জামায়াত নিষিদ্ধ চায় ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি

জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এমএ আউয়াল। ছবি: নিউজবাংলা

জামায়াত নিষিদ্ধ চায় ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি

আউয়াল বলেন, ‘জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশের মানুষ ঘাতক, দালাল, রাজাকার, আলবদর নেতাদের বিচার নিশ্চিতের মতো জামায়াতে ইসলামীর বিচার দেখতে চায়।’

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর বিচার শুরু করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি।

জাতীয় প্রেসক্লাবে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির চেয়ারম্যান এমএ আউয়াল বলেন, ‘আমাদের দাবি খুব পরিষ্কার। দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধের এই দলটিকে নিষিদ্ধ দেখতে চায়। এই বিষয়টিতে মীমাংসা দেখতে চায়।’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এতে ইসলামি দলটির নেতা বলেন, ‘একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধ শক্তি ও রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী এখনও অবলীলায় তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

‘আমরা জানি, নির্বাচন কমিশনে দলটির নিবন্ধন স্থগিত আছে। বিশেষত উচ্চ আদালতে দলটিকে নিষিদ্ধের বিষয়টি এখন বিচারাধীন। দল-মত নির্বিশেষে একাত্তরের পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে আবারও সবাইকে সতর্ক হতে হবে।’

আউয়াল আরও বলেন, ‘জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশের মানুষ ঘাতক, দালাল, রাজাকার, আলবদর নেতাদের বিচার নিশ্চিতের মতো জামায়াতে ইসলামীর বিচার দেখতে চায়। ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি অবিলম্বে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও সৌদি আরব সরকারের অনুদানে নির্মিত ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রকল্প বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে করার দাবিও জানান সাবেক এ সংসদ সদস্য।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে এ সময় দলের পক্ষ থেকে বছরব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত, সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বছরব্যাপী আলোচনা সভা ও সেমিনার।

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
নাশকতার পরিকল্পনা: জামায়াতের ৩২ জন কারাগারে
ভেঙে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট
পৌর নির্বাচনে দলের প্রার্থী লুকাচ্ছে জামায়াত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এসপি আমার গায়ে হাত দিয়েছে : কাদের মির্জা

এসপি আমার গায়ে হাত দিয়েছে : কাদের মির্জা

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। ফাইল ছবি

মির্জা বলেন, ‘তাদের দেখে ফেরার সময় অ্যাডিশনাল এসপি আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে। আমার গায়ের ওপর হাত দিয়েছে। আমি দশ বার বলেছি আমি ডিএস মর্যাদার, তুমি আমার গায়ের ওপর হাত দাও কেন? সে তার পরেও আমার গায়ের ওপর হাত দিয়েছে।’

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন।

তার অনুসারী স্বপন মাহমুদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মঙ্গলবার দুপুরে লাইভে এসে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা বলেন, ‘আমার সাতজন কর্মীকে গত রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। যখন শুনলাম থানায় তাদের নির্যাতন করা হচ্ছে তখন তাদের দেখতে থানায় গিয়েছিলাম। আমি দেখলাম, আমি যখন বিরোধী দলে ছিলাম, তখনও আমার কর্মীর ওপর এত নির্যাতন হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘তাদের দেখে ফেরার সময় অ্যাডিশনাল এসপি আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে। আমার গায়ের ওপর হাত দিয়েছে। আমি দশ বার বলেছি আমি ডিএস মর্যাদার, তুমি আমার গায়ের ওপর হাত দাও কেন? সে তার পরেও আমার গায়ের ওপর হাত দিয়েছে। ওসি আমার সহকারী সাজুর গায়ের ওপর হাত দিয়েছে। তাকে মারধর করে তার মোবাইল কেড়ে নিয়েছে।’

কাদের মির্জা আরও অভিযোগ করেন, ‘আসার পথে অ্যাডিশনাল এসপি, ওসিসহ পুলিশ আমাকে অকথ্য ভাষায় মা ধরে গালি-গালাজ করেছে। আমি কোনোদিন থানায় যাইনি। আজকে একদিন গিয়েছি এদের অত্যাচারের কথাটা দেখে আসার জন্য এবং শোনার জন্য। আজকে আমাদের ওপর এ তাণ্ডব চালিয়েছে। গত তিনটা মাস ধরে আমার ওপর তাণ্ডব চলছে।’

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরনবী চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনায় সোমবার রাতে চার জনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা সবাই মির্জার অনুসারী।

মির্জার দাবি, সোমবার রাত ১০টার দিকে যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নাজিম উদ্দিন মিকনসহ তার আরও তিন অনুসারীকে পুলিশ আটক করে।

মির্জা বলেন, ‘বিরোধী দলে থাকাকালীন পুলিশ, প্রশাসনসহ সবাই আমাদের শ্রদ্ধা-সম্মান করত। আজকে আমি সরকারি দলের লোক, আওয়ামী লীগের সংগঠনে না থাকলেও বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের হয়ে কাজ করছি। আজকে আমার অনুসারীদেরকে যেভাবে থানা-পুলিশ অত্যাচার করছে, এটা একাত্তরকেও হার মানিয়েছে।

‘মিকনকে ধরে নিয়ে গিয়ে তাকে এমনভাবে নির্যাতন করেছে, শোয়া থেকে উঠে আমার সাথে কথা বলতে পারছে না। মিকন ছাড়াও বাকি ছয়জনের ওপরও পুলিশ নির্যাতন চালিয়েছে।’

তবে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম আহমেদ কাদের মির্জার অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কাদের মির্জা থানায় গিয়ে সরাসরি হাজতের সামনে চলে যায়। আমি শুধু তাকে বলেছি আপনি ওসির রুমে আসেন। এ ছাড়া আর কোনো কথা হয়নি এবং কথা বাড়াবাড়িও হয়নি।’

আরও পড়ুন:
নাশকতার পরিকল্পনা: জামায়াতের ৩২ জন কারাগারে
ভেঙে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট
পৌর নির্বাচনে দলের প্রার্থী লুকাচ্ছে জামায়াত

শেয়ার করুন

নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা আদালতের গ্রহণ

নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা আদালতের গ্রহণ

বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন আগামী ২ জুনের মধ্যে জমা দেয়ার জন্য শাহবাগ থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আশেক ইমাম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে যারা আওয়ামী লীগ করেন, তাদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা গ্রহণ করেছে আদালত ।

বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আগামী ২ জুনের মধ্যে শাহবাগ থানাকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আশেক ইমাম মামলার এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এই তারিখ ধার্য করেন।

এর আগে রোববার আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল ইসলাম সজীব শাহবাগ থানায় মামলাটি করতে গেলে থানা থেকে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

গত রাতেই নুরের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলার এজাহার জমা দেয়া হয়েছিল বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ-মামুন-অর রশিদ।

ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম সজীব মামলায় অভিযোগ করেন, ‘ভিপি নুরের আইডি থেকে লাইভ করা একটি ভিডিওতে দেখতে পাই, ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্যসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের ধর্মীয় মূলবোধে আঘাত হানে, এমন বক্তব্য প্রদান করেছেন তিনি।’

এসব ভিডিও অজ্ঞাতনামা অসংখ্য ফেসবুক আইডি থেকে শেয়ার করা হয়েছে। যার ফলে অসংখ্য সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারী লাইক ও কমেন্টের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের আওয়ামী পক্ষের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও নেতা-কর্মী বা সমর্থকদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা অবনতি, বিভিন্ন সম্প্রদায় ও শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা সৃষ্টি করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় উক্ত বিবাদীর ও তার সহযোগী/সমর্থকদের আইনের আওতায় আনা গেলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান কর্মী-সমর্থকের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হবে।

আসামি নুরের পক্ষের অন্যতম আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, তারা এখন পর্যন্ত মামলার কোনো নথিপত্র হাতে পাননি। তবে ডিএমপির পল্টন ও সিলেটসহ বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে বলে তিনি ফেসবুকে দেখেছেন।

আরও পড়ুন:
নাশকতার পরিকল্পনা: জামায়াতের ৩২ জন কারাগারে
ভেঙে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট
পৌর নির্বাচনে দলের প্রার্থী লুকাচ্ছে জামায়াত

শেয়ার করুন

নিরপরাধ আলেমদের হয়রানি না করার আহ্বান চরমোনাই পীরের

নিরপরাধ আলেমদের হয়রানি না করার আহ্বান চরমোনাই পীরের

রমজান মাসে দেশের নিরীহ নিরাপরাধ আলেম ওলামাদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করে তাদের ইবাদত বন্দেগি থেকে মাহরূম করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

