কাদেরের নির্দেশে মির্জার হরতাল প্রত্যাহার

শুক্রবার কোম্পানিগঞ্জে কাদের মির্জার নেতৃত্বে বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

কাদেরের নির্দেশে মির্জার হরতাল প্রত্যাহার

‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে এই হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল দাবি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে রয়েছে। পরবর্তী এই সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

নোয়াখালী সদর আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অপসারণের দাবিতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ডাকা হরতাল প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শুক্রবার এই হরতাল ডেকেছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাই আবদুল কাদের মির্জা। জানিয়েছিলেন রোববার আধা বেলা কর্মসূচি পালন করবেন তিনি। তবে বড় ভাইয়ের নির্দেশে তবে সে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান হরতাল প্রত্যাহারের তথ্যটি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে এই হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।’

ওবায়দুল কাদেরের বরাত দিয়ে তিনি করেন, ‘কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল দাবি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে রয়েছে। পরবর্তী এই সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

একরামুল করিম চৌধুরীর সঙ্গে আবদুল কাদের মির্জার বিরোধের শুরু সদ্য সমাপ্ত বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে।

ভোটের আগে কাদের মির্জা বারবার বলেছিলেন আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে গোলমাল করার চেষ্টা করছে।

বসুরহাট পৌরসভায় নির্বাচনের সময় কাদের মির্জার নানা বক্তব্য রাজনীতিতে আলোড়ন তোলে। কাদের মির্জার দাবি, বৃহত্তর নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের এমপিরা সন্ত্রাসী পালেন, ছোট পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ঘুষ নেন, তাদের মদের আসরে পুলিশ গিয়ে স্যালুট দেয়।

শুরুর দিকে মির্জা কাদের কারও নাম না বললেও ১৬ জানুয়ারি ভোট শেষে তিনি স্পষ্টতই বলেন, নোয়াখালী সদর আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীকে নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

ভোটে জয়ের দুই দিন পর এক সভায় নোয়াখালীর আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য একরামুলের নামে সরাসরি অভিযোগ করেন তিনি। সভায় কাদের মির্জা বলেন, ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে (একরামুল) খোদা মানে। প্রশাসনের এ তেল মারা বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনের দুর্নীতির বিচারও করতে হবে।’

করামুল এতদিন মুখ খোলেননি। তবে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি ২৭ সেকেন্ড কথা বলেন। তবে পরে আবার সে ভিডিও ডিলিটও করে দেন। যদিও তা এর আগেই ভাইরাল হয়ে যায়। কপি করে নানা পেজে উঠে যায় ভিডিওটি।

ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমি কথা বললে তো মির্জা কাদেরের বিরুদ্ধে কথা বলব না, আমি কথা বলব ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে। একটা রাজাকার ফ্যামিলির লোক এই পর্যায়ে আসছে; তার ভাইকে শাসন করতে পারে না। এগুলো নিয়ে আমি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কথা বলব। আমার নাম যদি জেলা কমিটিতে না আসে তাহলে আমি এটা নিয়ে শুরু করব।’

এ নিয়ে জানতে চাইলে একরামুল মুঠোফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ভিডিও সরিয়ে নিলেও তিনি ওবায়দুল কাদেরের পরিবারের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সত্য।

তবে ওবায়দুল কাদের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, এটাও স্পষ্ট করেন তিনি।

তাহলে কার কথা বলেছেন- এমন প্রশ্নে একরামুল বলেন, ‘আপনারা গণমাধ্যমকর্মীরা খবর নিলে জানতে পারবেন তার পরিবারে কারা রাজাকার ছিল।’

এই বক্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকালে কাদের মির্জার নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ হয় কোম্পানীগঞ্জে। সেখানে একরামুলকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অপসারণের দাবি জানানো হয়।

এর মধ্যে একরামুল আবার লাইভে এসে বলেন, ‘আমরা ভালোবাসি শেখ হাসিনাকে। তার উন্নয়ন যদি ধরে রাখতে হয়, গুতাগুতি আর না।’

বিরোধ মেটাতে মধ্যস্ততাও কামনা করেন একরামুল। বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যদি কোনো গ্যাপ থাকে আমাদের নেতারা ডেকে মিনিমাইজ করে দেবেন।’

