পাহাড় পর্বতের মতো তারেকের সততা দেখা যায়: রিজভী

বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তির মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিচার শুরু ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

পাহাড় পর্বতের মতো তারেকের সততা দেখা যায়: রিজভী

‘আজ ১২ বছর ক্ষমতায়। তারপরেও তারেক রহমানের নামে এই মিথ্যার প্রমাণ করতে পারেননি। গোটা পৃথিবীতে যেমন পাহাড়-পর্বত আকাশ পরিস্কারভাবে দেখা যায় তেমনি তারেক রহমানের সততা দেখা যায়।’

বিরোধী দলে থাকতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুললেও তার কিছুই প্রমাণ হয়নি বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী।

দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ কোটি টাকা জরিমানা ও গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া নেতার সততা দৃশ্যমান বলেও দাবি করেছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তির মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিচার শুরু ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতিবাদে বুধবার রাজধানীতে এক মানববন্ধনে এ কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় হাসিনা আপনি বলেননি তারেক রহমানের মালয়েশিয়াতে কারখানা আছে? কই অবৈধভাবে ১২ বছর ক্ষমতায় আছেন। আপনার এত গুন্ডা বাহিনী, এত কিছু। তারেক রহমানের কারখানা মিল-কারখানা কই?

‘আপনি তো সেই কারখানার কোনো ছবি দেখাতে পারলেন না। আপনি এগুলো মিথ্যা কথা বলেছেন। কিন্তু এখন জনগণ জানে।’

তিনি বলেন, ‘আজ ১২ বছর ক্ষমতায়। তারপরেও তারেক রহমানের নামে এই মিথ্যার প্রমাণ করতে পারেননি। গোটা পৃথিবীতে যেমন পাহাড়-পর্বত আকাশ পরিস্কারভাবে দেখা যায় তেমনি তারেক রহমানের সততা দেখা যায়।

২০১৬ সালের ২১ জুলাই বিচারিক আদালতের খালাসের রায় বাতিল করে তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ডের আদেশে দেয় হাইকোর্ট। পাশাপাশি ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।

দুই বছর পর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তারেকের দণ্ড হয় ১০ বছর। এই মামলায় সাজা হয়েছে তার মা বেগম খালেদা জিয়ারও। বিচারিক আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিলেও উচ্চ আদালত সাজা দ্বিগুণ করেছে। দুই বছরের বেশি সাজা ভোগের পর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় গত মার্চে তিনি সাময়িক মুক্তি পান।

তারেকের বিরুদ্ধে তৃতীয় সাজার রায় আসে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায়। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর এই রায়ে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পরের বছর প্যারোলে মুক্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। জামিনের মেয়াদ শেষ হলেও তিনি দেশে ফেরেননি।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হলে তারেককে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করে বিএনপি।

তারেকের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু মামলা রয়েছে, যার একটিতে গত ৭ জানুয়ারি বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে নোয়াখালীর একটি আদালত। সেই সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তারে জারি হয় পরোয়ানা।

২০১৪ সালে যুক্তরাজ্যে এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে পাকবন্ধু, রাজাকার আখ্যা দিয়েছিলেন তারেক রহমান। সে সময় দেশের বেশ কিছু জেলায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এমন একটি মামলায় সম্প্রতি নোয়াখালীর একটি আদালত তারেকের বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

আদালতের এই আদেশের পর বিএনপি দেশ জুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করছে।

রিজভীর অভিযোগ, জিয়া পরিবারের প্রতি সরকার প্রতিহিংসা দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার একটাই কথা, প্রধানমন্ত্রীর এত প্রতি হিংসা কেন জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে? … বাজপাখির মতো ঈগলের মতো প্রতিহিংসার পাখা ওনারা ঝটপট ঝটপট করে সব সময়।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে সত্য থাকতে পারে না। এখন সত্য গেছে কবরে। মিথ্যার চাষাবাদ হচ্ছে।’

রিজভী বলেন, ‘বিএনপি আমলে হাসিনা এত বড় মিথ্যা কথা বলেছে। অথচ শেখ হাসিনার আমলে জয়ের বিরুদ্ধে একটি সত্যিকারের রিপোর্ট করেছিলেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক শফিকুর রেহমান। একটি রিপোর্টের জন্য তাকে জেল খাটতে হয়েছে। রিমান্ডের নামে অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে।

‘অথচ বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে শেখ হাসিনা তারেক রহমানের নামে অহরহ মিথ্যা বলেছেন। বিএনপি কত সহনশীল গণতন্ত্রকামী শেখ হাসিনার নামে কোনো মামলা করেনি।’

মামলা-হামলা করে সরকার বিএনপিতে থামাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। বলেন, ‘এত গুম, খুন, মামলা করলো তারপরেও বিএনপি নেতারা পিঁপড়ার মতো গর্ত থেকে বের হয়ে আসছে।’

মানববন্ধনে বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘মামলা গলার মালা। … বলতে চাই হাসিনার আমলে বিএনপির মাথায় হচ্ছে গুম। আর মামলা হচ্ছে গলার মালা।’

বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাগুলো সব অসার দাবি করে একটি উদাহরণও দেন আলাল।

তিনি বলেন, ‘মঈন উদ্দিন আহমেদ সেনাবাহিনীর প্রধান। সরকারি চাকরি করেন। প্রেস কনফারেন্স করে বললেন, তারেক রহমান হাওয়া ভবন বিদ্যুৎ খাত থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে।

‘পরে জানা গেল পাঁচ বছরে বাজেট ছিল ১৩ হাজার কোটি টাকা। একটা গুরুত্বপূর্ণ পদে সেনাবাহিনীর প্রধান এত বড় মিথ্যা কথা বললেন। উনি তো আওয়ামী লীগের চেতনায় রঞ্জিত ছিলেন। হাসিনার চেতনায় রঞ্জিত ছিলেন।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
টিকা আসবে না, লুট হবে ছয় হাজার কোটি টাকা: রিজভী
সাতক্ষীরায় দুর্ঘটনার কবলে রিজভী
জাতীয় নির্বাচন বাতিল দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ বুধবার

শেয়ার করুন

মন্তব্য