বিএনপি এখন কার নিয়ন্ত্রণে? খালেদা জিয়া নাকি তারেক রহমানের?
এই প্রশ্ন উঠার কারণ দুর্নীতির দুই মামলায় সাজা নিয়ে বিশেষ বিবেচনায় মুক্ত চেয়ারপারসন দল নিয়ে দৃশ্যত নীরব। সব সিদ্ধান্ত অনুমোদন করছেন একাধিক মামলায় সাজা নিয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থানকারী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
খালেদা জিয়া কারাগারের বাইরে থাকা অবস্থায় তারেকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন পদ থাকা নিয়েও দলটি কিছু বলছে না।
বিএনপি পরিচালনায় মা-ছেলের মধ্যে চিন্তা ভাবনায় পার্থক্য নিয়ে আলোচনা চলছে সেই ২০০১ সাল থেকেই।
ওই বছরে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমান বিএনপির রাজনীতির দৃশ্যপটে আসেন। এর আগ পর্যন্ত খালেদা বলয়ের বাইরে বিএনপিতে কোনো কিছু চিন্তা করা অসম্ভব হলেও তখন থেকেই তারেক বলয় নিয়ে আলোচনা চলছে।
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে আর ফেরেননি তারেক রহমান। এর মধ্যে দুর্নীতির একাধিক মামলার পাশাপাশি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজা হয়েছে তার।
শুক্রবার প্রবাসী নেতার জন্মদিন পালন করছে বিএনপি। যদিও করোনাকালে কেক কাটাসহ জমকালো কোনো আয়োজন রাখা হয়নি।
তারেক রহমানের জন্মদিনকে সামনে রেখে দলে বিভেদের বিষয়টি সামনে আসছে নতুন করে।
দলে কোনো বলয়ের প্রতি আগ্রহ নেই, এমন একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বর্তমান সংসদে বিএনপির নির্বাচিত যোগদানের বিষয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারেক রহমানের চিন্তাভাবনার পার্থক্য ছিল।
৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার পর নাটকীয়ভাবে সংসদে যোগ দেয় বিএনপি। শেষ মুহূর্তে লন্ডন থেকে এ সিদ্ধান্ত দেন তারেক রহমান। পরে খালেদা জিয়া এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
খালেদা জিয়া দণ্ডিত হওয়ার পর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পান তারেক রহমান। সেই থেকে দলটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন তিনি। তবে প্রায়ই দলের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কার সেটি নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি হয়।
গত বছর ছাত্রদলের একটি কমিটির বিলুপ্তি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এরকম একটি বিভেদ সৃষ্টি হয় বলে জানাচ্ছেন নেতারা।
গত ১৩ জুন রাতে বিএনপির শীর্ষ নেতারা খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে বৈঠকে বসেছিলেন। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে’ ছাত্রদলের ভূমিকা নিয়ে কথা হয়। বৈঠক চলাকালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সদ্য বাতিল হওয়া ছাত্রদলের কমিটির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুমতি ছাড়া ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
তখন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান বলেন, ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তে তারা কারাগারে খালেদা জিয়ার অনুমতি নিয়েছেন।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিয়ে ‘হ্যাঁ’ও বলেননি, ’না’ও বলেননি। তিনি বলেন, ‘আমি প্রায় চার বছর যাবত কোনো মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলি না। আপনি চেক করে দেখতে পারেন।’
