পৌর নির্বাচনে হস্তক্ষেপ নয়: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

পৌর নির্বাচনে হস্তক্ষেপ নয়: কাদের

‘সরকার কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। অতীতের ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশনকে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে। এটা সরকারের দায়িত্ব।’

পৌরসভা নির্বাচনে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না, নিশ্চিত করেছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

৬০টি এলাকায় ভোটের আগের সকালে নিজ বাসভবনে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। অতীতের ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশনকে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে। এটা সরকারের দায়িত্ব।’

গত ২৮ ডিসেম্বর যে ২৪টি পৌরসভায় ভোট হয়, তাতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ভোট নিয়ে বিরোধী প্রার্থীদের অভিযোগও ছিল কম।

সাম্প্রতিক সময়ের অন্য নির্বাচনগুলোর তুলনায় দ্বিতীয় ধাপে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকদের আরও বেশি তৎপর দেখা গেছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগও ছিল কম।

প্রথম ধাপের ভোটার উপস্থিতি নিয়ে কাদের বলেন, ‘ইভিএমে ভোটার টার্নআউট শতকরা ৬০ ভাগের বেশি, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।’

ভোট নিয়ে বিএনপি যে অভিযোগ করে আসছে, তারও জবাব দেন আওয়ামী লীগ নেতা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে যারা ভোট ডাকাতি শুরু করেছিলে, রাতের বেলায় কারফিউয়ের মাধ্যমে গণতন্ত্র শিখিয়েছিল, তাদেরকে জনগণ এখনও ক্ষমা করেনি। আর ক্ষমা করেনি বলেই বিএনপি ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’

আসামি হওয়ায় নরসিংদীতে প্রার্থী বদল

নরসিংদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদলের বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

চতুর্থ ধাপের পৌর নির্বাচনে এখানে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছিল স্থানীয় নেতা আশরাফ হোসেনকে।

বৃহস্পতিবার আশরাফ দলের মনোনয়নের চিঠি পাওয়ার পর জানা যায়, তিনি সাবেক মেয়র লোকমান হোসেন হত্যা মামলার আসামি। পরে প্রার্থিতা পাল্টে মনোনয়ন দেয়া হয় শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বাচ্চুকে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঘোষিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত অভিযোগ থাকায় প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে এবং সেখানে নতুন প্রার্থী দেয়া হয়েছে।’

কমিটি নিয়ে অভিযোগে আপিলের সুযোগ

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি নিয়ে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তাদের আপিলের সুযোগ রয়েছে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘কমিটির বিষয়ে কারো কোনো অভিযোগ থাকলে ধানমন্ডি ৩/এ তে নির্বাচনী ট্রাইবুনালে জমা দেয়া যাবে।’

কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলকে আরও পরিচ্ছন্ন, আধুনিক গণতান্ত্রিক এবং স্মার্টার দলে রূপান্তর করতে চাই । অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চার ভিতকে আরও মজবুত করতে আওয়ামী লীগ সচেষ্ট।’

আরও পড়ুন:
মনোযোগের কেন্দ্র বসুরহাট প্রস্তুত ভোটে
কারচুপির চেয়ে মৃত্যু ভালো: কাদেরের ভাই
আমাদের পাতি নেতাদেরও আমেরিকায় বাড়ি: কাদেরের ভাই

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সংসদ ভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা নুরের

সংসদ ভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা নুরের

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে শুক্রবার শাহবাগে মিছিল ও সমাবেশ করেছে কয়েকটি ছাত্র সংগঠন। ছবি: সাইফুল ইসলাম

নুরুল হক নুর বলেন, ‘২৬ মার্চের মধ্যে এই কালো আইন বাতিল না হলে কালো আইন তৈরির কারখানা সংসদ ভবন ঘেরাও হবে।’

২৬ মার্চের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল না হলে সংসদ ভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি লেখক মুশতাককে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে বিচার, ছাত্র-শ্রমিক ও রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে শুক্রবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে কয়েকটি ছাত্র সংগঠন আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে কালো আইন অভিহিত করে নুর বলেন, ‘২৬ মার্চের মধ্যে এই কালো আইন বাতিল না হলে কালো আইন তৈরির কারখানা সংসদ ভবন ঘেরাও হবে।’

এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আসারও সমালোচনা করেন নুর।

তিনি বলেন, ‘মোদিকে বাংলাদেশে এনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে তামাশা করবেন না। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে এটি অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠনের জন্য। মোদির মতো সাম্প্রদায়িককে এনে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করবেন না।’

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীম উদ্দীন খান।

তিনি বলেন, ‘এই রাষ্ট্র মাফিয়াদের রাষ্ট্র। এই মাফিয়াদের বিরুদ্ধে যেন আমরা কথা না বলতে পারি সেজন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এই আইন মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চায়।’

তানজীম আরও বলেন, ‘আজকে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের জন্য কেউ নেই। এজন্য সাধারণ মানুষের একতাবদ্ধ হওয়া জরুরি৷’

লেখক মুশতাকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদ মিছিল থেকে আটক সাত শিক্ষার্থীর মুক্তি সরকারের কাছে চান না বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক তানজীম উদ্দীন খান।

তিনি বলেন, ‘তাদের মুক্তি আমি এই মাফিয়া সরকারে কাছে চাই না। সাধারণ মানুষই তাদের মুক্ত করে আনবে। এই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাফিয়ামুক্ত একটি সমাজ আমরা প্রতিষ্ঠা করব।’

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত হন আটক ছাত্র আরাফাত সাদের বাবা গোলাম কিবরিয়া৷ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সংগীত পরিবেশন করে বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন আটক সাত শিক্ষার্থীর আইনজীবী আইনুন নাহার সিদ্দিকা লিপি, নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, ডক্টর ফর পিপলসের সংগঠক ডা. হারুনুর রশীদ, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি ফয়জুল হাকিম লালা, চলচ্চিত্র সমালোচক বিধান রিবেরু, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক অভিনু কিবরিয়া ইসলাম ও উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনওয়ার তপন।

আরও পড়ুন:
মনোযোগের কেন্দ্র বসুরহাট প্রস্তুত ভোটে
কারচুপির চেয়ে মৃত্যু ভালো: কাদেরের ভাই
আমাদের পাতি নেতাদেরও আমেরিকায় বাড়ি: কাদেরের ভাই

শেয়ার করুন

গণফোরামের আবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

গণফোরামের আবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন ও বহিষ্কৃত নেতা মোস্তফা মহসিন মন্টু (বাঁয়ে)। ফাইল ছবি

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আলাদা কর্মসূচি। ড. কামাল হোসেন সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। আলাদা দুটি সংগঠনের ব্যানারে পৃথক কর্মসূচিতে থাকবেন মোস্তফা মহসিন মন্টু।

আবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি রেখেছে গণফোরামের বিভক্ত দুটি অংশ। মাঝখানে মীমাংসার কথা বললেও শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে একই সময়ে কর্মসূচি ডেকেছে তারা।

এর আগে ১৭ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে গণফোরামের একপক্ষ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় কমিটি সভা করে। অপর অংশ সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুর নেতৃত্বে প্রেসক্লাবের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

শনিবারের কর্মসূচির ব্যাপারে গণফোরামের সদস্য এমপি মোকাব্বির খান নিউজবাংলাকে জানান, ড. কামাল হোসেন জাতীয় প্রেসক্লাবে ৩টায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন।

কী ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের কথা থাকবে, জাতীয় ইস্যুও থাকবে।’

দলে বিভক্তি মীমাংসার দিকে গিয়েছিল, এখন কী অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এলেই শুনতে পাবেন।’

এদিকে ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজ’ ও ‘যুব গণফেরাম’ নামে দুটি সংগঠন বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল ডেকেছে।

সংগঠনটির সদস্য সচিব মো. ইসমাইল সম্রাট নিউজবাংলাকে জানান, এ কর্মসূচিতে মোস্তফা মোহসীন মন্টু (গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক), অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এবং অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী উপস্থিত থাকবেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, কারা হেফাজতে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলে দাবিতে যুব গণফোরাম ও ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি ডাকা হয়েছে।

এ বিষয়ে গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যে কর্মসূচি ডাকা হয়েছে সেটা ছাত্র-যুবকদের। সেই প্রোগ্রামে যে কেউ থাকতে পারেন।’

তিনি থাকছেন কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘থাকতেও পারি, আবার না-ও থাকতে পারি।’

