পাথর ছুড়ে হত্যার ভিডিওটি কাদের

পাথর ছুড়ে হত্যার ভিডিওটি কাদের

তালেবান সম্প্রতি কাউকে পাথর ছুড়ে মারেনি বলে উঠে এসেছে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে। ছবি: সংগৃহীত

এএফডব্লিউএ ভাইরাল ভিডিওটির রিভার্স সার্চিং কিফ্রেম ব্যবহার করে দেখেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারী ২০১৮ সালে এটি ছড়িয়েছে।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যাওয়ার পর থেকে সংগঠনটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ উঠতে থাকে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তালেবানের বিরুদ্ধে পাথর ছুড়ে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ করা হয়।

ভিডিওর ক্যাপশনে এক ব্যক্তি লেখেন, ‘সতর্কতা-অতি সংবেদনশীল। যারা তালেবানের বদল যাওয়ার কথা বলছেন, তারা আফগানিস্তানে এক ব্যক্তিকে পাথর ছুড়ে মারার ভয়াবহ ফুটেজটি দেখুন। তাদেরই (তালেবান) তোষণ করে যাচ্ছে (জো) বাইডেন প্রশাসন।’

ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ)।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাল হওয়া ফুটেজটি ২০১৮ সালের। ওই ভিডিওর ব্যক্তিটির বয়স ৬০ বছর, যাকে পাথর মেরে হত্যা করে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

এএফডব্লিউএ ভাইরাল ভিডিওটির রিভার্স সার্চিং কিফ্রেম ব্যবহার করে দেখেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারী ২০১৮ সালে এটি ছড়িয়েছে।

সম্প্রতি ভিডিওটি শেয়ার দিয়ে ফার্সি ভাষায় ক্যাপশনে একজন লেখেন, ‘আফগানিস্তানে ধর্ষণের অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পাথর ছুড়ে মারছে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিরা।’

ওই ক্যাপশন থেকে ক্লু পেয়ে ফার্সি ভাষায় কিছু কিওয়ার্ড সার্চ শুরু করে এএফডব্লিউএ। এসব কিওয়ার্ডের মাধ্যমে ফার্সি ভাষার সংবাদমাধ্যমে পাথর মেরে হত্যা সংক্রান্ত খবর খুঁজে পাওয়া যায়।

এসব খবরে জানানো হয়, পাথর ছুড়ে হত্যার এ আয়োজন করা হয় আফগানিস্তানের জওজান প্রদেশের দারজাব জেলায়। সেখানে ধর্ষণের অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পাথর মেরে হত্যা করা হয়।

ওই ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে জানান, দারজাব জেলার মঙ্গল গ্রামে বাড়ি ওই বৃদ্ধের। জানাজা ছাড়াই তার দাফন হয়।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির দিককার। ওই প্রতিবেদনসহ অন্য কিছু খবরের আলোকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজটি কিছুদিন আগের কিংবা তালেবান সংশ্লিষ্ট নয়।

আরও পড়ুন:
তালেবানের হাতে ছোট্ট লুবনা প্রাণ হারায়?
দিল্লিতে বিমান ঠেলে সরানো হয়েছিল?
ইনি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর?
করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?
ইসরায়েলে জোর করে টিকা দেয়া হয়?

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গোবিন্দ প্রামাণিকের অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন

গোবিন্দ প্রামাণিকের অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ (বাঁয়ে) ও বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক। ছবি: নিউজবাংলা

গোবিন্দ প্রামাণিকের ওই বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লায়ও চলছে আলোচনা। এমন অভিযোগ অস্বীকার করছেন এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। আর হিন্দুনেতারা বলছেন, এ ধরনের কোনো বক্তব্য তারা গোবিন্দ প্রামাণিকের কাছে দেননি।

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ে পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া এবং এর জের ধরে সহিংসতার পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দায়ী থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক।

অনলাইনভিত্তিক একটি টক শোতে শনিবার রাতে তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা তাকে বলেছেন, কুমিল্লা সদর আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে।

গোবিন্দ প্রামাণিকের ওই বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লায়ও চলছে আলোচনা। এমন অভিযোগ অস্বীকার করছেন এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। আর হিন্দুনেতারা বলছেন, এ ধরনের কোনো বক্তব্য তারা গোবিন্দ প্রামাণিকের কাছে দেননি।

অনলাইন ওই টক শোতে গোবিন্দ প্রামাণিক ছাড়াও কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোল্লা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর অংশ নেন।

গোবিন্দ প্রামাণিকের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল পাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার সকালে ঘটনার পর দিনভর সহিংসতা হয়। পরদিন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন কুমিল্লায় আসেন। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হিন্দুনেতাদের সঙ্গে কথা বলেন ডিআইজি আনোয়ার হোসেন।

‘আমরা জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় হিন্দু মহাজোটের কুমিল্লার নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। সভা চলাকালে হঠাৎ উপস্থিত হন হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক। তবে তার সঙ্গে আমাদের কোনো কথা হয়নি।’

কুমিল্লা মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত্য দাশ টিটু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হিন্দু মহাজোট আলাদা সংগঠন। কেন কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের সঙ্গে কোনো কথাই বলেননি। তারা কথা বলেছেন হিন্দু মহাজোটের জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে।’

হিন্দু মহাজোটের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মানিক ভৌমিকও বলছেন, এমন কোনো অভিযোগ তারা গোবিন্দ প্রামাণিককে জানাননি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে কুমিল্লায় সহিংসতা হয়েছে, এটা আমরা কখনোই বলিনি। ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।

‘পরে গোবিন্দ প্রামাণিককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাই। সেখানে ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠক হয়। সেখানে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটেছে বলে কোনো কথা হয়নি।’

টক শোতে গোবিন্দ প্রামাণিকের তোলা অভিযোগের বিষয়ে মানিক ভৌমিক বলেন, ‘যদি উনি এমন কথা বলেন তাহলে সেটা ওনার বিষয়। কারণ কুমিল্লার বাটি চালান দিয়েও একটি মানুষ পাওয়া যাবে না যে বলবে মেয়র ও এমপির দ্বন্দ্ব রয়েছে। এটা হাস্যকর কথা।

‘তবে আমাদের নেতা গোবিন্দ প্রামাণিক ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তাদের সঙ্গে কী কথা বলেছেন, সেটা আমরা জানি না।’

সংগঠনটির কুমিল্লার সহসভাপতি অ্যাডভোকেট স্বর্ণকমল নন্দীও একই মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লার ঠাকুরপাড়া এলাকার কালীগাছতলার বাসিন্দা অশোক রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের জানামতে এটা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে হয়নি। এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তৃতীয় কোনো পক্ষ এ কাজটা করেছে।’

ছাতিপট্টি রক্ষাকালী মন্দিরের আশপাশের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও মনে করছেন, রাজনৈতিক কারণে এমন হামলা হয়নি। মেয়র ও এমপির সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের বলেও তারা দাবি করেন।

কী বলছেন এমপি-মেয়র

ধর্মীয় সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার দাবিও করেছেন তিনি।

সাক্কু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনার সময় এমপি সাব ছিলেন হজে, আমি ছিলাম কুমিল্লায়। মানুষ মুখ দিয়া কত কথা কয়, কিন্তু কেউ প্রমাণ দিতে পারবে?’

টক শোটি দেখেননি জানিয়ে সাক্কু বলেন, ‘আমার সঙ্গে এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। আমি বিএনপির রাজনীতি করলেও আওয়ামী লীগের এমপির সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। এ কারণে অনেকে আমাকে কটাক্ষও করেন।’

সাক্কু মনে করেন, ভালো সম্পর্ক না থাকলে এলাকায় উন্নয়নকাজ করা সম্ভব না। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রতিটি কাজ আমি এমপির সঙ্গে পরামর্শ করেই করি। কাজেই যারা এমন বক্তব্য দেয়, সেগুলো তাদের নিজস্ব বিষয়।’

অন্যদিকে কুমিল্লা সদর আসনে আওয়ামী লীগের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আগামীকাল সোমবার বিকেলে গণজমায়েতের আয়োজন করা হয়েছে। সেই জমায়েতেই টক শোর ওই মন্তব্যের জবাব দেয়া হবে।’

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিকের মন্তব্যও জানতে চেয়েছে নিউজবাংলা। তিনি বলেন, ‘আমাকে অনেকে রোববার সকালে ফোন করে এমপির সঙ্গে মেয়রের সুসম্পর্কের কথা জানিয়েছেন। তবে আমি বলব এমপি অনেক প্রভাবশালী। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক ছিল।’

আরও পড়ুন:
তালেবানের হাতে ছোট্ট লুবনা প্রাণ হারায়?
দিল্লিতে বিমান ঠেলে সরানো হয়েছিল?
ইনি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর?
করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?
ইসরায়েলে জোর করে টিকা দেয়া হয়?

শেয়ার করুন

শিশুসহ ৩ নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের তথ্য ‘ভুয়া’

শিশুসহ ৩ নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের তথ্য ‘ভুয়া’

ফেসবুকে বিভিন্ন আইডি থেকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগটি ছড়িয়ে দেয়া হয়। এতে দাবি করা হয়, ১০ বছরের এক শিশু, তার বোন ও মাসি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তবে এ তথ্য গুজব বলে দাবি করেছেন প্রশাসন, পুলিশ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বী একই পরিবারের তিন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ গুজব বলে দাবি করেছেন প্রশাসন, পুলিশ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।

সনাতন ধর্মের নেতারা বলছেন, একটি মহল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ফেসবুকে এমন গুজব ছড়াচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার রাতে ফেসবুকে বিভিন্ন আইডি থেকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ওই অভিযোগটি ছড়িয়ে পড়ে। এতে দাবি করা হয়, ১০ বছরের এক শিশু, তার বোন ও মাসি ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

শনিবার কয়েকটি পোস্টে বলা হয়, ‘ধর্ষণের শিকার ১০ বছরের শিশুটি মারা গেছে। মৃত্যুর মুখে রয়েছে তার মাসি (খালা) ও বোন।’

তবে কোনো পোস্টেই ঘটনার জায়গা বা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র উদ্ধৃত করা হয়নি। নিউজবাংলার পক্ষ থেকে হাজীগঞ্জ উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বরং সবাই দাবি করছেন, উপজেলায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটলেও তিন জনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ধর্ষণের তথ্য সম্পূর্ণ গুজব বলে দাবি করেছেন হাজীগঞ্জ উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিঠুন ভদ্র।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। তার আগে ৯ বছর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। আগে থেকেই আমাদের সম্প্রদায়ের লোকজনের ভালোমন্দ দেখছি। যার কারণে যেকোনো বিষয়ে মানুষ আমাকে জানায়। তবে মন্দিরে হামলা ছাড়া এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর আমার কাছে নেই। কোনো মানুষ এমন কোনো খবর আমাদের জানায়নি। এগুলো সম্পূর্ণ গুজব।’

হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রুহিদাস বণিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের খবরটি ভুয়া। এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের পূজা উদযাপন পরিষদ, জাতীয় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বা বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কোনো নেতার কাছে নেই। কেউ যদি এমন কোনো খবর ফেসবুকে পোস্ট দেয়, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। যারা এই ধরনের গুজব ছড়ায় তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। সবাইকে এ ধরনের গুজব এড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।’

হাজীগঞ্জ রামকৃষ্ণ সভা আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক নিহা রঞ্জন হালদার মিলন বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ গুজব। যারা এ ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাই।’

‘আমাদের এলাকায় এই ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাইনি। এগুলো গুজব রটানো হচ্ছে’, বলেন হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ত্রিনয়নী সংঘ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক গোপাল সাহা।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো খবর আমরা পাইনি। আমাদের কাছে কেউ অভিযোগও করেনি। এটা সম্পূর্ণ গুজব। এভাবে একজন মানুষ মারা যাবে আর পুলিশ বসে থাকবে, তা কখনও হয়? যারা এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সারা হাজীগঞ্জ খুঁজেও আমরা এ ধরনের কোনো সংবাদ পাইনি। এগুলো সম্পূর্ণ গুজব। এসব গুজব যারা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, ‘ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং নেতারা নিশ্চিত করেছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব।

গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো কিছু শুনলেই বিশ্বাস না করে আগে তার সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করুন।’

আরও পড়ুন:
তালেবানের হাতে ছোট্ট লুবনা প্রাণ হারায়?
দিল্লিতে বিমান ঠেলে সরানো হয়েছিল?
ইনি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর?
করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?
ইসরায়েলে জোর করে টিকা দেয়া হয়?

শেয়ার করুন

ট্রেনের জানালায় নেট বসবে না

ট্রেনের জানালায় নেট বসবে না

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) মিহির কান্তি গুহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন কোনো নির্দেশনা এখনও দেয়া হয়নি। তবে সামনের দিকে যেসব কোচ আনা হবে, সেগুলোতে আমাদের নিচের থেকে প্রস্তাব আছে। ওপরের থেকে এমন কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।’

পাথর ছোড়া প্রতিরোধে ট্রেনের জানালায় বসবে নেট, এমন খবর ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। জানালায় নেট লাগানো ট্রেনের ছবিও ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেয়া হয়নি বা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়, ‘পাথর নিক্ষেপের হাত থেকে যাত্রীদের রক্ষা করতে এবার ট্রেনের জানালায় লাগানো হবে নেট। নেট লাগানো নিয়ে ইতোমধ্যে বৈঠক করেছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। কয়েকটি ট্রেনে লাগানো হয়েছে নেট।’ এমন খবর গত কয়েক দিন ধরেই ছড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

সারা দেশে চলাচল করা যাত্রীবাহী ট্রেনের সংখ্যা ৩৫২টি। এর মধ্যে আন্তনগর ট্রেন ৯০টি, লোকাল ১২৬টি।

নিউজবাংলার পক্ষ থেকে রেলের জানালায় নেট বসবে কি না বা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কি না, তা জানার জন্য যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন কোনো খবর আমার কাছে নেই। আমি আছি অপারেশন বিভাগে। আমাকে যেভাবে দেয়া হবে আমি সেভাবেই চালাব।’

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে জানালে তিনি বলেন, ‘এটা দেখার বিষয় রেলওয়ের মেকানিক্যাল (যান্ত্রিক) বিভাগকে। তারা হয়তো এ বিষয়ে কাজ করছে। তারা বলতে পারবে নেট লাগানো যাবে কি না।’

নেট লাগানো হবে কি না, তা জানতে যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (যান্ত্রিক) তাবাসসুম বিনতে ইসলামের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘আমি এমন কোনো নির্দেশনা বা চিঠিপত্র দেখিনি বা পাইনি। এ বিষয়ে ডিভিশনাল যারা প্রধান আছেন, তারা বলতে পারবেন।’

রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পূর্ব) বোরহান উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ট্রেনের জানালায় নেট বসানো হবে, এমন কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।’

তবে বিভিন্ন জায়গায় এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে জানালে তিনি বলেন, ‘আমরা মৌখিক বা লিখিত কোনো কিছুই পাইনি। তাই এমন কোনো কাজ আমরা করিনি বা করছিও না।’

রেলওয়ে আইনের ১২৭ ধারা অনুযায়ী, ট্রেনে পাথর ছোড়া হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে। ৩০২ ধারা অনুযায়ী পাথর নিক্ষেপে কারও মৃত্যু হলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা প্রতিনিয়তই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হলেও এসব ঘটনায় দেশে এখন পর্যন্ত কারও শাস্তি দিতে পারেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ১১০টি। এতে ১০০টি ট্রেনের জানালার গ্লাস ভেঙেছে এবং ২৯ যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানান খোদ রেলমন্ত্রী।

এসব ঘটনায় কোনো ব্যক্তিকেই শাস্তির আওতায় আনা যায়নি বলে মন্ত্রীও স্বীকার করেন।

এমন ঘটনা রোধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তৎপর থাকলেও জড়ির ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারছে না রেল মন্ত্রণালয়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনায় জড়িত ৮০ ভাগই বস্তির শিশু-কিশোর এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তি। বস্তির শিশুদের আটক করা হলেও প্রমাণের অভাবে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

ট্রেনে পাথর ছোড়া প্রতিরোধ দিবস পালন হয় ৩ অক্টোবর। এ বছরও এর বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির কথা জানায় মন্ত্রণালয়।

দিবসটি উপলক্ষে সেদিন সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘এ অবস্থা থেকে আমরা রক্ষা পেতে চাই। ট্রেনে পাথর ছোড়া রোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে চাই। আমরা সচেতনতায় জোর দিচ্ছি। একটা ঘটনা ঘটলে দেখা যায়, অনেক দিন আর কোনো ঘটনা ঘটে না।’

সেদিনই মন্ত্রী জানান, পাথর ছোড়া হয় এমন এলাকাগুলো রেলওয়ে চিহ্নিত করেছে।

ছোড়া পাথর ঠেকাতে ট্রেনের জানালায় নেট বসানো হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো ধরনের তথ্য জানাননি।

ঢাকা-পঞ্চগড়গামী একতা/দ্রুতযান ট্রেনের জানালায় নেট লাগানো হয়েছে, এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিষয়টি নিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নতুন কোনো ট্রেনেই যেগুলো লাল-সবুজ তাতে নেট লাগানো হয়নি। আমি জানিও না। তবে পুরোনো কিছু ট্রেনে নেট লাগানো আছে। দ্রুতযান/একতাতে আছে এমন ছবি যদি থাকে আমাকে খোঁজ নিতে হবে।’

কী বললেন মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম)

সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) মিহির কান্তি গুহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন কোনো নির্দেশনা এখনও দেয়া হয়নি। তবে সামনের দিকে যেসব কোচ আনা হবে, সেগুলোতে আমাদের নিচের থেকে প্রস্তাব আছে। ওপরের থেকে এমন কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যে কোচ কেনা হবে, সেগুলোতে নেট থাকলে ভালো হয়, এমন একটা প্রস্তাব আমাদের আছে।’

তবে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন পাথরের হাত থেকে রক্ষা পেতে কী কী করা যেতে পারে তার আলোচনা হচ্ছে। এই আলোচনার ভেতরে যে প্রস্তাব আছে, সেখানে এটিও একটি প্রস্তাব।’

মিহির কান্তি বলেন, ‘এখন যেগুলো কোচ আছে সেগুলো চাইলেও কনফিগারেশন চেঞ্জ করা যাবে না। এগুলো সব বিদেশ থেকে আসে। আপনি আগে থেকে অর্ডার না দিলে তারা তো সেভাবে বানাবে। এখন একটা জিনিস চলে এলে তার ওপর ওইভাবে নেট বসানো যায় না।’

তবে পাকিস্তান আমলের সবগুলো কোচে নেট আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এরপর এগুলো মডিফাই করা হয়েছে। তারা তো আর জানে না যে দেশে ট্রেনে পাথর মারবে, লোকজন এত খারাপ যে তারা নেট বসাবে। আর আমাদের এখান থেকেও ওইভাবে ডিমান্ড প্লেস করা হয়নি।’

নেট লাগানোর পরিকল্পনা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেভাবে পাথর মারা হয় সেটা অপ্রয়োজনীয়। এদের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই।’

ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ যেসব এলাকায়

পূর্বাঞ্চলের চার জেলার পাঁচ এলাকা হলো চট্টগ্রামের পাহাড়তলী, সীতাকুণ্ড-বাড়বকুণ্ড, ফেনীর ফাজিলপুর কালীদহ এলাকা, নরসিংদী সদর, জিনারী ও ঘোড়াশাল এলাকা।

অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার ১৫ এলাকা হলো চুয়াডাঙ্গার আউটার, নাটোরের আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশন, সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী রেলওয়ে স্টেশন, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশন, পাবনার মুলাডুলি রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, পঞ্চগড় জেলা ও ঠাকুরগাঁও জেলার কিসমত-রুহিয়া।

এ ছাড়া পাবনার ভাঙ্গুরা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, বগুড়ার ভেলুরপাড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, গাইবান্ধার বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন, সলপ রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, জামতৈল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, পাবনার বড়াল ব্রিজ রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, খুলনার ফুলতলা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা।

আরও পড়ুন:
তালেবানের হাতে ছোট্ট লুবনা প্রাণ হারায়?
দিল্লিতে বিমান ঠেলে সরানো হয়েছিল?
ইনি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর?
করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?
ইসরায়েলে জোর করে টিকা দেয়া হয়?

শেয়ার করুন

ইদ্রিস আলীর আত্মহত্যার কারণ কি ‘ক্ষুধার জ্বালা’?

ইদ্রিস আলীর আত্মহত্যার কারণ কি ‘ক্ষুধার জ্বালা’?

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক বৃদ্ধের আত্মহত্যার পর তিনি ক্ষুধার জ্বালায় এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার বলেন, ইদ্রিস আলী দিনমজুরি করতেন। তবে অসুস্থ থাকায় বেশ কিছুদিন কাজে যেতে পারেননি। তার পুত্রবধূ শাকিলা বলেন, রাতে তিনি খাবার খেয়েই ঘুমাতে যান। সে ক্ষেত্রে ক্ষুধার জ্বালায় মরার কথা ঠিক নয়।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ইদ্রিস আলী নামে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের আত্মহত্যা নিয়ে আলোচনা চলছে।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি হাতিশালা মোড় এলাকায় নিজের বাড়িতেই ইদ্রিস আত্মহননের পথ বেছে নেন। ঘটনার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার হয়, তিনি ক্ষুধার জ্বালায় আত্মহত্যা করেছেন।

তবে এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণের কাছ থেকে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, ইদ্রিস নিজ ঘরের বারান্দায় বাঁশের সঙ্গে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

ইদ্রিস আলী একই এলাকার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে।

প্রাগপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল বলেন, ‘ক্ষুধার জ্বালায় আত্মহত্যা করেছেন, এ বিষয়টি সঠিক নয়।’

৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘ইদ্রিস গরিব মানুষ। তবে ক্ষুধার জ্বালায় আত্মহত্যা করেছেন, এমন কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি। পারিবারিক গোলযোগ ছিল তার। ১২ বছর আগে তার স্ত্রী মারা যায়। একমাত্র ছেলে সিদ্দিক দিনমজুর। বাড়িতে থাকেন না।

‘ইদ্রিসের মেয়েও মারা গেছেন অনেক বছর আগে। মেয়ের এক সন্তান আছে। ইদ্রিস আলীর সঙ্গে তার পূত্রবধূ শাকিলার বনিবনা হতো না। ১১ শতক জমিও ছিল তার। সেই জমি নিয়েও পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছিল।’

আলাউদ্দিন মেম্বার জানান, ইদ্রিস আলী দিনমজুরি করতেন। তবে অসুস্থ থাকায় বেশ কিছুদিন কাজে যেতে পারেননি।

ইদ্রিস আলীর পুত্রবধূ শাকিলা বলেন, রাতে খাবার খেয়েই ঘুমাতে যান। সে ক্ষেত্রে ক্ষুধার জ্বালায় মরার কথা ঠিক নয়।

আর ছেলে সিদ্দিক বলেন, ‘আমি বাড়ি থাকি না। কী ঘটেছে বলতে পারছি না।’

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার মহিষকুন্ডি এলাকা থেকে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের অভাব ছিল। কিন্তু ক্ষুধার জ্বালায় মরার তথ্যপ্রমাণ পাইনি। এ বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে।’

ওসি আরও বলেন, মা মরা নাতনিকে মারধর করা নিয়ে পুত্রবধূর সঙ্গে ঝগড়া হয় ইদ্রিস আলীর। সেই অভিমানে আত্মহত্যা করতে পারেন।

আরও পড়ুন:
তালেবানের হাতে ছোট্ট লুবনা প্রাণ হারায়?
দিল্লিতে বিমান ঠেলে সরানো হয়েছিল?
ইনি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর?
করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?
ইসরায়েলে জোর করে টিকা দেয়া হয়?

শেয়ার করুন

ভিনেগার শুঁকলে করোনার উপসর্গ সারে না

ভিনেগার শুঁকলে করোনার উপসর্গ সারে না

ভিনেগার। ছবি: সংগৃহীত

পান্তাই হসপিটাল কুয়ালালামপুরের রেস্পিরেটরি মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ড. হেলমি হাজা মাইদিন বলেন, ‘বরং এমন পথ্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অসুস্থতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ভিনেগারে অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকে। এটি শুঁকলে শ্বাসতন্ত্রের ক্ষয় হতে পারে, মুখে গেলে দাঁত ক্ষয় হতে পারে, পরিপাকতন্ত্র এমনকি চোখেরও ক্ষতি হতে পারে। এগুলো প্রত্যক্ষ ক্ষতি। অন্যদিকে পরোক্ষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষমতা কমে আসা। সবমিলিয়ে এটি জীবনকে হুমকির দিকে ঠেলে দেয়া একটি পথ্য।’

ফেসবুক, টিকটকসহ বেশ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ভিনেগার শুঁকে করোনাভাইরাসের উপসর্গ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলতি বছরের ২১ আগস্ট ফেসবুকে মালয়েশীয় ভাষায় এমন একটি পোস্ট প্রকাশিত হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদনে বলা হয়, পোস্টটি এমনভাবে লেখা হয়েছে যে মনে হচ্ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সেরে ওঠা কোনো ব্যক্তি সাক্ষ্য দিচ্ছে। পোস্টটি শেয়ার হয়েছে ১৫০ বারের বেশি।

মালয়েশীয় ভাষায় লেখা পোস্টটির অংশবিশেষের বাংলা অনুবাদ করলে অর্থ দাঁড়ায়, ‘বন্ধুদের বলতে চাই, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেই আগে হাসপাতালে চলে যাবেন না। বরং সম্ভব হলে বাড়িতে বসে ঘরোয়া পথ্যে এটি সারানোর চেষ্টা করুন।

‘আমি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগেছি। নিজের গাড়িতে চড়ে হাসপাতালে গিয়েছি, আমাকে অক্সিজেনও নিতে হয়েছে। পরিবারের সবাই সে সময় অসুস্থ ছিল বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাড়িতে ফেরার অনুমতি নিই। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় তারা আমাকে বাড়িতে ফিরতে দেয়। কিন্তু পরদিন আমি আরও মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ি…

‘আমার মনে আছে, রান্নাঘরে ভিনেগার রাখা ছিল। একটি তোয়ালেতে আমি কিছুটা ভিনেগার ঢালি এবং তা দিয়ে নাক চেপে ধরি। ওই অবস্থায় বারবার শ্বাস নিচ্ছিলাম, কষ্টও হচ্ছিল। এরপর মুখের ওপর তোয়ালে রাখি আমি, নাকও ঢাকা ছিল… আমি মুখ দিয়ে শ্বাস নিচ্ছিলাম। তিনবার এভাবে শ্বাস নেয়ার পর আমি আগের চেয়ে ভালো অনুভব করতে শুরু করি।

ভিনেগার শুঁকলে করোনার উপসর্গ সারে না
ভিনেগার শুঁকে করোনার উপসর্গ দূর করার বিষয়ে ভাইরাল পোস্টটি মিথ্যা বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ছবি: এএফপি

‘আপনাদের অনেকের এতে কাশি হতে পারে, ফুসফুসে অস্বস্তিও হতে পারে। কিন্তু তাও ধৈর্য্য ধরে এটি চর্চা করুন। এতে কফ পুরোপুরি বেরিয়ে যায় এবং শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে আসে… মুখে ভিনেগার প্রবেশ করতে দিন… এতে কিছুটা গরম বোধ হবে, টক অনুভূত হবে, কিন্তু তারপর কাশির সঙ্গে কফ বেরিয়ে আসবে।

‘সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় আমার ফুসফুস ও গলা থেকে প্রচুর কফ বেরিয়ে এসেছিল এবং ভেতরটা পরিষ্কার হয়ে গেছে… এরপর থেকে অনেক সুস্থ বোধ করছি। শ্বাস নিতে পারছি… ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা কফে করোনাভাইরাস ছিল। আমাদের ফুসফুসে বাতাস ঢোকার পথ আটকে রেখেছিল সেগুলো।

‘সৌভাগ্যক্রমে এখন আর কিছু আটকে আছে বলে অনুভব করছি না আমি। শ্বাসপ্রশ্বাসও স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। ক্লান্ত লাগছে না।’

ফেসবুকে পরবর্তীতে একই দাবি সম্বলিত দুটি পোস্ট ১৩০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে। ভিডিওতে এক ব্যক্তি কাছাকাছি দাবি করেও একটি পোস্ট করেছেন ফেসবুকে ও টিকটকে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ দাবি মিথ্যা।

পান্তাই হসপিটাল কুয়ালালামপুরের রেস্পিরেটরি মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ড. হেলমি হাজা মাইদিন বলেন, ‘বরং এমন পথ্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অসুস্থতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

‘ভিনেগারে অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকে। এটি শুঁকলে শ্বাসতন্ত্রের ক্ষয় হতে পারে, মুখে গেলে দাঁত ক্ষয় হতে পারে, পরিপাকতন্ত্র এমনকি চোখেরও ক্ষতি হতে পারে। এগুলো প্রত্যক্ষ ক্ষতি। অন্যদিকে পরোক্ষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষমতা কমে আসা। সবমিলিয়ে এটি জীবনকে হুমকির দিকে ঠেলে দেয়া একটি পথ্য।’

মালয়েশিয়ার সেলায়াং হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অনুরাধা পি. রাধাকৃষ্ণান বলেন, ‘করোনা সারাতে কিংবা প্রতিরোধে ভিনেগারের সাহায্য নেয়ার এ দাবি একেবারেই ভিত্তিহীন। এ দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই।’

অলাভজনক সংস্থা মেডানের করোনাভাইরাসবিষয়ক প্রমাণভিত্তিক গবেষণার বৈশ্বিক কেন্দ্র হেলথ ডেস্ক। প্রতিষ্ঠানটি ভিনেগার শুঁকে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দূর করার বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ‘ভিনেগার হলো অ্যাসিটিক অ্যাসিড ও পানির মিশ্রণ। এটি মৃদু অ্যাসিডিক। বিভিন্ন ধরনের ভিনেগারে রং ও ঘ্রাণের জন্য অন্যান্য উপকরণও মেশানো হয়।

‘চিকিৎসাবিদরা সবসময়েই যে কোনো প্রয়োজনে নাক, মুখ ও গলায় সরাসরি সংস্পর্শ এড়িয়ে ভিনেগার ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

‘ভিনেগারের মতো ক্ষারীয় উপাদান ব্যবহারে বা বেশি ব্যবহারে স্বাস্থ্যের উপকারের চেয়ে অপকারিতাই বেশি। নাকে ব্যবহারযোগ্য ভিনেগার আর মাউথওয়াশও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করা উচিত।’

আরও পড়ুন:
তালেবানের হাতে ছোট্ট লুবনা প্রাণ হারায়?
দিল্লিতে বিমান ঠেলে সরানো হয়েছিল?
ইনি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর?
করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?
ইসরায়েলে জোর করে টিকা দেয়া হয়?

শেয়ার করুন

বাছুরের ওলানের তরল দুধ নয়, এটি ক্ষতিকর

বাছুরের ওলানের তরল দুধ নয়, এটি ক্ষতিকর

গাইবান্ধার কৃষক আফছার আলীর খামারের বাছুর। ছবি: নিউজবাংলা

গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন আনোয়ার হাসান বলেন, ‘বাছুরের দুধ দেয়ার ঘটনাটি আসলে অস্বাভাবিক। মূলত হরমোনজনিত কারণে এটা হতে পারে। বাছুরটির দুগ্ধগ্রন্থি থেকে দুধ নয়; এটাকে আমরা এক ধরনের তরল পদার্থ বলতে পারি।’

‘মাত্র ১৫ দিন বয়সী বকনা বাছুর দিচ্ছে ৭৫০ গ্রাম দুধ’ এমন শিরোনামে একাধিক প্রথম সারির দৈনিকসহ বেশ কয়েকটি অনলাইন নিউজপোর্টালে সংবাদ এসেছে। গণমাধ্যমে আসা এই খবরের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

দুই সপ্তাহ বয়সের বাকনা বাছুরের দুধ দেয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হরমনজনিত কারণে বাছুরের দুগ্ধগ্রন্থি থেকে এক ধরনের তরল নিঃসৃত হচ্ছে। যা পানে মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতিও হতে পারে।

সংবাদমাধ্যমে খবরে বলা হয়, গত ১ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের কিশামত সর্বানন্দ গ্রামের খামারি আফছার আলীর একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী বাছুরটি জন্ম দেয়। ২৫ সেপ্টেম্বর ওই খামারি বাছুরের দুগ্ধগ্রন্থি ফোলা ফাপা দেখতে পান। এরপর স্থানীয় পশু চিকিৎসকের পরামর্শে বাছুর থেকে দুধ সংগ্রহ শুরু করেন। সেই বাছুরটি দৈনিক ৫০০ থেকে ৭৫০ গ্রাম পর্যন্ত দুধ দিয়ে থাকে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

খামারি আফছার আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘হঠাৎ বাছুরের ওলান ফোলা দেখে তিনি স্থানীয় পশু চিকিৎসক রশিদ মিয়ার কাছে যান। ওই চিকিৎসক বিষয়টি অলৌকিক উল্লেখ করে খামারিকে দুধ সংগ্রহের পরামর্শ দেন। এরপর থেকে আফছার আলী সেই দুধ সাদৃশ্য পদার্থ সংগ্রহ শুরু করেন। কিন্তু দুধ পান না করে তিনি তা ডাস্টবিনে ফেলে দেন।

আফছার আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রশিদ ডাক্তারের কথা শুনি দুধ দোয়াচি। কিন্তু দুধ তো গন্ধ করে। খাবার পাই নে। ফেলে দিছি। ডেইলি তিনি চারবের দোয়ালে পোয়া খানেক দুধ আসপের নাকছিল।’

তিনি বলেন, ‘এখন দেখি দুধ দোয়াই ভুল করছি। বাছুর তো অসুস্থ হয়া গেছে। বাঁচপে কী মরবে তাও কবার পাই নে। ডাক্তারও গতকাল ওলানোত হাত দিবের মানা করছে। কাল থাকি আর দোয়াই নে। এখন বাছুর ভাল ঠেকপেনাকছে।’

সংবাদপত্রে প্রতিবেদন দেখে গত ১০ অক্টোবর সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন রেবা বেগম খামারির বাড়িতে যান। পরে তিনি বিষয়টি দেখে গরুর মালিক আফছার আলীকে ‘বাছুরের দুগ্ধস্থান থেকে যে তরল বের হচ্ছে’ সেটি সংগ্রহ না করার নির্দেশনা দেন। সেই সঙ্গে এই তরল পান না করতেও মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন।’

ভেটেরিনারি সার্জন রেবা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হরমোনজনিত কারণে বাছুরের ওলান থেকে তরল পদার্থ বের হচ্ছে। এটাকে আমরা স্বাভাবিক দুধ বলতে পারি না। এছাড়া এই তরল পান না করাই উত্তম।’

গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন আনোয়ার হাসান বলেন, ‘বাছুরের দুধ দেয়ার ঘটনাটি আসলে অস্বাভাবিক। মূলত হরমোনজনিত কারণে এটা হতে পারে। বাছুরটির দুগ্ধগ্রন্থি থেকে দুধ নয়; এটাকে আমরা এক ধরনের তরল পদার্থ বলতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকাল ১২ অক্টোবর আমরা বাছুরটি পরিদর্শনে যাব। সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করব। এরপর ঘটনার সঠিক কারণ জানা যাবে।’

এই তরল সংগ্রহে বাছুরের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এটা মালিককে বুঝতে হবে। এ ছাড়া এই পদার্থ পান ক্ষতির কারণও হতে পারে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
তালেবানের হাতে ছোট্ট লুবনা প্রাণ হারায়?
দিল্লিতে বিমান ঠেলে সরানো হয়েছিল?
ইনি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর?
করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?
ইসরায়েলে জোর করে টিকা দেয়া হয়?

শেয়ার করুন

পঙ্গু হাসপাতালে বিনা মূল্যে কৃত্রিম পা লাগানোর খবর কতটা সত্য

পঙ্গু হাসপাতালে বিনা মূল্যে কৃত্রিম পা লাগানোর খবর কতটা সত্য

পঙ্গু হাসপাতালে বিনা মূল্যে কৃত্রিম পা লাগানো হচ্ছে, সম্প্রতি এমন খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর অনেকেই ভিড় জমান হাসপাতালটিতে। মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ খবরকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিনা মূল্যে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে কৃত্রিম পা সংযোজনের খবরকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলছে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)।

মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর খবর বা তথ্যের বিষয়ে সজাগ থাকার অনুরোধও জানিয়েছে পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি।

পঙ্গু হাসপাতালে বিনা মূল্যে কৃত্রিম পা লাগানো হচ্ছে, সম্প্রতি এমন খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর অনেকেই ভিড় জমান হাসপাতালটিতে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ’বিগত কয়েক দিন কিছু কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে যে, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে বিনা মূল্যে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে কৃত্রিম পা সংযোজন করে দেয়া হচ্ছে। যাদের প্রয়োজন তাদেরকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

‘এ ধরনের খবর একেবারেই ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান একটি স্বনামধন্য জাতীয় প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে এ ধরনের কোনো খবর প্রকাশিত হয় নাই এবং এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই।’

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল গনি মোল্লাহ বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে কপি-পেস্ট করে ফেসবুকের অসংখ্য আইডি ও পেজ থেকে এ ধরনের তথ্য পোস্ট ও শেয়ার করা হয়েছে। এমনকি পোস্টটি একজন চলচ্চিত্র নায়িকার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও পোস্ট করা হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে তিনি তা সরিয়েও নিয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
তালেবানের হাতে ছোট্ট লুবনা প্রাণ হারায়?
দিল্লিতে বিমান ঠেলে সরানো হয়েছিল?
ইনি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর?
করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?
ইসরায়েলে জোর করে টিকা দেয়া হয়?

শেয়ার করুন