বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে দায়িত্বপালনে ব্যর্থতা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ ১১টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে এর সবগুলোই প্রত্যাখান করে হাফিজ বলছেন, এগুলো সব কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অভিযোগের কারণ ব্যাখ্যার জন্য বিএনপির পাঠানো নোটিশের ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, ওই নোটিশে তার নামের বানান পর্যন্ত ভুল।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বনানীতে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো নোটিশের একটি অনুলিপি পেয়েছে নিউজবাংলা। এতে দেখা গেছে তার নামের ক্ষেত্রে ভুল করে ‘উদ্দীন’ এবং ‘আহমেদ’ লেখা হয়েছে।
কারণ দর্শানোর নোটিশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমি একজন যুদ্ধাহত, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। বিজয়ের মাসে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে অসৌজন্যমূলক ভাষায় অসত্য অভিযোগ সম্বলিত কারণ দর্শানোর চিঠি পেয়ে হতবাক হয়েছি।
‘আমি বিগত ২৯ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতি সাথে সংশ্লিষ্ট, আমার যোগদানের তারিখ, ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাবার তারিখ, আমার নামের বানানসহ অনেক ভুলই রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে দৃশ্যমান।’
যুগ্ম মহাসচিবের পক্ষ থেকে ভাইস চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর তীব্র সমালোচনা করেন হাফিজ।
তিনি বলেন, ‘আমি বিগত ২২ বছর ধরে দলের অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। দলের ভাইস চেয়ারম্যানকে একজন যুগ্ম মহাসচিবের পক্ষ থেকে এমন কঠিন, আক্রমণাত্মক ভাষায় কৈফিয়ত তলবে অত্যন্ত অপমানিত বোধ করছি।
‘এখানে প্রটোকল ও সৌজন্যের ব্যত্যয় ঘটেছে। ব্যক্তি রুহুল কবির রিজভী একজন নিষ্ঠাবান ও ত্যাগী নেতা, তার সাথে আমার সু-সম্পর্ক রয়েছে, তার কাছ থেকে এ ধরনের চিঠি আশা করিনি।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন হাফিজ।
১. সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে অপারগতার অভিযোগের জবাবে তিনি জানান, তাকে কখনও বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের দায়িত্ব দেয়া হয়নি।
২. জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক পদের প্রস্তাব না নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অসুস্থতার জন্য এই অফার আমি গ্রহণ করতে পারিনি। আমার বর্তমান বয়স ৭৬ বছর ২ মাস, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি বা স্থায়ী কমিটিতে আমার চাইতে বয়স্ক ব্যক্তির সংখ্যা চার-এর অধিক হবে না বলেই আমার ধারণা। এই বয়সে মানুষ অসুস্থ হতেই পারে।’
৩. বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত সভায় যোগ না দেয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘যোগদানের পূর্বেই পুলিশ আমাকে ঢাকা বিমান বন্দরে গ্রেফতার করে, এ কারণেই বরিশালে যেতে পারিনি। আমার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের মিথ্যা অভিযোগ এনেছিল বর্তমান সরকার। বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে এ ধরনের মারাত্মক অভিযোগ দায়ের করার কথা আমার জানা নেই। এ মামলা ছাড়াও এক ডজন মামলায় আমি গত ১০ বছর ধরে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে যাচ্ছি।’
৪, ৫ ও ৬. দলীয় সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সম্পর্কে মিথ্যা ও অসৌজন্যমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অতীতে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িত স্মরণীয় দিবসে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হতো, গত দেড় বছরে এ ধরনের অনুষ্ঠানে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আমাকে ডাকার প্রয়োজন বোধ করেননি। বোঝাই যাচ্ছে বিএনপিতে মুক্তিযোদ্ধাদের কোণঠাসা করে রাখার জন্য একটি মহল সক্রিয় রয়েছে।
বিগত এক বছরে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ছয়টি সভায় অংশগ্রহণ করেছি। এসব সভায় আমি অসৎ উদ্দেশ্যে বিএনপির সমালোচনা করেছি- এমন অভিযোগ করা হয়েছে, যা একেবারেই অসত্য, ঢালাও মন্তব্য।’
কয়েকটি বক্তব্যের উদাহরণ দিয়ে হাফিজ বলেন, ‘এসব বক্তব্য দলীয় সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সম্পর্কে মিথ্যা ও অসৌজন্যমূলক নয়, বরং আমি আত্মসমালোচনা করেছি। ’
সেই বক্তব্যগুলো হলো:
‘জনগণ মনে করে, যে নির্বাচনে (২০১৪) বিএনপির অংশগ্রহণ করা উচিত ছিল সেটা তারা বর্জন করেছে, আর যে নির্বাচনে (২০১৮) অংশগ্রহণ নিরর্থক সেটিতে অংশ নিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বৈধতা দিয়েছে।
‘২০১৮ সালের নির্বাচনের পর মাত্র পাঁচ সদস্য নিয়ে বিএনপির সংসদে যোগ দেয়া উচিত হয়নি।