২০১৮ সালের নির্বাচনে ২০ দলের শরিক স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের ‘ধানের শীষ’ প্রতীক দেওয়া নিয়েও বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে মতের অমিলের তথ্য আছে।
তারেক রহমানসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জামায়াতকে ধানের শীষ দিতে চাননি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কারাগার থেকে খালেদা জিয়ার বার্তা আসে জামায়াতকে ধানের শীষ দেওয়ার।
স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, ‘জামায়াতকে ছাড়ার জন্য চাপ আছে তা সত্য। কিন্তু, ঐক্যের লক্ষ্যেই জামায়াতকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হয়েছিল।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিএনপিতে দলের একটি অংশ যে বিদ্রোহ করে ‘সংস্কারপন্থী’ নাম নিয়ে সক্রিয় হয়, তার পেছনে তারেক রহমানের কর্তৃত্ব মানতে না পারার কথা খোলাখুলিই বলা হয়েছিল।
সংস্কারপন্থীরা দলের নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারার পর বেশিরভাগ বশ্যতা স্বীকার করে দলে ফিরেছেন। তারা চাইছেন খালেদা জিয়া আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হোন।
তারেক সমর্থকরা যুক্তি দিচ্ছেন, গত তিনটি নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দল পরিচালিত হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। তাদের অভিযোগ, জ্যেষ্ঠ বেশিরভাগ নেতা তারেক রহমানের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য কাজ করেন না, বরং আড়ালে তাঁর সমালোচনা করেন।
দলটির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম গোপনের শর্তে বলেন, ‘মা-ছেলের দ্বন্দ্বের কারণেই বিএনপি আজ ভগ্নদশায়। একজন অসুস্থ, আরেকজন বিদেশে। এভাবে একটি দল চলতে পারে না। নীতি-নির্ধারণের জায়গায় অসুস্থ ও বয়স্কদের সরিয়ে নতুনদের আনতে হবে। যারা দলে সক্রিয় অংশগ্রহণ রাখতে পারবেন।’
যদিও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দলে এ ধরনের বিভেদ আমরা এখন পর্যন্ত লক্ষ্য করিনি। অনুভবও করিনি। বিএনপি মানেই খালেদা, বিএনপি মানেই তারেক। যা খালেদা, তাই তারেক।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা এ ধরনের অভিযোগ তুলছেন তারা আসলে কোনো একটি নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চান। এই যে তারা বলছেন, দ্বন্দ্ব। দ্বন্দ্ব মানেই দূরত্ব। এতে করে বিএনপি আরও অস্তিত্বহীনতায় পরে যাবে।‘
খালেদা জিয়া মুক্ত থাকা স্বত্ত্বেও তারেক রহমান দলটির চেয়ারপার্সনের দায়িত্বে রয়েছেন কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে গয়েশ্বর বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান এ দায়িত্ব পেয়েছেন। ম্যাডামের অনুপস্থতিতে তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দলকে সক্রিয় রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তবে তা গঠনতন্ত্রের বাইরে নয়।’
খালেদা জিয়া কারাগারের বাইরে এলে তারই তো আবার দলের নিয়ন্ত্রণ নেয়া কথা। তাহলে আবার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন কেন- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আপনারা কেউই ম্যাডামের মুক্তির পেছনের সকল শর্তকে সামনে আনতে পারেননি। আমিও বলতে চাই না। শুধু এইটুকু বলব। এই যে বলা হয়েছে তিনি চিকিৎসা পর্যন্ত ঘরে বসে করবেন। এর মানে কী দাঁড়ায়?
‘তিনি এখনও এক রকম বন্দিই আছেন। সেই অবস্থায় তিনি কীভাবে দলের দায়িত্ব নেবেন?’
সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বিএনপির জন্য দুজনকেই সমানভাবে দরকার। যারা দীর্ঘদিন যাবত দলের অনুসারী, তারা খালেদা জিয়াকে এক অনন্য জায়গা দিয়ে রেখেছেন। তাই তাদের মন রাখতে খালেদা জিয়ার ভূমিকা অনেক বেশি।
আবার তিনি যেহেতু অসুস্থ, আরও কিছু বাধ্যবাধকতা আছে। সেক্ষেত্রে দলে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে এমন কাউকে দরকার। আর এই মুহূর্ত তার জন্য উপযুক্ত হলেন তারেক রহমান।’
পরিবারের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, চলতি বছরেও প্রার্থী বদল নিয়ে রাগ অভিমান পর্ব চলে মা-ছেলের মধ্যে। গত সেপ্টেম্বরে ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে তারেক রহমান চেয়েছিলেন মনোনয়ন পাবেন নবীউল্লাহর নবী। তবে খালেদা জিয়ার পছন্দ ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।
যদিও স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি ঠিক এমন নয়। উনি (তারেক রহমান) ম্যাডামের সঙ্গে আলাপ করেই সিদ্ধান্ত নেন। আমরাও তাকে বলি আপনি আপনার মায়ের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেন।’
দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী এম শাহজাহান ওমর স্পষ্টত খালেদা জিয়ার পক্ষে। তিনি বলেন, ‘তারেক সাহেব থাকেন লন্ডনে। লন্ডনে বসে কথা বলা বা ভাব আদান-প্রদান করা তো ডিফিকাল্ট জব। মাঝে মাঝে তিনি স্কাইপে কথা বলেন। এতে পার্টিকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন? তারেক সাহেব কতখানি চালাতে পারবেন, আপনারাও দেখেন, আমিও দেখি।’
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) মাহবুবুল হক নান্নু বলেন, ‘শাহজাহান ওমরের বক্তব্যের আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আমাদের ঐক্যের প্রতীক। তিনি কখনোই মনেপ্রাণে বিএনপি করেননি। পরিস্থিতির কারণে বিএনপি করেছেন।’
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কেউ সরিয়ে রাখেননি। তাকে সরানোর এখতিয়ারও কারও নেই। তিনি চাইলে যে কোনো সময় চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নিতে পারেন।’
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলামের সঙ্গে বুধবার (১৭ জুন) সাক্ষাৎ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা।
উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও উপউপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. সফিকুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সকল নেতারা এবং কর্মীদের শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। উপউপাচার্যরা বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হোক। শিক্ষার্থীবান্ধব সকল কাজে এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে ছাত্রদলকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।’ উপউপাচার্যরা আরও বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন রয়েছে, এসব স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছাত্রদলের সহযোগিতা লাগবে।’ উপস্থিত সবাইকে মাননীয় উপউপাচার্যরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ছাত্রদলের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা এবং নানা বিষয়ে উপউপাচার্যদের অবহিত করেন। বিশেষ করে আবাসন, নিরাপত্তাহীনতা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন নেতারা।
শাখা ছাত্রদলের নেতারা নবনিযুক্ত উপউপাচার্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন ছাত্রদলের নেতারা।
এ সময় বক্তব্য রাখেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দীন মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় প্রমুখ। এ সময় শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতারা এবং কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: সংগৃহীত
ছাত্রশিবিরের গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো এবং ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটনের প্রতিবাদে রাজধানী শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল। শনিবার (১৩ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত এই বিক্ষোভ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
রাত ৯টায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন এবং মিছিলজুড়ে তারা ছাত্রশিবিরের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে নানা প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা গণমাধ্যমকে জানান, ছাত্রশিবির রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে গুম ও অপহরণের সাজানো নাটক তৈরি করছে, যা প্রকৃতপক্ষে গুমের শিকার হওয়া আসল ভুক্তভোগীদের চরম অবমাননার শামিল।
এছাড়া অনলাইনে সংঘবদ্ধ চক্র তৈরি করে তারা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মিথ্যা দোষারোপ ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।
