× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

অন্যান্য
Transgender Megha applied for a job as a woman
hear-news
player
print-icon

ট্রান্সজেন্ডার মেঘা চাকরির আবেদন করলেন ‘নারী’ হিসেবে

ট্রান্সজেন্ডার-মেঘা-চাকরির-আবেদন-করলেন-নারী-হিসেবে
ঠাকুরগাঁওয়ের ট্রান্সজেন্ডার মেঘা শর্মা হতে চান বিমানবালা। ছবি: নিউজবাংলা
মেঘা বলেন, ‘প্রতিটা নিয়োগে নারী ও পুরুষ লিঙ্গ আবেদন করতে পারে, কিন্তু যারা রূপান্তরিত নারী, তাদের কোনো কোটা থাকে না। আমরাও যে নিজের যোগ্যতা দিয়ে কাজ করতে পারি সেই সুযোগটা চাই আবেদনে।’

গ্রামের ছেলে সুবল শীলের মেঘা শর্মা হয়ে বাড়ি ফেরার গল্প ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে। নিউজবাংলাসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম তার মেঘা শর্মায় রূপান্তরিত হওয়ার খবরও প্রচার করে।

সে সময় মেঘা জানিয়েছিলেন, তিনি বিমানবালা হতে চান। তার ইচ্ছের কথা জেনে একটি বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তাকে বিনা মূল্যে বিমানবালা হওয়ার প্রশিক্ষণ দেয়।

এরই মধ্যে মেঘা জানতে পারেন, ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস বিমানবালা পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। সুযোগ হাতছাড়া না করে তিনি আবেদন ফরম নেন। তবে বিপত্তি তখন হয়, যখন ফরমে লিঙ্গ হিসেবে পুরুষ বা নারী বাছাই করতে হয় তাকে। ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে আবেদন করার সুযোগ নেই তাতে।

মেঘা আক্ষেপ করে গত শুক্রবার রাতে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। তাতে লেখেন, ‘...জন্মই যেন আজন্ম পাপ। এয়ার হোস্টেজ /কেবিন ক্রু হওয়ার সপ্ন‌ চিরকাল সপ্নই। কালকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স এর আবেদনের শেষ সুযোগ অনান্য ক্রাইটেরিয়া ফিলআপ করলেও‌‌ শুধু মাত্র জেন্ডার আইডেন্টিটির জন্য আমি আবেদন করতে পারছি ‌না। এসব সপ্ন যেন ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার সপ্ন দেখা।’ (মূল পোস্টের বানান অপরিবর্তিত)।

আরও পড়ুন: সুবল শীল যেভাবে বদলে গিয়ে মেঘা শর্মা

এ বিষয়ে জানতে মেঘার সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার।

মেঘা বলেন, ‘বিমানবালা হওয়ার স্বপ্ন আমার ছোটবেলা থেকে। নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করেছি। অনেক পড়াশোনাও করেছি। সম্প্রতি ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে মনে হয়েছিল স্বপ্ন পূরণের পালা এবার।

‘তবে নিয়োগের চাহিদায় নারী ও পুরুষ লিঙ্গ বিবেচনা করা হয়েছে। ট্রান্সজেন্ডারদের সুযোগ নাই। তাই হতাশ হয়ে নিজের আক্ষেপ প্রকাশ করতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম।’

ট্রান্সজেন্ডার মেঘা চাকরির আবেদন করলেন ‘নারী’ হিসেবে
মেঘা শর্মার এই ছবিটি তার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেয়া।

মেঘা জানান, ওই স্ট্যাটাস দেখে শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে নারী ক্যাটাগরিতে আবেদন করার পরামর্শ দেন। সেটি মেনে নারী হিসেবে তিনি আবেদনপত্র জমা দেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটা নিয়োগে নারী ও পুরুষ লিঙ্গ আবেদন করতে পারে, কিন্তু যারা রূপান্তরিত নারী, তাদের কোনো কোটা বা লিংক থাকে না। আমরাও যে নিজের যোগ্যতা দিয়ে কাজ করতে পারি সেই সুযোগটা চাই আবেদনে।’

‘আমরা সংখ্যায় কম। আমাদের দাবির আওয়াজ খুব বেশি দূরে পৌঁছায় না। আমি প্রত্যাশা করি ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ আমার আবেদনটি বিবেচনা করবেন।’

ট্রান্সজেন্ডার মেঘা চাকরির আবেদন করলেন ‘নারী’ হিসেবে
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেঘা শর্মা। ছবি: নিউজবাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ থুমনিয়া নাপিতপাড়া গ্রামে ২৭ জানুয়ারি ১৯৯৯ সালে নরসুন্দর জগেশ শীল ও আলো রানীর ঘরে জন্ম নেন সুবল শীল। ভারত ও ঢাকায় চিকিৎসা নিয়ে ২০২১ সালে লিঙ্গ পরিবর্তন করে তিনি হয়ে যান মেঘা শর্মা।

মেঘা জানান, চিকিৎসার সময় লিঙ্গ পরিবর্তনের ব্যাপারটি সবার কাছে গোপন রেখেছিলেন তিনি। শুধু তার পরিবার এ খবর জানত। অনেক অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসা শেষে মেঘা হয়ে বাড়ি গেলে সবাই তাকে দেখতে ভিড় জমায়।

মেঘা সে সময় বলেন, ‘আমি আমার পরিবার ও সমাজের জন্য কিছু করতে চাই। সমাজের অধিকাংশ মানুষ মনে করছে আমি এখন সমাজের বোঝা, কিন্তু কাজ দিয়ে এ ধারণা বদলাতে চাই।’

আরও পড়ুন:
মা-বাবার সম্পত্তি পাবেন ট্রান্সজেন্ডার
করোনায় চিকিৎসা নিতে বৈষম্যের শিকার ট্রান্সজেন্ডাররা
ট্রান্সজেন্ডারের সঙ্গে শিশু, ফাঁড়িতে হট্টগোল
তাসনুভাকে নিয়ে গর্বিত আমেরিকান দূতাবাস
ভালোবাসা দিবসে টিকা নিয়ে খুশি ট্রান্সজেন্ডাররা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অন্যান্য
Transgender people are being deprived of legal protection

আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ট্রান্সজেন্ডারেরা

আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ট্রান্সজেন্ডারেরা
‘তৃতীয় লিঙ্গের অনেক মানুষ সমাজের ভয়ে নিজের পরিচয় গোপন রাখে। কারণ পরিচয় প্রকাশ হলে হয়রানির শঙ্কা থাকে। তবে সরকারি-বেসরকারি প্রচেষ্টায় সাম্প্রতিক সময়ে এসব ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।’

দেশের প্রচলিত আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ট্রান্সজেন্ডারেরা। তারা নানামুখী হয়রানির শিকার হচ্ছে। অথচ ন্যায্য নাগরিক অধিকারটুকুও পাচ্ছে না।

লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর আইনি সুরক্ষা ও অধিকার সংরক্ষণে বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আলোচকেরা এমন মন্তব্য করেন। এলইজিডি প্রকল্পের সহযোগিতায় এই সভার আয়োজন করে ‘সম্পর্কের নয়া সেতু’।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি জয়া সিকদার বলেন, ‘হিজড়া জনগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। ফলে আইনি সুরক্ষা ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন এই জনগোষ্ঠীর মানুষেরা। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা ঠিকমতো স্বাস্থ্যসেবাও পান না।’

নারী পক্ষের সদস্য আইনজীবী কামরুন নাহার বলেন, ‘তৃতীয় লিঙ্গের অনেক মানুষ সমাজের ভয়ে নিজের পরিচয় গোপন রাখে। কারণ পরিচয় প্রকাশ হলে হয়রানির শঙ্কা থাকে। তবে সরকারি-বেসরকারি প্রচেষ্টায় সাম্প্রতিক সময়ে এসব ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

‘দেশে প্রতিদিন ৩০০ ট্রান্সজেন্ডার শিশু জন্মগ্রহণ করে। পরবর্তীতে এদের কেউ কেউ হত্যা বা পাচারের শিকার হয়। দেশে সবচেয়ে বেশি পাচারের শিকার হয় সাতক্ষীরায়।

অনুষ্ঠানে আলোচনায় আরও অংশ নেন মানবাধিকার কর্মী মুশফিকা লাইজু, নাগরিক উদ্যোগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাদিরা পারভীন, আশার আলোর প্রোগ্রাম ম্যানেজার সানোয়ার হোসেন প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
ট্রান্স নারীরা ‘বিশ্ব নারী সাঁতার প্রতিযোগিতা’ থেকে নিষিদ্ধ
প্রতিবন্ধী-ট্রান্সজেন্ডারদের চাকরি দিলে কর ছাড়
হোচিমিনের পরিবার একঘরে!
ট্রান্স পুরুষের পরিপক্ব ডিম্বাণুতে জন্ম নেবে সন্তান
ট্রান্সজেন্ডারদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭

মন্তব্য

অন্যান্য
The transgender girl in the mask wants to change the name given by her parents

বাবা-মায়ের দেয়া নাম বদলাতে চান মাস্কের ট্রান্সজেন্ডার মেয়ে

বাবা-মায়ের দেয়া নাম বদলাতে চান মাস্কের ট্রান্সজেন্ডার মেয়ে ইলন মাস্ক
সম্প্রতি ১৮ বছরে পা দেয়া জেভিয়ার আলেকজান্ডার মাস্ক তার বাবা বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের মাস্কের সঙ্গে আর কোনোভাবেই সম্পর্কিত থাকতে চান না বলে জানিয়েছেন। 

বাবা-মায়ের দেয়া নাম বদলাতে চান ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা ও মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্কের ট্যান্সজেন্ডার মেয়ে।

গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসের সুপ্রিম কোর্টে তিনি নাম বদল ও নতুন জন্ম সনদ চেয়ে আবেদন করেন বলে এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি

সম্প্রতি ১৮ বছরে পা দেয়া জেভিয়ার আলেকজান্ডার মাস্ক তার বাবা বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের মাস্কের সঙ্গে আর কোনোভাবেই সম্পর্কিত থাকতে চান না বলে জানিয়েছেন।

আদালতের কাছে ছেলে থেকে মেয়ে পরিচয়ের স্বীকৃতি এবং বর্তমান নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম নিবন্ধন করতে আবেদন করেন তিনি।

আলেকজান্ডার মাস্ক বলেন, 'আমি আর কোনোভাবেই আমার জন্মদাতা বাবার সঙ্গে থাকতে বা তার নাম-পরিচয় বহনের সম্পর্ক রাখতে চাই না।'

ইলন মাস্ক-জাস্টিন উইলসনের ঘরে জন্ম নেন আলেকজান্ডার মাস্ক। ২০০৮ সালে তার বাবা-মায়ের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জাস্টিনের সঙ্গে ঘর করার পর আরও দুই নারীকে বিয়ে করেছিলেন ইলন মাস্ক। অবশ্য এই দুই স্ত্রীর সঙ্গেও বিচ্ছেদ হয় তার।

মেয়ের নাম পরিবর্তনের আবেদনের ব্যাপারে মাস্কের প্রতিষ্ঠান টেসলা বা তার নিজের কোনো আইনজীবীর মন্তব্য জানা যায়নি।

তবে এই আবেদনের মাসখানেক পর যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির প্রতি সমর্থনের কথা জানান ইলন মাস্ক; যে পার্টির নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অবস্থান দেশজুড়ে ট্রান্সজেন্ডার অধিকারকে সীমিত করার আইনের পক্ষে।

এর আগে ২০২০ সালে এক টুইট বার্তায় ইলন মাস্ক বলেছিলেন, 'আমি পুরোপুরি ট্রান্সজেন্ডারদের সমর্থন করি। কিন্তু নারী বা পুরুষ পরিচয় বেছে নেওয়া একটি দুঃস্বপ্ন।'

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ থেকে ইলন মাস্কের স্টারলিংকের অর্ডার নেয়া শুরু
জীবনহানির শঙ্কায় ইলন মাস্ক
ইলন মাস্ককে টুইটারের বদলে শ্রীলঙ্কা কেনার পরামর্শ

মন্তব্য

অন্যান্য
Trans women are banned from world womens swimming competitions

ট্রান্স নারীরা ‘বিশ্ব নারী সাঁতার প্রতিযোগিতা’ থেকে নিষিদ্ধ

ট্রান্স নারীরা ‘বিশ্ব নারী সাঁতার প্রতিযোগিতা’ থেকে নিষিদ্ধ লিয়া টমাস মার্চে এনসিএএ সাঁতার প্রতিযোগিতায় প্রথম ট্রান্স ক্রীড়াবিদ হিসেবে শিরোপা জেতেন। ছবি: এপি
নতুন নীতি সম্পর্কে ফিনার প্রেসিডেন্ট হুসেন আল-মুসাল্লাম বলেন, ‘ক্রীড়াবিদদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার রক্ষা করতে হবে। আমাদের ইভেন্টগুলোতে, বিশেষ করে ফিনা প্রতিযোগিতায় নারী বিভাগে প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।’