আরও পড়ুন:
একরামুলকে বহিষ্কারের দাবিতে কোম্পানিগঞ্জে আধবেলা হরতাল
পাগলামি কইরা নেতা হওয়া যায় না, কাদের মির্জাকে নিক্সন
বসুরহাট: ভোট ইভিএমে, রিজভীর দাবি ভরা হয়েছে বাক্স
কাদেরের ভাইয়ের অভিযোগ যাবে দলীয় ফোরামে
পরাজিত ‍দুই প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি নিয়ে কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এবার স্ত্রীকে নিয়ে সিরামের টিকা নিলেন বিএনপির ফখরুল

এবার স্ত্রীকে নিয়ে সিরামের টিকা নিলেন বিএনপির ফখরুল

স্ত্রীসহ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিয়েছেন করোনার টিকা। ফাইল ছবি

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে উপহারের ২০ লাখ টিকা দেশে আসার পর থেকে বিএনপি এই টিকার সমালোচনা করে এসেছে। কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ছাড়াই দলের মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী টিকার বিরুদ্ধে ক্রমাগত বক্তব্য দিয়ে এসেছেন। এই টিকা নিয়ে মানুষ বাঁচবে কি না এই সংশয় প্রকাশ করা রিজভী এমন কথাও বলেছেন, ‘ভ্যাকসিন দিয়ে সরকার বিএনপিকে মেরে ফেলতে চায়।’

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে টিকা আসার কঠোর সমালোচনা করা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নিলেন এই টিকা।

সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরার চার দিনের মাথায় সোমবার রাজধানীর উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে স্ত্রী রাহাত আরাকে সঙ্গে নিয়েই টিকা নেন বিএনপি নেতা।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে মির্জা ফখরুল নিজে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সকালে আমি এবং আমার স্ত্রী করোনার টিকা নিয়েছি।’

সিঙ্গাপুরে প্রায় এক মাস অবস্থানের পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরেন ফখরুল। তিনি সেখানে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে উপহারের ২০ লাখ টিকা দেশে আসার পর থেকে বিএনপি এই টিকার সমালোচনা করে এসেছে। কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ছাড়াই দলের মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী টিকার বিরুদ্ধে ক্রমাগত বক্তব্য দিয়ে এসেছেন।

এই টিকা নিয়ে মানুষ বাঁচবে কি না এই সংশয় প্রকাশ করা রিজভী এমন কথাও বলেছেন, ‘ভ্যাকসিন দিয়ে সরকার বিএনপিকে মেরে ফেলতে চায়।’

রিজভী টিকাবিরোধী বক্তব্য দেয়ার পর থেকে ফেসবুকে বিএনপির সমর্থকরাও মানুষকে টিকা না নেয়ার আহ্বান জানিয়ে একের পর এক পোস্ট দিতে থাকেন।

তবে ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকা শুরুর পর থেকে মানুষ ব্যাপকহারে টিকা নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩২ লাখেরও বেশি মানুষ টিকা নেয়ার পাশাপাশি নিবন্ধন করেছে ৪৫ লাখেরও বেশি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে প্রথমে টিকা নেন যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন। পরে নেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, মনিরুল হক চৌধুরী।

এখন টিকা নিয়ে আর সমালোচনাও করছেন না বিএনপির নেতারা। নজরুল ইসলাম খান দলের আগের অবস্থান পাল্টে পড়ে বলেছেন, বিএনপি টিকা নেবে না, এ কথা বলেনি। সময় এলেই তারা টিকা নেবেন।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদও এই বিষয়ে বিএনপিকে টিপ্পনি কেটেছেন। বলেছেন, গোপনে লুকিয়ে টিকা না নিয়ে প্রকাশ্যেই নিতে। এই টিপ্পনির অবশ্য জবাব দেননি বিএনপির নেতারা।

আরও পড়ুন:
একরামুলকে বহিষ্কারের দাবিতে কোম্পানিগঞ্জে আধবেলা হরতাল
পাগলামি কইরা নেতা হওয়া যায় না, কাদের মির্জাকে নিক্সন
বসুরহাট: ভোট ইভিএমে, রিজভীর দাবি ভরা হয়েছে বাক্স
কাদেরের ভাইয়ের অভিযোগ যাবে দলীয় ফোরামে
পরাজিত ‍দুই প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি নিয়ে কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম সেনানী খালেদা: ফখরুল

স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম সেনানী খালেদা: ফখরুল

বছরব্যাপী স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমাদের দলের চেয়ারপারসন স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম সেনানী, গণতন্ত্রের নিবেদিতপ্রাণ, আপসহীন নেত্রী, বাংলাদেশের আপামর জনগণের অত্যন্ত প্রিয়, গণতন্ত্রের মাতা, খালেদা জিয়া প্রায় দীর্ঘ তিন বছর কারাগারে।’ 

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বিএনপির বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘স্বাধীনতার অন্যতম সেনানী’ আখ্যা দেয়া হয়েছে।

রাজধানীর গুলশানের লেকসোর হোটেলে আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

এতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন যুক্তরাজ্যে অবস্থানকারী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনও করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ছিলেন অনুষ্ঠানস্থলেই। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

স্বাগত বক্তব্যে ফখরুল বিশেষভাবে তুলে ধরেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কথা। তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের চেয়ারপারসন স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম সেনানী, গণতন্ত্রের নিবেদিতপ্রাণ, আপসহীন নেত্রী, বাংলাদেশের আপামর জনগণের অত্যন্ত প্রিয়, গণতন্ত্রের মাতা, খালেদা জিয়া প্রায় দীর্ঘ তিন বছর কারাগারে।’

বিএনপি নেতার দাবি, স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। দেশের সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে জাতিকে বিভক্ত করা হয়েছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ভেঙে চুরমার করা হয়েছে। এমন একটি সমাজ, রাষ্ট্র গঠন করা হচ্ছে, সেখানে ন্যায়বিচার দু:ষ্প্রাপ্য। ভবিষ্যত প্রজন্মকে ভ্রান্ত ইতিহাস জানিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

‘স্বাধীনতার চেতনা ভূলুন্ঠিত। একদলীয় শাসনব্যবস্থা গণতন্ত্রের মোড়কে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।’

বিএনপি ভবিষ্যত প্রজন্মকে মুক্ত মানবিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখাতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে চাই।’

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আজকে জিয়াউর রহমানের খেতাব কেড়ে নেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। কে প্রস্তাব করে, জামুকা। জামুকা…, যে এদের বিএনপি আমলে ২০০২ সালে সৃষ্টি।’

তিনি বলেন, ‘বাকস্বাধীনতা, গণতন্ত্র নাই, জবাবদিহিতা নাই। …স্বাধীনতার সুবর্ণ ফসল গণতন্ত্রকে যারা কেড়ে নিয়েছে, তাদের কোনো অধিকার নেই ক্ষমতায় থাকার। দেশের জনগণ তাদের ক্ষমতায় বসায়নি।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর বলেন, ‘আজকে লেখার অধিকার হয়তো আছে, কিন্তু লিখলে জীবন দিতে হবে। লেখক মুশতাকের লেখার অধিকার ছিল, তিনিও লিখেছিলেন। কিন্তু তার জীবন রক্ষা হয়নি। তাকে জেলে খুন করা হয়েছে। …স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমাদের নামতে হবে লড়াই করার জন্য।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে আমরা আর থাকতে চাই না। এটা সরকার না। মনে রাখবেন, বাঘ বুড়ো হলেও থাবা কিন্তু বুড়ো হয় না।'

স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে বিএনপির কর্মসূচি আছে মাসজুড়ে। এর মধ্যে দুটি কর্মসূচি এরই মধ্যে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।

প্রথমবারের মতো দলটি ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন করতে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

বিএনপি এতদিন এই দিনটিকে উপেক্ষা করলেও এবার সেদিন আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অপারেশন সার্চ লাইট শুরু কালরাতেও আলোচনা সভা করবে তারা।

২০১৭ সাল থেকে দিনটিকে সরকার জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসলেও এতদিন বিএনপি এই দিনটিকে উপেক্ষা করেছে।

তবে সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি উদ্বোধনের দিন বিএনপি নেতারা এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

আরও পড়ুন:
একরামুলকে বহিষ্কারের দাবিতে কোম্পানিগঞ্জে আধবেলা হরতাল
পাগলামি কইরা নেতা হওয়া যায় না, কাদের মির্জাকে নিক্সন
বসুরহাট: ভোট ইভিএমে, রিজভীর দাবি ভরা হয়েছে বাক্স
কাদেরের ভাইয়ের অভিযোগ যাবে দলীয় ফোরামে
পরাজিত ‍দুই প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি নিয়ে কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

ভোট পাবে না জেনেই ইউপিতে নেই বিএনপি: কাদের

ভোট পাবে না জেনেই ইউপিতে নেই বিএনপি: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের জনগণ ভোট দিবে না জেনেই বিএনপি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। ৫ম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, তারা শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অর্জনের পক্ষে।’

বিএনপি ভোট পাবে না জেনেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সোমবার বিকেলে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দেশের জনগণ ভোট দিবে না জেনেই বিএনপি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। ৫ম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, তারা শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অর্জনের পক্ষে।

‘দেশের বিভিন্ন চলমান প্রকল্প আজ দৃশ্যমান, তাই দেশের মানুষ শেখ হাসিনার পক্ষে। তারা একটাও উন্নয়নের সফলতা দেখাতে পারেনি। তাই তাদের রাজনীতিতে এখন খরা লেগেছে। জনগণের কাছে তাদের এখন ভোট চাওয়ার কোনো মুখও নেই। বিএনপি তাদের আমলে জনগণকে হত্যা, সন্ত্রাস, লুটপাট ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি।’

রোববার পৌরসভা নির্বাচনের পঞ্চম দফায় ভোট চলাকালে এপ্রিলে শুরু হতে যাওয়া ইউপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেয় বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ‘নির্বাচনে যা হচ্ছে তাতে ভোটে অংশ নেয়া বা না নেয়া সমান কথা।’

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১১ এপ্রিল প্রথম ধাপে ২০টি জেলার ৬৩টি উপজেলার ৩২৩টি ইউনিয়নে ভোট হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নে হবে ভোট।

বর্ধিত সভায় ‘বিএনপির সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দিতে’ ঢাকা মহানগরের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সাহসী ও সুদক্ষ নেতৃত্বে উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা আজ যখন সারা বিশ্বে সমাদৃত তখন বিএনপি নেতারা সরকার হঠানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারা এখন অন্ধকারে চোরাগলি খুঁজছে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে।

‘দেশে এখন আন্দোলনের কোনো ইস্যু নেই, শেখ হাসিনার উন্নয়ন-অর্জনের রাজনীতি সরকারবিরোধী রাজনীতিকে ইস্যু সংকটে ফেলে দিয়েছে। বিএনপি আন্দোলনের কোনো যুৎসই ইস্যু খুঁজে না পেয়ে ডুবন্ত মানুষের মতো এটা-সেটা আঁকড়ে ধরার অপচেষ্টা করছে।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, ‘জনগণের ভালোবাসা, দেশপ্রেম আর চ্যালেঞ্জ অতিক্রমের কঠিন মনোবল নিয়ে শেখ হাসিনা এগিয়ে যাচ্ছেন পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানে।

‘আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আমাদের প্রত্যেকের বিকল্প থাকলেও শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। তেমনই বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতেও শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আস্থার সোনালী দিগন্ত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের অভিযাত্রায় স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে আজ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উঠে আসতে পেরেছে, যা শেখ হাসিনার সাফল্যের মুকুটে যোগ করেছে আরেকটি সোনালী পলক।’

সভায় ঢাকা মহানগরের সব ইউনিটে তিন মাসের মধ্যে সম্মেলন করার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে গঠনতন্ত্রের ৩৫(১) ধারা অনুযায়ী মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সব ইউনিটের কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করতে হবে। গঠনতন্ত্র মোতাবেক পরবর্তী তিন মাস পরে ওয়ার্ড সম্মেলন ও থানা সম্মেলন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
একরামুলকে বহিষ্কারের দাবিতে কোম্পানিগঞ্জে আধবেলা হরতাল
পাগলামি কইরা নেতা হওয়া যায় না, কাদের মির্জাকে নিক্সন
বসুরহাট: ভোট ইভিএমে, রিজভীর দাবি ভরা হয়েছে বাক্স
কাদেরের ভাইয়ের অভিযোগ যাবে দলীয় ফোরামে
পরাজিত ‍দুই প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি নিয়ে কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

ছাত্রদলের ১৩ নেতা-কর্মী রিমান্ডে

ছাত্রদলের ১৩ নেতা-কর্মী রিমান্ডে

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আসামিরা রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ। তাদের আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির ছাত্রদলের সমাবেশে পুলিশ ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গ্রেপ্তার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১৩ নেতা-কর্মীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর সোমবার এ আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন মঞ্জুরুল আল রিয়াদ, আতাউর রহমান, মাসুদ রানা, শফিকুল ইসলাম, শাহীরাজ, আহসান হাবীব রাজু, কবির হোসেন, মনোয়ার ইসলাম, আরিফুল হক, আনিসুর রহমান, আবু হায়াৎ মো. জুলফিকার, আতিক মোরশেদ ও রমজান।

এদিন বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আসামিদের আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মো. আব্দুল্লাহ।

রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন ঢাকা বারের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হযরত আলীসহ আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। তারা জানান, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশ হামলা করেছে। তা ছাড়া তারা সবাই ছাত্র বিবেচনায় রিমান্ড বাতিলের আবেদন করা হয়।

শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক আহমদের মৃত্যুতে প্রেস ক্লাবের সামনে রোববার প্রতিবাদ সমাবেশ ডেকেছিল ছাত্রদল। তবে সমাবেশ শুরুর ২০ মিনিটের মধ্যেই শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ।

একপর্যায়ে ছাত্রদল কর্মীরা প্রেস ক্লাবের ভেতরে আশ্রয় নিলে পুলিশ সেখানে ঢুকে লাঠিপেটা করে। প্রেস ক্লাব অঙ্গন লক্ষ্য করে পুলিশকে টিয়ার শেল ছুড়তেও দেখা গেছে। সংঘর্ষের সময় পুলিশ ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীসহ আহত হন একাধিক সংবাদকর্মী।

ঘটনার দিন রাতে পুলিশ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করে। এতে এজাহার নামীয় ৪৭ নেতা-কর্মী ও অজ্ঞাতনামা আরও ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পুলিশের ওপর আক্রমণ, হামলা, ভাঙচুর চালিয়েছেন আসামিরা।

আরও পড়ুন:
একরামুলকে বহিষ্কারের দাবিতে কোম্পানিগঞ্জে আধবেলা হরতাল
পাগলামি কইরা নেতা হওয়া যায় না, কাদের মির্জাকে নিক্সন
বসুরহাট: ভোট ইভিএমে, রিজভীর দাবি ভরা হয়েছে বাক্স
কাদেরের ভাইয়ের অভিযোগ যাবে দলীয় ফোরামে
পরাজিত ‍দুই প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি নিয়ে কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

মুশতাক ‘মাদক’ নিতেন কি না তদন্তে বেরিয়ে আসবে: তথ্যমন্ত্রী

মুশতাক ‘মাদক’ নিতেন কি না তদন্তে বেরিয়ে আসবে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওনার (মুশতাক) মৃত্যু কীভাবে হয়েছে সেটা তো আমি জানি না, এর জন্য একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বেরিয়ে আসবে উনি কোনো ড্রাগ ব্যবহার করতেন কি না, ওনার কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে কি না। অথবা কারা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল কি না সেটিও তদন্তে বেরিয়ে আসবে।’

কারাগারে মৃত্যুবরণ করা লেখক মুশতাক আহমেদ কোনো ধরনের মাদক সেবন করতেন কি না এবং কীভাবে তার মৃত্যু হলো তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

সোমবার দুপুরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

কারাসূত্রে জানা গেছে, লেখক মুশতাক এক ধরনের ড্রাগ ব্যবহার করতেন। এর প্রভাবে তার মৃত্যুর হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘ওনার (মুশতাক) মৃত্যু কীভাবে হয়েছে সেটা তো আমি জানি না, এর জন্য একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বেরিয়ে আসবে উনি কোনো ড্রাগ ব্যবহার করতেন কি না। ওনার কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে কি না, কিংবা কারা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল কি না সেটিও তদন্তে বেরিয়ে আসবে।’

তবে মুশতাকের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই মৃত্যু অবশ্যই অনভিপ্রেত। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, কমিটির মাধ্যমে নিশ্চয়ই সব বেরিয়ে আসবে।’

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের বিষয়ে বিভিন্ন দেশের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশে এ ধরনের আইন হয়েছে কিংবা হচ্ছে। উন্নত দেশগুলোতেও এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শাস্তির বিধান রয়েছে।’

তবে আইনের অপব্যবহার যাতে না হয় সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

‘এই আইনের যাতে কোনো অপব্যবহার না হয় সেজন্য আমাদের সবাইকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। ’

এদিকে, প্রেস ক্লাবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রেস ক্লাবকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে ছাত্রদল পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে, হাজারো ইট-পাথরের টুকরা তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করেছে। প্রেসক্লাবে আমি নিয়মিত যাই, সেখানে তো কোনো পাথরের স্তূপ নেই, তার মানে এগুলো আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা হয়েছিল। ’

মন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদলের সংঘর্ষ হয়েছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সাংবাদিকদের বা প্রেস ক্লাবের কোনো কিছু হয়নি। আমি আশা করব ছাত্রদলসহ যারা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায়, তাদের অবশ্যই এ ধরনের ঘটনা প্রেস ক্লাবকে ব্যবহার করে ঘটানো উচিত না।’

প্রেস ক্লাবকে জাতীয় ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দল, মত ও পথের জন্য এটি উন্মুক্ত। সুতরাং সেখান থেকে যদি পুলিশের উপর হামলা হয়, লাঠিসোটা নিয়ে আক্রমণ করা হয় সেটা খুবই অনভিপ্রেত। ছাত্রদল যেটি চেয়েছে, দেশে একটি ঘটনা ঘটানোর অপচেষ্টা করেছে।

‘একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি মহল পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছে। অতীতেও পানি ঘোলা করার চেষ্টা হয়েছে এবং এতে কোনো লাভ হয়নি, এবারও কোনো লাভ হবে না।’

পুলিশ প্রেস ক্লাবের ঘটনার ক্ষেত্রে আরেকটু ধৈর্যের পরিচয় দিতে পারত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে একজন সাংবাদিক আহত হয়েছিলেন, সেই প্রশ্ন আগে আসা উচিত ছিল। এটিএন বাংলার একজন সাংবাদিক ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন। তারা (ছাত্রদল) তো প্রথম দোষী।

‘আমি অনুরোধ জানাব এ ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত, দু:খজনক। এটা হওয়া অনুচিত। কেউ যেন এভাবে প্রেস ক্লাবকে ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

আরও পড়ুন:
একরামুলকে বহিষ্কারের দাবিতে কোম্পানিগঞ্জে আধবেলা হরতাল
পাগলামি কইরা নেতা হওয়া যায় না, কাদের মির্জাকে নিক্সন
বসুরহাট: ভোট ইভিএমে, রিজভীর দাবি ভরা হয়েছে বাক্স
কাদেরের ভাইয়ের অভিযোগ যাবে দলীয় ফোরামে
পরাজিত ‍দুই প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি নিয়ে কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

তারেকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে ছাত্রলীগ নেতার মামলা

তারেকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে ছাত্রলীগ নেতার মামলা

মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং ইতিহাস বিকৃতি চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং ইতিহাস বিকৃতি চেষ্টার অভিযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেছেন ছাত্রলীগের এক নেতা।

রাজধানীর শাহবাগ থানায় গত বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের উপ-ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। এতে আসামি করা হয়েছে তারেক রহমানের সহযোগীদেরও।

সোমবার মামলার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন রমনা থানার উপ-পরিদর্শক এলকে চৌধুরী। জানান, এই মামলার তদন্তভার দেয়া হয়েছে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আরিফুল ইসলামকে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, বাদি তার পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে টিএসসিতে বসে ছিলেন। এ সময় তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাইটে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেয়া তারেক রহমানের বক্তব্যের একটি লিংক আসে। ওই বক্তব্যে তিনি জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের জাতির পিতা বলে উল্লেখ করেন।

জাহিদ তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, লন্ডনে আয়োজিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্যে বলেন- ‘যারা আজ এই সভায় উপস্থিত আছেন, যারা ক্যামেরা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে দেখছেন আমরা সবাই মিলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সিদ্ধান্ত নিতে পারি, আমাদের নেতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের জাতির পিতা।’

তারেক রহমান তার বক্তব্যে আরও বলেন, ‘আমাদের নেতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু বাঙালি জাতি না, বাঙালিসহ ৫৫ হাজার ১২৬ বর্গমাইলের মধ্যে যতগুলো জাতি বাস করে যারা বাংলাদেশি জাতির পরিচয় বহন করে, যারা নিজেদেরকে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেয়, সেই বৃহৎ জনগোষ্ঠির জাতির পিতা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের জাতির পিতা। আমরা কি আজকে সবাই মিলে এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারি? তাহলে আজকে থেকে সিদ্ধান্ত হলো শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের জাতির পিতা।’

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই সভায় তারেক রহমান বাংলাদেশে চলমান স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে চাওয়ার উদ্দেশ্যে এমন মনগড়া মিথ্যা তথ্য সংবলিত উদ্ভট যুক্তি দেন। তার ইচ্ছাকৃত ইতিহাস বিকৃতির এ বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলার অবনতির উদ্দেশ্যে প্রদাণ করা হয়েছে। আলোচনায় মনগড়া ভিত্তিহীন আক্রমণাত্মক তথ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাঙালি জাতির পিতাকে নিয়ে অসত্য, মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন তিনি।

মামলার নথিতে আরও বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে গুজব সৃষ্টিকারী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে বাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ নিউজবাংলাকে জানান, কারও পরামর্শে নয় স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি তিনি করেছেন।

তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির আওতায় আনা উচিত জানিয়ে এই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষদের উসকানি দিয়ে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে তারেক রহমান বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করছেন। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই তারেক রহমান জাতির জনককে নিয়ে অসত্য, মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালাচ্ছেন ও ইতিহাস বিকৃতি করছেন।’

আরও পড়ুন:
একরামুলকে বহিষ্কারের দাবিতে কোম্পানিগঞ্জে আধবেলা হরতাল
পাগলামি কইরা নেতা হওয়া যায় না, কাদের মির্জাকে নিক্সন
বসুরহাট: ভোট ইভিএমে, রিজভীর দাবি ভরা হয়েছে বাক্স
কাদেরের ভাইয়ের অভিযোগ যাবে দলীয় ফোরামে
পরাজিত ‍দুই প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি নিয়ে কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

স্বাধীনতা উদযাপনে বিএনপিকে ২৪ শর্ত

স্বাধীনতা উদযাপনে বিএনপিকে ২৪ শর্ত

স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠানে, রাস্তায় যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি না করা, ব্যানার-ফেস্টুনের আড়ালে লাঠি ব্যবহার না করা, নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শেষ করা, অননুমোদিত স্থানে লোকসমাগম না করাসহ ২৪টি শর্ত দিয়েছে ডিএমপি।

আবেদনের আট দিন পর ২৪ শর্তে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান করার অনুমতি পেয়েছে বিএনপি।

গুলশানের হোটেল লেকশোরে সোমবার বেলা ৩টায় উদ্বোধন অনুষ্ঠান হবে বলে জানিয়েছেন দলটি চেয়ারপারসন কার্যালয়ের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বছরব্যাপী কর্মসূচি উদ্বোধনের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে (ডিএমপি) চিঠি দেয় বিএনপি। চিঠির আট দিনের মাথায় রোববার এই অনুমতি দিল তারা।

শায়রুল কবির খান জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠান, রাস্তায় যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি না করা, ব্যানার-ফেস্টুনের আড়ালে লাঠি ব্যবহার না করা, নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শেষ করা, অননুমোদিত স্থানে লোকসমাগম না করাসহ ২৪টি শর্ত দিয়েছে ডিএমপি।

তিনি আরও জানান, লন্ডন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি থাকবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দাওয়াত দেয়া হয়েছে।

২৪ ফেব্রুয়ারি সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১৯ দিনের প্রাথমিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এর মধ্যে রয়েছে ৩০ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘সুবর্ণজয়ন্তী’ মহাসমাবেশ। এ ছাড়াও ১৮ দিন নানা ধরনের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জন্মের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে দলটি।

ড. খন্দকার মোশাররফ জানান, বিএনপি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে বছরজুড়েই। প্রতি মাস শেষ হওয়ার আগেই পরের মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আরও পড়ুন:
একরামুলকে বহিষ্কারের দাবিতে কোম্পানিগঞ্জে আধবেলা হরতাল
পাগলামি কইরা নেতা হওয়া যায় না, কাদের মির্জাকে নিক্সন
বসুরহাট: ভোট ইভিএমে, রিজভীর দাবি ভরা হয়েছে বাক্স
কাদেরের ভাইয়ের অভিযোগ যাবে দলীয় ফোরামে
পরাজিত ‍দুই প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি নিয়ে কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg