পাপুলের আসনে নজর আ. লীগের পাঁচ নেতার

আ. লীগ নেতা (বাঁ থেকে) নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু, শামছুল ইসলাম পাটওয়ারী, এহসানুল কবির জগলুল ও হারুনুর রশিদ। ছবি: নিউজবাংলা

পাপুলের আসনে নজর আ. লীগের পাঁচ নেতার

একাদশ সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী ভোট থেকে সরে গেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেতেন পাপুল। কুয়েতে সাজা হওয়ায় পদ হারিয়েছেন তিনি। শূন্য ঘোষিত আসনে এখনও নির্বাচন কমিশন ভোটের সিদ্ধান্ত না জানালেও তৎপর হচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ আসন নিয়ে যে নাটকীয়তা হয়েছে, সেটি এখনও তাজা ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পাওয়া কাজী সহিদ ইসলাম পাপুলের কারণে।

আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থনে লড়াইয়ে ছিলেন মোহাম্মদ নোমান। তবে ভোটের আগে আগে হঠাৎ করেই তিনি নির্বাচনি মাঠ থেকে সরে যান। আর তখন পাদপ্রদীপে চলে আসেন পাপুল।

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে পাপুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিতে আসেন অবলীলায়, যদিও দলটি ভোটের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন করছে।

সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কুয়েতে গিয়ে ধনকুবের বনে যাওয়া পাপুলের সে দেশে সাজা হয়েছে মানব পাচার ও অর্থ পাচারের দায়ে।

গত ২৮ জানুয়ারির এই রায়ের ঘটনায় পাপুল সংসদ সদস্য পদ হারাচ্ছেন, এটা জানাই ছিল। তবে রায়ের কপি দেশে আসতে কিছুটা দেরি হওয়ায় সিদ্ধান্ত আসতে দেরি হয়েছে এই যা।

Papul
কাজী সহিদ ইসলাম পাপুল। ছবিটি ফেসবুক থেকে সংগ্রহীত


বৃহস্পতিবার কপি সংসদ সচিবালয়ে আসার পর সোমবার প্রথম কার্যদিবসেই স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জানিয়ে দিলেন সিদ্ধান্ত। পাপুলের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করে জারি হয়েছে প্রজ্ঞাপন।

পাপুলের সাজা হওয়ার পর পর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। মনোনয়ন পেতে নানাভাবে দলের কেন্দ্রে চেষ্টা তদবির করছেন তারা। স্থানীয়ভাবেও জানান দিচ্ছেন আগ্রহের কথা।

জেলা সদর উপজেলার একাংশ ও রায়পুর উপজেলা নিয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিলেও এবার স্থানীয় অন্তত তিনজন আওয়ামী লীগ নেতা প্রার্থী হতে চাইছেন।

নির্বাচন কমিশন অবশ্য এখনও ভোটের তফসিল ঘোষণা করেনি। তবে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এখানে ভোট আয়োজনের বাধ্যবাধকতা আছে।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সহসভাপতি এহসানুল কবির জগলুল বলেন, ‘আমি মনোনয়ন চাই। দল থেকে মনোনয়ন পেলে আসনটি নেত্রীকে উপহার দিতে পারব।

‘যদি নির্বাচিত হই তাহলে রায়পুরের চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধি করব ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করার চেষ্টাও করব।’

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রার্থী হতে চাই। তবে বিস্তারিত জানাব দুই-তিন দিন পরে।’

নৌকা চান রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন খোকন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শামছুল ইসলাম পাটওয়ারী, জেলা যুবলীগের সভাপতি এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপুও।

সুষ্ঠু ভোট নিয়েই দুশ্চিন্তায় বিএনপি

দেড় দশক ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি এখন নানামুখী চাপ মোকাবিলা করছে। দলের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি থাকলেও এই জেলায় ক্ষমতাসীনদের চাপে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছে না বলে অভিযোগ করছেন নেতারা।

জেলায় যতগুলো পৌরসভায় ভোট হয়েছে, সবগুলোতেই দলের কর্মী-সমর্থকরা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ আছে।

তবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত পেলে সংসদীয় আসনে আটঘাট বেঁধে ভোটের মাঠে নামার প্রস্তুতি রয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদেরও।

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের ভূঞা বলেন, ‘উপনির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিএনপি জয়লাভ করবে বিপুল ভোটের ব্যবধানে।’