‘বেগম খালেদা জিয়া দু-বছর ধরে কারাগারে অন্তরীণ, অথচ বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল তার মুক্তির জন্য কোনো কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি।
‘বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুটি প্রধান দলেই গণতন্ত্রের চর্চা নেই।’
৭. প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় দলীয় স্বার্থ ও শৃঙ্খলাবিরোধী বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে হাফিজ বলেন, ‘আমি ৩৪ বছর যাবৎ রাজনীতি করছি, কখনও কারও বিরুদ্ধে- এমনকি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য রাখিনি। অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধেও অনেক বক্তব্য রেখেছি, কিন্তু আমি কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করিনি।’
হাফিজ বলেন, ‘আমি কখনওই বেগম খালেদা জিয়া বা তারেক রহমান সম্পর্কে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য রাখিনি। এ ধরনের ঢালাও অভিযোগ এনে আমার প্রতি অবিচার করা হয়েছে বলে মনে করি। আমি আওয়ামী লীগের কট্টর সমালোচনা করি, কিন্তু কাউকে ব্যক্তিগতভাবে অ্যাটাক করি না, এটা আমার ন্যাচারে নেই। এরশাদকে লম্পট, স্বৈরাচার বলে নানান বক্তব্য দেয়া হয়, আমি কোনোদিন এমন আচরণ করিনি। তাহলে নিজ দলীয়দের বিরুদ্ধে কীভাবে করব?’
৮. ‘হাফিজ নিজেকে মহাসচিব ঘোষণা করেছেন’- এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে ১৩ বছর আগের জরুরি অবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আমি একজন নগণ্য রাজনৈতিক কর্মী, নিজেকে মহাসচিব ঘোষণা করেছি এটি একটি হাস্যকর বক্তব্য।
‘২৯ অক্টোবর ক্ষমতার করিডোরে অবস্থানকারী সেনা কর্মকর্তারা স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যকে জোরপূর্বক সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের বাসায় নিয়ে যান। গভীর রাতে সেখানে অনুষ্ঠিত সভায় জনাব সাইফুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও আমাকে অস্থায়ী মহাসচিব রূপে ঘোষণা করা হয়। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না, পরদিন বিষয়টি আমাকে জানানো হয়।
‘সেনা সদস্যরা কয়েকদিন পরেই আবদুল মান্নান ভূইয়াকে জেলে ঢোকায় এবং সাইফুর রহমান গোপনে দেশত্যাগ করেন। সে সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে, নেতাদের উপর অকথ্য নির্যাতন করা হয়। কারও কারও কাছ থেকে ভবিষ্যতে রাজনীতি করব না- এই মর্মে মুচলেকাও আদায় করা হয়।’
বিএনপিকে সে সময় ভাঙনের হাত থেকে 'রক্ষা করেছেন' দাবি করে হাফিজ বলেন, ‘বিএনপিকে দ্বিখণ্ডিত করার চেষ্টা আমি কখনও করিনি বরং দলকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করেছি। আমার অনুরোধে বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তারা বিএনপির ১০৫ জন এমপিকে ফেরদৌস কোরাইশির নেতৃত্বাধীন কিংস পার্টিতেন যোগদান থেকে বিরত রাখেন। তারা আজও বিএনপিতে আছেন।
‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার আইনজীবী নওশাদ জমিরের মাধ্যমে সকলকে ঐক্যবন্ধ রাখার জন্য আমার কাছে নির্দেশ পাঠান। সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার তার বাসভবনে আমাকে ও মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে বৈঠকে উপস্থিত হবার জন্য অনুরোধ করেন। আমি তাৎক্ষণিক উপস্থিত হই, কিন্তু দেলোয়ার সাহেব আসেননি।
‘পরবর্তী সপ্তাহে এমপি হোস্টেলে বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব শাহজাহানের বাসায় খন্দকার দেলোয়ারের সাথে দেড় ঘণ্টাব্যাপী এক বৈঠকের পর আমাদের ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়। মহাসচিব আমাকে সেনা কর্তৃপক্ষের সাথে দেনদরবার করে বিএনপিকে ক্ষমতায় নেবার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলেন। পরবর্তীকালে আমি বিভিন্ন সাংবাদিক সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়া ও খন্দকার দেলোয়ারের নেতৃত্বে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে বলে বক্তব্য রাখি।’
৯. দলে সংস্কারপন্থির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া কারামুক্ত হবার পর আমি তার সাথে দেখা করি। জেলখানা থেকে পাঠানো তার সকল নির্দেশ পালন করেছি জানালে তিনি আমার প্রতি সদয় আচরণ করেন। আমার কার্যক্রম পর্যালোচনা করেই তিনি আমাকে ২০০৮, ২০১০ এর উপনির্বাচন, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেন।’
হাফিজ বলেন, ‘সংস্কার ভালো জিনিস। দলের স্বার্থ রক্ষাতেই সংস্কার জরুরি, কিন্তু আমি কখনওই খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে দল করতে চাইনি। তখনও চাইনি, এখনও চাই না। ’
