ইতালির রাজধানী রোমে একদল যুবকের হাতে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী আলোচিত বাংলাদেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর বনি আমিন। হামলার সেই চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভ্রমণ সূত্রে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া থেকে ইতালি সফরে গিয়েছিলেন বনি আমিন। গত মঙ্গলবার রাতে রোমের তরপিনাতারা নামক আবাসিক এলাকায় একদল যুবক তাকে ‘মৌলবাদী’ আখ্যা দিয়ে চড়াও হয় এবং মারধর করে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, জনৈক ব্যক্তি বনি আমিনকে জাপ্টে ধরে আক্রমণাত্মক আচরণ করছেন। সেখান থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাঁকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে রাস্তায় পার্ক করা একটি যানের সামনে তাঁকে ফেলে উপর্যুপরি লাথি ও মারধর করা হয়।
ভিডিওর কথোপকথনে আক্রমণকারীদের উচ্চস্বরে বাংলায় গালাগাল করতে শোনা গেছে, যাদের কথায় বাংলাদেশি আঞ্চলিক ভাষার স্পষ্ট ছাপ ছিল। হামলাকারীরা বনি আমিনকে বারবার ‘মৌলবাদী’ বলে সম্বোধন করছিল এবং একে অপরকে আক্রমণে প্ররোচিত করছিল। যদিও এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুনির্দিষ্ট নেপথ্য কারণ বা জড়িতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু সূত্র দাবি করছে যে ঘটনার সময় বনি আমিন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন।
নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপে জন্ম নেওয়া বনি আমিন বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক অনুসারী গড়ে তুলেছেন।
ছবি: সংগৃহীত
জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ ও জীববৈচিত্র্যের সংকট মোকাবিলায় শিশুদের পরিবেশ সচেতন করে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক। তিনি বলেছেন, একটি শিশুকে ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি, গাছপালা, নদী-খাল এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে সে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চলমান পরিবেশ মেলা প্রাঙ্গণে ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশন (সিএজেএফ) আয়োজিত শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বললেন।
সিএজেএফের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুনের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী এস এম রায়হান (তনু) এবং গ্রীন সেভার্সের আহসান রনি। উপস্থিত ছিলেন সিএজেএফের সেক্রেটারি জেনারেল রাওমান স্মিতা, নির্বাহী সদস্য মোহসিনা শাওন, মুর্শিদা খাতুন, বোরহান উদ্দিন, মেহেদী হাসান খান তপু ও মহিউদ্দিন খান।
জিয়াউল হকের ভাষ্য, আজ যারা অভিভাবক হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন, তারা যদি নিজেদের সন্তানদের সামনে পরিবেশবান্ধব আচরণের উদাহরণ তৈরি করেন, তাহলে সেই শিক্ষাই শিশুদের ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি হবে।
তিনি বললেন, পরিবেশ রক্ষা মানে শুধু গাছ লাগানো নয়; বরং প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং দৈনন্দিন জীবনে পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি শব্দ দূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অপ্রয়োজনে গাড়ির হর্ন বাজানো, কালো ধোঁয়া নির্গমন এবং পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালার আওতায় প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশ সরাসরি জরিমানা করতে পারে। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
অতিরিক্ত মহাপরিচালকের মতে, আজকের ছোট ছোট সচেতনতাই আগামী দিনের সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত করতে সবাইকে পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে পরিবেশ মেলা প্রাঙ্গণে শিশুদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিক শিশু অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে সনদপত্র ও একটি করে গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়। পাশাপাশি সেরা ১৫ শিশুকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে গ্লোবাল ল থিংকার্স সোসাইটি ও জিয়া আর্ট গ্যালারি।
অনুষ্ঠানে সিএজেএফের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুন বলেছেন, শিশুদের মাঝে পরিবেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই পরিবার থেকেই পরিবেশ রক্ষার শিক্ষা শুরু করতে হবে। তিনি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
ছবি: নিউজ বাংলা
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আজগর লবী। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, "এলাকার সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতে হবে।"
খুলনার ডুমুরিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ১জুলাই দুপুরে সাড়ে ১২টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আজগর লবী।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, "এলাকার সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতে হবে।"
সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে আরও বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস এবং ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খন্দকার হাফিজুর রহমান,
ডুমুরিয়া উপজেলাপ্রাণী সম্মপদ কর্মকর্তা ড, আশরাফুল কবির,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর ইউ এস আই কাজল মল্লিক, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান, কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা, প্রথম শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম,মহিলা বিষয় কর্মকর্তা হাসি রাণী, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, চুকনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম রুহুল আমিন,মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দিবাশীষ বিশ্বাস, চেয়ারম্যান মাহাবুবুর মোল্লা, শেখ হেলাল উদ্দিন, জহিরুল হক, গাজী হুমায়ুন কবির বুলু, সমাবেশ মন্ডল,মোসলেম আলী, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সরোয়ার হোসেন, আব্দুল মালেক,নিত্যানন্দ মন্ডল, মাওলানা ওমর আলী, খুলনা জেলা কৃষক দলের সভাপতি মোল্লা কবিরুল ইসলাম,শিক্ষক আইয়ুব হুসেইন, মাওলানা মোক্তার হোসেন, প্রমুখ।।
বক্তারা ডুমুরিয়া উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সুন্দর রাখতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার সকালে দেশটির শাহানিয়া নামক এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত প্রবাসীদের সবার বাড়ি সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামে।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও কাদের আহমদ। জানা গেছে, তারা একটি পিকআপ ভ্যানে চড়ে নিজেদের কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে গাড়িটি আকস্মিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে ঘটনাস্থলেই ছয়জন আরোহী প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।
বর্তমানে নিহতদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক জানান, বর্তমানে দূতাবাসের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিহত পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ দেশে স্বজনদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যায়। একই গ্রাম থেকে আসা পাঁচ তরুণের এমন অকাল মৃত্যুতে নিহতের পরিবার ও প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর প্রধান কার্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং কালজয়ী ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষে এক বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। শোকের আবহে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিবির পরিচালনা পর্ষদের মাননীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু আহমেদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মো. নুরুল হুদা। শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং মোনাজাতের মাধ্যমে মরহুম নেতার বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে আইসিবির অঙ্গসংস্থানসমূহের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা (সিইও) বিশেষ গুরুত্বের সাথে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপকগণসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। সমবেত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাংলাদেশের উন্নয়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদান এবং তাঁর আদর্শিক দূরদর্শিতার কথা স্মরণ করেন। দোয়া মাহফিলে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়, যেখানে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি প্রার্থনা করা হয়।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই আধুনিক বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল, যার অন্যতম একটি হলো আইসিবি। তাঁর প্রবর্তিত উন্নয়ন দর্শনকে পাথেয় করে দেশের বিনিয়োগ খাতের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। পরিশেষে, এই দোয়া মাহফিলটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার আত্মার পরম শান্তি কামনার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।
ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা)-এর চারুকলা অনুষদ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত পুনর্মিলনী ‘প্রস্তরযুগের নয়াজলসা ২০২৬’। ধানমন্ডির ১২/এ সড়ক সংলগ্ন লেকপাড়ে এক ঝকঝকে সকালে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের সূচনা হয়। শিল্প, সংস্কৃতি ও স্মৃতিচারণে ভরপুর এই অনুষ্ঠানে প্রথম থেকে ৫৮তম আবর্তনের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো লেকপাড়কে একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত করে। দীর্ঘ সময় পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছে পেয়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে ইউডার রেজিস্ট্রার ড. ইফাত কায়েস চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এমন বৃহৎ আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি বিশেষ মাইলফলক। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক শিল্পী ড. রশীদ আমিন ইউডা চারুকলার প্রতিষ্ঠাকালীন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, চায়ের দোকানে বসে এক সময় এই বিভাগ চালুর পরিকল্পনা হয়েছিল এবং দেশে এমএফএ পড়ার সীমিত সুযোগ থাকায় প্রথম ব্যাচ থেকেই ব্যাপক সাড়া মিলেছিল। বর্তমানে এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাফল্য দেখে তিনি অত্যন্ত গর্বিত বলে জানান।
চারুকলা অনুষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর আলাউদ্দিন আহমেদ তাঁর প্রিয় শিক্ষার্থীদের সামনে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে তাঁদের কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, অনুষদের ডিন ও একুশে পদক বিজয়ী শিল্পী শাহজাহান আহমেদ বিকাশ তাঁর বক্তব্যে বিভাগীয় চ্যালেঞ্জসমূহ এবং বর্তমানের অভাবনীয় সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু হওয়া এই বিভাগটি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম শক্তিশালী পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পুরো দিনের সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ও জমজমাট। আহসানুর জামান তিনু ও মোরসালীনা অনিকার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় ম্যাক সোহানের বাঁশির সুর, জাকিয়া সুলতানা ও আব্দুল্লাহ আল ফারুকের আবৃত্তি এবং শেখ শায়লা ও সমীরণ সরকারের গান। পিংকি ও মন্জরী মাধুরীমার নৃত্য এবং রূপের পুথিঁ পাঠ দর্শকদের মুগ্ধ করে। এ ছাড়াও একটি বিশেষ ফ্যাশন শো এবং পুরোনো দিনের বাংলা সিনেমার গানের সাথে আকাশ ও অনুরাধার আকর্ষণীয় ছায়াছন্দ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের আকর্ষণ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে হাসিনুল আলম সুজন জানান, ‘প্রস্তরযুগের নয়াজলসা’ কেবল একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যকার পেশাদার ও আত্মিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। বিভিন্ন আবর্তনের শিক্ষার্থীদের এক ছাদের নিচে নিয়ে আসার এই প্রচেষ্টাকে সবাই সাধুবাদ জানিয়েছেন। দিনভর আড্ডা, হাসি আর স্মৃতি রোমন্থনের মধ্য দিয়ে এই সফল আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সম্মিলিত কাজের প্রেরণা জোগাবে।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বর্তমান অস্থিতিশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতি-বিশেষ করে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আবীর ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটসের মাধ্যমে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অপর এক প্রস্তাবের ভিত্তিতে এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকের (ইএমকেআই) কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল। ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের আরেক প্রস্তাবের ভিত্তিতে জিটুজি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান পি.টি. বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন (বিএসপি জাপিন), ইন্দোনেশিয়া থেকে চুক্তির আওতায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস অয়েল ০.৫ শতাংশ ‘এস’ (ডিজেল) ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য