BNP abul khayer
লক্ষ্মীপুর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের ভূঞা। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপি থেকে সম্ভাব্য মনোনয়প্রত্যাশী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঞা ও দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রধান নিরাপত্তা সমন্বয়কারী কর্নেল (অব.) আবদুল মজিদের নামই বেশি আলোচিত হচ্ছে।

রায়পুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র এ বি এম জিলানী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএনপি সরকারের আমলে এখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। আর এখন উন্নয়নের নামে আওয়ামী লীগ লুটপাটে ব্যস্ত। বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। ঘরোয়া অনুষ্ঠানগুলোও করতে দিচ্ছে না।

‘তারপরও এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে শতভাগ জিতবে বিএনপি।’

সাড়াশব্দ নেই জাতীয় পার্টির

বিএনপির বর্জনের মুখে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনেও আসনটি আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হয়ে যান জাতীয় পার্টির জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ নোমান।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটের মনোনয় পেয়েও ভোটের মাঠ হঠাৎ করেই ছেড়ে দেন তিনি। সে সময় কথা ওঠে পাপুলের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন তিনি। যদিও সেই অভিযোগ স্বীকার করেননি।

পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের সম্ভাবনার কথা চাউর হওয়ার পরেও নোমানের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

তবে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শেখ মোহাম্মদ ফায়েজ উল্লাহ শিপন আশা করছেন গত দুই নির্বাচনের মতো উপনির্বাচনেও তাদেরকে আসনটি ছেড়ে দেবে আওয়ামী লীগ।

Laxmipur
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শেখ মোহাম্মদ ফায়েজ উল্লাহ শিপন। ছবি: নিউজবাংলা

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এখানে জাতীয় পার্টি সুসংগঠিত নয়। তবে দলকে সুসংগঠিত করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং আগামী উপনির্বাচনে জয়ী করার জন্য দলীয় কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সাথে যোগাযোগ রাখছি। জাতীয় পার্টির গুরুত্ব তুলে ধরছি।’

কে কবে জিতেছেন

১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনে এখান থেকে জেতেন আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ উল্লাহ। পরের বছরের উপনির্বাচনে জেতেন একই দলের ড. আউয়াল ১৯৭৪।

সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের আমলে বিএনপি গঠনের পর আসনটি চলে যায় তাদের দখলে।

১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে জেতেন খোরশেদ আলম চৌধুরী।

আরেক সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির আমলে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে লাঙ্গল নিয়ে জেতেন খোরশেদ আলম চৌধুরী।

১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মোহাম্মদ উল্লাহ, ১৯৯৬ সালে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জেতেন।

বিএনপি নেত্রী আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে জেতেন আওয়ামী লীগের হারুনুর রশিদ।

এর পরের দুই নির্বাচনে ২০০১ ও ২০০৮ সালে জেতেন বিএনপির আবুল খায়ের ভূঞা।

২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নোমান ও ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র হিসেবে জেতেন পাপুল।

আরও পড়ুন:
কুয়েতে বিচার হলো, বাংলাদেশে কবে?
এমপি পদ হারালেন পাপুল
পাপুলের এমপি পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
এমপি পদ হারাচ্ছেন পাপুল
পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জাপার অস্তিত্ব নিয়ে সংশয়ে জি এম কাদের

জাপার অস্তিত্ব নিয়ে সংশয়ে জি এম কাদের

‘আওয়ামী লীগের কি গরজ আছে? আমরা যদি পরগাছার হই তারা আমাদেরকে তাদের সঙ্গে রাখবে কেন? যুক্তিসঙ্গতভাবে চিন্তা করলেই তো বুঝা যায় সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তখন তারা আমাদের তাদের সঙ্গে রাখবে না । এইভাবে রাজনীতি করলে জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব টিকবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।

স্বকীয়তা দেখাতে না পারলে দল টিকতে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে তারা যেভাবে রাজনীতি করছেন, ততে দলের অস্তিত্বই থাকবে না।

নিজের ৭৩ তম জন্মদিনে নেতা-কর্মীরা শুভেচ্ছা জানাতে গেলে সাবেক সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাই এই শঙ্কা প্রকাশ করেন।

১৯৪৮ সালের আজকের দিনে জন্ম নেন জি এম কাদের। বুধবার এই দিনে রাজধানীর বনানীতে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান নেতা-কর্মীরা।

জিএম কাদের বলেন, 'আমরা যদি আওয়ামী লীগের সমর্থন ছাড়া টিকতে না পারি, তার অর্থ হলো, আমরা পরগাছা, যার কোন শেকড় নেই। পরগাছাকে মানুষ কেটে ফেলে দেয়। সে হিসেবটা যদি হয় তাহলে কিন্তু তারা (আওয়ামী লীগ) আমাদের ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে রাখবে না।

‘আওয়ামী লীগের কি গরজ আছে? আমরা যদি পরগাছার হই তারা আমাদেরকে তাদের সঙ্গে রাখবে কেন? যুক্তিসঙ্গতভাবে চিন্তা করলেই তো বুঝা যায় সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তখন তারা আমাদের তাদের সঙ্গে রাখবে না । এইভাবে রাজনীতি করলে জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব টিকবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।’

১৯৮২ সালে সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের চার বছরের মাথায় ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি নিজের রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি গঠন করেন এরশাদ। ওই বছরের জাতীয় নির্বাচনে জিতেও দলটি। সে সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে বহু নেতা যোগ দেন দলটিতে।

তবে গণ আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালে পতনের পর থেকে যত দিন গেছে, ততেই ক্ষয়িষ্ণু হয়েছে দল। যদিও ২০০৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন করার সুবাদে সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন দখলে রাখতে পেরেছে তারা।

২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনেও জাতীয় পার্টিই। এর মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচনের পর একই সঙ্গে বিরোধী দলের পাশাপাশি ও সরকারেও অংশ নেয় দলটি। যদি এবার সরকারের যাননি দলের কেউ। তার পরেও জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের বি টিম বলে নানা সময় আক্রমণ করে আসছে বিএনপি।

জিএম কাদের নিজেও মনে করেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে মাখামাখি তার দলের জন্য খারাপ হচ্ছে। তিনি বলেন, 'আপনারা কোনো সময় ওই ভুলের মধ্যে পা দেবেন না যে, আমাদের স্বকীয়তা হারিয়ে আমরা অন্য একটি দলের পেছনে দৌড়াদৌড়ি করব। তাদের নেতাদের প্রশংসা বাক্য বললেই আমাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ হবে, এটা আশা করাটা একটা দুরাশা।’

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, 'আমাদের যদি আওয়ামী লীগ ছাড়া অস্তিত্ব রক্ষার আর কোনো সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে বুঝতে হবে আগামী বার আওয়ামী লীগ আমাদের আর কোনো সুযোগ দেবে না। যদি তারা মনে করে যে, আমাদের দলের শেকড় আছে এবং আমাদের ছাড়া তাদের চলবে না, তা হলেই তারা আমাদের সুযোগ দেবে।'

দলের একাংশের প্রতি ইঙ্গিত করে জাপা প্রধান বলেন, ‘যারা স্বকীয়তা বজায় রেখে রাজনীতি করবে না, সংসদে কিংবা এর বাইরে, আমরা সকলে মিলে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। কারণ, জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব থাকবে কি থাকবে না সেই প্রশ্ন তখন সামনে এসে দাঁড়াবে।’

নেতা-কর্মীদের জনগণের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ার নির্দেশ দিয়ে জি এম কাদের বলেন, 'রাজনীতি করতে হলে ত্যাগ স্বীকার করার মানসিকতা রাখতে হবে। দরকার হলে রাস্তায় যেতে হবে, লাঠির সামনে দাঁড়াতে হবে। জেলে যেতে হবে। দরকার হলে গুলির সামনে যেতে হতে পারে।

“এমন কোনো কিছুই করবেন না যাতে জনগণের মধ্যে তার না হয় আমরা কারো ’বি’ টিম । নিজের স্বকীয়তা নিয়ে রাজনীতি না করতে পারলে এমনিতেই দলের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।”

আরও পড়ুন:
কুয়েতে বিচার হলো, বাংলাদেশে কবে?
এমপি পদ হারালেন পাপুল
পাপুলের এমপি পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
এমপি পদ হারাচ্ছেন পাপুল
পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

আইজিপির আশ্বাসে আশ্বস্ত বিএনপি

আইজিপির আশ্বাসে আশ্বস্ত বিএনপি

বৈঠক সম্পর্কে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ পুলিশপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তিনি আমাদের কিছু পরামর্শ দিয়েছেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা আশ্বস্ত।’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

পুলিশ সদরদপ্তরে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বিএনপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন।

বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আজ পুলিশপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তিনি আমাদের কিছু পরামর্শ দিয়েছেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা আশ্বস্ত।’

বিএনপির কর্মসূচি পালনে পুলিশপ্রধান কী ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন- এমন প্রশ্নে সালাম বলেন, ‘যেহেতু করোনাকাল, তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুশৃঙ্খল কর্মসূচি পালনের পরামর্শ দিয়েছেন।’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচিতে সহযোগিতার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে গত মঙ্গলবার আইজিপির কাছে সময় চাওয়া হয়।

বুধবারের বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন সচিবালয় কমিটির আহবায়ক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন প্রচার কমিটির সদস্য সচিব ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা কমিটির সদস্য সচিব ও বিএনপির মুক্তিযুদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদীন।

বৈঠকের বিষয়ে পুলিশের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা জানান, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিএনপি গঠিত স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির ব্যানারে মার্চ মাসে দেশব্যাপী অনুষ্ঠেয় কর্মসূচি পালনের অনুমতি এবং অনুষ্ঠান সংক্রান্ত নিরাপত্তা প্রদান নিয়ে আইজিপির সঙ্গে আলোচনা করেন।

তিনি জানান, আলোচনা শেষে আইজিপি প্রতিটি কর্মসূচি এবং অনুষ্ঠানস্থলের জন্য পৃথক পৃথকভাবে ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়ার পরামর্শ দেন। অনুমোদিত হলে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ইনডোরে অনুষ্ঠান আয়োজন ও চলমান করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের অনুরোধ জানান আইজিপি।

আরও পড়ুন:
কুয়েতে বিচার হলো, বাংলাদেশে কবে?
এমপি পদ হারালেন পাপুল
পাপুলের এমপি পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
এমপি পদ হারাচ্ছেন পাপুল
পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

গুটিকয়েকের বদনামের বোঝা দল নেবে না: কাদের

গুটিকয়েকের বদনামের বোঝা দল নেবে না: কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দল করলে দলের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে, দলে যেকোনো পর্যায়ে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউ অপরিহার্য নয়।’

দলের গুটিকয়েক সদস্যের বদনামের বোঝা দল নেবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বুধবার সকালে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা জানান।

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে কাদের বলেন, ‘গুটিকয়েক লোক বদনাম করলে দল তার বোঝা নেবে না। ইচ্ছামতো বক্তব্য দিয়ে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে যারা, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।

‘দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপে কেউ জড়িত থাকলে যত বড় নেতাই হোক, কেউ পার পাবে না। কে, কোথায়, কখন কী করছেন, সবাই নজরদারিতে আছেন। দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে আগামী কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দল করলে দলের শৃঙ্খলা মনে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে, দলে যেকোনো পর্যায়ে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউ অপরিহার্য নয়।’

এ সময় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে কাদের বলেন, ‘নিজের অবস্থান ভারী করার জন্য পকেট কমিটি বরদাশত করা হবে না। সম্মেলনের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে পর্যায়ক্রমে থানা পর্যন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।’

সরকারের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে তা প্রতিহত করতে নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান কাদের।

তিনি বলেন, ‘একটি কুচক্রী মহল আন্তর্জাতিক কুচক্রের সহায়তায় সরকারকে হটিয়ে পুতুল সরকার বসিয়ে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করার অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এ অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

‘দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। তারাই দুঃসময়ে দলের সঙ্গে থাকবে। বসন্তের কোকিলদের খুঁজেও পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্জনের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে। সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

দলে বিভাজন সৃষ্টিকারীদের ছাড় দেয়া হবে না জানিয়ে কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি পরিবার। যারা এ পরিবারের ঐক্যে ফাটল ধরাবে, তাদের কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না।

‘দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বক্তব্য বা দ্বিমত থাকলে তা দলীয় ফোরামে আলোচনা করতে হবে। তাতেও সমাধান না হলে লিখিতভাবে সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।’

কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া দলের কোনো পর্যায়ের কমিটি বাতিল করা যাবে না বলেও জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

আরও পড়ুন:
কুয়েতে বিচার হলো, বাংলাদেশে কবে?
এমপি পদ হারালেন পাপুল
পাপুলের এমপি পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
এমপি পদ হারাচ্ছেন পাপুল
পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী: মহাসমাবেশসহ বিএনপির ১৯ দিনের কর্মসূচি

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী: মহাসমাবেশসহ বিএনপির ১৯ দিনের কর্মসূচি

বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি ঘোষণা করলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

১ মার্চ সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিএনপির মাসব্যাপী কর্মসূচি। ৩০ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হবে মহাসমাবেশ। পরদিন হবে মুক্তিযুদ্ধের বইমেলা ও চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হবে। প্রতি মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে আগের মাসের শেষ হওয়ার আগেই।

স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে আগামী ৩০ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘সূবর্ণ জয়ন্তী’ মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে বিএনপি। এ ছাড়াও ১৮ দিন নানা ধরনের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জন্মের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে দলটি।

বুধবার দুপুরে বিএনপির ‘স্বাধীনতা সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, বিএনপি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে বছর জুড়েই। প্রতি মাস শেষ হওয়ার আগেই পরের মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপির অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা দেবে বলেও আশাবাদী খন্দকার মোশাররফ। তেমনি আমরা সরকারের কা্ছেও সহযোগিতা চান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তির দাবিও করেন খন্দকার মোশাররফ।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রয়াত সাংবাদিক আবুল মকসুদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।

কবে কোন কর্মসূচি

১ মার্চ সূবর্ণ জয়ন্তীর কর্মসূচির উদ্বোধন করবে বিএনপি।

২ মার্চ ছাত্র সমাজ কর্তৃক স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন শীর্ষক আলোচনা সভা, ৩ মার্চ হবে ছাত্র সমাজ কর্তৃক স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ শীর্ষক আলোচনা সভা।

৭ মার্চও থাকছে বিএনপির আলোচনা সভা।

৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস পালন, ৯ মার্চ সেমিনার, ১০ মার্চ রচনা প্রতিযোগিতা, ১৩ মার্চ বছরব্যাপী রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করবে বিএনপি।

১৫ মার্চ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ২০ মার্চ আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিষয়ক সেমিনার, ২২ মার্চ হবে স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধ, জেড ফোর্স এবং বীর উত্তম জিয়াউর রহমান শীর্ষক সেমিনার।

২৩ মার্চ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মেলা, ২৪ মার্চ নির্বাচিত বিএনপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে স্বৈরাচারি এরশাদের জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল শীর্ষক সেমিনার, ২৫ মার্চ কাল রাত্রি শীর্ষক আলোচনা সভা করা হবে।

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধ ও শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা অর্জন, রক্তদান কর্মসূচি, সারাদেশে শোভাযাত্রা করা হবে।

২৭ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও বগুড়ায় বাগবাড়ি গমন এবং দুই স্থানে আলোচনা সভা, ২৮ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা, ৩০ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ ও ৩১ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের বইমেলা ও চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্বাধীনতা সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও সদস্য সচিব আবদুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, তথ্য গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু ও চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
কুয়েতে বিচার হলো, বাংলাদেশে কবে?
এমপি পদ হারালেন পাপুল
পাপুলের এমপি পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
এমপি পদ হারাচ্ছেন পাপুল
পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

কোম্পানীগঞ্জ আ. লীগের কার্যক্রম স্থগিত

কোম্পানীগঞ্জ আ. লীগের কার্যক্রম স্থগিত

কোম্পানীগঞ্জের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি খায়রুল আনম সেলিম জানান, হাইকমান্ডের নির্দেশে উপজেলা আ. লীগের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে, সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা মামলা পিবিআইয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা ও দলের মধ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

এই স্থগিতাদেশ উপজেলা আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জন্যেও প্রযোজ্য।

দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় হাইকমান্ডের নির্দেশে এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার রাতে জানান জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি খায়রুল আনম সেলিম।

তিনি বলেন, ‘দলীয় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও কেউ কোনো ধরনের রাজনৈতিক উসকানিমূলক স্ট্যাটাস বা বক্তব্য দিতে পারবে না।’

এদিকে, সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের হত্যার মামলাটি মঙ্গলবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মঙ্গলবার রাতে পিবিআইকে মামলার তদন্তভার দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) আলমগীর হোসেন।

journo noakhali
বসুরহাটে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির। ছবি: নিউজবাংলা

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি জানান, পিবিআই নোয়াখালীর পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল মঙ্গলবার বিকেলে মুজাক্কির হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ মুজাক্কিরের মৃত্যুর তিন দিন পর মঙ্গলবার সকালে কোম্পানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা হয়। আসামি করা হয় অজ্ঞাতনামা একাধিক ব্যক্তিকে।

ভাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ নোয়াখালীর স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বসুরহাটের মেয়র কাদের মির্জার আপত্তিকর নানা মন্তব্য নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তাল নোয়াখালীর রাজনৈতিক অঙ্গন।

কাদের মির্জা ১৮ ফেব্রুয়ারি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দিলে স্থানীয় আওয়ামী লীগে বিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এরপর ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে ‘মিথ্যাচারের’ প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি দেয়া শুরু করেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল।

এর জেরে গত শুক্রবার বিকেলে কোম্পানীগঞ্জের চরফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশীরহাট বাজারে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়।

এ সময় গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির। গুলিতে তার মুখের নিচের অংশ এবং গলা ঝাঁজরা হয়ে যায়।

ওই দিন রাতেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় মুজাক্কিরকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার ও বার্তা বাজার ডটকমের নোয়াখালী প্রতিনিধি ছিলেন।

আরও পড়ুন:
কুয়েতে বিচার হলো, বাংলাদেশে কবে?
এমপি পদ হারালেন পাপুল
পাপুলের এমপি পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
এমপি পদ হারাচ্ছেন পাপুল
পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

আ. লীগের উপকমিটি থেকে বাদ অ্যাটর্নি জেনারেল

আ. লীগের উপকমিটি থেকে বাদ অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমাদের উপকমিটিকে সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার জন্য এবং অ্যাটর্নি জেনারেল পদ নিয়েও যাতে কেউ বিতর্ক সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে এ এম আমিন উদ্দিনের পরিবর্তে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরীকে অন্তর্ভুক্ত করেছি।’

দলের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির সদস্য পদ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিনউদ্দিনকে সরিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

গত ১৮ জানুয়ারি কমিটি গঠনের পর এই নিয়োগের বৈধতা নিয়ে বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ দিনের মধ্যে আমিন উদ্দিনের বদলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরীকে নিয়োগ দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। আগের দিন বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে এই নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

তবে আওয়ামী লীগ বলছে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার নিয়োগ সংবিধান অনুযায়ী অবৈধ নয়, তবে, কোনো ধরনের বিতর্ক এড়াতে তাকে বাদ দিয়ে মনসুরুলকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা লক্ষ করছি, কেউ কেউ এই বিষয়টিকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপকমিটিকে বিতর্কিত করতে চান। অ্যাটর্নি জেনারেল পদ নিয়েও তারা সংবিধান ও আইনের সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন ও মনগড়া কথা বলছেন যা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত।’

তাহলে কেন নতুন এই সিদ্ধান্ত- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের উপকমিটিকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার জন্য এবং অ্যাটর্নি জেনারেল পদ নিয়েও যাতে কেউ বিতর্ক সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে এ এম আমিন উদ্দিনের পরিবর্তে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরীকে অন্তর্ভুক্ত করেছি।’

15
অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী। ফাইল ছবি

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক দলের কমিটিতে নিয়োগ দেয়ার সমালোচনা করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে দলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘একটি সাংবিধানিক পদের অধিকারীকে দলীয় পদে নিযুক্ত করা দেশের ইতিহাসে নতুন ঘটনা।…সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিকে দলীয় পদে নিয়োগ দেয়ার ঘটনা ১৯৭৫ সালে বাকশালের কমিটি গঠনের পর আর হয়নি।’

বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নয়, বরং সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে এ এম আমিন উদ্দিনকে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের বিষয়ভিত্তিক উপকমিটিগুলোতে কিছু বিশেষজ্ঞ সদস্য রাখার বিধান রয়েছে। এই ধরনের বিশেষজ্ঞ সদস্য দলের প্রাথমিক সদস্য নাও হতে পারেন।

‘উপকমিটিতে বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে আমরা দেশের সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট প্রচলিত আইন, বিধিবিধান ও প্রথা অনুসরণ করেছি। এতে আইন ও প্রচলিত প্রথার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।’

আরও পড়ুন:
কুয়েতে বিচার হলো, বাংলাদেশে কবে?
এমপি পদ হারালেন পাপুল
পাপুলের এমপি পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
এমপি পদ হারাচ্ছেন পাপুল
পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

ভারতবিরোধিতায় ক্ষতি দেশের: তথ্যমন্ত্রী

ভারতবিরোধিতায় ক্ষতি দেশের: তথ্যমন্ত্রী

‘১৯৭৫ সালে দেশ যখন উল্টো পথে হাঁটা শুরু করল, তখন ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলে ভোট নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে। সেই কারণে আমাদের ক্ষতি হয়েছে, এই অঞ্চলের ক্ষতি হয়েছে।’

১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর রাজনীতিতে ভারতবিরোধী যেসব বক্তব্য দেয়া হচ্ছে, তাতে দেশের পাশাপাশি এই অঞ্চলের ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

বাংলাদেশের তিন পাশে ভারতের অবস্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সে দেশের সঙ্গে বিরোধিতা করে আমাদের দেশের উন্নয়ন সম্ভব না। তারা (বিএনপি) এটি বোঝে না, কিংবা রাজনীতির স্বার্থে তারা এই অপরাজনীতি করে।’

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ আয়োজিত এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন মন্ত্রী। আলোচনার বিষয় ছিল, ‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘১৯৭৫ সালের পর দেশ যখন উল্টো পথে হাঁটা শুরু করল, তখন ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলে ভোট নেয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে। সেই কারণে আমাদের ক্ষতি হয়েছে, এই অঞ্চলের ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল আছে যাদের মূল বিষয় হচ্ছে ভারতবিরোধিতা। যখন নির্বাচন আসে তখন ভারতবিরোধিতাকে সামনে নিয়ে আসে। অথচ ভারত আমাদের দেশের তিন দিকে পরিবেষ্টিত। যে দেশ আমাদের সংগ্রামের সময় রক্ত ঝরিয়েছে, যাদের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের ৯ মাসের মধ্যে মুক্তির সংগ্রাম লাভ করা সম্ভব ছিল না। সে সময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের যে কূটনৈতিক তৎপরতা, এটি ছাড়া বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করা সম্ভব ছিল না।’

দুই দেশের মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর কথা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশ নিজেদের মধ্যে কানেকটিভিটি বাড়াচ্ছে, আন্তঃসংযোগ বাড়াচ্ছে।

‘একটা সময় ইউরোপের এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেতে ভিসা লাগত, বর্তমানে সেটি আর লাগে না। প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৫ সদস্যবিশিষ্ট ছিল। এখন সেটি ২৬ সদস্যবিশিষ্ট। তারা দেখেছে তাদের মধ্যে আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধি করে, রাজনৈতিক সীমারেখা দিয়ে জনগণকে আবদ্ধ রেখে এবং তাদের ব্যবসাবাণিজ্যে দূরত্ব রেখে লাভ হয় না। তারা আন্তঃসংযোগ বাড়ানোর ফলে তাদের জিডিপি গ্রোথ বেড়েছে এবং কর্মসংস্থান বেড়েছে।’

শিক্ষা, পরিবহনে সহযোগিতায় আগ্রহী ভারত

বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, ‘১৯৭১ সালে চেতনায় আমাদের দুটি দেশকে এগিয়ে যেতে হবে। যে শিক্ষা আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব থেকে পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিতে পারি। সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। কারণ, দুই দেশের মানুষের সমৃদ্ধি একই সঙ্গে সম্পর্কিত।’

ভারতীয় দূত বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের বড় ব্যবসায়িক পার্টনার। আমাদের এই ব্যবসায়িক সম্পর্কে আরও বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। যা আমাদের সম্পর্ককে অনেক দূর নিয়ে যাবে।

‘শিক্ষা, ব্যবসাসহ সব ক্ষেত্রে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই। আমরা কাজ করতে চাই সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম, পর্যটন ও যানবাহন সেক্টরে।’

ভারতীয় দূত বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়লে সমৃদ্ধি বাড়বে। আমাদের দুই দেশকে অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে এবং এজন্য মিডিয়া একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবাহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুলও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের মহাসচিব ও লেখক হারুন হাবিব। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি বাসুদেব ধর।

আরও পড়ুন:
কুয়েতে বিচার হলো, বাংলাদেশে কবে?
এমপি পদ হারালেন পাপুল
পাপুলের এমপি পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
এমপি পদ হারাচ্ছেন পাপুল
পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg