× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Registration is not available if GPS is mandatory in public transport
google_news print-icon

গণপরিবহনে বাধ্যতামূলক হচ্ছে জিপিএস, না হলে মিলবে না রেজিস্ট্রেশন

গণপরিবহনে-বাধ্যতামূলক-হচ্ছে-জিপিএস-না-হলে-মিলবে-না-রেজিস্ট্রেশন
ফাইল ছবি

আগামী ১ আগস্ট থেকে দেশের সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এদিন থেকে নতুন রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ নবায়নের সময় জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং মোবাইল অ্যাপে এর কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১১ জুন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনের আলোকে আগামী ১ আগস্ট থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, নতুন রেজিস্ট্রেশন বা ফিটনেস সনদ নবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট যানবাহনে জিপিএস ডিভাইস সংযোজনের প্রমাণপত্র বিআরটিএ কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডিভাইসটির কার্যকারিতাও প্রদর্শন করতে হবে।

সংস্থাটি আরও জানায়, জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি স্পেসিফিকেশন বিআরটিএর স্থানীয় কার্যালয় অথবা সংস্থাটির ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী গণপরিবহনে জিপিএস সংযুক্ত ও সচল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পরিবহন মালিক ও প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে বিআরটিএ।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
2 people died when a wall collapsed while buying TCB products in Mirpur

মিরপুরে টিসিবির পণ্য কেনার সময় দেয়াল ধসে ২ জনের মৃত্যু

মিরপুরে টিসিবির পণ্য কেনার সময় দেয়াল ধসে ২ জনের মৃত্যু ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে টিসিবির পণ্য কিনতে এসে দেয়াল ধসে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা দেড়টার দিকে মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সীমানাপ্রাচীর ধসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুজনের মধ্যে একজনের নাম নাছিমা বেগম। তিনি মিরপুর–২ নম্বর জনতা হাউজিং এলাকায় থাকতেন। নিহত আরেকজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মিরপুর মডেল থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকেই মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সীমানাপ্রাচীরের পাশে লাইন ধরে টিসিবির পণ্য কিনছিলেন লোকজন। বেলা দেড়টার দিকে হঠাৎ কলেজের দেয়াল ধসে পড়ে। এতে টিসিবির লাইনে থাকা বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। কারও মুখ, কারও পা থেঁতলে যায়। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর সংবাদে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এক পাশের পুরোনো সীমানাপ্রাচীর হঠাৎ ধসে পড়েছে। টিসিবির পণ্য কিনতে আসা দুজন নিহত হয়েছেন। অন্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
4 organizations under investigation for export earnings of 660 million dollars

রপ্তানি আয়ের ৬৬ কোটি ডলার নিয়ে তদন্তে ৪ সংস্থা

রপ্তানি আয়ের ৬৬ কোটি ডলার নিয়ে তদন্তে ৪ সংস্থা ফাইল ছবি

রপ্তানি আয়ের প্রায় ৬৬ কোটি ডলার (প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা) দেশে এলেও সেটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ফরেন কারেন্সি (এফসি) অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, একই রপ্তানি লেনদেনের বিপরীতে গ্রাহকের সম্মতি ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে ফোর্সড লোন, যা পরে টার্ম লোনে রূপান্তর করা হয়েছে।

কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডকে ঘিরে এ অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

আগামীর সময় এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রায় দুই দশকের রপ্তানি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কেয়া গ্রুপের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে ৬৬ কোটি ডলার দেশে এলেও তা এফসি অ্যাকাউন্টে জমা দেয়নি সংশ্লিষ্ট চার ব্যাংক। এর মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংকের হিসাবে রয়েছে ৩৯ কোটি ৪৬ লাখ ডলার, পূবালী ব্যাংকের ২০ কোটি ১৯ লাখ ডলার, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৫ কোটি ৮৫ লাখ ডলার এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ৬৫ লাখ ডলার।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ড্যাশবোর্ডে এসব অর্থ রপ্তানি আয় হিসেবে রিয়ালাইজড দেখানো হলেও চার ব্যাংকই কেয়া কসমেটিকসকে প্রসিড রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) দিয়েছে।

