বিমানের পাইলট নন, প্রতিরক্ষা সাংবাদিক তিনি

বিমানের পাইলট নন, প্রতিরক্ষা সাংবাদিক তিনি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সাংবাদিক মারকাস ওয়েসগারবার। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

সি-১৭ বিমানে ক্রু হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উদ্ধার অভিযানের অনুমোদন দেয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও সি-১৭ কমান্ডার এরিক কুট, টেকনিক্যাল সার্জেন্ট জাস্টিন ট্রিওলা ও এয়ারম্যান ফার্স্ট ক্লাস নিকোলাস ব্যারন। সি-১৭ বিমানের ক্রুদের তালিকায় মারকাস ওয়েসগারবার নামে কেউ ছিলেন না।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের দখলে যাওয়ার পর হাজার হাজার ভীত আফগান কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিড় করে।

তালেবান শাসনের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে মরিয়া এসব সাধারণ মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে লাখের কাছাকাছি আফগানকে দেশ ছাড়তে সহযোগিতা করেছে।

১৫ আগস্ট শত শত মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান সি-১৭-এর মেঝেতে গাদাগাদি করে বসে কাবুল থেকে কাতারের উদ্দেশে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃদয়বিদারক ওই ছবি বেশ ভাইরাল হয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিকের ছবি বেশ ভাইরাল হয়েছে। এতে বলা হয়, শত শত মানুষ নিয়ে কাবুল ছেড়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সি-১৭ বিমানটির পাইলট এই ব্যক্তি।

ছবির শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পাইলট মারকাস ওয়েসগারবার মাত্র এক ট্রিপে ৭৬০ আফগান নাগরিকের জীবন বাঁচিয়েছেন। তাকে স্যালুট জানাই।’

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেইক নিউজ ওয়্যার রুম (এএফডব্লিউএ) সাম্প্রতিক ছবির দাবি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ভাইরাল ছবিটির ব্যক্তি আসলেই মারকাস ওয়েসগারবার। তবে তিনি পাইলট নন।

ওয়াশিংটন ডিসির বাসিন্দা মারকাস যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক সাংবাদিক।

আরও অনুসন্ধানে মারকাসের টুইটার অ্যাকাউন্টের খোঁজ পাওয়া যায়। টুইটার বায়োতে মারকাস নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিউজ পোর্টাল ডিফেন্স ওয়ানের গ্লোবাল বিজনেস এডিটর হিসেবে পরিচয় দেন।

মূলত প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত খবর প্রকাশ করে ডিফেন্স ওয়ান।

১৭ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের আরসিএইচ ৮৭১ সামরিক বিমানে চড়া আফগানদের একটি ছবিও টুইট করেন মারকাস।

আফগানিস্তান থেকে উদ্ধার অভিযানসংক্রান্ত প্রতিবেদন ডিফেন্স ওয়ানে প্রকাশ করেন মারকাস ও আরেক সাংবাদিক ট্যারা কোপ।

২০ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের সি-১৭ বিমানটির ক্রুদের নিয়ে বিশেষ সাক্ষাৎকার নেয় সিএনএন।

সাক্ষাৎকারে বলা হয়, সি-১৭ বিমানে ক্রু হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উদ্ধার অভিযানের অনুমোদন দেয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও সি-১৭ কমান্ডার এরিক কুট, টেকনিক্যাল সার্জেন্ট জাস্টিন ট্রিওলা ও এয়ারম্যান ফার্স্ট ক্লাস নিকোলাস ব্যারন।

এ ছাড়া রয়েছেন ক্যাপ্টেন কোরি জ্যাকসন, ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট মার্ক লসন, স্টাফ সার্জেন্ট ডেরেক লরেন্ট ও সিনিয়র এয়ারম্যান রিচার্ড জনসন।

সি-১৭ বিমানটির ক্রুদের তালিকায় মারকাস ওয়েসগারবার নামে কেউ ছিলেন না।

সাক্ষাৎকারে সি-১৭ বিমানের ক্রুরা সিএনএনকে জানান, বিমানটিতে ৬৪০ যাত্রী নয়। নারী-শিশু মিলে ৮২৩ আফগানকে নিয়ে ওই দিন কাবুল ছাড়েন তারা।

আরও পড়ুন:
ঘানির বাগরাম ঘাঁটিতে যাওয়ার ছবি, দেশত্যাগের নয়
শিশু কোলে ওই সেনা যুক্তরাজ্যের, যুক্তরাষ্ট্রের নয়
তালেবান নয়, ওই নারীকে হত্যা করে আল-কায়েদা
বিমানের ইঞ্জিনে উপুড় হয়ে শোয়া ব্যক্তি আফগান নন
তালেবানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ইরানে, কাবুলে নয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তালেবানের পক্ষে সমাবেশে নারীদের অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?

তালেবানের পক্ষে সমাবেশে নারীদের অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?

