মির্জাকে শাসন করুন, কাদেরকে এমপি একরামুল

নোয়াখালী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

মির্জাকে শাসন করুন, কাদেরকে এমপি একরামুল

‘আমি কথা বললে তো মির্জা কাদেরের বিরুদ্ধে কথা বলব না, আমি কথা বলব ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে। একটা রাজাকার ফ্যামিলির লোক এই পর্যায়ে আসছে; তার ভাইকে শাসন করতে পারে না। এগুলো নিয়ে আমি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কথা বলব। আমার নাম যদি জেলা কমিটিতে না আসে তাহলে আমি এটা নিয়ে শুরু করব।’

নোয়াখালীর বসুরহাটে আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আবদুল কাদেরকে সামলাতে ভাই ওবায়দুল কাদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন দলটির নোয়াখালী সদর আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী।

অন্যথায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মুখ খুলবেন বলে সতর্ক করেছেন একরামুল।

বসুরহাট পৌরসভায় নির্বাচনের সময় কাদের মির্জার নানা বক্তব্য রাজনীতিতে আলোড়ন তোলে। কাদের মির্জার দাবি, বৃহত্তর নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের এমপিরা সন্ত্রাসী পালেন, ছোট পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ঘুষ নেন, তাদের মদের আসরে পুলিশ গিয়ে স্যালুট দেয়।

শুরুর দিকে মির্জা কাদের কারও নাম না বললেও ১৬ জানুয়ারি ভোট শেষে তিনি স্পষ্টতই বলেন, নোয়াখালী সদর আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীকে নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

ভোটে জয়ের দুই দিন পর এক সভায় নোয়াখালীর আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য একরামুলের নামে সরাসরি অভিযোগ করেন তিনি। সভায় কাদের মির্জা বলেন, ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে (একরামুল) খোদা মানে। প্রশাসনের এ তেল মারা বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনের দুর্নীতির বিচারও করতে হবে।’

কুশল বিনিময় সভায় বসুরহাটের নতুন মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। ছবি: নিউজবাংলা

একরামুল এতদিন মুখ খোলেননি। তবে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি ২৭ সেকেন্ড কথা বলেন। তবে পরে আবার সে ভিডিও ডিলিটও করে দেন। যদিও তা এর আগেই ভাইরাল হয়ে যায়। কপি করে নানা পেজে উঠে যায় ভিডিওটি।

ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমি কথা বললে তো মির্জা কাদেরের বিরুদ্ধে কথা বলব না, আমি কথা বলব ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে। একটা রাজাকার ফ্যামিলির লোক এই পর্যায়ে আসছে; তার ভাইকে শাসন করতে পারে না। এগুলো নিয়ে আমি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কথা বলব। আমার নাম যদি জেলা কমিটিতে না আসে তাহলে আমি এটা নিয়ে শুরু করব।’

এ নিয়ে জানতে চাইলে একরামুল মুঠোফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ভিডিও সরিয়ে নিলেও তিনি ওবায়দুল কাদেরের পরিবারের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সত্য।

তবে ওবায়দুল কাদের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, এটাও স্পষ্ট করেন তিনি।

তাহলে কার কথা বলেছেন- এমন প্রশ্নে একরামুল বলেন, ‘আপনারা গণমাধ্যমকর্মীরা খবর নিলে জানতে পারবেন তার পরিবারে কারা রাজাকার ছিল।’

ভিডিও বার্তায় নোয়াখালীর আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

‘তবে ওবায়দুল কাদের এমপি একজন মুক্তিযোদ্ধা। দীর্ঘদিন থেকে তার ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে এলোমেলো বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তিনি তার ভাইকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, এ জন্য তিনি (কাদের মির্জা) এসব কথা বলেছেন।’

এই বক্তব্য দেয়ার আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ২ নম্বর আমলি আদালতে কাদের মির্জার বিরুদ্ধে মানহানি মামলার আবেদন করেন ১০ নম্বর অশ্বদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সদস্য রিয়াজ উদ্দিন।

এর প্রতিবাদে সন্ধ্যায় বসুরহাট বাজারে বিক্ষোভ করেন কাদের মির্জা। সমাবেশ শেষে একরামুল করিম চৌধুরী ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সামছুদ্দিন জেহানের কুশপুতুল পোড়ায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ।

আরও পড়ুন:
পাগলামি কইরা নেতা হওয়া যায় না, কাদের মির্জাকে নিক্সন
বসুরহাট: ভোট ইভিএমে, রিজভীর দাবি ভরা হয়েছে বাক্স
কাদেরের ভাইয়ের অভিযোগ যাবে দলীয় ফোরামে
পরাজিত ‍দুই প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি নিয়ে কাদের মির্জা
বসুরহাট পাল্টে দেবে ভোটের চিত্র: কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মুশতাকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক: কাদের

মুশতাকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক: কাদের

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু হয় গত বৃহস্পতিবার। ফাইল ছবি

কাদের বলেন, ‘লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমি আশা করি, তদন্তের মাধ্যমে লেখক মুশতাকের মৃত্যু-রহস্য উন্মোচিত হবে।’

কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রোববার সকালে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

কাদের বলেন, ‘লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমি আশা করি, তদন্তের মাধ্যমে লেখক মুশতাকের মৃত্যু-রহস্য উন্মোচিত হবে।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে কাদের বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য একদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা যেমন জরুরি, তেমনি এই আইনের অপপ্রয়োগ যাতে না হয়, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। স্বাধীনতা মানে এই নয় যে যার মতো যা খুশি বলার নিরঙ্কুশ বা একচেটিয়া অধিকার থাকবে।

‘অন্যের মতামতকে সম্মান জানানোও স্বাধীন মতপ্রকাশের সীমানাভুক্ত। সরকার অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে এই আইনের ব্যবহার নিয়ে। কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা যাতে এই আইনের অপব্যবহার করতে না পারে সেদিকে নজর থাকা জরুরি। মুশতাকের দুঃখজনক মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্তাধীন। তাই তদন্তাধীন ইস্যুতে একটি কুচক্রী মহল ঘোলা মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে।’

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে শুরু থেকেই সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।

এই আইনেই গত বছরের মে মাসে গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু হয় ২৫ ফেব্রুয়ারি। গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে তার মৃত্যুর পর থেকেই আইন নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে সমালোচনা-প্রতিবাদ।

ঠিক কী কারণে ৫৩ বছর বয়সী মুশতাকের মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে ময়নাতদন্ত হয়েছে। গঠন করা হয়েছে একাধিক তদন্ত কমিটিও।

ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান শুরু

এদিকে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর রোববার থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার কাজ পুনরায় শুরু করেছে বিআরটিএ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিভাগীয় পর্যায়েও লাইসেন্স প্রদানের কাজ শুরু করা হবে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘লাইসেন্স সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ পেশাদারত্বের পরিচয় দিতে হবে।’

যানবাহনের ফিটনেস সনদ গ্রহণের বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সরকার সেবা সহজীকরণে এবং গ্রাহকদের সুবিধার্থে দেশের যেকোনো সার্কেল অফিস হতে যানবাহনের ফিটনেস সনদ গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে।’

বিআরটিএর বিষয়ে কাদের বলেন, ‘বিআরটিএকে একটি সঠিক সেবামুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানের সেবা পেতে এখনও গ্রাহক ভোগান্তি আছে। তবে এ ভোগান্তি প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে কমে আসছে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল সেবার আওতা বাড়ানা গেলে দুর্নীতি ও অনিয়ম অনেকটা কমে যাবে। বিআরটিএতে এখনও দালালের দৌরাত্ম্য রয়েছে। অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। তাদের সখ্যে গড়ে উঠেছে এ চক্র।’

আরও পড়ুন:
পাগলামি কইরা নেতা হওয়া যায় না, কাদের মির্জাকে নিক্সন
বসুরহাট: ভোট ইভিএমে, রিজভীর দাবি ভরা হয়েছে বাক্স
কাদেরের ভাইয়ের অভিযোগ যাবে দলীয় ফোরামে
পরাজিত ‍দুই প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি নিয়ে কাদের মির্জা
বসুরহাট পাল্টে দেবে ভোটের চিত্র: কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি বাম জোটের 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি বাম জোটের 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। ছবি: শিপন আলী

সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ‘সরকারিভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির প্রতি মানুষের কোনো আস্থা নেই। তাই বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

শনিবার বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশ থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানায় বাম জোট।

একই সঙ্গে মুশতাকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদ মিছিল থেকে গ্রেপ্তার ছাত্রনেতাদের মুক্তির দাবিও জানানো হয়।

সমাবেশে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ‘মুশতাক আহমেদের মৃত্যু একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাকে স্বাধীন মতপ্রকাশের অপরাধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নয় মাস বন্দি রাখা হয়। হাই সিকিউরিটি প্রিজনার তকমা দিয়ে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্যন্ত করতে দেয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘মুশতাকের জামিন পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। তাকে হত্যার দায় ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী সরকারকে নিতে হবে।’

আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন আরও বলেন, ‘সরকারিভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির প্রতি মানুষের কোনো আস্থা নেই। তাই বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মুশতাক আহমেদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দমনে পুলিশ যে জুলুম চালিয়েছে তাতে সরকারের ফ্যাসিবাদী চেহারা উন্মোচিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শাহবাগে প্রতিবাদ মিছিলে হামলা করে ছাত্রদের যারা রক্তাক্ত করেছে তাদের বিচার এদেশের জনগণের আদালতে হবে।’

সমাবেশ আরও বক্তব্য দেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক, ইউসিএলবির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাকমন্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আমেনা আক্তার ও বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা রাশেদ শাহরিয়ার।

আরও পড়ুন:
পাগলামি কইরা নেতা হওয়া যায় না, কাদের মির্জাকে নিক্সন
বসুরহাট: ভোট ইভিএমে, রিজভীর দাবি ভরা হয়েছে বাক্স
কাদেরের ভাইয়ের অভিযোগ যাবে দলীয় ফোরামে
পরাজিত ‍দুই প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি নিয়ে কাদের মির্জা
বসুরহাট পাল্টে দেবে ভোটের চিত্র: কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলে উদীচীর হুঁশিয়ারি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলে  উদীচীর হুঁশিয়ারি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর হুশিয়ারি। ছবি: নিউজবাংলা

আইনটি প্রত্যাহার করা না হলে সারা দেশের শিল্পী-কর্মীদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে সমাবেশ থেকে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে নিবর্তনমূলক দাবি করে সেটি বাতিলের দাবিতে এবং কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদে শাহবাগে সমাবেশ করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। আইনটি প্রত্যাহার করা না হলে সারা দেশের শিল্পী-কর্মীদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে সমাবেশ থেকে।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

শুরুতে গান পরিবেশ করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পী আকতার।

সমাবেশে উদীচীর সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য রহমান মফিজ বলেন, ‘আমরা আজ কেউ নিরাপদে নেই। স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি নিয়ে কার্টুন এঁকেছেন কার্টুনিস্ট কিশোর। আর সেই কার্টুন লেখক মুশতাক ফেসবুকে শেয়ার দিয়েছেন। আর এটিই তার অপরাধ। এই অপরাধে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

‘এটি দিয়ে রাষ্ট্র বোঝাতে চায়, যে প্রতিবাদ করবে ও যে এটির সমর্থন করবে তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে। খুনের আসামি, দুর্নীতিবাজরা জামিন পান, কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে যারা লিখে তাদের তিলে তিলে মরতে হয়।’

এ সময় তিনি বিবেকবান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসবের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনওয়ার তপন বলেন, ‘খুনের আসামির জামিন হয়ে যায়, অথচ একজন লেখকের জামিন হয় না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাধারণ মানুষের উপকারে আসে না। এই আইন ঘুষখোর-দুর্নীতিবাজদের উপকারে আসে। এই আইন তৈরি হয়েছে বিরুদ্ধ মতকে দমন করতে।’

উদীচীর ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান বলেন, ‘দেশে অসত্য বক্তব্য উপস্থাপন করলে সমস্যা হয় না, বরং সত্য কথা বলার কারণে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। সত্য কথা বলার কারণে মুশতাকের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এজন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, আমাদের মুক্তি এখনও আসেনি।’

উদীচীর সহসভাপতি হাবিবুল আলমের সভাপতিত্বে ও সংগীতা ইমামের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ইকরাম হোসেন, কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি অমিত রঞ্জন দে।

সমাবেশে কবিতা আবৃত্তি করেন উদীচী সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য মিজানুর রহমান শোভন ও কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন। গণসংগীত পরিবেশন করেন সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সুরাইয়া পারভিন।

আরও পড়ুন:
পাগলামি কইরা নেতা হওয়া যায় না, কাদের মির্জাকে নিক্সন
বসুরহাট: ভোট ইভিএমে, রিজভীর দাবি ভরা হয়েছে বাক্স
কাদেরের ভাইয়ের অভিযোগ যাবে দলীয় ফোরামে
পরাজিত ‍দুই প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি নিয়ে কাদের মির্জা
বসুরহাট পাল্টে দেবে ভোটের চিত্র: কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণে বিএনপির চিঠি

শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণে বিএনপির চিঠি

বিএনপির প্রতিনিধি দলের কাছ থেকে আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করছেন আ. লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওসার। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আ. লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির কার্যালয়ে গিয়ে দলের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণের চিঠি হস্তান্তর করে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিএনপি যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, সেখানে উপস্থিত থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিজেদের দলীয় কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বিএনপি।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিএনপি যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, সেখানে উপস্থিত থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপির দুই সদস্যের প্রতিনিধিদল আ. লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির কার্যালয়ে গিয়ে দলের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণের চিঠি হস্তান্তর করে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওসার আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করেন।

বিএনপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার এবং সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে গঠিত প্রচার প্রকাশনা কমিটির সদস্যসচিব ও দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

এর আগে শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির উদযাপন উপলক্ষে বিএনপি মার্চজুড়ে ১৯ দিনের কর্মসূচি দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক দুটি দিন পালন করবে দলটি।

দিবস দুটি হলো ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ও ২৫ মার্চ। এর মধ্যে ৭ মার্চের আলোচনা সভার প্রতিপাদ্য না জানালেও ২৫ মার্চেরটিকে তারা বলছে, ‘কাল রাত্রির’ আলোচনা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিবস দুটি এর আগে বিএনপিকে কখনও পালন করতে দেখা যায়নি। এবার পালনের পরিকল্পনাকে দলের নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে বর্ণনা করছেন বিএনপির নেতারা।

আরও পড়ুন:
পাগলামি কইরা নেতা হওয়া যায় না, কাদের মির্জাকে নিক্সন
বসুরহাট: ভোট ইভিএমে, রিজভীর দাবি ভরা হয়েছে বাক্স
কাদেরের ভাইয়ের অভিযোগ যাবে দলীয় ফোরামে
পরাজিত ‍দুই প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি নিয়ে কাদের মির্জা
বসুরহাট পাল্টে দেবে ভোটের চিত্র: কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

স্বাধীনতা উদযাপনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি

স্বাধীনতা উদযাপনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে সম্পাদক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপির নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে বিএনপি অংশ নেবে কি না এবং বিএনপির কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে দলের মহাসচিব বলেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই, আজই প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।’

দলের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে বিএনপি অংশ নেবে কি না; বিএনপির কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই, আজই প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির উদযাপন উপলক্ষে বিএনপি মার্চজুড়ে ১৯ দিনের কর্মসূচি রেখেছে। এর মধ্যে দুটি কর্মসূচি সবাইকে অবাক করেছে, এ কারণে যে দলটি প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক দুটি দিন পালন করবে এবার।

দিবস দুটি হলো ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ও ২৫ মার্চ। এর মধ্যে ৭ মার্চের আলোচনা সভার প্রতিপাদ্য না জানালেও ২৫ মার্চেরটিকে তারা বলছে, ‘কাল রাত্রির’ আলোচনা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিবস দুটি এর আগে বিএনপিকে কখনও পালন করতে দেখা যায়নি। এবার পালনের পরিকল্পনাকে দলের নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে বর্ণনা করছেন বিএনপির নেতারা।

এ বিষয়ে সম্প্রতি বিএনপির এক নেতা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএনপি যে কর্মসূচি আগে কখনও করেনি, এখন নতুন করে করছে, সেগুলো দেশবাসী বা আওয়ামী লীগ যেন ইতিবাচকভাবে নেয়।’

অতীতে বিএনপি দিবস দুটি পালন তো করেইনি, বরং ক্ষমতায় থাকাকালে ৭ মার্চের আয়োজনে দলটি নানা সময় আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে থাকেন বর্তমান ক্ষমতাসীনরা।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। বিএনপির শাসনামলে রেডিও টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি কার্যত নিষিদ্ধ ছিল।

আওয়ামী লীগের নেতারা বারবার অভিযোগ করে আসছেন, তারা ভাষণটি বাজাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বিরোধী দলে থাকতে।

২০১৭ সালে ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেসকো স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতি উদযাপনে ওই বছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আনন্দ সমাবেশ করে।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ। ছবি: সংগৃহীত

তখনও ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে বিষোদগার করতে দেখা যায় বিএনপিকে। ওই বছরের ২৬ নভেম্বর বিএনপিপন্থি সংগঠন জিয়া পরিষদের এক আলোচনায় বিএনপির সহসভাপতি শামসুজ্জামান দুদু বলেছিলেন, ‘কবে কোন কালে কে বক্তৃতা করেছিল, তা নিয়ে কী মাতামাতি! সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাস্তায় নামিয়ে নৃত্য করতে বাধ্য করা হলো। এর ফল ভালো হবে না।

‘৭ মার্চের ওই ভাষণ ছিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য, স্বাধীনতার জন্য নয়। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিল জিয়াউর রহমান।’

২৫ মার্চ কালরাতেও বিএনপির কোনো ধরনের কর্মসূচি এই প্রথম।

বাঙালি নিধনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ অপারেশন সার্চলাইট শুরুর তারিখ ২৫ মার্চ ২০১৭ সাল থেকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে সরকার। আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যা দিবস পালিত হয় ৯ ডিসেম্বর। বাংলাদেশে এখন ২৫ মার্চের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টায়।

আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো ২৫ মার্চ রাতে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। কিন্তু এই দিবসটিও উপেক্ষা করে আসছে বিএনপি। বিষয়টি নজর এড়ায়নি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালনে আওয়ামী লীগের আলোচনায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী অর্থাৎ বিএনপি-জামায়াত গণহত্যা দিবস পালন করল না। কেন পালন করল না?

‘এই দিবস পালন না করার মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট যে একদিকে তারা যেমন বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, অপরদিকে যারা যুদ্ধাপরাধী, গণহত্যাকারী, লুণ্ঠনকারী, অগ্নিসংযোগকারী, মেয়েদের ইজ্জত লুণ্ঠনকারী, যারা অপরাধী-তাদেরকেই এরা আপন মনে করে।’

প্রথমবারের মতো ৭ মার্চ ও ২৫ মার্চ পালনের উদ্দেশ্যে বিএনপির কর্মসূচি রাখাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এ ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঐতিহাসিক ৭ মার্চকে যারা এতদিন নিষিদ্ধ করে রেখেছিল, তারাই এখন ৭ মার্চ পালন করবে। বিএনপির এই সিদ্ধান্তকে আওয়ামী লীগ স্বাগত জানায়।’

আরও পড়ুন:
পাগলামি কইরা নেতা হওয়া যায় না, কাদের মির্জাকে নিক্সন
বসুরহাট: ভোট ইভিএমে, রিজভীর দাবি ভরা হয়েছে বাক্স
কাদেরের ভাইয়ের অভিযোগ যাবে দলীয় ফোরামে
পরাজিত ‍দুই প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি নিয়ে কাদের মির্জা
বসুরহাট পাল্টে দেবে ভোটের চিত্র: কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

বিএনপির মহাসমাবেশ: খুলনার ১৮ রুটে বন্ধ বাস

বিএনপির মহাসমাবেশ: খুলনার ১৮ রুটে বন্ধ বাস

বিএনপির সমাবেশের জন্য শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পরিবহন চলাচল বন্ধ রেখেছে খুলনা বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতি। ছবি: নিউজবাংলা

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘শনিবারের সমাবেশ যেকোনো মূল্যে অনুষ্ঠিত হবে। হঠাৎ করে নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশি হয়রানি ও গ্রেপ্তার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে কোনো লাভ নাই।’

খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে জেলার সঙ্গে বন্ধ আছে ১৮ রুটের পরিবহন চলাচল।

নগরীর শহীদ মহারাজ চত্বরে শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে পরিবহন চলাচল বন্ধ রাখে খুলনা বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতি।

নগরীর কে ডি ঘোষ রোড এলাকার দলীয় কার্যালয়ে শুক্রবার দুপুরে প্রস্তুতি সভায় খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘শনিবারের সমাবেশ যেকোনো মূল্যে অনুষ্ঠিত হবে। হঠাৎ করে নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশি হয়রানি ও গ্রেপ্তার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে কোনো লাভ নাই।

‘পরিবহন বিভাগের মালিকদের ডেকে নিয়ে খুলনার সব গাড়ি চলাচল ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রেখেও সমাবেশ বন্ধ করা যাবে না।’

সমাবেশের বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘করোনার মধ্যে উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। সমাবেশ করতে চাইলে তারা দলীয় কার্যালয়ে করতে পারে।’

বাস চলাচল বন্ধের বিষয়ে খুলনা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী মো. নুরুল ইসলাম বেবী বলেন, ‘আমাদের কয়েকটি রুটের দ্বন্দ্বের কারণে ২৪ ঘণ্টার জন্য বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।’

খুলনা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, করোনার কারণে শ্রমিকদের বিশ্রামের জন্য ২৪ ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে বিএনপির সমাবেশে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় শনিবার ভোর থেকে খুলনার সব ঘাটে ট্রলার ও নৌকা পারাপার বন্ধ রেখেছেন জেলার লঞ্চ ও ঘাটমাঝিরা।

পরিবহন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। শনিবার সকালে নগরীর জিরো পয়েন্টে বাসের অপেক্ষায় থাকা রাহেলা খাতুন জানান, তিনি পল্লী বিদ্যুতের বিল সুপারভাইজার পদে কর্মরত। হঠাৎ বাস বন্ধ থাকায় তাকে বিকল্প পথে যেতে হবে।

খুলনা বাস টার্মিনালে আসা কয়রার অনুপ কুমার ঢালি জানান, চিকিৎসার জন্য শনিবার তার ভারত যাওয়ার কথা ছিল। করোনার রিপোর্ট নিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভারতে যেতে না পারলে আবার তাকে টেস্ট করাতে হবে।

টার্মিনালের ঈগল পরিবহন কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা জাহিদুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে তাদের সব পরিবহন বন্ধ থাকলেও ফুলতলা থেকে পরিবহন চালু আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনা মহানগরীতে বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও ফুলতলা, চুকনগর ও কাটাখালী থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক আছে।

শনিবার ভোর থেকেই নগরীতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক সামছুজ্জামান চঞ্চল জানান, মহাসমাবেশের প্রধান অতিথি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যরিস্টার শাহজাহান ওমরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

আরও পড়ুন:
পাগলামি কইরা নেতা হওয়া যায় না, কাদের মির্জাকে নিক্সন
বসুরহাট: ভোট ইভিএমে, রিজভীর দাবি ভরা হয়েছে বাক্স
কাদেরের ভাইয়ের অভিযোগ যাবে দলীয় ফোরামে
পরাজিত ‍দুই প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি নিয়ে কাদের মির্জা
বসুরহাট পাল্টে দেবে ভোটের চিত্র: কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

ডিজিটাল আইন মানুষের নিরাপত্তার জন্য: তথ্যমন্ত্রী

ডিজিটাল আইন মানুষের নিরাপত্তার জন্য: তথ্যমন্ত্রী

শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানজি পুকুর পাড়ে নিজ বাসভবনে কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

হাছান মাহমুদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইনে একজন সাধারণ মানুষ যখন ডিজিটাল আক্রমণের শিকার হন, তিনি কোন আইনে প্রতিকার পাবেন? কোন আইনের বলে তিনি নিরাপত্তা পাবেন? এ জন্য একটা আইনের দরকার। এই জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দেশের সব মানুষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়ার জন্য বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানজি পুকুরপাড়ে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এক মামলায় কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর পর এই আইন বাতিলের জোর দাবির প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তথ্যমন্ত্রী।

কারাবন্দি মুশতাক আহমেদের মৃত্যু সত্যিই অনভিপ্রেত মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমিও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি। সেখানে কারা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফেলতি ছিল কিনা সেটা খুঁজে দেখা যেতে পারে।

‘তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার যাতে না হয়, সেটির জন্য আমরা সচেতন আছি। বিশেষত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যাতে এই আইনের অপব্যবহার না হয়, সে জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় ও আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময় সচেতন আছি এবং কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ডিজিটাল বিষয়টা আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে ছিল না। সুতরাং ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়টিও ছিল না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইনে যখন একজন সাংবাদিকের চরিত্র হনন করা হয়, একজন গৃহিণীকে যখন অপবাদ দেয়া হয়, একজন সাধারণ মানুষ যখন ডিজিটাল আক্রমণের শিকার হন, তিনি কোন আইনে প্রতিকার পাবেন?

‘কোন আইনের বলে তিনি নিরাপত্তা পাবেন? এ জন্য একটা আইনের দরকার। এই জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রণয়ন।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ মনে করেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে কবর দেয়া উচিত।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডা. জাফরুল্লাহতো নানা কথা বলেন। যেমন করোনার টিকার বিরুদ্ধে খুব সোচ্চার ছিলেন, আবার নিজে করোনার টিকা নিয়ে বলেছেন, এই টিকা সবার নেয়া উচিত। সুতরাং আজকে জাফরুল্লাহ সাহেব যে কথা বলেছেন, দুদিন পর দেখবেন নিজের কথাই তিনি আবার অন্য সুরে বলবেন। সুতরাং এটার উত্তর দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’

শুক্রবার সকালে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে অপরাধ দমন করা যায় না। এই কালো আইনকে কবর দেওয়ার সময় এসেছে। রাজধানীর তোপখানা রোডে শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের জাতীয় কাউন্সিলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান এ সময় বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে বিএনপির সমালোচনারও জবাব দেন।

বলেন, ‘বিডিআর হত্যাকাণ্ডের দিনে খালেদা জিয়া, যিনি দিনের ১২টার আগে ঘুম থেকে ওঠেন না, তিনি কেন ভোরে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে চলে গিয়েছিলেন? তিনি কেন এদিন তারেক রহমানের সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ বার কথা বললেন? এই রহস্যগুলো বের হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। তাহলেই মুখোশ উন্মোচিত হবে কারা এর পেছনে কলকাঠি নেড়েছিল।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ নানা ধরনের প্রশ্ন উপস্থাপন করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কারা কারা আছে, সেগুলো নিয়ে তারা ক্ষমতায় গেলে তদন্ত করবেন।’

তিনি বলেন, ‘তখন সদ্য সরকার গঠন করেছিল আওয়ামী লীগ। আমাদের সরকারের তখনও দুই মাস পূর্তি হয়নি। প্রায় দেড় মাসের মাথায় এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারকে অস্থিতিশীল করা।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। দেশের ইতিহাসে নয় শুধু, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের নিরিখেও এতবড় একটি হত্যাকাণ্ডের এত আসামির বিচার কম হয়েছে। আমাদের দেশের ইতিহাসে এতজন আসামির বিচার আর হয়নি। বিশ্ব প্রেক্ষাপটে এত আসামির বিচার কোথাও হয়েছে বলে আমার জানা নেই।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের মামলার বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে মামলা যে কেউ করতে পারে, মামলা করার অধিকার সবারই আছে, তবে বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে বিএনপিকে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডা. শাহাদাতকে আমি অনুরোধ জানাব, তার দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রশ্ন রাখার জন্য। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সুস্থ সবল থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতারা কেউ চট্টগ্রামে আসলেন না কেন? এমনকি চট্টগ্রামে যে সমস্ত কেন্দ্রীয় নেতা আছেন, তারাও কিন্তু নির্বাচনের সময় তার পক্ষে নামেননি।

‘আমির খসরু মাহমুদকে দুয়েকবার দেখা গেলেও তা প্রেস কনফারেন্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তার দলের স্থানীয় নেতারাও প্রথমে কিছুটা সরব থাকলেও পরবর্তীতে তারা ঘরের মধ্যে চলে যান। এ জন্য ডা. শাহাদাতকে বলব, এই প্রশ্নগুলো দলের নেতাদের কাছে করেন এবং তাদের বিরুদ্ধেও মামলা করেন।’

আরও পড়ুন:
পাগলামি কইরা নেতা হওয়া যায় না, কাদের মির্জাকে নিক্সন
বসুরহাট: ভোট ইভিএমে, রিজভীর দাবি ভরা হয়েছে বাক্স
কাদেরের ভাইয়ের অভিযোগ যাবে দলীয় ফোরামে
পরাজিত ‍দুই প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি নিয়ে কাদের মির্জা
বসুরহাট পাল্টে দেবে ভোটের চিত্র: কাদের মির্জা

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg