে হেফাজতে ‘সবার নেতা’ নাকি ভাঙন
মাখোঁর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে হেফাজতের সমাবেশ

শেয়ার করুন