প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর পর গত অক্টোবরে বিভক্তি দেখা দেয় গণফোরামে। ১৮ অক্টোবর মোস্তফা মহসিন মন্টু, আওয়ামী লীগ থেকে আসা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, জগলুল হায়দার আফ্রিক, হেলালউদ্দিন, সুব্রত চৌধুরী, লতিফুল বারী হামিম, খান সিদ্দিকুর রহমান ও আব্দুল হাসিব চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয়।

মন্টুদের বাদ দিয়ে ১২ ডিসেম্বর কাউন্সিলের ঘোষণা দেয়া হয়, যাতে সায় ছিল ড. কামাল হোসেনের। মন্টুর নেতৃত্বে দলের কয়েকজন নেতা এ আদেশ না মেনে ২৬ ডিসেম্বর আলাদা কাউন্সিলের ঘোষণা দেন।

কাউন্সিলের দিন দলের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেনকে বাদ দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন বহিষ্কৃত নেতা মোস্তফা মহসিন মন্টুর নেতৃত্বাধীন নেতারা। তবে দুই পক্ষের কোনো কাউন্সিলই হয়নি। পরে মীমাংসার কথা শুনিয়েছিলেন দলটির দুই পক্ষই।

আরও পড়ুন:
মনোযোগের কেন্দ্র বসুরহাট প্রস্তুত ভোটে
কারচুপির চেয়ে মৃত্যু ভালো: কাদেরের ভাই
আমাদের পাতি নেতাদেরও আমেরিকায় বাড়ি: কাদেরের ভাই

শেয়ার করুন

বিএনপি ব্যর্থ: গয়েশ্বর

বিএনপি ব্যর্থ: গয়েশ্বর

আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি: নিউজবাংলা

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা মরব, না রক্ত দেব, না আমরা গণতন্ত্র উদ্ধার করব। এক যুগ পার হলো, হয়তো চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রতিশ্রুতি আমরা জাতির সামনে পূরণ করতে পারি নাই। এই সত্যটাকেই একটু বের করা দরকার কী কারণে পারি নাই? সে কারণগুলো আমাদের জ্ঞাত হওয়া দরকার। যে কারণে পারব, সে কারণগুলোই আমাদের সামনে আনা দরকার।’

এক যুগ পার হলেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বিএনপি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণতন্ত্র, গণমাধ্যম, গণকণ্ঠ অবরুদ্ধ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে?’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

‘আমরা মরব, না রক্ত দেব, না আমরা গণতন্ত্র উদ্ধার করব। এক যুগ পার হলো, হয়তো চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রতিশ্রুতি আমরা জাতির সামনে পূরণ করতে পারি নাই। এই সত্যটাকেই একটু বের করা দরকার কী কারণে পারি নাই? সে কারণগুলো আমাদের জ্ঞাত হওয়া দরকার। যে কারণে পারব, সে কারণগুলোই আমাদের সামনে আনা দরকার।’

তবে বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করেন, বিএনপি রাজপথে থাকুক বা না থাকুক বর্তমান সরকার আর টিকে থাকতে পারবে না।

‘আমরা রাজপথে নামি আর না নামি, সরকার (আওয়ামী লীগ সরকার) থাকবে না। কিন্তু বিএনপি জনগণের কাছে শিরোপা পাবে কি না, বাহবা পাবে কি না, সে কথাটা ভেবে বিএনপিকে আগামীর পথ চলতে হবে।’

‘আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে আমরা উদার গণতন্ত্রের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার একটা প্রচেষ্টা নিয়েছি। এটা করতে গিয়ে আমরা খালেদা জিয়াকে আড়াল করে ফেলেছি। এটা মানুষ বলে, ফেসবুকে লিখতেছে, আমাদের সমালোচনা করতেছে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলে সরকারের চেষ্টা প্রসঙ্গেও কথা বলেন গয়েশ্বর। বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের খেতাব কে দিল, কে দিল না, জিয়াউর রহমানকে কী বলল, কী বলল না, তাতে কিছু যায় আসে না। জিয়াউর রহমান জিয়াউর রহমানের জায়গায় আছেন, জিয়াউর রহমানের জায়গায় থাকবেন।’

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ‘ওরা (আওয়ামী লীগ) মাঝে মধ্যে আমাদের সংবেদনশীল জায়গায় স্পর্শ করবে, আঘাত করবে। আর সেটা নিয়ে যদি আমরা ব্যস্ত হই তাহলে তারা আরামে দিন কাটাবে। গত ১২-১৩ বছর আমরা এমনই দেখেছি।

