মঙ্গলবার আনন্দ র‍্যালি করবে ছাত্রলীগ  

মঙ্গলবার আনন্দ র‍্যালি করবে ছাত্রলীগ  

এর আগে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করে সরকার যে আইন করতে যাচ্ছে তাকে ‘ছাত্রলীগের অর্জন’ বলে দাবি করেন ছাত্রলীগের আইন সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাৎ।

ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দ র‍্যালি করবে ছাত্রলীগ।

সোমবার ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দ র‍্যালী করার বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে খসড়া অনুমোদন করায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

এর আগে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করে সরকার যে আইন করতে যাচ্ছে তাকে ‘ছাত্রলীগের অর্জন’ বলে দাবি করেন ছাত্রলীগের আইন সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাৎ।

মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত জানানোর পর তিনি দাবি করেছিলেন, মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তে গ্রহণে ছাত্রলীগের ভূমিকা রয়েছে।

গত ৬ অক্টোবর ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবসহ বেশ কয়েকজনকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন ফুয়াদ হোসেন শাহাদাৎ। এতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা বলা হয়।

এর দুই দিনের মাথায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ধর্ষণের সাজা বাড়াতে সরকারের উদ্যোগের কথা জানান। সোমবার সংশোধিত আইনে সায়ও দেয় মন্ত্রিসভা।

আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, সংসদে অধিবেশনে না থাকায় মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করবেন। পরে সংসদ বসলে সে অধ্যাদেশ অনুমোদন করে নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রাষ্ট্রীয় হত্যার শিকার মুশতাক: ফখরুল

রাষ্ট্রীয় হত্যার শিকার মুশতাক: ফখরুল

বৃহস্পতিবার সকালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে মির্জা ফখরুল বক্তব্য রাখেন।

ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে গ্রেপ্তার সব রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

মুশতাক আহমেদ রাষ্ট্রীয় হত্যার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার সকালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি, লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যু ও নোয়াখালীর বশিরহাটে ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে স্থানীয় সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মোজাক্কির হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে মির্জা ফখরুল এমন অভিযোগ করেন।

কারাগারে মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর বিষয়ে সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর বিএনপি মহাসচিব এমনটি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘লেখক মুশতাক আহমেদকে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে গ্রেপ্তার করে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রেখে হত্যা করা হয়েছে। আমরা প্রথমেই বলেছিলাম, এই হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রীয়ভাবে হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছি।'

ফখরুল বলেন, ‘শুধু একটি নয়, এই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে প্রায় ৭০০ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আপনারা দেখেছেন, ইতিপূর্বেও শুধু সরকারের সমালোচনা করে কার্টুন বা লেখার কারণে পাঁচ বছরের শিশু থেকে শুরু করে গৃহবধূকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়েছেন আমাদের সাংবাদিকরা।’

‘এই সরকার সম্পূর্ণ একটা অবৈধ সরকার, অনির্বাচিত সরকার। তাদেরকে জোর করেই ক্ষমতায় টিকে থাকতে হচ্ছে এবং টিকে থাকার জন্য এই ধরনের সম্পূর্ণ গণবিরোধী আইন তৈরি করছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো এমন সব আইনের মাধ্যমে তারা জনগণের কথা বলার অধিকার, বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে’

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে গ্রেপ্তার সব রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আটক করে রাখা হয়েছে। তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়া হোক। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ যাদেরকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে, সেই সাজা প্রত্যাহার করতে হবে। সব মামলা তুলে নিতে হবে। ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা আছে তা প্রত্যাহার করতে হবে।’

‘অবিলম্বে পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মুশতাকের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পন্ড করে দেয়ার পর এটি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির কোনো অঙ্গসংগঠনের প্রথম কর্মসূচি।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আজকে রাস্তায় রাস্তায় আমাদের নেতা-কর্মীদের বাধা দেয়া হয়েছে। আমার চোখের সামনে আমি দেখেছি কীভাবে নেতা-কর্মীদের পুলিশ বাধা দিচ্ছে। আমি পুলিশের কাছে গেলাম পরিচয় দিলাম। আমরা দু:খ লাগে, দেশ থেকে আদব-কায়দা সব উঠে গেছে নাকি।’

যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসানের পরিচালনায় সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোরতাজুল করীম বাদরু, সহসভাপতি আবদুল খালেক হাওলাদার, মোনায়েম মুন্না, কেন্দ্রীয় নেতা এসএম জাহাঙ্গীর, রফিকুল আলম মজনু, নুরুল ইসলাম নয়ন, গোলাম মাওলা শাহিনসহ অন্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।

