20201002104319.jpg
আন্দোলনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টি নয়: কাদের

ওবায়দুল কাদের

আন্দোলনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টি নয়: কাদের

ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে ভর করে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী যাতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান ওবায়দুল কাদেরের।

ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে ভর করে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী যাতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে সে ব্যাপারে দলীয় নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, সরকার সজাগ রয়েছে। ষড়যন্ত্রকারী, গুজব রটনাকারীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের অস্থিরতা ও সন্ত্রাস সৃষ্টির অপপ্রয়াস জনস্বার্থে সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে।

শনিবার বিকেলে গাজীপুর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার অডিটোরিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। তিনি ঢাকার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বর্ধিত সভায় যুক্ত হন।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সমাজের যে ভয়াবহতা তাতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। দল-মত-বর্ণ-গোত্রনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারকে সরাতে হবে এবং তাদের বলতে হবে এখন সরে পড়াই ভালো হবে।’

বিএনপি মহাসচিবের ওই বক্তেব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্ধিত সভায় বলেন, গাজীপুরের কাপাসিয়ায় যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে তার সঙ্গে বিএনপির ছাত্র সংগঠনের সাবেক নেতারা জড়িত বলে পত্রিকায় এসেছে। বিএনপি নেতারা এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন কেন? তারা কি বিএনপি ও তাদের ছাত্র সংগঠনের ধর্ষণকারীদের রক্ষা করতে চান? তারা আন্দোলন ভিন্নখাতে নিতে সরকারের পতন চান এখন। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সহিংস করার অপচেষ্টা করছে বিএনপি।

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি সবাইকে পরিষ্কারভাবে দলের সভাপতির পক্ষ থেকে জানাতে চাই, দলের কোনো পর্যায়ে ধর্ষক, সন্ত্রাসী, মাদকসেবীদের আশ্রয় দেয়া যাবে না। দলের কমিটি গঠনে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। খারাপ লোকেরা উন্নয়ন-অর্জনকে ম্লান করে দিবে। তাই এদের বিষয়ে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ইদানিং ধর্ষণ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠিন হলেও কোথাও কোথাও কিছু দুষ্কৃতকারী অপকর্ম করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রিসভা কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন সংশোধনের প্রস্তাব আনছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলের জেলা সম্মেলন করতে হবে। তার আগে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা সম্মেলনের কাজ অবশ্যই শেষ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সামনে আসছে বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচন। শক্তিশালী ও ক্লিন ইমেজের (স্বচ্ছ ভাবমূর্তি) প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করবেন এবং সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রার্থীর বিজয়ে কাজ করবেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সাংসদ মেহের আফরোজ চুমকি ও ইকবাল হোসেন সবুজ, গাজীপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান, সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান।

শেয়ার করুন