এরশাদ সরকারের পতনের পর জাতীয় পার্টি যেসব সংসদীয় আসন এখনও ধরে রেখেছে তার একটি কুড়িগ্রাম সদর। তবে এবার পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী পায়নি দলটি।
ভোটে লড়াই না করার কারণ জানতে চাইলে জাতীয় পার্টি কুড়িগ্রাম জেলার সাবেক সদস্য সচিব রেজাউল করিম রেজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখানে আসলে আমাদের আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীর সমস্যা ছিল। আমরা আগ্রহী প্রার্থীই পাচ্ছিলাম না। নির্বাচনে দাঁড়াতে কেউ আগ্রহী ছিল না।’
সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুরের বদরগঞ্জ অবশ্য হাতছাড়া হয়ে গেছে আগেই। জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে কেবল সদর ও গঙ্গাচড়া আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে।
গত ২৮ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপে এই বদরগঞ্জেও প্রার্থী ছিল না জাতীয় পার্টির।
রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নির্বাচনে আমাদের যারা প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন, তারা জয়ের বিষয়ে আশাবাদী ছিলেন না। এ কারণে আমরা ওখানে প্রার্থী দেইনি।’
রংপুরে এই অবস্থা কেন হলো আপনাদের- এমন প্রশ্নে জাপা নেতা বলেন, ‘আমাদের অভ্যন্তরীণ কিছু কোন্দল আছে, ওখানে দুইটা গ্রুপ আছে। এটাও একটা সমস্যা।’
পৌর নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সংকটের বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতাদের সাম্প্রতিক নানা বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি বেমানান।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের গত দুই মাসে যতগুলো আলোচনায় বক্তব্য রেখেছেন, সবগুলোতে তার দাবি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে জনগণ জাতীয় পার্টিকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিতে চায়।
কিন্তু বাস্তবতা বলছে উল্টো কথা।
সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বৃহত্তর রংপুরের ২৪টি আসনের মধ্যে নীলফামারী জেলা ছাড়া সব আসন ধরে রাখে জাতীয় পার্টি।
তবে ১৯৯৬ সাল থেকেই আওয়ামী লীগ আসনগুলো দখলে নিতে শুরু করে। মাঝে জামায়াতে ইসলামীও নীলফামারীর একটি আসনে দুইবার জিতেছে। তবে গত দুটি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ছাড়ে এই জেলার দুটি আসন জিতেছে জাতীয় পার্টি।
এখন রংপুরে দুটি, কুড়িগ্রামে একটি, গাইবান্ধায় একটি এবং লালমনিরহাটে একটি আসন আছে জাতীয় পার্টির।
কুড়িগ্রামে চারটি আসনের মধ্যে জাতীয় পার্টির দখলে কেবল সদর আসন।
বৃহত্তর রংপুরেরই যখন শক্তি ক্ষয়িষ্ণু, তখন অন্য এলাকাতেও পরিস্থিতি উল্টো হওয়ার কথা নয়। হয়েছে তাই। কুমিল্লা-১১ আসনে দলের ভোট এখন নগণ্য, কিশোরগঞ্জ সদর আসনেও প্রার্থী থাকে না, আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে জিততে হয় কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে। বৃহত্তর সিলেটেও এখন নিজের শক্তিতে জিতে আসা দলটির জন্য কঠিন।
জাতীয় পার্টিতে নেতার অভাব নেই। সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের আকার ঢাউস, সদস্য সংখ্যা ৪১ জন।
সংসদ নির্বাচন এলেই তারা শতাধিক আসন দাবি করে আওয়ামী লীগের কাছে। কিন্তু তিন দফায় ১৫০টি পৌরসভায় তারা ৫০ জন নেতাও পেলেন না, যারা প্রার্থী হতে ইচ্ছুক।
জাতীয় পার্টির যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম নিউজবাংলাকে জানান, পৌরসভা নির্বাচনে তিন ধাপে তারা ৩২ জন মেয়র প্রার্থী দিয়েছেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ২৪ পৌরসভায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিল চারটিতে। তারা হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে তৈয়ব আলী, সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুরে মোক্তার হোসেন, নেত্রকোণার মদনে ক্ষুদিরাম দাস, সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভায় অনন্ত মল্লিক।
এদের মধ্যে তৈয়ব ভোট পেয়েছেন ৪২২টি। মোক্তারের ভোট ২৩৮, ক্ষুদিরাম দাসের ১১৫ এবং অনন্ত মল্লিক ভোট পান ৩৯৭টি। এদের সবার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনে ৬১ পৌরসভায় ভোট আগামী ১৬ জানুয়ারি। প্রথম ধাপের তুলনায় এবার লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী বেশি। ১৪টিতে লড়াই করছে দল।
প্রার্থীরা হলেন: শরীয়তপুরে সাহিদ সরকার, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আব্দুর রশিদ রেজা, নীলফামারীর সৈয়দপুরে সিদ্দিকুল আলম, দিনাজপুর পৌরসভায় আহমেদ শফি রুবেল, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে নুরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জের তারাবে জয়নাল আবেদীন চৌধুরী, বান্দরবানের লামায় এ টি এম শহীদুল ইসলাম, মাগুরায় হাসান সিরাজ, খাগড়াছড়িতে ফিরোজ আহমেদ, ফেনীর দাগনভূঁইয়ায় বিনোদ বিহারী ভৌমিক, নাটোর গুরুদাসপুরে রায়হান শাহ, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে আব্দুর রহমান মিয়া, ঝিনাইদাহের শৈলকূপায় আবু জাফর ও সিরাজগঞ্জ রায়গঞ্জে আনোয়ার হোসেন আকন্দ।
এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ, সৈয়দপুর, দিনাজপুর, নাগেশ্বরী ছাড়া আর কোথাও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা নেই। এমনকি ভোটের প্রচারেও খুব বেশি নেই তারা।
তৃতীয় ধাপে ৩০ জানুয়ারি ৬৪ পৌরসভার মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর আছে ১২টিতে। এদের মধ্যে কিশোরগঞ্জ কটিয়াদীতে আলাউদ্দিন আহমেদ, নীলফামারী জলঢাকায় আফরোজা পারভীন, শরীয়তপুরের নড়িয়ায় নীরব ব্যাপারী, বরগুনায় আব্দুল জলিল হাওলাদার, নওগাঁয় ইফতারুল ইসলাম বকুল, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মোহাম্মদ মহসিন, নোয়াখালীর হাতিয়ায় আবু জাফর মুহাম্মদ নাসিম, সিলেটের জকিগঞ্জে আব্দুল মালেক ফারুক, সিলেটের গোলাপগঞ্জে জমির উদ্দিন আহমেদ, ফেনী সদরে ইয়াসিন হাসান ইমন, নোয়াখালীর চৌমুহনীতে সাহাব উদ্দিন ও কুমিল্লার লাকসামে আবদুল হান্নানকে লাঙ্গল তুলে দিয়েছে জাতীয় পার্টি।
এসব এলাকার মধ্যে জলঢাকা ছাড়া অন্য কোথাও জাতীয় পার্টির শক্তি নেই বললেই চলে।
প্রথম ধাপে পঞ্চগড় পৌরসভায় প্রার্থী না দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি রেজাউল করিম রেজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসলে নির্বাচনে জিতে আসার জন্য প্রার্থী আমাদের ছিল না। নির্বাচনে আগ্রহী ছিল না কেউ। একারণে মনোনয়ন দেইনি।’
দ্বিতীয় ধাপে বগুড়ার শেরপুর, সারিয়াকান্দি ও সান্তাহার পৌরসভায় প্রার্থী দেয়নি জাতীয় পার্টি।
সান্তাহারের (বগুড়া-৩) সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম তালুকদার। সংসদ সদস্য থাকার পরেও পৌর নির্বাচনে প্রার্থী নেই কেন- জানতে চাইলে বগুড়া জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব নূরুল ইসলাম ওমর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কেউ প্রার্থী হননি, তাই আমরা দেইনি। নির্বাচন কেউ করতে চাননি। এখন কি আমরা জোর করে প্রার্থী দেব?’
