রংপুরে নারী শ্রমজীবী বেশি কেন

রংপুরে নারী শ্রমজীবী বেশি কেন

রংপুরে দিন দিন বাড়ছে নারী শ্রমিকের সংখ্যা। ছবি: নিউজবাংলা

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘এই অঞ্চল মূলত দারিদ্র্যপীড়িত। দরিদ্র্রের হার বেশি। একটি সংসারে যে পরিমাণ ব্যয়, তা একজন পুরুষের পক্ষে মেটানো সম্ভব নয়। তাই স্বামীর পাশাপাশি স্ত্রীরাও কাজে অংশ নিচ্ছেন বা করছেন।’

মধ্যবয়সী নারী বিথী বেগম। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের জয়রামপুর বাড়াইপাড়া গ্রামে বাড়ি তার। স্বামী মন্তাজুর রহমান আর দুই মেয়ে নিয়ে তাদের সংসার।

টানাপোড়েনের সংসারে চার বছর আগে স্বামী-স্ত্রী মিলে রংপুরের স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। খেয়েপরে বড় মেয়ে তানজিলাকে বিয়ে দিয়েছেন গত বছর।

বাড়তি টাকা দিয়ে বন্ধক নিয়েছেন দুই ‘দোন’ জমি। ছোট মেয়ে তাসলিমাকে পড়ান স্থানীয় একটি স্কুলে। এখন আর আগের অভাব নেই তাদের ঘরে।

বিথীর ছোট বোন সুমি বেগম। তিনিও কাজ করেন মিঠাপুকুরের একটি পোশাক কারখানায়। প্রোডাকশন শাখায় কাজ করে তার মাসে সর্বনিম্ন আয় ১০ হাজার টাকা।

স্বামীর সংসারে না থাকলেও নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে দুই ছেলেমেয়ের লেখাপড়া আর সংসার দিব্যি চলছে সুমির। তিনি কিনেছেন আট শতক জমি। বাড়ি বানিয়ে বসবাসও করছেন সেখানে।

রংপুরের কর্মজীবী অন্তত ২০ নারীর সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। তাদের সবার প্রায় একই কথা। সংসারের অভাব-অনটন ঘোচানোর পাশাপাশি সচ্ছলতা ফেরাতে কাজ করেন তারা।

রংপুরে নারী শ্রমজীবী বেশি কেন

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রংপুরের প্রান্তিক এলাকাগুলোতে প্রতিটি ঘরে রয়েছেন শ্রমজীবী নারী। এই অঞ্চলে এখন ধীরে ধীরে কর্মজীবনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। শহরের তুলনায় গ্রামে বিভিন্ন পেশায় নারীর অংশগ্রহণও বাড়ছে।

রংপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও উন্নয়নকর্মী রফিক সরকার বলেন, ‘এক যুগ আগেও এমন দৃশ্য গ্রামে ছিল না যে, দলবেঁধে নারীরা কর্মস্থলে যেতেন বা মাঠে কাজ করতেন। সেই চিত্র এখন বদলে গেছে। চাকরি, কৃষি আর ব্যবসায় পুরোপুরি কাজ করছেন তারা।

‘ফলে এই নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি পরিবারে এনেছেন সচ্ছলতা। এ কারণে তাদের সমাজে ও পরিবারে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।’

সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ যৌথভাবে এক গবেষণায় বলেছে, রংপুর বিভাগে নারী শ্রমিকের শতকরা হার ৩৮, যা দেশে সবচেয়ে বেশি।

রংপুরে নারী শ্রমজীবী বেশি কেন

রংপুর উইমেন্স চেম্বারের প্রেসিডেন্ট আনোয়ারা ফেরদৌসী পলি বলেন, ‘শুধু রংপুরেই ৫ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং নারী ব্যবসায়ী রয়েছেন। নারী উদ্যোক্তা বাড়ছে। স্বল্প পুঁজি নিয়ে তারা ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করছেন। পুরুষশাসিত সমাজে তারা কর্মক্ষেত্রে টিকে আছেন।

‘মাঠেঘাটে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এটা অবশ্যই ইতিবাচক। নারীর অনানুষ্ঠানিক কাজের অর্থনৈতিক মূল্যায়ন হওয়া দরকার।’

তিনি বলেন, ‘আমি চাই কোনো নারী যেন বেকার না থাকেন। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। তাদের সহযোগিতা করতে হবে। তাহলে একজনের দেখাদেখি অন্যরাও এগিয়ে আসবেন।’

