মৌলবাদের সঙ্গে আপস করলে ছোবল মারে: ইনু

মৌলবাদের সঙ্গে আপস করলে ছোবল মারে: ইনু

জাসদ সভাপতি বলেন, ‘রাজনৈতিক মোল্লারা বিএনপি-জামায়াতের ভাড়াটে খেলোয়াড়। তারা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কথা বলছে, সংবিধানের বিরুদ্ধে কথা বলছে। এদের ধ্বংস করা ছাড়া আর কোনও পথ নেই।’

সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তির পিঠ চাপড়ালে বা আপস করলে তারা ছোবল মারে মন্তব্য করে সরকারকে সতর্ক করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জাসদ কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে ইনু এ মন্তব্য করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতার প্রতিবাদে আয়োজিত ওই সমাবেশে ইনু বলেন, ‘এখানে মিটমাটের কোনো সুযোগ নেই।’

ভাস্কর্যবিরোধীদের সমালোচনা করে জাসদ সভাপতি বলেন, ‘রাজনৈতিক মোল্লারা বিএনপি-জামায়াতের ভাড়াটে খেলোয়াড়। তারা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কথা বলছে, সংবিধানের বিরুদ্ধে কথা বলছে। এদের ধ্বংস করা ছাড়া আর কোনও পথ নেই।’

ইনু বলেন, ‘সরকারের অনেক মন্ত্রী বলছেন, রাজনৈতিক মোল্লারা মূর্তি আর ভাস্কর্যের পার্থক্য করতে ভুল করছেন। একে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে দেখবেন না। এটি একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক চক্রান্ত।’

তিনি বলেন, ‘ভাস্কর্য বিরোধিতার নামে এটি সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র। ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, জাতির পিতা ও সংবিধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। তারা বঙ্গবন্ধুকে দ্বিতীয়বার হত্যার ষড়যন্ত্র করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব মোল্লা ভাস্কর্যের বিরোধিতা করছে, তারা কেউ আলেম-ওলামা নয়। তাদের একটি রাজনৈতিক দল আছে, নির্বাচনের মার্কা আছে। তারা কখনোই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করে না।’

সমাবেশ শেষে গুলিস্তান এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে জাসদ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় ইসলামী আন্দোলন

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় ইসলামী আন্দোলন

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের পদত্যাগ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে বায়তুল মোকাররমে সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বক্তব্যে বলেন, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে, এটা মিমাংসিত বিষয়। এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না।’

ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম নয় এবং অচিরেই সংসদে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার বিল উত্থাপন করা হবে বলে বক্তব্য দেয়ায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের পদত্যাগ ও শাস্তি দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

কুমিল্লায় কুরআন অবমাননাকারীদের বিচার এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান দলটির নেতারা।

পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও পদত্যাগ দাবি করা হয় সমাবেশ থেকে।

ঢাকা মহানগর ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত সমাবেশে কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি এবং দেশের অন্য জায়গায় সহিংসতার জন্য সরকারের বিভিন্ন মহলকে দায়ী করেন নেতারা।

ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বক্তব্যে বলেন, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে, এটা মিমাংসিত বিষয়। এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না।’

সম্প্রতি দেয়া তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও তার পদত্যাগ দাবি করেন দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি মাওলানা আরিফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি আরও কতটা ভয়াবহ হবে তা সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। সরকার যেভাবে বক্তব্য দিচ্ছে, তাতে সরকার আরেকটা দাঙ্গা করতে চায়। আমরা মনে করছি, সরকারের বিভিন্ন মহলের উসকানিতে কুমিল্লায় এ ঘটনা ঘটেছে।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে দপ্তর সম্পাদক লোকমান বলেন, ‘আপনি সংবিধান মানেন না, আপনাকে মন্ত্রী হিসেবে মানি না। উনার বিচার করতে হবে।’

সংগঠনের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা নেছার উদ্দিন বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে না পারলে পদত্যাগ করুন। এই সরকারকে পুতুল সরকার মনে করি।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ।

তিনি বলেন, ‘বাজার করে খাওয়ার সক্ষমতা হারাচ্ছে মানুষ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বাজারে গিয়ে খোঁজ নেন।’

কুমিল্লার ঘটনা ও পরের পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায়ি করেন ফজলে বারী মাসউদ। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনা ও পরের ঘটনার জন্য সরকার দায়ী।’

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী।

তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্র করবে। ইসলামের শত্রুরা এটা করেছে। সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকার না করে তদন্ত করে বের করেন এই ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে।

‘ইসলামের অবমাননা করলে প্রতিবাদ করা ঈমানি দায়িত্ব। একটা মহল আমাদের দেশে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বাধায়া দিতে এটা করেছে। হিন্দুরাও এটা করতে পারে না। হাজীগঞ্জে ৫-৬ জন মারা গেছেন। কেন গুলি করলেন।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে বয়কট করার আহ্বান জানান আল-মাদানী। তিনি বলেন, ‘মুরাদকে বয়কট করেন। ওর জানাজা হবে না, পানিতে ভাসায়া দাও। ওরা কাফেরদের থেকেও ভয়ঙ্কর।’

তিনি বলেন, ‘সব জিনিস ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। না কমাতে পারলে গদি থেকে নেমে যান।’

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি পল্টন মোড় হয়ে নাইটেঙ্গেল মোড়ে গিয়ে মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।

শেয়ার করুন

বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের অসাম্প্রদায়িক দল : মির্জা আব্বাস

বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের অসাম্প্রদায়িক দল : মির্জা আব্বাস

রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সরকারকে পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, এই সমস্ত নোংরামি ছাড়েন। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বহু পন্থা অবলম্বন করেছেন। খুন করেছেন, গুম করেছেন। আমাদের যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের দিয়ে জেলখানা ভরে ফেলেছেন। কোর্টে গেলে আমাদের লোক ছাড়া কাউকে দেখা যায় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে কোনো বিচার ব্যবস্থা নাই। আছে শুধু পুলিশ, আছে শুধু কোর্ট। আর এগুলো দিয়েই সরকার টিকে আছে।’

বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের একটি অসাম্প্রদায়িক দল ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত উচ্চ মানসিকতার একজন নেত্রী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

শনিবার রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একদিন রাতে হঠাৎ আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। জানতে চাইলেন আব্বাস কি করছেন? আমি বললাম ম্যাডাম ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি আমাকে বললেন ঘুমালে তো চলবে না। আপনি কিছু শোনেননি? আমি বললাম না ম্যাডাম। তিনি বললেন ভারতে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গা হচ্ছে। আপনি যান আপনার এলাকার মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। তিনি তখন খুব সুন্দরভাবে আমাদের দেশের মুসলমানদের ধৈর্য ধারণ করতে বলেছেন।

‘তাই এটা প্রমাণিত বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের একটি অসাম্প্রদায়িক দল ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত উচ্চ মানসিকতার একজন নেত্রী।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সরকারকে পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই এই সমস্ত নোংরামি ছাড়েন। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বহু পন্থা অবলম্বন করেছেন। খুন করেছেন, গুম করেছেন। আমাদের যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের দিয়ে জেলখানা ভরে ফেলেছেন। কোর্টে গেলে আমাদের লোক ছাড়া কাউকে দেখা যায় না।’

