ভিক্টোরিয়ার কোলে কালো চিতা

ভিক্টোরিয়ার কোলে কালো চিতা

রাশিয়ান কিশোরী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে তার পোষা চিতাবাঘের শাবক ও কুকুর।

অন্য বিড়ালের সঙ্গে ভিক্টোরিয়ার পোষা বিড়ালের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। কারণ তার পোষা প্রাণীটি বিড়ালের মতো দেখতে হলেও আসলে সেটি একটি চিতাবাঘ।  

মানুষের মধ্যে বাড়িতে কুকুর ও বিড়াল লালন-পালনের শখ আমরা দেখি। সেসব প্রাণী নিয়ে আদিখ্যেতারও অন্ত থাকে না।

একেবারে ছোটবেলা থেকে কুকুর-বিড়াল পালনের শখ রাশিয়ান মেয়ে ভিক্টোরিয়ার। শখ পূরণও করেছে সে। একটি কুকুরের পাশাপাশি সেও একটি বিড়াল পালন শুরু করে।

তবে অন্য বিড়ালের সঙ্গে তার পোষা বিড়ালের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। কারণ তার পোষা প্রাণীটি বিড়ালের মতো দেখতে হলেও আসলে সেটি একটি চিতাবাঘ।

ভিক্টোরিয়া জানায়, সাধারণ বিড়াল আর চিতা পোষার মধ্যে কোনো পার্থক্যই নেই।

তবে বন-জঙ্গলে সাধারণ প্রাণীদের যে পৃথিবী থাকে, সেখান থেকে এই চিতাকে একেবারে দূরে রাখা হয়েছে।

ভিক্টোরিয়ার কোলে কালো চিতা
কুকুরের সঙ্গে বসে ভিক্টোরিয়ার কালো চিতাবাঘ।

ভিক্টোরিয়ার চিতা পোষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, একটি চিতা কীভাবে পোষা বিড়ালের মতো করে থাকে? কিংবা একটি সাধারণ পরিবার কীভাবে চিতাবাঘ পালন করতে পারে?

এসব প্রশ্নের উত্তরে ভিক্টোরিয়া জানায়, কয়েক বছর আগে একটি কালো মা চিতাবাঘ রাশিয়ার একটি চিড়িয়াখানায় বাচ্চা জন্ম দেয়।

তবে জানি না কেন জন্মের পরই বাচ্চাটিকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে বাইরে অন্য একটি স্থানে ফেলে দেয়া হয়। যখন কর্মীরা একে খুঁজে পান তখন খুব ঠান্ডায় অসুস্থ ছিল শাবকটি।

তখন কর্মীরা ভিক্টোরিয়ার কাছে জানতে চান, সে কিছুদিনের জন্য একটি চিতা শাবকের শশ্রূষা করতে পারবে কি না। ঠিক তখনই লুনা নামের ওই শাবকটিকে কাছে টেনে নেয় ভিক্টোরিয়া।

পরে যখন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ দেখল, লুনার বাঁচার সম্ভাবনা ক্ষীণ, তখন সেটি বিক্রি করে দিতে চায়। ভিক্টোরিয়া তখন শাবকটিকে নিজের করে নেয়।

এরপরই ভিক্টোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে লুনার মা হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করে। লুনাকে খাওয়ানো, তার দেখাশোনা, যত্নয়াত্তি সবই করতে থাকে লুনা।

তবে প্রথম দিকে লুনাকে প্রশিক্ষণ দিতে বেগ পেতে হয়েছে ভিক্টোরিয়াকে।

ভিক্টোরিয়ার কোলে কালো চিতা
ভিক্টোরিয়ার পোষা কালো চিতাবাঘ ও কুকুর।

প্রশিক্ষণের আগে নিয়মিতই ঘরে-বিছানায় মল ত্যাগ করত লুনা। পরে অবশ্য তাকে একটি পাত্রে এসবের প্রশিক্ষণ দিয়েছে ভিক্টোরিয়া।

চিতা শাবকটি যত দিন যাচ্ছে আর বড় হচ্ছে। কিছুটা ভীতিও কাজ করে ভিক্টোরিয়ার মধ্যে। অবশ্য সেসব ভীতির চেয়ে লুনার সঙ্গে তার ভালোবাসার জায়গাটি বেশি বলে জানায় ভিক্টোরিয়া। দিন শেষে তারা একে অপরের চরম বন্ধু বলে জানায় লুনা।

চিতা শাবকটি আরেকটু বড় হলে তাকে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়ার কথাও জানায় ভিক্টোরিয়া।

আরও পড়ুন:
জঙ্গল থেকে বাড়িতে ঢুকে সিঁড়িতে আটকা চিতাবাঘ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভালুকের জেলখানা

ভালুকের জেলখানা

হেলিকপ্টার থেকে ট্রাঙ্কুলাইজার ডার্টের মাধ্যমে অজ্ঞান করার পর ভালুকটিকে ট্রাকে করে পোলার বিয়ার প্রিজন বা মেরু ভালুকের জেলখানাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই অপরাধীদের শাস্তি দেয়ার জন্য জেলখানা রয়েছে। তবে কানাডার চার্চিল প্রদেশের ম্যানিটোবা শহরে রয়েছে অন্য রকম এক জেলখানা। সেই জেলখানায় মানুষের পরিবর্তে আটকে রাখা হয় মেরু ভালুককে।

শহরটিতে এত বেশি মেরু ভালুকের উৎপাত যে, এদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে স্থানীয় প্রশাসনকে এটি তৈরি করতে হয়।

ব্লিটজলাইফ ম্যাগাজিনে ছাপা হওয়া স্যামুয়েল রিজনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভালুকের যন্ত্রণায় অঞ্চলটিতে পোলার বিয়ার অ্যালার্ট প্রোগ্রাম নামে একটি অভিযান শুরু হয়েছে।

ভালুকের জেলখানা

প্রোগ্রামটির কর্মীরা রীতিমতো শক্তিশালী ট্রাঙ্কুলাইজার ডার্ট (অজ্ঞান করার অস্ত্র, যার মাধ্যমে দূর থেকে গুলির মতো ইনজেকশন ছোড়া যায়) হাতে হেলিকপ্টারে করে অঞ্চলটিতে ঘুরে ঘুরে মেরু ভালুক খুঁজে বেড়ান। তাদের মতে আগেভাগেই পশুগুলোকে পাকড়াও না করলে পরে তারা নানা রকম ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

গ্রেপ্তারকৃত ভালুকগুলোকে মানুষের মতোই নাম্বারে চিহ্নিত করা হয়।

যেমন এখন যে ভালুকটিকে নিয়ে কথা বলছি, তার নাম্বার হলো- ১৯১৭৩। এটি ৮০০ পাউন্ডের এক বিশালাকার পুরুষ ভালুক। এই ভালুকটি খাবারের খোঁজে মানুষের এলাকায় ঢুকে পড়ে। ভেঙে ফেলে একটা দামি পোরশে গাড়ি। একটা হাসপাতালেও সে ঢুকে পড়ে এবং ভাঙচুর চালায়। তার ভয়ে লোকজনকে হাসপাতাল ছেড়ে পালাতে হয়েছিল।

ভালুকের জেলখানা

এই মেরু ভালুকটির ধারণা হয়েছিল, শীতকাল অর্থাৎ বরফের দিন চলে গেলে সবচেয়ে ভালো খাবার পাওয়া যায় শহরে থাকা ডাস্টবিনগুলোতে। আর এখান থেকেই যত বিপত্তি।

মনে রাখতে হবে, মেরু ভালুকদের কাছে মানুষ সব সময় প্রিয় শিকার। তাদের মধ্যে কোনো মনুষ্যভীতি নেই। সামনে পেলে তারা অনায়াসেই মানুষ শিকার করে।

হেলিকপ্টার থেকে ট্রাঙ্কুলাইজার ডার্টের মাধ্যমে অজ্ঞান করার পর ভালুকটিকে ট্রাকে করে পোলার বিয়ার প্রিজন বা মেরু ভালুকের জেলখানাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

জেলখানাটি যেখানে অবস্থিত, সেটি নর্দার্ন ক্যাপিটেল অব দি ওয়ার্ল্ড বা পৃথিবীর উত্তরের রাজধানী নামেও পরিচিত। অনেক ক্ষেত্রে এটিকে বিশ্বমানচিত্রে পোলার বিয়ার ক্যাপিটেল বা মেরু ভালুকের রাজধানী বলেও ডাকা হয়।

এই পোলার বিয়ার প্রিজন প্রথমে আর্মির বিমানের হ্যাঙ্গার (যেখানে বিমান রাখা হয়) ছিল। পরবর্তীকালে ভালুকের উৎপাত থেকে বাঁচতে ১৯৮১ সালে একে জেলখানা বানানো হয়। এটিতে মোট ২৮টি সেল রয়েছে।

এখানে নিয়ে আসা ভালুকগুলোকে প্রথম ৩০ দিন শুধু তুষার আর পানি খেতে দেয়া হয়। এতে করে প্রাণীগুলোর মানসিক পরিবর্তন ঘটে। ফলে এরা খাবারের খোঁজে শহরে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এক মাস কারাদণ্ডের পর এদেরকে মেরুর বরফে ছেড়ে আসা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় আইস রিলিজ বা বরফ মুক্তি।

ভালুকের জেলখানা

যদিও অনেকের মতে ভালুকগুলোকে এমনভাবে জেলে বন্দি করে রাখা একটি নির্মম ব্যাপার। কিন্তু কর্মীরা মনে করেন, এটি কেবলই একটি সংরক্ষণ প্রক্রিয়া। কোনো না কোনোভাবে প্রায় প্রতিটি নর্দার্ন শহরকেই করতে হয়।

কেননা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভালুকের খাবারের উৎস কমে গেছে। ফলে নিজেদের বাসস্থানে পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে, খুঁজতে খুঁজতে এরা শহরের দিকে চলে আসে।

ভালুকের আবাসস্থলের খুব কাছাকাছি হওয়ায় ম্যানিটোবা অঞ্চলটিতে এ সমস্যা বেশি।

যদিও আগে উৎপাত থেকে বাঁচতে লোকজন ভালুকগুলোকে গুলি করে মেরে ফেলত। কিন্তু বর্তমান আইন অনুযায়ী কোনো ভালুককে মারা যাবে না। নিয়ম হচ্ছে কোনোভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাণীগুলোকে তাড়িয়ে দেয়া। আর যেসব ভালুক বেশি সমস্যা করে, যেগুলোকে ভয় দেখিয়েও তাড়ানো যায় না, তাদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে এই কারাগার।

আরও পড়ুন:
জঙ্গল থেকে বাড়িতে ঢুকে সিঁড়িতে আটকা চিতাবাঘ

শেয়ার করুন

৪০০ টাকার খাবার কিনে পৌনে দুই লাখ টাকা বকশিশ

৪০০ টাকার খাবার কিনে পৌনে দুই লাখ টাকা বকশিশ

দ্য ওমাহা বেকারি। ছবি: ফেসবুক

বেলভিউ শহরের দ্য ওমাহা বেকারিতে কাজ করা প্রিস্টন রেইথ বলেন, ‘নিকোলাস নামের এক ব্যক্তি সম্প্রতি আমাদের এখানে আসেন। অর্ডার করেন দুটি টার্নওভার; যার মূল্য ৫ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪২৮ টাকা)। এই সেবার জন্য তিনি বকশিশ দেন ২০০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৮৭ টাকা)।

রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে বকশিশ দেয়ার প্রচলন বিশ্বের প্রায় সব জায়গায় রয়েছে। তবে সেই পরিমাণটা যদি হয় আকাশছোঁয়া, তবে অবাক না হয়ে উপায় নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন রাজ্যের একটি রেস্টুরেন্টে এমন ঘটনা ঘটেছে।

বেলভিউ শহরের দ্য ওমাহা বেকারিতে কাজ করা প্রিস্টন রেইথ বলেন, ‘নিকোলাস নামের এক ব্যক্তি সম্প্রতি আমাদের এখানে আসেন। অর্ডার করেন দুটি টার্নওভার; যার মূল্য ৫ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪২৮ টাকা)। এই সেবার জন্য তিনি বকশিশ দেন ২০০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৮৭ টাকা)।

দ্য ওমাহা বেকারি কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে ওই রসিদটি শেয়ার করে। বকশিশের পুরো টাকা সব কর্মচারীর মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে জানান বেকারির মালিক মিশেল কায়সার।

৪০০ টাকার খাবার কিনে পৌনে দুই লাখ টাকা বকশিশ

তিনি বলেন, ‘ওই ক্রেতা বুঝতে পেরেছেন, মহামারির মধ্যে কঠিন সময় পার করছি সবাই। সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। এ ছাড়া তিনি খেয়াল করেছিলেন, আমাদের কর্মীরা খুব আন্তরিক ও পরিশ্রমী।’

আরও পড়ুন:
জঙ্গল থেকে বাড়িতে ঢুকে সিঁড়িতে আটকা চিতাবাঘ

শেয়ার করুন

অ্যালবেট্রস দম্পতিদের বিচ্ছেদ কেন বাড়ছে

অ্যালবেট্রস দম্পতিদের বিচ্ছেদ কেন বাড়ছে

মানুষের মতো অ্যালবেট্রস পাখিরাও নানা কাঠ-খড় পুড়িয়ে একটি নতুন সম্পর্ক তৈরি করে। ছবি: বিবিসি

অ্যালবেট্রস নিয়ে সাম্প্রতিক একটি গবেষণা প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক ও লিসবন ইউনিভার্সিটির গবেষক ফ্রান্সিকো ভেনচুরা বলেন, ‘একগামীতা ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন অ্যালবেট্রস সমাজে খুবই সাধারণ একটি ঘটনা।’

সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ততায় অ্যালবেট্রস পাখিরা জগদ্বিখ্যাত। এর মানে এই নয় যে, তারা কখনও একে অপরকে ছেড়ে যায় না। তবে সেই সংখ্যাটি নগন্যই বলা চলে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এই পাখিদের মধ্যে বিচ্ছেদের হার বেড়ে গেছে বহুগুণে।

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল সোসাইটি জার্নালে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে ফকল্যান্ড আইল্যান্ডে সাড়ে ১৫ হাজার অ্যালবেট্রস যুগলের ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিবিসি জানিয়েছে, মানুষের মতো অ্যালবেট্রস পাখিরাও নানা কাঠ-খড় পুড়িয়ে একটি নতুন সম্পর্ক তৈরি করে। একবার তাদের মনের মিল হয়ে গেলে- সারাজীবনই তারা একে অপরকে সঙ্গ দিয়ে চলে। সাধারণ হিসেবে, খুব বেশি হলে এক শতাংশ অ্যালবেট্রস যুগলের মধ্যে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে; যা মানুষের সমাজের চেয়ে অনেকাংশেই কম।

অ্যালবেট্রস নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনটির অন্যতম লেখক ও লিসবন ইউনিভার্সিটির গবেষক ফ্রান্সিকো ভেনচুরা বলেন, ‘একগামীতা ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন অ্যালবেট্রস সমাজে খুবই সাধারণ একটি ঘটনা।’

কিন্তু বিগত বছরগুলোর গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানির তাপমাত্রা যত বাড়ছে অ্যালবেট্রস যুগলদের মধ্যে বিচ্ছেদের হারও তত বাড়ছে। বর্তমানে এমন বিচ্ছেদ বেদনা সহ্য করতে হচ্ছে ৮ শতাংশেরও বেশি অ্যালবেট্রস যুগলকে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, সাধারণত কোনো অ্যালবেট্রস যুগল প্রজননে ব্যার্থ হলেই তাদের মধ্যে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজনন মৌসুমের জন্য তারা নতুন সঙ্গীর খোঁজ করে। কিন্তু সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, একটি সফল প্রজনন মৌসুম কাটানোর পরও অ্যালবেট্রস যুগলদের মধ্যে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে।

ফ্রান্সিসকো বলেন, অ্যালবেট্রসদের বিচ্ছেদ বাড়ার নেপথ্যে দুটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, দীর্ঘস্থায়ী একটি সম্পর্ক মানিয়ে চলতে তারা হয়তো অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছে। দ্বিতীয়ত, পানির তাপমাত্রা বাড়তে থাকার কারণে অ্যালবেট্রস পাখিদের আরও দীর্ঘ সময় শিকার খুঁজে বেড়াতে হচ্ছে। শিকারের সন্ধানে তারা আগের চেয়েও দূর-দূরান্তে উড়ে যাচ্ছে। ফলে প্রজনন মৌসুমে তাদের অনেকেই সময়মতো নীড়ে ফিরতে ব্যর্থ হচ্ছে। আর এই ফাঁকে তাদের সঙ্গীরা নতুন কোনো সঙ্গীকে বেছে নিচ্ছে।

আবার এমনও হতে পারে, বিরূপ আবহাওয়া অ্যালবেট্রস পাখিদের হরমোনে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসছে। ফলে সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকার বৈশিষ্ট্যগুলো তারা হারিয়ে ফেলছে।

ফ্রান্সিসকো বলেন, ‘প্রজনন শর্তগুলো কঠিন থেকে কঠিনতর হওয়া আর খাদ্যের অভাব অ্যালবেট্রস পাখিদের মধ্যে ক্লান্তি বাড়াচ্ছে। ফলে তারা একে অপরের সক্ষমতায় সন্তুষ্ট হতে পারছে না। যার ফল শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদেই গড়াচ্ছে।

এমন প্রবণতা অ্যালবেট্রসের সংখ্যার ওপরও প্রভাব ফেলছে। ২০১৭ সালের এক পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৮০-এর দশকের তুলনায় প্রজননক্ষম অ্যালবেট্রস যুগলের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

ফ্রান্সিকো মনে করেন, বৈশ্বিক ও সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা যত বাড়বে অ্যালবেট্রস পাখিদের সমাজে এমন বিচ্ছেদের গল্পও তত বাড়বে।

আরও পড়ুন:
জঙ্গল থেকে বাড়িতে ঢুকে সিঁড়িতে আটকা চিতাবাঘ

শেয়ার করুন

হুইস্কিতে ভিজল টেনিসির রাস্তা

হুইস্কিতে ভিজল টেনিসির রাস্তা

টেনিসির রাস্তায় চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে হুইস্কি। ছবি: টুইটার

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেনিসির চার্চ স্ট্রিটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় ট্রাকটি। রেকারের সাহায্যে যখন ট্রাকটিকে তোলা হয়, তখন সেটি থেকে চুইয়ে চুইয়ে পড়ছিল হুইস্কি।

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাক উল্টে টেনিসির একটি সড়ক ভেসে গিয়েছিল হইস্কিতে। গত ১৭ নভেম্বর স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মুরফ্রিসবোরো টিএন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

টুইটে কিছু ছবি প্রকাশ করে তারা জানায়, ভার্জিনিয়ার লিঞ্চবার্গ থেকে ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার জ্যাক ডেনিয়্যাল হইস্কি নিয়ে একটি মাঝারি আকারের ট্রাক টেনিসির ন্যাশভিল শহরের রেলরোড টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিল। চালানটি ইসরায়েলে পৌঁছানোর কথা ছিল।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেনিসির চার্চ স্ট্রিটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় ট্রাকটি। রেকারের সাহায্যে যখন ট্রাকটিকে তোলা হয়, তখন সেটি থেকে চুইয়ে চুইয়ে পড়ছিল হুইস্কি।

হুইস্কিতে ভিজল টেনিসির রাস্তা

পুলিশ বলছে, উল্টে যাওয়ায় ট্রাকে থাকা হইস্কির বোতল ভেঙে যায়। তবে ঠিক কতগুলো বোতল ভেঙেছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি তারা। ট্রাকের চালক সুস্থ আছেন বলেও জানিয়েছে তারা।

আরও পড়ুন:
জঙ্গল থেকে বাড়িতে ঢুকে সিঁড়িতে আটকা চিতাবাঘ

শেয়ার করুন

নৃশংসতার পর মানুষের মহানুভবতাও দেখল মনিকা  

নৃশংসতার পর মানুষের মহানুভবতাও দেখল মনিকা  

অস্ত্রোপচারের পর কৃত্রিম থাবায় ভর করে মনিকা। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের শহর ক্রাসনোডারের একটি জঙ্গল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় মনিকাকে উদ্ধার করে একদল স্বেচ্ছাসেবী। কে বা কারা কুকুরটির চারটি থাবাই বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল।

বিরল অস্ত্রোপচারের পর নতুন জীবন পেল রাশিয়ান কুকুর মনিকা। সাইবেরিয়ার নোভোসিবিরস্ক শহরের একটি হাসপাতালে দুই সপ্তাহ আগে টাইটেনিয়াম ধাতুর চারটি কৃত্রিম থাবা লাগানো হয় উদ্ধারকারী কুকুর মনিকার। চিকিৎসক বলছেন, শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল হলেও, নতুন থাবায় ভর দিয়ে বেশ সাবলীল সে।

প্রায় এক বছর আগে, দক্ষিণাঞ্চলের শহর ক্রাসনোডারের একটি জঙ্গল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় মনিকাকে উদ্ধার করে একদল স্বেচ্ছাসেবী। কে বা কারা কুকুরটির চারটি থাবা কেটে দিয়েছিল।

আলা লোয়েনকিনা নামের এক স্বেচ্ছাসেবী তার বন্ধুর সহায়তায় এতদিন কুকুরটিকে লালন-পালন করে আসছিলেন।

লোয়েনকিনা বলেন, ‘যখন উদ্ধার করি, তখন ওর অবস্থা ভীষণ খারাপ। কিছুদিন দেরি হলে মৃত্যু অবধারিত ছিল।’

‘একদিন এমন একটি ক্লিনিকের সন্ধান পাই যেখানে পশু-পাখির জটিল সব অস্ত্রোপচার হয়। তবে এটি বেশ ব্যয়বহুল। অনলাইনে বিষয়টি শেয়ার করলে দারুণ সাড়া মেলে। তহবিলে জমা পড়ে প্রায় ৪ লাখ রুবল। সেই টাকা দিয়েই অস্ত্রোপচার হয় মনিকার। বিমানে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আনা হয় ক্লিনিকে।’

জটিল এই অস্ত্রোপচারটি করেন সার্জেই গোর্শকভ। এর আগে এ ধরনের ৩০টি সফল অস্ত্রোপচার করেছেন তিনি। তবে কুকুরের ওপর এটিই প্রথম।

নৃশংসতার পর মানুষের মহানুভবতাও দেখল মনিকা

গোর্শকভ বলেন, ‘থ্রিডি প্রিংটিংয়ের মাধ্যমে টাইটেনিয়ামের থাবা চারটি তৈরি করা হয়। মনিকার বয়স কম। ওর হাড় বাড়ন্ত। তাই দ্রুত কৃত্রিম থাবার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে। বিষয়টা অনেকটা হরিণের শিং গজানোর মতো।’

আরও পড়ুন:
জঙ্গল থেকে বাড়িতে ঢুকে সিঁড়িতে আটকা চিতাবাঘ

শেয়ার করুন

৪ হাজার কোটি টাকার মালিক এই জার্মান শেফার্ড

৪ হাজার কোটি টাকার মালিক এই জার্মান শেফার্ড

পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী কুকুর সে। ৫০০ মিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা মূল্যের একটি ট্রাস্টের মালিক গানথার।

উপরের ছবিতে যে জার্মান শেফার্ড কুকুরটি দেখছেন, তার নাম গানথার সিক্স। সে কী কারণে বিখ্যাত, জানেন? পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী কুকুর সে।

৫০০ মিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা মূল্যের একটি ট্রাস্টের মালিক গানথার। সম্প্রতি সে তার সম্পদের মধ্য থেকে একটি বাংলো বিক্রি করতে যাচ্ছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৯ রুমের বিলাসবহুল বাংলোটির প্রাথমিক মূল্য ধরা হয়েছে ৩১ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলার।

বাড়িটি আরও আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। কারণ কুকুরটির আগে এই বাংলোটির মালিক ছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ম্যাডোনা।

৪ হাজার কোটি টাকার মালিক এই জার্মান শেফার্ড

আলোচিত এই বাংলোটি ম্যাডোনা ২০০০ সালে গানথার্স ট্রাস্টের কাছে বিক্রি করেছিলেন ৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে। গানথার সিক্স তার মালিকের বাবা গানথার ফোরের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই ট্রাস্টের মালিকানা পায়।

টাইমস নাও ডটকমের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কুকুরটি যে পরিবারে বেড়ে উঠেছে, সেটির পূর্বপুরুষ গানথার; কারলোটা লিবেনস্টাইন নামের এক জার্মান কাউন্টেসের (জমিদার) কাছ থেকে ১৯৯২ সালে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রায় ৫৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ট্রাস্টের মালিকানা পায়।

গানথারের মৃত্যুর পর এই পরিবারে বেড়ে ওঠা কুকুর গানথার সিক্স সেগুলোর মালিক বনে যায়। বর্তমানে সে টেকারদের তত্ত্বাবধানে বিলাসবহুল জীবন যাপন করছে।

যে বাড়িটির কথা বলা হচ্ছে, সেটি ১৯২৮ সালে তৈরি করা হয়। এটি বিস্কাইন উপসাগরের সামনে অবস্থিত। সহজভাবে বলতে গেলে মিয়ামি বিচের অল্প কটি সুন্দর বাড়ির মধ্যে এটি একটি। বর্তমানে এই বাড়িটি দ্য অ্যাসোলাইন টিমের (সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত সংস্থা) রুথি এবং ইথান অ্যাসোলিনের মাধ্যমে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হয়ে আছে।

ফোর্বস ম্যাগাজিনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রুথি বলেন, ‘এত বড় একটি সম্পত্তির মালিক এক কুকুর! কথাটি শোনার পর প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি। আমরা অনেক মাল্টি-মিলিয়ন ডলার মূল্যের বাড়ি বিক্রি করেছি।

‘কিন্তু এ রকম হলো এই প্রথম। যখন সম্পত্তিটির কেয়ারটেকার আমাকে বললেন, একটি কুকুর এর মালিক, আমরা খুবই অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু সম্পত্তিটির ইতিহাস ঘেঁটে দেখেছি, আইনত কুকুরটি ব্যতীত অন্য কেউ এর মালিকানা দাবি করতে পারবে না।’

রুথি আরও জানান, ‘বাড়িটি খুবই সুন্দর। চারপাশের বড় বড় পামগাছ এর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া সামনের দিকে রয়েছে চোখ ঝলসানো সৌন্দর্যের নীল সমুদ্র। গানথার সিক্সের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের সময় সে খুব ভালোভাবে গ্রহণ করে। আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তখনই আমি বাড়িটি বিক্রি করতে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেই।’

গানথার দিনের বেশির ভাগ সময় কাটায় তার বাড়ির সামনের সুইমিংপুলের পাশে বসে থেকে। তার নিজস্ব বেডরুম হলো ম্যাডোনা আগে যে মাস্টার বেডরুমে ঘুমাতেন সেটি।

৪ হাজার কোটি টাকার মালিক এই জার্মান শেফার্ড


গানথারের এক তত্ত্বাবধায়ক কার্লা রিচিতেল্লি এপিকে বলেন, ‘সে (কুকুর) গানথার ট্রাস্টি বোর্ডের একজন অন্যতম সদস্য। এই ট্রাস্টের কোন সম্পত্তি কখন বিক্রি করা হবে, কখন কী কেনা হবে, এ ব্যাপারে ট্রাস্টি বোর্ডের সবার মতামত সমান গুরুত্বপূর্ণ।
জার্মান শেফার্ড এই কুকুরটি ট্রাস্টের বোর্ড মেম্বারদের সঙ্গে সেসব মিটিংয়ে যোগ দেয়। নিজের প্রাইভেট জেটে করে বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করে। তার খাবার তৈরি করার জন্য আলাদা শেফ নিয়োগ করা আছে।’

আরও পড়ুন:
জঙ্গল থেকে বাড়িতে ঢুকে সিঁড়িতে আটকা চিতাবাঘ

শেয়ার করুন

তায়কোয়ান্দোতে ‘ব্ল্যাক বেল্ট’ পেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

তায়কোয়ান্দোতে ‘ব্ল্যাক বেল্ট’ পেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কুকিওন প্রেসিডেন্ট লি ডং-সিওপ

‘নবম ডেন ব্ল্যাক বেল্ট’ পাওয়ার জন্য কোনো খেলোয়াড়কে ব্ল্যাক বেল্ট পাওয়ার পরও আরও অন্তত ৯টি সফল বছর পাড়ি দিতে হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার কুকিওনকে বলা হয় তায়কোয়ান্দোর সদর দপ্তর। এই দপ্তরের পক্ষ থেকেই এবার ব্ল্যাক বেল্ট পেলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্মানসূচক এই বেল্টটি ট্রাম্পের কোমরে বেঁধে দিয়েছেন স্বয়ং কুকিওন প্রেসিডেন্ট লি ডং-সিওপ। সম্প্রতি তিনি ফ্লোরিডায় অবস্থিত ট্রাম্পের বিখ্যাত মার-এ-লাগো বাসভবনে সফর করেছিলেন।

সোমবার ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, সম্মানসূচক ওই বেল্টটি ‘নবম ডেন ব্ল্যাক বেল্ট’ হিসেবে সম্মানজনক। এই বেল্ট পাওয়ার জন্য কোনো খেলোয়াড়কে ব্ল্যাক বেল্ট পাওয়ার পরও আরও অন্তত ৯টি সফল বছর পাড়ি দিতে হয়।

ট্রাম্পকে ব্ল্যাক বেল্ট পরিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত লি ডং-সিওপ বলেন, ‘আমি শুনেছি, ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি তায়কোয়ান্দোতে দারুণ আগ্রহী।’

ধারণা করা হচ্ছে, এক দক্ষিণ কোরিয়ানের মধ্যস্থতায় লি ও ট্রাম্পের এমন সম্মিলন ঘটেছে।

ব্ল্যাক বেল্ট পেয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এই সনদ পেয়ে আমি দারুণ খুশি এবং সম্মানিত বোধ করছি। এই সময়ে আত্মরক্ষা করার জন্য তায়কোয়ান্দো একটি কার্যকর মার্শাল আর্ট।’

ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আবারও হোয়াইট হাউসে যাওয়ার পথে এই বেল্ট তার শোভাবর্ধণ করবে।

মজার ব্যাপার হলো- নবম ডেন ব্ল্যাক বেল্ট পাওয়ার মধ্য দিয়ে মার্শাল আর্টের জগতে ট্রাম্প এখন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমান মর্যাদা ধারণ করছেন। ২০১৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় এক রাষ্ট্রীয় সফরে গেলে পুতিনকে ওই বেল্ট প্রদান করা হয়েছিল।

তবে, মার্শাল আর্টে পুতিনের হাতেখড়ি থাকলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিদ্যার কতটুকু জানেন তা এখনও অজানা।

আরও পড়ুন:
জঙ্গল থেকে বাড়িতে ঢুকে সিঁড়িতে আটকা চিতাবাঘ

শেয়ার করুন