২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি। টানা দুই বছরের ছদ্ম সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে নির্বাচিত সরকারের শপথ। দেশবাসীর হাফ ছেড়ে বাঁচার এক দিন।
এর এক সপ্তাহ আগের বহুল আলোচিত নবম সংসদ নির্বাচন। ভূমিধস জয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে এক কথায় উড়িয়ে দিলো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ১৯৭৩ সালের পর সংসদ নির্বাচনে এত ব্যবধানে জয় পায়নি কোনো দল।
এরপর আরও দুটি সংসদ নির্বাচন হয়েছে। এর একটি এরতরফা এবং একটি নিয়ে বিরোধী পক্ষে বিস্তর অভিযোগ। তবে ক্ষমতার পরিবর্তন আর হয়নি। সেই হিসেবে বুধবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা ১২ বছর বলা যায়।
এই ১২ বছরে বাংলাদেশ পাল্টে গেছে অনেকটাই। অর্থনৈতিক ভিত মজবুতের বিষয়টি উঠে আসছে নানা তথ্য পরিসংখ্যানে। বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উঁচুতে।
তবে রাজনীতি নিয়ে কথা থেকে যায়। প্রধান দুই মেরুর মধ্যে আগে থেকে যে দূরত্ব, তা এই এক যুগে পাল্টায়নি এতটুকু। দুই পক্ষই অনড়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে সবচেয়ে বেশি এক টানা ক্ষমতায় ছিলেন শুধু সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদর এরশাদ। তিনি টিকে ছিলেন নয় বছরের মতো।
এরশাদ সরকারের এই ক্ষমতায় থাকার বছরগুলো ছিল ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ। আন্দোলন মোকাবিলা করে চলতে হয়েছে সে সময়ের সরকারকে। আর দেশের উন্নয়নে তার প্রভাব পড়ে। টানা এক সরকার থাকার সুফল পায়নি দেশবাসী। নয় বছরে পাঁচ শতাংশ বাড়ে দারিদ্র্যের হার।
সেই দিক থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্য প্রশ্নাতীত। এই এক যুগে দেশের নিম্ন আয় থেকে নিম্নমধ্য আয়ের দেশে উত্তরণ হয়েছে। স্বল্প আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের শর্ত পূরণ হয়েছে।
এই উত্তরণের বিষয়টি ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ভিশন-২০২১ এ উল্লেখ ছিল। ওই ইশতেহারের সিংহভাগ পূরণের দাবি করছে ক্ষমতাসীনরা।
যদিও বিরোধী দল এই সময়টিকে দেখছে বিরোধী মত দমন, নির্বাচন নিয়ে কারচুপির অভিযোগ ফিরে আসার সময় হিসেবে।
‘উন্নয়নের এক যুগ’
এই ১২ বছরকে অবিস্মরণীয় বলছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পদ্মা সেতু সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম শেখ হাসিনা সেটাও বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। দেশের উন্নয়নের কারণে বিশ্বে বাংলাদেশ এখন এক ভিন্ন পরিচয় পেয়েছে।
‘করোনার মধ্যেও গ্রহণযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। রেমিটেন্স বেড়েছে। বিভিন্ন উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে আশা করি।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে স্বল্প উন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতির ভিত মজবুত হয়েছে। করোনার মধ্যেও কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ বাংলাদেশ। পাশাপাশি, আমরা করোনাও কিন্তু বেশ ভালোভাবেই মোকাবিলা করতে পেরেছি। এগুলো কিন্তু হয়েছে শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে।
‘অনেক পরাশক্তিও যেখানে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানে আমরা কিন্তু বেশ ভালো অবস্থানেই আছি। যদিও করোনা এখনও শেষ হয়ে যায়নি, তারপরেও আমরা আশা করি এটাকেও আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।’
তার মতে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান হওয়ায় আওয়ামী লীগের উপর জনগণের আস্থাও এখন বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘জনগণের আস্থা তো তৈরি হয় উন্নয়ন দৃশ্যমান হলে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলি টানেলের মতো বড় বড় অবকাঠামো দেশে তৈরি হচ্ছে।’
‘সব কিছুর কিন্তু একটি বিশাল পরিবর্তন এসেছে। আর এ কারণেই জনগণের আস্থাও সরকারের ওপর বাড়ছে। যদিও ২০২০ ভালো বছর ছিল এটা বলব না। তবে মানুষের সক্ষমতা বেড়েছে। এগুলো কে করেছে? শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকার এগুলো করেছে।’
রাজা-বাদশার আমল: বিএনপি
গত এক যুগে বিরোধী পক্ষকে রাজনীতির মাঠে অনেকটাই কোণঠাসা করতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে ২০১৪ সালে দশম নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহালের দাবিতে বর্জন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।
এর আগেও একতরফা নির্বাচন বাংলাদেশ দেখেছে দুটি। ১৯৮৮ সালে এরশাদ সরকারের আমলে এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। তবে ওই দুটি সরকার তার মেয়াদ পূর্ণ করতে না পারলেও বিরোধীদের বর্জনের মুখে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার তার মেয়াদ পূরণ করেছে।
এই সময়ে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দুর্নীতির মামলায় সাজা হওয়ায় নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে শূন্যতা। দুই বার সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেমে ব্যর্থ হয়েছে দল।
সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও বড় জয় পায় আওয়ামী লীগ। যদিও এ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ করেছে বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা।
আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি সরকারের এক যুগকে দেখছে স্বেচ্ছাচারিতার সর্বোচ্চ পর্যায় হিসেবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই যে ১২টা বছর মানে, এক যুগ! তেনারা এখন রাজা বাদশার আমলে চলে গেছেন। এক শেখ আমল চলছে এক যুগ ধরে।
‘স্বেচ্ছাচারিতার সর্বোচ্চ পজিশনে চলে গেছেন তারা। জিম্মি করে রেখেছেন সবাইকে। তবে ইতিহাস কথা বলে। রাজারাও গদি হারিয়েছেন সময়ে সময়ে। আর কিছু বলতে চাই না।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গণতন্ত্র চুরি হওয়ার এক যুগ হলো আসলে।
‘চুরি যাওয়া জিনিস ফেরত পেতে, অপরাধীকে ধরতে যে আইনি প্রক্রিয়া দরকার, তারাও এখন চোরের মাসতুতো ভাই। নির্লজ্জতারও একটা সীমা আছে। তারা সেটা বহু আগেই পার করছেন।’
দেশে রাজনীতিই নেই: জাতীয় পার্টি
গত একযুগে আরেকটি পরিবর্তন হলো জাতীয় পার্টির প্রধান বিরোধীদলের ভূমিকায় আসা। ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করায় দশম সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় দেখা যায় জাতীয় পার্টিকে। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও সে ধারা অব্যাহত থাকে।
সরকারের এক যুগের রাজনীতি কেমন ছিল- জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পত্রিকার পাতা খুললেই বলতে পারবেন এ সময় দেশের রাজনীতি কেমন ছিল। এই সময়ের মধ্যে দেশে তো রাজনীতিই ছিল না।
‘দেশে সুশাসনের অভাব, সামাজিক অবক্ষয়, আইনের শাসনের অভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি এগুলো এ সময় দেশে বিরাজমান ছিল। এগুলো এখন এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যা থেকে এখন মানুষ পরিত্রাণ চায়। এ কথাগুলো আমরা সংসদেও বলেছি।’
আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে জাতীয় পার্টির ভূমিকা রয়েছে কি না জানতে চাইলে দলের মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের গত এক সপ্তাহ, এক মাস বা তিন মাসের সংবাদগুলো পত্রিকায় দেখলেই মানুষ বুঝতে পারবেন যে জাতীয় পার্টি আসলে বিরোধীদল হিসেবে কতটুকু জনগণের জন্য কথা বলেছে।’
‘আমাদের চেয়ারম্যান ও আমরা দেশের মানুষের স্বার্থে কী বলেছি? আমরা বলেছি, আমলারা দেশ চালাচ্ছে, আমরা বলেছি, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কথা। আমরা গুম, খুন, হত্যা বেড়ে গেছে এসব নিয়েও কথা বলেছি। এসব কোনো গৃহপালিত বিরোধীদল কি বলতে পারে?’
ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার নেই সরকারের: সিপিবি
২০১৮ সালের নির্বাচনকে অবৈধ দাবি করে সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি। সরকারের একযুগের মূল্যায়ন করে দলের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা তো রাজপথে আছি, এই সরকার ভুয়া ভোটে নির্বাচিত বলে দাবি করেছি এবং সেই অর্থে এটা একটা ভুয়া সরকার।
‘গণ সমর্থনের উপর ভিত্তি করে তারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়নি। এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার নেই।’
তিনি বলেন, ‘এই সরকার আমাদের দেশের লুটেরা ধনিক শ্রেণি ও সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষা করছে এবং সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মদদ দিচ্ছে। এই সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে, এমনকি মানুষের ভোটাধিকারটাকেও হরণ করে বসে আছে। সরকার গণতন্ত্রহীনতার একটা নিদর্শনে পরিণত হয়েছে। এরকম পরিস্থিতি, এরকম একটা রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি।’
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ উপহার পাঠিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যেকের জন্য ১০ কেজি ওজনের একটি করে সুদৃশ্য উপহার প্যাকেট পাঠানো হয়েছে। স্পিকার থেকে শুরু করে সংসদের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছেও এই উপহারগুলো সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) সকাল থেকেই সংসদ ভবনের করিডোরগুলোতে এই ১০ কেজির প্যাকেটে কী আছে, তা নিয়ে তীব্র কৌতূহল দেখা দেয়। পরবর্তীতে সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে জানা যায়, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পাঠানো এই সুদৃশ্য প্যাকেটে ছিল মূলত চলতি মৌসুমের প্রিমিয়াম কোয়ালিটির সুস্বাদু আম।
অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সংসদের প্রতিটি দপ্তরে গিয়ে এই উপহার পৌঁছে দেন।
বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা জানান, এই উপহার বিতরণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অনন্য দিক ছিল এর সমবণ্টন নীতি, যার ফলে সংসদের কোনো স্তরের মানুষই এই তালিকা থেকে বাদ যাননি।
সাধারণত দেখা যায় ভিআইপি বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাই বিভিন্ন ধরনের উপহার পেয়ে থাকেন, কিন্তু ড. শফিকুর রহমানের এই বিশেষ উপহার তালিকায় সংসদের ঝাড়ুদার, পিয়ন, লিফটম্যান ও গাড়িচালকরাও সমভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
আকস্মিক এই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সংসদ সচিবালয়ের একজন সাধারণ অফিস সহায়ক বলেন যে, তাঁরা ছোট চাকরি করার কারণে বড় বড় নেতাদের উপহার বা সুযোগ-সুবিধা কেবল দূর থেকেই দেখে অভ্যস্ত। আজ বিরোধীদলীয় নেতা নিজে তাঁদের মতো সাধারণ কর্মচারীদের কথা মনে করে ১০ কেজির এই উপহার পাঠিয়েছেন, যা তাঁদের জন্য অত্যন্ত বড় সম্মানের ও আনন্দের বিষয়।
বাংলাদেশের চেনা ও ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি ও বিরোধীদলের সম্পর্কের বরফ যেখানে সহজে গলতে চায় না এবং দলগুলোর মধ্যে তীব্র দূরত্ব বজায় থাকে, সেখানে জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমানের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সরকারি দলের অনেক সংসদ সদস্যও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুস্থ ধারা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।
সোমবার (২২ জুন) সংসদ অধিবেশনে বক্তব্যকালে জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যে দলটি ১৯৭১ সালে এদেশের মহান স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল এবং বাংলাদেশের সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিল, তারা এই স্বাধীন দেশে রাজনীতি করতে পারে না।
তিনি সংসদের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্টদের মতো জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিও বাংলাদেশে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হোক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম জামাল আরও বলেন, শুধু নামের পরে ইসলাম থাকলেই প্রকৃত ইসলাম হয় না। যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করেন এবং গত নির্বাচনে ভোটের বিনিময়ে মানুষকে বেহেশত দেওয়ার মতো কথা বলেছেন, তাদের কর্মকাণ্ড সবাই দেখেছে।
নির্বাচনী প্রচারণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিড়ির সুখটানের মধ্য দিয়েও সকল পাপ মওকুফ হওয়া যাবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এভাবে ইসলামের নামে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য নিয়ে যারা রাজনীতি করছে, তারা মূলত স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি। উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারের সময় ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হক মন্তব্য করেছিলেন যে বিড়িতে সুখটানের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারেন, যে কারণে পরবর্তীতে জামায়াত তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছিল।
একই অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ পবিত্র মসজিদ ও মাদ্রাসায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানান।
তিনি বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর এবং সেখানে মানুষ কেবল নামাজ ও কোরআন শরিফ পড়বে, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল মসজিদে গিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
তিনি দেশের কোনো মসজিদ বা মাদ্রাসায় যেন রাজনৈতিক মিটিং করা না যায়, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।
জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে রেজা আহমেদ আরও বলেন, অন্য সব রাজনৈতিক দল যেভাবে প্রকাশ্যে মাঠে, স্কুলে বা কোনো হলরুমে কর্মীসভা ও জনসভা করে, তাদেরও ঠিক সেই ব্যবস্থা করতে হবে এবং পবিত্র মসজিদে বসে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সভা তারা করতে পারবে না।
ছবি: সংগৃহীত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের শাসনমলে সংঘটিত সকল গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী ২৩ জুন মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় একযোগে দেশের সকল জেলা ও মহানগর পর্যায়ে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। সোমবার (২২ জুন) এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দীনা স্বাক্ষরিত এক জরুরি নির্দেশনার মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাতে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড, গুম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চালানো গণহত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। সংগঠনের সকল জেলা ও মহানগর কমিটিকে নিজ নিজ এলাকায় নির্ধারিত সময়ে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সফল করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এনসিপি নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, গত দেড় দশকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথের আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না।
দলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের আপস করবে না। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় এবং বিগত সরকারের দুঃশাসনের শিকার ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতেই এই ধারাবাহিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজপথে থেকে তাদের অতীত অপকর্মের বিচারের দাবি জোরালো করাই এই বিক্ষোভের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজপথে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় জোটের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। সোমবার মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির এক বৈঠক শেষে এই কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে গণমাধ্যম।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণহত্যার বিচার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা, গত সরকারের আমলে হওয়া গুম ও খুনের বিচার নিশ্চিত করা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তবে জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কোনো ঝটিকা মিছিল বা শোডাউন করতে না পারে, তা ‘ঠেকাতে’ এবং রাজপথ নিজেদের দখলে রাখতেই মূলত এই কৌশলগত কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বিজয়নগরে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং আগামী ৪ জুলাই সারাদেশের জেলা শহরগুলোতে মিছিল ও সমাবেশ পালন করবে জোটটি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে এই বিচার শেষ করে দোষীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।” আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কর্মসূচি পালন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, এটি একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি এবং কোনো নিষিদ্ধ দলের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করার দায়িত্ব সরকারের।
অন্যদিকে, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের সমালোচনা করে অবিলম্বে দুর্নীতির অবসানের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষায় আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের বিশেষ কর্মসূচি পালন করবে এই ১১ দলীয় জোট। এই কর্মসূচির চূড়ান্ত রূপরেখা আগামী ২৫ জুন বৈঠকের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। ছবি: সংগৃহীত
মঙ্গলবার (১৬ জুন) একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকার বিষয়ে মুখ খুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের আগে বিনা জামানতে আপনার স্ত্রী ইসলামী ব্যাংক থেকে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন, আসলেই কি বিষয়টা এমন- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ ঋণ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমার স্ত্রী একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। অত্যন্ত নিয়ম মেনেই তিনি এই হোম লোন নিয়েছেন জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, একটা ব্যাংক থেকে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, তার এই দুই কোটি টাকার লোন নেওয়াটা তো আলোচনার মধ্যে আসার বিষয়ই না।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে একটি দলকে ইসলামী ব্যাংকের একটি প্রকল্প থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এদিকে নির্বাচনের আগে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার স্ত্রীর নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে বিনা জামানতে ২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেন, জামায়াতের নেতারা নিজের নামে নয় বরং আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধু বান্ধব বা দলের সাধারণ কর্মীদের নামে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে। এজন্য তাদেরকে ঋণগ্রস্ত বা ঋণখেলাপী দেখানোর কোন সুযোগ নেই। আবার তাদের ক্ষমতা দেখেন, বিনা জামানতে তারা কোটি কোটি টাকা ঋণ পায়, কিন্তু আমি আপনি কি পাবো?
মাসুদ দাবি করেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে রাজপথে আন্দোলনের আগ্নেয়গিরি তৈরি করা হবে এবং আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য জাতিকে প্রস্তুতি নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১ দলের বৃহৎ বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশবাসীর প্রতি এই আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত নির্বাচনে চুরি, ডাকাতি ও নানা রকম ইঞ্জিনিয়ারিং করে তাদের নিশ্চিত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এত বড় অন্যায়ের পরও দেশে যাতে কোনো ধরনের গৃহযুদ্ধ বা চরম বিশৃঙ্খলা শুরু না হয়, মূলত সেই বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই সনদ যদি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে এবার আর সংসদে নয়, বরং রাজপথেই চূড়ান্ত ফয়সালার ব্যবস্থা করা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিভাগীয় সমাবেশে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক এবং এনসিপির নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।
সমাবেশে উপস্থিত দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন এবং যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাকে কখনোই ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেননি। এমনটাই দাবি করেছেন, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে অংশ নিয়ে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে যেয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁকে নিয়ে দুটি কথা বলেছেন, কিন্তু তাঁর বক্তব্যের কোথাও ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাস্টারমাইন্ড শব্দটি সাধারণত একটি নেতিবাচক বা কুখ্যাত অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিতে ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ বা নেপথ্যের চিন্তাকারী শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন।
পশ্চিমা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনায় এ ধরনের শব্দের ব্যবহার অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক হলেও বাংলাদেশে এটিকে ভিন্নভাবে এবং ভুল অর্থে উপস্থাপন করা হয়েছে।
একই সাথে তিনি তাঁর দাবি প্রসঙ্গে বলেন, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। পরিশেষে মাহফুজ আলম আক্ষেপ প্রকাশ করে দাবি করেন, তাঁকে ঘিরে তৈরি করা সমস্ত ব্যাখ্যা বা ন্যারেটিভগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্নভাবে ফ্রেম বা সাজানো হয়েছে, যার সাথে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া বাস্তব বক্তব্যের কোনো মিল নেই।
মন্তব্য