দেশবাসী কষ্টে থাকলে সরকারের কিছু যায়-আসে না: নজরুল

জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা ঘোষণা দিবসের ৫১ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

দেশবাসী কষ্টে থাকলে সরকারের কিছু যায়-আসে না: নজরুল

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়। দেশবাসী অশান্তি ও কষ্টে থাকলে তাদের কিছু আসে-যায় না। দুর্নীতি, অবিচার ও অনাচারে নিমজ্জিত দেশ। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’

দেশবাসী অশান্তি আর কষ্টে থাকলে ‘অনির্বাচিত’ সরকারের কিছু যায়-আসে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম খান।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে মঙ্গলবার দুপুরে স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা ঘোষণা দিবসের ৫১ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সরকারের বিষয়ে নজরুল বলেন, ‘যে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়। দেশবাসী অশান্তি ও কষ্টে থাকলে তাদের কিছু আসে-যায় না। দুর্নীতি, অবিচার ও অনাচারে নিমজ্জিত দেশ। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা শঙ্কিত।

‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সরকার ভালোমতোই জানে, খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে দেশ ও জনগণ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না। দেশের মানুষ আজ নিরাপদ নয়। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তখনই শান্তি পাব, যেদিন এ দেশের মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাবে, জানমালের নিরাপত্তা পাবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘শহিদ জিয়া দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেক্টর কমান্ডার থাকা অবস্থায় স্বাধীনতার আগেই সেখানে বাংলাদেশের প্রশাসন গড়ে তুলেছিলেন।

‘সেই জিয়াউর রহমানকে অসম্মান করার অপচেষ্টা চলছে। এ অপচেষ্টা শুধু জিয়ার বিরুদ্ধে নয়, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল কাউকে খেতাব দেয়া বা নেয়ার ক্ষমতা রাখে না। আর যে এ প্রস্তাবটি তুলেছেন তিনিই (শাজাহান খান) বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ‘‘খুনি মুজিবের বিচার হয়েছে’' বলে উল্লাস করেছিলেন।'

দেশের ইতিহাস নিয়ে বিএনপির বর্ষীয়ান এ রাজনীতিক বলেন, ‘১৯৭০ সালে যারা স্বাধীন পূর্ব বাংলার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাদের নাম ইতিহাসে নেই। সূর্যের চেয়ে বড় নক্ষত্র আছে। কিন্তু সূর্য কাছাকাছি দেখে তাকেই বড় মনে হয়।

‘আজকে যারা মুক্তিযুদ্ধের ফেরি করে বেড়ান, আপনারা কি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন? যখন মনে হয়, যুদ্ধে আপনাদের দেখি নাই অথচ সব কৃতিত্বের দাবিদার, তখন মনে বড় কষ্ট লাগে।’

২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টির (জাফর) আয়োজনে দলটির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মুশতাকের মৃত্যুর প্রতিবাদকারীদের মুক্তির দাবি

মুশতাকের মৃত্যুর প্রতিবাদকারীদের মুক্তির দাবি

লেখক মুশতাক আহমেদ ও কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর। ছবি: নিউজবাংলা।

লেখক মুশতাক আহমদের ‘হত্যা’ র প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের হামলা ও মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ৫১ নাগরিক।

লেখক মুশতাক আহমদের ‘হত্যা’ র প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের হামলা ও মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ৫১ নাগরিক।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার মুশতাক আহমেদ কারাবন্দি অবস্থায় ‘অসুস্থ হয়ে পড়লে’ হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। কারাগারে আটক অবস্থায় লেখক মুশতাকের এই মৃত্যুকে ‘রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড’ বলে মন্তব্য করছেন এই ৫১ নাগরিক।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে, শাহবাগে মশাল মিছিল থেকে সাত শিক্ষার্থীকে আটক ও পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানান তারা। এ সময় খুলনার পাটকল শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার নিন্দা জানান তারা।

নাগরিক সমাজ প্রতিনিধিদের পাঁচ দাবি:

