মানুষকে বিভ্রান্ত করাই আওয়ামী লীগের কাজ: ফখরুল

গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

মানুষকে বিভ্রান্ত করাই আওয়ামী লীগের কাজ: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘মানুষকে বিভ্রান্ত করা, ভুল বোঝানো এবং ভুল রাস্তায় নিয়ে যাওয়ায়ই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। আওয়ামী লীগ কখনোই সংখ্যালঘুদের পক্ষের শক্তি ছিলনা। এ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার পক্ষে তারা কখনোই ছিল না। সমাজে যে সন্ত্রাস, ভয়-ভীতি ও দুঃশাসন তৈরি হয়েছে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করাই এ সরকারের কাজ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় দাবি করে আসছে তাদের আমলে দেশের সংখ্যালঘুরা নিরাপদে থাকে। কিন্তু আপনারার দেখেছেন এই সরকারের আমলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার যে ঘটনাগুলো ঘটছে, সেরকম ঘটনা অতীতে কখনোই ঘটেনি। আর এই সব ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতারা। শুধু আজ নয়, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পরেও তারা এ সব ঘটনা ঘটিয়েছিলো।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুখে বলে তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুদের স্বার্থ ছাড়া রক্ষা করতে চায়। কিন্তু বাস্তবে তারা কিছুই করেনি। এ সরকারের সময় কেন সংখ্যালঘুরা ভারতে চলে যায়, কারণ তারা জানে এই সরকারের সময়ে তারা নিরাপদ নয়।

‘সুনামগঞ্জের শাল্লায় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা চালিয়েছে যুবলীগের নেতারা। এর মধ্যে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপি জড়িত। অথচ এখানে বিএনপির নামগন্ধও নেই।’

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, ‘মানুষকে বিভ্রান্ত করা, ভুল বোঝানো এবং ভুল রাস্তায় নিয়ে যাওয়ায়ই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। আওয়ামী লীগ কখনোই সংখ্যালঘুদের পক্ষের শক্তি ছিলনা। এ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার পক্ষে তারা কখনই ছিল না। সমাজে যে সন্ত্রাস, ভয়-ভীতি ও দুঃশাসন তৈরি হয়েছে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স ও নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খালেদার করোনা পরীক্ষার গুঞ্জন নিয়ে যা বলছেন চিকিৎসক

খালেদার করোনা পরীক্ষার গুঞ্জন নিয়ে যা বলছেন চিকিৎসক

২০২০ সালের মার্চে সাজা স্থগিতের পর থেকে খালেদা জিয়া রাজধানীর গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় অবস্থান করছেন। ছবি: নিউজবাংলা

শনিবার বিকালে বিএনপি নেত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক মামুন রহমান এই বাসায় যাওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করার সংবাদ প্রচার হয়। এতে বলা হয়, ডা. মামুন ওই বাসায় যাওয়ার আগে ল্যাবএইড হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট মো. সবুজ বিএনপি নেত্রীর করোনা পরীক্ষার নমুনা নেন। তবে ড. মামুন ও বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবীর খান জানিয়েছেন, ডায়াবেটিস পরীক্ষার রক্ত দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাসায় গিয়ে চিকিৎসকদের নমুনা সংগ্রহের পর তার করোনা পরীক্ষার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও তা নাকচ করেছেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক।

দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড স্থগিত হওয়ার পর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় অবস্থান করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার বিকালে বিএনপি নেত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ড. মামুন রহমান এই বাসায় যাওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করার সংবাদ প্রচার হয়।

এতে বলা হয়, ডা. মামুন ওই বাসায় যাওয়ার আগে ল্যাবএইড হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট মো. সবুজ বিএনপি নেত্রীর করোনা পরীক্ষার নমুনা নেন।

তবে চিকিৎসক মামুন রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবীর খান নিউজবাংলাকে বলেন, এই তথ্য সঠিক নয়। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছাড়া আর কেউ বাসায় যাননি।

শায়রুল কবীর খান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। এ সময় তার ডায়াবেটিস পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা নেয়া হয়।’

চিকিৎসক মামুন বলেন, ‘ডায়াবেটিস পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আর কিছু নয়।’

তিনি বলেন, বেগম জিয়া অসুস্থ। প্রায় নিয়মিতই ওনাকে অবজারভেশনে রাখতে হয় এবং বিভিন্ন চেকআপ করতে হয়। এরই অংশ হিসেবে আজ বিকালে ওনার বাসায় গিয়েছিলাম।’