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘দেশে কোনো বিচার ব্যবস্থা নাই। আছে শুধু পুলিশ, আছে শুধু কোর্ট। আর এগুলো দিয়েই সরকার টিকে আছে।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘আজকে যারা লম্বা লম্বা কথা বলেন তাদেরকে চিনতে গেলে সার্চলাইট দিয়ে খুঁজতে হয় এরা কারা। তাদের নাম কি? বাপের পরিচয় কি? সাহস থাকলে আসেন আমাদের সঙ্গে একটু হাঁটুন। আমরা আপনাদের পাহাড়া দিব। সেই সাহস আপনাদের হবে না। আপনারা শুধু কাচের ঘরে বন্দি হয়ে লম্বা লম্বা কথা বলবেন আর বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার করবেন।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমাদের সময় বাংলাদেশে ৫০ হাজার পুলিশ ছিল। এখন বাংলাদেশে ৫ লাখ পুলিশ। এই যে বিশাল পুলিশবাহিনী কাকে পেটানোর জন্য? যদি ডাকাত ধরা না যায়, ব্যাংক লুটেরাদের ধরা না যায়, যদি চোর ধরা না যায়, যদি খুনি ধরা না যায়, যদি পূজামণ্ডপ ভাঙার লোক ধরা না যায় তাহলে এ পুলিশের কাজ কি? বিএনপিকে ঠেকানো? এটা বোধহয় বেশিদিন আর চলবেনা। কারণ সমস্ত কিছুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ কিন্তু একটা আছে। নিজ থেকেই আপনা-আপনি প্রতিরোধ ব্যবস্থা হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমি এখানে গাড়ি থেকে নামার সময় দেখলাম অনেক পুলিশ। আরে ভাই কেন? এটা কি জঙ্গি অফিস? এটাতো বিএনপি কার্যালয়। স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত একটি দোয়া মাহফিল হবে। এখানেও আপনারা আমাদেরকে বসতে দিবেন না।’

ঢাকার সাবেক এই মেয়র বলেন, ‘এটা ঠিক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত মানের চিকিৎসা দরকার। কিন্তু এই সরকার সেটা তো দিবে না। তিলে তিলে তাকে মেরে ফেলা সরকারের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই মাত্র ২ লাখ টাকার একটি মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দেশবাসী জানে ট্রাস্টের টাকা ট্রাস্টেই আছে। সেই দুই কোটি টাকা ব্যাংকে এখন ৮ কোটি টাকা হয়ে গেছে। সেই টাকার তিনি নিজেও খাননি ও বিদেশেও পাচার করেননি।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকে আপনাদের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ধরা পড়ছে। আপনার এক মন্ত্রী বলছেন চার হাজার কোটি টাকা নাকি কোনো বিষয় না। আর সে জায়গায় মাত্র ২ কোটি টাকার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেল খাটবেন এটা কোনো কথা হতে পারে না। আসল কথা হলো উনাকে আটকে রাখা, উনাকে তিলে তিলে হত্যা করা। এটাই হচ্ছে এই সরকারের পরিকল্পনা।’

মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবেক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারন সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী।

শেয়ার করুন

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশে উত্তেজনা: রিজভী

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশে উত্তেজনা: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। ফাইল ছবি

রিজভী বলেন, ‘তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছেন বিশ্ব বেহায়া এরশাদ। এরশাদ কার লোক? বিশ্ব বেহায়া এরশাদ তো শেখ হাসিনার সার্টিফায়েড বন্ধু। সরকারের অপকর্ম ঢাকার জন্য আগে বেফাঁস কথাবার্তার প্রতিযোগিতা ছিল ওবায়দুল কাদের এবং হাসান মাহমুদের মধ্যে।’

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বক্তব্যের কারণে দেশে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, ‘তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছেন বিশ্ব বেহায়া এরশাদ। এরশাদ কার লোক? বিশ্ব বেহায়া এরশাদ তো শেখ হাসিনার সার্টিফায়েড বন্ধু। সরকারের অপকর্ম ঢাকার জন্য আগে বেফাঁস কথাবার্তার প্রতিযোগিতা ছিল ওবায়দুল কাদের এবং হাসান মাহমুদের মধ্যে। তাদেরকে এখন টপকাতে চান এই অবৈধ তথ্য প্রতিমন্ত্রী।’

শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘এরপরে ঘটনা ঘটলো কুমিল্লায়। সারা দেশে টেনশন, উত্তেজনা, রক্তপাত। পুলিশ গুলি চালাচ্ছে। মানুষের প্রাণ ঝরছে। গতকাল চৌমুহনীতে উত্তেজনা বিরাজ করেছে। আজ ১৪৪ জারি করেছে। কেন এই পরিস্থিতি? ওই যে মুরাদ যে বক্তব্য রেখেছে তারপরেই এই ঘটনা।’