এরপর একই লেনদেনের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানের নামে ফোর্সড লোন সৃষ্টি করে তা ধাপে ধাপে দীর্ঘমেয়াদি টার্ম লোনে রূপান্তর করা হয়। কেয়া গ্রুপের দাবি, এ প্রক্রিয়ায় তাদের প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপি দেখানো হয়েছে, যার ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে গত বছর সংশ্লিষ্ট চার ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাউথইস্ট ব্যাংক অভিযোগ অস্বীকার করে বিএসইসির বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনের অপেক্ষার কথা জানায়। পূবালী ব্যাংক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ন্যাশনাল ব্যাংক ‘নো কমেন্টস’ বলেছে। আর স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক অভিযোগকে ‘মিস ইনফরমেশন’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পাঠান অভিযোগ করেন, একই রপ্তানি আয়ের বিপরীতে ব্যাংক দ্বৈতভাবে অর্থ সমন্বয় করেছে। তার দাবি, একবার ফরেন ডকুমেন্টস বিলস পারচেজ (এফডিবিপি) বাবদ নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সমন্বয়ের পর আবার একই অর্থ এফসি অ্যাকাউন্ট থেকে ডেবিট করা হয়েছে। এতে বৈধভাবে দেশে আসা ডলার থেকেও প্রতিষ্ঠানটি বঞ্চিত হয়েছে এবং অযৌক্তিকভাবে ফোর্সড লোনের দায় চাপানো হয়েছে। একই ধরনের অনিয়ম চারটি ব্যাংকেই হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, এফআরসি ডাবল ডেবিটিংয়ের তদন্তের নির্দেশ দিলেও সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা কার্যক্রমে তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনবিষয়ক নির্দেশিকা অনুসরণ করা হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধানে তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, রপ্তানি আয়ের পুরো অর্থ দেশে এসেছে কি না। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের ড্যাশবোর্ডে অর্থ রিয়ালাইজড দেখানোর পরও কেন একই লেনদেনের বিপরীতে ফোর্সড লোন বহাল রয়েছে। তৃতীয়ত, পুরো প্রক্রিয়ায় মানি লন্ডারিং, ব্যাংক জালিয়াতি বা অন্য কোনো আর্থিক অনিয়ম ঘটেছে কি না।

এ লক্ষ্যে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর কেয়া কসমেটিকসের চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়। পরে চলতি বছরের ২৪ জুন সাউথইস্ট ব্যাংকের কাছে প্রয়োজনীয় নথি চেয়ে চিঠি দেয় দুদক। ৫ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন বিভাগ থেকেও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কেয়া কসমেটিকসের রপ্তানি আয়ের ডলার দেশে না এলে সেটি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার গুরুতর লঙ্ঘন। এ ঘটনায় যে পক্ষ দায়ী হোক, প্রচলিত ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পুরো বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ করতে সময় চেয়ে দুদক ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

এফআরসি রপ্তানি আয়, ফোর্সড লোন, এফডিবিপি, নিরীক্ষা প্রতিবেদন, কম্পানির আর্থিক হিসাব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি তথ্য—এই ছয়টি বিষয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজতে অনুসন্ধান চালায়।

নথি বিশ্লেষণে সংস্থাটি দেখতে পায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি মনিটরিং সিস্টেম, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঋণ হিসাব এবং কম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। একই লেনদেনের ক্ষেত্রে তিন ধরনের হিসাব পাওয়া যাওয়ায় রপ্তানি আয়, এফসি অ্যাকাউন্টে জমা অর্থ, ঋণ সমন্বয় এবং ফোর্সড লোন সৃষ্টির ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এফআরসি সিদ্ধান্ত দিয়েছে, চার ব্যাংকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। সেই তথ্য বিশ্লেষণের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে বিএসইসির বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এফআরসির চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির কাছে বিষয়টি পাঠানো হয়েছে।

