এবার স্ত্রীকে নিয়ে সিরামের টিকা নিলেন বিএনপির ফখরুল

স্ত্রীসহ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিয়েছেন করোনার টিকা। ফাইল ছবি

এবার স্ত্রীকে নিয়ে সিরামের টিকা নিলেন বিএনপির ফখরুল

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে উপহারের ২০ লাখ টিকা দেশে আসার পর থেকে বিএনপি এই টিকার সমালোচনা করে এসেছে। কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ছাড়াই দলের মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী টিকার বিরুদ্ধে ক্রমাগত বক্তব্য দিয়ে এসেছেন। এই টিকা নিয়ে মানুষ বাঁচবে কি না এই সংশয় প্রকাশ করা রিজভী এমন কথাও বলেছেন, ‘ভ্যাকসিন দিয়ে সরকার বিএনপিকে মেরে ফেলতে চায়।’

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে টিকা আসার কঠোর সমালোচনা করা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নিলেন এই টিকা।

সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরার চার দিনের মাথায় সোমবার রাজধানীর উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে স্ত্রী রাহাত আরাকে সঙ্গে নিয়েই টিকা নেন বিএনপি নেতা।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে মির্জা ফখরুল নিজে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সকালে আমি এবং আমার স্ত্রী করোনার টিকা নিয়েছি।’

সিঙ্গাপুরে প্রায় এক মাস অবস্থানের পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরেন ফখরুল। তিনি সেখানে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে উপহারের ২০ লাখ টিকা দেশে আসার পর থেকে বিএনপি এই টিকার সমালোচনা করে এসেছে। কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ছাড়াই দলের মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী টিকার বিরুদ্ধে ক্রমাগত বক্তব্য দিয়ে এসেছেন।

এই টিকা নিয়ে মানুষ বাঁচবে কি না এই সংশয় প্রকাশ করা রিজভী এমন কথাও বলেছেন, ‘ভ্যাকসিন দিয়ে সরকার বিএনপিকে মেরে ফেলতে চায়।’

রিজভী টিকাবিরোধী বক্তব্য দেয়ার পর থেকে ফেসবুকে বিএনপির সমর্থকরাও মানুষকে টিকা না নেয়ার আহ্বান জানিয়ে একের পর এক পোস্ট দিতে থাকেন।

তবে ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকা শুরুর পর থেকে মানুষ ব্যাপকহারে টিকা নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩২ লাখেরও বেশি মানুষ টিকা নেয়ার পাশাপাশি নিবন্ধন করেছে ৪৫ লাখেরও বেশি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে প্রথমে টিকা নেন যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন। পরে নেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, মনিরুল হক চৌধুরী।

এখন টিকা নিয়ে আর সমালোচনাও করছেন না বিএনপির নেতারা। নজরুল ইসলাম খান দলের আগের অবস্থান পাল্টে পড়ে বলেছেন, বিএনপি টিকা নেবে না, এ কথা বলেনি। সময় এলেই তারা টিকা নেবেন।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদও এই বিষয়ে বিএনপিকে টিপ্পনি কেটেছেন। বলেছেন, গোপনে লুকিয়ে টিকা না নিয়ে প্রকাশ্যেই নিতে। এই টিপ্পনির অবশ্য জবাব দেননি বিএনপির নেতারা।

আরও পড়ুন:
একুশের চেতনায় মুক্ত হবে খালেদা: ফখরুল
যেকোনো সময় সরকার ফেলে দেবে জনগণ: ফখরুল
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ফখরুল
চট্টগ্রামে একেবারে রক্তাক্ত নির্বাচন হয়েছে: ফখরুল
টিকা কবে পাবেন জানতে চান ফখরুল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অসহায় মানুষের পাশে ময়মনসিংহ ছাত্রলীগ

