দুটি গণফোরাম বলতে নারাজ ড. কামাল

player
দুটি গণফোরাম বলতে নারাজ ড. কামাল

প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন হলে সংবাদ সম্মেলন করেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া সদস্যদের প্রসঙ্গে ড. কামাল বলেন, কাউকে বাধ্য করে দলে রাখা যায় না। অন্যদিকে দলের অপর অংশের কর্মসূচি থেকে ড. কামাল হোসেনকে গণফোরাম থেকে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

দুটি গণফোরাম বলতে নারাজ ড. কামাল হোসেন । সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,

‘দুটি গণফোরাম বলার কোন কারণ নেই’। দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া সদস্যদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাউকে বাধ্য করে দলে রাখা যায় না।’

অন্যদিকে দলের অপর অংশের কর্মসূচি থেকে ড. কামাল হোসেনকে গণফোরাম থেকে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়ে দলের মধ্যে যে বিভক্তি তা ফের প্রকাশ্যে নিয়ে এসে কথা বললেন গণফোরামের দুই অংশের নেতারা।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরামের একপক্ষ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় কমিটি ও দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুর নেতৃত্বে অপর অংশের আলাদা কর্মসূচি ছিল।

বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন হলে সংবাদ সম্মেলন করেন দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দলটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অপর দিকে প্রেস ক্লাবের সামনে ‘যুব গণফেরাম’ ও ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজ’ নামে দুটি সংগঠন বিকেল ৩টায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে। যদিও সেই অংশের নেতৃত্বদানকারী মোস্তফা মহসিন মন্টু কর্মসূচিতে অংশ নেন নি।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন গণফেরামের সাবেক সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খান সিদ্দিকুর রহমান ও হেলালউদ্দিন।

দুটি গণফোরাম বলতে নারাজ ড. কামাল
প্রেস ক্লাবের সামনে ‘যুব গণফেরাম’ ও ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজ’ নামে দুটি সংগঠন বিকেল ৩টায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে। ছবি: নিউজবাংলা

কারা হেফাজতে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল দলটির এই অংশের।

আপনি যখন ভেতরে সংবাদ সম্মেলন করছেন তখন গণফোরামের আরেক অংশ প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মসূচি দিয়েছে এ বিষয়ে জানেন কি না, এবং এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘দল থেকে বের হয়ে হয়তো আরেকপক্ষ আরেক বক্তব্য রাখতে পারে। আমি মনে করি, আমার দল সঠিকভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে, কাজ করে যাবে, জনগণের পাশেই তারা থাকবে।’

আপনার দল থেকে একাংশ বেরিয়ে যাওয়ায় এখন দুটি গণফোরাম বলা যাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিছু লোক বেরিয়ে গেছে। কাউকে বাধ্য করে রাখা যায় না। যারা ছেড়েছেন তাদের জিজ্ঞাসা করুন তারা কেন ছেড়েছেন।

‘আমরা যারা গণফোরাম করছি তারা মনে করি জনগণকে সাথে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াব। যাতে সরকার যে সব অনুচিত কাজ করছে সেগুলো থেকে সরে দাঁড়ায়।’

যেখানে আপনি জনগণের ঐক্যের কথা বলছেন সেখানে আপনার দলে তো ঐক্য নেই এ বিষয়ে কোন উদ্যোগ নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় তাদের দলে ফিরে আসতে বলেছি। ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেছি। আসুন আলাপ, আলোচনা করি।’

আপনার দলের সাধারণ সম্পাদক তো পদ ত্যাগ করেছেন এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সফিকুল হক।’

প্রেস ক্লাবের সামনে গণফোরামের অপর অংশের কর্মসূচিতে গণফোরামের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খান সিদ্দিকুর রহমান বলে, ‘গণফোরাম কারও জমিদারী না।

ড. কামাল হোসেনের দিকে ইঙ্গিত করে এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি যাকে এতদিন নেতা মেনেছি, যার কথায় ২৭ বছর জীবনের উত্তম সময় নষ্ট করেছি তাকে আমি গালিগালাজ করতে চাই না। আমি আশা করবো। উনি অনেক কিছু করছেন, সেখান থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে আগামী দিনে পা বাড়াবেন। ব্যতিক্রম হলে আমরা ছেড়ে দেব না।

তিনি বলেন, দলে গণতন্ত্র দিতে ব্যর্থ হয়েছেন দল ছেড়ে চলে যান। বয়স হয়েছে, আরাম করেন। নাতী-নাতনী নিয়ে খেলাধুলা করেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে যা বললেন ড. কামাল :

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে আপনার বক্তব্য কি সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘জনগণের ঐক্যই হচ্ছে মূল জিনিস, আমরা সেই ঐক্যমত গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে রোজার আগেই দলীয় কার্যক্রম জোরদার করার কথা জানিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে দেশব্যাপী গণসংযোগ শুরু করবে তার দল।

সংবাদ সম্মেলনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাদ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘ডিজিটাল আইনের কথা বলে আমাদের যেভাবে বাকস্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে তা থেকে মুক্তি দিতে হবে।’

ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের আজকে কি অবস্থা তা সম্পর্কে আপনারা অবগত আছেন। নানা রকমের সমস্যা আজ সংকটে রূপ নিয়েছে। এই সংকটগুলো থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আমাদের ঐক্যের প্রয়োজন। সংকট উত্তরণে জনগণকে ঐক্যমতে আসতে হবে।

যাতে সরকার বাধ্য হয় এসব জিনিসগুলো থেকে সরে দাঁড়াতে। এই অবস্থা বিরাজ করলে এখানে আমাদের সুশাসন পাওয়ার কোনও উপায় থাকবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা যদি মাঠে না নামি তাহলে এর থেকে উত্তরণ ঘটবে না।

এর আগে ১৭ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে গণফোরামের একপক্ষ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় কমিটি সভা করে। অপর অংশ সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুর নেতৃত্বে প্রেসক্লাবের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর পর গত অক্টোবরে বিভক্তি দেখা দেয় গণফোরামে। ১৮ অক্টোবর দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, আওয়ামী লীগ থেকে আসা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, জগলুল হায়দার আফ্রিক, হেলালউদ্দিন, সুব্রত চৌধুরী, লতিফুল বারী হামিম, খান সিদ্দিকুর রহমান ও আব্দুল হাসিব চৌধুরীকে বহিষ্কার করা।

এরপর মন্টুদের বাদ দিয়ে ১২ ডিসেম্বর কাউন্সিলের ঘোষণা দেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন অংশটি।

অপর দিকে মন্টুর নেতৃত্বে দলের কয়েকজন নেতা এ আদেশ না মেনে ২৬ ডিসেম্বর আলাদা কাউন্সিলের ঘোষণা দেন। কাউন্সিলের দিন দলের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেনকে বাদ দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন বহিষ্কৃত নেতা মোস্তফা মহসিন মন্টুর নেতৃত্বাধীন অংশের নেতারা। তবে দুই পক্ষের কোনো কাউন্সিলই হয়নি।

আরও পড়ুন:
গণফোরামের আবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি
ড. কামালের সঙ্গ ছাড়লেন রেজা কিবরিয়া
গণফোরামে বিভক্তি নেই: ড. কামাল
মন্টুদের ফিরিয়ে গণফোরামে ঐক্যের উদ্যোগ
ড. কামালের বিবেকের কাছে সুব্রতদের প্রশ্ন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্রদলের প্রতীকী অনশন

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্রদলের প্রতীকী অনশন

শাবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে জাতীয় শহীদ মিনারে প্রতীকী অনশনে বসেছে ছাত্রদলেন নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, ‘শাহজালালের শিক্ষার্থীদের উপর যে ন্যাক্কারজনক হামলা হয়েছে, তার প্রতিবাদে আমরা প্রতীকী অনশন করছি। আমরা ভিসির অব্যাহতি চাই, শিক্ষার্থীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহার চাই।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে প্রতিকী অনশন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে অনশনে বসেছেন তারা। প্রতীকী অনশন বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

প্রতীকী অনশনে শাবি ভিসির অব্যাহতি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

অনশনে অংশ নিয়েছেন ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। সঙ্গে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, ‘শাহজালালের শিক্ষার্থীদের উপর যে ন্যাক্কারজনক হামলা হয়েছে, তার প্রতিবাদে আমরা প্রতীকী অনশন করছি। আমরা ভিসির অব্যাহতি চাই, শিক্ষার্থীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহার চাই।’

তিনি বলেন, ‘দেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিটি যৌক্তিক দাবি ও আন্দোলনের পাশে ছাত্রদল রয়েছে।’

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্রদলের প্রতীকী অনশন
জাতীয় শহীদ মিনারে ছাত্রদলের প্রতীকী অনশনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য। ছবি: নিউজবাংলা

অনশন কর্মসূচি প্রসঙ্গে রমনা জোনের সহকারী কমিশনার (পেট্রোল) বাহা উদ্দিন বলেন, ‘কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে আমরা কাউকেই এলাউ করছি না। কিন্তু তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করবে বলেছে। বিকেল ৩টা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহীদ মিনারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সঙ্গে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ওয়াটার ক্যানন।

এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্ক করে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের কয়েক মিনিটের মধ্যে কর্মসূচি শেষ করতে বলা হয়।

গত ১৩ জানুয়ারি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ।

এরপর পুলিশ ৩০০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। গত বুধবার থেকে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন শুরু করেন।

আরও পড়ুন:
গণফোরামের আবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি
ড. কামালের সঙ্গ ছাড়লেন রেজা কিবরিয়া
গণফোরামে বিভক্তি নেই: ড. কামাল
মন্টুদের ফিরিয়ে গণফোরামে ঐক্যের উদ্যোগ
ড. কামালের বিবেকের কাছে সুব্রতদের প্রশ্ন

শেয়ার করুন

আলটিমেটামের ২ মিনিটেই শহীদ মিনার ছাড়ল ছাত্রদল

আলটিমেটামের ২ মিনিটেই শহীদ মিনার ছাড়ল ছাত্রদল

শহীদ মিনারে ছাত্রদলের কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশ সদস্যরা।

বেলা ১১টা ৪৪ মিনিটে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনকে ডেকে দুই মিনিটের মধ্যে শহীদ মিনার এলাকা ছেড়ে দেয়ার আলটিমেটাম দেন রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার বায়েজীদুর রহমান।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সংহতি, তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও ভিসি ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে জাতীয় শহীদ মিনারে প্রতীকী অনশনে বসে ছাত্রদল।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার কিছু পরই শহীদ মিনারে অনশনে বসেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। প্রতীকী অনশন কর্মসূচি ৩টা পর্যন্ত চলবে বলে জানান নেতা-কর্মীরা।

তবে বেলা ১১টা ৪৬ মিনিটেই ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অনশন কর্মসূচি শেষ করেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারের জারি করা বিধিনিষেধে সামাজিক, রাজনৈতিক বা যে কোনো ধরনের সমাবেশে ১০০ জনের বেশি অংশ নিতে পারবেন না বলা হয়েছে। অংশ নিলেও মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি, বাধ্যতামূলক পরতে হবে মাস্ক।

ছাত্রদলের নেতারা প্রতীকী অনশনে বসলেও তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। মানা হয়নি ১০০ জনের যে বাধ্যবাধকতা সেটিও।

আমরা সবাই সচেতন। করোনা সংক্রমণের হার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেশি দেখানো হচ্ছে। প্রকৃত সংক্রমণের চেয়ে সরকার সংক্রমণ বাড়াচ্ছে বেশি। আপনি দেখবেন বাংলাদেশের শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা হয়েছে, দেশের হাটবাজারসহ সব কিছু খোলা রয়েছে।

অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রস্তুত রাখা হয় ওয়াটার ক্যানন।

বেলা ১১টা ৪৪ মিনিটে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনকে ডেকে দুই মিনিটের মধ্যে শহীদ মিনার এলাকা ছেড়ে দেয়ার আলটিমেটাম দেন রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার বায়েজীদুর রহমান।

সে সময় ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা আরও সময় চান। তারা অন্তত পাঁচ মিনিট সময় চাইলে বায়েজীদুর রহমান বলেন, এর বেশি সময় তিনি দেবেন না। তারা যদি শহীদ মিনার এলাকা না ছাড়েন তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

আলটিমেটাম পেয়ে তড়িঘড়ি করে প্রতীকী অনশন শেষ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা ছেড়ে যান ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা।

শেষ করার আগে ছাত্রদল সভাপতি বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশি বাধার কারণে আমাদের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করতে হচ্ছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আমরা সমর্থন জানাচ্ছি। আমরা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ চাই। আমাদের দাবি মানা না পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।’

সিনিয়র সহকারী কমিশনার বায়েজীদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার বিধিনিষেধের মধ্যে এত লোকের সমাগমের অনুমতি নেই। আমরা বারবার নিষেধ করছিলাম। তারা না শোনায় ফোর্স করতে হয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা ছেড়ে গেছে।’

কর্মসূচি চলার সময় স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সবাই সচেতন। করোনা সংক্রমণের হার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেশি দেখানো হচ্ছে। প্রকৃত সংক্রমণের চেয়ে সরকার সংক্রমণ বাড়াচ্ছে বেশি। আপনি দেখবেন, বাংলাদেশের শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা হয়েছে, দেশের হাটবাজারসহ সব কিছু খোলা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
গণফোরামের আবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি
ড. কামালের সঙ্গ ছাড়লেন রেজা কিবরিয়া
গণফোরামে বিভক্তি নেই: ড. কামাল
মন্টুদের ফিরিয়ে গণফোরামে ঐক্যের উদ্যোগ
ড. কামালের বিবেকের কাছে সুব্রতদের প্রশ্ন

শেয়ার করুন

শাবিতে তৃতীয় পক্ষের ফায়দা হাসিলের চেষ্টা: ঢাবি শিক্ষক সমিতি

শাবিতে তৃতীয় পক্ষের ফায়দা হাসিলের চেষ্টা: ঢাবি শিক্ষক সমিতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বলছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বাইরে তৃতীয় একটি পক্ষ শাবির আন্দোলনে ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে যে ধরনের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপিত হয়েছে, তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বাইরে তৃতীয় একটি পক্ষ এই আন্দোলনে ফায়দা হাসিল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে সেখানে ইন্ধন দিচ্ছে তৃতীয় পক্ষ।

সমিতি বলছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বাইরে তৃতীয় একটি পক্ষ এই আন্দোলনে ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

একটি বিশেষ মহল এই আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপান্তরের অপচেষ্টা করছে বলেও প্রতীয়মান হয়েছে দাবি শিক্ষক সমিতির।

সোমবার বিকেলে ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমতউল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৩ জানুয়ারি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের বিভিন্ন ইস্যুতে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রীরা আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলন চলাকালে পুলিশের বলপ্রয়োগের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ওই হলের প্রভোস্ট পদত্যাগ করেন। আন্দোলনকে পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের মূল দাবি পূরণ হওয়া সত্ত্বেও উপাচার্যের পদত্যাগের আন্দোলনে রূপ নেয়।

আন্দোলনের এই রূপান্তরের বিষয়টি অত্যন্ত অনভিপ্রেত এবং উদ্বেগের দাবি করে এটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করে শিক্ষক সমিতি।

উপাচার্যের বাসার পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা অমানবিক উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল আন্দোলনকারীরা হঠাৎ করেই উপাচার্যের বাসার পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, যা অমানবিক এবং শিক্ষাঙ্গনের আন্দোলনে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মাত্রা যুক্ত করেছে।

শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেকোনো সমস্যা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই বাঞ্ছনীয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে যে ধরনের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপিত হয়েছে, তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বাইরে তৃতীয় একটি পক্ষ এই আন্দোলনে ফায়দা হাসিল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলায় কারও কোনো উসকানি রয়েছে কি না, সেটি তদন্তের দাবি করে ঢাবি শিক্ষক সমিতি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে অবিলম্বে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।

আরও পড়ুন:
গণফোরামের আবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি
ড. কামালের সঙ্গ ছাড়লেন রেজা কিবরিয়া
গণফোরামে বিভক্তি নেই: ড. কামাল
মন্টুদের ফিরিয়ে গণফোরামে ঐক্যের উদ্যোগ
ড. কামালের বিবেকের কাছে সুব্রতদের প্রশ্ন

শেয়ার করুন

ইসিতে দায়িত্ব পাবে মুজিব কোটের মানুষরাই: রিজভী

ইসিতে দায়িত্ব পাবে মুজিব কোটের মানুষরাই: রিজভী

আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুবার্ষিকীতে কবরে শ্রদ্ধা জানানোর পর কথা বলেন বিএনপি নেতা রুহুল কবীর রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

‘আইন প্রণয়ন করতে হলে সংসদে বিল পাস করতে হয়, কিন্তু কোন সংসদে পাস করবে? এখন তো একদলীয় ও বাকশালী পার্লামেন্ট। সেখানে যে আইন হবে, তা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাই হবে। যে সংসদে জনগণের কোনো অংশগ্রহণ নেই, সে সংসদে আইন পাস হলে তা হবে বাকশালী আইন।’

নতুন নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগ ঘরানার লোকজনই দায়িত্ব পাবে বলে মনে করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বলেছেন, এখন যা হচ্ছে সেটি তার আগের রিহার্সাল মাত্র।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সোমবার বনানীতে তার কবরে শ্রদ্ধা জানিয়ে এমন মন্তব্য করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছিলাম, মুজিব কোটের মানুষরাই এর দায়িত্ব পাবে। এটি শুধুমাত্র রিহার্সাল চলছে। যেভাবে একতরফাভাবে হুদা কমিশন, রকিব কমিশন গঠন করেছিল, সেই রকম আরেকটি কমিশন গঠন করতে যাচ্ছে তারা।’

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে অবশেষে যে আইনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেটিরও সমালোচনা করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘আইন প্রণয়ন করতে হলে সংসদে বিল পাস করতে হয়। কিন্তু কোন সংসদে পাস করবে? এখন তো একদলীয় ও বাকশালী পার্লামেন্ট। সেখানে যে আইন হবে, তা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাই হবে। যে সংসদে জনগণের কোনো অংশগ্রহণ নেই, সে সংসদে আইন পাস হলে তা হবে বাকশালী আইন।’

প্রস্তাবিত আইনে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছারই প্রতিফলন হচ্ছে বলেও মনে করেন রিজভী।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক হানিফের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, তাদের এবং আমাদের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। তারা একটি একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। আর বিএনপি চায় বহুদলীয় গণতন্ত্র। তাদের এবং আমাদের বক্তব্যে তো পার্থক্য থাকবেই।’

২০১৫ সালে প্রবাসে কোকোর মৃত্যু নিয়েও কথা বলেন বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, ‘অবরুদ্ধ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের দাবিতে যখন বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তখন সেই গুলশানের বিএনপি কার্যালয় অবরুদ্ধ রাখার জন্য চারিদিকে বালুর ট্রাক, কাঠের ট্রাক রাখা হয়েছিল, গোল মরিচের স্প্রে করা হয়েছিল, তখন প্রবাসে থাকা দেশনেত্রীর ছোট সন্তান আরাফাত রহমান কোকো মার প্রতি এই অন্যায়, অবিচার সহ্য করতে পারেননি। এই কষ্টে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

‘লাশ দেশে আনা হলো গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ মায়ের কাছে। অবরুদ্ধ মায়ের কোলে সন্তানের লাশ দেখে শুধু খালেদার পরিবারই নয়, গোটা জাতি শোকে বিহ্বল হয়ে পড়ে। এত অত্যাচার, অবিচার, অনাচার শুধু খালেদা জিয়াকে দুর্বল করার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘কোকোর মৃত্যু নিছক একটি মৃত্যুর ঘটনা নয়, বরং সামগ্রিক আন্দোলন, গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলন, জনগণের মুক্তি আন্দোলনে আত্মাহুতি। আমরা যদি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে ফিরিয়ে আনতে পারি, তাহলে তার এই আত্মদান সার্থক হবে।’

আরও পড়ুন:
গণফোরামের আবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি
ড. কামালের সঙ্গ ছাড়লেন রেজা কিবরিয়া
গণফোরামে বিভক্তি নেই: ড. কামাল
মন্টুদের ফিরিয়ে গণফোরামে ঐক্যের উদ্যোগ
ড. কামালের বিবেকের কাছে সুব্রতদের প্রশ্ন

শেয়ার করুন

বিদ্যুৎ-পানি বন্ধ করাকে আন্দোলন বলে না: তথ্যমন্ত্রী

বিদ্যুৎ-পানি বন্ধ করাকে আন্দোলন বলে না: তথ্যমন্ত্রী

সচিবালয়ে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরাও ছাত্র থাকা অবস্থায় ভিসিবিরোধী আন্দোলন করেছি। কিন্তু কখনো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করিনি। এটাকে আন্দোলন বলা যায় না। জেলের কয়েদিরাও পানি পান, খাবার পান।’

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্য বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছেন তার সমালোচনা করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে সোমবার এ প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তান ও সন্তানের মত। তাদের দাবি-দাওয়ার প্রতি সরকার সহানুভুতিশীল। আমরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করেছি।

‘ভিসির পদত্যাগের জন্য আমি নিজেও ছাত্র রাজনীতি করার সময় আন্দোলন করেছি। ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট আমরাও করেছি, আমি নিজেও করেছি। কিন্তু আমরা কখনো বাড়ির বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করিনি।’

তিনি বলেন, ‘আজকে শুনতে পেলাম ভিসির বাংলোতে পানি প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না, ভিসির জন্য খাবার পাঠানো হয়েছিল, সেই খাবারও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। দেখুন জেলখানার কয়েদিরাও খাবার পান, পানি পান। তাকে তো সেগুলো থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

‘যখন আন্দোলনের কথা বলে এগুলো করা হয়, সেগুলোকে তো আন্দোলন বলা যায় না। আমি ছাত্রছাত্রীদের অনুরোধ জানাব, এই যে খাবার বন্ধ করে দেয়া, ভিসির বাংলোয় কিংবা ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া বা কেটে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা এগুলোতো আন্দোলন হতে পারে না, এগুলো আন্দোলনের অংশ হতে পারে না। এগুলো তো প্রতিহিংসামূলক।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ছাত্রছাত্রীদের অনুরোধ জানাব, রাজনৈতিক ক্রীড়ানক হিসেবে তাদের যেন কেউ ব্যবহার না করে। সরকারের কাছে খবর আছে, রাজনৈতিক উদ্দেশে ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে।

‘অনেকে না বুঝেই ব্যবহৃত হচ্ছে। যেহেতু বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখছে, আশা করব খুব সহসা এটির একটি যৌক্তিক সমাধান হবে।’

এর আগে রোববার রাতে আন্দোলনের একপর্যায়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন শিক্ষার্থীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে।

অবশ্য বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থায় রাত পার করেছেন উপাচার্য। জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুতের ও পানিরও ব্যবস্থা করা হয়। সোমবার দুপুর পর্যন্ত উপাচার্য ভবনে কারো যাতায়াত লক্ষ করা যায়নি। বিদ্যুৎ-পানির সমস্যার কথা জানিয়ে উপাচার্যের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়াও আসেনি।

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু ১৩ জানুয়ারি। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ।

এরপর পুলিশ ৩০০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নামেন।

বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। ১৯ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী।

তাদের মধ্যে একজনের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি অনশন শুরুর পরদিনই বাড়ি চলে যান। বাকি ২৩ অনশনকারীর মধ্যে ১৬ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ২৩ জানুয়ারি আরও চারজন শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দেন।

এর মাঝে উপাচার্য ইস্যুতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ২২ জানুয়ারি গভীর রাতে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে বৈঠকের পর শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের মূল দাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ। এই দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরবেন না।

২৩ জানুয়ারি দুপুরের পর শিক্ষার্থীদের আবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে তা না হওয়ায় তারা উপাচার্যকে অবরুদ্ধের ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুন:
গণফোরামের আবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি
ড. কামালের সঙ্গ ছাড়লেন রেজা কিবরিয়া
গণফোরামে বিভক্তি নেই: ড. কামাল
মন্টুদের ফিরিয়ে গণফোরামে ঐক্যের উদ্যোগ
ড. কামালের বিবেকের কাছে সুব্রতদের প্রশ্ন

শেয়ার করুন

করোনার মধ্যেও এবার ভোটে মরিয়া নির্বাচন কমিশন

করোনার মধ্যেও এবার ভোটে মরিয়া নির্বাচন কমিশন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি আবার উদ্বেগজনক রূপ নিলেও নির্বাচন আয়োজন থেকে পিছু হটছে না নির্বাচন কমিশন। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

২০২১ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে ১ এপ্রিল সব নির্বাচন স্থগিত করে দেয়া হয়। এরপর ১০ জুন আবার ভোট স্থগিতের আদেশ দেয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পাশাপাশি বেশ কিছু পৌরসভা এবং লক্ষ্মীপুর-২, ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনও পিছিয়েছে করোনার জন্য। এবার কেন সেই পথে যেতে চাইছে না কমিশন, সে প্রশ্ন উঠেছে জোরেশোরেই।

করোনাভাইরাসের অতিবিস্তারের মধ্যে ভোট স্থগিতের নির্দেশ একাধিকবার এসেছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। তবে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে যখন শাটডাউনকালের মতো সংক্রমণ ঘটছে, সংক্রমণের হার প্রায় প্রতিদিনই যখন আগের দিনকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, সে সময় ভোট স্থগিত করতে নারাজ নির্বাচন কমিশন।

অথচ এই সময়ে দেশে সামাজিক-রাজনৈতিক যে কোনো জমায়েত নিষিদ্ধ। এমনকি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় সর্বোচ্চ ১০০ জনের উপস্থিতির সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে, তাও তাদের থাকতে হবে টিকার অথবা করোনা নেগেটিভের সনদ।

এই বিধিনিষেধের মধ্যেও নির্বাচন কমিশন নারায়ণগঞ্জে জমজমাট ভোট শেষ করেছে, এখন আগামী ৩১ জানুয়ারি ষষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচার চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ভোটের প্রচারকে বিপজ্জনক না ভাবলেও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড শিক্ষাঙ্গনে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন চালিয়ে যাওয়াকে সমীচীন মনে করছে না। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সশরীরে ক্লাস বন্ধ থাকাকালে কোনো ভোট হবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। যদি শিক্ষাঙ্গনে ক্লাস বন্ধের সময়সীমা আরও বাড়ে, তাহলে নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমাও বাড়বে।

একজন নির্বাচন কমিশনার দাবি করেছেন, গ্রাম এলাকায় ভোটে সেভাবে জমায়েত হয় না, প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালান। তাই সেখানে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কম। তবে একজন ভাইরাস বিশেষজ্ঞ এই যুক্তিকে বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করে বলেছেন, বিধিনিষেধের মধ্যে ভোট সংক্রমণ বাড়াবে আরও বেশি।

২০২১ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে ১ এপ্রিল সব নির্বাচন স্থগিত করে দেয়া হয়। এরপর ১০ জুন আবার ভোট স্থগিতের আদেশ দেয়া হয়।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পাশাপাশি বেশ কিছু পৌরসভা এবং লক্ষ্মীপুর-২, ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনও পিছিয়েছে করোনার জন্য।

এবার কেন তবে ভোট চালিয়ে যেতে চাইছে নির্বাচন কমিশন, সে প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে মিলেছে এমন এক তথ্য, যা নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। তার আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল কমিশন। এই অবস্থায় এই ভোট পিছিয়ে গেলে তা নতুন কমিশনকে তদারকি করতে হবে। এ কারণে বর্তমান কমিশন ভোট চালিয়ে নিতে মরিয়া বলে অভিযোগ আছে।

দেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৭৪টি। সব মিলিয়ে ৮ ধাপে ৪ হাজার ১৩৮টি ইউনিয়নে ভোটের ব্যবস্থা করেছে ইসি। এরই মধ্যে ৩ হাজার ৭৭৩টি ইউনিয়নে ভোট শেষ হয়েছে।

ষষ্ঠ ধাপে ৩১ জানুয়ারি ২১৯ ইউপিতে, সপ্তম ধাপে ৭ ফেব্রুয়ারি ১৩৮ ইউপিতে এবং অষ্টম ধাপে ১০ ফেব্রুয়ারি ৮ ইউপিতে ভোট হবে।

নির্বাচন কমিশনের যে যুক্তি

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের যে শিডিউল দেয়া আছে, সে হিসাবে যথাসময়ে নির্বাচন পরিচালনা করা হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত শিডিউল পরিবর্তন না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আগের শিডিউল মতেই নরমালি কাজ হবে।’

জমায়েত নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় এলাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিলে জমায়েতকে নির্বাচন কমিশন কেন সমস্যা মনে করছে না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনগুলো একেবারে প্রান্তিক পর্যায় বা একেবারে গ্রাম এলাকায় হচ্ছে। এসব গ্রামে নির্বাচন ঘিরে তেমন জনসভাও হয় না, জনসমাগমও হয় না। প্রার্থীরা নিজেরা কয়েকজন মিলেই বাড়ি গিয়ে গিয়ে প্রচারণা চালান। তারপরও যাতে সেখানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হয় তা ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।’

নির্বাচন কমিশনের ভোট স্থগিত করার আগের আদেশের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তবে যদি করোনা পরিস্থিতি খুব বেশি অবনতি হয়, তাহলে অবশ্যই কমিশন তা দেখবে। সে অনুযায়ী প্রোগ্রামে পরিবর্তনও আসতে পারে। তার আগ পর্যন্ত যেভাবে আছে সেভাবেই চলবে।’

করোনার বিধিনিষেধের মধ্যে বাণিজ্য মেলার মতো আয়োজন চালু রাখা নিয়ে যে সমালোচনা আছে, সেই প্রসঙ্গও টানলেন এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ‘জনসভা বা পথসভার দরকার নাই, এমনিতেই যেখানে-সেখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম। বাণিজ্য মেলায় তো নির্বাচন নেই। সেখানে কেন এত মানুষ?’

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ গত ৪ অক্টোবর নিয়ন্ত্রণে আসার পর চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণেই ছিল। তবে ৭ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা জাগে, যা গত ২১ জানুয়ারি নিশ্চিত হয়ে যায়।

এখন পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যে হারে শনাক্ত দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় শাটডাউন চলাকালে দেখা গেছে। দিনে শনাক্ত এখন ১১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যদিও মৃত্যুর সংখ্যা এবার তুলনামূলক কম।

এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের

করোনার এমন অতিবিস্তারের মধ্যেও ভোট চালিয়ে যেতে নির্বাচন কমিশন যে যুক্তি দেখিয়েছে, তা মানছেন না দেশসেরা ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের একজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার বিধিনিষেধের সঙ্গে চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম কন্টাডিকটোরি (সাংঘর্ষিক)। একদিকে করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী, অন্যদিকে মেলা চলছে, নির্বাচন চলছে, শপিং মল চলছে। সেসব জায়গায় স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না। করোনার সময় যেভাবে সবকিছু পরিচালনার উচিত ছিল সেভাবে করা হচ্ছে না। এর খেসারত দিতে হবে। সংক্রমণের হার ৩১ শতাংশে পৌঁছে গেছে। তাই এখনই এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আর নির্বাচন করোনা সংক্রমণে কতটা প্রভাব ফেলে তা তো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেই দেখা গেছে। টেলিভিশন আর সংবাদমাধ্যমে যা দেখলাম, তাতে তো কেউ তেমন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে না। তাই নির্বাচন যেখানেই হোক তা করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেবে। ক্ষেত্র নির্বাচন কিছুটা পিছিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।’

আরও পড়ুন:
গণফোরামের আবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি
ড. কামালের সঙ্গ ছাড়লেন রেজা কিবরিয়া
গণফোরামে বিভক্তি নেই: ড. কামাল
মন্টুদের ফিরিয়ে গণফোরামে ঐক্যের উদ্যোগ
ড. কামালের বিবেকের কাছে সুব্রতদের প্রশ্ন

শেয়ার করুন

নির্বাচন কমিশনে ফেরেশতা বসিয়েও লাভ নেই: রুমিন

নির্বাচন কমিশনে ফেরেশতা বসিয়েও লাভ নেই: রুমিন

রুমিন ফারহানা। ফাইল ছবি

‘একটি বিষয় পরিষ্কার, নির্বাচন কমিশনে যদি পাঁচজন ফেরেশতাও নিয়োগ করা হয় তার পরও কিছু যায় আসে না। যদি না নির্বাচনকালীন সরকারটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ হয়। খুব সঠিকভাবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল বলেই তারা নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোনো আন্দোলন করেনি। তাদের আন্দোলন ছিল নিরপেক্ষ সরকার যাতে বহাল করা হয় সে জন্য।’

নির্বাচন কমিশনে ফেরেশতা বসিয়েও কোনো লাভ নেই বলে মনে করেন বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

রোববার সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

রুমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক বাস্তবতা, তাতে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্বাচনকালীন সরকারটি কেমন হবে। আজ সংসদে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন নিয়ে।

‘একটি বিষয় পরিষ্কার, নির্বাচন কমিশনে যদি পাঁচজন ফেরেশতাও নিয়োগ করা হয় তার পরও কিছু যায় আসে না। যদি না নির্বাচনকালীন সরকারটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ হয়। খুব সঠিকভাবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল বলেই তারা নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোনো আন্দোলন করেনি। তাদের আন্দোলন ছিল নিরপেক্ষ সরকার যাতে বহাল করা হয় সে জন্য।’

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সংবিধানে আইনের কথা বলা থাকলেও স্বাধীনতার ৫০ বছরেও এ আইনটি হয়নি। আগামী ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়ার আগে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি যখন বিভিন্ন দলের সঙ্গে সংলাপ করেন, তখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় এই আইনের বিষয়টি নিয়ে। এরই মধ্যে এই আইনের একটি বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির আগের দুই সংলাপে বিএনপি অংশ নিলেও এবার তারা এই আলোচনা বর্জন করেছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিলেও দলটি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ফিরে গেছে।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আজ যখন পাশার দান উল্টে গেছে, আওয়ামী লীগ যখন ভোট ছাড়া ক্ষমতায় আছে দীর্ঘ ১৩ বছর, তখন তারা অবলীলায় বলতে পারে নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। সেই নির্বাচন কেমন হয় সেটা আমরা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে দেখেছি।’

র‌্যাব শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য। বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের বীভৎস মানবাধিকার পরিস্থিতি দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক মহলের সামনে নিয়ে এসেছে। বিএনপিসহ বহু বিরোধী দলের মানুষকে শুধু সরকারের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য জীবন দিতে হয়েছে।

‘জনগণের করের টাকায় চলা একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে দলীয় ক্যাডারের মতো ব্যবহার করে তাতে কর্মরত বহু মানুষ এবং তাদের পরিবারে সংকট তৈরি করেছে এই সরকার। এ দেশের মানবাধিকার সংস্থা, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দলগুলো বছরের পর বছর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, গায়েবি মামলা ইত্যাদি বর্বরতার কথা বলেছে। কিন্তু তাতে কিছু আসে-যায়নি সরকারের।’

তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ মন্ত্রীরা কড়া ভাষায় প্রথমে আমেরিকাকে আক্রমণ করলেও তাদের গলার স্বর এখন যথেষ্ট নিচু। এখন নিজেদের সমস্যা খতিয়ে দেখার বিষয়ে আলাপ হচ্ছে, প্রয়োজনে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগের কথাও হচ্ছে। পত্রিকায় দেখলাম সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এ বিষয়ে সরকারকে পরামর্শও দিয়েছে। মজার বিষয় হলো, ল ফার্ম নিয়োগ কোনো নতুন বিষয় নয়। জনগণের করের টাকায় দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় লবিস্ট ফার্ম পুষছে সরকার।’

বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে মার্কিন লবিং শিখিয়েছে আওয়ামী লীগ। দেশ-বিদেশে কোনো সংকটে পড়লেই সরকার নতুন ইস্যু বানিয়ে সেটা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। এবার যেমন বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেছে, টাকা পাচার করেছে ইত্যাদি তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে।’

এখন ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে না কেন- সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে রুমিন বলেন, ‘আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার পর এখন আর র‌্যাব সন্ত্রাসীদের নিয়ে গভীর রাতে অস্ত্র উদ্ধারে যাচ্ছে না। কিংবা গোপন সংবাদ পেয়ে কোনো সন্ত্রাসীকে ধরতে গিয়ে আগে থেকে ওতপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলিও ছুড়ছে না।

‘তারপর পালিয়ে যেতে গিয়ে মারাও যাচ্ছে না কোনো মানুষ। ঠিক যেন সন্ত্রাসীরা সাধু হয়ে গিয়ে র‌্যাবকে গুলি করা বন্ধ করেছিল সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহাকে হত্যার পর পরই।’

টেকনাফের কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা একরামুল হককে ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে হত্যার সময় মোবাইল ফোনে কল রেকর্ড ফাঁস হওয়ার তিন বছর পরও কেন তার স্বজনরা মামলা করতে পারেননি, সেই প্রশ্নও তোলেন রুমিন। বলেন, ‘আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছি।’

আরও পড়ুন:
গণফোরামের আবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি
ড. কামালের সঙ্গ ছাড়লেন রেজা কিবরিয়া
গণফোরামে বিভক্তি নেই: ড. কামাল
মন্টুদের ফিরিয়ে গণফোরামে ঐক্যের উদ্যোগ
ড. কামালের বিবেকের কাছে সুব্রতদের প্রশ্ন

শেয়ার করুন