কাবুলের শহীদ রাব্বানি এডুকেশন ইউনিভার্সিটির লেকচার থিয়েটারে সমবেত নারীদের পরনে ছিল তিন খণ্ডের কালো বোরকা। অথচ আফগান নারীদের প্রচলিত বোরকা নীল রঙের এবং একখণ্ড কাপড়। ছবি: এএফপি

অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক মানুষ তালেবানের প্রতি নারীদের সমর্থনের সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর একটি কারণ ছিল, লেকচার থিয়েটারের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার আগে বা পরে কাবুলের রাস্তায় একই পোশাক আর প্ল্যাকার্ড হাতে নারীদের সারি বেঁধে হেঁটে যাওয়ার ছবি। সেসব ছবিতে নারীদের পাহারায় অস্ত্র হাতে তালেবান যোদ্ধাদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছিল সমাবেশে অংশ নেয়া নারীদের পরনে থাকা বোরকার ধরন নিয়েও।

তালেবানের সমর্থনে আপাদমস্তক কালো কাপড়ে মোড়ানো নারীদের সমাবেশের কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শতাধিক নারীর অংশগ্রহণে ওই সমাবেশ কাবুলের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় গত ১১ সেপ্টেম্বর।

সে সময় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, তালেবানের জেন্ডার বৈষম্যমূলক কট্টর নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ওই সমাবেশে অংশ নেন প্রায় ৩০০ নারী। কথিত ইসলামপন্থিদের সমর্থনে এবং পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে সমাবেশে কথা বলেছিলেন নারী বক্তারা; শ্রোতার আসনে থাকা নারীরা উড়িয়েছিলেন তালেবানের পতাকা।

তালেবানের আরোপিত নিয়ম মেনে কঠিন রক্ষণশীল পোশাকে শিক্ষা গ্রহণের বার্তা দিয়েছিলেন তারা। হাতে গোনা কয়েকজন নীল রঙের বোরকা পরলেও বেশির ভাগই ছিলেন কালো নিকাবে। চোখ বাদে পুরো শরীর ঢাকা ছিল তাদের, চোখেও ছিল পাতলা কাপড়ের আবরণ, হাতে ছিল গ্লাভস।

সমাবেশে অংশ নেয়া কয়েকজন নারীর বরাত দিয়ে টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবানের প্রতি নারীদের সমর্থন দেখানোর ওই আয়োজন পুরোটাই ছিল সাজানো।

তালেবান নারীদের অধিকার হরণ করছে বলে বিশ্বজুড়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা মিথ্যা প্রমাণে নারীদের বাধ্য করা হয়েছিল ওই সমাবেশে অংশ নিতে। উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বকে দেখানো যে, আফগান নারীরা তালেবানের শাসনে, নতুন কঠোর জীবনবিধানে সন্তুষ্ট।

সমাবেশে অংশ নেয়া নারী মারজানা (ছদ্মনাম)। আয়োজনে নিজের অংশ নেয়ার নেপথ্যের ঘটনা তিনি জানিয়েছেন নিজ বাড়িতে বসেই। তাও শোনা যায় না এমন কণ্ঠে, রীতিমতো ফিসফিস করে কথা বলছিলেন তিনি। সে কণ্ঠেও স্পষ্ট ছিল আতঙ্ক।

তিনি বলেন, ‘অনেকে বোরকা পরেই উপস্থিত হয়েছিলেন। আমিসহ বাকিদের কালো বোরকা পরতে দেয়া হয়েছিল। আমাদের পুরো মুখ ঢেকে ছিল ওই পোশাকে।’

সেদিন আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের শহীদ রাব্বানি এডুকেশন ইউনিভার্সিটির লেকচার থিয়েটারে সমবেত হয়েছিলেন ওই নারীরা। তালেবানের সমর্থনে লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল তাদের হাতে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাপক মারজানা আরও জানান, এক শিক্ষার্থীকে আগে লিখে রাখা একটি বক্তব্য লেকচার হলে পড়ে শোনাতে বলা হয়। ইংরেজি ভাষায় লেখা ছিল বক্তব্যটি।

অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক মানুষ তালেবানের প্রতি নারীদের সমর্থনের সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এর একটি কারণ ছিল, লেকচার থিয়েটারের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার আগে বা পরে কাবুলের রাস্তায় একই পোশাক আর প্ল্যাকার্ড হাতে নারীদের সারি বেঁধে হেঁটে যাওয়ার ছবি।

তালেবানের পক্ষে সমাবেশে নারীদের অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?

সেসব ছবিতে নারীদের পাহারায় অস্ত্র হাতে তালেবান যোদ্ধাদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল।

ওই সমাবেশের আগে ও পরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তালেবানবিরোধী বিক্ষোভে চড়াও হতে দেখা গিয়েছে সশস্ত্র এই তালেবান যোদ্ধাদের। বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করায় আফগান সংবাদকর্মীদেরও নির্মমভাবে পিটিয়েছিল তালেবান যোদ্ধারা।

সেই তালেবান যোদ্ধারাই আবার তাদের সমর্থনে হওয়া সমাবেশের খবর প্রচারে সাংবাদিকদের ডেকে পাঠিয়েছিল।

প্রশ্ন উঠেছিল সমাবেশে অংশ নেয়া নারীদের পরনে থাকা বোরকার ধরন নিয়েও। বেশির ভাগ নারীই হাত গ্লাভসে আর চোখ-মুখ নিকাবে ঢেকে রেখেছিলেন। পা থেকে মাথা পর্যন্ত পরা ছিলেন কালো বোরকা।

অর্থাৎ বহির্বিশ্ব, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে আফগান নারীদের বোরকা পরা নিয়ে যে ধারণা প্রচলিত, সেটাই স্পষ্ট ছিল সমাবেশে অংশ নেয়া নারীদের পোশাকে।

আরব বিশ্বে প্রচলিত কালো রঙের বোরকার তিনটি অংশ আলাদা- গলা থেকে পা পর্যন্ত একটি ঢোলা আলখাল্লা, মাথা ঢাকার কাপড় ও মুখ ঢাকার নিকাব। এ ধরনের পোশাকই পরেছিলেন সমাবেশে অংশ নেয়া বেশির ভাগ নারী।

অথচ আফগান নারীরা সাধারণত নীল রঙের বোরকা পরেন। আফগানিস্তানের প্রচলিত বোরকা মানে বিশাল একখণ্ড নীল রঙের কাপড়, যা দিয়ে নারীর মাথা থেকে পা পর্যন্ত, এমনকি চোখও ঢাকা থাকে।

তালেবানের সমর্থনে সমাবেশে অংশ নেয়া আরেক নারী নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মুখসহ সারা শরীর ঢেকে নিতে কালো রঙের বোরকাগুলো আমাদের তালেবান যোদ্ধারা দিয়েছিল। আমি পরতে চাইনি ওই পোশাক।

‘যখন বলেছিলাম যে আমি পরব না এই বোরকা, ওরা চিৎকার শুরু করল। মোট কথা, ওই পোশাক পরতে তারা আমাদের বাধ্য করেছে। তারপর চুপচাপ থিয়েটারে গিয়ে বসে থাকতে বলেছে।

‘বোরকার ভেতরে ঢোকার পর আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। তারা বক্তৃতা দিচ্ছিল। আমি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধু শুনেছি।’

ছবি ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বিশ্লেষণেও এটা স্পষ্ট হয়েছে যে ওই সমাবেশ শুধু যে তালেবানের অনুমতিতে হয়েছিল তা-ই নয়, আয়োজনও করেছিল খোদ তালেবানই।

তালেবানের সমর্থনে ওই সমাবেশের এক বক্তা বলেছিলেন, তালেবানবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়া নারীরা ‘প্রকৃত আফগান নারীদের প্রতিনিধিত্ব করেন না এবং তারা আফগানিস্তানের মুখ নন। তারা ব্যক্তিগত স্বার্থে আফগান নারীদের মিথ্যা ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদেরও সাক্ষাৎকার নেয়ার চেষ্টা করেছিল টিআরটি। কিন্তু সাড়া পায়নি। তালেবানের সমর্থনে ওই অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় অংশ নেয়া নারী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল। সাড়া দেননি তারাও।

সমাবেশের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। কয়েক শ আফগান নারী টুইটারে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী রঙিন পোশাক পরা ছবি প্রকাশ করেন। ‘ডু নট টাচ মাই ক্লোথস’ হ্যাশট্যাগে টুইটারে প্রতিবাদের ঝড় তোলেন তারা।

টুইটারে বিবিসির সাংবাদিক সোদাবা হায়দারে বলেন, ‘এটাই আমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। আমাদের তো ভাত খাওয়ার চালটাও রঙিন। একই রকম রঙিন আমাদের জাতীয় পতাকাও।’

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রথম দফায় প্রায় ছয় বছর আফগানিস্তান শাসন করেছিল ধর্মভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন তালেবান। নব্বইয়ের দশকের শাসনামলে মেয়েশিশু, কিশোরী ও নারীদের শিক্ষা গ্রহণ, জীবিকা উপার্জন, বেড়ানোসহ সব ধরনের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিল গোষ্ঠীটি। পরিবারের পুরুষ সদস্য ছাড়া বাড়ির বাইরে পা রাখারও অনুমতি ছিল না নারীদের।

২০ বছরের ব্যবধানে গত ১৫ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান। শুরুতে নব্বইয়ের দশকের মতো কঠোর নিয়ম চালু না করার আশ্বাস দিলেও সে কথা রাখেনি গোষ্ঠীটি।

এরই মধ্যে আফগানিস্তানের নারী মন্ত্রণালয় স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে নতুন শাসক গোষ্ঠী। রাজধানী কাবুলে নগর প্রশাসনের নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়িতে থাকার আদেশ দিয়েছে। ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ে সব স্কুল চালু হলেও স্কুলে যাচ্ছে না ছাত্রী ও শিক্ষিকারা।

ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে শিক্ষা গ্রহণে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে বলে রোববার নিশ্চিত করেছেন তালেবানশাসিত সরকারের উচ্চশিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল বাকি হাক্কানি। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হলে নারীদের হিজাব পরতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মারজানা বলেন, ‘আমরা পড়াশোনা করার কিংবা কাজে ফেরার অনুমতি পাব কি না জানি না। স্পষ্ট করে কিছুই বলা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে, কে জানে।’

আরও পড়ুন:
ঘানির বাগরাম ঘাঁটিতে যাওয়ার ছবি, দেশত্যাগের নয়
শিশু কোলে ওই সেনা যুক্তরাজ্যের, যুক্তরাষ্ট্রের নয়
তালেবান নয়, ওই নারীকে হত্যা করে আল-কায়েদা
বিমানের ইঞ্জিনে উপুড় হয়ে শোয়া ব্যক্তি আফগান নন
তালেবানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ইরানে, কাবুলে নয়

শেয়ার করুন

পাথর ছুড়ে হত্যার ভিডিওটি কাদের

পাথর ছুড়ে হত্যার ভিডিওটি কাদের

তালেবান সম্প্রতি কাউকে পাথর ছুড়ে মারেনি বলে উঠে এসেছে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে। ছবি: সংগৃহীত

এএফডব্লিউএ ভাইরাল ভিডিওটির রিভার্স সার্চিং কিফ্রেম ব্যবহার করে দেখেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারী ২০১৮ সালে এটি ছড়িয়েছে।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যাওয়ার পর থেকে সংগঠনটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ উঠতে থাকে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তালেবানের বিরুদ্ধে পাথর ছুড়ে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ করা হয়।

ভিডিওর ক্যাপশনে এক ব্যক্তি লেখেন, ‘সতর্কতা-অতি সংবেদনশীল। যারা তালেবানের বদল যাওয়ার কথা বলছেন, তারা আফগানিস্তানে এক ব্যক্তিকে পাথর ছুড়ে মারার ভয়াবহ ফুটেজটি দেখুন। তাদেরই (তালেবান) তোষণ করে যাচ্ছে (জো) বাইডেন প্রশাসন।’

ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ)।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাল হওয়া ফুটেজটি ২০১৮ সালের। ওই ভিডিওর ব্যক্তিটির বয়স ৬০ বছর, যাকে পাথর মেরে হত্যা করে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

এএফডব্লিউএ ভাইরাল ভিডিওটির রিভার্স সার্চিং কিফ্রেম ব্যবহার করে দেখেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারী ২০১৮ সালে এটি ছড়িয়েছে।

সম্প্রতি ভিডিওটি শেয়ার দিয়ে ফার্সি ভাষায় ক্যাপশনে একজন লেখেন, ‘আফগানিস্তানে ধর্ষণের অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পাথর ছুড়ে মারছে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিরা।’

ওই ক্যাপশন থেকে ক্লু পেয়ে ফার্সি ভাষায় কিছু কিওয়ার্ড সার্চ শুরু করে এএফডব্লিউএ। এসব কিওয়ার্ডের মাধ্যমে ফার্সি ভাষার সংবাদমাধ্যমে পাথর মেরে হত্যা সংক্রান্ত খবর খুঁজে পাওয়া যায়।

এসব খবরে জানানো হয়, পাথর ছুড়ে হত্যার এ আয়োজন করা হয় আফগানিস্তানের জওজান প্রদেশের দারজাব জেলায়। সেখানে ধর্ষণের অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পাথর মেরে হত্যা করা হয়।

ওই ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে জানান, দারজাব জেলার মঙ্গল গ্রামে বাড়ি ওই বৃদ্ধের। জানাজা ছাড়াই তার দাফন হয়।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির দিককার। ওই প্রতিবেদনসহ অন্য কিছু খবরের আলোকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজটি কিছুদিন আগের কিংবা তালেবান সংশ্লিষ্ট নয়।

আরও পড়ুন:
ঘানির বাগরাম ঘাঁটিতে যাওয়ার ছবি, দেশত্যাগের নয়
শিশু কোলে ওই সেনা যুক্তরাজ্যের, যুক্তরাষ্ট্রের নয়
তালেবান নয়, ওই নারীকে হত্যা করে আল-কায়েদা
বিমানের ইঞ্জিনে উপুড় হয়ে শোয়া ব্যক্তি আফগান নন
তালেবানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ইরানে, কাবুলে নয়

শেয়ার করুন

৪ শিশুকে লঞ্চ থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগ ‘বানানো’  

৪ শিশুকে লঞ্চ থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগ ‘বানানো’  

মেঘনা নদী থেকে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে নেয়া হয়।

মিথ্যা অভিযোগ করার কারণ হিসেবে শিশুরা জানায়, লঞ্চে প্রায়ই যাত্রীর ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয় অপরাধী চক্র। পুলিশ যাতে তাদেরকে এ ধরনের কোনো চক্রের সদস্য না ভাবে সে জন্যই শাকিব মিথ্যা কথা বলতে প্ররোচিত করেছিল।

ভাড়া না থাকায় লঞ্চ থেকে মেঘনা নদীতে চার শিশুকে ফেলা দেয়ার একটি অভিযোগ পুলিশের বরাতে সম্প্রতি প্রকাশিত হয় সংবাদ মাধ্যমে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট লঞ্চ কর্মীদের বিরুদ্ধে রোববার হত্যাচেষ্টা মামলাও করেছে পুলিশ।

তবে ওই শিশুরা এখন বলছে, পুলিশের কাছে মিথ্যা বলেছিল তারা। তাদেরই এক সঙ্গী পুলিশের কাছে মিথ্যা বলতে বাকিদের প্ররোচিত করেছিল।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রইস উদ্দিন শনিবার সাংবাদিকদের জানান, সেদিন বেলা ১১টার দিকে স্পিডবোটে মেঘনা নদী পার হওয়ার সময় দুই শিশুর চিৎকার শুনে তাদের উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটে নিয়ে যায় পুলিশ।

শিশুরা পুলিশকে জানায়, তারা লঞ্চে পানি বিক্রি করে। এমভি ইমাম হাসান-৫ লঞ্চে তারা ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাচ্ছিল। ভাড়া না থাকায় কর্তৃপক্ষ তাদের লঞ্চ থেকে ফেলে দেয়।

এর এক দিন পর মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লুৎফর রহমান সাংবাদিকদের জানান, শনিবার দুটি নয়, চারটি শিশুকে লঞ্চ থেকে ফেলে দেয়া হয়েছিল। দুই শিশুর বাড়ি নোয়াখালীতে এবং বাকিদের গাইবান্ধা ও কুমিল্লায়।