রমজান মাসে দেশের নিরীহ নিরাপরাধ আলেম ওলামাদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করে তাদের ইবাদত বন্দেগি থেকে মাহরূম করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। তিনি সারা দেশে ‘নিরীহ ও নিরপরাধ আলেম ওলামাসহ’ সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে হয়রানি না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ভাঙচুরের মামলায় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে সহিংস হয়ে ওঠে হেফাজত।

২৬ মার্চ চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ব্যাপক নাশকতা করে হেফাজত কর্মীরা। হাটহাজারী থানা আক্রমণ করলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় চার জন।

এর প্রতিবাদে ২৮ মার্চ ডাকা হরতালে হেফাজত ছিল আরও আক্রমণাত্মক। সেদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ৩৮টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের পাশাপাশি দেয়া হয় আগুন। হামলা হয় জেলায় মুক্তিযুদ্ধের সব স্মৃতিচিহ্ন এমনকি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামফলকে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে হেফাজতের বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চরমোনাই পীর এমন মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেছেন, রমজান মাস আসার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে একদল মুনাফাখোর বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। কঠোর হস্তে সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে কালোবাজারিদের থাবা থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান দাবি জানান।

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন চরম দুর্বিষহ করে তুলেছে মন্তব্য করে চরমোনাই পীর আরও বলেন, ‘পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে জনজীবন চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। চাল, ডাল, শিশুখাদ্য ও শাকসবজির মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। কোথাও সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘রমজান মাস আসার আগেই জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে একদল মুনাফাখোর। চাল, ডাল, ভোজ্য তেলসহ দ্রব্য মূল্যের আকাশচুম্বিতে জনমনে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এভাবে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকলে অল্প ও মধ্য আয়ের মানুষের দুঃখ দুর্দশার কূল-কিনারা থাকবে না।’

আরও পড়ুন:
নাশকতার পরিকল্পনা: জামায়াতের ৩২ জন কারাগারে
ভেঙে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট
পৌর নির্বাচনে দলের প্রার্থী লুকাচ্ছে জামায়াত

শেয়ার করুন

করোনা: খুন-দুর্নীতির আসামি ছাড়া সবার জামিন চান জাফরুল্লাহ

করোনা: খুন-দুর্নীতির আসামি ছাড়া সবার জামিন চান জাফরুল্লাহ

চলমান করোনা মহামারিতে সরকারের ১১টি করণীয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠিটি লিখেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। করণীয়গুলোর ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

করোনাভাইরাস মহামারির চলমান পরিস্থিতিতে সরকারের জন্য ১১টি জরুরি করণীয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি লিখেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এতে খুন ও দুর্নীতির আসামি ছাড়া বাকি সবার জামিনে মুক্তি চেয়েছেন তিনি।

জনস্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছে দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু। চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউসকেও।

চিঠিতে সরকারের ১১টি জরুরি কর্তব্য তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো-

০১. অক্সিজেন, ওষুধ, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী থেকে বিশেষ SRO (Statutory Regulatory Order) এর মাধ্যমে সকল প্রকার শুল্ক, অগ্রিম আয়কর,মূসক প্রভৃতি প্রত্যাহার করা।

০২. ICU পরিচালনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক ও নার্স প্যারামেডিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। ২০০ জন চিকিৎসক ও ৫০০ জন নার্স টেকনিশিয়ানকে ICU তে দ্রুত অক্সিজেন প্রদান (High Flow Nasal Canula), নন-ইনভেসিব শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া (Non-invasive Ventilatory Support), শ্বাসতন্ত্রে টিউব মারফত অক্সিজেন সরবরাহ (Intubation and Mechanical Ventilatory Support), অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া (ECMO- Exracorporeal Membrane Oxygenation) এবং শ্বাসনালী ট্যাকিয়া (Tracheostomy) ছিদ্র করে দ্রুত অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এক মাসের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করা।

০৩. সকল ওষুধের মূল্য এবং রোগ পরীক্ষার পদ্ধতিসমূহের চার্জ সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করে দেয়া।

০৪. কারাগারে আবদ্ধ সকল ব্যক্তিকে দ্রুত টিকা দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া এবং খুনের দায়ে এবং দুর্নীতির কারণে দণ্ডিত অভিযুক্ত ছাড়া অন্য সকলকে জামিনে মুক্তি দেয়া।

০৫. সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ সমূহে প্রতিবছর ২০০০০ (বিশ হাজার) ছাত্র ভর্তি করা এবং এমবিবিএস পাসের পর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র এক বছর বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ করা। অতীতে এই নিয়ম চালু করে দুই সপ্তাহ পর প্রত্যাহার করে ভুল করেছিলেন।

০৬. আগামী বাজেটে সকল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা বেষ্টনী সংস্কার, গভীর নলকূপ ও বিদ্যুতায়ন ব্যবস্থার উন্নয়ন, মেডিক্যাল, নার্সিং, ফিজিওথেরাপি ও টেকনিশিয়ানদের জন্য ডরমিটরি, ক্লাসরুম, লাইব্রেরি, ডাইনিং রুম এবং পাঁচজন চিকিৎসক ও ১০ জন নার্সিং, ফিজিওথেরাপি ও টেকনিশিয়ান প্রধানদের জন্য ৬০০-৭০০ বর্গফুটের বাসস্থান, বহির্বিভাগসহ ৩০ শয্যার হাসপাতাল, ল্যাবরেটরি ও অপারেশন থিয়েটার নির্মাণের জন্য ছয় কোটি টাকা এবং অপারেশন থিয়েটার, এক্সরে আলট্রাসনোলজি, চক্ষু ও বিভিন্ন ল্যাবরোটরির যন্ত্রপাতির জন্য অন্যূন চার কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা নিন। এরূপ উন্নয়নে ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ জনগণের জন্য আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা জাফরুল্লার খোলা চিঠি

০৭. লকডাউন কার্যকর করার জন্য দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারদের সরাসরি আর্থিক প্রণোদনার পরিবর্তে বিনামূল্যে মাসিক রেশনে চাল, ডাল, আটা, আলু, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন প্রভৃতি দিতে হবে। রেশন বিতরণের জন্য সামরিক বাহিনী, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং এনজিও কর্মীদের ব্যবহার সুফল দেবে।

০৮. ট্রিপসের বাধ্যতামুলক (Compulsory) লাইসেন্সের মাধ্যমে ভ্যাকসিন উৎপাদন সুবিধা সৃষ্টির জন্য নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আপনার বিশেষ দূত করে ইউরোপে পাঠান।

০৯. ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য ০.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করুন, সুফল পাবেন।

১০. গত বছর দ্রুত সিনোজাকের ট্রায়াল অনুমোদন না দিয়ে যে ভুল করা হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়।

১১. গণস্বাস্থ্য উদ্ভাবিত এন্টিবডি এন্টিজেন অনুমোদন এক বছরে হয়নি। ড. বিজন কুমার শীলের ভিসা না হওয়ায় বাংলাদেশে ফিরতে পারছেন না। ছয় মাস আগে চার বিজ্ঞানীর তত্ত্বাবধানে Real time PCR ল্যাবরেটরি স্থাপিত হলেও ব্যবহার শুরু করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অদ্যাপি অনুমতি দেয়নি। ক্ষতি হচ্ছে দেশের, বিষয়টি আপনাকে পুনরায় অবগত করলাম।

দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে জাতির কঠিন সমস্যা থেকে মুক্তির সম্ভাবনা সমধিক।

আপনার সুস্বাস্থ্য ও নববর্ষের শুভ কামনায়

(জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী)

ট্রাষ্টি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র

আরও পড়ুন:
নাশকতার পরিকল্পনা: জামায়াতের ৩২ জন কারাগারে
ভেঙে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট
পৌর নির্বাচনে দলের প্রার্থী লুকাচ্ছে জামায়াত

শেয়ার করুন

এখন আর জ্বর নেই খালেদা জিয়ার

এখন আর জ্বর নেই খালেদা জিয়ার

‘কাল রাত থেকে এখন অবধি জ্বর নেই, কাশিও নেই। এমন  অবস্থায় টানা ৪৮ ঘণ্টা থাকলে আমরা নিশ্চিত হতে পারব যে তিনি কোভিড থেকে বের হয়ে আসছেন। আশা করছি এই সপ্তাহটাও উনি ভালোভাবে পার করতে পারবেন।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা আরও উন্নতি হয়েছে। তার জ্বর, কাশিজাতীয় কোনো ধরনের উপসর্গ নেই বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা।

সোমবার বেলা তিনটায় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের সদস্য অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী নিউজবাংলাকে এই কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘তিনি (খালেদা) সুস্থই আছেন, তবে যেহেতু দ্বিতীয় সপ্তাহ চলছে, আজ গিয়ে হলো ১১তম দিন, আর এই সময়টা করোনা আক্রান্তদের জন্য একটু বিপজ্জনক, তাই আমরাও ক্লোজ মনিটরিংয়ে রেখেছি।

‘দুদিন আগে ওনার অল্প তাপমাত্রা ছিল। কাল রাত থেকে এখন অবধি জ্বর নেই, কাশিও নেই। এমন অবস্থায় টানা ৪৮ ঘণ্টা থাকলে আমরা নিশ্চিত হতে পারব যে তিনি কোভিড থেকে বের হয়ে আসছেন। আশা করছি, এই সপ্তাহটাও উনি ভালোভাবে পার করতে পারবেন।’

এফ এম সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘ওনার (খালেদার) খাওয়াদাওয়া আগের মতোই আছে। রুচি আছে। মানসিকভাবেও তিনি সুস্থ আছেন। আমাদের ওপর ভরসা রেখেছেন। উনি হাঁটাহাঁটি করছেন। ব্লাড সুগারসহ অন্য যে প্যারামিটার সবগুলো মনিটর করছি আমরা সর্বক্ষণ। ৪৮ ঘণ্টা অন্তর অন্তর ব্লাডের প্যারামিটার মনিটর করি। ব্লাড দেখে বোঝা যায় যে কোভিড খারাপ পর্যায়ে ঢুকেছে কি না। রিপোর্টগুলো সব ভালো আছে।’

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। গুলশানের বাসভবন ফিরোজার দ্বিতীয় তলায় একটি রুমে চিকিৎসা চলছে বিএনপি নেত্রীর। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তার বাসার অন্তত ৯ জন।

চিকিৎসার অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সিটি স্ক্যান করানোর হয় খালেদা জিয়ার। তাতে দেখা যায়, খালেদার জটিল কোনো সমস্যা নেই।

৭৫ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত। দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে তাকে কারাগারে যেতে হয়।

২০০৮ সালের ৮ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদার। পরে উচ্চ আদালত সাজা বাড়িয়ে করে ১০ বছর। ওই বছরই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর বিএনপি নেত্রীকে দেশের বাইরে না যাওয়া ও বাড়িতে বসে চিকিৎসা নেয়ার শর্তে ছয় মাসের জন্য দণ্ড স্থগিত করিয়ে মুক্তি দেয়া হয়। এরপর দুই দফা বাড়ানো হয় দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, হাঁটুর জটিলতা ছাড়াও নানা ধরনের রোগ আছে বলে তার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে তার চোখেও অপারেশন করা হয়।

আরও পড়ুন:
নাশকতার পরিকল্পনা: জামায়াতের ৩২ জন কারাগারে
ভেঙে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট
পৌর নির্বাচনে দলের প্রার্থী লুকাচ্ছে জামায়াত

শেয়ার করুন

কোম্পানীগঞ্জে আ. লীগ নেতা হামলায় আহত

কোম্পানীগঞ্জে আ. লীগ নেতা হামলায় আহত

উপজেলা আওয়ামী লীগের (একাংশ) নেতা ফখরুল ইসলাম রাহাত আহত নুরনবী চৌধুরীর হয়ে জানান, কাদের মির্জার নির্দেশে তার অনুসারী সন্ত্রাসী কেচ্ছা রাসেল সোমবার সকালে অস্ত্র নিয়ে পৌরসভার মাস্টারপাড়া এলাকায় নুরনবীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তিনি দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (একাংশ) ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরনবী চৌধুরী আহত হয়েছেন।

উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টারপাড়া এলাকায় সোমবার (১৯ এপ্রিল) বেলা পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নুরনবী চৌধুরী সিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান।

নুরনবী চৌধুরী আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সেলিম।

উপজেলা আওয়ামী লীগের (একাংশ) নেতা ফখরুল ইসলাম রাহাত আহত নুরনবী চৌধুরীর হয়ে জানান, কাদের মির্জার নির্দেশে তার অনুসারী বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সন্ত্রাসী কেচ্ছা রাসেল সোমবার সকালে অস্ত্র নিয়ে পৌরসভার মাস্টারপাড়া এলাকায় ওত পেতে ছিল।

নুরনবী চৌধুরী মোটরসাইকেলে করে বাড়ি থেকে কয়েকজন অনুসারী নিয়ে বসুরহাট বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে পৌরসভার মাস্টারপাড়া এলাকায় থাকা কেচ্ছা রাসেল ও তার সহযোগীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তিনি দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।

পরে রাসেল ও তার সহযোগীরা তাকে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সেলিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আহত অবস্থায় নুরনবী হাসপাতালে আসেন। তার দুই পায়ের হাঁটুর নিচে ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। কিন্তু সেটা গুলির চিহ্ন কি না, তা বোঝা যায়নি।’

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন:
নাশকতার পরিকল্পনা: জামায়াতের ৩২ জন কারাগারে
ভেঙে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট
পৌর নির্বাচনে দলের প্রার্থী লুকাচ্ছে জামায়াত

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনার কূটনীতির প্রশংসায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেখ হাসিনার কূটনীতির প্রশংসায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন

শান্তিপূর্ণভাবে বিবাদ মীমাংসা, আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের নেতৃত্ব প্রদান, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মানবিক কারণে আশ্রয় প্রদানের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তা ও দূরদর্শীতার পরিচয় বহন করে।

স্বাধীনতার আগে ও পরে বঙ্গবন্ধু যে কূটনৈতিক ধীশক্তি ও দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছেন তার যোগ্য উত্তরাধিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

রোববার ‘ফরেন সার্ভিস ডে’ উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের অংশ হিসেবে ‘ফরেন সার্ভিস ডে’ পালিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানের ভিডিও বার্তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দেশের বৈদেশিক মিশনে কর্মরত সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান মন্ত্রী।

ভিডিও বার্তায় ড. মোমেন বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে বিবাদ মীমাংসা, আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের নেতৃত্ব প্রদান, মিয়নমারের বাস্তুচ্যুত লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মানবিক কারণে আশ্রয় প্রদান- এ বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তা ও দূরদর্শীতার পরিচয় বহন করে।

‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পৃথিবীর অনেক প্রখ্যাত নেতা এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বাংলাদেশের অনন্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান ও সংশ্লিষ্টতার কারণে ১৯৭১ সালের মত দক্ষিণ এশিয়া আবারও সারা বিশ্বে কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ড. মোমেন উল্লেখ করেন, এম হোসেন আলীর নেতৃত্বে কলকাতায় তৎকালীন পাকিস্তান মিশনের ৬৫ জন বাঙালি কর্মকর্তা ও কর্মচারী ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে বিদেশের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত বাঙালি কূটনীতিকরা পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সরব হন।

বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস এসব সাহসী সন্তানদের অনুপ্রেরণার গর্বিত উত্তরাধিকার। ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’ বঙ্গবন্ধুর এ মূলমন্ত্রকে বাংলাদেশ অনুসরণ করে চলেছে এবং তা গত ৫০ বছর এদেশের কূটনীতিতে সময়োচিত হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর ‘আমরাও পারি’ মানসিকতা ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে ফরেন সার্ভিসের নবীন কর্মকর্তারা কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী। করোনা মহামারির মধ্যেও সাহসিকতার সাথে কাজ করার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনি ধন্যবাদ জানান। জাতিগঠনে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলদেশকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি ২০ লক্ষ প্রবাসী বাংলদেশির অবদান সশ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণ করেন তিনি। বাংলাদেশের সম্ভাবনার প্রতি আস্থাশীল এবং সবসময় পাশে দাঁড়ানোর জন্য সকল বন্ধুরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান ড. মোমেন।

আরও পড়ুন:
নাশকতার পরিকল্পনা: জামায়াতের ৩২ জন কারাগারে
ভেঙে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট
পৌর নির্বাচনে দলের প্রার্থী লুকাচ্ছে জামায়াত

শেয়ার করুন