সকাল ১০টায় সমাবেশ শুরু হয়ে ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে সমাবেশ শেষ হলে দ্রুত নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থল ছেড়ে যান। বিএনপির আমান উল্লাহ আমান ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থেকে নেতা-কর্মীদের চলে যেতে বলেন।

শেয়ার করুন

বিএনপির বুদ্ধি আছে কি না জানি না: জাফরুল্লাহ

বিএনপির বুদ্ধি আছে কি না জানি না: জাফরুল্লাহ

কেন্দ্রীয় শহীদমিনারে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় সেনাবাহিনীর একটি দল। এইচ টি ইমামের শ্রদ্ধা জানাতে যান বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

‘তাদের (বিএনপির) দেখার মতো এত বুদ্ধি আছে কি না আমি জানি না। তিনি একজন ভালো আমলা, মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান ছিল। ভিন্নমত থাকলেও তার ব্যবহার ছিল মধুর। বিএনপি তাকে ব্যবহার করতে পারেনি, এটা বিএনপির ভুল। খোদা তাকে বেহেশতে নিক বা বিচার করুক গণতন্ত্র হত্যার জন্য, এটা খোদার ব্যাপার।’

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে ব্যবহার করতে না পারায় বিএনপির সমালোচনা করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারবিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়া এই বুদ্ধিজীবী বিএনপির বুদ্ধি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।

বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান এইচ টি ইমাম। দুপুরের পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহ নেয়া হয়।

সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় সেনাবাহিনীর একটি দল। শ্রদ্ধা জানাতে যান বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক কর্মীরা। শ্রদ্ধা জানাতে যান ঐক্যফ্রন্টের নেতা জাফরুল্লাহ চৌধুরীও।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার মৃত্যুকে বিএনপি কীভাবে দেখে জানতে চাইলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘তাদের দেখার মতো এত বুদ্ধি আছে কি না আমি জানি না। তিনি একজন ভালো আমলা, মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান ছিল।

‘ভিন্নমত থাকলেও তার ব্যবহার ছিল মধুর। বিএনপি তাকে ব্যবহার করতে পারেনি, এটা বিএনপির ভুল। খোদা তাকে বেহেশতে নিক বা বিচার করুক গণতন্ত্র হত্যার জন্য, এটা খোদার ব্যাপার।’

এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতি দিয়েছে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য আসেনি।

15
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এইচ টি ইমামের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন ইমাম। তিনি পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারে যোগ দেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকার গঠনে তার একটি অবস্থান রয়েছে। পরবর্তীতে, আমলারা যে পাত্রে যান সে পাত্রের আকার ধারণ করে।

‘তার সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় কর্মক্ষমতা হলো আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা। এটাকে যে যেভাবেই দেখুক, আজকে গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে আমলাতন্ত্র দ্বারা, সব পরিকল্পনাই তার। আমি তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই, তাকে শ্রদ্ধা জানাই।’

মৃত্যুর পর এইচ টি ইমামের মরদেহ প্রথমে নেয়া হয় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় গ্রামের বাড়িতে। সেখানে প্রথম জানাজার পর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আনা হয় ঢাকায়।

বিকেলে আসরের নামাজের পরে গুলশানের আজাদ মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম এই অংশীদারকে।

এইচ টি ইমাম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতাসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

শেয়ার করুন

এইচ টি ইমাম কাজ থেকে অবসর নেননি: কাদের

এইচ টি ইমাম কাজ থেকে অবসর নেননি: কাদের

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এইচ টি ইমামের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সব স্তরের মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

কাদের বলেন, এইচ টি ইমাম দেশের জন্য অনেক কাজ করে গেছেন৷ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি দেশের জন্য কাজ করে গেছেন৷ তার মতো কাজপাগল সমাজে বিরল।

এইচ টি ইমাম চাকরি থেকে অবসর নিলেও কাজ থেকে কখনো অবসরে যাননি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের৷

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৃহস্পতিবার দুপুরে এইচ টি ইমামের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

কাদের বলেন, এইচটি ইমাম হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশের জন্য কাজ করে গেছেন৷ তার মতো কাজপাগল সমাজে বিরল। তার মৃত্যুতে যে শূন্যস্থান তৈরি হলো তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়৷

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশে ছিলেন এইচ টি ইমাম৷ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তার কন্যা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি আমাদের দলের প্রচার সেলের প্রধান ছিলেন৷’

বেলা দেড়টায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের মরদেহ নেয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