অসহায় মানুষের পাশে ময়মনসিংহ ছাত্রলীগ

সর্বাত্মক লকডাউনে অসহায়দের সহায়তার জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে ময়মনসিংহ ছাত্রলীগ। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমরা প্রতিদিন ৩০০ জনকে বিনামূল্যে ইফতারি ও সেহরি খাবারের ব্যবস্থা করেছি। কোভিড আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে ফ্রি অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। রোগীকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য পাঁচটি মোটরসাইকেল ও দুইটি প্রাইভেটকারের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সর্বাত্মক লকডাউনের মধ্যে নানা রকম সেবা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ময়মনসিংহ ছাত্রলীগ।

নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রীর পাশাপাশি, সেহরির খাবার, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ, বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা, নিত্য প্রণ্যের ফ্রি ‘হোম ডেলিভারি সার্ভিস’ এবং রোগীদের জন্য ‘জয় বাংলা বাইক ও প্রাইভেটকার সার্ভিস’ নিয়ে এসেছে সরকারপন্থি ছাত্র সংগঠনটি।

চালু হয়েছে দুটি হট লাইন নম্বর। এই নম্বরে কল করলেই সেবা পৌঁছে দেবে ছাত্রলীগের কর্মীরা। নম্বর দুটি হলো: ০১৭১২ ৮৮১১৫৪ ও ০১৭১১ ৫৭৪৩৬৩ ।

ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর ছাত্রলীগ নেতা নওশেল আহমেদ অনি এই কর্মযজ্ঞের উদ্যোক্তা।

অনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ময়ময়সিংহ সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু ভাইয়ের সার্বিক সহযোগিতায় এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ভাইয়ের দিকনির্দেশনায় ময়ময়সিংহ মহানগর ছাত্রলীগের ভাইদের নিয়ে গতবছরের করোনার শুরু থেকে অসহায় মানুষের পাশে আছি।

‘এখন যেহেতু লকডাউনের কারণে দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ নানা কষ্টে আছে, তাই তাদের কথা চিন্তা করে আমরা প্রতিদিন ৩০০ জনকে বিনামূল্যে ইফতারি ও সেহরি খাবারের ব্যবস্থা করেছি।

‘লকডাউনে যারা বাসা থেকে বের হতে পারছেন না তারা যদি আমাদের কল করে জানান, তাহলে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য তাদের বাসায় পৌঁছে দিচ্ছে মহানগর ছাত্রলীগ কর্মী ভাইয়েরা।’

এই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘কোভিড আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে ফ্রি অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। রোগীকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য পাঁচটি মোটরসাইকেল ও দুইটি প্রাইভেটকারের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

ছাত্রলীগের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন, ‘করোনা কালীন সময়ে নিম্ন আয়ের মানুষের সেবা করা নিঃসন্দেহে ভালো কাজ। এতে নিজেদেরও ঝুঁকি বাড়ে। তবে রাজনীতি করতে এলে নিজের চেয়ে মানুষের কল্যাণের কথাই বেশি ভাবতে হয়।’

ছাত্রলীগ কর্মী মোহাইমিনুল হক প্রিন্স বলেন, ‘করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এই সময়টায় এমনিতেই অফুরন্ত সময় আছে হাতে। অসহায় মানুষের সেবা করতে পেরে নিজের কাছে ভালো লাগছে। এভাবে আগামীতেও মানুষের সেবা করতে চাই।’

আরও পড়ুন:
একুশের চেতনায় মুক্ত হবে খালেদা: ফখরুল
যেকোনো সময় সরকার ফেলে দেবে জনগণ: ফখরুল
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ফখরুল
চট্টগ্রামে একেবারে রক্তাক্ত নির্বাচন হয়েছে: ফখরুল
টিকা কবে পাবেন জানতে চান ফখরুল

শেয়ার করুন

কৃষকের ধান কেটে দেবে কৃষক লীগ

কৃষকের ধান কেটে দেবে কৃষক লীগ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের সুতারপাড়া ইউনিয়নের গেরাজুরের হাওরে কৃষক জালাল মিয়ার ক্ষেতের ধান কেটে দেন কৃষক নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষক লীগ সভাপতি সমীর চন্দ বলেন, ‘গতবারের মতো এবারও বাংলাদেশ কৃষক লীগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশে কৃষকের ধান কেটে ঝাড়াই মাড়াই করে গোলায় তুলে দিবে।’

গত বছরের মতো এবারও কৃষকের ধান কেটে গোলায় তুলে দেয়ার কর্মসূচি শুরু করেছে কৃষক লীগ।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বুধবার সকালে এক কৃষকের ধান কেটে দেয়ার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সংগঠনের সভাপতি সমীর চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি।

উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের গেরাজুরের হাওরে কৃষক জালাল মিয়ার ক্ষেতের ধান কেটে দেন কৃষক নেতারা।

এ সময় কৃষক লীগ সভাপতি সমীর চন্দ বলেন, ‘দুর্যোগ-দুর্বিপাকে এ দেশের কৃষক-কৃষাণীকে সঙ্গে নিয়ে কৃষক লীগের গৌরবময় পথচলার ৪৯ বছর চলছে। এ সময়ে বাংলাদেশ কৃষক লীগ এ দেশের কৃষি ও কৃষকের পাশে ছিল।

‘বৈশ্বিক মহামারি করোনার শুরুতে কৃষক যখন পাকা ধান নিয়ে বিপদে পড়েছিল, কৃষক লীগের নেতাকর্মীরা তখন ধান কেটে ঝাড়াই মাড়াই করে গোলায় তুলে দেয়। গতবারের মতো এবারও বাংলাদেশ কৃষক লীগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশে কৃষকের ধান কেটে ঝাড়াই মাড়াই করে গোলায় তুলে দিবে।’

অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আগাম বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষার স্বার্থে অগ্রাধিকারভিত্তিতে হাওর অঞ্চলের ধান কেটে দিতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান সমীর চন্দ।

আরও পড়ুন:
একুশের চেতনায় মুক্ত হবে খালেদা: ফখরুল
যেকোনো সময় সরকার ফেলে দেবে জনগণ: ফখরুল
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ফখরুল
চট্টগ্রামে একেবারে রক্তাক্ত নির্বাচন হয়েছে: ফখরুল
টিকা কবে পাবেন জানতে চান ফখরুল

শেয়ার করুন

শান্তি চান কাদের মির্জা

শান্তি চান কাদের মির্জা

নিজের নয়, অনুসারী স্বপন মাহমুদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বুধবার ভোর ৪টায় লাইভে আসেন বসুরহাটের পৌর মেয়র কাদের মির্জা। কোম্পানীগঞ্জে শান্তি ফেরাতে তিনি ১১টি প্রস্তাব রাখেন।

মেয়র নির্বাচনের পর থেকে একের পর এক সংঘর্ষ, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনার পর এবার কোম্পানীগঞ্জে শান্তি চান নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জা ফেসবুকে লাইভে এসে জানালেন, কোম্পানীগঞ্জের শান্তি ফেরাতে তার ১১ দফা প্রস্তাবনার কথা।

তবে এবার নিজের নয়, অনুসারী স্বপন মাহমুদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি বুধবার ভোর ৪টায় লাইভে আসেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় কোম্পানীগঞ্জে যেন রক্তপাত, সংঘাত, সংঘর্ষ না হয়, এ জন্য অস্ত্রমুক্ত, মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, দখলমুক্ত ও দুর্নীতিবাজমুক্ত কোম্পানীগঞ্জ গড়তে হবে।’

এর জন্য তিনি ১১টি প্রস্তাব দেন, যার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানান।

এর মধ্যে রয়েছে, নোয়াখালীর যেসব প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন, তাদের সরিয়ে অস্ত্রের রাজনীতি বন্ধ করা। সাংবাদিক মুজাক্কির ও অটোরিকশাচালক আলাউদ্দিন হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার।

পৌর মেয়র তার ছেলে তাশিক মির্জার ওপর হওয়া হামলারও তদন্ত চেয়েছেন। সেই সঙ্গে গত তিন মাসে হওয়া সব মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিও করেছেন তিনি।

তার দেয়া ১১ দফা প্রস্তাবনার মধ্যে আরও আছে, কোম্পানীগঞ্জে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করে রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং গত তিন মাসে অন্যায়ভাবে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের দ্রুত মুক্তি দেয়া।

আরও পড়ুন:
একুশের চেতনায় মুক্ত হবে খালেদা: ফখরুল
যেকোনো সময় সরকার ফেলে দেবে জনগণ: ফখরুল
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ফখরুল
চট্টগ্রামে একেবারে রক্তাক্ত নির্বাচন হয়েছে: ফখরুল
টিকা কবে পাবেন জানতে চান ফখরুল

শেয়ার করুন

মিটিংয়ে থাকলেও আব্বাসের বক্তব্য শুনিনি: ইলিয়াসপত্নী লুনা

মিটিংয়ে থাকলেও আব্বাসের বক্তব্য শুনিনি: ইলিয়াসপত্নী লুনা

বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। ছবি: নিউজবাংলা

আমি ওই মিটিংয়ে ছিলাম। কিন্তু কানেকশন প্রবলেমের জন্য ঠিকঠাক বুঝিনি। তবে আমি পরের দিন দেখেছি উনি (মির্জা আব্বাস) তো প্রেস কনফারেন্স করেছেন। তবে আমি কোনোভাবেই মনে করি না যে আমার দলের লোক জড়িত আছে। আমি এটা মনে করি না। 

বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের নবম বার্ষিকীতে যে আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বক্তব্য নিয়ে তোলপাড়, তাতে ছিলেন ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনাও। তবে তিনি দাবি করেছেন, সেই বক্তব্য তিনি শোনেননি।

১৭ এপ্রিলের সেই ভার্চুয়াল আলোচনায় আব্বাস বলেছিলেন, ‘আমি জানি, বাংলাদেশ সরকার বা আওয়ামী লীগ সরকার ইলিয়াসকে গুম করে নাই। কিন্তু গুমটা করল কে? এই সরকারের কাছে আমি এটা জানতে চাই।’

পরদিন সংবাদ সম্মেলনে এসে আব্বাস অবশ্য তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। নিজের দেয়া বক্তব্য প্রথমে অস্বীকার করে পরে বলেন কটাক্ষ করে বলেছিলেন। তবে সেই বক্তব্যে ৯ বছর আগের আলোচিত ইলিয়াস অন্তর্ধান-রহস্য নিয়ে আবার তুমুল আলোচনা হচ্ছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে নিউজবাংলা যোগাযোগ করে ইলিয়াসপত্নীর সঙ্গে। রাজধানীর বনানীর বাসায় তিনি কথা বলেছেন মির্জা আব্বাসের সেই বক্তব্য নিয়ে।

মির্জা আব্বাস যে বক্তব্য দিলেন সেটি সম্পর্কে আপনি কি জানতেন?

না, আমি শুনিনি। আমি ওই মিটিংয়ে ছিলাম। কিন্তু কানেকশন প্রবলেমের জন্য ঠিকঠাক বুঝিনি। তবে আমি পরের দিন দেখেছি উনি (মির্জা আব্বাস) তো প্রেস কনফারেন্স করেছেন।

তবে আমি কোনোভাবেই মনে করি না যে আমার দলের লোক জড়িত আছে। আমি এটা মনে করি না।

আওয়ামী লীগের অনেকেই বলছেন ইলিয়াস নিজেই নিজেকে লুকিয়ে রেখেছেন…

আচ্ছা মনে করলাম সে রাখল। কিন্তু আমি তো জানতাম। আমি তো তার স্ত্রী। আমি আজকে হার্টের পেশেন্ট। আমার কিডনির সমস্যা, বিভিন্ন রকম জটিলতা আছে।

কিসের জন্য? কেন? আমি তো অসুস্থ ছিলাম না। আমাকে বিভিন্ন বিষয় ফেস করতে হয়েছে এবং শুধু তাই না। আমার স্বামী গুম হয়েছে তাই না, গুমের পরে যেন আমরাই অপরাধ করে ফেলেছি।

আমার বাসায় এসে বাড়াবাড়ি করে রাতের বেলায়। তারপর সিসি ক্যামেরা বসায় দিল, বাসায় কে আসে না আসে এটা দেখার জন্য, আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করে কি না।

পরের বছরে আমার বাসায় গিয়ে সার্চ করে আমার বাসায় মাদক আছে কি না বলে। গত বছরের আগের বছর রোজার ঈদের সময়ে আমার বাসায় গোলাগুলি পর্যন্ত করছে। একটা হ্যারাসমেন্ট করে ত্রাসের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কেন? আমার অপরাধটা কী?

বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর বিষয়টি পরিষ্কার করতে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

মির্জা আব্বাসের বক্তব্য নিয়ে দলের প্রতি কোনো সন্দেহ জন্মেছে কি?

ক্ল্যারিফিকেশনটা আসলে উনি দিয়েছেন সবাইকে। আসলে আমার মনে কোনো ধরনের সন্দেহ ছিল না। আমি জানি উনি কখনও অসৎ উদ্দেশ্যে বা খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে বলেন নাই।

আমার দলের প্রতি কোনো সন্দেহ নাই। দল এটা করবে বলেও আমি বিশ্বাস করি না। আমি সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করি, আমার পরিবারের সবাই বিশ্বাস করে এবং এই দেশের মানুষ বিশ্বাস করে, আমাদের এলাকার মানুষ বিশ্বাস করে এটার সঙ্গে সরকার যুক্ত।

মির্জা আব্বাস বলেছিলেন, ইলিয়াস গুম হওয়ার আগের রাতে দলীয় অফিসে কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয় মারাত্মক রকমের। ইলিয়াস তাদের খুব গালিগালাজ করেছিল। সেই যে পেছন থেকে দংশন করা সাপগুলো আমাদের দলে এখনও রয়ে গেছে।

উনি মনে হয় ভুল আলোচনা করে ফেলেছেন। আমরা যে মিডিয়ার সামনে বসে গেছি, ওনার হয়তো এটা খেয়াল ছিল না। হয়তো উনি নিজস্ব মতামতে ওভাবে বলতে গেছেন।

কারণ হচ্ছে যে, ইলিয়াস আলী যেদিন গুম হইছে সেদিন কিন্তু উনি সিলেট থেকে আসছিলেন। উনি কিন্তু এখানে পার্টি অফিসে ছিলেন না। সিলেট থেকে ওনাকে আনা হয়েছে।

ওনার সঙ্গে তারও ঘনিষ্ঠতা ছিল। তাকে ফোন করে ডেকে আনা হয়েছে যে আজকে আসতেই হবে। তাকে আনানো হয়েছে এবং তাকে বাসা থেকে বের করা হয়েছে। সেদিন কিন্তু তার বাসা থেকে বের হওয়ার কথা ছিল না।

বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলী। ছবি: সংগৃহীত

কে সে হতে পারে সেটা কি আন্দাজ করতে পারেন? বা তাকে নিয়ে যাওয়া হবে, এমন কোনো আন্দাজ করতে পেরেছিলেন?

না, না কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আমরা কীভাবে আন্দাজ করব? একজন সংসদ সদস্য (সে সময় সাবেক) তাকে কেউ গুম করে ফেলবে এই কথা কেউ আন্দাজ করে?

