ড. কামালের সঙ্গ ছাড়লেন রেজা কিবরিয়া

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণফোরামে যোগ দিয়ে ধানের শীষ নিয়ে ভোটে দাঁড়ানো আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়াপুত্র ছেড়ে দিলেন দল। ফাইল ছবি।

ড. কামালের সঙ্গ ছাড়লেন রেজা কিবরিয়া

‘দেশবাসীর সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আমি গণফোরামের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি এবং আমার পদত্যাগপত্র দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নিকট ইতোমধ্যেই জমা দিয়েছি। এ ছাড়া আমি গণফোরামের দলীয় সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছি।’

ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম থেকে পদত্যাগ করেছেন সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া। এই পদের পাশাপাশি দলীয় সদস্যপদও ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত কারণ দেখালেও এই সিদ্ধান্তের পেছনে যে অন্য কারণ আছে, সেটি তার বক্তব্যতেই স্পষ্ট।

কী কারণে পদত্যাগ করলেন- এমন প্রশ্নে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এত কথা ফোনে বলা সম্ভব নয়।’

রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতেতে তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আমি গণফোরামের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি এবং আমার পদত্যাগপত্র দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নিকট ইতোমধ্যেই জমা দিয়েছি। এ ছাড়া আমি গণফোরামের দলীয় সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছি।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থনীতিবিদ শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়ার গণফোরামে যোগ দিয়ে বিএনপির প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নেয়া ছিল চমক।

২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে গ্রেনেড হামলায় কিবরিয়ার মৃত্যুর পর ওই সরকারের বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি পালন করেছে কিবরিয়ার পরিবার।

এই হত্যায় সম্পৃক্তদের জোট সরকার মদদ দিয়েছে- এমন অভিযোগ প্রকাশ্যেই করেছেন তারা।

এর মধ্যে রেজা কিবরিয়ার গণফোরামে যোগ দেয়াকে কেন্দ্র করে দলেও দেখা দেয় বিভেদ। তাকে সাধারণ সম্পাদক করে দীর্ঘদিনের সঙ্গী মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ অন্য নেতাদের দূরে ঠেলে দেন ড. কামাল।

গত বছরের অক্টোবরে এই বিভেদকে কেন্দ্র করে মন্টু আলাদা সম্মেলন ডেকে যখন গণফোরামকে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেন, তখন কামাল হোসেন আবার কাছে টেনে নেন তাদের। বিভেদ মিটিয়ে দুই পক্ষকে আবার এক হয়ে কাজ করার কথা বলেন তিনি।

করোনাকালে এই প্রক্রিয়ায় আবার দলে গুরুত্ব হারান কিবরিয়া। আর এর মধ্যে দল ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত তিনি জানালেন।

দল থেকে পদত্যাগের কথা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমাকে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেয়ার জন্য আমি ড. কামাল হোসেন ও গণফোরামের নেতাদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। গত ১৮ মাস ড. কামাল হোসেনের সাথে কাজ করতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি।’

আর কখনও রাজনীতি না করারও ইঙ্গিত দেন রেজা কিবরিয়া। বলেন, ‘আপনারা জানেন যে আমি ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গণফোরামে যোগ দিই। গণফোরামে যোগ দেওয়ার পূর্বে আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারি নীতি নিয়ে কাজ করি। একপর্যায়ে আমার মনে হয়েছে যে নিজ দেশের জনগণের জন্য কাজ করার সময় এসেছে। এ ধরনের সুযোগ হয়তো ভবিষ্যতে নাও আসতে পারে।’

তবে বাবা শাহ এ এম এস কিবরিয়ার মতো জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাওয়ার ইচ্ছার কথাও বলেন রেজা কিবরিয়া।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কিবরিয়াকে অর্থমন্ত্রী করে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতার পাঁচ বছরে তিনি বেশ মুন্সিয়ানা দেখান। রাজনীতিতে তিনি সজ্জন মানুষ হিসেবেও পরিচিতি পান।

রেজা কিবরিয়া তার ভবিষ্যৎ কার্যকলাপ নিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে যারা গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে, আমি তাদের সঙ্গে কাজ করে যাব।’

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে অনেক আশাবাদী জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি তরুণরা বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা সম্পর্কে ধীরে ধীরে সচেষ্ট হয়ে উঠছে।’

গত বছরের ১৮ অক্টোবর মোস্তফা মহসিন মন্টু, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ থেকে আসা আবু সাইয়িদ, জগলুল হায়দার আফ্রিক, হেলালউদ্দিন, সুব্রত চৌধুরী, লতিফুল বারী হামিম, খান সিদ্দিকুর রহমান ও আব্দুল হাসিব চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয় গণফোরাম থেকে।

তাদের বাদ দিয়ে ১২ ডিসেম্বর কাউন্সিলের ঘোষণা দেয়া হয়, যাতে সায় ছিল ড. কামাল হোসেনের। মন্টুর নেতৃত্বে দলের কয়েকজন নেতা এ আদেশ না মেনে ২৬ ডিসেম্বর আলাদা কাউন্সিলের ঘোষণা দেন।

তবে সম্প্রতি কয়েকজন নেতা দেখা করেন ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি সব বিভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করার কথা বলেন।