প্রথমেই তার কফিনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতির পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী শ্রদ্ধা জানান।

পরে আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মুকুল বোস, জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফসহ অনেকে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস৷

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘এইচ টি ইমাম জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন। তিনি যত দিন সক্রিয় ছিলেন দেশের জন্য কাজ করেছেন৷

‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকার কথা আমরা সবাই জানি৷ মুক্তিযুদ্ধের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকারের জন্য তিনি কাজ করেছেন৷ তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি৷’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, তার মৃত্যুতে দেশ একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হারাল।

বুধবার রাত সোয়া ১টায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিব এইচ টি ইমাম৷

সকালে হেলিকপ্টারে তার মরদেহ নেয়া হয় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। সেখানে আকবর আলী সরকারি কলেজ মাঠে হয় প্রথম জানাজা৷

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গুলশানের আজাদ মসজিদে হবে তার দ্বিতীয় জানাজা। পরে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

শেয়ার করুন

কাদের মির্জাকে বহিষ্কারে আ. লীগের চিঠি প্রস্তুত

কাদের মির্জাকে বহিষ্কারে আ. লীগের চিঠি প্রস্তুত

সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দ্বিতীয় দফার পৌরসভা নির্বাচনের আগে অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েন কাদের মির্জা। ফাইল ছবি

‘ওনাকে বাদ দিয়ে দিচ্ছি, সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। চিঠিও রেডি আছে। যেকোনো সময় দিয়ে দেয়া হতে পারে।’

হঠাৎ আলোচিত হয়ে ওঠা নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি চিঠিও তৈরি করা হয়েছে। তবে সেটি তার কাছে কবে পাঠানো হবে, সেটি এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাই এই কাদের মির্জা গত ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফা পৌর নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে ঝড় তোলেন।

ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের ভাই, তিনিই আবার রাজপথে সক্রিয় সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে, বৃহত্তর নোয়াখালী এলাকায় দলের সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে তোলেন সন্ত্রাস-দুর্নীতির অভিযোগ, এমনও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ওই এলাকায় তিন-চারজন ছাড়া আওয়ামী লীগের এমপিরা ঘর থেকেই বের হতে পারবেন না।

স্বভাবতই বিএনপি লুফে নেয় বক্তব্যটি। তারাও একই সুর তুলে নানান বক্তব্য দিতে থাকে।

কাদের মির্জার পৌরসভায় ১৬ জানুয়ারির ভোট নিয়ে কোনো অভিযোগ করেননি তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা। বড় ব্যবধানে জেতেন নৌকা মার্কার প্রার্থী।

ভোটের পরও তার কথার লড়াই চালু থাকে। আর তখন লড়াইটি গিয়ে ঠেকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর সঙ্গে।

এ নিয়ে বাদানুবাদ একপর্যায়ে গিয়ে ঠেকে সংঘর্ষে। দলের দুই পক্ষের মারামারিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান এক সাংবাদিক। এরপর কাদের মির্জা দৃশ্যত শান্ত হয়েছেন কিছুটা।

সাংবাদিক মুজাক্কির
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির। পরে তিনি মারা যান। ছবি: নিউজবাংলা

কিন্তু পুরো ঘটনায় দলের কেন্দ্র বেশ বিরক্ত হয়েছে। আর এ জন্যই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর দুইজন সদস্য। তবে তারা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন।

একজন নেতা বলেন, ‘ওনাকে বাদ দিয়ে দিচ্ছি, সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। চিঠিও রেডি আছে। যেকোনো সময় দিয়ে দেয়া হতে পারে।’

সভাপতিমণ্ডলীর অন্য যে নেতার সঙ্গে নিউজবাংলার কথা হয়েছে, তিনি জানান, চিঠিটি পাঠিয়ে দেয়ার প্রস্তুতিও তারা নিচ্ছিলেন। তবে পরে তাদের আরও কিছুদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। এ কারণেই সেটি আর পাঠানো হয়নি।

বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছেন কাদের মির্জা নিজেও। বহিষ্কারের চিঠি প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যখন হবে তখন দেখা যাবে।’

এখন এলাকার পরিস্থিতি কেমন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার চারপাশে অস্ত্র তাক করে রাখছে। ভালো থাকি কীভাবে?’