একই সাথে শিবিরের গুপ্ত নেতাকর্মীদের দ্বারা বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ নানা ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটনের যে প্রমাণ মিলছে, তারই তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাতে ছাত্রদল রাজপথে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
রাশেদ খান। ফাইল ছবি
জামায়াতে ইসলামী কখনো ক্ষমতায় গেলে তারা আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট হবে এবং তখন কারও রক্ষা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। শনিবার (১৩ জুন) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য ও অভিযোগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্টের ওপর ঘটে যাওয়া একটি সাইবার জটিলতার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি জামায়াত-শিবিরের কড়া সমালোচনা করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, তাঁর লেখালেখির কারণে জামায়াত-শিবিরের নাকি খুব ক্ষতি হচ্ছে, আর সে কারণেই বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে তুরস্ক থেকে ১৬টিরও বেশি ভুয়া কপিরাইট ক্লেইম বা অভিযোগ করে তাঁর ফেসবুক আইডি আট দিনের জন্য সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ আট দিন পর শনিবার তিনি পুনরায় তাঁর আইডিতে পোস্ট করার সুযোগ পেলেও কপিরাইট ক্লেইমগুলোর এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
তিনি কিছু গণমাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করেছিলেন যার জন্য সংশ্লিষ্ট কোনো মিডিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি বা কপিরাইট ক্লেইম করা হয়নি, বরং তুরস্ক থেকে জামায়াত-শিবিরের নিয়োগকৃত লবিস্ট টিম এই কাজ পরিচালনা করেছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নেতা রাশেদ খান অভিযোগ করেন যে, জামায়াত-শিবির মূলত কোনো ধরনের ভিন্নমতে বিশ্বাস করে না। তাঁর আইডিতে চালানো সাম্প্রতিক সাইবার আক্রমণ এবং তাঁর মা-বাবাকে তুলে গালিগালাজ করাই দলটির এমন মানসিকতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
জামায়াত-শিবির তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওদের ভুয়া ও মিথ্যা ন্যারেটিভ সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল সম্পর্কে আমাদের এখন থেকেই সোচ্চার হতে হবে। অন্যথায় তারা যদি কখনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পায়, তবে ১৯৭১ সালে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ তারা অত্যন্ত কঠিনভাবেই নেবে বলে তাঁর আশঙ্কা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি অভিযোগ করেছেন, ওই সময়ে ক্ষমতাকেন্দ্রিক একটি বিশাল ‘বাণিজ্যকেন্দ্র’ গড়ে উঠেছিল। ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তাদের তিনি ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই গোষ্ঠীর বর্তমান পরিস্থিতি, তাদের কর্মকাণ্ড এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের নানা খতিয়ান তুলে ধরেন।
গোলাম মাওলা রনি ব্যাখ্যা করেন, এই ‘কোম্পানি’র মূলত কয়েকটি প্রভাবশালী অংশ ছিল। প্রথম অংশটি হলো শীর্ষস্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী গ্রুপ, যারা ওই সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বড় বড় সুবিধা লুটে নিয়েছে। দ্বিতীয় অংশটিতে ছিলেন আমলাতন্ত্র, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সামরিক বাহিনীর এমন কিছু সদস্য, যাদের বাড়ি চট্টগ্রামে কিংবা যারা ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক পরিবারের সাথে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। এছাড়া এনজিও এবং ব্যাংকিং খাতের একটি বড় চক্র এই সময়ে জড়িত ছিল, যারা বিভিন্ন ছোটখাটো জরিপ বা রিপোর্টের নামে শত শত কোটি টাকার ফান্ড এনে নিজেদের মতো করে খরচ করেছে।
অর্থনৈতিক লুটপাটের অভিযোগ তুলে এই কলামিস্ট বলেন, বিগত সরকারের আমলে যেখানে বৈদেশিক ঋণ ছিল ১০০ বিলিয়ন ডলার, ইউনূস সরকারের ১৮ মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে। এই অতিরিক্ত ২০ বিলিয়ন ডলার বা আড়াই লাখ কোটি টাকা কোথায় ব্যয় হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সাথে বিভিন্ন বড় ব্যবসায়ীকে ঋণ মওকুফ ও রিশিডিউলের নামে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের লাখ লাখ কোটি টাকা শেষ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। রনির মতে, এডিপি ও অন্যান্য প্রকল্প মিলিয়ে গত দুই বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন বা পাবলিক ওয়ার্কস হয়নি।
ভিডিওর শেষ অংশে তিনি এই গোষ্ঠীর নৈতিক অবক্ষয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন এই কোম্পানির শীর্ষ ব্যক্তিরা প্রতিপক্ষকে নাজেহাল ও অপমান করতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রদর্শন করেছিলেন, যার কারণে এখন তাদের কোনো ‘মোরাল কারেজ’ বা নৈতিক শক্তি অবশিষ্ট নেই। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির কারণেই বর্তমানে ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একটি বড় অংশ তাদের রূপ বদলে বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের সাথে সমঝোতা বা একীভূত হয়েছে, একাংশ নিজেদের চেহারা লুকিয়ে ফেলেছে এবং বাকি অংশটি বিচার এড়াতে ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
জাতীয় সংসদে নিজেদের পারফরম্যান্স বাড়াতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছ থেকে ‘রাজনৈতিক ক্লাস’ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। বুধবার (১০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, গত অধিবেশনে খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে এবার জামায়াতের এমপিদের ইসলামী ব্যাংকের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে সংসদে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন কোর্সের বা সিলেবাসের বাইরের বিষয় নিয়ে কথা বলা শুরু করেন, তখন জামায়াতের এমপিরা রীতিমতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান। তাদের রাতদিনের প্রশিক্ষণ যেন মুহূর্তেই বৃথা হয়ে গেল। এই পরিস্থিতিতে সংসদে ভালো করতে হলে তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকেই রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। অন্যথায়, একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জামায়াতের ৬৮ জন এমপির এভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়াটা অত্যন্ত লজ্জাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা তার পোস্টে আরও বলেন, আগে মানুষের ধারণা ছিল জামায়াতের লোকেরা বেশি শিক্ষিত এবং তাদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণও বেশ উন্নত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, দলে মনোযোগী ছাত্র থাকলেও দক্ষ প্রশিক্ষকের বড়ই অভাব রয়েছে। তাই শেখার যেহেতু কোনো শেষ নেই এবং শিখতে কোনো লজ্জাও নেই, জামায়াতের এমপিরা নির্দ্বিধায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ক্লাস করতে পারেন।
পরিশেষে তিনি জানান, তারা জামায়াতে ইসলামীকে সংসদে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে দেখতে চান। বিরোধী দল হিসেবে তারা দুর্বল হলে দেশের মানুষ সংসদে পুনরায় আওয়ামী লীগের শূন্যতা অনুভব করতে শুরু করবে, যা মোটেও কাম্য নয়।
আবু সাইদ আহমদ। ছবি: নিউজ বাংলা
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার সন্তান ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বিএনপির নেতা আবু সাইদ আহমদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি মনোনীত হয়েছেন। সম্প্রতি ঘোষিত ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে তাকে সহসভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জানা যায়, আবু সাইদ আহমদ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। তিনি ২০০৬ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা ১৭ বছর যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৩ সালে গঠিত যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদায় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মনোনীত হন।
ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সে সময় তিনি ঢাকার তৎকালীন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি এবং মতিঝিল থানা যুবদলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে স্বপরিবারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাস করছেন।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতির সঙ্গে ইনসাফ করতে পারেনি। তারা ইনসাফ করতে পারলে দেশের চিত্র ভিন্ন হতো। মঙ্গলবার (৯ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে ‘ছায়াবাজেট’ প্রস্তাবনা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেও ফলাফল সুষ্ঠু হয়নি। জনগণের প্রত্যাশার পূর্ণ প্রতিফলন নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, আমরা যে বাজেট পেশ করছি, তা বাস্তবায়নের জন্য সততা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য। সততা ও জবাবদিহিতা না থাকলে সরকার যত বড় বাজেটই দিক না কেন, সেটি কার্যকর হবে না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের বিদ্যমান কর ব্যবস্থা বা ট্যাক্সেশন প্রক্রিয়ায় নানা ত্রুটি রয়েছে। এসব দুর্বলতা দূর করে রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করবে বিরোধী দল।
বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা যে বাজেট পেশ করতে যাচ্ছি, তার আসল বিচারক হবে জনগণ। বাজেটের প্রস্তাবনা যদি জনস্বার্থের বিপক্ষে যায়, তাহলে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে আমাদের সহযোগিতা করবেন।
এ সময় তিনি জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। জনগণের কল্যাণ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্তব্য