আরও পড়ুন:
গণফোরামে বিভক্তি নেই: ড. কামাল
মন্টুদের ফিরিয়ে গণফোরামে ঐক্যের উদ্যোগ
ড. কামালের বিবেকের কাছে সুব্রতদের প্রশ্ন
মন্টু, সাইয়িদ, সুব্রতদের গণফোরাম থেকে বহিষ্কার
ভেতরে রেজা কিবরিয়া বাইরে মন্টু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা আদালতের গ্রহণ

নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা আদালতের গ্রহণ

বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন আগামী ২ জুনের মধ্যে জমা দেয়ার জন্য শাহবাগ থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আশেক ইমাম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে যারা আওয়ামী লীগ করেন, তাদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা গ্রহণ করেছে আদালত ।

বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আগামী ২ জুনের মধ্যে শাহবাগ থানাকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আশেক ইমাম মামলার এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এই তারিখ ধার্য করেন।

এর আগে রোববার আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল ইসলাম সজীব শাহবাগ থানায় মামলাটি করতে গেলে থানা থেকে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

গত রাতেই নুরের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলার এজাহার জমা দেয়া হয়েছিল বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ-মামুন-অর রশিদ।

ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম সজীব মামলায় অভিযোগ করেন, ‘ভিপি নুরের আইডি থেকে লাইভ করা একটি ভিডিওতে দেখতে পাই, ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্যসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের ধর্মীয় মূলবোধে আঘাত হানে, এমন বক্তব্য প্রদান করেছেন তিনি।’

এসব ভিডিও অজ্ঞাতনামা অসংখ্য ফেসবুক আইডি থেকে শেয়ার করা হয়েছে। যার ফলে অসংখ্য সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারী লাইক ও কমেন্টের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের আওয়ামী পক্ষের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও নেতা-কর্মী বা সমর্থকদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা অবনতি, বিভিন্ন সম্প্রদায় ও শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা সৃষ্টি করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় উক্ত বিবাদীর ও তার সহযোগী/সমর্থকদের আইনের আওতায় আনা গেলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান কর্মী-সমর্থকের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হবে।

আসামি নুরের পক্ষের অন্যতম আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, তারা এখন পর্যন্ত মামলার কোনো নথিপত্র হাতে পাননি। তবে ডিএমপির পল্টন ও সিলেটসহ বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে বলে তিনি ফেসবুকে দেখেছেন।

আরও পড়ুন:
গণফোরামে বিভক্তি নেই: ড. কামাল
মন্টুদের ফিরিয়ে গণফোরামে ঐক্যের উদ্যোগ
ড. কামালের বিবেকের কাছে সুব্রতদের প্রশ্ন
মন্টু, সাইয়িদ, সুব্রতদের গণফোরাম থেকে বহিষ্কার
ভেতরে রেজা কিবরিয়া বাইরে মন্টু

শেয়ার করুন

নিরপরাধ আলেমদের হয়রানি না করার আহ্বান চরমোনাই পীরের

নিরপরাধ আলেমদের হয়রানি না করার আহ্বান চরমোনাই পীরের

রমজান মাসে দেশের নিরীহ নিরাপরাধ আলেম ওলামাদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করে তাদের ইবাদত বন্দেগি থেকে মাহরূম করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

রমজান মাসে দেশের নিরীহ নিরাপরাধ আলেম ওলামাদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করে তাদের ইবাদত বন্দেগি থেকে মাহরূম করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। তিনি সারা দেশে ‘নিরীহ ও নিরপরাধ আলেম ওলামাসহ’ সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে হয়রানি না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ভাঙচুরের মামলায় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে সহিংস হয়ে ওঠে হেফাজত।

২৬ মার্চ চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ব্যাপক নাশকতা করে হেফাজত কর্মীরা। হাটহাজারী থানা আক্রমণ করলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় চার জন।

এর প্রতিবাদে ২৮ মার্চ ডাকা হরতালে হেফাজত ছিল আরও আক্রমণাত্মক। সেদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ৩৮টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের পাশাপাশি দেয়া হয় আগুন। হামলা হয় জেলায় মুক্তিযুদ্ধের সব স্মৃতিচিহ্ন এমনকি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামফলকে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে হেফাজতের বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চরমোনাই পীর এমন মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেছেন, রমজান মাস আসার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে একদল মুনাফাখোর বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। কঠোর হস্তে সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে কালোবাজারিদের থাবা থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান দাবি জানান।

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন চরম দুর্বিষহ করে তুলেছে মন্তব্য করে চরমোনাই পীর আরও বলেন, ‘পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে জনজীবন চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। চাল, ডাল, শিশুখাদ্য ও শাকসবজির মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। কোথাও সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘রমজান মাস আসার আগেই জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে একদল মুনাফাখোর। চাল, ডাল, ভোজ্য তেলসহ দ্রব্য মূল্যের আকাশচুম্বিতে জনমনে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এভাবে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকলে অল্প ও মধ্য আয়ের মানুষের দুঃখ দুর্দশার কূল-কিনারা থাকবে না।’

আরও পড়ুন:
গণফোরামে বিভক্তি নেই: ড. কামাল
মন্টুদের ফিরিয়ে গণফোরামে ঐক্যের উদ্যোগ
ড. কামালের বিবেকের কাছে সুব্রতদের প্রশ্ন
মন্টু, সাইয়িদ, সুব্রতদের গণফোরাম থেকে বহিষ্কার
ভেতরে রেজা কিবরিয়া বাইরে মন্টু

