ফখরুল হাছানদের মুখে মুখে ক্যাপিটল হিল কাণ্ড

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

ফখরুল হাছানদের মুখে মুখে ক্যাপিটল হিল কাণ্ড

দেশটির কংগ্রেসের ক্যাপিটল হিল ভবনে ট্রাম্প সমর্থকদের চালানো তাণ্ডবের সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের নেতারাই। দুই পক্ষই বলছেন, ট্রাম্পের সহিংসতার চেষ্টার পরেও জয়ী হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল পাল্টে দিতে ডনাল্ড ট্রাম্পের চেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার পর আলোচনা শুরু হয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও। দেশটির কংগ্রেসের ক্যাপিটল হিল ভবনে ট্রাম্প সমর্থকদের চালানো তাণ্ডবের সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের নেতারাই।

দুই পক্ষই বলছেন, ট্রাম্পের সহিংসতার চেষ্টার পরেও জয়ী হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের পর ক্যাপিটল ভবনে তাণ্ডব নিয়ে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ক্যাপিটল-হিল-NB

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দলটি আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে ফখরুল বলেন, ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনে হেরে গিয়েও একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জোর করে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমেরিকার প্রতিষ্ঠানগুলো, তাদের বিচার বিভাগ, পার্লামেন্ট ট্রাম্পের অপচেষ্টাকে কঠোরভাবে দমন করার কারণেই আজকে আমেরিকায় গণতন্ত্র ধ্বংস করতে পারেনি। সেখানে গণতন্ত্রের জয় হয়েছে।’

রোববার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে একই রকম মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ। তিনি আশা প্রকাশ করেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটাল হিলে হামলার ঘটনাকে ‘ইতিহাসের জন্য কলঙ্ক’ বলেও অভিহিত করেন তথ্যমন্ত্রী।

capitol-hill-NB

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাপিটাল হিলে যে ঘটনাটি ঘটেছে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।’

যুক্তরাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে আশা করে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের যে যাত্রা, সেটা অব্যাহত থাকবে। যেটি ক্যাপিটাল হিলে হামলার পরও সেখানে অব্যাহত থেকেছে।’

৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জয় লাভ করেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে আসছিলেন নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে।

নির্বাচনের বাইডেনের জয় আটকাতে মামলাও করেছিল ট্রাম্পের প্রচার শিবির। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মামলাগুলো খারিজ করে দেয়। এরপরেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে জয়ী দাবি করে আসছিলেন ট্রাম্প।

৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণার তারিখ ছিল। ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া ট্রাম্প সমর্থকদের কংগ্রেসে অবস্থান নিতে আহ্বান জানান। এ দিন তার ডাকে সাড়া দিয়ে ক্যাপিটল হিল ভবনে অনুপ্রবেশ করে সমর্থকরা। এ সময় সংঘর্ষে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচ জন নিহত হন।

তবে ট্রাম্পের শেষ রক্ষা হয়নি। ওই দিনই নিয়মতান্ত্রিকভাবে জো বাইডেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির কংগ্রেস।

২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন জো বাইডেন।

আরও পড়ুন:
ট্রাম্পকে অভিশংসনে ডেমোক্র্যাটরা প্রস্তুত
শেষ ১৩ দিন কি টিকবেন ট্রাম্প
হারলে সহিংসতায় জড়ায় ডেমোক্র্যাটরাও

শেয়ার করুন

মন্তব্য