১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল ব্যবস্থাকে দ্বিতীয় বিপ্লব আখ্যায়িত করে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন দেশের উন্নয়ন করা। বাকশাল গঠনের পর তিনি পরিকল্পনা মতো পাঁচ বছর কাজ করতে পারলেই বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারত।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে আনা সাধারণ প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন জাতির জনকের কন্যা।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, শোষিতের গণতন্ত্র কায়েম করা, গণতন্ত্রকে বিকেন্দ্রীকরণ করে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা- এটাই ছিল জাতির পিতার স্বপ্ন। এই স্বপ্নটা বাস্তবায়ন করা, এটাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছে।’
আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর বাকশাল করার পটভূমি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ দেশের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে দ্রুত কীভাবে উন্নতি করবেন। বাংলাদেশের আর্থসামজিক উন্নয়ন ছিল তার উদ্দেশ্য।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে উৎপাদন বৃদ্ধি করা, দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা এটাই ছিল তার লক্ষ্য। এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তিনি যে কাজগুলো করে গিয়েছিলেন সেটার সমালোচনা এমনভাবে শুরু হয়ে গেল, দুর্ভাগ্য যে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। আর এই হত্যা করার ফলে এই কাজ তিনি সস্পূর্ণ করে যেতে পারলেন না। কিন্তু তিনি করতে চেয়েছিলেন সেটাই বড় কথা।’
১৯৭৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু জরুরি অবস্থা জারি করেন। আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত করে গঠন করেন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ বা বাকশাল। তখন এটি আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর) এবং জাতীয় লীগ নিয়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট ছিল।
১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীবলে বহুদলীয় সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। দেশের সমগ্র রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে বাকশাল নামক এই এক রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়।
তবে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলে বাকশালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৭৮ সালে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের উদ্যোগ নিলে আওয়ামী লীগ আবার কার্যক্রম শুরু করে। তবে বাকশাল নামেও একটি রাজনৈতিক দল কাজ চালিয়ে যায়, পরে আওয়ামী লীগে একীভূত হয় সেটি।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবে সংসদ সদস্যরা বাকশাল প্রসঙ্গ না তোলার পর জাতির জনকের কন্যা বলেন, ‘আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য অনেক বিষয় বলেছেন। তবে এই বিষয়টা কিন্তু খুব ভালোভাবে আসেনি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু) একদলীয় শাসন ব্যবস্থা করেছেন, এটা করেছেন, ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চেয়েছেন, নানা ধরনের কথা বলেছে। আজকে আমি সেই বিষয়ে কিছু বক্তব্য রাখতে চাই।
‘জাতির পিতা বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন করে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেই তিনি দ্রুত জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্র যখন তার এই যাত্রা পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করল এবং দুর্ভিক্ষ ঘটিয়ে এ দেশের মানুষকে হত্যা করল। রাতের আঁধারে গণপরিষদ সদস্য ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের হত্যা করা শুরু করল। এমনকি ঈদের নামাজে পর্যন্ত সংসদ সদস্যকে হত্যা করা হলো।
‘হাজার হাজার আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীকে হত্যা করা, পাটের গুদামে আগুন দেয়া, থানা লুট করা, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টি তৈরি হয়। নানা ধরনের ঘটনা যখন ঘটতে থাকে তখন তিনি এই দ্বিতীয় বিল্পবের কর্মসূচি ঘোষণা দেন।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের প্রথম যে সভাটা হয়, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সভা সেই সভায় তিনি কতগুলো কথা বলেছিলেন।’
বঙ্গবন্ধুর ৭৫ সালের ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেয়া ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত নাই। একটা লোককে আপনি ভিক্ষা দেন- এক টাকা অথবা আট আনা পয়সা। একটা জাতি যখন ভিক্ষুক হয় মানুষের কাছে হাত পাতে, আমাকে খাবার দাও, আমাকে টাকা দাও- সেই জাতির ইজ্জত থাকে না। আমি সেই ভিক্ষুক জাতির নেতা থাকতে চাই না।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষ সম্মান নিয়ে চলুক- সেটাই তিনি চেয়েছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, আঘাত করতে চাই এই ঘুনে ধরা সমাজ ব্যবস্থাকে। আমি আপনাদের সমর্থন চাই। আমি জানি আপনাদের সমর্থন আছে।
‘একটা কথা এই যে নতুন সিস্টেমে যেতে চাচ্ছি আমি। গ্রামে গ্রামে বহুমুখি কোঅপারেটিভ করা হবে। ভুল করবেন না। আমি আপনাদের জমি নেব না। পাঁচ বছরের প্লান। এই বাংলাদেশ ৬৫ হাজার গ্রামে কোঅপারেটিভ হবে। প্রত্যেকটি গ্রামে গ্রামে এই কোঅপারেটিভে জমির মালিকের জমি থাকবে।
‘যে বেকার, প্রত্যেকটি মানুষ কাজ করতে পারে তাকে কোঅপারেটিভের সদস্য হতে হবে। এইগুলো বহুমুখি কোঅপারেটিভ হবে। পয়সা যাবে তাদের কাছে। ফার্টিলাইজার যাবে তাদের কাছে। টেস্ট রিলিফ যাবে তাদের কাছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেখানে আরও বলেছিলেন, জাপানে যদি এত ফসল হয় তবে আমাদের দেশে কেনো হবে না। আমরা এখন কৃষি যান্ত্রিকীকরণ করছি। তবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এর কথা জাতির পিতাই চিন্তা করেছিলেন।
‘এই কোঅপারেটিভের মাধ্যমে জমি চাষ হবে। তিনগুণ ফসল হবে এবং সেই ফসল যে সমস্ত অনুপস্থিত মালিকরা আছেন তারাও তার ভাগ পাবে। যারা শ্রম দিবে তারাও ভাগ পাবে।’
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘তিনি কী করতে চেয়েছিলেন? কী সিস্টেম করতে চেয়েছিলেন? তিনি যা চেয়েছিলেন আমি তার বক্তৃতা থেকেই আপনাদের জানাচ্ছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা এমন একটি সিস্টেম করতে চেয়েছিলেন যেখানে মানুষ তার সাথে কানেক্টেড থাকে। তিনি পিপলস পাওয়ার জনগণের ক্ষমতার কথা বলেছিলেন। জনগণের হাতে তিনি দিতে চেয়েছিলেন।
‘যেখানেই ভালো লোক আছে তাদের একসাথে করে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। নতুনভাবে সবকিছু ঢেলে সাজিয়ে ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে দেশের উন্নতি করতে চেয়েছিলেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্টেপ নিয়েছিলেন। তিনি দেশটাকে গড়ে তোলার জন্য কাজ করেছিলেন। তার মধ্যে একটা তাগাদা ছিল। পুরো জিনিসটাকে তিনি একটা ধারাবাহিকতার মধ্যে নিয়ে আসতে চাচ্ছিলেন; যাতে উন্নতিটা একেবারের সেই তৃণমূল পর্যায় থেকে ছড়ায়। সেটাই ছিল জাতির পিতার একমাত্র লক্ষ্য।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা ২৫ শে জানুয়ারি ১৯৭৫ সালে যখন এই পার্লামেন্টে সিস্টেমটা চেঞ্জ করে বিল নিয়ে এসেছিলেন। তখন ভাষণে বলেন, আমার দেশের মানুষ দুঃখী, না খেয়ে কষ্ট পায়। গায়ে কাপড় নাই। শিক্ষার আলো তারা পায় না। রাতে একটা হারিকেন জ্বালাতে পারে না। নানা অসুবিধার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তারা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো জাতির পিতার একমাত্র লক্ষ্য। কাজেই তিনি এই কনস্টিটিউশন অ্যামেন্ডমেন্ড যেটা করেছিলেন, সেটা আগেই বলেছি, পাঁচ বছরের প্লান নিয়েছিলেন। আমি বিশ্বাস করি এই পাঁচ বছর তিনি যদি এটা করতে পারতেন বাংলাদেশ আজকে বিশ্বে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারত। দুর্ভাগ্য সেটা তাকে করতে দেওয়া হলো না। ১৫ আগস্টের ঘটনা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হলো।’
বাকশাল আমলের নির্বাচনের প্রশংসা
বাকশাল কায়েমের পর কিশোরগঞ্জ সদর আসনে উপনির্বাচন নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই আসন থেকে নির্বাচিত হওয়া সৈয়দ নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এই উপনির্বাচন হয়।
তখন লড়াই হয় রাষ্ট্রপতি ভাই সৈয়দ ওয়াহিদুল ইসলাম ও স্কুল শিক্ষক আশরাফ উদ্দিন আহমেদের মধ্যে। জিতে যান আশরাফ উদ্দিন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওনার (বঙ্গবন্ধু) চিন্তাটা যে কতটা সঠিক ছিল, সেটাই বোঝা যায় একজন স্কুল টিচার জিতে আসতে পারায়।
‘তিনি (বঙ্গবন্ধু) নিজে বলেছেন, একটা বিপ্লবের পর সমাজে একটা বিবর্তন আসে। দেখা যায় যাদের টাকা আছে পয়সা আছে পেশীর জোর আছে, তখন অস্ত্রের জোরটা বড়, দেখা গেল যার অস্ত্রের জোর, সেই জিতে আসল।’
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলামের সঙ্গে বুধবার (১৭ জুন) সাক্ষাৎ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা।
উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও উপউপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. সফিকুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সকল নেতারা এবং কর্মীদের শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। উপউপাচার্যরা বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হোক। শিক্ষার্থীবান্ধব সকল কাজে এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে ছাত্রদলকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।’ উপউপাচার্যরা আরও বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন রয়েছে, এসব স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছাত্রদলের সহযোগিতা লাগবে।’ উপস্থিত সবাইকে মাননীয় উপউপাচার্যরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ছাত্রদলের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা এবং নানা বিষয়ে উপউপাচার্যদের অবহিত করেন। বিশেষ করে আবাসন, নিরাপত্তাহীনতা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন নেতারা।
শাখা ছাত্রদলের নেতারা নবনিযুক্ত উপউপাচার্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন ছাত্রদলের নেতারা।
এ সময় বক্তব্য রাখেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দীন মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় প্রমুখ। এ সময় শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতারা এবং কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: সংগৃহীত
ছাত্রশিবিরের গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো এবং ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটনের প্রতিবাদে রাজধানী শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল। শনিবার (১৩ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত এই বিক্ষোভ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
রাত ৯টায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন এবং মিছিলজুড়ে তারা ছাত্রশিবিরের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে নানা প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা গণমাধ্যমকে জানান, ছাত্রশিবির রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে গুম ও অপহরণের সাজানো নাটক তৈরি করছে, যা প্রকৃতপক্ষে গুমের শিকার হওয়া আসল ভুক্তভোগীদের চরম অবমাননার শামিল।
এছাড়া অনলাইনে সংঘবদ্ধ চক্র তৈরি করে তারা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মিথ্যা দোষারোপ ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।
একই সাথে শিবিরের গুপ্ত নেতাকর্মীদের দ্বারা বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ নানা ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটনের যে প্রমাণ মিলছে, তারই তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাতে ছাত্রদল রাজপথে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
রাশেদ খান। ফাইল ছবি
জামায়াতে ইসলামী কখনো ক্ষমতায় গেলে তারা আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট হবে এবং তখন কারও রক্ষা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। শনিবার (১৩ জুন) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য ও অভিযোগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্টের ওপর ঘটে যাওয়া একটি সাইবার জটিলতার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি জামায়াত-শিবিরের কড়া সমালোচনা করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, তাঁর লেখালেখির কারণে জামায়াত-শিবিরের নাকি খুব ক্ষতি হচ্ছে, আর সে কারণেই বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে তুরস্ক থেকে ১৬টিরও বেশি ভুয়া কপিরাইট ক্লেইম বা অভিযোগ করে তাঁর ফেসবুক আইডি আট দিনের জন্য সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ আট দিন পর শনিবার তিনি পুনরায় তাঁর আইডিতে পোস্ট করার সুযোগ পেলেও কপিরাইট ক্লেইমগুলোর এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
তিনি কিছু গণমাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করেছিলেন যার জন্য সংশ্লিষ্ট কোনো মিডিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি বা কপিরাইট ক্লেইম করা হয়নি, বরং তুরস্ক থেকে জামায়াত-শিবিরের নিয়োগকৃত লবিস্ট টিম এই কাজ পরিচালনা করেছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নেতা রাশেদ খান অভিযোগ করেন যে, জামায়াত-শিবির মূলত কোনো ধরনের ভিন্নমতে বিশ্বাস করে না। তাঁর আইডিতে চালানো সাম্প্রতিক সাইবার আক্রমণ এবং তাঁর মা-বাবাকে তুলে গালিগালাজ করাই দলটির এমন মানসিকতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
জামায়াত-শিবির তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওদের ভুয়া ও মিথ্যা ন্যারেটিভ সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল সম্পর্কে আমাদের এখন থেকেই সোচ্চার হতে হবে। অন্যথায় তারা যদি কখনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পায়, তবে ১৯৭১ সালে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ তারা অত্যন্ত কঠিনভাবেই নেবে বলে তাঁর আশঙ্কা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি অভিযোগ করেছেন, ওই সময়ে ক্ষমতাকেন্দ্রিক একটি বিশাল ‘বাণিজ্যকেন্দ্র’ গড়ে উঠেছিল। ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তাদের তিনি ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই গোষ্ঠীর বর্তমান পরিস্থিতি, তাদের কর্মকাণ্ড এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের নানা খতিয়ান তুলে ধরেন।
গোলাম মাওলা রনি ব্যাখ্যা করেন, এই ‘কোম্পানি’র মূলত কয়েকটি প্রভাবশালী অংশ ছিল। প্রথম অংশটি হলো শীর্ষস্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী গ্রুপ, যারা ওই সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বড় বড় সুবিধা লুটে নিয়েছে। দ্বিতীয় অংশটিতে ছিলেন আমলাতন্ত্র, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সামরিক বাহিনীর এমন কিছু সদস্য, যাদের বাড়ি চট্টগ্রামে কিংবা যারা ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক পরিবারের সাথে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। এছাড়া এনজিও এবং ব্যাংকিং খাতের একটি বড় চক্র এই সময়ে জড়িত ছিল, যারা বিভিন্ন ছোটখাটো জরিপ বা রিপোর্টের নামে শত শত কোটি টাকার ফান্ড এনে নিজেদের মতো করে খরচ করেছে।
অর্থনৈতিক লুটপাটের অভিযোগ তুলে এই কলামিস্ট বলেন, বিগত সরকারের আমলে যেখানে বৈদেশিক ঋণ ছিল ১০০ বিলিয়ন ডলার, ইউনূস সরকারের ১৮ মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে। এই অতিরিক্ত ২০ বিলিয়ন ডলার বা আড়াই লাখ কোটি টাকা কোথায় ব্যয় হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সাথে বিভিন্ন বড় ব্যবসায়ীকে ঋণ মওকুফ ও রিশিডিউলের নামে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের লাখ লাখ কোটি টাকা শেষ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। রনির মতে, এডিপি ও অন্যান্য প্রকল্প মিলিয়ে গত দুই বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন বা পাবলিক ওয়ার্কস হয়নি।
ভিডিওর শেষ অংশে তিনি এই গোষ্ঠীর নৈতিক অবক্ষয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন এই কোম্পানির শীর্ষ ব্যক্তিরা প্রতিপক্ষকে নাজেহাল ও অপমান করতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রদর্শন করেছিলেন, যার কারণে এখন তাদের কোনো ‘মোরাল কারেজ’ বা নৈতিক শক্তি অবশিষ্ট নেই। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির কারণেই বর্তমানে ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একটি বড় অংশ তাদের রূপ বদলে বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের সাথে সমঝোতা বা একীভূত হয়েছে, একাংশ নিজেদের চেহারা লুকিয়ে ফেলেছে এবং বাকি অংশটি বিচার এড়াতে ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
জাতীয় সংসদে নিজেদের পারফরম্যান্স বাড়াতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছ থেকে ‘রাজনৈতিক ক্লাস’ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। বুধবার (১০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, গত অধিবেশনে খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে এবার জামায়াতের এমপিদের ইসলামী ব্যাংকের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে সংসদে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন কোর্সের বা সিলেবাসের বাইরের বিষয় নিয়ে কথা বলা শুরু করেন, তখন জামায়াতের এমপিরা রীতিমতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান। তাদের রাতদিনের প্রশিক্ষণ যেন মুহূর্তেই বৃথা হয়ে গেল। এই পরিস্থিতিতে সংসদে ভালো করতে হলে তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকেই রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। অন্যথায়, একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জামায়াতের ৬৮ জন এমপির এভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়াটা অত্যন্ত লজ্জাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা তার পোস্টে আরও বলেন, আগে মানুষের ধারণা ছিল জামায়াতের লোকেরা বেশি শিক্ষিত এবং তাদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণও বেশ উন্নত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, দলে মনোযোগী ছাত্র থাকলেও দক্ষ প্রশিক্ষকের বড়ই অভাব রয়েছে। তাই শেখার যেহেতু কোনো শেষ নেই এবং শিখতে কোনো লজ্জাও নেই, জামায়াতের এমপিরা নির্দ্বিধায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ক্লাস করতে পারেন।
পরিশেষে তিনি জানান, তারা জামায়াতে ইসলামীকে সংসদে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে দেখতে চান। বিরোধী দল হিসেবে তারা দুর্বল হলে দেশের মানুষ সংসদে পুনরায় আওয়ামী লীগের শূন্যতা অনুভব করতে শুরু করবে, যা মোটেও কাম্য নয়।
আবু সাইদ আহমদ। ছবি: নিউজ বাংলা
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার সন্তান ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বিএনপির নেতা আবু সাইদ আহমদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি মনোনীত হয়েছেন। সম্প্রতি ঘোষিত ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে তাকে সহসভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জানা যায়, আবু সাইদ আহমদ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। তিনি ২০০৬ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা ১৭ বছর যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৩ সালে গঠিত যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদায় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মনোনীত হন।
ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সে সময় তিনি ঢাকার তৎকালীন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি এবং মতিঝিল থানা যুবদলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে স্বপরিবারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাস করছেন।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতির সঙ্গে ইনসাফ করতে পারেনি। তারা ইনসাফ করতে পারলে দেশের চিত্র ভিন্ন হতো। মঙ্গলবার (৯ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে ‘ছায়াবাজেট’ প্রস্তাবনা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেও ফলাফল সুষ্ঠু হয়নি। জনগণের প্রত্যাশার পূর্ণ প্রতিফলন নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, আমরা যে বাজেট পেশ করছি, তা বাস্তবায়নের জন্য সততা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য। সততা ও জবাবদিহিতা না থাকলে সরকার যত বড় বাজেটই দিক না কেন, সেটি কার্যকর হবে না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের বিদ্যমান কর ব্যবস্থা বা ট্যাক্সেশন প্রক্রিয়ায় নানা ত্রুটি রয়েছে। এসব দুর্বলতা দূর করে রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করবে বিরোধী দল।
বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা যে বাজেট পেশ করতে যাচ্ছি, তার আসল বিচারক হবে জনগণ। বাজেটের প্রস্তাবনা যদি জনস্বার্থের বিপক্ষে যায়, তাহলে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে আমাদের সহযোগিতা করবেন।
এ সময় তিনি জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। জনগণের কল্যাণ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্তব্য