১০. নিজের নির্বাচনি এলাকায় বিএনপির কর্মীকে নাজেহাল ও দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় রাখার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পর কতিপয় বিএনপি কর্মী আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যের সঙ্গে আঁতাত করে বিএনপি কর্মীদের উপর অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে। বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি লালমোহন ও তজুমুদ্দিন থানায় দুইজন নেতাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য বহিষ্কার করে। এদের একজন রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষর জাল করে চিঠি ইস্যুর কারণে বহিষ্কৃত হয়। ’
১১. নির্বাচনি এলাকায় গ্রুপিং সৃষ্টির অভিযোগও নাকচ করেন হাফিজ। তিনি দাবি করেন, সেখানে দলের মূল কমিটি এবং সহযোগী সংগঠনের কমিটিগুলো গঠনতন্ত্র মেনে কাউন্সিলরদের ভোটে গঠন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদের বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনও অভিযোগ কেউ তুলতে পারেনি। বর্ষীয়ান এই নেতা বলেন, ‘ঢাকায় আমার নিজের কোনো বাড়ি নেই। যেটাতে আছি তা আমার বাবার, পারিবারিক ভাগাভাগিতে তা পেয়েছি। বিএনপির এমন অনেক নেতাকর্মী আছেন যাদের ১০০ এর বেশি বাড়ি রয়েছে ঢাকা শহরে।’
হাফিজ উদ্দিনের আহমদের পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি শোকজ নোটিশে সই করা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে নিউজবাংলার প্রতিবেদককে তিনি বলে, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। ’
হাফিজ উদ্দিনের অভিযোগের বিস্তারিত শোনাতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক বছর ধরে রাজনীতি করছি, তাই বুঝতে পারি সাংবাদিকেরা কী প্রশ্ন করতে পারে। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে রাজি না।’
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ উপহার পাঠিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যেকের জন্য ১০ কেজি ওজনের একটি করে সুদৃশ্য উপহার প্যাকেট পাঠানো হয়েছে। স্পিকার থেকে শুরু করে সংসদের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছেও এই উপহারগুলো সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) সকাল থেকেই সংসদ ভবনের করিডোরগুলোতে এই ১০ কেজির প্যাকেটে কী আছে, তা নিয়ে তীব্র কৌতূহল দেখা দেয়। পরবর্তীতে সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে জানা যায়, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পাঠানো এই সুদৃশ্য প্যাকেটে ছিল মূলত চলতি মৌসুমের প্রিমিয়াম কোয়ালিটির সুস্বাদু আম।
অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সংসদের প্রতিটি দপ্তরে গিয়ে এই উপহার পৌঁছে দেন।
বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা জানান, এই উপহার বিতরণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অনন্য দিক ছিল এর সমবণ্টন নীতি, যার ফলে সংসদের কোনো স্তরের মানুষই এই তালিকা থেকে বাদ যাননি।
সাধারণত দেখা যায় ভিআইপি বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাই বিভিন্ন ধরনের উপহার পেয়ে থাকেন, কিন্তু ড. শফিকুর রহমানের এই বিশেষ উপহার তালিকায় সংসদের ঝাড়ুদার, পিয়ন, লিফটম্যান ও গাড়িচালকরাও সমভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
আকস্মিক এই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সংসদ সচিবালয়ের একজন সাধারণ অফিস সহায়ক বলেন যে, তাঁরা ছোট চাকরি করার কারণে বড় বড় নেতাদের উপহার বা সুযোগ-সুবিধা কেবল দূর থেকেই দেখে অভ্যস্ত। আজ বিরোধীদলীয় নেতা নিজে তাঁদের মতো সাধারণ কর্মচারীদের কথা মনে করে ১০ কেজির এই উপহার পাঠিয়েছেন, যা তাঁদের জন্য অত্যন্ত বড় সম্মানের ও আনন্দের বিষয়।
বাংলাদেশের চেনা ও ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি ও বিরোধীদলের সম্পর্কের বরফ যেখানে সহজে গলতে চায় না এবং দলগুলোর মধ্যে তীব্র দূরত্ব বজায় থাকে, সেখানে জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমানের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সরকারি দলের অনেক সংসদ সদস্যও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুস্থ ধারা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।
সোমবার (২২ জুন) সংসদ অধিবেশনে বক্তব্যকালে জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যে দলটি ১৯৭১ সালে এদেশের মহান স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল এবং বাংলাদেশের সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিল, তারা এই স্বাধীন দেশে রাজনীতি করতে পারে না।
তিনি সংসদের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্টদের মতো জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিও বাংলাদেশে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হোক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম জামাল আরও বলেন, শুধু নামের পরে ইসলাম থাকলেই প্রকৃত ইসলাম হয় না। যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করেন এবং গত নির্বাচনে ভোটের বিনিময়ে মানুষকে বেহেশত দেওয়ার মতো কথা বলেছেন, তাদের কর্মকাণ্ড সবাই দেখেছে।
নির্বাচনী প্রচারণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিড়ির সুখটানের মধ্য দিয়েও সকল পাপ মওকুফ হওয়া যাবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এভাবে ইসলামের নামে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য নিয়ে যারা রাজনীতি করছে, তারা মূলত স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি। উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারের সময় ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হক মন্তব্য করেছিলেন যে বিড়িতে সুখটানের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারেন, যে কারণে পরবর্তীতে জামায়াত তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছিল।
একই অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ পবিত্র মসজিদ ও মাদ্রাসায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানান।
তিনি বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর এবং সেখানে মানুষ কেবল নামাজ ও কোরআন শরিফ পড়বে, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল মসজিদে গিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
তিনি দেশের কোনো মসজিদ বা মাদ্রাসায় যেন রাজনৈতিক মিটিং করা না যায়, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।
জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে রেজা আহমেদ আরও বলেন, অন্য সব রাজনৈতিক দল যেভাবে প্রকাশ্যে মাঠে, স্কুলে বা কোনো হলরুমে কর্মীসভা ও জনসভা করে, তাদেরও ঠিক সেই ব্যবস্থা করতে হবে এবং পবিত্র মসজিদে বসে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সভা তারা করতে পারবে না।
ছবি: সংগৃহীত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের শাসনমলে সংঘটিত সকল গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী ২৩ জুন মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় একযোগে দেশের সকল জেলা ও মহানগর পর্যায়ে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। সোমবার (২২ জুন) এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দীনা স্বাক্ষরিত এক জরুরি নির্দেশনার মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাতে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড, গুম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চালানো গণহত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। সংগঠনের সকল জেলা ও মহানগর কমিটিকে নিজ নিজ এলাকায় নির্ধারিত সময়ে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সফল করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এনসিপি নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, গত দেড় দশকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথের আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না।
দলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের আপস করবে না। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় এবং বিগত সরকারের দুঃশাসনের শিকার ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতেই এই ধারাবাহিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজপথে থেকে তাদের অতীত অপকর্মের বিচারের দাবি জোরালো করাই এই বিক্ষোভের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজপথে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় জোটের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। সোমবার মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির এক বৈঠক শেষে এই কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে গণমাধ্যম।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণহত্যার বিচার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা, গত সরকারের আমলে হওয়া গুম ও খুনের বিচার নিশ্চিত করা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তবে জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কোনো ঝটিকা মিছিল বা শোডাউন করতে না পারে, তা ‘ঠেকাতে’ এবং রাজপথ নিজেদের দখলে রাখতেই মূলত এই কৌশলগত কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বিজয়নগরে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং আগামী ৪ জুলাই সারাদেশের জেলা শহরগুলোতে মিছিল ও সমাবেশ পালন করবে জোটটি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে এই বিচার শেষ করে দোষীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।” আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কর্মসূচি পালন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, এটি একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি এবং কোনো নিষিদ্ধ দলের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করার দায়িত্ব সরকারের।
অন্যদিকে, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের সমালোচনা করে অবিলম্বে দুর্নীতির অবসানের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষায় আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের বিশেষ কর্মসূচি পালন করবে এই ১১ দলীয় জোট। এই কর্মসূচির চূড়ান্ত রূপরেখা আগামী ২৫ জুন বৈঠকের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। ছবি: সংগৃহীত
মঙ্গলবার (১৬ জুন) একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকার বিষয়ে মুখ খুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের আগে বিনা জামানতে আপনার স্ত্রী ইসলামী ব্যাংক থেকে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন, আসলেই কি বিষয়টা এমন- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ ঋণ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমার স্ত্রী একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। অত্যন্ত নিয়ম মেনেই তিনি এই হোম লোন নিয়েছেন জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, একটা ব্যাংক থেকে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, তার এই দুই কোটি টাকার লোন নেওয়াটা তো আলোচনার মধ্যে আসার বিষয়ই না।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে একটি দলকে ইসলামী ব্যাংকের একটি প্রকল্প থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এদিকে নির্বাচনের আগে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার স্ত্রীর নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে বিনা জামানতে ২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেন, জামায়াতের নেতারা নিজের নামে নয় বরং আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধু বান্ধব বা দলের সাধারণ কর্মীদের নামে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে। এজন্য তাদেরকে ঋণগ্রস্ত বা ঋণখেলাপী দেখানোর কোন সুযোগ নেই। আবার তাদের ক্ষমতা দেখেন, বিনা জামানতে তারা কোটি কোটি টাকা ঋণ পায়, কিন্তু আমি আপনি কি পাবো?
মাসুদ দাবি করেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে রাজপথে আন্দোলনের আগ্নেয়গিরি তৈরি করা হবে এবং আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য জাতিকে প্রস্তুতি নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১ দলের বৃহৎ বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশবাসীর প্রতি এই আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত নির্বাচনে চুরি, ডাকাতি ও নানা রকম ইঞ্জিনিয়ারিং করে তাদের নিশ্চিত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এত বড় অন্যায়ের পরও দেশে যাতে কোনো ধরনের গৃহযুদ্ধ বা চরম বিশৃঙ্খলা শুরু না হয়, মূলত সেই বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই সনদ যদি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে এবার আর সংসদে নয়, বরং রাজপথেই চূড়ান্ত ফয়সালার ব্যবস্থা করা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিভাগীয় সমাবেশে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক এবং এনসিপির নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।
সমাবেশে উপস্থিত দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন এবং যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাকে কখনোই ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেননি। এমনটাই দাবি করেছেন, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে অংশ নিয়ে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে যেয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁকে নিয়ে দুটি কথা বলেছেন, কিন্তু তাঁর বক্তব্যের কোথাও ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাস্টারমাইন্ড শব্দটি সাধারণত একটি নেতিবাচক বা কুখ্যাত অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিতে ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ বা নেপথ্যের চিন্তাকারী শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন।
পশ্চিমা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনায় এ ধরনের শব্দের ব্যবহার অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক হলেও বাংলাদেশে এটিকে ভিন্নভাবে এবং ভুল অর্থে উপস্থাপন করা হয়েছে।
একই সাথে তিনি তাঁর দাবি প্রসঙ্গে বলেন, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। পরিশেষে মাহফুজ আলম আক্ষেপ প্রকাশ করে দাবি করেন, তাঁকে ঘিরে তৈরি করা সমস্ত ব্যাখ্যা বা ন্যারেটিভগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্নভাবে ফ্রেম বা সাজানো হয়েছে, যার সাথে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া বাস্তব বক্তব্যের কোনো মিল নেই।
মন্তব্য