আমরা শুধু ধারণা করতে পারতাম যে, আমার বাসায় পুলিশ আসতে পারে, আমার হাজবেন্ডকে অ্যারেস্ট করতে পারে। এইটুকুই আমরা বিশ্বাস করতে পারি, এইটুক পর্যন্ত সন্দেহ করতে পারি।

একজন মানুষকে যে গুম করে ফেলবে এই জিনিসটা তো আমরা বিশ্বাস করতে পারি না। কেন করবে সেটা? তার অপরাধটা কী? সে কী করেছে? দেশের বিরুদ্ধে কোনো কিছু… সেটাও তো করে নাই সে।

সে দেশের পক্ষে কথা বলেছে, আমাদের দেশের বিরুদ্ধে বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভূমিকা রেখেছে সব সময়।

নট অনলি সামনে থেকে বলব, আমার ড্রাইভারসহ যেন কোনো চাক্ষুষ প্রমাণ না থাকে সেই কারণে ড্রাইভারসহ… ড্রাইভারের কী অপরাধ ছিল? তার ফ্যামিলির কী অবস্থা এখন? তার ফ্যামিলিটাকে আমাদের দেখতে হয়।

আপনি এখন কীভাবে চেষ্টা করছেন?

আমাদের কী চেষ্টা করার আর কোনো জায়গা আছে? সরকার যদি আপনাকে টার্গেট করে তো আপনি যদি মাটির নিচেও থাকেন সেখান থেকেও আপনাকে খুঁজে বের করবে। এখন সে যদি সরকারের হাতে থেকে থাকে আমাদের তো সেখানে ঢোকার কোনো সুযোগ নাই।

আমি বলতে চাই, আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি। আমার পরিবার নিয়ে কেউ কোনো রাজনীতি করবে না।

আরও পড়ুন:
একুশের চেতনায় মুক্ত হবে খালেদা: ফখরুল
যেকোনো সময় সরকার ফেলে দেবে জনগণ: ফখরুল
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ফখরুল
চট্টগ্রামে একেবারে রক্তাক্ত নির্বাচন হয়েছে: ফখরুল
টিকা কবে পাবেন জানতে চান ফখরুল

শেয়ার করুন

আ. লীগ নিয়ে ‘ফতোয়া’: নুরের বিরুদ্ধে এবার চট্টগ্রামে মামলা

আ. লীগ নিয়ে ‘ফতোয়া’: নুরের বিরুদ্ধে এবার চট্টগ্রামে মামলা

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর

গত ১৪ এপ্রিল নুর লাইভে এসে বলেন, আওয়ামী লীগের কেউ প্রকৃত মুসলমান না এবং প্রকৃত মুসলমানরা আওয়ামী লীগ করতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলার পর অবশ্য ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষমা চেয়ে বলেছেন, তার ভুল হয়ে গেছে।

‘প্রকৃত কোনো মুসলমান আওয়ামী লীগ করতে পারে না’- ফেসবুক লাইভে এমন মন্তব্য করে এবার চট্টগ্রামে মামলা খেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করেন নগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আজিজ মিসি।

মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে এই তথ্যটি গণমাধ্যমকে জানান চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (জনসংযোগ) শাহ আবদুর রউফ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আজিজ মিসির ফেসবুকে নুরের গত ১৪ এপ্রিলের লাইভটি দেখতে পান। ওই লাইভে তিনি ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্যের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কেউ প্রকৃত মুসলমান না এবং প্রকৃত মুসলমানরা আওয়ামী লীগ করতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন।

বাদী মনে করছেন, নূর তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছেন।

নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫(২), ২৮(২), ২৯(১), ৩১(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে এই বক্তব্যের জন্য ঢাকা ও সিলেটে নুরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে।

ঢাকার পল্টন মডেল থানায় রোববার রাতে করা একটি মামলায় আগামী ৬ জুন প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মুখ্যমহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী।

নুর অবশ্য তার বিরুদ্ধে মামলার পর আরও দুই বার ফেসবুক লাইভে এসে এই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। বলেছেন, তরুণ রাজনীতিক হিসেবে তার ভুল হয়ে গেছে।

মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়- এই কথাটিও একাধিকবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি।

আরও পড়ুন:
একুশের চেতনায় মুক্ত হবে খালেদা: ফখরুল
যেকোনো সময় সরকার ফেলে দেবে জনগণ: ফখরুল
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ফখরুল
চট্টগ্রামে একেবারে রক্তাক্ত নির্বাচন হয়েছে: ফখরুল
টিকা কবে পাবেন জানতে চান ফখরুল

শেয়ার করুন

খালেদার করোনা: দুশ্চিন্তা কাটছে চিকিৎসকের

খালেদার করোনা: দুশ্চিন্তা কাটছে চিকিৎসকের

বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখে এসে সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

‘আজকে বেগম খালেদা জিয়ার করোনা আক্রান্তের ১৩ দিন। আগামী কালকে দুপুর পর্যন্ত আমাদের ক্রুশিয়াল টাইম। ১৪ তম দিন যখন শুরু হবে, এই অবস্থায় টেম্পারেচার যেটি স্বাভাবিক মানুষের থাকা উচিত সেটি আছে। উনার শ্বাস-প্রশ্বাস, অক্সিজেন সেচুরেশন খুবই ভালো আছে এবং উনার খাবার রুচি ভালো আছে। কখনই ওনার কাশি কিংবা গলা ব্যথা এ রকম কোনো উপসর্গ ছিল না। সেটি এখনও নেই।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর ১৩ দিন কেটে যাওয়ায় তার চিকিৎসকদের দুশ্চিন্তা কাটছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেখে এসে মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, শরীরে অক্সিজেন মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। জ্বর নেই, গলায় ব্যাথাও নেই।

রাত পৌনে ১০ জাহিদ হোসেন ছাড়াও চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজায় প্রবেশ করেন।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের সদস্যরা তার বাসায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

আরও এক সপ্তাহ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আজকে বেগম খালেদা জিয়ার করোনা আক্রান্তের ১৩ দিন। আগামী কালকে দুপুর পর্যন্ত আমাদের ক্রুশিয়াল টাইম। ১৪ তম দিন যখন শুরু হবে, এই অবস্থায় টেম্পারেচার যেটি স্বাভাবিক মানুষের থাকা উচিত সেটি আছে। উনার শ্বাস-প্রশ্বাস, অক্সিজেন সেচুরেশন খুবই ভালো আছে এবং উনার খাবার রুচি ভালো আছে। কখনই ওনার কাশি কিংবা গলা ব্যথা এ রকম কোনো উপসর্গ ছিল না। সেটি এখনও নেই।’

তিনি বলেন, ‘উনি অন্য দিনের চেয়ে আজকে অনেকটা ভালো বোধ করছেন বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন। এ অবস্থায় উনার যে চিকিৎসা চলতেছে সেই চিকিৎসাই চলবে এবং ১৪ তম দিন পার হওয়ার পর ওনার মেডিকেল বোর্ড আবার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’

গত বছর দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বেশিরভাগ রোগী দুই সপ্তাহেই ভালো হয়ে গেলেও এবার নতুন ধরনের করোনা মানুষকে সুস্থ হতে দিচ্ছে না। রোগীদের সুস্থ হতে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় লেকে যাচ্ছে।

এই বিষয়টি তুলে ধরে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আগামী পরশু সকালে উনার দুই সপ্তাহ শেষ হবে। মিনিমাম আগামী ২ থেকে ৩ সপ্তাহ আমাদেরকে উনার স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

‘আপনারা জানেন যে, ইদানীং করোনা পেশেন্টরা ৩/৪ সপ্তাহেও নেগেটিভ হয় না। উনার চেয়ে আরও ইয়ং লোকদেরও এটা হচ্ছে। করোনার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায় বা না যায় প্রত্যেকটা জিনিস আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। সেজন্য আমাদের লুজ দিলে চলবে না।’

বিএনপির এই চিকিৎসক নেতা জানান, খালেদা জিয়া দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করেছেন।

বিএনপি নেত্রী সুস্থ হয়ে করোনার টিকা নেবেন কি না- জানতে চাইলে তার চিকিৎসক বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত হলে সুস্থ হয়োর চার সপ্তাহ পার না হলে আপনি টিকা নিতে পারবেন না।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘উনি মতো একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ এবং উনার আরও কিছু কিছু অসুস্থতা আছে। সেই অবস্থায় আমরা যে ক্লোজ অবজারভেশনে মনিটরিং করছি সেটা অব্যাহত রাখতে হবে।

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার এবং শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
একুশের চেতনায় মুক্ত হবে খালেদা: ফখরুল
যেকোনো সময় সরকার ফেলে দেবে জনগণ: ফখরুল
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ফখরুল
চট্টগ্রামে একেবারে রক্তাক্ত নির্বাচন হয়েছে: ফখরুল
টিকা কবে পাবেন জানতে চান ফখরুল

শেয়ার করুন

পৌরসভায় আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ নয়: মন্ত্রী

পৌরসভায় আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ নয়: মন্ত্রী

অতিরিক্ত কর্মচারী নিয়োগের ফলে পৌরসভার কর্মচারীদের মাসের পর মাস বেতন-ভাতা বকেয়া থাকছে। এ বিষয়ে সব মেয়রকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

নিয়মিত কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ না দিতে দেশের সব পৌর মেয়রদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে চলমান কোভিড সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে দেশের সব পৌর মেয়রদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে তিনি এ নির্দেশ দেন।

মন্ত্রী জানান, ‘পৌরসভাগুলোতে নিয়মিত কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সময়মত পরিশোধ না করে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিয়ে তাদের বেতন দেয়া হচ্ছে বলে অনেক অভিযোগ আসে।’

অতিরিক্ত কর্মচারী নিয়োগের ফলে পৌরসভার কর্মচারীদের মাসের পর মাস বেতন-ভাতা বকেয়া থাকছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে সকল মেয়রকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

যারা ধর্মের কথা বলে দেশে অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে তাদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলে শক্ত হাতে মোকাবেলা করতে সকল জনপ্রতিনিধিদের আহ্বান জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

পৌর মেয়রদের আয় ও উৎপাদনমুখী এবং সেবামূলক প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে গৃহীত চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘লকডাউন যত বৃদ্ধি হবে, দেশের অর্থনীতির উপর তত চাপ বাড়বে। তাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার কোনো বিকল্প নেই।’

হাট-বাজারগুলোতে জনসমাগম কমানোর তাগিদ দিয়ে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা জায়গায় কাঁচাবাজার বসানোর পরামর্শ দেন তাজুল ইসলাম।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য বিভাগ ও দপ্তর থেকে যেসব পরিপত্র জারি হয়েছে সেগুলো পরিপালনের নির্দেশও দেন মন্ত্রী।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে নাগরিকদের প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না উল্লেখ করে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মানবকল্যাণে অবদান রাখার চেয়ে বড় প্রাপ্তি মানুষের আর কিছু হতে পারে না। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজ যোগ্যতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে সকল সমস্যার সমাধান করতে হবে।’

জনপ্রতিনিধিরাই সামাজিক বিপ্লব ঘটাতে পারে বলেও মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশের সকল পৌর মেয়ররা অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
একুশের চেতনায় মুক্ত হবে খালেদা: ফখরুল
যেকোনো সময় সরকার ফেলে দেবে জনগণ: ফখরুল
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ফখরুল
চট্টগ্রামে একেবারে রক্তাক্ত নির্বাচন হয়েছে: ফখরুল
টিকা কবে পাবেন জানতে চান ফখরুল

শেয়ার করুন