এফআরসির সিদ্ধান্তের আলোকে বিএসইসির নিয়োগ দেওয়া অডিট ফার্ম পিকেএফ আজিজ হালিম কবির চৌধুরী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস বিশেষ নিরীক্ষা চালাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি গোলাম ফজলুল কবির বলেন, তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিষয়টি এখন পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন নয়; বরং রপ্তানি আয় ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং হিসাবরক্ষণ এবং আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের ওপরই বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sanco of Turkey wants to invest 300 million dollars
মিরসরাই শিল্পাঞ্চল

৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায় তুরস্কের সানকো

৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায় তুরস্কের সানকো ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাট খাতে বড় বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান সানকো। প্রতিষ্ঠানটি মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে একটি সমন্বিত টেক্সটাইল উৎপাদন সুবিধা গড়ে তুলতে চায়।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সানকোর প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। বৈঠকে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সানকোর প্রতিনিধিরা জানান, বাংলাদেশে তাদের বিদ্যমান ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদার ভিত্তিতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে তারা আগ্রহী। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তুরস্ক থেকে টেক্সটাইল পণ্য সরবরাহ করলেও বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বাজার, দক্ষ শ্রমশক্তি ও রপ্তানি সক্ষমতার কারণে দেশে উৎপাদন ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় কাপড় উৎপাদন, ফ্যাব্রিক প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উচ্চমূল্যের টেক্সটাইল পণ্য তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে প্রতিনিধিদল জানায়।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশে তাদের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ক্রেতা রয়েছেন। স্থানীয় উৎপাদন সুবিধা চালু হলে নতুন আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরও বাংলাদেশে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দেশের বিদ্যমান টেক্সটাইল কারখানাগুলো প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে উপকৃত হবে।

তারা আরও জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন ও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে। নির্মাণকাজ শুরুর পর আনুমানিক ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

বৈঠকে সানকোর পক্ষ থেকে জ্বালানি সুবিধা, গ্যাস সংযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন দ্রুত নিশ্চিত করতে সহযোগিতা চাওয়া হয়। তারা জানায়, আধুনিক টেক্সটাইল উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কয়লাবিহীন ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থাপনাকেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে।

সানকোর প্রতিনিধিরা বলেন, একটি আধুনিক টেক্সটাইল উৎপাদনকেন্দ্র শুধু বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানই সৃষ্টি করবে না, বরং বাংলাদেশের বস্ত্র খাতকে সাধারণ উৎপাদন থেকে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

তারা আরও বলেন, গ্রামীণ ও শিল্পাঞ্চলে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদনের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। একটি সফল প্রকল্প অন্য উদ্যোক্তাদেরও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।

বৈঠকে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে সানকোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সরকার দেশের শিল্প খাতে বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে এবং বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

সানকোর এ বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পাট খাতে নতুন প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর নতুন অধ্যায় শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BGB repelled 25 pushin attempts at the border in two months

দুই মাসে সীমান্তে ২৫টি পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি

দুই মাসে সীমান্তে ২৫টি পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি ছবি: সংগৃহীত

গত দুই মাসে সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে ২৫টি পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে মাদক চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অপরাধ দমনে বাহিনীটি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সরাইল রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়িতে বিজিবি ১০ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে আয়োজিত মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত দুই মাসে সরাইল রিজিয়নের অধীন সীমান্ত এলাকায় ২৫টি পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।

সবশেষ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সালদা নদী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করা চারজনকে প্রতিরোধ করে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কুমিল্লা ১০ বিজিবি এবং সুলতানপুর ৬০ বিজিবি গত তিন থেকে চার বছরে সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ৫২ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে।

সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মাদক পাচার, চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও কার্যকর করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার সম্প্রসারণের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি এবং সীমান্ত টহল আরও জোরদার করা হবে।

সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিজিবি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ দমনে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন রিজিয়ন কমান্ডার।

মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রমে কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রাকিবুল হাসান, জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ, র‍্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলমসহ বিজিবি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
One in four youth unemployed 40 per cent out of education Finance adviser

প্রতি চার যুবকের একজন বেকার, ৪০ শতাংশ শিক্ষা-প্রশিক্ষণের বাইরে: অর্থ উপদেষ্টা

প্রতি চার যুবকের একজন বেকার, ৪০ শতাংশ শিক্ষা-প্রশিক্ষণের বাইরে: অর্থ উপদেষ্টা ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগাতে না পারলে তা ভবিষ্যতে বড় বোঝায় পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, বর্তমানে দেশের প্রতি চারজন যুবকের একজন বেকার। পাশাপাশি ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীদের ৪০ শতাংশই শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে। নারীদের ক্ষেত্রে এ হার প্রায় ৬০ শতাংশ, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিনিয়োগ ভবনের মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আয়োজনে উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. তৌহিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি বিপুল যুব জনসংখ্যা। কিন্তু কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ঘাটতির কারণে এ সম্ভাবনাময় জনমিতিক লভ্যাংশ ক্রমেই জনমিতিক বোঝায় পরিণত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার, কারিকুলাম আধুনিকায়ন এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে টিভেট প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ, বহুভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং অন্তত ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এ লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, নারীদের আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নতুন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরো বলেন, দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান ও শ্রমবাজার সৃষ্টিকে সমন্বয় করেই দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করা এবং বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নূর বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও দক্ষতা উন্নয়নে আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের ১১০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অবকাঠামো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যবহার করতে পারে। পাশাপাশি কাতার, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত বছর বিএমইটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৬৭ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sarjis Patwari injured in attack on NCP in Habiganj

হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় আহত সারজিস-পাটওয়ারী

হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় আহত সারজিস-পাটওয়ারী ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে অতর্কিত হামলার ঘটনায় দলের মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজের পাশে আয়োজিত দলের একটি কর্মসূচিতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটে। এনসিপি নেতাদের পক্ষ থেকে এই হামলার জন্য সরাসরি স্থানীয় বিএনপি এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সচিব প্রীতম দাশ গণমাধ্যমকে জানান, পূর্বঘোষিত 'জুলাই পদযাত্রা' কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজ সংলগ্ন এলাকায় তারা অবস্থান করছিলেন। কর্মসূচি চলাকালীন হঠাৎ করেই স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী তাদের গাড়িবহরে অতর্কিতে হামলা চালায়। এই আকস্মিক হামলায় সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পাশাপাশি হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মুবিনসহ দলের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী এবং সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা কেবল নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তারা হবিগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউসের ভেতরে রাখা এনসিপির মিডিয়া টিমের একটি মাইক্রোবাসও ব্যাপক ভাঙচুর করে। এছাড়া হামলার সময় বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন প্রীতম দাশ।

তবে এনসিপির পক্ষ থেকে তোলা এই হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে স্থানীয় ছাত্রদল। হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন এই ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদল বা বিএনপির কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলে সুস্পষ্টভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এনসিপির ওই কর্মসূচিতে আপত্তিকর কোনো বক্তব্য দেওয়ার কারণে হয়তো স্থানীয় কিছু ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ তাদের ধাওয়া করতে পারে। মঙ্গলবারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা তিনি লোকমুখে শুনেছেন উল্লেখ করে জোর দিয়ে বলেন, এই হামলার ঘটনার পেছনে ছাত্রদল কিংবা বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর বিন্দুমাত্র কোনো ভূমিকা বা ইন্ধন নেই।

এদিকে, এনসিপির গাড়িবহরে হামলা এবং ভাঙচুরের খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, উত্তেজনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে বর্তমানে ওই এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য

p
উপরে