কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান

কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান

কাবুলের রাস্তায় নারীরা। ছবি: এএফপি

তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদিন বলেন, ‘নারীদের সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করতে হবে সে বিষয়ে আমাদের নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা এখনও প্রশিক্ষিত নয়। কীভাবে নারীদের সঙ্গে কথা বলতে হয় সেটিও অনেকেই জানেন না। এমন অবস্থায় আমরা যতদিন পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না করতে পারি, সে সময় পর্যন্ত নারীদের ঘরে থাকার আহ্বান করছি।’

আফগানিস্তানে নতুন সরকার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর্মজীবী নারীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাদের আপাতত ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে তালেবান।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছে বলে উদ্ধৃত করেছে বিবিসি

তিনি বলেন, ‘এটি খুব সাময়িক একটা পদ্ধতি।’

আফগানিস্তানে দুই দশক আগে ক্ষমতায় থাকা কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠী তালেবান ১০ দিন আগে আবারও দেশটির পুরো ক্ষমতা দখল করে।

দুই দশক আগের শাসনামলে তালেবান দেশটিতে নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। সে সময় কোনো আফগান নারী পরিবারের পুরুষ সদস্য ছাড়া বাড়ির বাইরে যেতে পারতেন না। এমনকি শিক্ষার বিষয়েও তারা কিশোরীদের স্কুলে যাওয়া ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছিল।

এবার ক্ষমতা দখলের পর অবশ্য তালেবান ভিন্ন কথা বলেছে। তারা নারীদের অধিকার রক্ষার কথা জানিয়েছে। এমনকি দেশটিতে সরকার গঠনের সময় নারীদের যোগ দেয়ারও আহ্বান জানায়।

অবশ্য তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই আফগান নারীদের মধ্যে ভীতি কাজ করতে থাকে। তারা আগের মতো কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে পারবেন কি না সেটা নিয়েও নানা শঙ্কা ছিল। পশ্চিমা দেশগুলোও বলেছে, যদি নারী ও শিশুদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা না হয় তাহলে দেশটিতে তালেবানের সরকার গঠন করলে কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

জাতিসংঘ দেশটিতে তালেবানের নির্যাতনের ‘বিশ্বাসযোগ্য’ প্রতিবেদন তুলে ধরেছে বলে দাবি করেছে। প্রতিবেদনে বিশেষ করে নারীদের ওপর বিধিনিষেধের বিষয়টি উঠে এসেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট মঙ্গলবার বলেন, যে নারীর অধিকার দেশটিতে ‘মৌলিক রেড লাইনে’ রয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার তালেবানের মুখপাত্র জানান, কাবুল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য পশ্চিমা দেশের সেনাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যেন আফগানদের দেশ ছাড়তে উৎসাহিত না করেন।

এখনও পুরোপুরি সরকার গঠন করতে পারেনি তালেবান। তবে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি পদে নিজেদের লোকদের দায়িত্ব দিয়েছে তালেবান। মঙ্গলবার গোষ্ঠীটি নতুন করে একজন অর্থমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেছে।

তবে এখনও তালেবান শীর্ষ পদ অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেনি।

কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান
কাবুলের রাস্তায় নিরাপত্তার জন্য তালেবানের নিরাপত্তাকর্মীরা। ছবি: এএফপি

এমন পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে তালেবানের মুখপাত্র মুজাহিদিন জানান নারীদের জন্য এমন বিধিনিষেধ খুব সাময়িক।

বলেন, ‘ নারীদের সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করতে হবে সে বিষয়ে আমাদের নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা এখনও প্রশিক্ষিত নয়। কীভাবে নারীদের সঙ্গে কথা বলতে হয় সেটিও অনেকেই জানেন না।

‘এমন অবস্থায় আমরা যতদিন পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না করতে পারি, সে সময় পর্যন্ত নারীদের ঘরে থাকার আহ্বান করছি।’

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট বলেন, তারা আফগানিস্তানে নারীদের বিষয়ে খুব উদ্বিগ্ন। সেখানে তালেবান শিশুদের সেনা হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে বলেও তারা জেনেছেন। এসব কিছু তাদের আরও বেশি উদ্বিগ্ন করছে।

জেনেভায় জাতিসংঘরে মানবাধিকার কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেছেন।

পরে তিনি আফগানিস্তানের নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় ‘অটল অঙ্গীকার’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তবে এখনই আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের বিশেষ কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করার বিষয়ে একমত হতে পারেনি আরও কিছু কমিশন।

১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। ১০ দিন আগে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর কাবুল বিমানবন্দর থেকে কমপক্ষে ৭০ হাজার ৭০০ মানুষকে সরিয়ে নেয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে কাবুল বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। তাদের ৬ হাজার সেনাসহ পশ্চিমা অন্য দেশগুলোরও বিপুলসংখ্যক সেনা ওই উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে।

তালেবান যোদ্ধারা এরই মধ্যে উদ্ধারকাজের সময়সীমা না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে।

আরও পড়ুন:
উদ্ধার যত তাড়াতাড়ি, তত ভালো: বাইডেন
উদ্ধার অভিযান নিয়ে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, সময় বাড়াবে না তালেবান
পাঞ্জশির নিয়ে মাসুদ: হয় সমঝোতা, নয় যুদ্ধ
ইয়াসমিন হত্যা: প্রতিবাদীদের খবর শুধু দিবসেই
কাবুলে সেনা রাখতে বাইডেনকে চাপ দেবে জি-সেভেন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জার্মান পার্লামেন্টে এমপি হলেন দুই ট্রান্সজেন্ডার

জার্মান পার্লামেন্টে এমপি হলেন দুই ট্রান্সজেন্ডার

ট্রান্সজেন্ডার টেসা গ্যানসেরার (বামে) ও নাইক স্ল্যাউয়িক জার্মান পার্লামেন্টে গ্রিন পার্টিকে প্রতিনিধিত্ব করবেন। ছবি: এএফপি

৪৪ বছর বয়সি গ্যানসেরার বলেন, ‘গ্রিন পার্টির জন্য এটি ঐতিহাসিক জয়। একই সঙ্গে ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকারের দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং এ সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের জন্যও এ জয় স্মরণীয়।’

জার্মানির এবারের সাধারণ নির্বাচনে পরিবেশবাদী দল গ্রিন পার্টির দুজন ট্রান্সজেন্ডার রাজনীতিক জয় পেয়েছেন।

এই প্রথম পার্লামেন্টে ট্রান্সজেন্ডার সংসদ সদস্য দেখতে যাচ্ছে জার্মানি। ঐতিহাসিক এ ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই দেশটিতে সাড়া ফেলেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

রোববার অনুষ্ঠিত এবারের নির্বাচনে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) সঙ্গে মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এসপিডি) হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়।

সামান্য ব্যবধানে মেরকেলের দলকে হারিয়ে জয়ী হয়েছে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি।

নির্বাচনে মোট ভোটের ১৪.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্রিন পার্টি। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন পায় যথাক্রমে ২৬ শতাংশ ও ২৪.৫ শতাংশ ভোট।

২০১৭ সালের নির্বাচনে গ্রিন পার্টি ৮.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।

জার্মানির নতুন ত্রিমুখী জোট সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে গ্রিন পার্টি। আর এই গ্রিন পার্টির হয়েই লড়াই করেন টেসা গ্যানসেরার ও নাইক স্ল্যাউয়িক।

৪৪ বছর বয়সি গ্যানসেরার রয়টার্সকে বলেন, ‘গ্রিন পার্টির জন্য এটি ঐতিহাসিক জয়।

‘একই সঙ্গে ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকারের দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং এ সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের জন্যও এ জয় স্মরণীয়।’

দুই ছেলে সন্তানের মা গ্যানসেরার চান, লেসবিয়ান মায়েদের সন্তান দত্তক নেয়ার বিধান রেখে আইন পরিবর্তন করা হোক।

জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলীয় নর্থ রাইন-ওয়েস্টফ্যালিয়া রাজ্যের একটি আসন থেকে নির্বাচনে দাঁড়ান স্ল্যাউয়িক।

জয়ের খবর শুনে স্ল্যাউয়িক জানান, নির্বাচনের ফল অবিশ্বাস্য।

ইনস্টাগ্রামে স্ল্যাউয়িক বলেন, ‘আমার এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য হচ্ছে, নির্বাচনের এই ঐতিহাসিক ফলে জার্মানির পরবর্তী সংসদের সদস্য হতে যাচ্ছি আমি।

হোমোফোবিয়া ও ট্রান্সফোবিয়ার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কর্মপরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছেন স্ল্যাউয়িক। এ ছাড়া জার্মানির বৈষম্যবিরোধী আইনও উন্নত করতে চান তিনি।

১৯৬৯ সালে জার্মানিতে সমকামিতায় বৈধতা দেয়া হয়। আর ২০১৭ সালে সমলিঙ্গের বিয়ে অনুমোদন পায়।

আরও পড়ুন:
উদ্ধার যত তাড়াতাড়ি, তত ভালো: বাইডেন
উদ্ধার অভিযান নিয়ে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, সময় বাড়াবে না তালেবান
পাঞ্জশির নিয়ে মাসুদ: হয় সমঝোতা, নয় যুদ্ধ
ইয়াসমিন হত্যা: প্রতিবাদীদের খবর শুধু দিবসেই
কাবুলে সেনা রাখতে বাইডেনকে চাপ দেবে জি-সেভেন

শেয়ার করুন

দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক

দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বেহেশতা আরগান্দ। ছবি: বিবিসি

আফগান সাংবাদিক বেহেশতা আরগান্দ বলেন, ‘তালেবানের প্রতি আমার বার্তা হচ্ছে, আপনারা পুরো আফগানিস্তান দখল করেছেন। তবে একদিন আপনারা জানবেন, একটি শক্তিশালী প্রজন্ম আপনারা হারিয়েছেন।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যায়।

এর দুই দিন পর তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা আব্দুল হক হাম্মাদের সাক্ষাৎকার নেন আফগান সংবাদমাধ্যম টোলোনিউজের সাংবাদিক বেহেশতা আরগান্দ।

তালেবানের আগের শাসনামলে এ ধরনের ঘটনা ছিল অকল্পনীয়। নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করার অনুমতি সেই সময় ছিল না।

সে জায়গায় আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর এক নারী সাংবাদিককে তালেবান নেতার সাক্ষাৎকার দেয়ার ঘটনা হতবাক করে বিশ্বকে।

তালেবান নেতার সাক্ষাৎকারের বিষয়ে আরগান্দ বলেছিলেন, ‘এটি নেয়া দুরূহ ছিল। আফগান নারীদের স্বার্থে আমি ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি করেছিলাম।

‘সে সময় নিজেকে বোঝাই, কাউকে না কাউকে শুরু করতে হবে। তালেবানের ভয়ে আমরা যদি ঘরেই থাকি, কাজে না যাই, তখন তারা (তালেবান) বলবে, নারীরা কাজ করতে চায় না।’

তিনি বলেন, “তালেবানের ওই নেতাকে আমি বলেছিলাম, ‘আমরা আমাদের অধিকার চাই। চাকরি করতে চাই। সমাজে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চাই'।”

ওই সাক্ষাৎকার দেখে শুধু আফগানরাই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করা মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয় এই ভেবে যে এবার হয়তো নারী ইস্যুতে অবস্থান নমনীয় করবে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি। শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবেন না আফগান নারীরা। নির্দ্বিধায় ঘরের বাইরে কাজ করতে পারবেন তারা।

১৭ আগস্টের ওই সাক্ষাৎকারের দুই দিন পর আরেকটি যুগান্তকারী কাজ করেন ২৪ বছর বয়সী আরগান্দ। তালেবানের প্রাণনাশের চেষ্টার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া মালালা ইউসুফজাইয়ের সাক্ষাৎকার নেন তিনি।

আফগানিস্তানের কোনো টেলিভিশনকে ওই প্রথম সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা।

আফগানিস্তানের প্রেক্ষাপটে ঐতিহাসিক দুটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের পর হঠাৎ জানা গেল পরিবারসহ দেশ ছাড়ছেন আরগান্দ।

কারণ জানতে চাইলে সে সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘দেশ ছাড়ছি, কারণ লাখ লাখ আফগানের মতো আমিও তালেবানকে ভয় পাচ্ছি।’

শুরুতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশ ছেড়ে কাতারে অবস্থান করছেন আরগান্দ।

তবে সোমবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতার নয়, আলবেনিয়ায় গেছেন আরগান্দ।

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আরগান্দ জানান, সব কিছুই হারিয়েছেন তিনি। তালেবান একটি পুরো প্রজন্মকে নির্বাসিত করেছে।

দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক

তিনি বলেন, ‘তালেবান নেতার সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় ভয়ে আমার হাত কাঁপছিল। কারণ ওই প্রথম তালেবানের কোনো নেতাকে সামনাসামনি দেখি আমি।’

আরগান্দ বলেন, ‘সাক্ষাৎকারটির কথা ভাবলে এখনও আমি ভয় পাই।'

আলবেনিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী এক শহরে এ মুহূর্তে প্রায় ৭০০ আফগান অবস্থান করছেন।

আফগানিস্তানের সাহসী এই নারী সাংবাদিক বলেন, ‘আমি এর আগে কখনো সমুদ্র দেখিনি। আলবেনিয়া খুব সুন্দর একটি দেশ।

‘আলবেনিয়ার সুন্দর এক জায়গায় আফগানরা বসবাস করছেন।

‘তবে আলবেনিয়া কেন, বিশ্বের সব জায়গা স্বর্গে পরিণত হলেও তা আমাকে আনন্দ দেবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমার আত্মা, হৃদয় পড়ে রয়েছে আফগানিস্তানে। বিশ্বের অন্য কোনো জায়গায় নয়।’

আলবেনিয়া ইউরোপের অন্যতম দরিদ্র দেশ। চার হাজারের বেশি আফগান নিতে পারবে না বলে জানিয়েছে আলবেনিয়া সরকার।

আলবেনিয়ায় থাকা আফগানদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। তাদের ভিসা প্রক্রিয়া শেষ হতে এক বছরের বেশি সময় লাগতে পারে।

আরগান্দ বলেন, ‘তালেবানের প্রতি আমার বার্তা হচ্ছে, আপনারা পুরো আফগানিস্তান দখল করেছেন।

‘তবে একদিন আপনারা জানবেন, একটি শক্তিশালী প্রজন্ম আপনারা হারিয়েছেন।'

তিনি বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি, আমাকে দেশ ছাড়তে হবে। আমি সব হারিয়েছি। ছোটবেলা থেকে আমি আমার স্বপ্ন পূরণে সংগ্রাম করেছি। আমার সব অর্জনই এখন শূন্য।

‘আমি প্রকৃত অর্থেই আমার কাজকে ভালোবাসি। সাংবাদিকতাকে ভীষণ মিস করছি।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরগান্দ বলেন, ‘আমি কেবল আশা করতে পারি, একদিন আমি আমার দেশে ফিরতে পারব।’

আরও পড়ুন:
উদ্ধার যত তাড়াতাড়ি, তত ভালো: বাইডেন
উদ্ধার অভিযান নিয়ে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, সময় বাড়াবে না তালেবান
পাঞ্জশির নিয়ে মাসুদ: হয় সমঝোতা, নয় যুদ্ধ
ইয়াসমিন হত্যা: প্রতিবাদীদের খবর শুধু দিবসেই
কাবুলে সেনা রাখতে বাইডেনকে চাপ দেবে জি-সেভেন

শেয়ার করুন

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিনের প্রয়াণ

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিনের প্রয়াণ

ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী ও লেখক কমলা ভাসিন আর নেই। ছবি: সংগৃহীত

কমলা ভাসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটবার্তায় বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করতে ভালোবাসতেন কমলা। কমলা, আপনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। নারীসমাজ কমলার অন্তিম যাত্রায় গভীরভাবে শোকাহত।’

ভারতের প্রখ্যাত নারী অধিকারকর্মী ও লেখক কমলা ভাসিন আর নেই।

শুক্রবার দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কমলা ভাসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ভারতীয় আরেক নারী অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটবার্তায় বলেন, ‘শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আমাদের প্রাণপ্রিয় বন্ধু কমলা ভাসিন চলে গেছেন। কমলার প্রয়াণ ভারতসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনে বড় ধরনের আঘাত।’

তিনি বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করতে ভালোবাসতেন কমলা। কমলা, আপনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। নারীসমাজ কমলার অন্তিম যাত্রায় গভীরভাবে শোকাহত।’

৭০-এর দশকে ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনে আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন কমলা।

গ্রামীণ ও আদিবাসী সুবিধাবঞ্চিত নারীদের নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে ২০০২ সালে ‘সঙ্গত’ নামে নারীবাদী নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

মঞ্চনাটক, গান ও অন্যান্য শিল্পকলার মাধ্যমে নারীদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে সঙ্গত।

নারীবাদ ও জেন্ডার তত্ত্ব নিয়ে বেশ কয়েকটি বই লেখেন কমলা, যেগুলো ৩০টির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

কয়েক দশক ধরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ‘আজাদি’ স্লোগান দেয়া হয়ে আসছে।

পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে কমলাই প্রথম ওই স্লোগানকে হাজির করেন, যা পরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

আরও পড়ুন:
উদ্ধার যত তাড়াতাড়ি, তত ভালো: বাইডেন
উদ্ধার অভিযান নিয়ে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, সময় বাড়াবে না তালেবান
পাঞ্জশির নিয়ে মাসুদ: হয় সমঝোতা, নয় যুদ্ধ
ইয়াসমিন হত্যা: প্রতিবাদীদের খবর শুধু দিবসেই
কাবুলে সেনা রাখতে বাইডেনকে চাপ দেবে জি-সেভেন

শেয়ার করুন

আদিবাসী শিশু হত্যায় ক্ষমা চাইলেন ক্যাথলিক বিশপরা

আদিবাসী শিশু হত্যায় ক্ষমা চাইলেন ক্যাথলিক বিশপরা

চলতি বছরের মে মাসে কানাডার পরিত্যক্ত এই স্কুল থেকে ২১৫টি আদিবাসী শিশুর দেহাবশেষ পাওয়া যায়। ছবি: ক্যামলুপস দিজ উইক

শুক্রবার কানাডিয়ান কনফারেন্স অফ ক্যাথলিক বিশপস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আদিবাসী শিশুদের ওপর আমাদের সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্য ভয়াবহ শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। আমরা ওই সব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করছি।’

কানাডায় ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত আবাসিক স্কুলে শতবর্ষ ধরে আদিবাসী শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির বিশপ সম্প্রদায়।

অবশ্য ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এখনও ওই সব ঘটনায় কোনো ক্ষমা চাননি।

আল জাজিরার শনিবারের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার কানাডিয়ান কনফারেন্স অফ ক্যাথলিক বিশপস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আদিবাসী শিশুদের ওপর আমাদের সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্য ভয়াবহ শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও যৌন নির্যাতন চালিয়েছে।

‘আমরা ওই সব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করছি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গির্জা পরিচালিত বিভিন্ন আবাসিক স্কুল কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ওই সব নির্যাতনের ঘটনায় আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে।

‘তাদের পাশাপাশি আমরা, কানাডার ক্যাথলিক বিশপ সম্প্রদায় দ্ব্যর্থহীনভাবে আদিবাসী শিশুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় অনুতাপ ও দুঃখ প্রকাশ করছি।’

কানাডা সরকারের নীতি অনুযায়ী ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে লাখখানেক আদিবাসী শিশুকে জোর করে পরিবার থেকে আলাদা করে ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত আবাসিক স্কুলে ভর্তি করানো হতো।

১৮৩১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকা ওই নীতির কারণে প্রায় দেড় লাখ আদিবাসী শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।

মূলধারার সংস্কৃতি আত্মস্থ করাতে ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত ওই সব স্কুলে শিশুদের মাথার চুল কেটে দেয়া হতো।

স্কুলে নিজেদের ভাষায় কথা বলা নিষেধ ছিল ওই শিশুদের। নিজেদের সংস্কৃতিচর্চারও অনুমতি ছিল না তাদের।

ওই ঘটনাকে পরে ‘সাংস্কৃতিক গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

চলতি বছরের মে মাসে রাডার জরিপের সময় কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া অঙ্গরাজ্যে পরিত্যক্ত এক আবাসিক স্কুল থেকে ২১৫টি আদিবাসী শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

ওই শিশুরা ক্যামলুপস ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। ১৯৭৮ সালে স্কুলটি বন্ধ করা হয়।

সে সময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছিলেন, ‘ভয়াবহ এ আবিষ্কার আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। এটি আমাদের দেশের ইতিহাসের কালো ও লজ্জাজনক অধ্যায় স্মরণ করিয়ে দেয়।’

এ ছাড়া ওই ঘটনায় মনোবেদনা প্রকাশ করেন পোপ ফ্রান্সিস। তবে তিনি কোনো ক্ষমা চাননি।

এরপর গত কয়েক মাসে দেশটির বিভিন্ন আবাসিক স্কুল প্রাঙ্গণে আরও হাজারখানেকের মতো আদিবাসী শিশুর দেহাবশেষ মেলে।

ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত আবাসিক স্কুলগুলো নিয়ে কয়েক বছর আগে তদন্ত করে কানাডিয়ান ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন (টিআরসি)।

২০১৫ সালে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিশুরা ওই সব স্কুলে অপুষ্টিতে ভুগত। নিয়মিত তাদের পেটানো ও গালাগাল দেয়া হতো।

আরও পড়ুন:
উদ্ধার যত তাড়াতাড়ি, তত ভালো: বাইডেন
উদ্ধার অভিযান নিয়ে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, সময় বাড়াবে না তালেবান
পাঞ্জশির নিয়ে মাসুদ: হয় সমঝোতা, নয় যুদ্ধ
ইয়াসমিন হত্যা: প্রতিবাদীদের খবর শুধু দিবসেই
কাবুলে সেনা রাখতে বাইডেনকে চাপ দেবে জি-সেভেন

শেয়ার করুন

মেক্সিকোর তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চলে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ

মেক্সিকোর তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চলে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ

সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ হয়েছে মেক্সিকোর তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চলে। ছবি: এএফপি

মেক্সিকোর সোনোরা অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস বৃহস্পতিবার সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে ২৬টি ও বিপক্ষে সাতটি ভোট দেয়।

সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ করেছে মেক্সিকোর সোনোরা অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস।

অঙ্গরাজ্যটির আইনসভা কংগ্রেসে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে বেশি ভোট পড়ে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনোরা অঙ্গরাজ্যে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ করার মধ্য দিয়ে মেক্সিকোর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চল এই আইনের আওতায় এলো।

মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত সোনোরা। সীমান্তে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা ও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্য।

বৃহস্পতিবার সোনোরার আইনপ্রণেতারা সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে ২৬টি ও বিপক্ষে সাতটি ভোট দেন।

মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত দেশটির অন্যতম রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত কোয়েরেতারোও বুধবার নিজেদের আইন পরিবর্তন করে সমলিঙ্গের বিয়ের অনুমোদন দেয়।

মেক্সিকোভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির ৩২টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সমলিঙ্গের অনুমোদন দেয়া কোয়েরেতারো ২৩তম অঙ্গরাজ্য।

২০০৯ সালে মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি প্রথম সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা দেয়।

এর পরই বিয়ের সমতা ও এলজিবিটি সম্প্রদায়ের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হয় মেক্সিকোর বাকি অঞ্চল।

মেক্সিকোর বামপন্থি প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদোরের রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল রিজেনারেশন মুভমেন্টের (মরিনা) অনেক কর্মী সমলিঙ্গের বিয়েসহ অন্যান্য অধিকারের কড়া সমর্থক।

রাজধানী মেক্সিকো সিটির পাশাপাশি আগুয়াসকালিয়েনতিস, বাহা ক্যালিফোর্নিয়া, বাহা ক্যালিফোর্নিয়া সুর, কামপেচি, চিয়াপাস, চিহুয়াহুয়া, কোয়াহুইলা, কলিমা, হিদ্যালগোসহ অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও সমলিঙ্গের বিয়ে গত কয়েক বছরে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:
উদ্ধার যত তাড়াতাড়ি, তত ভালো: বাইডেন
উদ্ধার অভিযান নিয়ে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, সময় বাড়াবে না তালেবান
পাঞ্জশির নিয়ে মাসুদ: হয় সমঝোতা, নয় যুদ্ধ
ইয়াসমিন হত্যা: প্রতিবাদীদের খবর শুধু দিবসেই
কাবুলে সেনা রাখতে বাইডেনকে চাপ দেবে জি-সেভেন

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে আর্ট ক্যাম্প। ছবি: সংগৃহীত

আর্ট ক্যাম্পের চিত্রকর্মগুলো নিয়ে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ১ নম্বর গ্যালারিতে শুরু হবে মাসব্যাপী প্রদর্শনী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ৭৫ নারী শিল্পীর অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্প।

একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় বুধবার উদ্বোধন হয় ‘শেখ হাসিনা: বিশ্বজয়ী নন্দিত নেতা’ শীর্ষক এ ক্যাম্পের।

শিল্পকলা একাডেমির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় দুই দিনের এই আর্ট ক্যাম্পে শিল্পী ফরিদা জামান, নাইমা হক, রোকেয়া সুলতানা, কুহু প্লামনডন, কনক চাঁপা চাকমা, আইভি জামান, ফারজানা আহমেদ শান্তা, সীমা ইসলাম, জয়া শাহরীন হক ও সৈয়দা মাহবুবা করিমসহ ৭৫ জন নারী শিল্পী অংশ নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প
‘শেখ হাসিনা: বিশ্বজয়ী নন্দিত নেতা’ শীর্ষক আর্টক্যাম্পে অংশ নেয়া চিত্রশিল্পীরা। ছবি: সংগৃহীত

২৩ সেপ্টেম্বর শেষ হবে এ আর্ট ক্যাম্প। এরপর ক্যাম্পের চিত্রকর্মগুলো নিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ১ নম্বর গ্যালারিতে শুরু হবে মাসব্যাপী প্রদর্শনী।

আরও পড়ুন:
উদ্ধার যত তাড়াতাড়ি, তত ভালো: বাইডেন
উদ্ধার অভিযান নিয়ে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, সময় বাড়াবে না তালেবান
পাঞ্জশির নিয়ে মাসুদ: হয় সমঝোতা, নয় যুদ্ধ
ইয়াসমিন হত্যা: প্রতিবাদীদের খবর শুধু দিবসেই
কাবুলে সেনা রাখতে বাইডেনকে চাপ দেবে জি-সেভেন

শেয়ার করুন

কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি

গত জানুয়ারিতে প্রথমবার মেয়েটিকে ধর্ষণ করে মূল অভিযুক্ত এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে। এরপর ভিডিওটি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে সে এবং বাকিরা মিলে বারবার মেয়েটিকে বিভিন্ন এলাকায় ডাকত এবং ধর্ষণ করত। শেষ পর্যন্ত বুধবার রাতে দোম্বিভালির মানপাড়া থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ জানায় মেয়েটি; নাম উল্লেখ করে ২৯ জনের।

নয় মাস ধরে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে গণর্ধষণের পর প্রকাশ্যে এসেছে বর্বর এ ঘটনা। জানা গেছে, ২৯ জন পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে তাকে। অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

গা শিউড়ে ওঠার মতো এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের থানে জেলায়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বারবার ধর্ষণের শিকার হয়েছে মেয়েটি।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, থানের দোম্বিভালি এলাকায় এ ঘটনায় অপ্রাপ্তবয়স্ক দুইজনসহ ২৬ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনজন পলাতক।

পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দাত্তা কারালে জানান, মূল অভিযুক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেটি ধর্ষণের শিকার মেয়েটির বন্ধু ছিল। গত জানুয়ারিতে প্রথমবার সে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে।

এরপর ভিডিওটি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মূল অভিযুক্ত এবং বাকিরা মিলে বারবার মেয়েটিকে বিভিন্ন এলাকায় ডাকত এবং ধর্ষণ করত।

শেষ পর্যন্ত বুধবার রাতে দোম্বিভালির মানপাড়া থানায় হাজির হয়ে নিজে অভিযোগ জানায় মেয়েটি। এরপরই প্রকাশ্যে আসে ঘটনাটি। ধর্ষণের ঘটনায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করেছে সে।

ধর্ষণের শিকার মেয়েটি বর্তমানে একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় গণধর্ষণ ও যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে শিশুসুরক্ষা আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, যেসব স্থানে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। ভিডিওসহ অন্যান্য প্রমাণও সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

অভিযুক্তদের প্রায় সবাই একই এলাকার বাসিন্দা এবং ধর্ষণের শিকার মেয়েটি ও মূল অভিযুক্তের পরিচিত।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা দেবেন্দ্র ফড়নাভিস।

এনসিপির আইনপ্রণেতা বিদ্যা চাভান জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের কয়েকজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যেন ধর্ষণের বিচারে বাধা না হয়, তা নিশ্চিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
উদ্ধার যত তাড়াতাড়ি, তত ভালো: বাইডেন
উদ্ধার অভিযান নিয়ে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, সময় বাড়াবে না তালেবান
পাঞ্জশির নিয়ে মাসুদ: হয় সমঝোতা, নয় যুদ্ধ
ইয়াসমিন হত্যা: প্রতিবাদীদের খবর শুধু দিবসেই
কাবুলে সেনা রাখতে বাইডেনকে চাপ দেবে জি-সেভেন

শেয়ার করুন