২০০৮ সালের ৮ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর বিএনপি নেত্রী কারাগারে যান। পরে উচ্চ আদালত সাজা বাড়িয়ে করে ১০ বছর। ওই বছরই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর বিএনপি নেত্রীকে দেশের বাইরে না যাওয়া ও বাড়িতে বসে চিকিৎসা নেয়ার শর্তে ছয় মাসের জন্য দণ্ড স্থগিত করিয়ে মুক্তি দেয়া হয়। এরপর দুই দফা বাড়ানো হয় দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ।

হাঁটু প্রতিষ্ঠাপন করা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিক ছাড়াও নানা ধরনের রোগ আছে বলে তার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে তার চোখেও অপারেশন করা হয়।

শেয়ার করুন

মুফতি হান্নানের খালাত ভাই কৃষক লীগের কমিটিতে!

মুফতি হান্নানের খালাত ভাই কৃষক লীগের কমিটিতে!

মুন্সি মাহফুজ হাসানাত কামরুল। ছবি: নিউজবাংলা

‘জঙ্গি নেতা হান্নান মুন্সি আমার খালাত ভাই। তবে তারা স্বাধীনতাবিরোধী। তাই  তাদের সঙ্গে আমাদের ৫০ বছর ধরে কোনো সম্পর্ক নেই। আমি ঢাকায় ছাত্রলীগ, যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।’ 

প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা থাকাকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে একাধিকবার হত্যাচেষ্টায় নাম আসা জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানের খালাত ভাইকে সভাপতি করে কৃষক লীগের কমিটি গঠন হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়।

এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলে সেখানে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। এই কমিটি পুনর্গঠনের দাবিও উঠেছে।

গত ৪ এপ্রিল মুফতি হান্নানের খালাত ভাই মুন্সি মাহফুজ হাসানাত কামরুলকে সভাপতি করে গঠন করা হয় কৃষক লীগের ৭১ সদস্যের কোটালীপাড়া কমিটি।

এর পর মাহফুজ হান্নান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন ক্ষমতাসীন দলের একাংশের নেতা-কর্মীরা। পরে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ।

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ২০০০ সালের ২১ জুলাই কোটালীপাড়ায় জনসভার আগে তার জনসভাস্থলের আশেপাশে ৭৬ কেজি ও ৪০ কেজি ওজনের দুটি বোমা পুঁতে রাখে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ।

স্থানীয় দোকানি বদিউজ্জামান সরদার পুঁতে রাখা বোমা ঘটনাচক্রে খুঁজে পেলে শুরু হয় তোলপাড়। সেনাবাহিনীর একটি দল বোমা দুটি উদ্ধার করে। পরে জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়।

আরও পড়ুন: ৭৬ কেজি বোমায় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা: ১০ জঙ্গির প্রাণদণ্ড বহাল


এই ঘটনায় করা এক মামলায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ১০ জনের এবং আরেক মামলায় ২৩ মার্চ এই ১৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে বিচারিক আদালত। তবে সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় মুফতি হান্নানের আগেই ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এই মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এই রায় ঘোষণার কারণে দুই দশক আগে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা চেষ্টার ঘটনাটি এখনও তাজা গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে।

বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যাচেষ্টার আরও ঘটনায় মুফতি হান্নানের সম্পৃক্ততার তথ্য আছে।


২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলাতেও মুফতি হান্নানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ উঠে আসে তদন্তে। অভিযোগপত্রে তাকে আসামিও করা হয়। কিন্তু রায়ের আগেই তার ফাঁসি কার্যকর হয়ে যাওয়ায় এই মামলা থেকেও বাদ পড়ে তার নাম।

২০১৮ সালের অক্টোবর এই মামলার রায় আসে বিচারিক আদালত থেকে।

ঘটনা তদন্তে কমিটি

মুফতি হান্নানের স্বজন কৃষক লীগের কমিটিতে কীভাবে, সেটি তদন্তে ৯ এপ্রিল কমিটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোটালীপাড়ার নেতারা।

আরও পুড়ন: যার জন্য সেদিন প্রাণে বাঁচেন শেখ হাসিনা


কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ আশরাফ আলীকে। অন্য সদস্যরা হলেন কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহসভাপতি এম এ ওয়াদুদ, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ বিশ্বনাথ সরকার বিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী ও সদস্য সিরাজুল ইসলাম।

কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতির নির্দেশে এই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক শরীফ আশরাফ আলী বলেন, ‘তদন্তে যদি কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও যেসব অভিযোগ

মুফতি হান্নানের স্বজনকে কমিটিতে নেয়ার ঘটনায় করা সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মুন্সি মাহফুজ হাসানাত কামরুল একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি। তার আপন বড়ভাই মুন্সি সরাফত হোসেন কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থলে ৭৬ কেজি বোমা: ১৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড


কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেছেন তারা।

তবে কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানের দাবি, সাংগঠনিক নিয়ম মেনে কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষক লীগের নতুন কমিটি করা হয়েছে। এখানে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সত্য নয়।

কী বলছেন মুন্সি কামরুল

যাকে নিয়ে বিতর্ক, সেই মুন্সি মাহফুজ হাসনাত কামরুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জঙ্গি নেতা হান্নান মুন্সি আমার খালাত ভাই। তবে তারা স্বাধীনতাবিরোধী। তাই তাদের সঙ্গে আমাদের ৫০ বছর ধরে কোনো সম্পর্ক নেই। আমি ঢাকায় ছাত্রলীগ, যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।’

পরিবারের বিএনপি সম্পৃক্ততার অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা মুন্সি আবুল কাসেম আওয়ামী লীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। আমার ভাই মুন্সি এবাদুল ইসলাম উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক ছিলেন। বড়ভাই মুন্সি সরাফত হোসেন কোনো দিন বিএনপি করেননি।’

শেয়ার করুন

করোনা নিয়ে সর্বদলীয় কমিটি কেন: ফখরুলকে কাদের

করোনা নিয়ে সর্বদলীয় কমিটি কেন: ফখরুলকে কাদের

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মানায় উদাসীন মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

‘এখানে সর্বদলীয় বিষয়ের চেয়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতামতই বেশি জরুরি। বিশ্বের কোনো দেশে সংক্রমণ রোধ কিংবা চিকিৎসায় সর্বদলীয় কমিটির নজির নেই। টিকা ব্যবস্থাপনায় কোথাও কোথাও এ ধরনের কমিটি হলেও করোনার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এমন দৃষ্টান্ত নেই।’

করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে সর্বদলীয় কমিটি গঠন করার বিষয়ে বিএনপি যে প্রস্তাব দিয়েছে, সেটি নাকচ করে দিয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলে, ‘এখানে সর্বদলীয় বিষয়ের চেয়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতামতই বেশি জরুরি।’

শনিবার সকালে নিজ বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছিলেন ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় প্রধান নেতা।

কাদের বলেন, ‘বিএনপি এখন সর্বদলীয় মতামত গ্রহণের কথা বলছে, এর আগেও তারা সর্বদলীয় কমিটির কথা বলেছিল। করোনা কোনো রাজনৈতিক সমস্যা নয়, দেশে করোনাবিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটি রয়েছে। অতএব সরকার বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শক কমিটির মতামত এবং সুপারিশের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।

‘এখানে সর্বদলীয় বিষয়ের চেয়ে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতামতই বেশি জরুরি। বিশ্বের কোনো দেশে সংক্রমণ রোধ কিংবা চিকিৎসায় সর্বদলীয় কমিটির নজির নেই। টিকা ব্যবস্থাপনায় কোথাও কোথাও এ ধরনের কমিটি হলেও করোনার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এমন দৃষ্টান্ত নেই।’

আগের দিন এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে একটি সর্বদলীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘আমরা আবারও প্রস্তাব রাখছি, এখনও সময়ে আছে, সর্বদলীয় কমিটি গঠন করে, জনগণকে সম্পৃক্ত করুন। তাহলেই শুধুমাত্র এই সমস্যার সমাধান করা যাবে। যে বিশাল চ্যালেঞ্জ, তা জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া সম্ভব নয়।’

সর্বদলীয় কমিটি গঠন করে কী হবে, তার ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ‘জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হলে রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তি ও সকল স্তরের মানুষকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। মানুষকে এই ব্যাধির ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। আসুন আমরা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগ নেই; মানুষ বাঁচাই, দেশ বাঁচাই।’

তবে করোনা নিয়ে রাজনীতি না করে বিএনপিকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কাদের। বিএনপিকে তিনি বলেন, ‘সরকারের অন্ধ সমালোচনা না করে গঠনমূলক পরামর্শ দিন। সরকার যে কোনো গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানায়।

‘সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রতিদিন মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড বাজাবে, গুজব ছড়াবে, উসকানি দেবে- আর এসবের জবাব দিলে বিএনপি নেতাদের গাত্রদাহ হয়, আসলে সবকিছু নিয়ে রাজনীতি করা এবং রাজনৈতিক বাতাবরণ দিয়ে বিতর্কিত করাই এখন বিএনপির রাজনীতি।’

বিএনপি করোনার টিকা নিয়েও অপরাজনীতি করেছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘এখন লকডাউন নিয়ে নানান অপপ্রচার ও উসকানি দিচ্ছে। বিএনপির অপরিণামদর্শী বক্তব্য ও উসকানিতে অনেকে স্বাস্থ্যবিধির প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে।’

সমালোচনার তীর ছোড়া আর মিথ্যাচারের বিষবাষ্প ছড়ানো ছাড়া বিএনপি করোনাকালে জনকল্যাণে কী করেছে- সে প্রশ্নও রাখেন কাদের। বলেন, ‘আপনারা তো সকালে ঘুম থেকে জেগেই বলেন সরকারের সমন্বয় নেই।’

করোনা মোকাবেলায় সরকারের সফলতা তুলে ধরে কাদের বলেন, ‘মহামারি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে গড়ে তোলা হয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।

‘মানুষের জীবনের পাশাপাশি জীবিকার সুরক্ষায় সরকার সচেষ্ট। এমতাবস্থায় জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করা প্রকারান্তরে সংক্রমণ রোধ বাধাগ্রস্ত করা। বিএনপি অপকৌশল করে সম্মুখসারির যোদ্ধাদের মনবলে চিড় ধরাতে চায়, কিন্তু তারা সফল হবে না।’

এর আগে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা সংযোগ সড়কসহ কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়কের চারলেন উন্নীতকরণ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন সেতুমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে দেশের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দ্রুত, নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ মহাসড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

‘ইতোমধ্যেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় কোরিয়ান ইপিজেড, চাইনিজ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (কর্ণফুলী) টানেল। টানেল সংযোগ সড়কটি আনোয়ারার উপর দিয়ে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সাথে পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে সংযুক্ত করবে।’

কাদের বলেন, ‘পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী সড়কের পাশে কর্ণফুলী টানেলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি। এ বাস্তবতায় শিকলবাহা হতে কালাবিবির দীঘি পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার এবং আনোয়ারা সদর উপজেলা হতে কালাবিবির দীঘি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটারসহ মোট সাড়ে ১১ কিলোমিটার মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।

‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪০৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ১১ কিলোমিটার মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ ছাড়াও শিকলবাহা, কর্ণফুলী টানেল সংযোগস্থল এবং কালাবিবির দীঘিতে তিনটি ইন্টারসেকশন নির্মাণ করা হবে।’

শেয়ার করুন

জবি ছাত্রলীগের মাস্ক বিতরণ

জবি ছাত্রলীগের মাস্ক বিতরণ

ক্যাম্পাসে মাস্ক বিতরণ করে জবি ছাত্রলীগ। ছবি: নিউজবাংলা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরেও বিভিন্ন স্থানে মাস্ক বিতরণ করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। জনগণকে সচেতন করতেই তাদের এ উদ্যোগ।

করোনা প্রতিরোধে সচেতনা বাড়াতে মাস্ক বিতরণ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশেপাশে বাহাদুর শাহ পার্ক, পাটুয়াটুলি, সদরঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে মাস্ক বিতরণ করেন নেতা-কর্মীরা।

মাস্ক বিতরণ কর্মসূচি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আফসার বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধ করতে মাস্ক পড়া জরুরি। সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তুলতেই আমাদের এই কার্যক্রম।’

সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ পারভেজ বলেন, ‘আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। সবাইকে মাস্ক পড়তে হবে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’

শেয়ার করুন

বিএনপির ‘রাজনৈতিক আইসোলেশন’ দরকার: কাদের

বিএনপির ‘রাজনৈতিক আইসোলেশন’ দরকার: কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ফটো

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ দেশে অগ্নি সন্ত্রাসের জনক বিএনপি, আর এ সন্ত্রাসের আগুনে একসময় নিজেদের ঘরও পুড়বে। নিজেরা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এখন হেফাজতের উপর ভর করছে। বিএনপির অপরাজনীতি বুমেরাং হতে বাধ্য।’

বিএনপি করোনার চেয়েও ‘ভয়াবহ ভাইরাসে আক্রান্ত’ মন্তব্য করে দলটির রাজনৈতিক আইসোলেশন চেয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

নিজ বাসভবনে বৃহস্পতিবার সকালে এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কাদের বলেন, ‘বিএনপি করোনার চেয়েও ভয়াবহ ভাইরাসে আক্রান্ত, যার লক্ষণ নেতিবাচকতা, মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র আর আগুন সন্ত্রাস। বিএনপির এখন রাজনৈতিক আইসোলেশন দরকার।’

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির এ সময়ে বিএনপি নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার হটানোর নামে ধান ভানতে শীবের গীত গাইছেন। আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যখন অসহায়, কর্মহীন, খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে জনগণকে সতর্ক করছে তখন বিএনপি তাদের উগ্র সাম্প্রদায়িক মিত্রদের নিয়ে দেশে নৈরাজ্য তৈরির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে, দেশের সম্পদ জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ দেশে অগ্নি সন্ত্রাসের জনক বিএনপি, আর এ সন্ত্রাসের আগুনে একসময় নিজেদের ঘরও পুড়বে। নিজেরা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এখন হেফাজতের উপর ভর করছে। বিএনপির অপরাজনীতি বুমেরাং হতে বাধ্য।’

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘করোনা নিয়ে বিএনপি নির্মম ও নির্লজ্জ রাজনীতি করছে, তারা একবার বলে লকডাউন দিতে হবে, আবার বলে লকডাউন দিলে মানুষ খাবে কী?

‘বিএনপির এমন দ্বিমুখী নীতি এবং করোনা নিয়ে অপরাজনীতি মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। আর এজন্যই ক্ষেত্রবিশেষে সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারকে সরাতে ছাত্র ও শ্রমিকদের ঐক্যের কথা বলছেন। কিন্তু তারা ছাত্র-শ্রমিকদের কোনো সাড়া পাচ্ছে না এবং জনগণেরও কোনো আস্থা পাচ্ছে না।

এ সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ঢাকা সড়ক জোনের অধীনে ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজারে আট লেন নতুন সেতুর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার, সালেহপুর এবং নয়ারহাটে তিনটি সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় আমিনবাজার সেতুটিও এ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে।

‘আট লেন সেতু ছাড়াও সেতুর দুই প্রান্তে প্রায় দেড় কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় দুইশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে দুইশ তেত্রিশ মিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় আমিনবাজার সেতু।’

লকডাউনের মধ্যে মহানগরে গণপরিবহন চালুর বিষয়ে কাদের বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে শেখ হাসিনা সরকার ঢাকাসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকাধীন সড়কে শর্তসাপেক্ষে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘মহানগরে বেশিরভাগ পরিবহন নিষেধাজ্ঞা মানলেও অনেক পরিবহন মানছে না। আবার কেউ কেউ নির্দিষ্ট এলাকা এবং নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে পরিবহন চালাচ্ছে।

‘এ অবস্থায় সমন্বয়কৃত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। শর্ত উপেক্ষা করলে সরকার আবারও কঠোর হতে বাধ্য হবে।’

শেয়ার করুন

লকডাউনে এখন লেজে-গোবরে অবস্থা: মির্জা ফখরুল

লকডাউনে এখন লেজে-গোবরে অবস্থা: মির্জা ফখরুল

এখন লকডাউন দেয়া হয়েছে, কিন্তু লকডাউন বলতে যা বোঝায়, তার কোনোটাই এখানে মানা হয়নি। উপরন্তু যেদিন নির্দেশ দেয়া হলো, তার পরের দিনই তা বদলে দেয়া হলো গণপরিবহন এবং আজকে শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেয়া হয়েছে।

সরকারের সমন্বয়হীনতা, পরিকল্পনার অভাব ও উদাসীন আচরণের কারণেই করোনা মহামারি কঠিন আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, সরকারের লকডাউন এখন লেজে-গোবরে অবস্থা হয়ে গেছে। শুক্রবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন করা হবে। জনগণ জানে না তার বিকল্প কী ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোজার সময় এই সর্বাত্মক লকডাউন কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে সে সম্পর্কে কোনো রোডম্যাপ দেয়া হয়নি। এটাও দেখিনি, সরকারের দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি এই নির্দেশনা নিয়ে জনগণের সামনে উপস্থিত হয়েছে।’

‘আমাদের দেশের অভিজ্ঞরা বলেছিল করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সুনামীর মতো আসবে’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার প্রকৃতপক্ষে ব্যর্থ হয়েছে জনগণের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষা দিতে। সরকারের ভয়াবহ রকমের সমন্বয়হীন ও কৌশলগত পরিকল্পনার অভাবে আজকে সমস্যাটি একটা বড় রকমের জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ‘৫ই জানুয়ারি করোনার নতুন স্ট্রেইন যখন ধরা পড়ে, তখন সরকার তা গোপন রাখে। সময় ক্ষেপণ করে। বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সকল কর্মসূচি স্থগিত করেছিলাম। সরকারকেও আমরা কর্মসূচি স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার জনস্বার্থ উপেক্ষা করে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমগ্র প্রশাসনকে ব্যস্ত রেখে দিয়েছিল। এর ফলে করোনা সংক্রণে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘করোনা সংক্রমণে জাতীয় পরামর্শক কমিটি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল না। পরামর্শক কমিটির সিদ্ধান্ত মানা হয়নি। সরকারি সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানতেন না, এটা প্রথম দিকের কথা বলছি। এখন লকডাউন দেয়া হয়েছে, কিন্তু লকডাউন বলতে যা বোঝায়, তার কোনোটাই এখানে মানা হয়নি। উপরন্তু যেদিন নির্দেশ দেয়া হলো, তার পরের দিনই তা বদলে দেয়া হলো গণপরিবহন এবং আজকে শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেয়া হয়েছে। সহজ বাংলায় যাকে বলে লেজে-গবরে অবস্থা হয়ে গেছে।’

শেয়ার করুন

অস্থিতিশীলতার অপপ্রয়াস কঠোর হাতে দমন: কাদের

অস্থিতিশীলতার অপপ্রয়াস কঠোর হাতে দমন: কাদের

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ধর্মের দোহাই দিয়ে, ধর্মকে ঢাল বানিয়ে জনগণের সম্পদ বিনষ্টের অপচেষ্টা আর সহ্য করা হবে না। কতিপয় স্বার্থান্বেষী ও উচ্চবিলাসী লোকের স্বপ্নপূরণে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোন অপপ্রয়াস জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার কঠোর হাতে দমন করবে।’

দেশ অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপপ্রয়াস জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর হাতে দমনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

নিজের সরকারি বাসভবন থেকে শুক্রবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

কাদের বলেন, ‘ধর্মের দোহাই দিয়ে, ধর্মকে ঢাল বানিয়ে জনগণের সম্পদ বিনষ্টের অপচেষ্টা আর সহ্য করা হবে না। এদেশের মুসলমানরা কোন অপশক্তি বা ধর্মব্যবসায়ীদের কাছে তাদের ধর্ম বিশ্বাস ইজারা দেয়নি।

‘কতিপয় স্বার্থান্বেষী ও উচ্চবিলাসী লোকের স্বপ্নপূরণে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোন অপপ্রয়াস জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার কঠোর হাতে দমন করবে।’

বিএনপির হুমকি ধমকি আষাঢ়ের তর্জন-গর্জন মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলন সংগ্রামে ব্যর্থ হয়ে লন্ডনের নেতৃত্বকে খুশি করতে এবং কর্মীদের রোষানল থেকে বাঁচতে আইসোলেশন থেকে হাঁক-ডাক ছাড়ছে বিএনপি।

রাজনীতিকে বিএনপি জনগণের দ্বার থেকে তুলে আবাসিক রূপ দিয়েছে বলেও দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘করোনার এই সময়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা দলের পক্ষে অসহায় মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করছে। তৃণমূলে পৌঁছে গেছে সরকারি সহায়তা। আর বিএনপি দরজা জানালা বন্ধ করে লিপ সার্ভিস দিচ্ছে আর করে যাচ্ছে কাল্পনিক অভিযোগ।’

ইস্যু পেলেই বিএনপি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা করে উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘পরাশ্রয়ী আন্দোলন এবং গোপন ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা আরোহণের দিন শেষ হয়ে গেছে।

‘জনগণের আস্থা শেখ হাসিনা সরকারের মূল শক্তি। জনগণ ভালো করেই জানে, বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই দেশ আবারও অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া।’

উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিন্ন প্লাটফর্ম ডি-৮ এর আগামী দুই বছরের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগ ও জনগণের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন কাদের।

তিনি বলেন, ‘এ অর্জন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের স্বীকৃতি। এ অর্জন দেশের মানুষের অর্জন এবং শেখ হাসিনার সাফল্যের মুকুটে আরও একটি সোনালী পালক যুক্ত হলো।’

শেয়ার করুন