তিনি বলেন, ‘এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সকল অপকর্ম, জনবিরোধী কর্ম, রক্তপাত গুম-খুন আড়াল করার জন্য এবং দ্রব্যমূল্য যে বাড়তি সেগুলো আড়াল করার জন্য সরকারের এজেন্সির যে নীল নকশা, সেই নীল নকশারই একটা অংশ কুমিল্লার ঘটনা।’

রিজভী বলেন, ‘এদেশের কোনো মুসলমান বা হিন্দু এই ঘটনা ঘটাবে না, এটা আমাদের বিশ্বাস। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনের দেশ বাংলাদেশ। সেখানে আপনার আমলেই রামু, উখিয়া, টাঙ্গাইল, পাবনায় হিন্দুদের ওপর আক্রমণ হয়েছে এবং তাদের সম্পত্তি লুট হয়েছে।’

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবকদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েলসহ অনেকের বক্তব্য দেন।

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বিএনপির হাত আছে: ওবায়দুল কাদের

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বিএনপির হাত আছে: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না, কোনো হিন্দু ভাই আমাদের প্রাণের গ্রন্থ কোরআন শরিফ অবমাননা করতে পারে। বিএনপি চোখে রঙিন চশমা পরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

কুমিল্লার পূজামণ্ডপের ঘটনায় বিএনপির হাত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না, কোনো হিন্দু ভাই আমাদের প্রাণের গ্রন্থ কোরআন শরিফ অবমাননা করতে পারে। বিএনপি চোখে রঙিন চশমা পরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

শনিবার সকাল ১১টায় রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীত নষ্ট করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে কেউ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে দাঙ্গা লাগিয়ে পার পাবে না। সবাইকে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার করা হবে।’

কাদের বলেন, ‘আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জেলা থেকে কেউ এ রকম কোনো প্রার্থীর নাম পাঠাবেন না, যাকে মনোনয়ন দিলে সেটা সাধারণ জনগণ ও দলের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। নিজেদের পাল্লা ভারী করার জন্য কেউ এ রকম অযোগ্য প্রার্থীর নাম সুপারিশ করবেন না।’

কাদের বলেন, ‘রাজবাড়ী থেকে অনেকেই দলীয় পদপ্রত্যাশী রয়েছেন। আমি মনে করি, সবাই যোগ্য এবং সবাই দলকে সুসংগঠিত করার কাজ করছেন। দলে অনেকেরই অবদান রয়েছেন। তবে আমাদের একজনকেই সভাপতি এবং একজনকেই সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আশা করব যে-ই পদে আসুক আপনারা সবাই মিলে রাজবাড়ী আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবেন।’

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সানজিদা খানম, আনোয়ার হোসেন, শাহাবুদ্দীন ফরাজী, সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম ও ইকবাল হোসেন অপু, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সালমা চৌধুরী রুমাসহ অনেকে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য জিল্লুল হাকিম এবং সম্মেলন সঞ্চালনা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জেলার পাঁচ উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা সকালেই সম্মেলন স্থান শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানে আসতে থাকেন। সকালে জেলা শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন কিছু সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে চার কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন।

সম্মেলনকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শেয়ার করুন

পাকুন্দিয়ায় আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ৫

পাকুন্দিয়ায় আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ৫

পাকুন্দিয়া থানার ওসি সারোয়ার জাহান নিউজবাংলাকে জানান, এ ঘটনায় তিন পুলিশসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদেরকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশের তিন সদস্যসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।

উপজেলার পাটুয়াভাঙা ইউনিয়েনের দরগা বাজার এলাকায় কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ ও সাবেক সাংসদ সোহরাব উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে রাত সাড়ে ৮টার দিকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়তে বাধ্য হয় পুলিশ।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার জাহান নিউজবাংলাকে জানান, এ ঘটনায় তিন পুলিশসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদেরকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বর্তমান সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত আহ্বায়ক সোহরাব উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

কমিটি গঠনের পর থেকে নূর মোহাম্মদের সমর্থকদের বিরোধিতার মুখে সোহরাব উদ্দিন উপজেলা সদরে কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম করার সুযোগ পাচ্ছেন না। এ কারণে শুক্রবার সকালে নিজের বাড়ি পাটুয়াভাঙা ইউনিয়নের দরগা বাজার এলাকায় কমিটির সভা আহ্বান করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নূর মোহাম্মদের সমর্থকেরা খণ্ড খণ্ড মিছিল আকারে সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন। সেখান থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

সোহরাব উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৈধ কমিটি নিয়ে আমি আমার বাড়ির সামনে সভা করব, আর তারা সেটাতে বাধা প্রয়োগ করছে। বিভিন্নভাবে এলাকার শান্ত পরিবেশকে তারা নষ্ট করছে।

‘পুলিশের সহযোগিতায় তারা আমার বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়েছে। তারা আমার বাড়ির সামনে এসে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করছে৷ পুলিশ তাদেরকে বাধা না দিয়ে তামাশা দেখেছে।’

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

পরে যোগাযোগ করা হয় নূর মোহাম্মদের সমর্থক জেলা শ্রমিকলীগের উপদেষ্টা আতাউল্লাহ সিদ্দিক মাসুদের সঙ্গে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা রয়েছে, তাকে আমরা আমাদের উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে মেনে নিতে পারি না, মেনে নেব না। অবৈধ কমিটিকে প্রতিহত করার জন্য হাজারো নেতাকর্মী সেখানে অবস্থান নিয়েছে। তাকে প্রতিহত করা হবে।’

শেয়ার করুন

জবিসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

জবিসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

৩ জুন একটি বিক্ষোভ মিছিলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মেয়াদ শেষ হওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ ও তেজগাঁও কলেজের বর্তমান কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

মেয়াদ শেষ হওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ও পাঁচটি কলেজে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহদপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মেয়াদ শেষ হওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ ও তেজগাঁও কলেজের বর্তমান কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ছাত্রদলের প্রতিটি ইউনিটকে সুশৃঙ্খল, সুসংগঠিত ও গতিশীল করে গড়ে তুলতে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নতুন আহ্বায়ক কমিটি করা হবে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল শুক্রবার এক সাংগঠনিক সভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকারি মদদ: ফখরুল

সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকারি মদদ: ফখরুল

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে সংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী দল সব সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখেছে। আমাদের সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই অবৈধ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে, তাদের ক্ষমতা টিকে রাখার জন্য সব সময় বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন রকম সমস্যা তৈরি করছে।’

কুমিল্লার ঘটনা ও সাম্প্রদায়িক হামলাগুলোতে আওয়ামী লীগ সরকার মদদ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, সরকারি একটি মহলের ইঙ্গিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটে, যা দেশের ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়সংলগ্ন জামে মসজিদে শুক্রবার বাদ জুমা চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া-মিলাদ মাহফিল শেষে সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী দল সব সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখেছে। আমাদের সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই অবৈধ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে, তাদের ক্ষমতা টিকে রাখার জন্য সব সময় বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন রকম সমস্যা তৈরি করছে।’

তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে সরকার সংকটগুলোকে ভিন্ন দিকে সরিয়ে নিতে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে; যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। গতকালকেও এই বিষয়ে আমরা বিবৃতি দিয়েছি, নিন্দা জানিয়েছি। দ্রুত হামলাকারীদের চিহ্নিত করা হোক। বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন। তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। দেশকে উন্নত করার জন্য তার বহু অবদান রয়েছে। সেই নেত্রীকে আজকে অন্যায়ভাবে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি বর্তমানে করোনা-পরবর্তী নানা জটিলতা ও পুরোনো রোগে গুরুতর অসুস্থ।

‘দীর্ঘ চার বছর তাকে কারাগারে রাখার কারণে চিকিৎসা না হওয়ায় তিনি অনেক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তার হার্ট, কিডনি ও লিভারে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তার পুরোনো অসুখ আর্থ্রাইটিসও রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, তিনি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন। কিন্তু সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে।’ তিনি খালেদা জিয়া এবং গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য চট্টগ্রামবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।

দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন, সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, সদস্যসচিব মোস্তাক আহমেদ খান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলাসহ আরও অনেকে।

শেয়ার করুন