শেয়ার করুন

করোনা: খুন-দুর্নীতির আসামি ছাড়া সবার জামিন চান জাফরুল্লাহ

করোনা: খুন-দুর্নীতির আসামি ছাড়া সবার জামিন চান জাফরুল্লাহ

চলমান করোনা মহামারিতে সরকারের ১১টি করণীয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠিটি লিখেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। করণীয়গুলোর ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

করোনাভাইরাস মহামারির চলমান পরিস্থিতিতে সরকারের জন্য ১১টি জরুরি করণীয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি লিখেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এতে খুন ও দুর্নীতির আসামি ছাড়া বাকি সবার জামিনে মুক্তি চেয়েছেন তিনি।

জনস্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছে দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু। চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউসকেও।

চিঠিতে সরকারের ১১টি জরুরি কর্তব্য তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো-

০১. অক্সিজেন, ওষুধ, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী থেকে বিশেষ SRO (Statutory Regulatory Order) এর মাধ্যমে সকল প্রকার শুল্ক, অগ্রিম আয়কর,মূসক প্রভৃতি প্রত্যাহার করা।

০২. ICU পরিচালনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক ও নার্স প্যারামেডিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। ২০০ জন চিকিৎসক ও ৫০০ জন নার্স টেকনিশিয়ানকে ICU তে দ্রুত অক্সিজেন প্রদান (High Flow Nasal Canula), নন-ইনভেসিব শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া (Non-invasive Ventilatory Support), শ্বাসতন্ত্রে টিউব মারফত অক্সিজেন সরবরাহ (Intubation and Mechanical Ventilatory Support), অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া (ECMO- Exracorporeal Membrane Oxygenation) এবং শ্বাসনালী ট্যাকিয়া (Tracheostomy) ছিদ্র করে দ্রুত অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এক মাসের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করা।

০৩. সকল ওষুধের মূল্য এবং রোগ পরীক্ষার পদ্ধতিসমূহের চার্জ সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করে দেয়া।

০৪. কারাগারে আবদ্ধ সকল ব্যক্তিকে দ্রুত টিকা দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া এবং খুনের দায়ে এবং দুর্নীতির কারণে দণ্ডিত অভিযুক্ত ছাড়া অন্য সকলকে জামিনে মুক্তি দেয়া।

০৫. সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ সমূহে প্রতিবছর ২০০০০ (বিশ হাজার) ছাত্র ভর্তি করা এবং এমবিবিএস পাসের পর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র এক বছর বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ করা। অতীতে এই নিয়ম চালু করে দুই সপ্তাহ পর প্রত্যাহার করে ভুল করেছিলেন।

০৬. আগামী বাজেটে সকল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা বেষ্টনী সংস্কার, গভীর নলকূপ ও বিদ্যুতায়ন ব্যবস্থার উন্নয়ন, মেডিক্যাল, নার্সিং, ফিজিওথেরাপি ও টেকনিশিয়ানদের জন্য ডরমিটরি, ক্লাসরুম, লাইব্রেরি, ডাইনিং রুম এবং পাঁচজন চিকিৎসক ও ১০ জন নার্সিং, ফিজিওথেরাপি ও টেকনিশিয়ান প্রধানদের জন্য ৬০০-৭০০ বর্গফুটের বাসস্থান, বহির্বিভাগসহ ৩০ শয্যার হাসপাতাল, ল্যাবরেটরি ও অপারেশন থিয়েটার নির্মাণের জন্য ছয় কোটি টাকা এবং অপারেশন থিয়েটার, এক্সরে আলট্রাসনোলজি, চক্ষু ও বিভিন্ন ল্যাবরোটরির যন্ত্রপাতির জন্য অন্যূন চার কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা নিন। এরূপ উন্নয়নে ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ জনগণের জন্য আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা জাফরুল্লার খোলা চিঠি

০৭. লকডাউন কার্যকর করার জন্য দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারদের সরাসরি আর্থিক প্রণোদনার পরিবর্তে বিনামূল্যে মাসিক রেশনে চাল, ডাল, আটা, আলু, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন প্রভৃতি দিতে হবে। রেশন বিতরণের জন্য সামরিক বাহিনী, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং এনজিও কর্মীদের ব্যবহার সুফল দেবে।

০৮. ট্রিপসের বাধ্যতামুলক (Compulsory) লাইসেন্সের মাধ্যমে ভ্যাকসিন উৎপাদন সুবিধা সৃষ্টির জন্য নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আপনার বিশেষ দূত করে ইউরোপে পাঠান।

০৯. ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য ০.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করুন, সুফল পাবেন।

১০. গত বছর দ্রুত সিনোজাকের ট্রায়াল অনুমোদন না দিয়ে যে ভুল করা হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়।

১১. গণস্বাস্থ্য উদ্ভাবিত এন্টিবডি এন্টিজেন অনুমোদন এক বছরে হয়নি। ড. বিজন কুমার শীলের ভিসা না হওয়ায় বাংলাদেশে ফিরতে পারছেন না। ছয় মাস আগে চার বিজ্ঞানীর তত্ত্বাবধানে Real time PCR ল্যাবরেটরি স্থাপিত হলেও ব্যবহার শুরু করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অদ্যাপি অনুমতি দেয়নি। ক্ষতি হচ্ছে দেশের, বিষয়টি আপনাকে পুনরায় অবগত করলাম।

দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে জাতির কঠিন সমস্যা থেকে মুক্তির সম্ভাবনা সমধিক।

আপনার সুস্বাস্থ্য ও নববর্ষের শুভ কামনায়

(জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী)

ট্রাষ্টি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র

আরও পড়ুন:
গণফোরামে বিভক্তি নেই: ড. কামাল
মন্টুদের ফিরিয়ে গণফোরামে ঐক্যের উদ্যোগ
ড. কামালের বিবেকের কাছে সুব্রতদের প্রশ্ন
মন্টু, সাইয়িদ, সুব্রতদের গণফোরাম থেকে বহিষ্কার
ভেতরে রেজা কিবরিয়া বাইরে মন্টু

শেয়ার করুন

এখন আর জ্বর নেই খালেদা জিয়ার

এখন আর জ্বর নেই খালেদা জিয়ার

‘কাল রাত থেকে এখন অবধি জ্বর নেই, কাশিও নেই। এমন  অবস্থায় টানা ৪৮ ঘণ্টা থাকলে আমরা নিশ্চিত হতে পারব যে তিনি কোভিড থেকে বের হয়ে আসছেন। আশা করছি এই সপ্তাহটাও উনি ভালোভাবে পার করতে পারবেন।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা আরও উন্নতি হয়েছে। তার জ্বর, কাশিজাতীয় কোনো ধরনের উপসর্গ নেই বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা।

সোমবার বেলা তিনটায় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের সদস্য অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী নিউজবাংলাকে এই কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘তিনি (খালেদা) সুস্থই আছেন, তবে যেহেতু দ্বিতীয় সপ্তাহ চলছে, আজ গিয়ে হলো ১১তম দিন, আর এই সময়টা করোনা আক্রান্তদের জন্য একটু বিপজ্জনক, তাই আমরাও ক্লোজ মনিটরিংয়ে রেখেছি।

‘দুদিন আগে ওনার অল্প তাপমাত্রা ছিল। কাল রাত থেকে এখন অবধি জ্বর নেই, কাশিও নেই। এমন অবস্থায় টানা ৪৮ ঘণ্টা থাকলে আমরা নিশ্চিত হতে পারব যে তিনি কোভিড থেকে বের হয়ে আসছেন। আশা করছি, এই সপ্তাহটাও উনি ভালোভাবে পার করতে পারবেন।’

এফ এম সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘ওনার (খালেদার) খাওয়াদাওয়া আগের মতোই আছে। রুচি আছে। মানসিকভাবেও তিনি সুস্থ আছেন। আমাদের ওপর ভরসা রেখেছেন। উনি হাঁটাহাঁটি করছেন। ব্লাড সুগারসহ অন্য যে প্যারামিটার সবগুলো মনিটর করছি আমরা সর্বক্ষণ। ৪৮ ঘণ্টা অন্তর অন্তর ব্লাডের প্যারামিটার মনিটর করি। ব্লাড দেখে বোঝা যায় যে কোভিড খারাপ পর্যায়ে ঢুকেছে কি না। রিপোর্টগুলো সব ভালো আছে।’

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। গুলশানের বাসভবন ফিরোজার দ্বিতীয় তলায় একটি রুমে চিকিৎসা চলছে বিএনপি নেত্রীর। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তার বাসার অন্তত ৯ জন।

চিকিৎসার অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সিটি স্ক্যান করানোর হয় খালেদা জিয়ার। তাতে দেখা যায়, খালেদার জটিল কোনো সমস্যা নেই।

৭৫ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত। দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে তাকে কারাগারে যেতে হয়।

২০০৮ সালের ৮ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদার। পরে উচ্চ আদালত সাজা বাড়িয়ে করে ১০ বছর। ওই বছরই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর বিএনপি নেত্রীকে দেশের বাইরে না যাওয়া ও বাড়িতে বসে চিকিৎসা নেয়ার শর্তে ছয় মাসের জন্য দণ্ড স্থগিত করিয়ে মুক্তি দেয়া হয়। এরপর দুই দফা বাড়ানো হয় দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, হাঁটুর জটিলতা ছাড়াও নানা ধরনের রোগ আছে বলে তার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে তার চোখেও অপারেশন করা হয়।

আরও পড়ুন:
গণফোরামে বিভক্তি নেই: ড. কামাল
মন্টুদের ফিরিয়ে গণফোরামে ঐক্যের উদ্যোগ
ড. কামালের বিবেকের কাছে সুব্রতদের প্রশ্ন
মন্টু, সাইয়িদ, সুব্রতদের গণফোরাম থেকে বহিষ্কার
ভেতরে রেজা কিবরিয়া বাইরে মন্টু

শেয়ার করুন

কোম্পানীগঞ্জে আ. লীগ নেতা হামলায় আহত

কোম্পানীগঞ্জে আ. লীগ নেতা হামলায় আহত

উপজেলা আওয়ামী লীগের (একাংশ) নেতা ফখরুল ইসলাম রাহাত আহত নুরনবী চৌধুরীর হয়ে জানান, কাদের মির্জার নির্দেশে তার অনুসারী সন্ত্রাসী কেচ্ছা রাসেল সোমবার সকালে অস্ত্র নিয়ে পৌরসভার মাস্টারপাড়া এলাকায় নুরনবীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তিনি দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (একাংশ) ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরনবী চৌধুরী আহত হয়েছেন।

উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টারপাড়া এলাকায় সোমবার (১৯ এপ্রিল) বেলা পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নুরনবী চৌধুরী সিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান।

নুরনবী চৌধুরী আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সেলিম।

উপজেলা আওয়ামী লীগের (একাংশ) নেতা ফখরুল ইসলাম রাহাত আহত নুরনবী চৌধুরীর হয়ে জানান, কাদের মির্জার নির্দেশে তার অনুসারী বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সন্ত্রাসী কেচ্ছা রাসেল সোমবার সকালে অস্ত্র নিয়ে পৌরসভার মাস্টারপাড়া এলাকায় ওত পেতে ছিল।

নুরনবী চৌধুরী মোটরসাইকেলে করে বাড়ি থেকে কয়েকজন অনুসারী নিয়ে বসুরহাট বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে পৌরসভার মাস্টারপাড়া এলাকায় থাকা কেচ্ছা রাসেল ও তার সহযোগীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তিনি দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।

পরে রাসেল ও তার সহযোগীরা তাকে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সেলিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আহত অবস্থায় নুরনবী হাসপাতালে আসেন। তার দুই পায়ের হাঁটুর নিচে ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। কিন্তু সেটা গুলির চিহ্ন কি না, তা বোঝা যায়নি।’

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন:
গণফোরামে বিভক্তি নেই: ড. কামাল
মন্টুদের ফিরিয়ে গণফোরামে ঐক্যের উদ্যোগ
ড. কামালের বিবেকের কাছে সুব্রতদের প্রশ্ন
মন্টু, সাইয়িদ, সুব্রতদের গণফোরাম থেকে বহিষ্কার
ভেতরে রেজা কিবরিয়া বাইরে মন্টু

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনার কূটনীতির প্রশংসায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেখ হাসিনার কূটনীতির প্রশংসায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন

শান্তিপূর্ণভাবে বিবাদ মীমাংসা, আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের নেতৃত্ব প্রদান, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মানবিক কারণে আশ্রয় প্রদানের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তা ও দূরদর্শীতার পরিচয় বহন করে।

স্বাধীনতার আগে ও পরে বঙ্গবন্ধু যে কূটনৈতিক ধীশক্তি ও দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছেন তার যোগ্য উত্তরাধিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

রোববার ‘ফরেন সার্ভিস ডে’ উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের অংশ হিসেবে ‘ফরেন সার্ভিস ডে’ পালিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানের ভিডিও বার্তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দেশের বৈদেশিক মিশনে কর্মরত সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান মন্ত্রী।

ভিডিও বার্তায় ড. মোমেন বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে বিবাদ মীমাংসা, আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের নেতৃত্ব প্রদান, মিয়নমারের বাস্তুচ্যুত লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মানবিক কারণে আশ্রয় প্রদান- এ বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তা ও দূরদর্শীতার পরিচয় বহন করে।

‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পৃথিবীর অনেক প্রখ্যাত নেতা এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বাংলাদেশের অনন্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান ও সংশ্লিষ্টতার কারণে ১৯৭১ সালের মত দক্ষিণ এশিয়া আবারও সারা বিশ্বে কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ড. মোমেন উল্লেখ করেন, এম হোসেন আলীর নেতৃত্বে কলকাতায় তৎকালীন পাকিস্তান মিশনের ৬৫ জন বাঙালি কর্মকর্তা ও কর্মচারী ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে বিদেশের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত বাঙালি কূটনীতিকরা পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সরব হন।

বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস এসব সাহসী সন্তানদের অনুপ্রেরণার গর্বিত উত্তরাধিকার। ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’ বঙ্গবন্ধুর এ মূলমন্ত্রকে বাংলাদেশ অনুসরণ করে চলেছে এবং তা গত ৫০ বছর এদেশের কূটনীতিতে সময়োচিত হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর ‘আমরাও পারি’ মানসিকতা ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে ফরেন সার্ভিসের নবীন কর্মকর্তারা কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী। করোনা মহামারির মধ্যেও সাহসিকতার সাথে কাজ করার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনি ধন্যবাদ জানান। জাতিগঠনে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলদেশকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি ২০ লক্ষ প্রবাসী বাংলদেশির অবদান সশ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণ করেন তিনি। বাংলাদেশের সম্ভাবনার প্রতি আস্থাশীল এবং সবসময় পাশে দাঁড়ানোর জন্য সকল বন্ধুরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান ড. মোমেন।

আরও পড়ুন:
গণফোরামে বিভক্তি নেই: ড. কামাল
মন্টুদের ফিরিয়ে গণফোরামে ঐক্যের উদ্যোগ
ড. কামালের বিবেকের কাছে সুব্রতদের প্রশ্ন
মন্টু, সাইয়িদ, সুব্রতদের গণফোরাম থেকে বহিষ্কার
ভেতরে রেজা কিবরিয়া বাইরে মন্টু

শেয়ার করুন

ইলিয়াস গুম: সংবাদ সম্মেলনে লেজেগোবরে মির্জা আব্বাস

ইলিয়াস গুম: সংবাদ সম্মেলনে লেজেগোবরে মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ছবি: নিউজবাংলা

‘রোজার মাস। জানেন তো সাধারণত বিকেল বেলা শরীরে পানির ঘাটতি থাকে, পানির ঘাটতি থাকলে মাথায়ও পানির ঘাটতি থাকে। মেজাজও খারাপ থাকে। রোজা রেখে আমি সংক্ষেপে শেষ করব। আপনাদের কাছে তাই অনুরোধ করব আপনারা কেউ বিব্রতকর কোনো প্রশ্ন করবেন না।’

নয় বছর আগে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুম ইস্যুতে বিধ্বংসী বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসার একদিন পর সংবাদ সম্মেলেনে এসে উল্টে গেলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বক্তব্য বিকৃতি, যার যেটা প্রয়োজন, সেই অংশটুকু ব্যবহার করে মনের মাধুরি মিশিয়ে লেখার অভিযোগ আনার পর প্রশ্নোত্তর পর্বে এসে বিএনপি নেতা একেক সময় একেক কথা বলতে থাকেন।

একবার তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীকে সরকার গুম করেনি-এমন কথা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়ে তিনি বলতে পারেন না।

এটি রেকর্ডে সাংবাদিকরা এই কথা বললে পরক্ষণেই বলেন, তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা মাস্টার্স- এটি ‍উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এটা তার বক্তব্যের ভেতরে আরোপিত ছিল, সেটা বুঝে নেয়া উচিত ছিল।

অন্তর্ধানের আগের রাতে বিএনপি কার্যালয়ের নিচে একজনের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল বলে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেই প্রসঙ্গ তুললেও প্রথমে তিনি বলেন, এ কথা বলেননি। পরে বলেন, ঝগড়া হতেই পারে, এটা কোনো ধর্তব্যের বিষয় না।

এ রকম আরও নানা ধরনের দ্বিমুখী বক্তব্য দেয়া মির্জা আব্বাস এমনও অভিযোগ করেছেন যে, গণমাধ্যম তাকে টার্গেট করেছে। কেন করেছে, সেটা তিনি বুঝতে পারছেন না।

ইলিয়াস আলীর অন্তর্ধানের নয় বছর পূর্তিতে ১৭ এপ্রিল একটি অনলাইন আলোচনায় মির্জা আব্বাস বলেন,

‘বাংলাদেশের স্বাধীন-সার্বভৌমত্ব যে ভূলুণ্ঠিত হতে যাচ্ছে এটার জ্বলন্ত প্রমাণ হলো ইলিয়াস আলীর গুম। আমি জানি, বাংলাদেশ সরকার বা আওয়ামী লীগ সরকার ইলিয়াসকে গুম করে নাই। কিন্তু গুমটা করল কে? এই সরকারের কাছে আমি এটা জানতে চাই।’

এ নিয়ে বিএনপিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া হলে রোববার সংবাদ সম্মেলনে আসেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য।

‘বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে, টুইস্ট করা হয়েছে’

বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিরোনাম তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইলিয়াস আলীর গুমের জন্য সরকার নয় বিএনপি দায়ী-এ কথা কি আমি বলেছি? আমার কোনো রেকর্ডে আছে কি? কেউ প্রমাণ করতে পারবে? অসম্ভব। সম্ভব নয়। কথা বিকৃত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার বা আওয়ামী লীগ ইলিয়াসকে গুম করে নাই- এ কথাও আমি বলি নাই। আমার কথাকে বিকৃত করে প্যাঁচিয়ে লেখা হয়েছে, টুইস্ট করা হয়েছে।’

‘এই কথাটা কি আমি… বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হয়ে আমার পক্ষে বলা সম্ভব? অর্থাৎ নিজের মাথার মধ্যে বন্দুক ধরা। এটা সম্ভব না, এটাকেও টুইস্ট করা হয়েছে।

অন্য একটি পত্রিকার শিরোনাম তুলে ধরে আব্বাস বলেন, ‘আমি কী নতুন তথ্য দিলাম আমার জানা নাই। বিকৃত নিউজ।’

পরে তিনি বলেন, ‘আমি একটা কথা পরিষ্কার বলতে চাই, আমার সহজ সরল মনের সরল উক্তিগুলোকে বিকৃত করে আমাদের যে সকল সাংবাদিক ভাইদের যা যেখানে প্রয়োজন, আমার সম্পূর্ণ বক্তব্যের, বিরাট বক্তব্য যদি বলি, তার একটা লাইন কোট করেছে। বিরাট বক্তব্য দেয়া হয়নি।

‘যার যেখানে প্রয়োজন, কেটে ছিড়ে পোস্ট মর্টেম করে কাটপিস করে ইচ্ছামতো লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। কী কারণে করা হয়েছে তাও আমি জানি না।’

‘ইলিয়াসের স্ত্রীর বাসায় সাংবাদিক কেন?’

গণমাধ্যমকর্মীরা ইলিয়াস আলীর স্ত্রীর বাসায় যাওয়ায়ও নাখোশ হয়েছেন মির্জা আব্বাস। বলেন, ‘আজকের সকালে ইলিয়াস আলীর বাসায় গেছে একদল সাংবাদিক। তাকে গিয়ে রীতিমতো চার্জ করেছে।

ইলিয়াস গুম: সংবাদ সম্মেলনে লেজেগুবরে মির্জা আব্বাস
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল নিখোঁজ হন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী। এই ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী করলেও শনিবার মির্জা আব্বাস বলেন, গুমে সরকার দায়ী নয়

‘কী এমন ঘটনা ঘটল যে হঠাৎ করে এই বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে? গত নয়টি বছর ইলিয়াস গুম হওয়ার পরে কোনো পত্রপত্রিকা একটি দিবস পালন করে নাই ইলিয়াসের জন্য। এই একজন ইলিয়াস আলীর জন্য আজকে কেন সাংবাদিকদের মাথা খারাপ হয়ে গেল? আমি বুঝি না।’

‘আমি কোনো সাংবাদিককে দোষারোপ করছি না’- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘দয়া করে সত্য বক্তব্যটা যদি তুলে ধরতেন, বোধহয় ভালো হতো।’

পরক্ষণেই মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি এমন কোনো কথা বলি নাই যার জন্য জাতির কাছে, দেশের কাছে, বিএনপির কাছে কিংবা আমার নেতা কর্মীর কাছে আমাকে বিব্রত হতে হবে। আমার বক্তব্য যারা পড়েছেন, তারা হয়ত বুঝে উঠতে পারেননি। আমি দুঃখিত আমি হয়ত বোঝাতে পারিনি।

‘আমি গতকালের বক্তব্য নিয়ে আবার বলছি। আমার বক্তব্যের কাটপিছকে তুলে ধরে সামনের অংশ পেছনের অংশ বাদ দিয়ে মাঝ থেকে যার যতটা প্রয়োজন নিয়ে মনের মাধুরি মিশিয়ে নিজের মতো করে লিখেছেন। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নাই। এর জন্য আমার দল বা আমি কোনো দায় দায়িত্ব বহন করি না। যারা বলছেন, যারা লিখেছেন, তার জন্য তারাই দায়িত্ব বহন করবেন।’

এই সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলেও আশা করেন আব্বাস। বলেন, ‘আমি আমার বক্তব্যে যেটা বুঝাতে চেয়েছিলাম, আমি আশা করি আজকে সেটা বোঝাতে পেরেছি।

‘দয়া করে আপনারা আর কোনো পত্রপত্রিকায় টুইস্ট করে কেউ নিউজ করবেন না। আমি বুঝলাম না হঠাৎ আমাকে টার্গেট করার প্রয়োজন কেন হলো এই সরকারের কিংবা আমার সাংবাদিক ভাইদের। এত লোক থাকতে আমাকে টার্গেট করা কেন?’

‘ইলিয়াসকে উপলক্ষ করে আমাকে টার্গেট করা-এই লক্ষণটা কিন্তু ভালো না। এটাকে একটা অশুভ লক্ষণ বলে মনে করি’-বলেন মির্জা আব্বাস।

বিব্রতকর প্রশ্ন না করার অনুরোধ

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই ‘বিব্রতকর’ প্রশ্ন না করারও অনুরোধ করেন মির্জা আব্বাস।

বলেন, ‘রোজার মাস। জানেন তো সাধারণত বিকেল বেলা শরীরে পানির ঘাটতি থাকে, পানির ঘাটতি থাকলে মাথায়ও পানির ঘাটতি থাকে। মেজাজও খারাপ থাকে। রোজা রেখে আমি সংক্ষেপে শেষ করব। আপনাদের কাছে তাই অনুরোধ করব আপনারা কেউ বিব্রতকর কোনো প্রশ্ন করবেন না।‘

প্রশ্নোত্তর পর্বে একেক সময় একেক কথা

একজন গণমাধ্যমকর্মী বলেন, ‘আপনি বলেছিলেন, একজনের সঙ্গে ইলিয়াস আলীর ঝগড়া হয়েছে। কে সেই ব্যক্তি, তার নামটা কি বলা যায়?

এরপর অনেক কথা বলেলেও এই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট জবাব দেননি বিএনপি নেতা।

বলেন, ‘আমি বলছি, ইলিয়াস আলীর সাথে তো আমার ডেইলি ঝগড়া হতো। আমার সঙ্গে, এই প্রশ্নটা আপনারা করবেন আমি জানি। তাই আমি প্রস্তুত আছি।

‘ইলিয়াস আলী এমন মেজাজের লোক ছিল, এখানে রতন আছে না? এই যে রতন, ইলিয়াস ও রতন মানিকজোড় ছিল এক সময়। ইলিয়াস ও খোকন, আমাদের খায়রুল কবির খোকন, এই যে এখানে আছে খায়রুল কবির, খোকন, মিলন- এদেরকে সামাল দিতে, ইলিয়াসকে সামাল দিতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে আমাকে একটা সময়।

‘৯০ এর আন্দোলনের আগে-পরে, এদেরকে নিয়ে মামলা মোকদ্দমা, জেল জুলুম, কোর্ট কাচারি করতে করতে আমি আর আমার ওয়াইফ পাগল হয়ে যেতাম একটা সময়।’

পরক্ষণে আব্বাস বলেন, ‘একটা দলে কার সঙ্গে কার খোঁচাখুঁচি, ঝগড়াঝাটি আছে-এটা নিয়ে এত যদি মাথা ঘামানোর তো সময় নাই।’

ইলিয়াস গুম: সংবাদ সম্মেলনে লেজেগুবরে মির্জা আব্বাস
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বিব্রতকর প্রশ্ন না করার অনুরোধ করেন মির্জা আব্বাস

এ নিয়ে আরও একজন গণমাধ্যমকর্মী প্রশ্ন করতে চাইলে আব্বাস বলেন, ‘এটা নিয়ে আর কোনো প্রশ্নের উত্তর দেব না।’

আরেকজন গণমাধ্যমকর্মী মির্জা আব্বাসের শনিবারের একটি উক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘আপনার বক্তব্যটাই, ইলিয়াস যেদিন গুম হয়ে যায়, আমি খবর পেলাম সে টিটাগাং আছে। তার আগের দিন রাতে অফিসের কোনায় একজনের সাথে ঝগড়া…’

প্রশ্ন শেষ করতে না দিয়ে আব্বাস বলেন, ‘না, না, এ কথা আমি বলি নাই।’

‘আমি আপনার কথাটাই কোট করছি’-বলেন সেই গণমাধ্যমকর্মী।

পরক্ষণে আব্বাস বলেন, ‘নো, নো, নো, অফিসের কোণায় কারও সাথে ঝগড়া হয়েছে (বলেছি)?’

এরপর প্রশ্নের মুখে বিএনপি নেতা বলেন, ‘ওই দিন অফিসে কত লোকের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে, মনোমালিন্য হয়েছে, ভিন্নমত হয়েছে সেটা তো হতেই পারে। কার সঙ্গে কার হয়েছে সেটা বলা তো ডিফিকাল্ট।’

আরেকজন সংবাদকর্মী বলেন, ‘আপনি বলেছেন, মহাসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, এদের বিরুদ্ধে…’

এবারও প্রশ্ন শেষ করতে না দিয়ে আব্বাস বলেন, ‘আমি বলেছি, আমার দলের মধ্যে যদি কেউ থাকে যারা নাকি শয়তান, এদেরকে দলের একটু বাছাই করা দরকার।’

‘আপনি বলেছেন, আমি জানি যে এই সরকার গুম করে নাই। এই বক্তব্যে আপনি এখন অটল আছেন কি না’- জানতে চান আরও এক সংবাদকর্মী।

আব্বাস বলেন, ‘না না, আমার মনে হয় আমার সাংবাদিক ভাইয়েরা কেউ বোধ হয় মাস্টার্সের নিচে কেউ না, পলিটিক্যাল সায়েন্স অথবা কিছু একটা করা আছে।

‘আমি একজন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, আমি কেন বলব এ কথা যে আমি জানি যে সরকার জড়িত নয়?

অনরেকর্ড আছে-বলেন সেই সংবাদ কর্মী।

আব্বাস বলেন, ‘অন রেকর্ডই আছে। প্লিজ প্লিজ, লেট মি রিপ্লাই।’

এরপর কথা ঘুরিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ‘অন রেকর্ডই আছে। আমি জানি, সরকার গুম করে নাই, মিনস কটাক্ষ করে বলেছি। তাহলে সরকারই বলুক ইলিয়াস আলী কোথায় আছে। তাহলে সরকারকেই জবাব দিতে হবে।

‘একটা সরকারের সময় জলজ্যান্ত একজন ইলিয়াস, তরতাজা একজন ইলিয়াস সত্যভাষী একজন ইলিয়াস গুম হয়ে গেল। সরকার জানে না বুঝলাম। তাহলে কে করল গুম তাকে, আমি এ কথা বলতে চেয়েছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাচ্ছি যে আপনারা এত জিনিস নিয়ে এত উত্তেজিত, যদি আমার কথা বুঝতে না পেরে থাকেন… আমি স্ট্যান্ডিং কমিটির লোক হয়ে বলব সরকার করে নাই? তাহলে কে করল? আমি করেছি? না আপনারা করেছেন?

‘আপনারা কি বের করতে পেরেছেন? আপনারা কি পেরেছেন, সাগর রুনি হত্যাকাণ্ডের কূলকিনারা করতে পেরেছেন? পারেননি। তাহলে করল কে? কারা করেছে?’

আব্বাস বলেন, ‘ইলিয়াস আলী গুম না শুধু, ইলিয়াস গুম হয়েছে সালাউদ্দিনকে পাচার করা হয়েছে, চৌধুরী আলমকে গুম করা হয়েছে, এ রকম হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে গুম করা হয়েছে। কে করল? হাওয়া হয়ে গেল?’

আপনি কটাক্ষ করে বলেছেন সেই কথা? এটা তাহলে আজ স্পষ্ট হলাম- বলেন এক সংবাদকর্মী।

আব্বাস বলেন, ‘এটা বোঝা উচিত ছিল। এটা ইমপ্লাইড।’

আরও পড়ুন:
গণফোরামে বিভক্তি নেই: ড. কামাল
মন্টুদের ফিরিয়ে গণফোরামে ঐক্যের উদ্যোগ
ড. কামালের বিবেকের কাছে সুব্রতদের প্রশ্ন
মন্টু, সাইয়িদ, সুব্রতদের গণফোরাম থেকে বহিষ্কার
ভেতরে রেজা কিবরিয়া বাইরে মন্টু

শেয়ার করুন