বাকি পৌরসভাগুলোতে প্রার্থী না দেয়ার বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল করিম ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কথা বলতে চাই না। আর আমাদের কথা বলা নিষেধ আছে। এ বিষয়ে পার্টির মুখপাত্র হিসেবে চেয়ারম্যান, মহাসচিব যাকে অথরাইজ করেছেন শুধু তিনি বলবেন।‘
দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এস এম ফয়সাল চিশতী বলেন, ‘নির্বাচনের প্রতি আস্থাহীনতার কারণেই আমাদের প্রার্থী সংকট রয়েছে। এ কারণে নির্বাচনে যারা সম্ভব্য প্রার্থী হতে পারত, তারা এগিয়ে আসছে না।
‘আমাদের প্রার্থী হতে ইচ্ছুকের অভাব নেই। কিন্তু নির্বাচনে প্রার্থী না আসার কারণ হলো তাদের কোনো আস্থা নেই।’
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ উপহার পাঠিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যেকের জন্য ১০ কেজি ওজনের একটি করে সুদৃশ্য উপহার প্যাকেট পাঠানো হয়েছে। স্পিকার থেকে শুরু করে সংসদের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছেও এই উপহারগুলো সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) সকাল থেকেই সংসদ ভবনের করিডোরগুলোতে এই ১০ কেজির প্যাকেটে কী আছে, তা নিয়ে তীব্র কৌতূহল দেখা দেয়। পরবর্তীতে সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে জানা যায়, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পাঠানো এই সুদৃশ্য প্যাকেটে ছিল মূলত চলতি মৌসুমের প্রিমিয়াম কোয়ালিটির সুস্বাদু আম।
অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সংসদের প্রতিটি দপ্তরে গিয়ে এই উপহার পৌঁছে দেন।
বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা জানান, এই উপহার বিতরণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অনন্য দিক ছিল এর সমবণ্টন নীতি, যার ফলে সংসদের কোনো স্তরের মানুষই এই তালিকা থেকে বাদ যাননি।
সাধারণত দেখা যায় ভিআইপি বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাই বিভিন্ন ধরনের উপহার পেয়ে থাকেন, কিন্তু ড. শফিকুর রহমানের এই বিশেষ উপহার তালিকায় সংসদের ঝাড়ুদার, পিয়ন, লিফটম্যান ও গাড়িচালকরাও সমভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
আকস্মিক এই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সংসদ সচিবালয়ের একজন সাধারণ অফিস সহায়ক বলেন যে, তাঁরা ছোট চাকরি করার কারণে বড় বড় নেতাদের উপহার বা সুযোগ-সুবিধা কেবল দূর থেকেই দেখে অভ্যস্ত। আজ বিরোধীদলীয় নেতা নিজে তাঁদের মতো সাধারণ কর্মচারীদের কথা মনে করে ১০ কেজির এই উপহার পাঠিয়েছেন, যা তাঁদের জন্য অত্যন্ত বড় সম্মানের ও আনন্দের বিষয়।
বাংলাদেশের চেনা ও ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি ও বিরোধীদলের সম্পর্কের বরফ যেখানে সহজে গলতে চায় না এবং দলগুলোর মধ্যে তীব্র দূরত্ব বজায় থাকে, সেখানে জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমানের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সরকারি দলের অনেক সংসদ সদস্যও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুস্থ ধারা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।
সোমবার (২২ জুন) সংসদ অধিবেশনে বক্তব্যকালে জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যে দলটি ১৯৭১ সালে এদেশের মহান স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল এবং বাংলাদেশের সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিল, তারা এই স্বাধীন দেশে রাজনীতি করতে পারে না।
তিনি সংসদের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্টদের মতো জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিও বাংলাদেশে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হোক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম জামাল আরও বলেন, শুধু নামের পরে ইসলাম থাকলেই প্রকৃত ইসলাম হয় না। যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করেন এবং গত নির্বাচনে ভোটের বিনিময়ে মানুষকে বেহেশত দেওয়ার মতো কথা বলেছেন, তাদের কর্মকাণ্ড সবাই দেখেছে।
নির্বাচনী প্রচারণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিড়ির সুখটানের মধ্য দিয়েও সকল পাপ মওকুফ হওয়া যাবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এভাবে ইসলামের নামে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য নিয়ে যারা রাজনীতি করছে, তারা মূলত স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি। উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারের সময় ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হক মন্তব্য করেছিলেন যে বিড়িতে সুখটানের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারেন, যে কারণে পরবর্তীতে জামায়াত তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছিল।
একই অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ পবিত্র মসজিদ ও মাদ্রাসায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানান।
তিনি বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর এবং সেখানে মানুষ কেবল নামাজ ও কোরআন শরিফ পড়বে, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল মসজিদে গিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
তিনি দেশের কোনো মসজিদ বা মাদ্রাসায় যেন রাজনৈতিক মিটিং করা না যায়, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।
জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে রেজা আহমেদ আরও বলেন, অন্য সব রাজনৈতিক দল যেভাবে প্রকাশ্যে মাঠে, স্কুলে বা কোনো হলরুমে কর্মীসভা ও জনসভা করে, তাদেরও ঠিক সেই ব্যবস্থা করতে হবে এবং পবিত্র মসজিদে বসে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সভা তারা করতে পারবে না।
ছবি: সংগৃহীত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের শাসনমলে সংঘটিত সকল গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী ২৩ জুন মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় একযোগে দেশের সকল জেলা ও মহানগর পর্যায়ে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। সোমবার (২২ জুন) এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দীনা স্বাক্ষরিত এক জরুরি নির্দেশনার মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাতে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড, গুম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চালানো গণহত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। সংগঠনের সকল জেলা ও মহানগর কমিটিকে নিজ নিজ এলাকায় নির্ধারিত সময়ে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সফল করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এনসিপি নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, গত দেড় দশকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথের আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না।
দলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের আপস করবে না। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় এবং বিগত সরকারের দুঃশাসনের শিকার ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতেই এই ধারাবাহিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজপথে থেকে তাদের অতীত অপকর্মের বিচারের দাবি জোরালো করাই এই বিক্ষোভের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজপথে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় জোটের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। সোমবার মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির এক বৈঠক শেষে এই কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে গণমাধ্যম।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণহত্যার বিচার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা, গত সরকারের আমলে হওয়া গুম ও খুনের বিচার নিশ্চিত করা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তবে জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কোনো ঝটিকা মিছিল বা শোডাউন করতে না পারে, তা ‘ঠেকাতে’ এবং রাজপথ নিজেদের দখলে রাখতেই মূলত এই কৌশলগত কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বিজয়নগরে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং আগামী ৪ জুলাই সারাদেশের জেলা শহরগুলোতে মিছিল ও সমাবেশ পালন করবে জোটটি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে এই বিচার শেষ করে দোষীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।” আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কর্মসূচি পালন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, এটি একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি এবং কোনো নিষিদ্ধ দলের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করার দায়িত্ব সরকারের।
অন্যদিকে, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের সমালোচনা করে অবিলম্বে দুর্নীতির অবসানের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষায় আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের বিশেষ কর্মসূচি পালন করবে এই ১১ দলীয় জোট। এই কর্মসূচির চূড়ান্ত রূপরেখা আগামী ২৫ জুন বৈঠকের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। ছবি: সংগৃহীত
মঙ্গলবার (১৬ জুন) একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকার বিষয়ে মুখ খুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের আগে বিনা জামানতে আপনার স্ত্রী ইসলামী ব্যাংক থেকে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন, আসলেই কি বিষয়টা এমন- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ ঋণ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমার স্ত্রী একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। অত্যন্ত নিয়ম মেনেই তিনি এই হোম লোন নিয়েছেন জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, একটা ব্যাংক থেকে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, তার এই দুই কোটি টাকার লোন নেওয়াটা তো আলোচনার মধ্যে আসার বিষয়ই না।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে একটি দলকে ইসলামী ব্যাংকের একটি প্রকল্প থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এদিকে নির্বাচনের আগে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার স্ত্রীর নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে বিনা জামানতে ২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেন, জামায়াতের নেতারা নিজের নামে নয় বরং আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধু বান্ধব বা দলের সাধারণ কর্মীদের নামে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে। এজন্য তাদেরকে ঋণগ্রস্ত বা ঋণখেলাপী দেখানোর কোন সুযোগ নেই। আবার তাদের ক্ষমতা দেখেন, বিনা জামানতে তারা কোটি কোটি টাকা ঋণ পায়, কিন্তু আমি আপনি কি পাবো?
মাসুদ দাবি করেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে রাজপথে আন্দোলনের আগ্নেয়গিরি তৈরি করা হবে এবং আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য জাতিকে প্রস্তুতি নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১ দলের বৃহৎ বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশবাসীর প্রতি এই আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত নির্বাচনে চুরি, ডাকাতি ও নানা রকম ইঞ্জিনিয়ারিং করে তাদের নিশ্চিত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এত বড় অন্যায়ের পরও দেশে যাতে কোনো ধরনের গৃহযুদ্ধ বা চরম বিশৃঙ্খলা শুরু না হয়, মূলত সেই বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই সনদ যদি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে এবার আর সংসদে নয়, বরং রাজপথেই চূড়ান্ত ফয়সালার ব্যবস্থা করা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিভাগীয় সমাবেশে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক এবং এনসিপির নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।
সমাবেশে উপস্থিত দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন এবং যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাকে কখনোই ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেননি। এমনটাই দাবি করেছেন, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে অংশ নিয়ে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে যেয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁকে নিয়ে দুটি কথা বলেছেন, কিন্তু তাঁর বক্তব্যের কোথাও ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাস্টারমাইন্ড শব্দটি সাধারণত একটি নেতিবাচক বা কুখ্যাত অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিতে ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ বা নেপথ্যের চিন্তাকারী শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন।
পশ্চিমা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনায় এ ধরনের শব্দের ব্যবহার অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক হলেও বাংলাদেশে এটিকে ভিন্নভাবে এবং ভুল অর্থে উপস্থাপন করা হয়েছে।
একই সাথে তিনি তাঁর দাবি প্রসঙ্গে বলেন, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। পরিশেষে মাহফুজ আলম আক্ষেপ প্রকাশ করে দাবি করেন, তাঁকে ঘিরে তৈরি করা সমস্ত ব্যাখ্যা বা ন্যারেটিভগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্নভাবে ফ্রেম বা সাজানো হয়েছে, যার সাথে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া বাস্তব বক্তব্যের কোনো মিল নেই।
মন্তব্য