কাদের মির্জা
কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি।

২০ ফেব্রুয়ারি কাদের মির্জাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে কেন্দ্রকে চিঠি দেয় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ।

তবে বিজ্ঞপ্তি দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আলম সেলিম মত পাল্টান।

এর কারণ জানতে চাইলে সেদিন তিনি বলেন, ‘বোঝেন না? একটা বিষয় আছে না? উপরের নির্দেশ আছে এ নিয়ে।’

তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী জানান, কাদের মির্জাকে দল থেকে বহিষ্কারে তাদের সুপারিশ বহাল আছে।

সেই রাতেই ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, ‘সেলিম ভাই ঢাকা থেকে এসে বলল মির্জার বিরুদ্ধে একটা ব্যবস্থা নেয়া দরকার। সে হিসেবে আমরা মির্জার বিরুদ্ধে একটা অবস্থান নিয়েছি। এখন ইয়েতে বলতেছে এটা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। কিন্তু আমি আপনাদের বলতে পারি আমার জানামতে, আমি জানি না, কারণ একটা লোক অপরাধী যে নোয়াখালীতে না, সারা বাংলাদেশের আওয়ামী লীগকে ছোট করেছে। তাকে তো ছাড়া যায় না। তার বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নিয়েছি জেলা আওয়ামী লীগ। আমার সভাপতি কী অবস্থানে আছেন জানি না, উনি নাকি বলতেছেন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

‘তার অবস্থান, তিনি আমাকে দিয়ে নির্দেশনা দিলেন, পরে উনি অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ালেন। উনিও নীতিগতভাবে নীতিহীন হয়ে গেলেন। আমি আপনাদের বলি, কাদের মির্জার অব্যাহতি অব্যাহত রেখেছি। বিভিন্ন জায়গায় যেসব কথাবার্তা হচ্ছে এগুলো ঠিক না। কারণ এ ধরনের লোককে দলের অবস্থানে রাখা উচিত না। তার অব্যাহতিটা বহাল রইল।’

যেভাবে আলোচনায় কাদের মির্জা

পৌর নির্বাচন সামনে রেখে জানুয়ারির শুরুতে সুষ্ঠু ভোটের দাবিতে মাঠে নামেন কাদের মির্জা। নিজের দলের সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে আনেন দুর্নীতি, সন্ত্রাস লালনের অভিযোগ।

ছোট ভাইয়ের একের পর এক বক্তব্যে বিব্রত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি ভাইকে ফোন করে এমনও বলেছেন, ‘তুই আমার পদটা খাবি।’

আর এই কথাটাও জনসভায় ফাঁস করে দেন মির্জা।

তবে বসুরহাট নির্বাচনে জিতে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছেন তৃণমূলের এই নেতা। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নিয়েছেন ফল। আর ফলের হিসাব বলছে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর ভোটের যোগফলের চেয়ে সাড়ে তিন গুণ বেশি পেয়েছেন কাদের মির্জা।

নির্বাচনের জিতেও থামানো গেল না মির্জাকে। স্পষ্ট করেছেন তার লড়াই নোয়াখালী সদর আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর সঙ্গেই। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস-ঘুষ আদায়ের অভিযোগ আনেন মির্জা।

এর মধ্যে একরাম ফেসবুকে এসে কাদের মির্জাকে ‘রাজাকার পরিবারের সন্তান’ বলে ‘আগুনে ঘি’ ঢেলেছেন। আর কাদের মির্জা এবার মাঠে নেমেছেন একরামকে নোয়াখালী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অপসারণের দাবি নিয়ে।

এই দাবিতে তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় হরতালেরও ডাক দিয়েছিলেন। তবে ওবায়দুল কাদেরের অনুরোধে তা স্থগিত করেছেন।

৩০ জানুয়ারি ঢাকায় এসে ভাই ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করেন মির্জা। সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন কাদের মির্জা। তিনি বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে নোয়াখালীর অপরাজনীতির বিষয়ে অভিযোগ আছে। সেগুলো উনি যাচাইবাছাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

‘এখন যেটা হবে, যদি এটা সমাধান না হয় নোয়াখালীর অপরাজনীতি বন্ধ না হয়... টেন্ডারবাজি, চাকরি বাণিজ্য, প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটিয়ে যে অপরাজনীতি চলছে, এটা যদি বন্ধ না হয়, যদি অস্ত্রবাজি বন্ধ না হয় তাহলে এক মাস পর, তাহলে আমরা আবার প্রেস ক্লাবে আপনাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী কর্মসূচি নেব।’

১৬ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীর পুলিশ সুপার, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি ও পরিদর্শক তদন্তকে প্রত্যাহার এবং উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ফখরুল ইসলাম সবুজকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাত ৯টায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন মির্জা।

কাদের মির্জা
নোয়াখালীর এসপি, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির প্রত্যাহার দাবিতে সম্প্রতি থানার সামনে অবস্থান নেন কাদের মির্জা ও তার সমর্থকরা। ছবি: নিউজবাংলা

ওই দিন রাতে শুরু করে পরদিন সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানার ফটকের সামনে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তিনি।

দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছেও নানাভাবে সমালোচিত হয়েছেন মির্জা। ১৬ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন। তিনি দাবি করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাই কাদের মির্জা বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।

১৯ ফেব্রুয়ারি বসুরহাটে মির্জার উপস্থিতিতে তার অনুসারীদের সঙ্গে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। চারজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হন ৪০ জন। এ ঘটনায় পরদিন সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেন কাদের মির্জা।

হরতালের সমর্থনে মিছিল চলাকালে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। বসুরহাট বাজারের রূপালী চত্বর থেকে জমায়েত হয়ে মিছিল নিয়ে থানার সামনে গেলে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে।

মির্জা কাদেরের সমর্থকরা দাবি করেন, সকালের দিকে পুলিশ মারমুখী আচরণ করে। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে তাদের ১২ জন নেতা-কর্মী আহত হন। আর কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।

১৯ ফেব্রুয়ারির সেই সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির পরদিন মারা যান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

এরপর কাদের মির্জা শান্ত হন। তিনি আর প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি নিয়ে আসেননি।

শেয়ার করুন

ইতিহাসকে বিকৃত করতে চাই না: ফখরুল

ইতিহাসকে বিকৃত করতে চাই না: ফখরুল

বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে চায় না বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

‘তারা স্মরণ করে না আ স ম আবদুর রবকে, স্মরণ করে না শাহজাহান সিরাজকে। আমরা সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান পালন করতে গিয়ে তাদের সামনে নিয়ে এসেছি। আমরা ইতিহাসকে বিকৃত করতে চাই না। আমরা ইতিহাসে যার যার অবস্থান সেটা দিতে চাই।’

বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে চায় না বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, ইতিহাসে যার যা প্রাপ্য তারা সেটি দিতে চান।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বিএনপির মার্চব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।

১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে তৎকালীন ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতা শাহজাহান সিরাজের স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করার দিনটিকে ‘স্বাধীনতার ইশতেহার দিবস’ হিসেবে পালন করছে বিএনপি। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা হয়।

ফখরুল বলেন, ‘আমরা ইতিহাসকে বিকৃত করতে চাই না। সে জন্যই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটিতে সেইসব বীর যোদ্ধাদের সামনে নিয়ে এসেছি।

‘তারা স্মরণ করে না আ স ম আবদুর রবকে, স্মরণ করে না শাহজাহান সিরাজকে। আমরা সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান পালন করতে গিয়ে তাদের সামনে নিয়ে এসেছি। আমরা ইতিহাসকে বিকৃত করতে চাই না। আমরা ইতিহাসে যার যার অবস্থান সেটা দিতে চাই।’

বিএনপি নেতার অভিযোগ, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, নির্যাতিত হয়েছিলেন তাদের আওয়ামী লীগ স্মরণ করতে চায় না।

আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পরে মানুষের স্বপ্ন ধ্বংস করেছে অভিযোগ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘যে সংবিধান রচনা করা হয়েছিল সেই সংবিধানকে তারাই কেটে ছিঁড়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে। স্বাধীনতার স্বপ্ন আওয়ামী লীগ কোনোদিনও বাস্তবায়নের কাজ করেনি। আজকে তারা একটি ভিন্ন মোড়কে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছে।’

সরকার পতনের আন্দোলনের আহ্বান

বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে সরকার পতনের আন্দোলনের জন্য সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘আজকে সমস্ত শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দল সমস্ত দেশপ্রেমিক মানুষকে আহ্বান জানাতে চাই, আসুন ১৯৭১ সালে আমরা যে চেতনা নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম, যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য, যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করার জন্য, তার জন্য আরেকটি লড়াই আমাদের করতে হবে।

‘কারও হুকুমের দাস হতে চাই না। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক আবাসস্থল গড়ে তুলতে চাই। সে জন্য আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।’

কারাগারে মারা যাওয়া লেখক মুশতাক আহমেদকে সরকারের সমালোচনা করার জন্য গ্রেপ্তার করা হয় বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা।

তার অভিযোগ, এ রকম বহু মানুষকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে আটক রাখা হয়েছে।

‘আপনারা দেখেছেন সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে যাওয়ায় আমাদের ছাত্রনেতাদের কী অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে গত কয়েক দিন আগে। হাসপাতাল থেকে একটি ছেলেকে তুলে নিয়ে গিয়ে রিমান্ডে নিয়ে তার উপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়।

‘আমরা জানতে চাই জনগণের প্রতিপক্ষ কেন পুলিশ? প্রতিপক্ষ তো আপনারা বানিয়েছেন, নিজেরা বানিয়েছেন।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনায় স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল সালাম, ফজলুল হক মিলন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জহির উদ্দিন আহমেদ স্বপন, নাজিম উদ্দিন আলমও বক্তব্য দেন।

শেয়ার করুন

আ. লীগের মনোনয়ন বিতরণ শুরু ৫ মার্চ

আ. লীগের মনোনয়ন বিতরণ শুরু ৫ মার্চ

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ফাইল ছবি

মনোনয়ন ফরম ৫ মার্চ থেকে সংগ্রহ করে তা জমা দিতে পারবেন ১০ মার্চ বিকেল ৫টা পর্যন্ত। একটি সংসদীয় আসন, ১১ পৌরসভা ও ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদে ১১ এপ্রিল নির্বাচন হবে।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচন, ১১টি পৌরসভা, ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হবে ৫ মার্চ। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে তা জমা দিতে পারবেন ১০ মার্চ বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডিতে রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেয়া যাবে।

বুধবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন বুধবার সংসদীয় আসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করতে তফসিল ঘোষণা করেছে। আগামী ১১ এপ্রিল এসব আসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে ভোট নেবে নির্বাচন হবে।

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রস্তাবিত প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম কিনতে পারবেন। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং কোনো ধরনের লোক সমাগম ছাড়া প্রার্থী নিজে অথবা প্রার্থীর একজন যোগ্য প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে হবে।

ফরম সংগ্রহের সময় প্রার্থীকে অবশ্যই তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

বুধবার নির্বাচন কমিশন সভা শেষে যে তফসিল ঘোষণা করেছে তাতে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান, সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে যারা ভোটে অংশ নিতে চান, তাদের ১৮ মার্চের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে।

মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে ১৯ মার্চ, প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ২৪ মার্চ পর্যন্ত।

বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা সাড়ে ৪ হাজারের বেশি। পৌর নির্বাচনের মতো তৃণমূলের এই আসনগুলোতেও ধাপে ধাপে ভোট করতে চায় নির্বাচন কমিশন।

শেয়ার করুন

সাত ছাত্রনেতার জামিন নামঞ্জুর, সিপিবির ক্ষোভ

সাত ছাত্রনেতার জামিন নামঞ্জুর, সিপিবির ক্ষোভ

শাহবাগ এলাকায় মশাল মিছিল থেকে গ্রেপ্তার সাত ছাত্রনেতার জামিন নামঞ্জুর করায় সিপিবির তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ।

শাহবাগ এলাকায় মশাল মিছিল থেকে গ্রেপ্তার সাত ছাত্রনেতার জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন মহানগর হাকিম আবু সাঈদ। এক বিবৃতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম।

কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় মশাল মিছিল থেকে গ্রেপ্তার সাত ছাত্রনেতার জামিন নামঞ্জুর করায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

বুধবার দুপুরে মহানগর হাকিম আবু সাঈদ তাদের জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন।

এর প্রতিবাদে বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম।

বিবৃতিতে সিপিবির নেতারা বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের জাঁতাকলে মৃত্যু হয়েছে লেখক মুশতাক আহমেদের।’

‘মুশতাক হত্যার প্রতিবাদকারী খুলনার শ্রমিকনেতা রুহুল আমিনের জামিনও নামঞ্জুর হয়েছে মঙ্গলবার।’

তারা বলেন, ‘বিরুদ্ধ মত দমনের জন্য প্রণীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে সরকার নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে না।’

নেতারা অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয়সহ ছাত্র ইউনিয়ন নেতা তামজীদ হায়দার চঞ্চল, জয়তী চক্রবর্তী, নাজিফা জান্নাত, তানজিম রাফি, আকিফ আহমেদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট নেতা আরাফাত সাদ ও শ্রমিকনেতা রুহুল আমিনকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জোর দাবি জানান।

কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মশাল মিছিল থেকে এই সাত ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরদিন সকালে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিন্টু মিয়া বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৯, ১৮৬, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩, ৩০৭, ৪২৭ ও ১০৯ ধারায় তাদের নামে মামলা দায়ের করেন।

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg