দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৬১টি পৌরসভায় ভোট হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি। এ নির্বাচন সামনে রেখে শুক্রবার দলীয় মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এদিন আওয়ামী লীগ ৬১টি পৌরসভার সবকটিতেই তাদের প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। তবে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে ৫৫টিতে।
শুক্রবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভা হয়। সভায় ৬১ জনের নাম ঘোষণা করা হয়।
একইদিন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৫৫টি পৌরসভায় মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানানো হয়।
নির্বাচন কমিশন এবার চার ধাপে দেশের তিন শতাধিক পৌরসভায় নির্বাচন করতে চায়। ইতোমধ্যে তিন ধাপে ১৫০টি পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আগামী ২৮ ডিসেম্বর ২৫টি পৌরসভায় ইভিএমে ভোট হবে। তৃতীয় ধাপে আগামী ৩০ জানুয়ারি ৬৪ পৌরসভার সবকটিতেই ভোটগ্রহণ হবে ব্যালট পেপারে।
পৌরসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২০ ডিসেম্বর। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ২২ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর। ভোট হবে ১৬ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
এই ৬১ পৌরসভার মধ্যে ইভিএমে ভোট হবে ২৯টিতে; আর ব্যালটে ৩২ টিতে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হলেন-
রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার দিনাজপুর পৌরসভায় রাশেদ পারভেজ, বিরামপুরে মো. আক্কাস আলী, বীরগঞ্জে মো. নুর ইসলাম। নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর পৌরসভায় রাফিকা আকতার জাহান, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ফারহাদ হোসেন দুলু, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আব্দুল্লা আল মামুন, গাইবান্ধায় শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর।
রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলার শেরপুর পৌরসভায় আব্দুর সাত্তার, সারিয়াকান্দিতে মো. আলমগীর শাহী, সান্তাহার পৌরসভায় মো. আশরাফুল ইসলাম মন্টু, নওগাঁ জেলার নজিপুর পৌরসভায় রেজাউল করীম চৌধুরী, রাজশাহী জেলার কাকনহাট পৌরসভায় এ. কে. এম আতাউর রহমান খান, ভবানীগঞ্জ পৌরসভার মো. আ. মালেক, আড়ানী পৌরসভায় মো. শহীদুজ্জামান, নাটোর জেলার নলডাঙ্গায় মো. মনিরুজ্জামান মনির, গোপালপুরে কাজী আসিয়া জয়নুল, গুরুদাসপুরে মো. শাহনেওয়াজ আলী, সিরাজগঞ্জ জেলার সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা, উল্লাপাড়ায় এস. এম. নজরুল ইসলাম, বেলকুচিতে বেগম আশানুর বিশ্বাস, রায়গঞ্জে মো. আব্দুল্লাহ আল পাঠান, কাজিপুরে মো. আব্দুল হাননান তালুকদার, পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে মো. ইছাহক আলি মালিথা, ফরিদপুর পৌরসভায় খন্দকার মো. কামরুজ্জামান মাজেদ, সাথিয়ায় মো. মাহবুবুল আলম, ভাঙ্গুড়ায় মো. গোলাম হাসনাইন, সুজানগর মো. রেজাউল করিম।
খুলনা বিভাগের মেহেরপুর জেলার গাংনী পৌরসভায় আহম্মেদ আলী, কুষ্টিয়া জেলার কুষ্টিয়ায় আনোয়ার আলী, কুমারখালীতে মো. সামছুজ্জামান অরুণ, ভেড়ামাড়ায় মো. শামিমুল ইসলাম ছানা, মিরপুর পৌরসভায় এনামুল হক, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপায় কাজী আশরাফুল আজম, বাগেরহাট জেলার মোংলাপোর্ট পৌরসভায় শেখ আব্দুর রহমান, মাগুরা জেলার মাগুরা পৌরসভায় মো. খুরশীদ হায়দার টুটুল।
বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার পিরোজপুর পৌরসভায় মো. হাবিবুর রহমান মালেক।
ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী পৌরসভায় খন্দকার মনজুরুল ইসলাম তপন, কিশোরগঞ্জ জেলার কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় মো. পারভেজ মিয়া, কুলিয়াচর পৌরসভায় সৈয়দ হাসান সারওয়ার মহসিন, ঢাকা জেলার সাভার পৌরসভায় হাজী মোঃ আব্দুল গনি, নরসিংদী জেলার মনোহরদীতে মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ, নারায়ণগঞ্জ জেলার তারাব পৌরসভায় হাছিনা গাজী, ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারীতে মো. সেলিম রেজা, শরীয়তপুর জেলার শরীয়তপুর পৌরসভায় পারভেজ রহমান।
ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছায় মো. বিল্লাল হোসেন সরকার, ফুলবাড়িয়ায় মো. গোলাম কিবরিয়া, নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ পৌরসভায় লতিফুর রহমান রতন, কেন্দুয়ায় মো. আসাদুল হক ভূঞা।
সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ সদরের সুনামগঞ্জ পৌরসভায় নাদের বখত, ছাতকে মো. আব্দুল কালাম চৌধুরী, জগন্নাথপুরে মো. মিজানুর রশীদ ভুঁইয়া, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ পৌরসভায় মো. জুয়েল আহমেদ, কুলাউড়ায় সিপার উদ্দিন আহম্মদ, হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুরে শ্রীধাম দাস গুপ্ত, নবীগঞ্জ পৌরসভায় গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী।
চট্টগ্রাম বিভাগের চান্দিনা পৌরসভার মো. শওকত হোসেন ভুইয়া, ফেনী জেলার দাগনভুঁইয়ায় ওমর ফারুখ খাঁন, নোয়াখালী জেলার বসুরহাট পৌরসভায় আব্দুল কাদের, চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপে মোক্তাদের মাওলা সেলিম, খাগড়াছড়ি জেলার খাগড়াছড়ি পৌরসভায় নির্মলেন্দু চৌধুরী, বান্দরবান জেলার লামা পৌরসভায় মো. জহিরুল ইসলাম।
গত ১৩ ডিসেম্বর শেষ হয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিতরণ। দলের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এবার ৬১ পৌরসভায় নৌকা প্রতীকে লড়তে চান ৩১৭ জন। অর্থাৎ প্রতিটি পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থীতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন গড়ে পাঁচ জন।
বিএনপির প্রার্থীরা হলেন-
দিনাজপুর সদরে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, বীরগঞ্জে মো. মোকারম হোসেন, বিরামপুরে মো. হুমায়ন কবির। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মো. শহিদুল ইসলাম। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আবু খায়ের মো. মশিউর রহমান, গাইবান্ধা সদরে মো. শহিদুজ্জামান শহীদ।
বগুড়ার শেরপুরে স্বাধীন কুমার কুণ্ডু, সান্তাহারে তোফাজ্জল হোসেন। সিরাজগঞ্জ সদরে মো. সাইদুর রহমান, উল্লাপাড়ায় মো. আজাদ হোসেন, বেলকুচিতে মো. আলতাব হোসেন, রায়গঞ্জে মো. জাহিদুল ইসলাম, কাজীপুরে মো. আল আমিন। পাবনার ঈশ্বরদীতে রফিকুর ইসলাম, ফরিদপুরে মো. এনামুল হক, সাথিয়ায় মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, ভাঙ্গুড়ায় মো. আব্দুল কাদের।
রাজশাহীর কাকনহাটে মো. হাফিজুর রহমান, ভবানীগঞ্জে মো. আব্দুর রাজ্জাক প্রাং, আড়ানীতে তোজাম্মেল হক। নাটোরের নলডাঙ্গায় মো. আব্বাছ আলী, গোপালপুরে শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন কচি, গুরুদাসপুরে মো. আজমল হক বুলবুল।
মেহেরপুরের গাংনীতে মো. আসাদুজ্জামান বাবলু। কুষ্টিয়া সদরে মো. বশিরুল আলম চাঁদ, কুমারখালীতে আনিসুর রহমান, ভেড়ামারায় মো. শামিম রেজা, মিরপুরে মো. আবজাল হোসেন। ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মো. খলিলুর রহমান।
কিশোরগঞ্জ সদরে মো. ইসরাইল মিঞা, কুলিয়ারচরে নুরুল মিল্লাত। ঢাকার সাভারে আলহাজ মো. রেফাত উল্লাহ। নরসিংদীর মনোহরদীতে মো. মাহমুদুল হক।
নারায়ণগঞ্জের তারাবোতে নাসির উদ্দিন। ফরিদপুরের বোয়ালমারিতে আ. শুকুর শেখ। শরীয়তপুর সদরে মো. লুৎফর রহমান ঢালী।
সুনামগঞ্জ সদরে মোর্শেদ আলম, ছাতকে রাশিদা বেগম, জগন্নাথপুরে মো. হারুনুজ্জামান।
বাগেরহাটের মোংলাপোর্টে মো. জুলফিকার আলী। মাগুরা সদরে মো. ইকবাল আকতার খান (কাফুর)।
পিরোজপুর সদরে শেখ শহীদুল্লাহ। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে এস এম এ সোবহান।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় মো. শহিদুল ইসলাম। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে মো. মাহবুবুন নবী শেখ, কেন্দুয়ায় শফিকুল ইসলাম।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মোহাম্মদ আবুল হোসেন, কুলাউড়ায় কালাম উদ্দিন আহমেদ। হবিগঞ্জের মাধবপুরে হাবিবুর রহমান, নবীগঞ্জে ছাবির আহমেদ চৌধুরী।
কুমিল্লার চান্দিনায় মো. আলমগীর খান। ফেনীর দাগনভূঞায় কাজী সাইফুর রহমান, নোয়াখালীর বসুরহাটে কামাল উদ্দিন চৌধুরী,
খাগড়াছড়ি সদরে মো. ইব্রাহীম খলিল এবং বান্দরবানের লামায় মো. শাহীন।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ উপহার পাঠিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যেকের জন্য ১০ কেজি ওজনের একটি করে সুদৃশ্য উপহার প্যাকেট পাঠানো হয়েছে। স্পিকার থেকে শুরু করে সংসদের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছেও এই উপহারগুলো সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) সকাল থেকেই সংসদ ভবনের করিডোরগুলোতে এই ১০ কেজির প্যাকেটে কী আছে, তা নিয়ে তীব্র কৌতূহল দেখা দেয়। পরবর্তীতে সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে জানা যায়, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পাঠানো এই সুদৃশ্য প্যাকেটে ছিল মূলত চলতি মৌসুমের প্রিমিয়াম কোয়ালিটির সুস্বাদু আম।
অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সংসদের প্রতিটি দপ্তরে গিয়ে এই উপহার পৌঁছে দেন।
বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা জানান, এই উপহার বিতরণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অনন্য দিক ছিল এর সমবণ্টন নীতি, যার ফলে সংসদের কোনো স্তরের মানুষই এই তালিকা থেকে বাদ যাননি।
সাধারণত দেখা যায় ভিআইপি বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাই বিভিন্ন ধরনের উপহার পেয়ে থাকেন, কিন্তু ড. শফিকুর রহমানের এই বিশেষ উপহার তালিকায় সংসদের ঝাড়ুদার, পিয়ন, লিফটম্যান ও গাড়িচালকরাও সমভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
আকস্মিক এই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সংসদ সচিবালয়ের একজন সাধারণ অফিস সহায়ক বলেন যে, তাঁরা ছোট চাকরি করার কারণে বড় বড় নেতাদের উপহার বা সুযোগ-সুবিধা কেবল দূর থেকেই দেখে অভ্যস্ত। আজ বিরোধীদলীয় নেতা নিজে তাঁদের মতো সাধারণ কর্মচারীদের কথা মনে করে ১০ কেজির এই উপহার পাঠিয়েছেন, যা তাঁদের জন্য অত্যন্ত বড় সম্মানের ও আনন্দের বিষয়।
বাংলাদেশের চেনা ও ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি ও বিরোধীদলের সম্পর্কের বরফ যেখানে সহজে গলতে চায় না এবং দলগুলোর মধ্যে তীব্র দূরত্ব বজায় থাকে, সেখানে জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমানের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সরকারি দলের অনেক সংসদ সদস্যও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুস্থ ধারা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।
সোমবার (২২ জুন) সংসদ অধিবেশনে বক্তব্যকালে জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যে দলটি ১৯৭১ সালে এদেশের মহান স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল এবং বাংলাদেশের সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিল, তারা এই স্বাধীন দেশে রাজনীতি করতে পারে না।
তিনি সংসদের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্টদের মতো জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিও বাংলাদেশে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হোক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম জামাল আরও বলেন, শুধু নামের পরে ইসলাম থাকলেই প্রকৃত ইসলাম হয় না। যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করেন এবং গত নির্বাচনে ভোটের বিনিময়ে মানুষকে বেহেশত দেওয়ার মতো কথা বলেছেন, তাদের কর্মকাণ্ড সবাই দেখেছে।
নির্বাচনী প্রচারণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিড়ির সুখটানের মধ্য দিয়েও সকল পাপ মওকুফ হওয়া যাবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এভাবে ইসলামের নামে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য নিয়ে যারা রাজনীতি করছে, তারা মূলত স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি। উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারের সময় ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হক মন্তব্য করেছিলেন যে বিড়িতে সুখটানের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারেন, যে কারণে পরবর্তীতে জামায়াত তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছিল।
একই অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ পবিত্র মসজিদ ও মাদ্রাসায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানান।
তিনি বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর এবং সেখানে মানুষ কেবল নামাজ ও কোরআন শরিফ পড়বে, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল মসজিদে গিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
তিনি দেশের কোনো মসজিদ বা মাদ্রাসায় যেন রাজনৈতিক মিটিং করা না যায়, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।
জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে রেজা আহমেদ আরও বলেন, অন্য সব রাজনৈতিক দল যেভাবে প্রকাশ্যে মাঠে, স্কুলে বা কোনো হলরুমে কর্মীসভা ও জনসভা করে, তাদেরও ঠিক সেই ব্যবস্থা করতে হবে এবং পবিত্র মসজিদে বসে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সভা তারা করতে পারবে না।
ছবি: সংগৃহীত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের শাসনমলে সংঘটিত সকল গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী ২৩ জুন মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় একযোগে দেশের সকল জেলা ও মহানগর পর্যায়ে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। সোমবার (২২ জুন) এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দীনা স্বাক্ষরিত এক জরুরি নির্দেশনার মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাতে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড, গুম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চালানো গণহত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। সংগঠনের সকল জেলা ও মহানগর কমিটিকে নিজ নিজ এলাকায় নির্ধারিত সময়ে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সফল করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এনসিপি নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, গত দেড় দশকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথের আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না।
দলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের আপস করবে না। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় এবং বিগত সরকারের দুঃশাসনের শিকার ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতেই এই ধারাবাহিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজপথে থেকে তাদের অতীত অপকর্মের বিচারের দাবি জোরালো করাই এই বিক্ষোভের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজপথে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় জোটের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। সোমবার মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির এক বৈঠক শেষে এই কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে গণমাধ্যম।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণহত্যার বিচার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা, গত সরকারের আমলে হওয়া গুম ও খুনের বিচার নিশ্চিত করা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তবে জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কোনো ঝটিকা মিছিল বা শোডাউন করতে না পারে, তা ‘ঠেকাতে’ এবং রাজপথ নিজেদের দখলে রাখতেই মূলত এই কৌশলগত কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বিজয়নগরে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং আগামী ৪ জুলাই সারাদেশের জেলা শহরগুলোতে মিছিল ও সমাবেশ পালন করবে জোটটি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে এই বিচার শেষ করে দোষীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।” আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কর্মসূচি পালন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, এটি একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি এবং কোনো নিষিদ্ধ দলের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করার দায়িত্ব সরকারের।
অন্যদিকে, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের সমালোচনা করে অবিলম্বে দুর্নীতির অবসানের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষায় আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের বিশেষ কর্মসূচি পালন করবে এই ১১ দলীয় জোট। এই কর্মসূচির চূড়ান্ত রূপরেখা আগামী ২৫ জুন বৈঠকের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। ছবি: সংগৃহীত
মঙ্গলবার (১৬ জুন) একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকার বিষয়ে মুখ খুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের আগে বিনা জামানতে আপনার স্ত্রী ইসলামী ব্যাংক থেকে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন, আসলেই কি বিষয়টা এমন- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ ঋণ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমার স্ত্রী একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। অত্যন্ত নিয়ম মেনেই তিনি এই হোম লোন নিয়েছেন জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, একটা ব্যাংক থেকে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, তার এই দুই কোটি টাকার লোন নেওয়াটা তো আলোচনার মধ্যে আসার বিষয়ই না।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে একটি দলকে ইসলামী ব্যাংকের একটি প্রকল্প থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এদিকে নির্বাচনের আগে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার স্ত্রীর নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে বিনা জামানতে ২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেন, জামায়াতের নেতারা নিজের নামে নয় বরং আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধু বান্ধব বা দলের সাধারণ কর্মীদের নামে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে। এজন্য তাদেরকে ঋণগ্রস্ত বা ঋণখেলাপী দেখানোর কোন সুযোগ নেই। আবার তাদের ক্ষমতা দেখেন, বিনা জামানতে তারা কোটি কোটি টাকা ঋণ পায়, কিন্তু আমি আপনি কি পাবো?
মাসুদ দাবি করেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে রাজপথে আন্দোলনের আগ্নেয়গিরি তৈরি করা হবে এবং আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য জাতিকে প্রস্তুতি নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১ দলের বৃহৎ বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশবাসীর প্রতি এই আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত নির্বাচনে চুরি, ডাকাতি ও নানা রকম ইঞ্জিনিয়ারিং করে তাদের নিশ্চিত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এত বড় অন্যায়ের পরও দেশে যাতে কোনো ধরনের গৃহযুদ্ধ বা চরম বিশৃঙ্খলা শুরু না হয়, মূলত সেই বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই সনদ যদি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে এবার আর সংসদে নয়, বরং রাজপথেই চূড়ান্ত ফয়সালার ব্যবস্থা করা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিভাগীয় সমাবেশে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক এবং এনসিপির নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।
সমাবেশে উপস্থিত দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন এবং যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাকে কখনোই ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেননি। এমনটাই দাবি করেছেন, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে অংশ নিয়ে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে যেয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁকে নিয়ে দুটি কথা বলেছেন, কিন্তু তাঁর বক্তব্যের কোথাও ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাস্টারমাইন্ড শব্দটি সাধারণত একটি নেতিবাচক বা কুখ্যাত অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিতে ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ বা নেপথ্যের চিন্তাকারী শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন।
পশ্চিমা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনায় এ ধরনের শব্দের ব্যবহার অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক হলেও বাংলাদেশে এটিকে ভিন্নভাবে এবং ভুল অর্থে উপস্থাপন করা হয়েছে।
একই সাথে তিনি তাঁর দাবি প্রসঙ্গে বলেন, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। পরিশেষে মাহফুজ আলম আক্ষেপ প্রকাশ করে দাবি করেন, তাঁকে ঘিরে তৈরি করা সমস্ত ব্যাখ্যা বা ন্যারেটিভগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্নভাবে ফ্রেম বা সাজানো হয়েছে, যার সাথে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া বাস্তব বক্তব্যের কোনো মিল নেই।
মন্তব্য