রাজনীতি থেকে দূরে খালেদা জিয়া

২০২০ সালের ২৫ মার্চ বিশেষ বিবেচনায় মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল থেকে বাড়ি ফেরেন বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: সাইফুল ইসলাম

রাজনীতি থেকে দূরে খালেদা জিয়া

বিএনপির কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না খালেদা জিয়া। দলের নেতাদের সঙ্গে রাজনীতি নিয়ে বৈঠক করেননি; তার কোনো বক্তব্য, বিবৃতি কিছুই নেই গত ছয় মাস ধরে।

খালেদা জিয়া মুক্ত হওয়ার পরও তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। করোনাকালে দলের বৈঠকগুলো হচ্ছে ভার্চুয়াল। সেখানে নেতৃত্বে থাকছেন তারেকই।

বিএনপির কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না খালেদা জিয়া। দলের নেতাদের সঙ্গে রাজনীতি নিয়ে বৈঠক করেননি; তার কোনো বক্তব্য, বিবৃতি কিছুই নেই গত ছয় মাস ধরে।

খালেদা জিয়া থাকছেন গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের বাসভবন ফিরোজায়। পাশেই ৮৩ নম্বর সড়কে তার রাজনৈতিক কার্যালয়। সেখানে একটিবারের জন্যও পা পড়েনি প্রায় চার দশক ধরে প্রতাপের সঙ্গে রাজনীতি করে আসা বিএনপি নেত্রীর।

দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজা পাওয়া খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে প্রথমে ছয় মাস এবং পরে আরও ছয় মাসের জন্য মুক্তি দিয়েছে সরকার।

শর্ত হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিএনপি নেত্রী দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। চিকিৎসা নেবেন ঘরে বসে। তবে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিধি-নিষেধের কোনো কিছুই দল বা বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়নি।

তাহলে বিএনপি নেত্রী কেন রাজনীতি থেকে দূরে?

দলের যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের কাছে প্রশ্ন রাখলে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এটা বলার জন্য দুইজন আছেন; রিজভী আহমেদ এবং মহাসচিব সাহেব। এটা বলার জন্য আমি অপারগ।’

মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য নিউজবাংলা জানতে পারেনি।

ফখরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ইউনুস আলী বলেন, ‘স্যার এগ্রি করছেন না। জানিয়েছেন কোনো কমেন্ট দেবেন না।’

আর একাধিকবার কল করা হলেও রিজভীকে পাওয়া যায়নি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উনি (খালেদা জিয়া) তো অসুস্থ। উনার তো মুক্তিই হয়নি। উনি কীভাবে রাজনীতি করবেন?’

‘কিন্তু আপনাদের চেয়ারপারসন তো কারাগারে না।’

‘কিন্তু উনি তো বেইলে (জামিন) নাই। ট্রিটমেন্টের (চিকিৎসা) জন্য সাজা সাময়িক স্থগিত করেছে। উনি কীভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দেবেন?’

‘তাহলে চেয়ারপারসনকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা কি আপনাদের সিদ্ধান্ত?’

‘এটা আমাদের সিদ্ধান্ত বা কৌশল না। এটা তো সরকারের কৌশল। উনি তো মুক্ত হতে পারছেন না। সরকারের স্ট্র্যাটেজি (কৌশল) হচ্ছে উনাকে জেলে রেখে দেশ চালাবে। আমরা তো উনার মুক্তি চাই, আমরা চাই উনি দল চালাবেন।’

‘উনি রাজনীতি করতে পারবেন না, এমন কোনো শর্ত আছে?’

‘শর্ত না, উনি তো বেইলে নন, তাহলে কীভাবে রাজনীতি করবেন?’