‘আওয়ামী লীগের যে চরিত্র, আওয়ামী লীগ যা চায়, তা আওয়ামী লীগের জন্য। আর মানুষ মানুষের জন্য। আওয়ামী লীগ মানুষের জন্য না। কারণ আওয়ামী লীগকে মানুষের সংজ্ঞায় ফেলান যায় না। সেই ক্ষেত্রে ওরা সফল।’

গয়েশ্বরের দাবি, পত্রিকা বন্ধ করা, সাংবাদিক পেটান, চুরিচামারি, মানুষের সম্পত্তি দখল, শিশু-নারী নির্যাতন, ব্যাংক ডাকাতি, ছিনতাই করা আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আয়োজক সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাহেদুল ইসলাম লরেনসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
মনোযোগের কেন্দ্র বসুরহাট প্রস্তুত ভোটে
কারচুপির চেয়ে মৃত্যু ভালো: কাদেরের ভাই
আমাদের পাতি নেতাদেরও আমেরিকায় বাড়ি: কাদেরের ভাই

শেয়ার করুন

পাথরঘাটায় আ. লীগের ৮ কমিটি স্থগিত

পাথরঘাটায় আ. লীগের ৮ কমিটি স্থগিত

বুধবার দুপুরে সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাংশ সংবাদ সম্মেলন করে। ছবি: নিউজবাংলা

‘টাকা লেনদেন, রাজাকারের সন্তানকে পদ দেয়া, ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত ও অরাজনৈতিকদের পদস্থ করার লিখিত অভিযোগ এসেছিল। নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত আগের কমিটি দায়িত্ব পালন করবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়।’

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সাত ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার আওয়ামী লীগ কমিটি স্থগিত করেছে জেলা কমিটি।

জেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

কমিটি স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতালেব মৃধা।

তিনি জানান, সদ্য ঘোষিত পাথরঘাটা উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও পাথরঘাটা পৌরসভার কমিটি নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কাছে লিখিত অভিযোগ এসেছিল। অভিযোগের কারণে বিশেষ সভা ডেকে কমিটিগুলো স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, ‘টাকা লেনদেন, রাজাকারের সন্তানকে পদ দেয়া, ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত ও অরাজনৈতিকদের পদস্থ করার লিখিত অভিযোগ এসেছিল।

‘নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত আগের কমিটি দায়িত্ব পালন করবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়। এসব সিদ্ধান্ত কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট উপজেলায় চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়া হবে।’

গত বছর অক্টোবরে পাথরঘাটা উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার সম্মেলন হয়। এর পাঁচ মাস পর গত মঙ্গলবার রাতে পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভা শেষে ওই আট শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা হয়।

কমিটি ঘোষণার পর দিন বুধবার দুপুরে সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাংশ সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে সদর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খানকে রাজাকারের সন্তান দাবি করেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শাকিল আহমেদ শিবু।

এ ছাড়াও কাকচিড়া ইউনিয়নে চাল আত্মসাতের অভিযোগে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত আলাউদ্দীন পল্টুকে সভাপতি ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে ওইসব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাবির হোসেন বলেন, ‘কমিটি স্থগিতের বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো কোনো কাগজ পাইনি।’

বিতর্কিতদের কমিটিতে রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এরা আগেও তো কমিটিতে ছিল, তখন তো কেউ অভিযোগ করেনি।’

আরও পড়ুন:
মনোযোগের কেন্দ্র বসুরহাট প্রস্তুত ভোটে
কারচুপির চেয়ে মৃত্যু ভালো: কাদেরের ভাই
আমাদের পাতি নেতাদেরও আমেরিকায় বাড়ি: কাদেরের ভাই

শেয়ার করুন

রাষ্ট্রীয় হত্যার শিকার মুশতাক: ফখরুল

রাষ্ট্রীয় হত্যার শিকার মুশতাক: ফখরুল

বৃহস্পতিবার সকালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে মির্জা ফখরুল বক্তব্য রাখেন।

ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে গ্রেপ্তার সব রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

মুশতাক আহমেদ রাষ্ট্রীয় হত্যার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার সকালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি, লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যু ও নোয়াখালীর বশিরহাটে ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে স্থানীয় সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মোজাক্কির হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে মির্জা ফখরুল এমন অভিযোগ করেন।