রংপুর কারুপণ্য লিমিটেডের জনসংযোগ পরামশর্ক মাহবুব রহমান হাবু জানান, রংপুরে তাদের কারখানায় ৪ হাজার নারী শ্রমিক কাজ করেন, যাদের সবার বাড়ি রংপুরে।

তিনি বলেন, ‘নারী শ্রমিকরা নিজের বাড়িতে থেকে কারখানায় এসে কাজ করতে পারছেন। তাতে অনেকেই কমপক্ষে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করছেন। যারা ঢাকায় থাকেন, তারা বাসা ভাড়া দিয়ে এই টাকা উপার্জন করছেন। তাই বাড়িতে থেকেই অনেক নারী শ্রমিক এখন কাজ করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।’

নারী শ্রমজীবী বেশি কেন

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর মহানগর কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু মনে করেন, শুধু পেটের দায়ে নারীরা ঘর থেকে বের হননি বা হচ্ছেন না; বরং কর্মক্ষেত্রে নারীদের কাজের একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নারীরা ঘরে থাকতে চান না, কাজ করতে চান। তারা স্বনির্ভর হতে চান। এই অঞ্চলে গ্রামের কৃষিতে পুরুষের কাজ কমে আসছে। ফলে পুরুষের জায়গা নারীরা দখল করছেন।

‘আর নারীর প্রতি মানুষের বিশ্বাস আছে। অনিয়ম-দুর্নীতি করেন না। যতক্ষণ কাজ করেন, ততক্ষণ মনোযোগ দিয়ে কাজ করেন। ফলে নারী শ্রমিক বাড়ছে।’

রংপুরে নারী শ্রমজীবী বেশি কেন

বাড়ছে না নারীর প্রত্যাশিত উন্নয়ন

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘এই অঞ্চল মূলত দারিদ্র্যপীড়িত। দরিদ্রের হার বেশি। একটি সংসারে যে পরিমাণ ব্যয়, তা একজন পুরুষের পক্ষে মেটানো সম্ভব নয়। তাই স্বামীর পাশাপাশি স্ত্রীরাও কাজে অংশ নিচ্ছেন বা করছেন।

‘এ ছাড়া রংপুর অঞ্চলে একসময় নানা বাধার কারণে নারীরা মাঠে কাজে যেতেন না। এখন সেই বাধা নেই। অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এই অঞ্চলে সামাজিক বাধাটা এখন কম। সামাজিকভাবে বাধাহীনভাবে নারীরা কাজ করতে পারছেন।’

ড. মোরশেদ মনে করেন, সামগ্রিকভাবে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ আগের তুলনায় এ অঞ্চলে বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রামের নারীদের কাজের ক্ষেত্র বেড়ে গেছে। আগে যে কাজ পুরুষ করতেন, এখন সেই কাজ নারীরাও করছেন সমানভাবে। কিন্তু নারীদের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হচ্ছে না।

অংশগ্রহণ বেড়েছে, পরিবর্তন আসেনি

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মারুফা রহমান মনে করেন, শহর থেকে এখন গ্রামেও বদলে গেছে চিত্র। গ্রামীণ নারীরাও বাইরে পুরোদমে কাজ করছেন। কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে তাদের। এটা আশাব্যঞ্জক। তবে অর্থনীতিতে প্রত্যাশিত ফল পেতে হলে তাদের গুণগত পরিবর্তন এবং পুরুষশাসিত সমাজে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।

তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ অনেক বেড়েছে। আগের তুলনায় বিভিন্ন সেক্টরে বিভিন্নভাবে অংশগ্রহণ বাড়ছেই। পরিবর্তনের পথে আমরা হাঁটা শুরু করেছি।

‘তবে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মেয়েদের সামাজিক অবস্থান উন্নয়নের যে জায়গা, সেটা এখনও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। এখনও অনেক বাধা রয়েছে। সেটা দূর করতে পারলে আমরা যে নারী সমতার কথা বলি সেটা অর্জন হবে।’

রংপুরে নারী শ্রমজীবী বেশি কেন

খুশি নারী নেত্রীরা

রংপুর মহিলা পরিষদের সভাপতি হাসনা চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা খুবই একটা ভালো খবর যে, আমাদের মেয়েরা এখন ঘর থেকে বেরিয়ে আসছেন। এটা আমাদের গর্বের বিষয়। মেয়েরা ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে কর্মজীবন বেছে নিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তাদের চিন্তা-চেতনার যে বিকাশ, তার অভাব রয়েছে। তারা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।

‘আমি মনে করি, কাজের ক্ষেত্রে নারীর মান বাড়াতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা দিতে হবে। কর্মপরিবেশের অভাবেই পিছিয়ে নারীরা। সেই সঙ্গে যারা উদ্যোক্তা, তাদের বিনা পুঁজিতে ঋণ দিতে হবে। আমরা চাই নারীরা সচেতনভাবে আরও বেরিয়ে আসুক। দেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখুক।’

রংপুর পরিসংখ্যান ব্যুরোর উপপরিচালক আরিফুল ইসলাম জানান, রংপুর অঞ্চলের নারী শ্রমজীবীর সংখ্যা কত এ নিয়ে কখনো গবেষণা হয়নি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

১৬ কেজির কাতল বিক্রি ২৩৭০০ টাকায়

১৬ কেজির কাতল বিক্রি ২৩৭০০ টাকায়

সাগর হালদারের জালে ১৬ কেজি ওজনের কাতল মাছটি ধরা পড়ে। ছবি: নিউজবাংলা

মাছ ব্যবসায়ী শাজাহান শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জেলে সাগর হালদার মাছটি দুপুরে বিক্রির জন্য আনলে আমি মাছটি কিনে নিই। পরে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে মাছটি দেড় হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করি।’

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীতে প্রায় ১৬ কেজি ওজনের একটি কাতল মাছ ধরা পড়েছে।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের কাছে পদ্মা নদী থেকে সোমবার দুপুর ১টার দিকে জেলে সাগর হালদারের জালে মাছটি ধরা পড়ে।

তিনি জানান, দুপুর ১টার দিকে ১৫ কেজি ৮০০ গ্রামের মাছটি পেয়ে বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া বাইপাস সড়কে শাকিল সোহান মৎস্য আড়তে নিয়ে আসেন। আড়ত মালিক শাজাহান শেখ মাছটি ১ হাজার ৪৫০ টাকা কেজি দরে কিনে নেন।

পরে মাছ ব্যবসায়ী শাজাহান শেখ মোবাইলের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করে ঢাকায় ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে ২৩ হাজার ৭০০ টাকায় মাছটি বিক্রি করেন।

মাছ ব্যবসায়ী শাজাহান শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জেলে সাগর হালদার মাছটি দুপুরে বিক্রির জন্য আনলে আমি মাছটি কিনে নিই। পরে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে মাছটি দেড় হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করি।’

শেয়ার করুন

নিজ বাড়ির সামনে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

নিজ বাড়ির সামনে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ছবি: নিউজবাংলা

লালমনিরহাট সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) তাপস সরকার নিউজবাংলাকে জানান, আব্দুল মালেক রোববার রাতে বাড়ির সামনে একটু অন্ধকারে একা বসে ছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলার তিস্তা ব্যারাজের পাশে দোয়ানী এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল মালেকের বাড়ি গড্ডিমারী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দোয়ানী এলাকাতেই।

মালেকের পরিবারের দাবি জমিসংক্রান্ত মামলার জেরে তাকে হত‌্যা করা হয়েছে।

লালমনিরহাট সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) তাপস সরকার নিউজবাংলাকে জানান, আব্দুল মালেক রোববার রাতে বাড়ির সামনে একটু অন্ধকারে একা বসে ছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হত্যার কারণ জানতে চাইলে পুলিশ সুপার জানান, মালেকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই শিশুসহ নিহত ৩

বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই শিশুসহ নিহত ৩

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাসচাপায় অটোরিকশার তিনজন নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মাইনুল ইসলাম জানান, অসুস্থ শিশু মোশারফকে নিয়ে একই পরিবারের তিনজন অটোরিকশায় করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন। পথে অটোরিকশাটি আন্দিউড়া এলাকায় পৌঁছলে ঢাকা থেকে সিলেটগামী সাগরিকা বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু মোশারফ ও জব্বার মিয়া মারা যান।

হবিগঞ্জের মাধবপুরে অসুস্থ ছেলেকে হাসপাতালে নেয়ার পথে বাবাসহ বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয় আরও দুজন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উপজেলার আন্দিউড়া এলাকায় উম্মেতুনেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সোমবার দুপুর ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলো, ৩ বছর বয়সী শিশু মোশারফ মিয়া, ৮ বছর বয়সী রূপা আক্তার ও জব্বার মিয়া। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য।