আন্তর্জাতিক নারী সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না ট্রান্সজেন্ডার। এ প্রশ্নে হওয়া ভোটের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাঁতারের বিশ্ব পরিচালন সংস্থা- ফিনা। তারা বলেছে, যেসব নারী পুরুষালি আচরণের যেকোনো শারীরিক অভিজ্ঞতা অনুভব করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে ১৫২টি দেশের ফেডারেশন ভোটে অংশ নেয়। ৭১ শতাংশ ভোট পড়ে ট্রান্সজেন্ডারদের বাদ দেয়ার পক্ষে।

ফিনা বৈজ্ঞানিক প্যানেলের একটি প্রতিবেদন বলছে, ট্রান্স নারীরা ওষুধের মাধ্যমে তাদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমানোর পরও সিসজেন্ডার নারী সাঁতারুদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেয়ে থাকে।

ফিনার নতুন ৩৪ পৃষ্ঠার নীতিতে বলা হয়েছে, পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তর ক্রীড়াবিদরা কেবল তখনই নারী বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে, যখন তারা এটা প্রমাণ করতে পারবে যে ট্যানার স্টেজ-টুর বাইরে পুরুষ বয়ঃসন্ধির কোনো কিছু অনুভব করেনি।

নতুন নীতি সম্পর্কে ফিনার প্রেসিডেন্ট হুসেন আল-মুসাল্লাম বলেন, ‘ক্রীড়াবিদদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার রক্ষা করতে হবে। আমাদের ইভেন্টগুলোতে, বিশেষ করে ফিনা প্রতিযোগিতায় নারী বিভাগে প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।’

এই জটিলতায় যারা পড়বেন তাদের আশাহত হওয়ার কারণ নেই। ফিনার নতুন নীতিতে বলা হয়েছে, কিছু ইভেন্টে ট্রান্স নারীদের জন্য একটি ‘উন্মুক্ত’ বিভাগ খোলা হবে।

ফিনার সভাপতি মুসাল্লাম বলেন, ‘আমরা সব সময় ক্রীড়াবিদকে স্বাগত জানাই। একটি উন্মুক্ত বিভাগ তৈরির অর্থ হলো, প্রত্যেকেরই অভিজাত স্তরে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ রয়েছে। এটি আগে করা হয়নি। তাই ফিনাকে পথ দেখাতে হবে।’

এর আগে ২০২০ সালে বিশ্ব রাগবি প্রতিযোগিতায় এমন সিদ্ধান্ত এসেছিল। তবে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা দিয়ে বাছাই করাকে অনেকেই করেছেন প্রশ্নবিদ্ধ। আরও অনেক প্রতিযোগিতায় এই পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় ট্রান্স নারীদের।

যুক্তরাষ্ট্রে লিয়া টমাস এক ট্রান্স নারী সাঁতারু, যিনি কলেজভিত্তিক একটি সাঁতার প্রতিযোগিতায় (পুরুষ বিভাগে) গেল মার্চে শিরোপা জেতেন। বিষয়টি তখন বেশ আলোচিত হয়। অনেকেই দাবি তুলেছিলেন, এ ধরনের সাফল্য অবশ্যই উদযাপন করা উচিত। ফিনার নতুন সিদ্ধান্তে প্যারিস অলিম্পিকে থমাস আর নারী বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।

সাবেক ব্রিটিশ সাঁতারু শ্যারন ডেভিস অবশ্য এই খবরকে স্বাগত জানিয়েছেন। টুইটে তিনি লেখেন, ‘আমি আপনাকে বলতে পারব না যে আমি আমার খেলাধুলার জন্য কতটা গর্বিত। ফিনা এবং ফিনা প্রেসিডেন্ট বিজ্ঞানের ভিত্তিতে এমন করছেন। সাঁতার সব সময় সবাইকে স্বাগত জানাবে, তবে ন্যায্যতা হলো খেলার ভিত্তি।’

আরেক সাবেক ব্রিটিশ সাঁতারু ক্যারেন পিকারিং বলেন, ‘উপস্থাপনা, আলোচনা এবং ভোটের জন্য ফিনা কংগ্রেসে ছিলাম। যেকোনো ক্রীড়াবিদ যারা এখন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না তাদের জন্য সহানুভূতি জানাতে পারি। নারীদের বিভাগে প্রতিযোগিতামূলক ন্যায্যতা অবশ্যই রক্ষা করা উচিত।’

আরও পড়ুন:
পুলিশের উদ্যোগে ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য পার্লার-ফুডকোর্ট
ট্রান্সজেন্ডারদের সুরক্ষায় হচ্ছে আইন
ট্রান্সজেন্ডার মেঘা চাকরির আবেদন করলেন ‘নারী’ হিসেবে
মা-বাবার সম্পত্তি পাবেন ট্রান্সজেন্ডার
করোনায় চিকিৎসা নিতে বৈষম্যের শিকার ট্রান্সজেন্ডাররা

মন্তব্য

অন্যান্য
This is the first time that two transgender people will vote in Comilla City

কুমিল্লা সিটিতে এই প্রথম নিজ পরিচয়ে ভোট দেবেন ২ ট্রান্সজেন্ডার

কুমিল্লা সিটিতে এই প্রথম নিজ পরিচয়ে ভোট দেবেন ২ ট্রান্সজেন্ডার কুমিল্লার প্রথম দুই ট্রান্সজেন্ডার ভোটার প্রীতি (বাঁয়ে) ও হাসু। ছবি: নিউজবাংলা
হাসু বলেন, ‘আমি ও প্রীতি ছাড়া এখানে পৌনে ৪০০ হিজড়া আছেন। তাদের কেউ পুরুষ ভোটার, কেউ নারী ভোটার। আমরাই প্রথম ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে ভোট দেব।’

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এই প্রথম দুজন ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ে ভোট দিতে যাচ্ছেন।

আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এই প্রথম দুজন ট্রান্সজেন্ডার ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।’

এই দুই ট্রান্সজেন্ডার হলেন নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার প্রীতি ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হাসু।

২০১৪ সালে পুরুষ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হন প্রীতি। গত বছর তিনি ট্রান্সজেন্ডার ভোটার ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হন।

প্রীতি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার খুব ভালো লাগছে। এবার নিজের পরিচয়ে ভোট দিতে পারব৷ কাকে ভোট দেব তা এখন বলব না। কেন্দ্রে গিয়ে যাকে ভালো লাগবে তাকে ভোট দিব।’

হাসু বলেন, ‘আমি ও প্রীতি ছাড়া এখানে পৌনে ৪০০ হিজড়া আছেন। তাদের কেউ পুরুষ ভোটার, কেউ নারী ভোটার। আমরাই প্রথম ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে ভোট দেব।’

২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ভোটার তালিকা বিধিমালায় পরিবর্তন এনে ট্রান্সজেন্ডার ক্যাটাগরি যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে সারা দেশে ৪৫৪ জন ট্রান্সজেন্ডার ভোটার আছেন। এর আগে ট্রান্সজেন্ডাররা নারী অথবা পুরুষ পরিচয়ে ভোটার হতেন।

১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী আছেন পাঁচজন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের আরফানুল হক রিফাত, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু, মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার, কামরুল আহসান বাবুল এবং ইসলামী আন্দোলনের রাশেদুল ইসলাম।

এ ছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১০৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

২৭ ওয়ার্ডে মোট ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। তাদের মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন ও ট্রান্সজেন্ডার ভোটার দুজন।

আরও পড়ুন:
মেয়র প্রার্থী কায়সারকে ফের অর্থদণ্ড
কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে হলি আর্টিজানে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ
নির্বাচনি প্রচারকালে সহিংসতায় আহত ১২ 
প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি বিলিয়ে মৌসুমি আয়
নেচে-গেয়ে সাক্কুর নির্বাচনি প্রচারে ট্রান্সজেন্ডাররা

মন্তব্য

অন্যান্য
The transgender student took the exam in B unit of DU

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থী

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থী ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার একটি কেন্দ্র। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে ঢাবির প্রক্টর বলেন, ‘এই শিক্ষার্থী যদি চান্স পায়, তাহলে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটা বড় অগ্রগতি। আশা করি সে ভালো করবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ট্রান্সজেন্ডার এক শিক্ষার্থী।

ঢাবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী এই তথ্য জানিয়েছেন।

ভর্তিচ্ছু এ শিক্ষার্থী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার জানা মতে, এবারই প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কোনো ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন।’

ভর্তির ফরম পূরণের সময় শিক্ষার্থীদের জেন্ডার নির্ণয়ের অপশন নিয়ে তিনি বলেন, “আবেদনের সময় ছাত্র বা ছাত্রী এ রকম একটু অপশন আছে। এটির উত্তর আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিই না। এটা আমরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড থেকে নিই।

“বোর্ডে যেটা থাকে, সেটাই নিই। সেখানে আমরা এখন পর্যন্ত ‘আদার্স’ নামে কোনো অপশন পাইনি। এই শিক্ষার্থী হয়তো ছাত্র বা ছাত্রী কোনো অপশনে পরীক্ষা দিয়েছে।”

ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে প্রক্টর বলেন, ‘এই শিক্ষার্থী যদি চান্স পায়, তাহলে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটা বড় অগ্রগতি। আশা করি সে ভালো করবে।

‘সে চান্স পেলে আমরা খুশি হব। সে যদি চান্স পায়, তাকে কোন হলে দেব, সেটা নিয়ে আমাদের এখন ভাবতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পয়সা চাইবে কেন? সে কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবে না? এটা একটা মুভমেন্ট। এই মুভমেন্টকে এগিয়ে নিতে হবে।’

‘খ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়ক এবং কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবদুল বাছির বলেন, ‘সে (ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থী) যদি সুযোগ পায়, তবে আমরা বেশি খুশি হব। তার সামনে এখন দুইটা চ্যালেঞ্জ আছে। একটি হলো এমসিকিউ, আরেকটি রিটেন। সে সব চ্যালেঞ্জ পার করে যদি ভর্তি হতে পারে, তাহলে এটি বিরাট অগ্রগতি।’

মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মোহাম্মদ মর্তুজা মেডিক্যাল সেন্টারে জলবসন্তে আক্রান্ত এক নারী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে অধ্যাপক আবদুল বাছির বলেন, ‘এই শিক্ষার্থী গতকাল (শুক্রবার) রাতে তার সমস্যার কথা জানিয়ে আমাদের কাছে আবেদন করেছে। আমরা অনুমোদন দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘তার কাগজপত্র দেখে আমাদের মনে হয়েছে, যে রুমে তার সিট পড়েছে, সেখানে সে গেলে একটা প্যানিক তৈরি হতে পারে। তাই আমরা তাকে আমাদের মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা দেয়ার ব্যাপারে অনুমোদন দিয়েছি।

‘আমাদের একজন শিক্ষক সেখানে সার্বক্ষণিক ছিলেন। আর মেডিক্যাল সেন্টারের একজন অ্যাটেন্ডেন্ট ছিলেন। ফলে কোনো অসুবিধা হয়নি।’

আরও পড়ুন:
ঢাবি প্রক্টরকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে সাদা দলের আহ্বান
ঢাবিতে ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান দাবি সাদা দলের
ঢাবিতে ‘আলহাজ্ব মকবুল হোসেন ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন
ঢাবিতে ‘সালাম না দেয়ায়’ ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দেবেন ৫৫ বছরের বেলায়েত

মন্তব্য

অন্যান্য
Transgender people dancing and singing in Sakkurs election campaign

নেচে-গেয়ে সাক্কুর নির্বাচনি প্রচারে ট্রান্সজেন্ডাররা

নেচে-গেয়ে সাক্কুর নির্বাচনি প্রচারে ট্রান্সজেন্ডাররা নেচে-গেয়ে নির্বাচনের প্রচার করছেন ট্রান্সজেন্ডাররা। ছবি: সংগৃহীত
নাগি ও ববিতা নামে দুজন ট্রান্সজেন্ডার বলেন, ‘আমরা মানুষের কাছে হাত পেতে খাই। সাক্কু ভাই আমাদের ভালোবাসেন। তিনি বলেছেন, এবার নির্বাচিত হলে আমাদের চাকরি দেবেন।’

নেচে-গেয়ে উল্লাস করে ভোট চাচ্ছেন একদল ট্রান্সজেন্ডার। নিজেরাই গান পরিবেশন করছেন। পাশাপাশি ভোটও চাচ্ছেন। নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় থেকে শুরু করে অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন তারা।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাবেক মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর পক্ষে তাদের এই প্রচার।

বুধবার সারা দিন এ ধরনের প্রচার দেখা যায়। তাদের নাচ দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।

নাগি ও ববিতা নামে দুজন ট্রান্সজেন্ডার বলেন, ‘আমরা মানুষের কাছে হাত পেতে খাই। সাক্কু ভাই আমাদের ভালোবাসেন। তিনি বলেছেন, এবার নির্বাচিত হলে আমাদের চাকরি দেবেন।

‘আমরাও আর মানুষের কাছে হাত পাততে চাই না। তাই সাক্কু ভাইয়ের জন্য ভোট চাচ্ছি।’

মেয়রপ্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ট্রান্সজেন্ডার মানুষগুলো আমাকে ভালোবাসে। আমিও তাদের আশ্বস্ত করেছি, তাদের যেন আর কখনও হাত পেতে খেতে না হয়। তাদের চাকরির ব্যবস্থা করব।’

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পাঁচ মেয়র প্রার্থীসহ ১৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নগরীর ২৭টি সাধারণ ও ৯টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ভোটার ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৯২ জন। আগামী ১৫ জুন ১০৫টি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ হবে।

আরও পড়ুন:
নির্বাচনি প্রচারে ঘোড়া, মেয়র প্রার্থীর জরিমানা
সাক্কুর নির্বাচনি পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ল কারা
কুমিল্লায় আ.লীগের প্রথম নির্বাচনি কার্যালয় রাণীরদিঘিতে
কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: প্রতীক পেয়েই প্রচারে প্রার্থীরা
এক দিনের ব্যবসা 

মন্তব্য

অন্যান্য
Ho Chi Minhs family in one room

হোচিমিনের পরিবার একঘরে!

হোচিমিনের পরিবার একঘরে! ট্রান্সজেন্ডার নারীর পরিচয়ের কারণে এলাকায় হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন হোচিমিন ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
ট্রান্সজেন্ডার নারী হোচিমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি সারাজীবন মানুষের জন্য কাজ করে আসছি। কিন্তু আমার আইডেন্টিটি নিয়ে মা-বোনকে যে পরিমাণ নিগৃহীত হতে হচ্ছে তার কি কোনো সুবিচার পাবো না? হয়তো একঘরে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, কিন্তু আমার মা-বোনের সম্মান ও নিরাপত্তার কী হবে?’

বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়নের বারোপুর তালুকদার পাড়ার হোচিমিন একজন সফল মানুষ। তবে ট্রান্সজেন্ডার নারীর পরিচয়ের কারণে গত মার্চ মাসের শেষদিকে এলাকায় তার পরিবারকে একঘরে করে রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আর এই প্রক্রিয়াটি শুরুর পেছনে কলকাঠি নাড়ার অভিযোগ উঠেছে হোচিমিনেরই চাচা সম্পর্কীয় প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে।

পরিবারে কোনো পুরুষ নেই এমন অযুহাত দেখিয়ে হোচিমিনদের সম্পদ দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তারই চাচার বিরুদ্ধে!

হোচিমিন ইসলাম কাজের সূত্রে ঢাকায় থাকেন। আর গ্রামের বাড়িতে থাকেন তার মা রেহেনা খাতুন ও বোন নিলুফা ইয়াসমিন। হোচিমিনের বাবা বাবুল মিয়া নৈশ প্রহরী ছিলেন। প্রায় ৯ বছর আগে তিনি মারা যান। এরপর থেকে নিলুফা ও হোচিমিনকে নিয়ে বসবাস করছিলেন তাদের মা রেহেনা খাতুন।

স্থানীয় নুনগোলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে বেসরকারি টিএমএসএস নার্সিং কলেজ স্নাতক ডিগ্রি নেন হোচিমিন। পরে ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজে জড়িত হন।

হোচিমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২০২০ সালে আমি মা ও বোনকে বলে ট্রান্সজেন্ডার নারীতে নিজেকে রূপান্তরিত করি। গত বছর আমাকে নিয়ে টিভি৯বাংলা নামে একটি চ্যানেলে ডকুমেন্টারি প্রচার হয়। এ থেকে এলাকার মানুষ বিষয়টি জানতে পারে। এরপর থেকে এলাকায় আমাকে নিয়ে কটূ কথা শুরু হয়। আমার মা-বোনকে অনেকে খোঁটা দেয়া শুরু করেন।’

হোচিমিন জানান, ট্রান্সজেন্ডার নারীর বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত মার্চে তার মায়ের কাছে এসে সম্পত্তির ভাগ দাবি করেন চাচা রেজাউল করিম। বলেন, ‘তোমার তো এখন দুটোই মেয়ে। তাহলে নিয়ম অনুসারে ভাইয়ের অবর্তমানে আমি সম্পত্তির ভাগ পাবো।’

পরিবারটিকে একের পর এক হুমকি-ধমকি দেয়ার অভিযোগও উঠেছে রেজাউলের বিরুদ্ধে। এক পর্যায়ে থানায় জিডি করতে বাধ্য হন হোচিমিন। গত ১৩ মার্চ দুই পক্ষকেই থানায় ডেকে মীমাংসা করে দেয় পুলিশ।

হোচিমিনের অভিযোগ, সম্পদ দখলের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় ওই মীমাংসা মেনে নেননি তার চাচা ও প্রতিবেশীরা।

হোচিমিনের মা বলেন, ‘রেজাউলকে থানায় ডাকার জন্য সেখানে তারা আমাদের দায়ী করেন। সিদ্ধান্ত হয়, পাড়ার কেউ আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারবে না। সবাইকে বলে দেয়া হয়, হিজড়ার পরিবারের সঙ্গে যেন কোনো রকম সম্পর্ক না থাকে।’

রেজাউল করিমকে সমর্থনের অভিযোগ উঠেছে ওই ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আহসান হাবীব হারুন, স্থানীয় রাহিজুল ইসলাম তালুকদার, খায়রুল, শাহিনসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে।

হোচিমিনের বোন নিলুফা ইয়াসমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত শবেবরাতের দিন একঘরে করার ঘোষণা দেয়ার পর আমাদের পরিবারে অশান্তি শুরু হয়। যারা আমাদের একঘরে করেছেন, তাদের বাড়ির মেয়েরা সকাল-বিকাল গালাগাল করতে শুরু করে। সব সময় তারা হোচিমিনকে নিয়ে আমাদের দোষারোপ করতে থাকে। আমার সন্তানদের সঙ্গেও অন্য বাচ্চাদের খেলাধুলো করতে দেয় না।’

নিলুফা জানান, তাদের পাড়ার দুটি দোকান থাকলেও তাদের কাছে কোনো পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে না।

হোচিমিনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ও আপসে সাক্ষি দেয়ার কারণে স্থানীয় আতাউর রহমান, শাজাহান আলী তালুকদার, লুৎফর রহমান দুদু ও ইমরুল হোসেনও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইমরুল হোসেনের স্ত্রী নাদিরা জানান, আপস থেকে ফেরার পরের দিন তাদের বাড়ির বর্জ্য পানি যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আতাউরের বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল, পরে সেটি ঠিক করা হয়।

শাহাজান আলী তালুকদার বলেন, ‘বাপ মরা দুজনের হয়ে কথা বলায় আর থানায় আপসে সাক্ষি হওয়ায় আমাকেও একঘরে করা হয়েছে।’

তবে যাদের বিরুদ্ধে একঘরে করার অভিযোগ তারা বিষয়টি স্বীকার করছেন না। এদের মধ্যে অভিযুক্ত রাহিজুল তালুকদারও সম্পর্কে হোচিমিনের চাচা হন। তিনি বলেন, ‘একঘরে করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। হোচিমিন তো মেয়েও না, ছেলেও না। ওদের বুঝানো কষ্টকর।’

সম্পত্তিতে ভাগ দাবি করার বিষয়টি স্বীকার করে হোচিমিনের চাচা রেজাউল করিম তালুকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি কাউকে একঘরে করতে বলিনি। তবে মার্চ মাসে গ্রামে কথা উঠল আমাকে কেন থানায় নিয়ে যাওয়া হল। গ্রামে কেন বিচার চাইল না হোচিমিন। এ জন্য হয়তো তাদের একঘরে করতে পারে, তবে আমি এর সঙ্গে জড়িত না।’

অভিযুক্ত হারুন বলেন, ‘একঘরে তো আমি করিনি। ওরাই তো কোনো কিছু হলে থানায় জিডি, অভিযোগ করে। এসব কারণেই মহল্লাবাসী তাদের একঘরে করেছে। আমার একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়।’

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘হোচিমিনের বিষয়টি আমি জানি। এর আগেও তিনি আইনের সহায়তা চেয়েছিলেন। আমরা তাকে সহযোগিতা করেছিলাম। ওই সমস্যা এখনও সমাধান না হলে আমরা আবার তাকে সহযোগিতা করব।’

আরও পড়ুন:
ট্রান্সজেন্ডার মেঘা চাকরির আবেদন করলেন ‘নারী’ হিসেবে
মা-বাবার সম্পত্তি পাবেন ট্রান্সজেন্ডার
করোনায় চিকিৎসা নিতে বৈষম্যের শিকার ট্রান্সজেন্ডাররা
ট্রান্সজেন্ডারের সঙ্গে শিশু, ফাঁড়িতে হট্টগোল
তাসনুভাকে নিয়ে গর্বিত আমেরিকান দূতাবাস

মন্তব্য

p
উপরে