ওই দিনই মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় এমভি ইমাম হাসান-৫ লঞ্চের সব স্টাফকে আসামি করে মামলা করেন লুৎফর রহমান।

তবে চার শিশুর মধ্যে তিন জন এখন বলছে, নদীতে ফেলে দেয়ার অভিযোগটি মিথ্যা। নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা শিশু মেহেদুল এবং সাঁতরে তীরে ওঠা দুই শিশু সিয়াম ও তরিকুলের দাবি, তারা ইচ্ছা করেই লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল। এ ধরনের ঘটনা এর আগেও তারা ঘটিয়েছে।

৪ শিশুকে লঞ্চ থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগ ‘বানানো’

নদীতে ঝাঁপ দেয়ার পর সিয়াম ও তরিকুল সাঁতার কেটে তীরে ওঠে। তবে ভাসমান অবস্থায় মেহেদুল ও শাকিব নামের দুই শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় বিষয়টি লুকাতে পুলিশের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে শাকিব।

মিথ্যা বলার কারণ কী- এমন প্রশ্নের জবাবে মেহেদুল, সিয়াম ও তরিকুল জানায়, লঞ্চে প্রায়ই যাত্রীর ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয় অপরাধী চক্র। পুলিশ যাতে তাদেরকে এ ধরনের কোনো চক্রের সদস্য না ভাবে সে জন্যই শাকিব মিথ্যা কথা বলতে প্ররোচিত করেছিল।

মেহেদুল, সিয়াম ও তরিকুল সোমবার রাতে একটি ভিডিও অকপটে বিষয়টি স্বীকার করে। তবে আরেক শিশু শাকিব কোথায় আছে তা জানা যায়নি।

গজারিয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া মেহেদুল জানায়, নদীতে ভাসমান অবস্থায় পুলিশকে দেখতে পায় শাকিব। এরপর সে লঞ্চ থেকে ফেলে দেয়ার ‘গল্প’ শিখিয়ে দেয়। পুলিশ তাদের উদ্ধার করলে শাকিব নিজেই পুলিশের কাছে এই মিথ্য অভিযোগটি করে।

অন্য দুই শিশু জানায়, সদরঘাট থেকে তারা লঞ্চে উঠেছিল। সেখান থেকে মুন্সিগঞ্জ ঘাটের কাছে পৌঁছে মাঝ নদীতে যাত্রী উঠা-নামায় নিয়োজিত ট্রলারে করে তীরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে মুন্সিগঞ্জে ট্রলার চালকেরা তাদের নামতে দেন। এরপর পরে চাঁদপুরের অভিমুখে চলতে থাকা লঞ্চ থেকে সঙ্গীদের নদীতে লাফ দিতে বলে শাকিব। এক পর্যায়ে সে তরিকুলকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। এরপর একে একে সবাই নদীতে ঝাঁপ দেয়।

পরে সিয়াম ও তরিকুল সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও ভাসতে থাকে মেহেদুল ও শাকিব। তাদের উদ্ধার করে পুলিশ।

ভিডিওতে শিশুরা জানায়, লঞ্চের স্টাফ ও পুলিশ কেউ তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেনি। এমভি ইমাম হাসান-৫ লঞ্চের মাস্টার দেলোয়ার হোসেনসহ অন্য কর্মীরাও লঞ্চ থেকে শিশুদের ফেলে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে নৌ-পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুটি শিশুকে উদ্ধার করেন নদী থেকে। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে আমাদের মুক্তারপুর নৌ পুলিশের আইসি বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।’

তিনি বলেন, ‘উদ্ধার করা দুই শিশু বলেছিল, তাদের লঞ্চ থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে। এজন্য আমাদের মামলা করতে হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। যদি লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাদের ফেলে না দেয় এবং শিশুরা যদি নিজেরাই ঝাঁপ দিয়ে থাকে তাহলে তদন্ত রিপোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ঘানির বাগরাম ঘাঁটিতে যাওয়ার ছবি, দেশত্যাগের নয়
শিশু কোলে ওই সেনা যুক্তরাজ্যের, যুক্তরাষ্ট্রের নয়
তালেবান নয়, ওই নারীকে হত্যা করে আল-কায়েদা
বিমানের ইঞ্জিনে উপুড় হয়ে শোয়া ব্যক্তি আফগান নন
তালেবানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ইরানে, কাবুলে নয়

শেয়ার করুন

তালেবানের হাতে ছোট্ট লুবনা প্রাণ হারায়?

তালেবানের হাতে ছোট্ট লুবনা প্রাণ হারায়?

২০১৯ সালে পাকিস্তানে সাপের কামড়ে লুবনার মৃত্যু হয়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

লুবনার মৃত্যু ঘিরে পাকিস্তানজুড়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মানুষ। জাস্টিস ফর লুবনা হ্যাশট্যাগ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের মুখে খাইবার পাখতুনখোয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চার চিকিৎসককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে পাকিস্তান সরকার।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল গত মাসে ঘিরে ফেলার একপর্যায়ে পুরো দেশের দখল নিয়ে নেয় তালেবান।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের কয়েক সপ্তাহ পর ৩৩ জনকে নিয়ে সংগঠনটি গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর বিভিন্ন সময়ে তালেবান নেতারা অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশেষ করে নারী প্রতিনিধিসহ মন্ত্রিসভা গঠনের কথা বললেও আদতে তা হয়নি।

ওই ৩৩ জনের মধ্যে নারী বা জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধিই নেই।

মন্ত্রিসভায় নারীর উপস্থিতি না দেখে কাবুলে বিক্ষোভও করেন আফগান নারীরা। পাশাপাশি নারী অধিকারের দাবিতে তারা রাস্তায়ও নামেন।

তালেবানের আগের শাসনামলে নারী অধিকার ব্যাপকভাবে খর্ব করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কর্মস্থলে যাওয়ার অনুমতি ওই শাসনামলে নারীদের ছিল না।

অধিকারের দাবিতে আফগান নারীদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমন করে তালেবান, ছোড়া হয় গুলি। এ ছাড়া বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের ‘অপরাধে’ নির্যাতনের শিকার হন সাংবাদিকরা।

কারাগারে বন্দি রেখে স্থানীয় দুই সাংবাদিককে নির্মমভাবে পেটানোর খবর প্রকাশ হয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে এক শিশুর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে।

এতে দাবি করা হয়, ঝলমলে পোশাক পরিহিত নিষ্প্রাণ পড়ে থাকা আফগান শিশুটিকে তালেবানের যোদ্ধারা হত্যা করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ছবিটি পোস্ট করে শিরোনামে লিখেছেন, ‘ছবিটি দেখে আমার হৃদয় ভেঙে গিয়েছে।

‘ছোট্ট এই পরীটি কী এমন কাজ করেছে, যার জন্য তাকে প্রাণ দিতে হলো? তালেবান ও তাদের সমর্থকদের ধিক্কার জানাই!’

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ) ছবিটির দাবি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে।

জানা যায়, ছবিটি ছয় বছর বয়সী লুবনার। ২০১৯ সালে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সাপের কামড়ে তার মৃত্য হয়।

পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, খাইবার পাখতুনখোয়ার মোহমান্দ জেলার ইয়াক্কাঘুন্দ তেহসিল শহরের মেয়ে লুবনা।

সাপের কামড়ে অচেতন লুবনাকে স্থানীয় শাবকাদার হাসপাতালে নেয়া হয়।

তবে হাসপাতালে সাপের বিষ প্রতিরোধী ইঞ্জেকশন না থাকায় চিকিৎসকরা লুবনাকে পেশোয়ারের হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।

পেশোয়ারে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় লুবনার।

হাসপাতালে ওষুধপত্রের অভাবে মেয়ের মৃত্যু হয়, এ অভিযোগ করেছিলেন লুবনার বাবা।

পেশোয়ারে যেতে হাসপাতাল থেকে যে অ্যাম্বুলেন্স দেয়া হয়েছিল, তাতে অক্সিজেন কিট ছিল না বলেও অভিযোগ লুবনার বাবার।

লুবনার মৃত্যু ঘিরে পাকিস্তানজুড়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মানুষ। জাস্টিস ফর লুবনা হ্যাশট্যাগ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলন শুরু হয়।

পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দোলনের মুখে খাইবার পাখতুনখোয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চার চিকিৎসককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে পাকিস্তান সরকার।

দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফের এসে তালেবান এরই মধ্যে দমনমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও লুবনার মৃত্যুর জন্য সংগঠনটি দায়ী নয়।

আরও পড়ুন:
ঘানির বাগরাম ঘাঁটিতে যাওয়ার ছবি, দেশত্যাগের নয়
শিশু কোলে ওই সেনা যুক্তরাজ্যের, যুক্তরাষ্ট্রের নয়
তালেবান নয়, ওই নারীকে হত্যা করে আল-কায়েদা
বিমানের ইঞ্জিনে উপুড় হয়ে শোয়া ব্যক্তি আফগান নন
তালেবানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ইরানে, কাবুলে নয়

শেয়ার করুন

দিল্লিতে বিমান ঠেলে সরানো হয়েছিল?

দিল্লিতে বিমান ঠেলে সরানো হয়েছিল?

ভাইরাল এই ছবি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নয়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

চীনা এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ সালে ইয়ানতাই বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় বেশ কয়েকটি ফ্লাইট দেরি করে ছাড়ে।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শনিবার ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়।

ভারী বর্ষণের কারণে রাজধানীর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অনেক অঞ্চলে বন্যার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

দিল্লিতে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরই মধ্যে বেশ ভাইরাল হয়েছে।

এতে দাবি করা হয়েছে, দিল্লি বিমানবন্দরে জলাবদ্ধতার কারণে একটি বিমান ঠেলছেন যাত্রীরা।

টুইটারে একজন ছবিটি পোস্ট করে শিরোনামে লিখেছেন, ‘ভারী বর্ষণের কবলে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বর্ষণে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আরেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘দিল্লিতে বৃষ্টি। বিমানবন্দরে যাত্রীদের উদ্দীপনা।’

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এডব্লিউএফএ) ভাইরাল ছবিটির দাবি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে।

এতে জানা যায়, ছবিটি দিল্লি বিমানবন্দরের নয়। ২০০৭ সালে ছবিটি চীনের শানডং প্রদেশের ইয়ানতাই বিমানবন্দর থেকে তোলা হয়েছিল। শানডং এয়ারলাইনসের একটি বিমান বিমানবন্দরটির কর্মীরা ঠেলছিলেন।

২০০৭ সালের ১৪ আগস্ট একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, শানডং প্রদেশের ইয়ানতাই বিমানবন্দরে ছবিটি তোলা হয়।

জলাবদ্ধ রানওয়ে থেকে শানডং বোম্বার্ডিয়ার সিআরজে-২০০ বিমানকর্মীরা ঠেলে সরাচ্ছেন।

চীনা এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ সালে ইয়ানতাই বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় বেশ কয়েকটি ফ্লাইট দেরি করে ছাড়ে।

বিমানবন্দরটির ২০ জনের বেশি কর্মী বিমানটি ঠেলে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।

শনিবার দিল্লিতে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার ছবি বা ভিডিও খুঁটিয়ে দেখে ইন্ডিয়া টুডের ফ্যাক্টচেক দল।

ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টারমিনাল জলাবদ্ধ হওয়ার একটি ভিডিওরও খোঁজ পায় দলটি।

বৃষ্টিপাতের কারণে বিমানবন্দরটির রানওয়ে যে জলাবদ্ধ হয়, তা ওই ভিডিওতে পরিষ্কার বোঝা যায়।

এটা ঠিক, শনিবার ভারী বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতা দেখেন দিল্লিবাসী।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ছবিটি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নয়।

১৪ বছর আগে চীনের ইয়ানতাই বিমানবন্দর থেকে ওই ছবি তোলা হয়।

আরও পড়ুন:
ঘানির বাগরাম ঘাঁটিতে যাওয়ার ছবি, দেশত্যাগের নয়
শিশু কোলে ওই সেনা যুক্তরাজ্যের, যুক্তরাষ্ট্রের নয়
তালেবান নয়, ওই নারীকে হত্যা করে আল-কায়েদা
বিমানের ইঞ্জিনে উপুড় হয়ে শোয়া ব্যক্তি আফগান নন
তালেবানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ইরানে, কাবুলে নয়

শেয়ার করুন

ইনি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর?

ইনি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর?

এই ব্যক্তি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিস নন। ছবি: সংগৃহীত

অনুসন্ধান শেষে রয়টার্সের ফ্যাক্ট চেক দল এ সিদ্ধান্তে আসে, অফিস ডেস্কে বন্দুক রেখে ল্যাপটপে কাজ করা ওই ব্যক্তি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিস নন।

অফিস ডেস্কে বন্দুক রেখে ল্যাপটপে কাজ করা এক ব্যক্তির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি বেশ ভাইরাল হয়েছে।

এতে দাবি করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিস।

ফেসবুকে একজন ছবিটি শেয়ার করে শিরোনামে লিখেছেন, ‘আফগান সেন্ট্রাল ব্যাংকের নতুন গভর্নর হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিসকে দেখুন।

‘আফগানিস্তানের মুদ্রা অভিনব পন্থায় সুরক্ষিত রাখবেন তিনি।’

টুইটারে আরেকজন ছবিটি শেয়ার করে বলেন, ‘ইনি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন প্রধান।

‘কী মনে হয়? গভর্নর পদে হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিস অল্প সময় নাকি দীর্ঘ সময়ের জন্য থাকবেন?’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ফ্যাক্ট চেক দল ভাইরাল ছবিটি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে।

এতে জানা যায়, ২৩ আগস্ট আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হিসেবে হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিসের নাম ঘোষণা করে তালেবান। তবে ভাইরাল ছবিটি ইদ্রিসের নয়।

১৫ আগস্ট তালেবানের হাতে কাবুল পতনের এক সপ্তাহ পর নতুন সরকারের কয়েক মন্ত্রীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের নামও ঘোষণা করে তালেবান।

তুরস্কের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম আফগানিস্তানের নতুন ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ইদ্রিসের ছবি সে সময় ছাপায়।

এ ছাড়া আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে নতুন গভর্নরের ছবি প্রকাশ করে।

টেবিলে বন্দুক রেখে ল্যাপটপে কাজ করা ওই ব্যক্তির সঙ্গে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশিত গভর্নর ইদ্রিসের ছবির কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

ইনি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর?

আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিস। ছবি: সংগৃহীত

ভারতভিত্তিক ফ্যাক্ট চেকার ব্লুম লাইভও ভুলভাবে উপস্থাপিত ইদ্রিসের ছবি নিয়ে প্রতিবেদন করে।

অফিস ডেস্কে বন্দুক রাখা ব্যক্তিটি আসলে কে, তা জানতে পারেনি রয়টার্সের ফ্যাক্ট চেক দল।

তবে ভাইরাল ছবির পেছনে ঝোলানো পতাকাটি আফগানিস্তানের রাজস্ব অধিদপ্তরের, এটি নিশ্চিত হয়েছে রয়টার্স।

১৭ আগস্টের দিকে ডেস্কে বন্দুক রেখে ল্যাপটপে কাজ করা ব্যক্তির ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া শুরু করে।

অনুসন্ধান শেষে রয়টার্সের ফ্যাক্ট চেক দল এ সিদ্ধান্তে আসে, অফিস ডেস্কে বন্দুক রেখে ল্যাপটপে কাজ করা ওই ব্যক্তি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিস নন।

আরও পড়ুন:
ঘানির বাগরাম ঘাঁটিতে যাওয়ার ছবি, দেশত্যাগের নয়
শিশু কোলে ওই সেনা যুক্তরাজ্যের, যুক্তরাষ্ট্রের নয়
তালেবান নয়, ওই নারীকে হত্যা করে আল-কায়েদা
বিমানের ইঞ্জিনে উপুড় হয়ে শোয়া ব্যক্তি আফগান নন
তালেবানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ইরানে, কাবুলে নয়

শেয়ার করুন

করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?

করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?

করাচিতে চলছে টিকাদান কর্মসূচি। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানি ওই পত্রিকায় দাবি করা হয়, করোনার টিকার কারণে এক হাজারের বেশি ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এটি নেয়ার পর ভারতের ৩০ হাজার মানুষ দুঃসহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। পরিসংখ্যানটি ভারতভিত্তিক পত্রিকা দ্য হিন্দুস্তান টাইমস থেকে নেয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে হিন্দুস্তান টাইমসের ওয়েবসাইটে এ ধরনের কোনো খবর বা নিবন্ধ পাওয়া যায়নি।

করোনাভাইরাসের চতুর্থ ধাক্কার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।

পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার বলছে, শুক্রবার পাকিস্তানে ৩ হাজার ৬৮৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। আর এতে মৃত্যু হয় ৮৩ জনের।

গত বছর করোনা দেশটিতে আঘাত হানার পর এখন পর্যন্ত ১১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮৭ জন এতে আক্রান্ত হয়। মৃত্যু হয় ২৬ হাজার ৫৮০ জনের।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচির ওপর জোর দিচ্ছে পাকিস্তান সরকার। জনগণকে টিকা নিতে উৎসাহিতও করা হচ্ছে।

তবে সম্প্রতি দেশটির উর্দুভাষী একটি স্থানীয় পত্রিকা তাদের এক নিবন্ধে করোনা টিকার ‘ক্ষতিকর প্রভাবের’ বেশ কয়েকটি দাবি করে।

নাম না জানা ওই পত্রিকায় ছাপানো নিবন্ধটির স্ক্রিনশট এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সব দাবির কোনোটিই সঠিক নয়।

নিবন্ধটিতে প্রথমে দাবি করা হয়, করোনা টিকা নেয়ার পর চার হাজার ব্রিটিশ নারীর পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গেছে। ওই নারীদের জৈবিক কার্যক্রম টিকা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

করোনা টিকার এই ‘ক্ষতিকর প্রভাব’ জুনে ডেইলি মেইলে প্রকাশ করা হয়েছিল।

করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নিবন্ধের স্ক্রিনশট। ছবি: এএফপি

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, করোনা টিকা নেয়ার পর প্রায় চার হাজার নারী পিরিয়ডে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা টিকার সঙ্গে পিরিয়ডে সমস্যার যোগসূত্র পাননি।

আগস্টে যুক্তরাজ্যের মেডিসিন্স অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘করোনা টিকা নেয়ার পর পিরিয়ডে সমস্যার কথা জানানো হয়।

‘এর পরই বেশ কয়েকবার টিকার মূল্যায়ন হয়। তবে করোনার উপসর্গ বা টিকার সঙ্গে পিরিয়ডে জটিলতার কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।’

এ ছাড়া পাকিস্তানি ওই পত্রিকায় দাবি করা হয়, করোনা টিকার কারণে এক হাজারের বেশি ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এটি নেয়ার পর ভারতের ৩০ হাজার মানুষ দুঃসহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়।

পরিসংখ্যানটি ভারতভিত্তিক পত্রিকা দ্য হিন্দুস্তান টাইমস থেকে নেয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

তবে হিন্দুস্তান টাইমসের ওয়েবসাইটে এ ধরনের কোনো খবর বা নিবন্ধ পাওয়া যায়নি।

হিন্দুস্তান টাইমসও এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি নাকচ করেছে।

পত্রিকাটির সম্পাদক সুকুমার রঙ্গনাথন বলেন, ‘এ ধরনের কোনো প্রতিবেদন আমরা ছাপাইনি।

‘কারণ টিকা নেয়ায় এক হাজারের বেশি ভারতীয়র মৃত্যুর ভীতিজনক পরিসংখ্যান কোনোভাবেই সঠিক নয়।’

পাকিস্তানি ওই পত্রিকার নিবন্ধে আরও দাবি করা হয়, করোনার টিকা নেয়ার পর তরুণদের হৃৎপিণ্ডে সমস্যা দেখা দেয়।

এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন উল্লেখ করে পত্রিকাটি।

করোনা টিকা নেয়ার পর তরুণদের হৃৎপিণ্ডের পেশি ও মেমব্রেনে ব্যথা হতে পারে বলে জানিয়েছিল সিডিসি।

তবে সিডিসি এও জানায়, এ ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই বিরল। করোনা টিকার সঙ্গে এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কার্যকারণ-সম্পর্কিত যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
ঘানির বাগরাম ঘাঁটিতে যাওয়ার ছবি, দেশত্যাগের নয়
শিশু কোলে ওই সেনা যুক্তরাজ্যের, যুক্তরাষ্ট্রের নয়
তালেবান নয়, ওই নারীকে হত্যা করে আল-কায়েদা
বিমানের ইঞ্জিনে উপুড় হয়ে শোয়া ব্যক্তি আফগান নন
তালেবানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ইরানে, কাবুলে নয়

শেয়ার করুন