যদিও খালেদা জিয়া ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। নানা সময় তার সঙ্গে দেখা করেছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা; বের হয়ে জানিয়েছেন তাদের নেত্রীর বক্তব্য।

রাজনীতি থেকে দূরে খালেদা জিয়া

দলের বৈঠক তারেক রহমানের নেতৃত্বে

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারাগারে যাওয়ার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করা হয় লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানকে। গত মার্চে বিএনপির নেত্রী কারামুক্ত হওয়ার পরও তারেকের এই পদ পাল্টায়নি।

গত মাসেই বিএনপির দুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে। সেখানে নেতৃত্বে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনই।

পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সভা বসে।

সভা শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মনোনয়ন বোর্ড তথা স্থায়ী কমিটি পাবনা-৪ আসনে হাবিবুর রহমান হাবিবকে মনোনয়ন দিয়েছে।’

ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচনে ১২ সেপ্টেম্বর দলের ভার্চুয়াল মনোনয়ন বোর্ডের সভায়ও সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। এতেও অংশ নেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

দলের নেতাদের সঙ্গে একবারই ‘সুখ দুঃখের আলাপ’

সাময়িক মুক্তির পর খালেদা জিয়া একবারই দলের স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
গত ১ আগস্ট ঈদুল আজহার রাতে গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের বাসা ফিরোজায় যান বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

রাজনীতি থেকে দূরে খালেদা জিয়া

মির্জা ফখরুল ছাড়াও ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থানের পর বের হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা কথা বলেছি ঈদের দিনে যেসব কথা বলা হয়। এতদিন ধরে আমরা একসাথে কাজ করেছি, সকলের সুখ-দুঃখের কথাবার্তা আছে।’

বিএনপির নজিরবিহীন বিবৃতি

ওই বৈঠকে রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দুটি গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করে। সংবাদে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা নিয়ে বিএনপি যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, তা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

দৈনিক যুগান্তরের ৫ আগস্ট করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আলোচনার এক পর্যায়ে নেতাদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা কেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জোট করতে গেলেন? কেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে গেলেন? আবার গেছেন, আগে কেন এজেন্ডা ঠিক করলেন না?’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি জানিয়ে আসছিল। এই দাবিতে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে তারা। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বানও উপেক্ষা করেন বিএনপি নেত্রী।

তবে গত নির্বাচনের আগে বিএনপির গঠন করা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে যায়। তবে কোনো দাবি আদায় করতে পারেনি।

বিএনপি জোটের প্রধান দল হলেও সে সময় নেতৃত্বে চলে আসেন গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন। ১৯৯২ সালে গঠনের পর থেকে এই দলটি রাজনীতিতে কখনো এতটা গুরুত্ব পায়নি।

যুগান্তরের প্রতিবেদনে খালেদা জিয়াকে উদ্ধৃত করে আরও বলা হয়, ‘আপনারা ড. কামাল হোসেনকে জাতীয় নেতা বানালেন। কিন্তু তিনি (ড. কামাল) কবে জাতীয় নেতা ছিলেন? তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কী করেছেন? তিনি তো জাতীয়তাবাদী শক্তির কেউ নন। তার সঙ্গে তো আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, আদর্শিক নয়।’

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেদিনই বিএনপির পক্ষ থেকে বিবৃতি দেন রুহুল কবির রিজভী। এতে বলা হয়, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের শুধু ঈদ শুভেচ্ছা ও পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় হয়েছে। খালেদা জিয়ার সর্বশেষ স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন নেতারা। খালেদা জিয়ার সঙ্গে নেতাদের কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি বা তিনিও কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রদান করেননি।’

‘কোনো প্রকার তথ্য যাচাই ছাড়া এ ধরনের দায়িত্বহীন সংবাদ পরিবেশন করলে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।’

রাজনীতি থেকে দূরে খালেদা জিয়া

ওই দিন মির্জা ফখরুল দৈনিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি সঠিক নয়; বানোয়াট সংবাদ। জাতীয় ঐক্যের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং ম্যাডাম সম্পর্কে একটি ভুল ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা। যে আলোচনা হয়েছে, তা সেদিনই আমি ব্রিফিং করে বলেছি। উনি অসুস্থ, রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি।’

