20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
ঘর পরিষ্কার করতে আওয়ামী লীগে আট কমিটি

ঘর পরিষ্কার করতে আওয়ামী লীগে আট কমিটি

বিতর্কিতদের খুঁজে দল থেকে বের করে দিতে শেখ হাসিনার নির্দেশ।

বিতর্কিতদের চিহ্নিত করে আওয়ামী লীগ থেকে বের করে দিতে আটটি কমিটি করে দিয়েছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। কোনো ধরনের অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত কেউ যেন কমিটিতে জায়গা না পান, সেটিও নিশ্চিত করতে বলেছেন তিনি।

শনিবার সকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেখানে থাকা একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দলের চারজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের প্রত্যেককে দুটি করে বিভাগের এবং আট জন সাংগঠনিক সম্পাদককে একটি বিভাগের দায়িত্বে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।

টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগের কমিটিগুলোতে অনুপ্রবেশকারী শব্দটি সম্প্রতি বারবার উচ্চারিত হচ্ছে। কেন্দ্রে তো আছেই, জেলা পর্যায়ে কমিটিগুলোতে এই অভিযোগ আরও বেশি।

নানা ঘটনার পর আওয়ামী লীগ ঘর পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়। এরই মধ্যে দলের উপকমিটির সদস্য সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের পরিস্থিতি কী, সে বিষয়ে প্রতিবেদন চান শেখ হাসিনা।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতারা জেলা পর্যায়ের কমিটি নিয়ে উঠা বিতর্কের বিষয়ে দলীয় প্রধানকে জানান। এ বিষয়ে ছয়টি প্রতিবেদনও দেয়া হয় তাকে।

আরও পড়ুন: ঘর পরিষ্কার করবে আ.লীগ

আলোচনার পর সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই দলের অভ্যন্তরে বিতর্কিতদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া চলবে না। সাংগঠনিক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ত্যাগী পরীক্ষিত ও নিবেদিত নেতাকর্মীরা যাতে বাদ না পড়ে সেদিকে সকলকে লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দিয়েছেন (শেখ হাসিনা)। ’

কাদের বলেন, ‘সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক হলেই নিজেদের লোক দিয়ে মাই ম্যান (নিজস্ব বলয় সৃষ্টির জন্য) কমিটি গঠন করা যাবে না।’

বৈঠকে উপস্থিত সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারী, বিতর্কিতদের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এদের চিহ্নিত করে দল থেকে বের করে দেয়ার কথা বারবার বলেছেন নেত্রী।’

বৈঠকে ঢাকা মহানগরের পাশাপাশি জেলা কমিটিগুলো দ্রুত গঠন করার নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। যেসব জেলা ও উপজেলা কমিটি মেয়াদউত্তীর্ণ হয়ে গেছে, সেগুলোতে দ্রুত সম্মেলন করারও নির্দেশ দেন তিনি।

কোন বিভাগে কে?

রংপুর বিভাগের দায়িত্বে থাকছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহ্‌মুদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।

রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বে হাছান মাহ্‌মুদের সঙ্গে থাকছেন সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন।

খুলনা বিভাগে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক।

বরিশাল বিভাগে বাহাউদ্দিন নাছিমের পাশাপাশি থাকছেন সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন।

ঢাকা বিভাগে থাকছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।

ময়মনসিংহ বিভাগে দীপু মনির সঙ্গে থাকছেন সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

সিলেট বিভাগে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের সঙ্গে থাকছেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক।

আর চট্টগ্রাম বিভাগে হানিফের সঙ্গে থাকছেন সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।

শেয়ার করুন