১। মুশতাক হত্যার প্রতিবাদে সোচ্চার সংগঠক রুহুল আমিনসহ সাত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/১৪৯/১৮৬/৩৩২/৩৩৩/৩০৭/৩৫৩/৪২৭/১০৯ ধারার আলোকে অন্যায্য, অসমীচীন, নিবর্তন ও নিপীড়নমূলক মামলাসমূহ অবিলম্বে প্রত্যাহার ও বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।

২। শাহবাগে আয়োজিত মশাল মিছিলে বর্বরোচিত পুলিশি হামলায় আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং জাতিসংঘের প্রণীত ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক বল প্রয়োগ ও অস্ত্র ব্যবহার মূলনীতি' এর আলোকে হামলাকারীদের বিচার চাই।

৩। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য উদ্ধারের নামে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন বন্ধ করতে হবে এবং চিন্তা, বিবেক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা চর্চা করবার জন্য যাঁদের নামে অন্যায্য- অসমীচীন ও নিবর্তনমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছ তা অবিলম্বে বাতিল করে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করার দাবি জানায়।

৪। আটক কার্টুনিস্ট কিশোরের উন্নত চিকিৎসা জন্য অবিলম্বে জামিন দেয়াসহ, যারা তাকে হেফাজতে নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে তাদের নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর আলোকে বিচার দাবি করছি।

৫। লেখক মুশতাক আহমেদকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রেখে ধীরে ধীরে মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবার যে অভিযোগ নাগরিকদের থেকে উঠেছে সে বিষয়ে যথাযথ, প্রয়োজনীয়, গ্রহণযোগ্য, স্বাধীন- সর্বোপরি অধিকারভিত্তিক বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে এবং সেই তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি করছি।

বিবৃতিতে সই করেন।

১. আনু মুহাম্মদ, শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

২. শাহীন আনাম, নির্বাহী পরিচালক মানুষের জন্য-এর প্রধান

৩. রেহনুমা আহমেদ, লেখক

৪. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, প্রধান নির্বাহী, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) এবং আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

৫. খুশি কবীর, সামাজিক কর্মী, নারীবাদী এবং পরিবেশবাদী।

৬. ফরিদা আক্তার, নারী অধিকার আন্দোলন কর্মী।

৭. জোবাইদা নাসরীন, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

৮. মির্জা তাসলিমা সুলতানা, শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

৯. হানা শামস আহমেদ, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী।

১০. নাসরিন খন্দকার, শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য।

শেয়ার করুন

৭ মার্চ পালনে বিএনপির সিদ্ধান্তে খুশি শাজাহান খান, তবে…

৭ মার্চ পালনে বিএনপির সিদ্ধান্তে খুশি শাজাহান খান, তবে…

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ

‘আপনারা শুনেছেন, বিএনপি এবার থেকে ৭ মার্চ পালন করবে। তারা কী বলবে সেটা আমি জানি না। তবে বিষয়টি শুনে খুশি হইলাম।… তবে কয়েক দিন আগে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলছেন, ভাষণ দিয়ে দেশ স্বাধীন হয় নাই, যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর সেই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন জিয়াউর রহমান।’

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালনে বিএনপির সিদ্ধান্তে খুশি হয়েছেন দলটির কট্টর সমালোচক আওয়ামী লীগ নেতা শাজাহান খান। তবে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের এই দিনটিতে বিএনপি যে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে, তাতে কী কথা বলা হবে, তা দেখার অপেক্ষায় তিনি।

রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল-জামুকার সদস্য শাজাহান খান এ কথা বলেন।

আলোচনা সভাটির আয়োজন করা হয় ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মাসে, মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে কাতারভিত্তিক আল জাজিরা টেলিভিশন বাংলাদেশ প্রসঙ্গে মিথ্যা তথ্য প্রচার’ বিষয়ে।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে বিএনপি এবার যেসব কর্মসূচি দিয়েছে, তার মধ্যে ৭ মার্চ ও ২৫ মার্চের আলোচনা সভাটি সামনে এসেছে।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণকে স্বাধীনতার পথে বাংলাদেশের যাত্রার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। সেই ভাষণে জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