সাজা ও নির্বাহী আদেশে মুক্তি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদা জিয়ার। সেদিনই কারাবন্দি হন তিনি। বিএনপি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। ওই বছরের ৩০ অক্টোবর উচ্চ আদালত সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে।

তারও আগের দিন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি নেত্রীর সাত বছরের সাজা হয়। এই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

রাজনীতি থেকে দূরে খালেদা জিয়া

বিএনপি তার নেত্রীকে মুক্ত করতে উচ্চ আদালতে যত চেষ্টা করেছে তার সবই বিফলে গেছে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ‘মানবিক আবেদন নিয়ে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যান খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার। বিএনপি এই উদ্যোগে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে।

খালেদার স্বজনদের আবেদনে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দেন। গত ২৪ শে মার্চ শর্ত সাপেক্ষে সরকার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে ছয় মাসের জন্য।

পরের দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে মুক্তি পেয়ে গুলশানের বাসভবনে ফেরেন বিএনপি নেত্রী।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর সাময়িক মুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ১৫ অগাস্ট শামীম ইস্কান্দার আবার আবেদন করেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তিনি আবার ইতিবাচক সাড়া দিলে মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি হয়

শেয়ার করুন

দুর্নীতি তুলে ধরাই কাল হয়েছে রোজিনার: ফখরুল  

দুর্নীতি তুলে ধরাই কাল হয়েছে রোজিনার: ফখরুল  

ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

‘প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদককে সচিবালয়ে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়েছে। মামলা দিয়ে তাকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। আমরা এই সব কর্মকাণ্ডের ধিক্কার জানাই। সেই সঙ্গে রোজিনার দ্রুত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’

সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রাণালয়ের দুর্নীতি তুলে ধরার কারণেই রোজিনা ইসলামকে কারাগারে যেতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘সরকারের দমন-পীড়নের কারণে অনেক সাংবাদিকই এখন সত্য লিখতে ভয় পান। অনেককে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে।’

ঠাকুরগাঁও শহরের নিজ বাসভবনে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদককে সচিবালয়ে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়েছে। মামলা দিয়ে তাকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। আমরা এইসব কর্মকাণ্ডের ধিক্কার জানাই। সেই সঙ্গে রোজিনার দ্রুত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’

রোজিনা ইসলাম সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে তাকে পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন সেখানকার কর্মকর্তারা। রাতে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির অভিযোগে মামলা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, এই গণমাধ্যমকর্মী রাষ্ট্রীয় কিছু গোপন নথি সরিয়েছেন; কিছু নথির ছবি তুলেছেন। এগুলো প্রকাশ হলে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্ট হতে পারত। নথিগুলো ছিল টিকা ক্রয়-সংক্রান্ত।

অভিযোগে বলা হয়, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের টিকা ক্রয়-সংক্রান্ত আলোচনা চলছে। এর খসড়া সমঝোতা স্মারক ও নন ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট প্রণয়নকাজ চলছে। সমঝোতা স্মারক নিয়ে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে প্রতিনিয়ত পত্র ও ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ হচ্ছে। সেখানে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সন্নিবেশিত।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই দেশে মানুষের কোনো অধিকার নেই। আর এই অবরুদ্ধকর অবস্থাকেই আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র বলে। অথচ গণতন্ত্রের মূল বিষয় হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা। আর এই মত প্রকাশের মেরুদণ্ড হচ্ছে সংবাদমাধ্যম। মিডিয়াকর্মীদের যদি এভাবে হেনেস্তা করা হয় তাহলে কী করে দেশে গণতন্ত্র থাকল।’

সাংবাদিক হেনস্তার বিষয়টি নতুন নয় জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘এর আগ অনেক সংবাদকর্মী হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তাদের দেশে ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। কাউকে কারাগারে বন্দি জীবন কাটাতে হয়েছে।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশিদ, সদর থানার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ উপস্থিত ছিলেন অনেকে।

শেয়ার করুন

বিএনপিকে করোনা কমার প্রমাণ দিলেন কাদের

বিএনপিকে করোনা কমার প্রমাণ দিলেন কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি : নিউজবাংলা

ওবায়দুল কাদের জানান, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার থেকে ৬ শ এর নিচে এবং মৃত্যুর সংখ্যা ১১২ জন থেকে ৪০ এর নিচে নেমে এসেছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। করোনা খুব তাড়াতাড়ি চলে যাবে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই।

করোনা মোকাবিলায় ‘অব্যবস্থাপনা’ নিয়ে বিএনপির তোলা অভিযোগ নাকচ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তার দাবি, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ফলেই দেশে করোনার সংক্রমণ কমে আসছে।

মঙ্গলবার সকালে নিজ বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, করোনা থেকে সুরক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। কিন্তু বিএনপি এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন না করে উল্টো ঢালাওভাবে সরকারকে দুষছে। ব্যবস্থাপনা ঠিক না থাকলে করোনা সংক্রমণ কমল কীভাবে?’

ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা সমালোচনার খাতিরে শুধু সমালোচনায় লিপ্ত তাদের কিছু তথ্য স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার থেকে ৬ শ এর নিচে এবং মৃত্যুর সংখ্যা ১১২ জন থেকে ৪০ এর নিচে নেমে এসেছে।’

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, ‘করোনা খুব তাড়াতাড়ি চলে যাবে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লকডাউন ও টিকা কার্যক্রম নিয়ে বিএনপি নেতাদের অবস্থান এবং বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব লকডাউনের আগে ‘কঠোর লকডাউন’ দেয়ার দাবি তুলেছিলেন। এরপর সরকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যখন লকডাউন বা সাধারণ ছুটির ঘোষণা দিলো তখন তারা কৌশলে এর বিরোধিতা শুরু করে।

তিনি বলেন, বিএনপি টিকার বিরোধিতা করেছিল। তারা জনগণকে টিকা গ্রহণ থেকে দূরে রাখতে যে অপপ্রচার চালিয়েছিল তা ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব এখন ‘শাটডাউন’, ‘ক্র্যাকডাউন’সহ নানা পরিভাষা ব্যবহার করছেন। অথচ যখন মানুষের জীবন-জীবিকার সুরক্ষাই অগ্রাধিকার, তখন তারা অব্যাহতভাবে অপরাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনা সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত পদক্ষেপ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। অথচ বিএনপি নামক দলটি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা না করে বরং অবিরাম মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

‘শেখ হাসিনার সরকারে ‘হাওয়া ভবনের’ মতো কোনো বিকল্প ক্ষমতা কেন্দ্রের অস্তিত্ব নেই। জনগণের সরকার জনগণের কল্যাণেই কাজ করছে। শেখ হাসিনা সরকার অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথে দেশ পরিচালনা করছেন এবং দলগত ভাবে আওয়ামী লীগও জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।’

ক্ষমতাশীন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতার দাবি, জনগণের সমর্থনের ফলেই শেখ হাসিনা সরকার দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চাকা সম্মুখপানে পানে এগিয়ে যাচ্ছে। বিদেশে সরকারের কোনো প্রভু নেই, আছে অকৃত্রিম বন্ধু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে তার কূটনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।

শেয়ার করুন

মুনাফার উদ্দেশ্যে টিকা আমদানি: জি এম কাদের

মুনাফার উদ্দেশ্যে টিকা আমদানি: জি এম কাদের

জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ফাইল ছবি

বিবৃতিতে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, সংশ্লিষ্টদের অদূরদর্শিতায় টিকা কূটনীতিতে ব্যর্থ হয়েছে দেশ। কোটি কোটি টাকা মুনাফার লক্ষ্যে টিকা আমদানি হয়েছে। এ কারণেই টিকা পেতে বিকল্প উৎস রাখা হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের অদূরদর্শিতায় টিকা কূটনীতিতে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের বলেছেন, বিপুল অর্থ মুনাফা করার জন্য টিকা আমদানি করা হয়েছে।

গণমাধ্যমে মঙ্গলবার পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, সংশ্লিষ্টদের অদূরদর্শিতায় টিকা কূটনীতিতে ব্যর্থ হয়েছে দেশ। কোটি কোটি টাকা মুনাফার লক্ষ্যে টিকা আমদানি হয়েছে। এ কারণেই টিকা পেতে বিকল্প উৎস রাখা হয়নি।

তিন পক্ষের চুক্তি অনুযায়ী এ পর্যন্ত দেশের প্রায় ৫০ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। কিন্তু টিকার নিশ্চয়তা মেলেনি।

বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত টিকা পেয়েছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে। তবে যত টিকা পাওয়ার কথা ছিল, ততগুলো আসেনি।

৩ কোটি ৪০ লাখ কেনা টিকার মধ্যে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত পেয়েছে ৭০ লাখ। বাকি টিকা আসা অনিশ্চিত পুরোপুরি। টিকার অভাবে বিভিন্ন জেলায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে টিকাদান কর্মসূচি।

কাদের বলেন, দেশের ১৪ লাখ মানুষের দ্বিতীয় ডোজ করোনা টিকা নিয়ে উদ্বেগ কমছে না। ৮ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে করোনার দ্বিতীয় ডোজ টিকা আবশ্যক। কিন্তু এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগ আশ্বস্ত করতে পারছে না। করোনা টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা দুর্ভাগ্যজনক।

বিবৃতিতে জাপা চেয়ারম্যান একহাত নেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের।

জি এম কাদের বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্তারা প্রতিদিন করোনার তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ঢেউয়ের ভয় দেখাচ্ছেন। এ জন্য জনগণকে দায়ী করে নিজেদের দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

করোনা প্রতিরোধে সরকারের প্রস্তুতির কথা স্পষ্ট করতে পারছে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিশ্চিত করতে হবে, জনগণ উদ্বিগ্ন।

শেয়ার করুন

দ. কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন

দ. কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন

শেখ হাসিনা তার অভিনন্দন বার্তায় আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত কিম বু কিয়ুম রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে তার দেশকে বৃহত্তর শান্তি, অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসউং এ তথ্য জানিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী কিম বু কিয়ুমকে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে উষ্ণতম অভিননন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা তার অভিনন্দন বার্তায় আশা প্রকাশ করেন, কিম বু কিয়ুম রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে তার দেশকে বৃহত্তর শান্তি, অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসউং এ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ, শান্তি, নিরাপত্তা ও সবার জন্য সমৃদ্ধির যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন শেখ হাসিনা। কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ ও দৃঢ়বন্ধনের ওপরও জোর দেন তিনি। বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি উভয় দেশের জনগণের স্বার্থে বৃহত্তর বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও টেকনিক্যাল কোঅপারেশনের ক্ষেত্রে আমাদের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।’

বাংলাদেশের অবকাঠামো ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগকে উৎসাহিত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের উন্নয়ন মহাপ্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের অব্যাহত অংশগ্রহণের আন্তরিক প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা।

কোরিয়ার সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে তার সরকার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা অব্যাহত রাখবে বলেও তার সদিচ্ছার কথা জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী কিম বু কিয়ুমকে উভয়ের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান শেখ হাসিনা।

শেয়ার করুন

রোজিনা ইসলামের সঙ্গে আচরণ লজ্জাজনক: জি এম কাদের

রোজিনা ইসলামের সঙ্গে আচরণ লজ্জাজনক: জি এম কাদের

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অবরুদ্ধ হওয়ার সময় রোজিনা ইসলাম

এক বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা লজ্জাজনক।’

প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রোজিনা ইসলামকে ‘আটক ও হেনস্তা করার ঘটনার’ তীব্র নিন্দাও জানিয়েছেন তিনি।

বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা লজ্জাজনক।’

বিবৃতিতে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

শেয়ার করুন

‘খালেদার সাজা স্থগিতের ধন্যবাদ জানায়নি বিএনপি’

‘খালেদার সাজা স্থগিতের ধন্যবাদ জানায়নি বিএনপি’

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে মানবিক কারণে দণ্ড স্থগিত করে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয় সরকার। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মানবিকতা আছে বলেই শেখ হাসিনা বেগম জিয়ার সাজা স্থগিত করে মুক্তি দিয়েছেন। এটা কি মানবিকতা নয়? এই মানবিকতার একটা প্রশংসাও বিএনপি নেতারা করেননি।’

মানবিকতা দেখিয়ে দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বেগম খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করা হলেও কৃতজ্ঞতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ না জানানোয় বিএনপি সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ পত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সোমবার দলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার এক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি একথা বলেন।

কাদের বলেন, ‘মানবিকতা আছে বলেই শেখ হাসিনা বেগম জিয়ার সাজা স্থগিত করে মুক্তি দিয়েছেন। এটা কি মানবিকতা নয়? এই মানবিকতার একটা প্রশংসাও বিএনপি নেতারা করেননি।’

প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিএনপি ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন’ মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যা দিবসে কেক কেটে খালেদা জিয়ার ভূয়া জন্মদিন পালন করে প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিএনপি। এই রেকর্ড আর কারো নেই, যা বিএনপি সৃষ্টি করেছে।’

আলোচনা সভায় দেশ গঠনে শেখ হাসিনার ভূমিকা তুলে ধরে কাদের। বলেন, ‘আপন কর্মমহিমায় শেখ হাসিনা হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের নির্মাতা, হিমাদ্রি শিখর সফলতার মূর্ত-স্মারক, উন্নয়নের কান্ডারি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে করোনা সংকট মোকাবিলা করে বাংলাদেশ আজ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অভিযাত্রায় দুর্বার গতিতে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

‘৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশে সবচেয়ে সৎ, সাহসী ও মানবিক নেতা শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ আজ শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বিশ্বের বিস্ময়।’

শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের ঐক্যের প্রতীক উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা গত চার দশক ধরে দলকে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ধ্বংসস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে বারবার জীবনের জয়গান গেয়েছেন।

‘বঙ্গবন্ধু রাজনীতির রোল মডেল, আর উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে শেখ হাসিনার নাম চির ভাস্বর হয়ে থাকবে। শেখ হাসিনার মত দুরদর্শী নেতৃত্ব আছে বলেই বাংলাদেশ আজ সঠিক পথে এগিয়ে চলছে। আপোষহীন কান্ডারি হিসেবে উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার অভিমুখে।’

শেখ হাসিনা ফিরে এসেছিলেন বলেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘তিনি ফিরে এসেছিলেন বলেই ঢাকায় আজ তরুণ প্রজন্মের মেট্রোরেল, নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণাধীন পদ্মাসেতুর কাজ এখন শেষ পর্যায়ে, সার্বিক অগ্রগতি শতকরা ৮৫ ভাগ। আগামী বছর জুনে এই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

‘শেখ হাসিনা ফিরে এসেছিলেন বলেই বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। এটা শেখ হাসিনার সাফল্যের মুকুটে যুক্ত আরো একটি সোনালী পালক।’

শেয়ার করুন

দলে আগাছা-হাইব্রিড আসলে উপড়ে ফেলব: নাছিম

দলে আগাছা-হাইব্রিড আসলে উপড়ে ফেলব: নাছিম

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘‘দলের দুর্দিনে কেউ কেউ পিছিয়ে যায়। ২০০১ সালে ‘বয়স হয়েছে, বাকি কটা দিন শান্তিতে থাকতে চাই’ এসব কথা বলে অনেকেই রাজনীতি থেকে দূরে ছিল। দলের দুর্দিনে তারা পালিয়ে যায়। আমরা সুদিনের নেতা চাই না। আগাছা আসলে, হাইব্রিড আসলে, আমরা উপড়ে ফেলে দেব।’’

আওয়ামী লীগ সুদিনের কোনো নেতাকে চায় না জানিয়ে ক্ষমতাসীন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, দলে আগাছা আসলে, হাইব্রিড আসলে উপড়ে ফেলে দেয়া হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘‘দলের দুর্দিনে কেউ কেউ পিছিয়ে যায়। ২০০১ সালে ‘বয়স হয়েছে, বাকি কটা দিন শান্তিতে থাকতে চাই’ এসব কথা বলে অনেকেই রাজনীতি থেকে দূরে ছিল। দলের দুর্দিনে তারা পালিয়ে যায়। আমরা সুদিনের নেতা চাই না। আগাছা আসলে, হাইব্রিড আসলে, আমরা উপড়ে ফেলে দেব।’’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ এর পর কেউ কেউ বলত রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী বলে ভাগাভাগি করার কী দরকার। এ কথা বলে তারা অপরাধীদের বিচার রুখতে চেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা আপস না করে বঙ্গবন্ধুর করে যাওয়া আইনেই তাদের বিচার করেছেন।’

যারা দেশবিরোধী, সাম্প্রদায়িক চেতনার অপরাজনীতি করে মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে মন্তব্য করে ক্ষমতাসীন দলটির এই নেতা বলেন, ‘সে কারণেই যুদ্ধপরাধীদের বিচার সম্ভব হয়েছে। আজ যারা ধর্ম ব্যবসায়ী তাদেরও মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে।

‘তাদের এ দেশে স্থান নেই। তারা চাইলে পাকিস্তানে যেয়ে পাকিস্তানের রাজনীতি করুক। আমরা বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে গড়ে তুলব।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বলেছিলেন সোনার বাংলাদেশ গড়তে সোনার মানুষ চাই। আমরা সোনার মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে পারি। দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে আসুন আমরা নিজেদের উৎসর্গ করি। শেখ হাসিনা ১৭ মে যেভাবে দেশকে ভালোবেসে, মানুষকে ভালোবেসে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন, আসুন আমরাও তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের উৎসর্গ করি।’

‘শেখ হাসিনা এসেছিলেন ঐক্যের প্রতীক হিসেবে’

১৯৮১ সালের ১৭ মে’র প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তখন দেশ এবং আওয়ামী লীগও করুণ অবস্থায় ছিল। তখন ঐক্যের প্রতীক হিসেবে, আদর্শের প্রতীক হিসেবে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়। সে দিন বঙ্গবন্ধুকন্যা আলোর দিশারি হয়ে দেশে আসেন। তিনি এসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশের মানুষকে জাগরিত করেছেন, ঐক্যবদ্ধ করেছেন।

‘১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে না আসলে আমরা এ পর্যায়ে আসতে পারতাম না। সে দিন তিনি দেশে আসায় আমরা স্বপ্ন দেখতে পেরেছি। শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।’

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে এসেছিলেন বলেই জাতির পিতার হত্যার বিচার করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশে যেমন মহাত্মা গান্ধী হত্যার সঠিক বিচার হয়নি। বঙ্গবন্ধুকন্যা খুনিদের সাথে আপস করেননি। বিচার না হলে আমরা কলঙ্কিত জাতি হয়ে থাকতাম। বঙ্গবন্ধুকন্যা আমাদের সেই কলঙ্ক থেকে মুক্ত করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি হওয়ার পরও খুনি, একনায়ক জিয়াউর রহমান তাকে দেশে আসতে বারণ করেছিল। তিনি সে দিন নিজ বাড়িতে উঠতে পারেননি, আত্মীয় বাড়িতে উঠেছিলেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি সর্বহারা, আমি আপনাদের জন্য, দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করলাম।’’

শেখ হাসিনাকে এ পর্যন্ত ১৯ বার হত্যার চেষ্টা হয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তিনি মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে দেশকে ভালোবেসে, মানুষকে ভালোবেসে জাতির পিতার স্বপ্নের গণতান্ত্রিক উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য দেশে এসেছিলেন, দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।’

স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত।

শেয়ার করুন