20201002104319.jpg
চাঁদা তুলছেন নুর-রাশেদরা

সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের একাংশের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খানের নেতৃত্বে দলের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ

চাঁদা তুলছেন নুর-রাশেদরা

এর আগে আর্থিক লেনদেন নিয়ে অস্বচ্ছতাসহ নানা অভিযোগে ভেঙেছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। এর মধ্যে তিনটি সংগঠনের নামে চাঁদা চেয়ে ফেসবুকে দেয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তি।

আর্থিক লেনদেনসহ নানা ইস্যুতে নিজেদের মধ্যে ভাঙন ধরার পর সংগঠন চালাতে মানুষের কাছে চাঁদা তুলছে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের তিনটি সংগঠন।

‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ’, ‘যুব অধিকার পরিষদ’, ‘শ্রমিক অধিকার পরিষদ’ এর নামে এই টাকা এই টাকা তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দেয়া হয়েছে বিকাশ, রকেট, নগদের মতো মোবাইল ব্যাংক ও ব্যাংক হিসাবের নম্বর।

তিনটি সংগঠনের সঙ্গেই নুর জড়িত। ‘যুব অধিকার পরিষদ’ ও  ‘শ্রমিক অধিকার পরিষদ’ নামে সংগঠন দুটির চলতি অক্টোবরেই গঠন করা হয়। এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে ‘জনগণের কল্যাণে’ কাজ করার কথা বলা হয়েছে। তবে ছাত্র অধিকার পরিষদের বাইরে নতুন করে কেন সংগঠন করার দরকার পড়ল, সেটা বলা হয়নি।

স্বেচ্ছাচার ও আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগে সম্প্রতি সম্প্রতি নুর ও রাশেদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ছাত্র অধিকার পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছেন একাংশের নেতা-কর্মীরা।

এর উদ্যোক্তা এ পি এম সুহেল জানিয়েছেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের আর্থিক বিষয়ে তারা প্রশ্ন তুললেও কোনো সদুত্তর মেলেনি। উল্টো তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সুহেল যে সংবাদ সম্মেলনে নিজের কমিটি ঘোষণা করেন, সেদিন নুরদের নতুন সংগঠন নিয়ে পরিষদে বিভেদের কথাও জানান।

এই ভাঙনের এর মধ্যেই ‘শ্রমিক অধিকার পরিষদ’ এর সদস্য সচিব আরিফ হোসেন ও যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফেসবুকে সহায়তা চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দেন।

চাঁদা চান নুররা
চাঁদা চেয়ে ফেসবুকে এই বিজ্ঞপ্তিটি দেয়া হয়েছে ফেসবুকে 

 

বিজ্ঞপ্তিটি ছাপা হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের একাংশের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন, আতাউল্লাহ ও আরিফ হোসেনের নামে।

নিউজবাংলাকে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘একটা সংগঠন চালাতে নানান কারণেই অর্থের প্রয়োজন। যেহেতু আমাদের নির্দিষ্ট কোনো ফান্ড নেই, আমরা সংগঠন চলাতে হিমশিম খাচ্ছি। তাই দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান তারা যেন এই সংগ্রামে আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের পাশে থাকেন।‘

এভাবে চাঁদা তোলার বৈধতা আছে কি না- এমন প্রশ্নে রাশেদ বলেন, ‘দেশের বাইরেও এভাবে গণচাঁদা মাধ্যমে সংগঠন পরিচালনা বা নির্বাচন করতেও দেখা যায়। আমরা যেহেতু সামনে একটি বড় প্লাটফর্মের দিকে এগুচ্ছি, তাই আমরাও গণচাঁদার মত একটি বিষয়কে জনসাধারণের কাছে পরিচিত করছি ‘

সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদে অর্থ ব্যয় নিয়ে অস্বচ্ছতার যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে রাশেদ বলেন, ‘এর আগে পরে আমরা যেসব গণচাঁদার উদ্যোগ নিয়েছিলাম সেগুলোর হিসাব খরচসহ ফেসবুক লাইভে এসে আমরা দিয়েছি। এবারও আমরা দেব। ১৫ দিনে বা মাসে একবার আমরা এটার হিসেব জনগণের সামনে তুলে ধরব।‘

শ্রমিক অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ আতাউল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম আরও সুসংগঠিত করতেই আমাদের এই গণচাঁদার উদ্যোগ।’

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০১৮ সালে আন্দোলনের সময় গঠন করা হয় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। নেতৃত্ব দেন হাসান আল মামুন, নুরুল হক নুর, রাশেদ খাঁন। পরে সংগঠনের নাম থেকে ‘সংরক্ষণ’ বাদ দেয়া হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য