আহত তিনজনের পরিচয় এখনও জানতে পারেনি পুলিশ।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম জানান, অসুস্থ শিশু মোশারফকে নিয়ে একই পরিবারের তিনজন অটোরিকশায় করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন। পথে অটোরিকশাটি আন্দিউড়া এলাকায় পৌঁছলে ঢাকা থেকে সিলেটগামী সাগরিকা বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু মোশারফ ও জব্বার মিয়া মারা যান।

পরে মাধবপুর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহত চারজনকে উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রূপা আক্তার মারা যায়।

শেয়ার করুন

অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, রাজমিস্ত্রি নিহত

অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, রাজমিস্ত্রি নিহত

জামালপুরে দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করলেও পালিয়ে যায় ট্রাকের চালক ও হেলপার। ছবি: নিউজবাংলা

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. অনিক জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চারজনকে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের দিকে রকিবুল মারা যান। বাকি তিনজন চিকিৎসাধীন।

জামালপুরের মেলান্দহে অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কায় একজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনজন।

উপজেলার চরবানি পাকুরিয়া ইউনিয়নের তালতলা এলাকায় সোমবার সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাজমিস্ত্রি রকিবুল টিকাদারের বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার সাধুপুর গ্রামে।

আহতরা হলেন একই গ্রামের নুরু শেখ, সুরুজ মিয়া ও মিলন মিয়া। তারা সবাই জেলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) এম এম মঈনুল ইসলাম জানান, সকালে মেলান্দহের ঝিনাই ব্রিজের পরে দেওয়ানগঞ্জগামী একটি ট্রাক জামালপুরগামী অটোরিকশাটিকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার চার যাত্রী গুরুতর আহত হন।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. অনিক জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চারজনকে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের দিকে রকিবুল মারা যান। বাকি তিনজন চিকিৎসাধীন।

ওসি মঈনুল জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করলেও পালিয়ে যান ট্রাকের চালক ও হেলপার।

এই ঘটনায় পুলিশ কোনো অভিযোগ পায়নি বলেও জানান ওসি।

শেয়ার করুন

সাপের কামড়ে নারীসহ মৃত ২

সাপের কামড়ে নারীসহ মৃত ২

মৃত মোকাদ্দেস হোসেনের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জানান, ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে তার ভাই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে গোখড়া সাপ তাকে দংশন করে। আর দক্ষিণ মনোহরপুর গ্রামের গৃহবধূ রোকসানা বেগমকে গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপ কামড় দেয়।

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সাপের কামড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার রঘুনন্দনপুর ও দক্ষিণ মনোহরপুর গ্রামে রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন, রঘুনন্দনপুর গ্রামের মোকাদ্দেস হোসেন ও দক্ষিণ মনোহরপুর গ্রামের আজগার আলির স্ত্রী রোকসানা বেগম।

মৃত মোকাদ্দেস হোসেনের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জানান, ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে তার ভাই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে গোখড়া সাপ তাকে দংশন করে। প্রথমে তাকে স্থানীয় ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সকাল ৮টার দিকে তাকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মোকাদ্দেসকে মৃত ঘোষণা করেন।

শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যালের অফিসার কনক জানান, তার পায়ে দুটি দংশনের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয় কবিরাজ দেখিয়ে রোগীকে অনেক দেরিতে হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বলাই কুমার বিশ্বাস জানান, দক্ষিণ মনোহরপুর গ্রামের গৃহবধূ রোকসানা বেগম ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে তাকে সাপ কামড় দেয়।

পরে যন্ত্রণা শুরু হলে স্বজনরা তাকেও প্রথমে গ্রাম্য ওঝার কাছে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান তিনি।

শেয়ার করুন

পানের বরজে বানের পানি, প্রণোদনা চান চাষিরা

পানের বরজে বানের পানি, প্রণোদনা চান চাষিরা

মাদারীপুরে পানের বরজ বৃষ্টির পানিতে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় প্রণোদনা চেয়েছেন চাষিরা। ছবি: নিউজবাংলা

পানচাষি মজিবুর শেখ বলেন, ‘আমাদের পানের যে ক্ষতি হয়েছে তাতে সরকার যদি আমাদের দিকে না তাকায় তাইলে আমরা শেষ। আমাদের এলাকা পান চাষ করেই টিকে আছি। যদি আমরা আর চাষ না করতে পারি তাইলে এই অঞ্চলে আর পানচাষি থাকবে না।’

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মাদারীপুরে আড়িয়াল খাঁ নদে পানি বেড়ে বন্যার দেখা দিয়েছে। হঠাৎ বেড়ে যাওয়া পানি নদীর দুই তীর উপচে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এতে কালকিনি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে পানের বরজে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি প্রণোদনার দাবি পানচাষিদের। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, পানচাষিদের তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবেন এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে নাকি।

পানচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানান যায়, গেল কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা ঢলে কালকিনি পৌরসভার দক্ষিণ রাজদী, উত্তর রাজদী, পাতাবালি ঠেঙ্গামারা, বাশঁগাড়ি, এনায়েতনগর, রমজানপুরসহ অন্তত ১১টি ইউনিয়নে ফসলি জমিতে পানি উঠেছে।

এসব এলাকার পানের বরজে পানি ঢুকে গেছে। এ ছাড়া এসব এলাকার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। রোপা আমন ধানের চারা এখন পানিতে তলিয়ে আছে। তবে এসব অঞ্চলের প্রধান কৃষি ফসল পানের বরজে পানি ঢুকে ক্ষতির পরিমাণটা বেশি হয়েছে বলে দাবি কৃষকদের।

কালকিনি পৌরসভার উত্তর রাজদী গ্রামের পানচাষি ইকবাল হাওলাদার বলেন, ‘কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানের বরজে উজানের পানি ঢুকছে। সেচ পাম্প দিয়া বরজ থেইকা পানি সরানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু পানির চাপ অনেক বেশি।

‘আমার দুই বিঘা জমির পানের বরজ নষ্ট হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে লোকজন এসেও দেখে যায় নাই। এমনিতে একটু উচুঁ জমিতে পান চাষ করা হলেও পানি বেশি হওয়ায় ক্ষতিটা হয়েছে।’

পানচাষি মজিবুর শেখ বলেন, ‘আমাদের পানের যে ক্ষতি হয়েছে তাতে সরকার যদি আমাদের দিকে না তাকায় তাইলে আমরা শেষ। আমাদের এলাকা পান চাষ করেই টিকে আছি। যদি আমরা আর চাষ না করতে পারি তাইলে এই অঞ্চলে আর পানচাষি থাকবে না।’

সরকারি সহযোগিতার জন্য একই কথা বলেন আরও কয়েকজন পানচাষি।

এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাস জানান, কালকিনি উপজেলায় মূলত পান আবাদ করা হয়। উপজেলায় এ বছর ১৯০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়েছে। সম্প্রতি বন্যায় পানের বরজসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তবে পানের বরজ একটু উচুঁ জমিতে হওয়ায় তেমন প্রভাব পড়বে না। তারপরেও চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

করোনায় প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু

করোনায় প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু

হাটহাজারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদা আলম জানান, ফেরদৌসি বেগম ছাড়াও উপজেলার আরও তিন সহকারী শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারা সবাই এখন পর্যন্ত সুস্থ আছেন। তাদেরকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।

হাটহাজারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদা আলম বেলা ১টার দিকে বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

ফেরদৌসি বেগম রোববার বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তিনি হাটহাজারীর ছিপাতলী আলী মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার বাড়ি পটিয়ার ধলঘাট ইউনিয়নের সমুরা এলাকায়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদা আলম বলেন, ‘ফেরদৌসি বেগম ১৫ সেপ্টেম্বর করোনার উপসর্গ দেখা দিলে আমাকে জানান। আমরা তাকে স্কুলে না যাওয়ার পরামর্শ দিই। ২০ সেপ্টেম্বর তার করোনা পজিটিভ আসে। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় এর আগেই হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। রোববার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।’

তিনি আরও জানান, ফেরদৌসি বেগম ছাড়াও উপজেলার আরও তিন সহকারী শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

তারা হলেন হাটহাজারী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহিনা আক্তার, উত্তর বুড়িশ্চর রশিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্মৃতি দত্ত এবং উত্তর মাদার্শা মাহলুমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্চিতা বড়ুয়া।

তারা সবাই এখন পর্যন্ত সুস্থ আছেন। তাদেরকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

শিক্ষকরা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরও স্কুল বন্ধ ঘোষণা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম সিরাজী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্কুল খোলার পর ফেরদৌসি বেগম সম্ভবত দুদিন স্কুলে এসেছিলেন। এরপর অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় আর স্কুলে আসেননি।

‘তখন থেকে এখন পর্যন্ত স্কুল স্বাভাবিক নিয়মে চলছে। স্কুলের অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সুস্থ আছেন। এ ছাড়া অন্য যে শিক্ষকরা করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে আছেন, তাদের স্কুলও চলছে।’

শেয়ার করুন