বিএনপি শাসনামলে রেডিও-টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণটি কার্যত নিষিদ্ধ ছিল। আওয়ামী লীগ বারবার অভিযোগ করে আসছে, তারা ভাষণটি বাজাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে বিরোধী দলে থাকতে।

চার বছর আগে বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণটিকে যখন ইউনেসকো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তখনও বিএনপি ঐতিহাসিক দিনটিকে নিয়ে কটাক্ষ করেছে।

সেই দলটি এবার ৭ মার্চ পালন করবে জানানোর বিষয়টি তুলে ধরে শাজাহান খান বলেন, ‘আপনারা শুনেছেন, বিএনপি এবার থেকে ৭ মার্চ পালন করবে। তারা কী বলবে সেটা আমি জানি না। তবে বিষয়টি শুনে খুশি হলাম।’

বিএনপি ৭ মার্চে কী বলবে, এ নিয়ে সাবেক মন্ত্রীর সংশয়ের কারণ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বক্তব্য।

৭ মার্চ পালনে বিএনপির সিদ্ধান্তে খুশি শাহাজান খান, তবে…
৭ মার্চ পালনে বিএনপির সিদ্ধান্তে খুশি শাজাহান খান

শাজাহান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ভাষণ দিয়ে দেশ স্বাধীন হয় নাই, যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর সেই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন জিয়াউর রহমান। আবার খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাহেব বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেছেন জিয়াউর রহমান। মিথ্যাচারের একটা সীমা আছে। বাংলাদেশের মানুষ কি এতই বোকা যে তারা যা বলবে তাই বুঝবে।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেসকো আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি দিল। এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে কি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ওই কথার প্রমাণ হয়ে যায় না?’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে দলটি যে স্বাধীনতার ঘোষক বলে আখ্যা দেয়, সেটি নিয়েও কথা বলেন শাজাহান খান। বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা পাঠ করেছিলেন মাত্র। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা পাঠ করেছেন বলে দাবি করতে পারেন কিন্তু ঘোষক নন।

‘আপনারা যারা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করেন, আপনাদের স্বাধীনতা দিবস হবে ২৭ মার্চ, ২৬ মার্চ নয়। কারণ ২৭ মার্চই তো জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন।’

শেয়ার করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিলোপের দাবি বিএনপির

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিলোপের দাবি বিএনপির

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

২০০৬ সালে বিএনপি শাসনামলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন পাস করা হয়। এরপর ‍দুই দফা সংশোধনী আনা হয় আইনে। প্রথমে ২০১৩ ও পরে ২০১৮ সালে। বিএনপি বলছে, ‘স্বৈরাচারি সরকার’ একটি ভয়ংকর নির্যাতন মূলক আইনের মাধ্যমে জনগণের বাক-স্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতা, সকল সাংবিধানিক অধিকার, স্বাধীন মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে চলেছে।’

কালা কানুন আখ্যা দিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ, এই আইনের সুযোগে সরকার মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করছে।

গত শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই দাবি জানিয়ে প্রস্তাব পাস করা হয়। রোববার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলের সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এই আইনে যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের সবার মুক্তির পাশাপাশি এই আইনে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে মারা যাওয়া লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর কারণ জানতে বিচারিক তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে।

দেড় দশক আগে ২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় প্রথম তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনটি করা হয়। আর পরে দুই দফা সংশোধন করা হয়, প্রথমে ২০১৩ ও পরে ২০১৮ সালে। এখন এর নাম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।

বেশ কিছু সংগঠন ও ব্যক্তি এই আইনটিকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি হিসেবে অভিহিত করে আসছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় এই আইনটি থাকা জরুরি।

সরকারকে ‘গণবিরোধী ও স্বৈরাচারি’ আখ্যা দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটি বলে, ‘সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে ধরে রাখার জন্য সকল সাংবিধানিক অধিকার হরণ করে বিভিন্ন কালা-কানুন বিশেষ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মত একটি ভয়ংকর নির্যাতন মূলক আইনের মাধ্যমে জনগণের বাক-স্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতা, সকল সাংবিধানিক অধিকার, স্বাধীন মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে চলেছে।’

লেখক মুশতাক আহমেদ কারাগারে কোনো চিকিৎসা পাননি বলেও অভিযোগ করে বিএনপি।

ফখরুল বলেন, ‘অবিলম্বে লেখক মোশতাক আহমেদের কারাগারে অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ধারের এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছে।’

কাদের মোল্লাকে ‘শহিদ’ বলে কারাগারে যাওয়া সাংবাদিকের পাশে বিএনপি

মানবতাবিরোধী অপরাধী আবদুল কাদের মোল্লাকে ‘শহিদ’ উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় জামায়াতের মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদ ও বিশেষ প্রতিনিধি রুহুল আমীন গাজীকে গ্রেপ্তারেরও সমালোচনা করেছে বিএনপি।

কাদের মোল্লার দণ্ড কার্যকরের ষষ্ঠ বার্ষিকীতে ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর রায় কার্যকরের বার্ষিকীতে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ষষ্ঠ শাহাদৎবার্ষিকী আজ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

এতে কাদের মোল্লাকে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং প্রাপ্ত আখ্যা দেয়া হয়। দাবি করা হয়, ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জেসিও মফিজুর রহমানের ডাকে কাদের মোল্লা এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেন।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়। পোড়ানো হয় সংগ্রাম পত্রিকার কপি। ওই ঘটনার পর সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদকে ওই রাতেই হাতিরঝিল থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

আর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আফজাল ওই থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন।

মামলায় দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদ, প্রধান প্রতিবেদক রুহুল আমিন গাজী ও বার্তা সম্পাদক সাদাত হোসেনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়।

গত ২২ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয় রুহুল আমিন গাজীকে। তিনি এখনও কারাগারে।

বিএনপি বলছে, ‘দৈনিক সংগ্রামের বয়োবৃদ্ধ সম্পাদকসহ অসংখ্য সাংবাদিক, লেখক, পেশাজীবী আটক করে বিনা বিচারে কারাগারে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এই অবৈধ দখলদার আওয়ামী লীগের সরকারের প্রশ্রয়ে হত্যা নির্যাতন ক্রমেই বেড়ে চলেছে।’

সম্প্রতি নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে আহত সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যায় ক্ষমতাসীন দলকে দায়ী করেছে বিএনপি।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি খুলনায় বিনপির সমাবেশ বানচালে পুলিশ নেতা-কর্মীদের নির্বিচারে আটক করেছে বলেও অভিযোগ করেছে বিএনপি। বলা হয়, এই সমাবেশে লোক আসা ঠেকাতে বাস মালিকদের ধর্মঘটে বাধ্য করা হয়েছে।

বিএনপি বলছে, সরকার জনগণের মত প্রকাশের অধিকার, সভা, সমাবেশের অধিকারসহ সকল গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক অধিকার নগ্নভাবে খর্ব করে চলেছে এবং তাদের স্বৈরাচারি চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে।

শেয়ার করুন

মুশতাকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক: কাদের

মুশতাকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক: কাদের

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু হয় গত বৃহস্পতিবার। ফাইল ছবি

কাদের বলেন, ‘লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমি আশা করি, তদন্তের মাধ্যমে লেখক মুশতাকের মৃত্যু-রহস্য উন্মোচিত হবে।’

কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রোববার সকালে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

কাদের বলেন, ‘লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমি আশা করি, তদন্তের মাধ্যমে লেখক মুশতাকের মৃত্যু-রহস্য উন্মোচিত হবে।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে কাদের বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য একদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা যেমন জরুরি, তেমনি এই আইনের অপপ্রয়োগ যাতে না হয়, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। স্বাধীনতা মানে এই নয় যে যার মতো যা খুশি বলার নিরঙ্কুশ বা একচেটিয়া অধিকার থাকবে।

‘অন্যের মতামতকে সম্মান জানানোও স্বাধীন মতপ্রকাশের সীমানাভুক্ত। সরকার অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে এই আইনের ব্যবহার নিয়ে। কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা যাতে এই আইনের অপব্যবহার করতে না পারে সেদিকে নজর থাকা জরুরি। মুশতাকের দুঃখজনক মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্তাধীন। তাই তদন্তাধীন ইস্যুতে একটি কুচক্রী মহল ঘোলা মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে।’

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে শুরু থেকেই সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।

এই আইনেই গত বছরের মে মাসে গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু হয় ২৫ ফেব্রুয়ারি। গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে তার মৃত্যুর পর থেকেই আইন নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে সমালোচনা-প্রতিবাদ।

ঠিক কী কারণে ৫৩ বছর বয়সী মুশতাকের মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে ময়নাতদন্ত হয়েছে। গঠন করা হয়েছে একাধিক তদন্ত কমিটিও।

ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান শুরু

এদিকে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর রোববার থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার কাজ পুনরায় শুরু করেছে বিআরটিএ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিভাগীয় পর্যায়েও লাইসেন্স প্রদানের কাজ শুরু করা হবে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘লাইসেন্স সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ পেশাদারত্বের পরিচয় দিতে হবে।’

যানবাহনের ফিটনেস সনদ গ্রহণের বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সরকার সেবা সহজীকরণে এবং গ্রাহকদের সুবিধার্থে দেশের যেকোনো সার্কেল অফিস হতে যানবাহনের ফিটনেস সনদ গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে।’

বিআরটিএর বিষয়ে কাদের বলেন, ‘বিআরটিএকে একটি সঠিক সেবামুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানের সেবা পেতে এখনও গ্রাহক ভোগান্তি আছে। তবে এ ভোগান্তি প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে কমে আসছে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল সেবার আওতা বাড়ানা গেলে দুর্নীতি ও অনিয়ম অনেকটা কমে যাবে। বিআরটিএতে এখনও দালালের দৌরাত্ম্য রয়েছে। অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। তাদের সখ্যে গড়ে উঠেছে এ চক্র।’

শেয়ার করুন

প্রেস ক্লাবে ছাত্রদল-পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

প্রেস ক্লাবে ছাত্রদল-পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ছাত্রদল কর্মীদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

পুলিশের লাঠিপেটায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন। একই সঙ্গে নেতা-কর্মীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে আহত হন একাধিক পুলিশ সদস্য। আহত হয়েছেন একাধিক সংবাদকর্মী।

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক আহমদের মৃত্যুতে রোববার বেলা ১১টার দিকে এই প্রতিবাদ সমাবেশ ডাকে ছাত্রদল। সমাবেশ শুরুর ২০ মিনিটের মধ্যেই শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ।

পুলিশের লাঠিপেটায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন। একই সঙ্গে নেতা-কর্মীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে আহত হন একাধিক পুলিশ সদস্য। আহত হয়েছেন একাধিক সংবাদকর্মী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টায় সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও সাড়ে ৯টা থেকেই সেখানে ছাত্রদলের কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। সমাবেশের অনুমতি না থাকায় বাধা দেয় পুলিশ। তখন প্রেস ক্লাবের ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এরপরই শুরু হয় পুলিশের লাঠিচার্জ।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের।

এই সমাবেশের জন্য ছাত্রদল কোনো অনুমতি ছিল না জানিয়ে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘প্রেসক্লাবের ভেতর থেকে একটা গ্রুপ রাস্তায় এসে হামলা করে। আরেকটা বড় গ্রুপ প্রেসক্লাবের ভেতর থেকে ইট পাটকেল ছুড়তে শুরু করে।’

ছাত্রদল নেতাকর্মীদের আঘাতে অন্তত সাত-আটজন পুলিশ সদস্য আহত আছেন বলে দাবি উপ কমিশনার সাজ্জাদুরের।

সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি বাম জোটের 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি বাম জোটের 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। ছবি: শিপন আলী

সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ‘সরকারিভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির প্রতি মানুষের কোনো আস্থা নেই। তাই বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

শনিবার বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশ থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানায় বাম জোট।

একই সঙ্গে মুশতাকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদ মিছিল থেকে গ্রেপ্তার ছাত্রনেতাদের মুক্তির দাবিও জানানো হয়।

সমাবেশে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ‘মুশতাক আহমেদের মৃত্যু একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাকে স্বাধীন মতপ্রকাশের অপরাধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নয় মাস বন্দি রাখা হয়। হাই সিকিউরিটি প্রিজনার তকমা দিয়ে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্যন্ত করতে দেয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘মুশতাকের জামিন পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। তাকে হত্যার দায় ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী সরকারকে নিতে হবে।’

আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন আরও বলেন, ‘সরকারিভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির প্রতি মানুষের কোনো আস্থা নেই। তাই বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মুশতাক আহমেদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দমনে পুলিশ যে জুলুম চালিয়েছে তাতে সরকারের ফ্যাসিবাদী চেহারা উন্মোচিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শাহবাগে প্রতিবাদ মিছিলে হামলা করে ছাত্রদের যারা রক্তাক্ত করেছে তাদের বিচার এদেশের জনগণের আদালতে হবে।’

সমাবেশ আরও বক্তব্য দেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক, ইউসিএলবির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাকমন্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আমেনা আক্তার ও বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা রাশেদ শাহরিয়ার।

শেয়ার করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলে উদীচীর হুঁশিয়ারি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলে  উদীচীর হুঁশিয়ারি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর হুশিয়ারি। ছবি: নিউজবাংলা

আইনটি প্রত্যাহার করা না হলে সারা দেশের শিল্পী-কর্মীদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে সমাবেশ থেকে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে নিবর্তনমূলক দাবি করে সেটি বাতিলের দাবিতে এবং কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদে শাহবাগে সমাবেশ করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। আইনটি প্রত্যাহার করা না হলে সারা দেশের শিল্পী-কর্মীদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে সমাবেশ থেকে।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

শুরুতে গান পরিবেশ করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পী আকতার।

সমাবেশে উদীচীর সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য রহমান মফিজ বলেন, ‘আমরা আজ কেউ নিরাপদে নেই। স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি নিয়ে কার্টুন এঁকেছেন কার্টুনিস্ট কিশোর। আর সেই কার্টুন লেখক মুশতাক ফেসবুকে শেয়ার দিয়েছেন। আর এটিই তার অপরাধ। এই অপরাধে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

‘এটি দিয়ে রাষ্ট্র বোঝাতে চায়, যে প্রতিবাদ করবে ও যে এটির সমর্থন করবে তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে। খুনের আসামি, দুর্নীতিবাজরা জামিন পান, কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে যারা লিখে তাদের তিলে তিলে মরতে হয়।’

এ সময় তিনি বিবেকবান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসবের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনওয়ার তপন বলেন, ‘খুনের আসামির জামিন হয়ে যায়, অথচ একজন লেখকের জামিন হয় না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাধারণ মানুষের উপকারে আসে না। এই আইন ঘুষখোর-দুর্নীতিবাজদের উপকারে আসে। এই আইন তৈরি হয়েছে বিরুদ্ধ মতকে দমন করতে।’

উদীচীর ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান বলেন, ‘দেশে অসত্য বক্তব্য উপস্থাপন করলে সমস্যা হয় না, বরং সত্য কথা বলার কারণে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। সত্য কথা বলার কারণে মুশতাকের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এজন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, আমাদের মুক্তি এখনও আসেনি।’

উদীচীর সহসভাপতি হাবিবুল আলমের সভাপতিত্বে ও সংগীতা ইমামের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ইকরাম হোসেন, কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি অমিত রঞ্জন দে।

সমাবেশে কবিতা আবৃত্তি করেন উদীচী সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য মিজানুর রহমান শোভন ও কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন। গণসংগীত পরিবেশন করেন সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সুরাইয়া পারভিন।

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg