20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
একটি ফুল কুড়িতেই শেষ হয়ে যায়

শেখ রাসেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এনিমেটেড ডকুমেন্টারি ‘বুবুর দেশ’ দেখেন শেখ হাসিনা। ছবি পিআইডি

একটি ফুল কুড়িতেই শেষ হয়ে যায়

১৯৬৪ সালে রাসেলের জন্ম হয়েছিল। কিন্তু তার জীবনটা শেষ হয়ে যায় ..একটি ফুল কুড়িতেই শেষ হয়ে যায় আর তা ফুটতে পারেনি, ছোট ভাইয়ের জন্মদিনে আবেগঘন শেখ হাসিনা

বেঁচে থাকলে ৫৬ বছর বয়স হতো বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শেখ রাসেলের। শেখ হাসিনাকে শিশুটি ডাকত বুবু বলে।

ভোট ভাইয়ের জন্মদিনে সেই কথা বলে আক্ষেপ করলেন বড় বুবু।

ছোট ভাইয়ের স্মৃতিচারলণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৬৪ সালে রাসেলের জন্ম হয়েছিল। কিন্তু তার জীবনটা শেষ হয়ে যায় ..একটি ফুল কুড়িতেই শেষ হয়ে যায় আর তা ফুটতে পারেনি ‘

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিন তার নয় বছরের শিশু সন্তানটিকেও বাঁচিয়ে রাখেনি খুনিরা। বিদেশে থাকায় বেঁচে যান দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

শেখ রাসেলের জন্মদিনের আনন্দঘন দিনে মর্মান্তিক সেই স্মৃতিই মনে পড়ে শেখ হাসিনার।

শেখ রাসেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা
শেখ রাসেলের জন্মদিনে তার নামে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করছেন শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠানে অংশ নেন রাসেলের বুুবু

জন্মদিনের আয়োজনে রোববার ভিডিও কনফারেন্সে এক অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা জানান, কীভাবে তারা রাসেলের জন্মদিন পালন করতেন। তুলে ধরেন তার জন্মের সময়কার কথা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা ছোট্ট শিশু আসবে আমাদের পরিবারে। আমি, কামাল (শেখ কামাল), জামাল (শেখ জামাল), রেহনা ..আমরা সবাই খুব, খুব উৎসাহিত এবং বেশ উত্তেজিত ছিলাম যে কখন সেই শিশুর কান্নাটা আমরা শুনব,কখন তার আওয়াজটা পাব,কখন তাকে কোলে তুলে নেব। আর সেই ক্ষণটি যখন এলো আমাদের জন্য অত্যন্ত একটা আনন্দের সময় ছিল।’

‘ছোট শিশুটি আমাদের চোখের মনি ছিল। কিন্তু কি দুর্ভাগ্য তার! ১৯৬৬ সালে যখন বাবা ছয় দফা দিলেন তিনি খুব ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। ওই ৬৬ সালেই তিনি মে মাসে বন্দি হয়ে গেলেন।’

‘ছোট্ট রাসেল তার কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই বাবা কারাগারে। প্রকৃতপক্ষে তার সাক্ষাৎ হলো কারাগারেই।’

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে গেলে রাসেল তাকে নিয়ে আসবে বলে কান্নাকাটি করত।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন বাবা মুক্তি পান, তখন যেই জিনিসটা সব সময় দেখতাম রাসেল সর্বক্ষণ পাশে থাকত। মনে হয় ওর ভেতরে একটা ভয় ছিল যেকোন মুহূর্তে বুঝি বাবাকে হারাবে। তাই তিনি (বঙ্গবন্ধু) যেখানেই যেতেন, যে কাজই করতেন, খেলার ছলে ছলে কিছুক্ষণ পরপরই একবার করে সে দেখে আসত যে বাবা ঠিক আছে তো!’

‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাসেল সব সময় বাবার সঙ্গে ছায়ার মতো ঘুরে বেড়াত।’
শেখ রাসেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠান

শেখ রাসেল শৈশব থেকেই সেনাবাহিনীর সদস্য হতে চাইত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন আমরা গ্রামে বেড়াতে যেতাম গ্রামের যত শিশু তার বয়সী সবাইকে সে একত্রিত করত এবং তাদেরকে দিয়ে সে প্যারেড করাত। আর শুধু প্যারেড করিয়ে খালি হাতে ফেরাত না প্রত্যেককে সে টাকা দিতো আর তাদেরকে কাপড় চোপড় কিনে দিতে হতো।’

গ্রামের শিশুদের জন্য রাখা কাপড় ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আলমারিতে রাখা দেখেছেন শেখ হাসিনা।
জন্মদিনে শেখ রাসেলের স্কুল ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ‘শহিদ শেখ রাসেল’ নামে একটি ‘ম্যুরাল’ উদ্বোধন করেছেন শেখ হাসিনা।

রাসেলের স্মৃতিকে ধরে রাখার চেষ্টা করায় সবাইকে ধন্যবাদও জানান তিনি।

বলেন, ‘রাসেল আজ আমাদের মাঝে নেই। ওই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী যুগ যুগ ধরে যারা পড়াশোনা করবে তারা এইটুকুই শিখবে, এইটুকুই জানবে যে একটা ছোট শিশু ছিল এই স্কুলে কিন্তু সেই শিশুটাকে বাঁচতে দেওয়া হয় নাই, তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য