কারাগারে মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর বিষয়ে সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর বিএনপি মহাসচিব এমনটি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘লেখক মুশতাক আহমেদকে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে গ্রেপ্তার করে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রেখে হত্যা করা হয়েছে। আমরা প্রথমেই বলেছিলাম, এই হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রীয়ভাবে হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছি।'

ফখরুল বলেন, ‘শুধু একটি নয়, এই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে প্রায় ৭০০ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আপনারা দেখেছেন, ইতিপূর্বেও শুধু সরকারের সমালোচনা করে কার্টুন বা লেখার কারণে পাঁচ বছরের শিশু থেকে শুরু করে গৃহবধূকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়েছেন আমাদের সাংবাদিকরা।’

‘এই সরকার সম্পূর্ণ একটা অবৈধ সরকার, অনির্বাচিত সরকার। তাদেরকে জোর করেই ক্ষমতায় টিকে থাকতে হচ্ছে এবং টিকে থাকার জন্য এই ধরনের সম্পূর্ণ গণবিরোধী আইন তৈরি করছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো এমন সব আইনের মাধ্যমে তারা জনগণের কথা বলার অধিকার, বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে’

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে গ্রেপ্তার সব রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আটক করে রাখা হয়েছে। তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়া হোক। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ যাদেরকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে, সেই সাজা প্রত্যাহার করতে হবে। সব মামলা তুলে নিতে হবে। ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা আছে তা প্রত্যাহার করতে হবে।’

‘অবিলম্বে পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মুশতাকের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পন্ড করে দেয়ার পর এটি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির কোনো অঙ্গসংগঠনের প্রথম কর্মসূচি।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আজকে রাস্তায় রাস্তায় আমাদের নেতা-কর্মীদের বাধা দেয়া হয়েছে। আমার চোখের সামনে আমি দেখেছি কীভাবে নেতা-কর্মীদের পুলিশ বাধা দিচ্ছে। আমি পুলিশের কাছে গেলাম পরিচয় দিলাম। আমরা দু:খ লাগে, দেশ থেকে আদব-কায়দা সব উঠে গেছে নাকি।’

যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসানের পরিচালনায় সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোরতাজুল করীম বাদরু, সহসভাপতি আবদুল খালেক হাওলাদার, মোনায়েম মুন্না, কেন্দ্রীয় নেতা এসএম জাহাঙ্গীর, রফিকুল আলম মজনু, নুরুল ইসলাম নয়ন, গোলাম মাওলা শাহিনসহ অন্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।

সকাল ১০টায় সমাবেশ শুরু হয়ে ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে সমাবেশ শেষ হলে দ্রুত নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থল ছেড়ে যান। বিএনপির আমান উল্লাহ আমান ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থেকে নেতা-কর্মীদের চলে যেতে বলেন।

আরও পড়ুন:
মনোযোগের কেন্দ্র বসুরহাট প্রস্তুত ভোটে
কারচুপির চেয়ে মৃত্যু ভালো: কাদেরের ভাই
আমাদের পাতি নেতাদেরও আমেরিকায় বাড়ি: কাদেরের ভাই

শেয়ার করুন

বিএনপির বুদ্ধি আছে কি না জানি না: জাফরুল্লাহ

বিএনপির বুদ্ধি আছে কি না জানি না: জাফরুল্লাহ

কেন্দ্রীয় শহীদমিনারে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় সেনাবাহিনীর একটি দল। এইচ টি ইমামের শ্রদ্ধা জানাতে যান বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

‘তাদের (বিএনপির) দেখার মতো এত বুদ্ধি আছে কি না আমি জানি না। তিনি একজন ভালো আমলা, মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান ছিল। ভিন্নমত থাকলেও তার ব্যবহার ছিল মধুর। বিএনপি তাকে ব্যবহার করতে পারেনি, এটা বিএনপির ভুল। খোদা তাকে বেহেশতে নিক বা বিচার করুক গণতন্ত্র হত্যার জন্য, এটা খোদার ব্যাপার।’

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে ব্যবহার করতে না পারায় বিএনপির সমালোচনা করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারবিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়া এই বুদ্ধিজীবী বিএনপির বুদ্ধি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।

বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান এইচ টি ইমাম। দুপুরের পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহ নেয়া হয়।

সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় সেনাবাহিনীর একটি দল। শ্রদ্ধা জানাতে যান বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক কর্মীরা। শ্রদ্ধা জানাতে যান ঐক্যফ্রন্টের নেতা জাফরুল্লাহ চৌধুরীও।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার মৃত্যুকে বিএনপি কীভাবে দেখে জানতে চাইলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘তাদের দেখার মতো এত বুদ্ধি আছে কি না আমি জানি না। তিনি একজন ভালো আমলা, মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান ছিল।

‘ভিন্নমত থাকলেও তার ব্যবহার ছিল মধুর। বিএনপি তাকে ব্যবহার করতে পারেনি, এটা বিএনপির ভুল। খোদা তাকে বেহেশতে নিক বা বিচার করুক গণতন্ত্র হত্যার জন্য, এটা খোদার ব্যাপার।’

এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতি দিয়েছে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য আসেনি।

15
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এইচ টি ইমামের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন ইমাম। তিনি পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারে যোগ দেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকার গঠনে তার একটি অবস্থান রয়েছে। পরবর্তীতে, আমলারা যে পাত্রে যান সে পাত্রের আকার ধারণ করে।

‘তার সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় কর্মক্ষমতা হলো আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা। এটাকে যে যেভাবেই দেখুক, আজকে গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে আমলাতন্ত্র দ্বারা, সব পরিকল্পনাই তার। আমি তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই, তাকে শ্রদ্ধা জানাই।’

মৃত্যুর পর এইচ টি ইমামের মরদেহ প্রথমে নেয়া হয় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় গ্রামের বাড়িতে। সেখানে প্রথম জানাজার পর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আনা হয় ঢাকায়।

বিকেলে আসরের নামাজের পরে গুলশানের আজাদ মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম এই অংশীদারকে।

এইচ টি ইমাম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতাসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

আরও পড়ুন:
মনোযোগের কেন্দ্র বসুরহাট প্রস্তুত ভোটে
কারচুপির চেয়ে মৃত্যু ভালো: কাদেরের ভাই
আমাদের পাতি নেতাদেরও আমেরিকায় বাড়ি: কাদেরের ভাই

শেয়ার করুন

এইচ টি ইমাম কাজ থেকে অবসর নেননি: কাদের

এইচ টি ইমাম কাজ থেকে অবসর নেননি: কাদের

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এইচ টি ইমামের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সব স্তরের মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

কাদের বলেন, এইচ টি ইমাম দেশের জন্য অনেক কাজ করে গেছেন৷ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি দেশের জন্য কাজ করে গেছেন৷ তার মতো কাজপাগল সমাজে বিরল।

এইচ টি ইমাম চাকরি থেকে অবসর নিলেও কাজ থেকে কখনো অবসরে যাননি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের৷

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৃহস্পতিবার দুপুরে এইচ টি ইমামের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

কাদের বলেন, এইচটি ইমাম হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশের জন্য কাজ করে গেছেন৷ তার মতো কাজপাগল সমাজে বিরল। তার মৃত্যুতে যে শূন্যস্থান তৈরি হলো তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়৷

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশে ছিলেন এইচ টি ইমাম৷ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তার কন্যা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি আমাদের দলের প্রচার সেলের প্রধান ছিলেন৷’

বেলা দেড়টায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের মরদেহ নেয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

প্রথমেই তার কফিনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতির পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী শ্রদ্ধা জানান।

পরে আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মুকুল বোস, জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফসহ অনেকে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস৷

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘এইচ টি ইমাম জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন। তিনি যত দিন সক্রিয় ছিলেন দেশের জন্য কাজ করেছেন৷

‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকার কথা আমরা সবাই জানি৷ মুক্তিযুদ্ধের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকারের জন্য তিনি কাজ করেছেন৷ তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি৷’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, তার মৃত্যুতে দেশ একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হারাল।

বুধবার রাত সোয়া ১টায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিব এইচ টি ইমাম৷

সকালে হেলিকপ্টারে তার মরদেহ নেয়া হয় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। সেখানে আকবর আলী সরকারি কলেজ মাঠে হয় প্রথম জানাজা৷

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গুলশানের আজাদ মসজিদে হবে তার দ্বিতীয় জানাজা। পরে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

আরও পড়ুন:
মনোযোগের কেন্দ্র বসুরহাট প্রস্তুত ভোটে
কারচুপির চেয়ে মৃত্যু ভালো: কাদেরের ভাই
আমাদের পাতি নেতাদেরও আমেরিকায় বাড়ি: কাদেরের ভাই

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg